সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

ভাইয়ের মৃত্যুতে শোকাহত শোয়েব আখতার

সাবেক পাকিস্তানি গতিদানব শোয়েব আখতারের পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। পাকিস্তানের ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই ক্রিকেটারের বড় ভাই শহীদ আখতার মারা গেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোয়েব আখতার নিজেই তার বড় ভাইয়ের মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন। তবে ঠিক কী কারণে তার মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়ে পারিবারিক সূত্র থেকে এখনো সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানানো হয়নি।

 

 

বড় ভাইয়ের মৃত্যুর খবর জানিয়ে শোয়েব আখতার তার পোস্টে লিখেছেন, অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি যে আমার প্রিয় বড় ভাই শহীদ আখতার আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে পরপারে চলে গেছেন।

 

 

সাবেক পাকিস্তান অধিনায়ক রশিদ লতিফও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শহীদ আখতারের মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করে মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন এবং জানাজার সময় ও স্থান নিয়ে তথ্য শেয়ার করেছেন।

পাকিস্তানের হয়ে ক্রিকেট ইতিহাসের দ্রুততম ডেলিভারির রেকর্ড গড়া এই পেসারের পরিবারে এটিই প্রথম বড় আঘাত নয়। এর আগে প্রায় পাঁচ বছর আগে শোয়েব আখতার তার মাকে হয়েছিলেন। মায়ের পর এবার বড় ভাইকে হারিয়ে শোয়েব ও তার পরিবার মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। এই মর্মান্তিক খবরের পর ক্রিকেট বিশ্বে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটারদের পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে ক্রিকেট ভক্তরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোয়েব ও তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করছেন।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের পর শোয়েব আখতার একজন বিশ্লেষক হিসেবে অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। সদ্য সমাপ্ত ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও পাকিস্তানি গণমাধ্যমে ক্রিকেট পণ্ডিত হিসেবে নিয়মিত উপস্থিত থেকে ম্যাচ বিশ্লেষণ করেছেন তিনি। মাঠের ক্রিকেট ও ক্রিকেট প্রশাসনের নানা অসংগতি নিয়ে সব সময় অকপট এই কিংবদন্তি এখন জীবনের এক কঠিন শোকের মুহূর্ত পার করছেন।

বিএনপি সভাপতির বিরুদ্ধে সহ সভাপতির সংবাদ সম্মেলন

বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থি,  কাজের প্রতিবাদে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরের  গোবিন্দপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন  করেছে স্থানীয় দলীয় নেতাকর্মীরা।
বুধবার (২৪ জুন)  দুপুরে উপজেলার গোবিন্দপুর চৌরাস্তা বাজারে  ইউনিয়ন বিএনপি ও সকল অঙ্গ এবং সহযোগী সংগঠনের ব্যানারে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন গোবিন্দপুর ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি জিয়াউদ্দিন, ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য আব্দুল কাদির বাবুল, আসাদ ও স্বপন মিয়া। তারা লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করেন, সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত এবং দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে চলেছেন। এ কারণে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে বলে নেতাকর্মীরা দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলন থেকে বক্তারা অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত সাংগঠনিক ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য হোসেনপুর উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ, কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম মাজহারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আব্দুল্লাহ আল মামুনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, “আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ যদি সত্য প্রমাণিত হয় তাহলে উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ তদন্ত করে সত্যতা পান, তাহলে সাংগঠনিকভাবে যে কোনো সিদ্ধান্ত নিলে আমি তা মেনে নেব।
উল্লেখ্য, গোবিন্দপুর ইউনিয়ন বিএনপিতে দীর্ঘদিন ধরে অভ্যন্তরীণ কোন্দল চলছিল। এবারের সংবাদ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

ঢাকার কাছে একের পর এক ভূমিকম্প, সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে একের পর এক ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে কয়েকটি ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল রাজধানীর খুব কাছাকাছি হওয়ায় প্রশ্ন উঠছে— এগুলো কি কেবল স্বাভাবিক ভূ-তাত্ত্বিক প্রক্রিয়ার অংশ, নাকি ভবিষ্যতের বড় কোনো ভূমিকম্পের পূর্বাভাস?

 

 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তাৎক্ষণিক আতঙ্কের কারণ না থাকলেও বাংলাদেশের ভূমিকম্প ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক থাকার যথেষ্ট কারণ রয়েছে।

 

 

উৎপত্তিস্থল ঘুরেফিরে ঢাকার আশপাশেই

সর্বশেষ ভূমিকম্পটি গত ২২ জুন রাত ৮টা ২৮ মিনিটে অনুভূত হয়। রিখটার স্কেলে যার মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৪ এবং উৎপত্তিস্থল ছিল ঢাকা থেকে মাত্র ১৬ কিলোমিটার দূরে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক গবেষণা সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল নরসিংদী থেকে ১০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং ভূপৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটার গভীরে। ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজির তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৪ এবং উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের ১৬ কিলোমিটার গভীরে।

অন্যদিকে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে, যা ঢাকা থেকে প্রায় ১৬ কিলোমিটার পূর্বে।

 

 

উৎপত্তিস্থল নিয়ে বিভিন্ন সংস্থার তথ্যের মধ্যে কিছু পার্থক্য থাকলেও আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুবায়েত কবীর বলেন, নরসিংদী থেকে ১০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে গেলে সেটি রূপগঞ্জ এলাকার মধ্যেই পড়ে।

 

 

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শুরু থেকে ২০২৬ সালের ২২শে জুন পর্যন্ত বাংলাদেশ ও সীমান্তবর্তী এলাকায় সংঘটিত বেশ কয়েকটি ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল ঢাকার কাছাকাছি।

 

 

চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ৩ দশমিক ২ মাত্রার একটি ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয়। এর কেন্দ্র ছিল ঢাকা থেকে প্রায় ৪২ কিলোমিটার দূরে।

 

 

এর আগে ২০২৫ সালের ২১শে নভেম্বর রিখটার স্কেলে ৫ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে ঢাকাসহ দেশের বিস্তীর্ণ এলাকা। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ওই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদী শহর থেকে প্রায় ১৪ কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণ-পশ্চিমে মাধবদী এলাকায়, ভূপৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটার গভীরে। ঢাকা থেকে এর দূরত্ব ছিল মাত্র ১৩ কিলোমিটার।

 

 

গত কয়েক দশকে দেশের অভ্যন্তরে উৎপত্তি হওয়া অন্যতম শক্তিশালী ভূমিকম্প হিসেবে বিবেচিত ওই ঘটনায় ঢাকায় চারজন, নরসিংদীতে পাঁচজন এবং নারায়ণগঞ্জে একজন নিহত হন। আহত হন সাড়ে চার শতাধিক মানুষ, যার মধ্যে গাজীপুরেই ছিলেন ২৫২ জন।

 

 

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ওই ভূমিকম্পের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আরও তিনটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়। চারটি ভূমিকম্পের মধ্যে তিনটির উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদীর বিভিন্ন এলাকায় এবং একটি ছিল ঢাকার বাড্ডায়।

 

 

পরদিন ২২ নভেম্বর নরসিংদীর পলাশে ৩ দশমিক ৩ মাত্রার, ঢাকার বাড্ডায় ৩ দশমিক ৭ মাত্রার এবং পরে নরসিংদীতে ৪ দশমিক ৩ মাত্রার আরও দুটি ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয়। এর কয়েকদিন পর ২৭ নভেম্বর ঘোড়াশালে ৩ দশমিক ৬ মাত্রার এবং ৪ ডিসেম্বর শিবপুরে ৪ দশমিক ১ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়।

 

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. বদরুদ্দোজা মিয়া বলেন, সাম্প্রতিক এসব ভূমিকম্প টেকটোনিক কার্যকলাপের ফল হতে পারে, আবার কোনো সক্রিয় ফল্টের সঙ্গেও সম্পর্কিত হতে পারে।

 

 

তার ভাষায়, অনেক সময় নতুন ফল্ট সৃষ্টি হয়, আবার দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় থাকা কোনো পুরোনো ফল্টও পুনরায় সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে।

 

 

বাংলাদেশের অবস্থান ইউরেশিয়ান, ইন্ডিয়ান এবং বার্মিজ— এই তিনটি টেকটোনিক প্লেটের প্রভাব বলয়ের মধ্যে হওয়ায় দেশে ঘন ঘন ভূমিকম্প হচ্ছে বলে জানান রুবায়েত কবীর।

 

 

এগুলো কি বড় ভূমিকম্পের পূর্বাভাস?

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পূরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ও ভূমিকম্প গবেষক মেহেদি আহমেদ আনসারীর মতে, সম্প্রতি ঢাকার আশপাশে হওয়া ছোট ও মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পগুলো থেকে বড় ধরনের ভবনধস বা ব্যাপক প্রাণহানির আশঙ্কা নেই।

 

 

যদিও তিনি মনে করেন, এসব ঘটনা মানুষকে ভূমিকম্প সম্পর্কে সচেতন হওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে।

 

 

তার মতে, বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো এমন ফল্টগুলো, যেগুলো অতীতে ৭ বা তার বেশি মাত্রার ভূমিকম্প সৃষ্টি করেছে।

 

 

তিনি বলেন, ভবিষ্যতে বড় ভূমিকম্পের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি রয়েছে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী অঞ্চল এবং ঢাকার কাছাকাছি শ্রীমঙ্গল ও বগুড়ার শেরপুর এলাকায়। কারণ ইতিহাসে এসব অঞ্চলে ৭-এর বেশি মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পের রেকর্ড রয়েছে।

 

 

১৯১৮ সালে শ্রীমঙ্গলে ৭ দশমিক ৬ মাত্রার এবং ১৮৮৫ সালে শেরপুরে ৭ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছিল।

 

 

মেহেদি আহমেদ আনসারী বলেন, এগুলো ঢাকা থেকে দেড়শো থেকে দু’শো কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে। বাকি বড় ভূমিকম্পগুলো ঢাকা থেকে আরও দূরে হয়েছিল।

 

 

 

তিনি আরও বলেন, প্রত্যেকটি ভূমিকম্পের একটি রিটার্ন পিরিয়ড বা পুনরাবৃত্তির চক্র থাকে। সাত মাত্রার ভূমিকম্প হয়তো আরও হয়েছে, কিন্তু আমাদের কাছে তথ্য নেই। সে কারণেই আমরা বলি, ঢাকার জন্য সাত মাত্রার একটি ভূমিকম্প ভবিষ্যতে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সেটি কবে হবে, তা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। ২০ বছরও লেগে যেতে পারে।

 

 

নরসিংদীতে সাম্প্রতিক সময়ে ঘন ঘন ভূমিকম্পকে বড় কোনো ঘটনার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা যেতে পারে বলে উল্লেখ করলেও তিনি বলেন, ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী নরসিংদীতে অতীতে বড় কোনো ভূমিকম্পের রেকর্ড নেই।

 

 

নরসিংদী বা ঢাকার আশপাশের সাম্প্রতিক ভূমিকম্পের হিসেবে ঢাকা ঝুঁকিপূর্ণ না, কিন্তু অতীতের বড় ভূমিকম্পগুলোর বিচারে ঢাকা খুবই ঝুঁকির মধ্যে আছে। বড় কোনো ভূমিকম্প হলে কয়েক বিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক ক্ষতি হতে পারে, বলেন তিনি।

 

 

রুবায়েত কবীরও বলেন, ঢাকাকেন্দ্রিক বড় ভূমিকম্পের ইতিহাস নেই। কিন্তু সীমান্ত অঞ্চলে বড় ভূমিকম্পের ইতিহাস আছে। আর গত এক-দুই বছর ধরে আমাদের এই অঞ্চলে ভূমিকম্পপ্রবণতা কিছুটা বেড়েছে বলে মনে হচ্ছে।

 

 

ভূমিকম্পে ঢাকার কোন এলাকা তুলনামূলক নিরাপদ?

বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো এলাকা কতটা নিরাপদ তা নির্ভর করে মূলত দুই বিষয়ের ওপর—ভূতাত্ত্বিক গঠন এবং অবকাঠামোর মান।

 

 

ভূতত্ত্ববিদ সৈয়দ হুমায়ুন আখতারের মতে, ঢাকা ও আশপাশের অধিকাংশ এলাকার ভূতাত্ত্বিক গঠন প্রায় একই হলেও উত্তরাংশে মধুপুরের শক্ত লাল মাটি রয়েছে, যা তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল।

 

 

তার মতে, শুধু ভূতাত্ত্বিক গঠন বিবেচনায় রমনা, মগবাজার, নিউমার্কেট, লালমাটিয়া, খিলগাঁও, মতিঝিল, ধানমন্ডি, লালবাগ, মিরপুর, গুলশান ও তেজগাঁওয়ের মতো এলাকা তুলনামূলক নিরাপদ।

 

 

যদিও বুয়েটের অধ্যাপক মেহেদি আহমেদ আনসারী মনে করেন, কেবল মাটির গঠন দেখে কোনো এলাকা নিরাপদ বা ঝুঁকিপূর্ণ বলা সম্ভব নয়।

 

 

যতক্ষণ না ভবনগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে, ততক্ষণ বলা যাবে না কোনটা ঝুঁকিপূর্ণ বা ঝুঁকিমুক্ত- বলেন তিনি।

 

 

তার মতে, পুরান ঢাকাকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ মনে হলেও মূল সমস্যা ভবনের চেয়ে সরু রাস্তা। দুর্যোগের সময় দ্রুত মানুষ সরিয়ে নেওয়া সেখানে কঠিন হতে পারে।

 

 

তিনি আরও উল্লেখ করেন, শত বছরের বেশি পুরোনো অনেক ভবন এখনো টিকে আছে এবং বিভিন্ন ভূমিকম্পেও ধসে পড়েনি। তাই কাঠামোগত মানই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

 

 

ঢাকার জন্য বাড়তি শঙ্কা ‘ব্লাইন্ড ফল্ট’

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঢাকার ভেতরে কোনো পরিচিত ফল্ট লাইন নেই। তবে বাংলাদেশের ভূমিকম্প ঝুঁকির সঙ্গে যুক্ত কয়েকটি প্রধান ফল্ট বা চ্যুতি রেখা রয়েছে।

 

 

এর মধ্যে রয়েছে মিয়ানমার থেকে নোয়াখালী পর্যন্ত প্লেট বাউন্ডারি, নরসিংদীর ওপর দিয়ে যাওয়া আরেকটি প্লেট বাউন্ডারি, সিলেট হয়ে ভারতের দিকে বিস্তৃত ফল্ট অঞ্চল, ডাউকি ফল্ট এবং মধুপুর ফল্ট।

 

 

অতীতে এসব অঞ্চলে ৭ থেকে ৮ দশমিক ৫ মাত্রা পর্যন্ত শক্তিশালী ভূমিকম্প হয়েছে।

 

 

গবেষকদের মতে, এসব ফল্টে কয়েকশ বছর পরপর বড় ভূমিকম্পের পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে।

 

 

তবে আরও উদ্বেগের বিষয় হলো ‘ব্লাইন্ড ফল্ট’ বা অদৃশ্য ফল্ট। এ ধরনের ফল্ট ভূ-পৃষ্ঠ পর্যন্ত পৌঁছায় না, ফলে সাধারণ ভূতাত্ত্বিক মানচিত্রে সহজে শনাক্ত করা যায় না।

 

 

বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত ময়মনসিংহ ও রংপুর অঞ্চলে দুটি ব্লাইন্ড ফল্ট শনাক্ত করা হয়েছে।

 

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের ফল্ট শনাক্ত করা কঠিন হওয়ায় আগে থেকে সতর্কবার্তা পাওয়াও প্রায় অসম্ভব। তাই ভবিষ্যতের ভূমিকম্প ঝুঁকি মূল্যায়নে ব্লাইন্ড ফল্টগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

 

 

সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকার আশপাশে ঘন ঘন ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল বিশেষজ্ঞদের নজর কাড়লেও তাৎক্ষণিকভাবে বড় ভূমিকম্পের নিশ্চিত পূর্বাভাস হিসেবে এগুলোকে দেখা হচ্ছে না।

 

 

তবে বাংলাদেশের ভূ-তাত্ত্বিক অবস্থান, অতীতের শক্তিশালী ভূমিকম্পের ইতিহাস এবং বিভিন্ন সক্রিয় ও অদৃশ্য ফল্টের উপস্থিতি রাজধানীসহ দেশের বিস্তীর্ণ এলাকাকে দীর্ঘমেয়াদে ভূমিকম্প ঝুঁকির মধ্যে রেখেছে। তাই সচেতনতা বৃদ্ধি, ভবনের মান নিশ্চিত করা এবং দুর্যোগ প্রস্তুতি জোরদার করার ওপরই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

 

 

 

 

শূন্যরেখার সংকট কাটিয়ে ফিরলেন ৬ জন, আটকে আছেন আরও ৩ জন

 

কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক পুশইনের শিকার হওয়া ছয় বাংলাদেশি নাগরিকের সবাই অবশেষে নিজ নিজ বাড়িতে ফিরেছেন।

 

 

 

তবে একই ঘটনায় সীমান্তের আরেক পয়েন্টে পুশইনের শিকার হওয়া আরও তিন বাংলাদেশি এখনো আন্তর্জাতিক শূন্যরেখায় মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন।

 

 

 

বিজিবি ও বিএসএফের কড়া নজরদারির মধ্যে দীর্ঘ ১০ দিন সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থানের পর বুধবার (২৪ জুন) ভোরে সেখান থেকে সরে যান দুই যুবক। পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পারিবারিক সূত্রে নিশ্চিত হওয়া যায়, তারা নিরাপদে নিজ বাড়িতে পৌঁছেছেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ১৪ জুন ভোরে রৌমারী উপজেলার শৌলমারী ইউনিয়নের গয়টাপাড়া সীমান্ত এলাকায় আন্তর্জাতিক ১০৬০ মেইন পিলারের ১ এস সাব-পিলার দিয়ে ভারতের আসাম রাজ্যের দক্ষিণ সালমারা-মানকারচর জেলার ঝালোরচর ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা ছয় বাংলাদেশিকে পুশইনের চেষ্টা করে। কিন্তু বিজিবি ও স্থানীয় জনতার বাধার মুখে তারা বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে না পেরে সীমান্তের শূন্যরেখায় আটকে পড়েন।

 

খোলা আকাশের নিচে টানা কয়েকদিন ঝড়-বৃষ্টি ও প্রতিকূল পরিবেশে অবস্থানের কারণে একই পরিবারের দুই শিশুসহ চারজন গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে বিজিবি ও বিএসএফের যৌথ মেডিকেল টিম তাদের চিকিৎসাসেবা দেয়।

 

 

পরে মানবিক কারণে বিজিবি ওই দুই শিশু ও তাদের বাবা-মাকে শূন্যরেখা থেকে উদ্ধার করে রৌমারী থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। পুলিশ যাচাই-বাছাই শেষে তাদের পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেয়।

 

 

 

উদ্ধার হওয়া চারজন হলেন ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার কংশেরকুল গ্রামের মো. বেলাল হোসেন (২৮), তার স্ত্রী সুমি আক্তার (২৬) এবং তাদের দুই সন্তান ফাইমা (৫ মাস) ও ফাতেমা আক্তার (৪)।

 

 

 

পরিবারের চার সদস্য বাড়ি ফিরে গেলেও বাকি দুই যুবক সীমান্তের শূন্যরেখায় দীর্ঘ ১০ দিন অবস্থান করছিলেন। তারা হলেন, একই গ্রামের লিটন মিয়ার ছেলে মো. সজিব হোসেন (২৫) ও মৃত শামসুল হকের ছেলে মো. হিমেল (১৮)।

 

 

 

বুধবার ভোর থেকে তাদের আর সীমান্তে দেখা না যাওয়ায় নানা গুঞ্জনের সৃষ্টি হয়। পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পরিবারের সদস্যরা নিশ্চিত করেন, তারাও এখন নিজ বাড়িতে অবস্থান করছেন।

 

 

 

শৌলমারী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. সোনা মিয়া বলেন, ‘গত রাত পর্যন্ত দুই যুবক শূন্যরেখায় ছিল। সকালে গিয়ে আর তাদের দেখা যায়নি। পরে জানতে পেরেছি, তারা পরিবারের কাছে ফিরে গেছে।’

 

 

 

এ বিষয়ে ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার বিরুনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছামছুল হোসাইন বলেন, ‘পুশইনের শিকার হওয়া ছয়জনই এখন বাড়িতে রয়েছে। আগে চারজন ফিরেছিল, পরে বাকি দুই যুবকও নিরাপদে বাড়ি ফিরে এসেছে।’

 

 

 

ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর দাবি, কাজের সন্ধানে প্রায় সাত মাস আগে তারা সীমান্তপথে ভারতে প্রবেশ করেন। পরবর্তীতে ভারতের আসাম রাজ্যের গুয়াহাটিতে পুলিশ তাদের আটক করে বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করে। পরে বিএসএফ তাদের বাংলাদেশ সীমান্তের দিকে ঠেলে দিলে তারা এই বিপর্যয়ের মুখে পড়েন।

 

 

 

তবে একদিকে ছয়জনের বাড়ি ফেরা স্বস্তি এনে দিলেও সীমান্তে এখনো অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে আরও তিন বাংলাদেশির।

 

 

 

স্থানীয় সূত্র জানায়, একই দিন গভীর রাতে রৌমারী সদর ইউনিয়নের ভন্দুরচর সীমান্তে আন্তর্জাতিক ১০৬৬ মেইন পিলার এলাকা দিয়ে আরও তিন বাংলাদেশিকে পুশইনের চেষ্টা চালায় বিএসএফ। বিজিবির বাধার মুখে তারাও শূন্যরেখায় আটকে পড়েন।

 

 

 

গত ১১ দিন ধরে তারা বিজিবি ও বিএসএফের কড়া পাহারার মধ্যে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

 

 

 

আটকে থাকা তিনজন হলেন সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার জহিরুল ইসলাম (২৬), নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার পারভেজ (২১) এবং ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার নাঈম মিয়া (২২)।

 

 

এদিকে, সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে দুই যুবকের সরে যাওয়া এবং তাদের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে জানতে জামালপুর ৩৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমানের কাছে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠানো হলে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।

 

 

 

লাল কার্ডের নিয়ম থাকলেও বেলিংহ্যামের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম কেন?

ফিফা বিশ্বকাপে ঘানার বিপক্ষে ইংল্যান্ডের ম্যাচে ড্রয়ের চেয়ে বেশি আলোচনায় উঠে এসেছেন জুড বেলিংহ্যাম। ম্যাচ চলাকালে মুখ ঢেকে প্রতিপক্ষের একজন খেলোয়াড়ের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায় এই ইংলিশ মিডফিল্ডারকে। চলতি বিশ্বকাপে ফিফার নতুন নিয়ম অনুযায়ী এমন আচরণের জন্য সরাসরি লাল কার্ড পাওয়ার বিধান থাকলেও শেষ পর্যন্ত কোনো শাস্তি পাননি তিনি।

 

 

ম্যাচের প্রথমার্ধ শেষে মাঠ ছাড়ার সময় ঘানার ডাগআউটের সদস্যদের সঙ্গে উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন বেলিংহ্যাম। পরিস্থিতি সামাল দিতে এগিয়ে আসতে হয় সতীর্থ মর্গান রজার্সকে। এমনকি ঘানার কোচ কার্লোস কুইরোজের সঙ্গেও তাকে তর্ক করতে দেখা যায়।

 

 

তবে ম্যাচের পর সবচেয়ে বেশি আলোচনার জন্ম দেয় ঘানার ফরোয়ার্ড জর্ডান আইউর সঙ্গে বেলিংহ্যামের একটি মুহূর্ত। কথোপকথনের সময় তিনি নিজের মুখ হাত দিয়ে ঢেকে রেখেছিলেন। আর এটিই নতুন বিতর্কের জন্ম দেয়।

চলতি বিশ্বকাপ থেকে ফিফা একটি নতুন নিয়ম চালু করেছে। কোনো উত্তপ্ত বা বিরোধপূর্ণ পরিস্থিতিতে খেলোয়াড় যদি মুখ আড়াল করে কথা বলেন, তাহলে রেফারি সরাসরি লাল কার্ড দেখাতে পারবেন। এর পেছনের যুক্তি হলো, মুখ ঢেকে কথা বললে কী বলা হচ্ছে তা বোঝা কঠিন হয়ে যায় এবং অনেক সময় আপত্তিকর মন্তব্যও আড়ালে থেকে যেতে পারে।

ইতোমধ্যে এই নিয়মের প্রয়োগও দেখা গেছে। তুরস্কের বিপক্ষে ম্যাচে মুখ ঢেকে কথা বলার কারণে প্যারাগুয়ের মিডফিল্ডার মিগুয়েল আলমিরনকে ভিএআরের সহায়তায় সরাসরি লাল কার্ড দেখানো হয়েছিল। ফলে বেলিংহ্যামের ঘটনাটি নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করে।

তবে ম্যাচ কর্মকর্তারা মনে করেন, জর্ডান আইউর সঙ্গে বেলিংহ্যামের কথোপকথন কোনোভাবেই উত্তপ্ত বা মারমুখী ছিল না। সেটি ছিল সাধারণ আলাপচারিতা। ফলে ঘটনাটি নতুন নিয়মের আওতায় পড়েনি এবং তাকে কোনো কার্ড দেখানো হয়নি।

 

 

বিশ্বকাপ শুরুর আগে ফিফার রেফারি কমিটির চেয়ারম্যান পিয়েরলুইজি কোলিনা জানিয়েছিলেন, বন্ধুত্বপূর্ণ বা স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে মুখ ঢেকে কথা বললে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে এমন আচরণ করলে সেটি সরাসরি লাল কার্ডযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।

 

 

এদিকে ম্যাচে বেশ কয়েকটি সুযোগ তৈরি করেও ঘানার রক্ষণভাগ ভাঙতে পারেনি ইংল্যান্ড। ফলে গোলশূন্য ড্র নিয়েই মাঠ ছাড়ে থ্রি লায়ন্সরা। দুই ম্যাচ শেষে এক জয় ও এক ড্রয়ে ৪ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ ‘এল’র শীর্ষে রয়েছে ইংল্যান্ড। সমান পয়েন্ট থাকলেও গোল ব্যবধানে পিছিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে ঘানা।

 

 

গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে পানামার মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড। সেই ম্যাচে জয় পেলেই নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করার পাশাপাশি গ্রুপ সেরা হওয়ার সুযোগও থাকবে বেলিংহ্যামদের সামনে।

 

 

 

চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

 

চীনের রাজধানী বেইজিং পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (২৪ জুন) চীনের স্থানীয় সময় দুপুর ২টায় ডালিয়ান থেকে হাই-স্পিড (বুলেট) ট্রেনে করে বিকেল ৫টা ৩৫ মিনিটে বেইজিং পৌঁছান। সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।

 

 

 

এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় ডালিয়ানে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম (ডব্লিউইএফ) আয়োজিত ‘গ্রীষ্মকালীন দাভোস’-এর বার্ষিক সম্মেলনে অংশ নেন। চীনের ডালিয়ান আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এটি অনুষ্ঠিত হয়।

 

 

 

১৭তম অ্যানুয়াল মিটিং অব দ্য নিউ চ্যাম্পিয়নসের এই আয়োজনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, গিনির প্রধানমন্ত্রী আমাদু উরি বাহ, কাজাখস্তানের প্রধানমন্ত্রী ওলঝাস বেকতেনভ, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী কিম মিন সেওক, মঙ্গোলিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিয়াম ওসর উচরাল এবং মন্টিনিগ্রোর প্রধানমন্ত্রী মিলোইকো স্পাইজিচ অংশ নেন। সম্মেলনটিতে ৯০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চল থেকে রাজনৈতিক, ব্যবসায়িক, শিক্ষাবিদ এবং গণমাধ্যম অঙ্গনের ১ হাজার ৭০০ জনেরও অধিক প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন।

 

 

‘গ্রীষ্মকালীন দাভোসে’ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অংশগ্রহণ বাংলাদেশের জন্য একদিকে নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ, অন্যদিকে বিভিন্ন দেশের সেরা অনুশীলন ও অভিজ্ঞতা গ্রহণের মাধ্যমে জাতীয় সক্ষমতাকে আরও সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী করবে।

 

উল্লেখ্য, মালয়েশিয়া সফর শেষে গত সোমবার (২২ জুন) চীনের ডালিয়ানে আসেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

প্রধানমন্ত্রীর সফরচিত্রে নিজের গান ব্যবহারে যা বললেন হাবিব

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরের একটি ভিডিও প্রকাশের পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে ‘মহাজাদু’ গানটি। ভিডিওটির আবহসংগীত হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে কোক স্টুডিও বাংলার জনপ্রিয় এই গান। এটি গেয়েছিলেন হাবিব ওয়াহিদ ।

 

 

ভিডিওটি প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন হাবিব ওয়াহিদ। তিনি জানান, আগে থেকে এ বিষয়ে কিছুই জানতেন না। সকালে ঘুম থেকে উঠে মোবাইলে পাঠানো কয়েকটি লিংকের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারেন।

 

 

 

হাবিব বলেন, ‘লিংকে ক্লিক করে দেখি দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর সফরের গুরুত্বপূর্ণ ভিডিওতে আমার গান ব্যবহার করা হয়েছে। এটা দেখে আমি সত্যিই অবাক হয়েছি। তারেক রহমানের প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরের ভিডিওতে আমার গান ব্যবহৃত হওয়ায় আমি সম্মানিত বোধ করছি। নিজেকে ভাগ্যবান মনে হচ্ছে।’

গানটি ব্যবহারের বিষয়ে কেউ আগে থেকে যোগাযোগ করেননি বলেও জানান এই সংগীতশিল্পী। তিনি বলেন, ‘আমার সঙ্গে এ নিয়ে কেউ কথা বলেনি। হঠাৎ করেই বিষয়টি জানতে পেরে আমি নিজেই সারপ্রাইজ হয়ে গেছি।’

ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লেও হাবিব জানান, তিনি নিয়মিত ফেসবুক ব্যবহার করেন না। তাই সরাসরি প্রতিক্রিয়াগুলো দেখতে না পারলেও বিভিন্নজনের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়ার কথা শুনছেন।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ভক্তদের যদি ভালো লাগে, সেটাই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। আমি ভক্তদের জন্যই গান করি। তাদের ভালো লাগা মানেই আমারও ভালো লাগা।’

 

 

তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর তার সঙ্গে কোনো সাক্ষাৎ বা যোগাযোগ হয়েছে কি না? এমন প্রশ্নের জবাবে হাবিব স্পষ্ট করে বলেন, ‘না, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমার দেখা হয়নি, কথাও হয়নি। এ কারণেই বিষয়টি আমাকে আরও বেশি অবাক করেছে।’

 

 

বর্তমান ব্যস্ততা সম্পর্কে হাবিব ওয়াহিদ জানান, তিনি নতুন গান নিয়েই ব্যস্ত সময় পার করছেন। সম্প্রতি তার ‘প্রেমের কলঙ্ক’ শিরোনামের একটি গান প্রকাশিত হয়েছে, যা শ্রোতাদের কাছ থেকে ভালো সাড়া পেয়েছে।

বিশ্বকাপের নিয়মে পরিবর্তন, বদলাচ্ছে টাইব্রেকার পদ্ধতি

বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব শেষ হওয়ার আগেই টাইব্রেকারের নিয়মে পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নিয়েছে ফিফা। নকআউট পর্ব শুরু হতে আর মাত্র কয়েক দিন বাকি থাকতেই পেনাল্টি শুটআউটের আগে ব্যবহৃত কয়েন টসের নিয়ম বদলানোর প্রস্তাব দিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

 

 

বর্তমানে কোনো নকআউট ম্যাচ নির্ধারিত সময় ও অতিরিক্ত সময়ের পরও সমতায় শেষ হলে ম্যাচের ফল নির্ধারণে টাইব্রেকারের আশ্রয় নেওয়া হয়। টাইব্রেকার শুরু হওয়ার আগে রেফারি দুই দলের অধিনায়কদের নিয়ে দুটি আলাদা কয়েন টস করেন। একটি টসে ঠিক হয় কোন প্রান্তে পেনাল্টি নেওয়া হবে, আর অন্য টসে নির্ধারিত হয় কোন দল প্রথম শট নেবে।

 

 

ফিফার মতে, এই ব্যবস্থায় কোনো কোনো দল একসঙ্গে দুটি সুবিধাই পেয়ে যেতে পারে। অর্থাৎ একটি দল যদি দুই টসেই জিতে যায়, তাহলে তারা প্রথম শট নেওয়ার পাশাপাশি নিজেদের পছন্দের প্রান্তও বেছে নিতে পারে। এতে প্রতিপক্ষ তুলনামূলকভাবে কিছুটা অসুবিধায় পড়ে।

এই কারণেই নিয়মে পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে ফিফা। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, ভবিষ্যতে দুটি নয়, মাত্র একটি কয়েন টস হবে। সেই টসে জয়ী অধিনায়ক দুটি সুবিধার মধ্যে একটি বেছে নিতে পারবেন। তিনি চাইলে প্রথম শট নেওয়ার অধিকার নেবেন, অথবা কোন প্রান্তে টাইব্রেকার হবে তা নির্ধারণ করবেন। অন্য সুবিধাটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাবে প্রতিপক্ষ দল।

ফিফা বিশ্বাস করে, এতে দুই দলের মধ্যে ভারসাম্য বজায় থাকবে এবং কোনো দল অতিরিক্ত সুবিধা পাবে না। সংস্থাটির মতে, পেনাল্টি শুটআউটের মতো গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ছোট ছোট বিষয়ও ম্যাচের ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। তাই নিয়মটিকে আরও গ্রহণযোগ্য করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিশ্বকাপে এবার এমনিতেই বেশ কিছু নতুন নিয়ম দেখা গেছে। ৪৮ দলের সম্প্রসারিত আসর, অতিরিক্ত পানিবিরতি এবং কিছু নতুন শৃঙ্খলাবিষয়ক নিয়ম ইতোমধ্যেই আলোচনায় এসেছে। এর মধ্যে টাইব্রেকারের নিয়ম পরিবর্তনের প্রস্তাব নতুন করে ফুটবল অঙ্গনে আলোচনা তৈরি করেছে।

 

 

এদিকে ২০২৬ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের টাইব্রেকারেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগে দুই বা ততোধিক দলের পয়েন্ট সমান হলে প্রথমে দেখা হতো গোল ব্যবধান। কিন্তু এবার প্রথম গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে মুখোমুখি ম্যাচের ফলাফলে। মুখোমুখি লড়াইয়ে এগিয়ে থাকা দলই পাবে বাড়তি সুবিধা। এরপর বিবেচনায় আসবে মুখোমুখি ম্যাচের গোল ব্যবধান ও গোলসংখ্যা। ফিফার এই নতুন নিয়মের প্রভাব ইতোমধ্যে দেখা গেছে। গোল ব্যবধানে এগিয়ে থাকলেও মুখোমুখি ফলাফলে পিছিয়ে থাকার কারণে কয়েকটি দল গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছে।

 

 

তবে টাইব্রেকারের কয়েন টস সংক্রান্ত নতুন প্রস্তাব এখনো কার্যকর হয়নি। এটি বাস্তবায়নের জন্য আন্তর্জাতিক ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ডের (আইএফএবি) অনুমোদন প্রয়োজন। অনুমোদন মিললে নকআউট পর্ব শুরু হওয়ার আগেই বিশ্বকাপে নতুন নিয়ম চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে বিশ্বকাপের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর অধ্যায় শুরুর আগে মাঠের খেলার পাশাপাশি নিয়মের পরিবর্তন নিয়েও এখন জোর আলোচনা চলছে ফুটবল বিশ্বে।

নকআউট পর্বে উঠবে কোন ৩২ দল, দেখে নিন

 

যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় চলমান ২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবলের গ্রুপ পর্বের লড়াই জমে উঠেছে। টুর্নামেন্টের পরিধি বেড়ে ৪৮ দলের হওয়ায় এবারই প্রথম দেখা যাবে ৩২ দলের নকআউট পর্ব। ইতোমধ্যেই দ্বিতীয় রাউন্ডের টিকিট নিশ্চিত করে ফেলেছে বেশ কয়েকটি পরাশক্তি, অন্যদিকে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেছে পাঁচ দল। নতুন নিয়ম অনুযায়ী এবার গোল ব্যবধানের চেয়ে দলগুলোর পারস্পরিক লড়াইয়ের (হেড-টু-হেড) ফলাফলকে টাইব্রেকার হিসেবে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে ফিফা।

 

 

 

গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচ শেষেই নকআউটের টিকিট কেটেছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। সোমবার অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ২-০ গোলের জয়ে জোড়া গোল করেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। এই কীর্তির মাধ্যমে বিশ্বকাপে নিজের মোট গোল সংখ্যা ১৮-তে নিয়ে গিয়ে বিশ্বমঞ্চের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড নিজের করে নিলেন তিনি। এর আগে আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে টুর্নামেন্ট শুরু করেছিলেন এই মহাতারকা। গ্রুপ ‘জে’ থেকে শীর্ষস্থান নিশ্চিত করেই পরের রাউন্ডে যাচ্ছে আলবিসেলেস্তেরা।

 

 

 

আর্জেন্টিনা ছাড়াও দ্বিতীয় রাউন্ড নিশ্চিত করেছে দুই সহ-আয়োজক মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্র। দক্ষিণ কোরিয়াকে হারিয়ে গ্রুপ ‘এ’ থেকে সবার আগে নকআউট নিশ্চিত করে মেক্সিকানরা। আর অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে গ্রুপ ‘ডি’ থেকে শেষ বত্রিশে জায়গা করে নেয় যুক্তরাষ্ট্র। এদিকে টানা দুই বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেওয়ার ধাক্কা সামলে এবার দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে জার্মানি। কুরাসাও এবং আইভরি কোস্টকে হারিয়ে নকআউটে পা রেখেছে তারা। এছাড়া গ্রুপ ‘আই’ থেকে কিলিয়ান এমবাপ্পের জোড়া গোলে ইরাককে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়ে ফেভারিট ফ্রান্স এবং সেনেগালকে ৩-২ গোলে হারিয়ে চমক দেখানো নরওয়ে শেষ বত্রিশের টিকিট নিশ্চিত করেছে।

অন্যদিকে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে পাঁচ দলের। গ্রুপ পর্বের দুটি করে ম্যাচ হেরে টুর্নামেন্ট থেকে সবার আগে বিদায় নিয়েছে হাইতি, তুরস্ক, তিউনিসিয়া, জর্ডান এবং পানামা। নতুন নিয়মে পারস্পরিক লড়াইয়ে পিছিয়ে থাকায় শেষ ম্যাচে অলৌকিক কিছু ঘটলেও আর তৃতীয় স্থানে থাকা দলগুলোকে ছোঁয়া সম্ভব নয় এই দলগুলোর পক্ষে। আগামী ২৭ জুন পর্যন্ত চলবে গ্রুপ পর্বের খেলা, আর ২৮ জুন থেকে শুরু হবে বহুল প্রতীক্ষিত নকআউট পর্বের মহালড়াই।

 

তিথির হাতের মেহেদীতে ‘আলভী’ লেখা ছবিটি এআই জেনারেটেড: আলভী

অভিনেত্রী ইফফাত আরা তিথির হাতের মেহেদী দেওয়া ছবিতে আলভী লেখা এআই জেনারেটেড বলে দাবি করেছেন অভিনেতা জাহের আলভী ওরফে মো. নিয়ামত উল্লাহ ভূঁইয়া।

 

 

বুধবার (২৪ জুন) আদালতকে এ তথ্য জানান আলভী।

 

 

তিনি বলেন, আমি এমন একটা পরিস্থিতিতে আছি। শোক পালন করব, নাকি কি করব বুঝতে পারছি না। আমরা দুজনে ম্যাচিউর। প্রেম করে বিয়ে করেছি। আমাদের বিয়ের পর খুনসুটি ছিল, অভিমান ছিল, ঝগড়া ছিল। আমাদের সম্পর্ক ইস্মুথ ছিল। এমন কিছু ঘটেনি যে ইকরা আত্মহত্যা করবে।

আলভী আরও বলেন, আমি যেহেতু মিডিয়ায় কাজ করি। আমার শুভাকাঙ্ক্ষী ছাড়াও হেটার্স আছে। তারাই ইকরার মৃত্যুর পর আমাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রপাগান্ডা ছড়িয়েছে। তিথির হাতের মেহেদী দেওয়া ছবিতে আলভী লেখা এআই জেনারেটেড। এখনো সেই ছবি আছে। আসল ছবিতে আলভী লেখা নেই।

তিনি আরও বলেন, আমি নাকি নেপালে গেছি ৬টা নাটক করতে। আমার সঙ্গে অনেক মানুষ ছিল। এমন না যে আমি বার্থডে সেলিব্রেট করতে গেছি। আমার একটা সন্তান আছে সে তার মাকে হারিয়েছে। সে যতোই নানা নানী দাদা দাদীর কাছে থাক। তার বাবা প্রয়োজন আমাকে জামিন দিন।

এদিন আসামিকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির মিরপুর বিভাগের পরিদর্শক মো. আব্দুল মালেক।

 

 

পরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুণী মীরের আদালত আলভীর ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

 

 

রিমান্ডের বিষয়টি কালবেলাকে নিশ্চিত করেছেন সিএমএম কোর্টের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট হারুনুর রশিদ।

 

 

এর আগে গত ১৮ জুন দুপুরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দিনের আদালতে আত্মসমর্পণ করে আইনজীবীদের মাধ্যমে জামিন আবেদন করেন আলভী। শুনানি শেষে দুপুর আড়াইটার দিকে আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

 

 

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মিরপুরের ডিওএইচএসে বাসা থেকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় ইকরাকে উদ্ধার করে পরিবারের সদস্যরা। পরে বাসার মালিকসহ স্বজনরা মিলে তাকে কুর্মিটোলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ওইদিন রাতেই মামলা করেন ইকরার বাবা কবির হায়াত খান।

 

 

দীর্ঘদিনের ‘পারিবারিক কলহ ও বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের কারণেই’ ইকরা আত্মহত্যা করতে ‘বাধ্য হয়েছেন’ বলে মামলায় অভিযোগ করেন তিনি। এই মামলায় গত ৪ জুন জাহের আলভীর মা নাসরিন সুলতানা শিউলি আত্মসমর্পণ করে জামিন পান।

 

 

২০২৭ থেকে জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হবে এসএসসি পরীক্ষা: শিক্ষামন্ত্রী

২০২৭ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা জানুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

 

 

 

বুধবার (২৪ জুন) ঢাকা শিক্ষা বোর্ড, ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ড, মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্রীয় সচিবদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ তথ্য জানান।

 

 

 

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষা জানুয়ারিতে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ২০২৮ সাল থেকে দেশের শিক্ষা কারিকুলামে পরিবর্তন আনা হবে।

সভায় বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে শিক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। নতুন কারিকুলামের কাঠামো ও এসএসসি পরীক্ষার সময়সূচি বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য শিগগিরই প্রকাশ করা হবে।

 

বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ে কঙ্কাল উদ্ধার, পাশে কাঁধের ব্যাগ

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে অজ্ঞাত ব্যক্তির কঙ্কাল উদ্ধার করেছে পুলিশ। কঙ্কালটির পরিচয় এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ বের করতে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

 

 

সোমবার (২২ জুন) সন্ধ্যায় সাতজন শ্রমিক উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকা বাইশারী ইউনিয়নের হাতির ডেরা নামক স্থানে এ কঙ্কাল দেখতে পেয়ে পুলিশকে জানান।

 

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বাইশারী বাজার থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার উত্তরে ২৮০ নং আলীক্ষ্যং মৌজার হাতির ডেরা এলাকায় ডিভাইন রাবার গার্ডেনের গয়াল দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা রাখাল আনোয়ারসহ সাতজন শ্রমিক সোমবার সন্ধ্যায় গয়াল আনতে গিয়ে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় মৃত বশির উল্লাহ খতিয়ানের পাহাড়ি জায়গায় একটি মানব কঙ্কাল দেখতে পান। পরে তারা বিষয়টি নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় অবহিত করেন।

খবর পেয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোজাম্মেল হকের নির্দেশে মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকালে আলীক্ষ্যং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বলাট্য চাকমার নেতৃত্বে একদল পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে যান। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে গহীন পাহাড়ি এলাকা থেকে কঙ্কালটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয় এবং এ ঘটনায় প্রাথমিক তদন্ত শুরু করা হয়।

পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থল থেকে কঙ্কালটির বিভিন্ন হাড়গোড় ও মাথার খুলি ছাড়াও একটি ব্যাগ, কিছু ওষুধ, তারকাটা, একটি লুঙ্গি এবং একটি চাদর উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া এসব আলামত পর্যালোচনা করে কঙ্কালটির পরিচয় শনাক্ত এবং মৃত্যুর রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলছে।

নাইক্ষ্যংছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোজাম্মেল হক বলেন, ‘উদ্ধার হওয়া কঙ্কালটির পরিচয় শনাক্ত এবং মৃত্যুর কারণ নির্ণয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। কঙ্কালটি কতদিন আগের, তা নিশ্চিত হতে বিশেষজ্ঞ মতামতের প্রয়োজন হতে পারে।’

 

 

এ বিষয়ে বাইশারী ইউনিয়ন বিএনপির নেতা ও সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী জসিম উদ্দিন বলেন, ‘উদ্ধার হওয়া কঙ্কালটি কার, তা দ্রুত শনাক্ত করা জরুরি। এতে কোনো নিখোঁজ ব্যক্তির পরিবারের দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটতে পারে।’

 

 

বাইশারী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কঙ্কালটি অনেক দিনের পুরোনো। তবে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসবে।’

 

 

স্থানীয়দের ধারণা, দুর্গম ও জনবিচ্ছিন্ন পাহাড়ি এলাকায় দীর্ঘ সময় ধরে পড়ে থাকার কারণেই মরদেহটি কঙ্কালে পরিণত হয়েছে। তবে এটি স্বাভাবিক দুর্ঘটনা নাকি অন্য কোনো ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট—তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।

দীর্ঘ বিরতির পর তিন কিংবদন্তি একই নাটকে

বাংলা নাট্যাঙ্গনের তিন গুণী শিল্পী আবুল হায়াত, দিলারা জামান ও ডলি জহুরকে দীর্ঘদিন পর আবারও দেখা যাবে একই নাটকে। রাহাত কবিরের রচনা ও পরিচালনায় নির্মিত একক নাটক ‘দাদি ভয়ংকর’-এ অভিনয় করেছেন এই তিন বরেণ্য শিল্পী। সম্প্রতি নাটকটির শুটিং সম্পন্ন হয়েছে। এর আগে আবুল হায়াতের রচনা ও নির্দেশনায় নির্মিত ‘শেষ পত্র’ নাটকে একসঙ্গে অভিনয় করেছিলেন দিলারা জামান, ডলি জহুর, শর্মিলী আহমেদ ও চিত্রলেখা গুহ। সেই স্মৃতি উসকে দিয়েই আবারও এক ফ্রেমে ফিরলেন আবুল হায়াত, দিলারা জামান ও ডলি জহুর। তবে এবার আবুল হায়াত নির্দেশকের ভূমিকায় নন, রয়েছেন অভিনয়ে।

 

 

 

নাটকটির গল্প সম্পর্কে পরিচালক রাহাত কবির বলেন, ‘ইন্টারনেট এবং আমাদের যাপিত জীবন এই নাটকের মূল বিষয়। ইন্টারনেটের ভালো দিক যেমন আছে, খারাপ দিকও আছে। এই নাটকে ভালো-খারাপ দুটি দিকই দেখানো হয়েছে। কিন্তু ইন্টারনেটের সঠিক ব্যবহার যে আমাদের জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, সেটাই বোঝানোর চেষ্টা করা হয়েছে। নাটকে তিনজন কিংবদন্তি গুণী শিল্পীর শিডিউল মেলাতে আমার কষ্ট হয়েছে, কিন্তু তারা ভীষণ আন্তরিকতার সঙ্গে কষ্ট করে সব দিক ম্যানেজ করে সময় দিয়েছেন, অভিনয় করেছেন। এই নাটক আমার জীবনের মাইলফলক হয়ে থাকবে।’

 

 

 

নাটকটিতে কাজের অভিজ্ঞতা জানিয়ে আবুল হায়াত বলেন, ‘ভীষণ ভালো লেগেছে নাটকটিতে কাজ করে। কারণ, কয়েকজন সিনিয়র শিল্পীকে এক করে একক নাটক নির্মাণ করা কঠিন একটি কাজ। রাহাত কবিরকে ধন্যবাদ এমন একটি গল্পে আমাদের নিয়ে নাটক নির্মাণের জন্য।’

দিলারা জামান বলেন, ‘প্রযুক্তি আমাদের যতটা স্বাচ্ছন্দ্য দিচ্ছে, ঠিক ততটা বিপদও ডেকে আনছে। সেই ব্যাপারেই মূলত নাটকের মধ্য দিয়ে সবাইকে সাবধান করে দেওয়া। খুব ভালো লেগেছে কাজটি করে। আমার তো বারবার সেই শেষ পত্রের দিনগুলোর কথা মনে পড়ছিল।’

ডলি জহুর বলেন, ‘অনেক বছর আগে হায়াত ভাইয়ের পরিচালনায় আমরা চারজন একসঙ্গে অভিনয় করেছিলাম, তার মধ্যে শর্মিলী আপা আমাদের মাঝে নেই। এত দিন পরে দিলারা আপা, হায়াত ভাইয়ের সঙ্গে এক নাটকে কাজ করে কী যে ভালো লেগেছে ভাষায় প্রকাশের নয়।’

‘দাদি ভয়ংকর’ নাটকে দিলারা জামান অভিনয় করেছেন দাদির চরিত্রে। আবুল হায়াতকে দেখা যাবে রাইসুল চরিত্রে এবং ডলি জহুর অভিনয় করেছেন মর্জিনা চরিত্রে। এছাড়া নাটকের বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন নাদের চৌধুরী, করভী মিজান, আরশ খান ও উর্বী।

 

 

 

নির্মাতা জানিয়েছেন, শিগগিরই একটি ইউটিউব চ্যানেলে নাটকটি দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।

রাতে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের চেষ্টা, স্থানীয়দের হাতে ধরা ৪

দিনাজপুর সদর উপজেলার শংকরপুর ইউনিয়নের বনতারা সীমান্ত দিয়ে রাতের আঁধারে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় চারজনকে আটক করেছে এলাকাবাসী। আটকদের মধ্যে তিন পুরুষ ও এক নারী রয়েছেন।

 

 

বুধবার (২৪ জুন) ভোর ৬টার দিকে শংকরপুর ইউনিয়নের শালকি মৈজাকুড়ি গ্রাম থেকে স্থানীয়রা তাদের আটক করে। পরে তাদের ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে যায়।

 

 

আটক চারজনের মধ্যে দুজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন— নড়াইল জেলার কালিয়া পৌরসভার মির্জাপুর গ্রামের বাসিন্দা আকুব্বর মোল্যা ও তার স্ত্রী জাহানারা বেগম।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাতে বনতারা গিলাবাড়ি সীমান্ত এলাকা দিয়ে তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করে। ভোরে শালকি মৈজাকুড়ি গ্রামের বিভিন্ন স্থানে তাদের ঘোরাফেরা করতে দেখে সন্দেহ হলে এলাকাবাসী তাদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। একপর্যায়ে তাদের ইউনিয়ন পরিষদে হস্তান্তর করা হয়।

শংকরপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য পংকজ বসাক বলেন, আটক ব্যক্তিদের বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা কাজের সন্ধানে ভারতে যাতায়াত করতেন। তবে কীভাবে তারা সীমান্ত পারাপার করতেন সে বিষয়ে পরিবার কিছুই জানে না।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে আটক ব্যক্তিদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।

 

 

ফুলবাড়ী ২৯ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফুজ্জামান বলেন, এটি কোনো পুশইনের ঘটনা নয়, বরং অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে প্রবেশের ঘটনা। আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

 

 

তিনি আরও বলেন, জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

হত্যাচেষ্টার অভিযোগে গ্রেপ্তার কণ্ঠশিল্পী মমতাজ

জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র রাজধানীর মিরপুর মডেল থানাধীন এলাকায় মো. মুক্তার হোসেনকে হত্যাচেষ্টা মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য ও জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগমকে ফের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

 

 

বুধবার (২৪ জুন) পুলিশের আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালত এ আদেশ দেন৷

 

 

এর আগে, মমতাজকে আদালতে হাজির করে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মিরপুর মডেল থানার উপপরিদর্শক মো. আজিজুল হক।

এদিন আদালতে রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর পিপি ওমর ফারুক ফারুকী মমতাজ বেগমকে গ্রেপ্তার দেখানোর পক্ষে শুনানি করেন। অপরদিকে তার আইনজীবীরা গ্রেপ্তারের বিরোধিতা করেন।

গ্রেপ্তারের আবেদনে বলা হয়, আসামির এই মামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার সাক্ষ্য প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। এজন্য আসামিকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো একান্ত প্রয়োজন। মামলার তদন্ত চলমান। আসামিকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলে তাকে মামলার ঘটনার বিষয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পরবর্তীতে পুলিশ রিমান্ডের আবেদন করা হতে পারে।

মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট জুলাই আন্দোলনের সময়ে বাদী ও ভিকটিম মো. মুক্তার হোসেন মিরপুরের সুইমিং ও ফায়ার সার্ভিসের রাস্তায় আন্দোলনে যোগ দেন। আন্দোলন দমাতে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের লোকজন তাদের ওপর হামলা ও গুলিবর্ষণ করে। পুলিশের ছোড়া রাবার বুলেট মুক্তার হোসেনের শরীর ও বুকে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে পরে যায়। পরবর্তীতে কুর্মিটোলা হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করেন। এ ঘটনায় মুক্তার একটি হত্যাচেষ্টা মামলা করেন। এই মামলায় সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে মমতাজ বেগমকে গ্রেপ্তার দেখানো হলো।

 

 

২০২৫ সালের ১২ মে রাত পৌনে ১২টায় ধানমন্ডির স্টার কাবাবের পেছনের একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। পরদিন তার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন ঢাকার সিএমএম আদালত। এরপর থেকে তিনি কারাগারে আছেন।

 

 

লোকসংগীতের জনপ্রিয় শিল্পী মমতাজ নবম সংসদ নির্বাচনের পর ২০০৯ সালে সংরক্ষিত নারী আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদ সদস্য হন। পরে ২০১৪ সালে তাকে আওয়ামী লীগ মনোনয়ন দেয়।

 

 

২০১৮ সালেও নৌকা নিয়ে জয় পাওয়া মমতাজ ২০২৪ সালের জানুয়ারির নির্বাচনে দলের নেতা এক স্বতন্ত্র প্রার্থীর কাছে হেরে যান।

নাতি হওয়ার নানার ব্যতিক্রম উল্লাস: ঘোড়ার গাড়িতে গ্রামভ্রমণ, ৩ হাজার মিষ্টি বিতরণ

নিজের কোনো পুত্রসন্তান নেই, তাই একমাত্র মেয়ের ঘরে দীর্ঘ এক যুগ পর ছেলেসন্তানের জন্ম হওয়ায় আনন্দের কোনো সীমা রইল না নানার। আর এই বিশেষ আনন্দকে স্মরণীয় করে রাখতে এক রাজকীয় ও ব্যতিক্রমী উৎসবের আয়োজন করলেন তিনি। ৭ মাস বয়সী নাতিকে সুসজ্জিত ঘোড়ার গাড়িতে চড়িয়ে, ব্যান্ডপার্টির নাচ-গানের তালে তালে পুরো গ্রাম ঘুরিয়ে বিতরণ করলেন ৩ হাজার পিস মিষ্টি!

​ব্যতিক্রমী ও জমকালো এই ঘটনাটি ঘটেছে নাটোরের সিংড়া উপজেলার শেরকোল ইউনিয়নের জোরমল্লিকা গ্রামে। জোড় মল্লিকা গ্রামের ওই নানার নাম মো. হান্নান।

বুধবার (২৪ জুন)  সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত পুরো এলাকাজুড়ে চলে এই আনন্দ উৎসব।

সরেজমিনে গিয়ে আয়োজকদের সাথে কথা বলে জানাযায়, জোরমল্লিকা গ্রামের বাসিন্দা মো. হান্নানের নিজের কোনো পুত্রসন্তান নেই। তার একমাত্র মেয়ে পান্না খাতুনকে বিয়ে দিয়েছেন একই ইউনিয়নের পার্শ্ববর্তী শাহবাজপুর গ্রামে মনির হোসেনের সাথে। বিয়ের পর এই দম্পতির ঘরে প্রথমে একটি কন্যাসন্তান জন্ম নেয়। এরপর কেটে যায় দীর্ঘ ১২টি বছর। অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে এই দম্পতির ঘর আলো করে আসে এক পুত্রসন্তান।

​একমাত্র মেয়ের ঘরে দীর্ঘ এক যুগ পর নাতি আসায় আনন্দের জোয়ার বয়ে যায় নানা মো. হান্নানের মনে। বর্তমানে নাতি আব্দুর রহমান বিন মুসালিনের বয়স ৭ মাস। নাতির এই আগমনকে স্মরণীয় করে রাখতেই তিনি এই অভিনব উৎসবের উদ্যোগ নেন।

​বুধবার সকালে নানা হান্নান তার ৭ মাস বয়সী নাতি মুসালিনকে একটি সুসজ্জিত ঘোড়ার গাড়িতে চড়ান। এরপর ব্যান্ডপার্টির ধুমধাম নাচ-গানের তালে তালে নিজ গ্রাম জোরমল্লিকা থেকে শুরু করে জামাতার গ্রাম শাহবাজপুর পর্যন্ত পুরো এলাকা প্রদক্ষিণ করেন।

শিশুর মা পান্না খাতুন বলেন,​”আমার প্রথম কন্যাসন্তান জন্ম নেওয়ার দীর্ঘ ১২ বছর পর আল্লাহ আমাকে পুত্রসন্তান দিয়েছেন। আমার ছেলে হওয়ার আনন্দে আমার বাবা ঘোড়ার গাড়িতে করে পুরো গ্রাম ঘুরিয়ে এবং মিষ্টি বিতরণ করে উৎসব করছেন। বাবার এই আনন্দ দেখে আমাদেরও খুব ভালো লাগছে। আপনারা সবাই আমার ছেলে-মেয়ে এবং আমার বাবার জন্য দোয়া করবেন।”

​নাতিকে নিয়ে উল্লাসিত নানা মো. হান্নান তার অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন,
“আমার নিজের কোনো ছেলে নেই। মহান আল্লাহ তায়ালা আমার মেয়ের ঘরে একটি নাতি উপহার দিয়ে আমার মনের দীর্ঘদিনের আশা পূরণ করেছেন। আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করতেই আমি আমার আত্মীয়-স্বজন ও গ্রামবাসীদের নিয়ে এই আনন্দ ভাগাভাগি করেছি।”

পিকআপের সঙ্গে সংঘর্ষে প্রাণ গেল দুই মোটরসাইকেল আরোহীর

নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলায় পিকআপ ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পিকআপচালক ও তার সহকারীকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে স্থানীয়রা।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে কবিরহাট-সোনাপুর সড়কের উপজেলার সুন্দলপুর এলাকার বারীপুকুরপাড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চর কাকড়া পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাশেম বেপারী বাড়ির মোহাম্মদ কামাল উদ্দিনের ছেলে মোহাম্মদ তারেক রহমান শিবলু (১৬) এবং বসুরহাট পৌরসভার হাজীপাড়া এলাকার রহমতউল্লাহর ছেলে জিহাদ হোসেন (২০)।
আটকরা হলেন- পিকআপচালক মহি উদ্দিন মাহমুদ ও তার সহকারী সালাউদ্দিন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে কবিরহাট-সোনাপুর সড়কের বারীপুকুরপাড় এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মোটরসাইকেলটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই দুই আরোহী নিহত হন।
খবর পেয়ে কবিরহাট থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
কবিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া দুইজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

কৃষক কার্ড ইস্যুতে আলোচনায় আসা কবির হোসেনের মৃত্যু

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে কৃষক কার্ড নিয়ে আলোচনায় আসা টাঙ্গাইলের সেই ভাইরাল কবির হোসেন মারা গেছেন। (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

 

 

 

মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়নের তারটিয়া গ্রামে নিজ বাড়িতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান তিনি।

 

 

 

কবির হোসেনের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও টাঙ্গাইল-৫ আসনের সংসদ সদস্য সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

শোকবার্তায় প্রতিমন্ত্রী মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। একই সঙ্গে তিনি শোকাহত পরিবারকে এই শোক সহ্য করার শক্তি ও ধৈর্য দানের জন্য মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন।

 

গত ১৪ এপ্রিল কবির হোসেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে কৃষক কার্ড গ্রহণের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। বিভিন্ন মহলে তাকে নিয়ে নানা ধরনের প্রচারণা চালায়, যা দ্রুত ভাইরাল হয়ে পড়ে।

পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর তদন্ত করে। তদন্তে কবির হোসেনকে একজন প্রকৃত কৃষক হিসেবে শনাক্ত করা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে কৃষিকাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং নিজ জমিসহ বিভিন্ন কৃষি কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতেন। তদন্ত প্রতিবেদনের মাধ্যমে তার কৃষক পরিচয়ের সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর তাকে ঘিরে বিতর্কের অবসান ঘটে।

 

 

 

 

তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার-পরিজন, আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

 

 

 

 

বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন। কবির হোসেনের জানাজা ও দাফনের বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে পরে বিস্তারিত জানানো হবে বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।

 

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের বিক্ষোভ

আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর বেশ কয়েকটি স্থানে বিক্ষোভ মিছিল করেছে দলটির নেতাকর্মীরা।

 

 

 

মঙ্গলবার তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকা, সংসদ ভবনের পূর্বপাশের সড়ক, ডেমরা, মিরপুরের রূপনগর ও কাফরুল এলাকায় মিছিল করেন তারা।

 

 

 

আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ছাড়াও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরাও এসব মিছিলে অংশ নেন। আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মুক্তির দাবি জানানো হয় বিক্ষোভ মিছিল থেকে।

ডেমরায় আওয়ামী লীগের শতাধিক নেতাকর্মী বিক্ষোভ করেন। সংসদ ভবনের পূর্বপাশের সড়কে বিক্ষোভ করেন আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। মিরপুরের রূপনগর ও কাফরুল এলাকায় মিছিল করেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

 

 

তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। সিদ্ধেশ্বরী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা মালিবাগ চৌধুরীপাড়া এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেন।

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে পুলিশের কড়া নিরাপত্তা ছাড়াও ছয় জেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়। সেনাবাহিনীকে দেওয়া হয় ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা।

 

 

 

এদিন আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বিএনপির সহযোগী সংগঠন যুব দল ও ছাত্রদল ছাড়াও জামায়াতে ইসলামের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল করেছে রাজধানীতে। বিজয়নগরে সমাবেশ করেছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য।

 

 

 

আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে ধানমন্ডি ৩২ নম্বর ও দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যাওয়া কয়েকজনকে মারধর করে পুলিশে দিয়েছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামের নেতাকর্মীরা।

সুত্র: বিডিনিউজ২৪.কম

ফাইনালে ওঠার সমীকরণে এগিয়ে আর্জেন্টিনা

স্পেনের কাছে উরুগুয়ে হারলে, সমীকরণ কেপ ভার্দে কিংবা সৌদি আরবকে নকআউটের শেষ-৩২ রাউন্ডে পাবে আর্জেন্টিনা! সমীকরণ তো কথার মতো মিলে যাওয়ার বিষয় নয়, বললেই মিলে গেল! তবে মিলেও তো যেতে পারে। 

গ্রুপ পর্বের বাধা পেরিয়ে চ্যাম্পিয়ন হিসেবে ইতোমধ্যেই নকআউট পর্ব (রাউন্ড অব ৩২) নিশ্চিত করেছে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। তবে লিওনেল স্কালোনির দলের শেষ ৩২-এর প্রতিপক্ষ কে হচ্ছে, তা নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। ‘এইচ’ গ্রুপের জটিল সমীকরণের ওপর নির্ভর করছে আলবিসেলেস্তেদের পরবর্তী প্রতিপক্ষ।

 

 

 

এই মুহূর্তে ‘এইচ’ গ্রুপে রয়েছে স্পেন, উরুগুয়ে, কেপ ভার্দে ও সৌদি আরব। নিয়ম অনুযায়ী, আর্জেন্টিনা মুখোমুখি হবে এই গ্রুপের রানার্সআপ দলের। বর্তমানে টেবিলের যা অবস্থা, তাতে সমীকরণটা বেশ রোমাঞ্চকর এক মোড় নিয়েছে।

 

 

 

‘এইচ’ গ্রুপের বর্তমান চিত্র- দুই ম্যাচ শেষে ৪ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে স্পেন। সমান ২ পয়েন্ট নিয়ে গোল ব্যবধানে এগিয়ে থেকে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে যথাক্রমে উরুগুয়ে ও কেপ ভার্দে। ১ পয়েন্ট নিয়ে তলানিতে সৌদি আরব। ফলে শেষ ম্যাচের ওপরই নির্ভর করছে আর্জেন্টিনার ভাগ্য। 

কার মুখোমুখি হতে পারে আর্জেন্টিনা? স্পেনের বিপক্ষে যদি উরুগুয়ে তাদের শেষ ম্যাচে জেতে, সৌদি আরবের বিপক্ষে কেপ ভার্দে ড্র করে বা হেরে যায়, তবে স্পেন রানার্সআপ হতে পারে (যদি তারা শেষ ম্যাচে হেরে যায়)। আবার কেপ ভার্দে যদি ৪ বা তার বেশি গোলের ব্যবধানে জিতে যায় এবং উরুগুয়ে ড্র করে, সেক্ষেত্রেও স্পেনের রানার্সআপ হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে।

 

 

 

যদি উরুগুয়ে ও কেপ ভার্দে—উভয় দলই তাদের শেষ ম্যাচে জয় পায়, তবে গোল ব্যবধান, ফেয়ার প্লে বা মুখোমুখি লড়াইয়ের জটিল সমীকরণে যে দল দ্বিতীয় হবে, তারাই খেলবে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে। আবার দুটি ম্যাচই যদি ড্র হয়, তবে উরুগুয়ে ও কেপ ভার্দের মধ্যেই দ্বিতীয় স্থান নির্ধারণী লড়াই হবে।

 

 

 

উরুগুয়ে যদি নিজেদের শেষ ম্যাচে জিততে না পারে এবং সৌদি আরব তাদের ম্যাচে জয় তুলে নেয়, তবে আর্জেন্টাইনদের প্রতিপক্ষ হতে পারে মধ্যপ্রাচ্যের দেশটি।

 

 

 

কোয়ার্টার ও সেমিফাইনালের সম্ভাব্য রোডম্যাপ।
রাউন্ড অব ৩২-এর বাধা পার হতে পারলে স্কালোনির দল শেষ ১৬-তে মুখোমুখি হতে পারে প্যারাগুয়ে, অস্ট্রেলিয়া, ইরান বা বেলজিয়ামের মতো দলের।

 

 

কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনার সামনে পড়তে পারে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর পর্তুগাল (যদি তারা কলম্বিয়াকে টপকে গ্রুপ সেরা হয়) অথবা সুইজারল্যান্ড ও কানাডার মধ্যকার যেকোনো এক দল। 

আসল রোমাঞ্চ লুকিয়ে আছে সেমিফাইনালে। আর্জেন্টিনা যদি গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে নকআউটে এগিয়ে যায়, তবে শেষ চারে তাদের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিল কিংবা শক্তিশালী ইংল্যান্ড।

 

 

 

ফাইনালের আগে দেখা হবে না ফ্রান্স-জার্মানির সঙ্গে। ব্র্যাকেটের বর্তমান কাঠামো অনুযায়ী, আর্জেন্টিনা যদি টেবিলের শীর্ষস্থান ধরে রেখে ফাইনালে ওঠে, তবে মেগা ফাইনালের আগে ফ্রান্স, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস কিংবা স্পেনের (যদি তারা গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়) মুখোমুখি হতে হবে না মেসি-মার্তিনেজদের। এই দলগুলোর সঙ্গে আর্জেন্টিনার দেখা হওয়ার একমাত্র সম্ভাবনা কেবল স্বপ্নের ফাইনালে।

 

 

 

এখন দেখার বিষয়, শেষ ষোলোর টিকিট কাটার লড়াইয়ে কোন দল আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হওয়ার চ্যালেঞ্জটি লুফে নেয়।

 

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই দিনব্যাপী রবীন্দ্র ও নজরুল জয়ন্তী উৎসব

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে অবস্থিত রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশে সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সৃজনশীলতায় ভরপুর পরিবেশে দুই দিনব্যাপী ‘রবীন্দ্র ও নজরুল জয়ন্তী উৎসব ১৪৩৩’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
২২ ও ২৩ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এ উৎসবে সেমিনার, সংগীত পরিবেশনা, রবীন্দ্র মেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং পুরস্কার বিতরণীসহ নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন ও কর্মকে স্মরণ করা হয়।
সোমবার (২২ জুন) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী একাডেমিক ভবন-৩ এ উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন উপাচার্য (ভাইস-চ্যান্সেলর) প্রফেসর ড. তাহমিনা আক্তার। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর  ড. সুমন কান্তি বড়ুয়া।
উদ্বোধনী পর্ব শেষে সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে রবীন্দ্র মেলার উদ্বোধন করা হয়। মেলায় রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য, দর্শন, সংস্কৃতি ও জীবনবোধভিত্তিক বিভিন্ন প্রদর্শনী দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করে। পরে সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে একাডেমিক ভবন-১ এর ‘গীতাঞ্জলি স্টুডিও থিয়েটার’-এ অনুষ্ঠিত হয় রবীন্দ্রসংগীত প্রতিযোগিতা। এতে বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও  বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে। রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে নিজেদের সাংস্কৃতিক দক্ষতা তুলে ধরেন।
প্রথম দিনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সেমিনার। বিকেল ৩টায় অনুষ্ঠিত এ সেমিনারে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. অনিরুদ্ধ কাহালি। তিনি রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য, মানবতাবাদী দর্শন, শিক্ষা-চিন্তা এবং সমকালীন সমাজে তাঁর প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
দিনব্যাপী আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে। সংগীত বিভাগের শিক্ষার্থীদের পরিবেশিত নজরুল ও রবীন্দ্রসংগীত দর্শক-শ্রোতাদের ব্যাপকভাবে মুগ্ধ করে।
উৎসবের দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকাল ১০টায় পুনরায় রবীন্দ্র মেলার কার্যক্রম শুরু হয়। পরে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারে নজরুলের সাহিত্য, সংগীত, অসাম্প্রদায়িক চেতনা, সাম্যবাদী দর্শন এবং বিদ্রোহী মননের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।
দিনের শেষ পর্বে অনুষ্ঠিত সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অনলাইনের মাধ্যমে বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী প্রফেসর ডা. এম. এ. মুহিত। বক্তব্যে তিনি বলেন, “একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থায়ী ক্যাম্পাস ছাড়া পরিপূর্ণভাবে পরিচালিত হতে পারে না।” তিনি রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস বাস্তবায়নে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট নজরুল গবেষক ও দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য আব্দুল হাই সিকদার। তিনি তাঁর বক্তব্যে নতুন প্রজন্মের মধ্যে নজরুলচর্চা বিস্তারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং জাতীয় কবির সাহিত্য ও দর্শনের বহুমাত্রিক গুরুত্ব তুলে ধরেন।
সবশেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃত্যকলা বিভাগের শিল্পীদের বর্ণাঢ্য নৃত্য পরিবেশনার মধ্য দিয়ে দুই দিনব্যাপী উৎসবের পর্দা নামে। অনুষ্ঠানজুড়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সংস্কৃতিপ্রেমী দর্শনার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ উৎসবকে প্রাণবন্ত করে তোলে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, সংস্কৃতি ও মানবিক মূল্যবোধ নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে এ ধরনের আয়োজন ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

মেসিকে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়া কে এই শতবর্ষী নারী?

লিওনেল মেসির খেলা ঘিরে বিশ্বজুড়ে আলোচনার মাঝেই এবার গ্যালারি থেকে নজর কাড়লেন ১০০ বছর বয়সী এক নারী দর্শক, যিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আগেই পরিচিত ‘গ্র্যানি স্মিথ’ নামে। বিশ্বকাপের ম্যাচে আর্জেন্টিনার জার্সি পরে তার উপস্থিতি ও হাতে ধরা একটি প্ল্যাকার্ড মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়, যেখানে লেখা ছিল—‘আমি ১০০ বছর বয়সী এবং আমি মেসির ভক্ত।’

 

 

 

ডালাসে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ২-০ গোলের জয়ের ম্যাচে এই দৃশ্য সম্প্রচারে আসার পর থেকেই বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে শুরু হয় কৌতূহল—কে এই শতবর্ষী নারী, যিনি মেসিকে ঘিরে এমন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এলেন।

 

 

এই নারী দর্শকের প্রকৃত নাম পউলিনে কানা। তবে অনলাইন দুনিয়ায় তিনি বেশি পরিচিত ‘গ্র্যানি স্মিথ’ বা ‘গ্যাংস্টার গ্র্যানি’ নামে। যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের এই কনটেন্ট ক্রিয়েটর তার নাতি রস স্মিথের সঙ্গে তৈরি করা কমেডি ভিডিও, স্টান্ট ও ভাইরাল কনটেন্টের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন।

 

টিকটকে তার অনুসারীর সংখ্যা কোটি ছাড়িয়েছে, পাশাপাশি ইনস্টাগ্রাম ও ইউটিউবেও রয়েছে বিশাল ভক্তগোষ্ঠী। বয়সকে অতিক্রম করে সাহসী ও হাস্যরসাত্মক কনটেন্ট তৈরির কারণে তিনি দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় রয়েছেন এবং গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসেও তার নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

 

 

মেসির প্রতি ভালোবাসার পুরোনো গল্প

মেসির প্রতি তার ভালোবাসা নতুন নয়। এর আগেও বিভিন্ন ফুটবল ইভেন্টে তাকে দেখা গেছে আর্জেন্টাইন তারকার প্রতি আবেগ প্রকাশ করতে। ২০২৫ সালের ক্লাব বিশ্বকাপে ইন্টার মায়ামির ম্যাচে উপস্থিত হয়ে তিনি বেশ কয়েকটি প্ল্যাকার্ড দেখান, যা তখনও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়।

 

 

 

পোর্তোর বিপক্ষে ম্যাচে তিনি একবার লিখে আনেন, ‘মেসি, তুমি কি আমাকে বিয়ে করবে?’ আবার পিএসজির বিপক্ষে ম্যাচে তার প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, ‘মেসি, আমি তোমাকে ভালোবাসি। বয়স শুধু একটি সংখ্যা।’

 

 

 

সেই সময় ওয়ার্ম-আপ চলাকালে মেসি দূর থেকে তার দিকে তাকিয়ে হাসেন এবং হাত নাড়েন—যা পরবর্তীতে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

 

 

 

বিশ্বকাপের রাতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু

অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে বিশ্বকাপ ম্যাচে মেসি দুটি গোল করে দলকে জেতানোর পাশাপাশি নিজের রেকর্ডও উন্নত করেন। একই ম্যাচে গ্যালারিতে থাকা পউলিনে কানার উপস্থিতি আলাদা মাত্রা যোগ করে।

 

 

 

হাতে ‘১০০ বছর বয়সী মেসি ভক্ত’ লেখা প্ল্যাকার্ড এবং আর্জেন্টিনার জার্সিতে তার উপস্থিতি সম্প্রচার ক্যামেরায় ধরা পড়তেই মুহূর্তে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে দৃশ্যটি। অনেকেই মেসির রেকর্ড গড়া রাতের পাশাপাশি এই শতবর্ষী ভক্তকেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রাখেন।

 

 

 

ভাইরাল দাদির জনপ্রিয়তার পেছনের গল্প

পউলিনে কানা শুধুমাত্র একজন ফুটবল ভক্ত নন, বরং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একজন সুপরিচিত ইনফ্লুয়েন্সার। নাতি রস স্মিথের সঙ্গে তার ভিডিওগুলো প্রথম ভাইনে ভাইরাল হয়, পরে টিকটক ও ইনস্টাগ্রামে তাদের জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী হয়।

 

 

 

তাদের কনটেন্টের মূল আকর্ষণ হলো বয়সকে অতিক্রম করে একজন বৃদ্ধ নারীর সাহসী অংশগ্রহণ, যেখানে তিনি হাস্যরস, চ্যালেঞ্জ এবং কখনও শারীরিক স্টান্টেও অংশ নেন।

 

 

 

একটি আলোচিত ঘটনায় তিনি ৯৯ বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে একটি কনসার্টে ক্রাউড সার্ফিং করে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড গড়েন, যা তাকে বিশ্বব্যাপী আরও পরিচিত করে তোলে।

 

 

 

১০০ বছর বয়সে বিশ্বকাপের গ্যালারিতে উপস্থিত হয়ে পউলিনে কানা আবারও প্রমাণ করেছেন, ফুটবল কেবল তরুণদের খেলা নয়—এটি আবেগের খেলা, যেখানে বয়স কোনো বাধা নয়।

 

 

 

মেসির রেকর্ড গড়া মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি এই শতবর্ষী ভক্তের উপস্থিতিও ম্যাচটিকে স্মরণীয় করে তুলেছে। ফলে একদিকে যেমন মাঠে ইতিহাস লিখেছেন মেসি, অন্যদিকে গ্যালারিতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়েছেন তার এক ব্যতিক্রমী ভক্ত—পউলিনে কানা।

 

 

অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ২-০ ব্যবধানের জয়ের ম্যাচে রেফারি লিওনেল মেসিকে বাড়তি সুবিধা দিয়েছেন বলে দাবি করেছেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কিংবদন্তি গোলরক্ষক পিটার স্মাইকেল।

 

 

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি টেলিভিশন চ্যানেলে ম্যাচ বিশ্লেষণ করার সময় তিনি এই বিতর্কিত মন্তব্য করেন।

 

 

স্মাইকেলের মতে, ম্যাচের একটি গোল বিল্ড-আপের সময় আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার অস্ট্রিয়ার জাভার শ্লাগারকে ফাউল করেছিলেন।

রেফারি সেই ফাউলটি এড়িয়ে যান এবং ভিএআর প্রযুক্তিও এতে হস্তক্ষেপ করেনি, যার ফলে মেসি বিশ্বকাপে তার রেকর্ড-ব্রেকিং ১৭তম গোলটি করার সুযোগ পান।

সাবেক এই ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড তারকা স্পষ্ট জানান, তিনি মেসির খেলার ভক্ত হলেও এই সিদ্ধান্তটি ছিল রেফারির একটি ‘স্পষ্ট এবং দৃশ্যমান ভুল’। তিনি মনে করেন, ফিফার অফিশিয়ালরা এখানে পক্ষপাতিত্ব বা বড় ধরনের ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

শ্রীলঙ্কায় ডেঙ্গু মোকাবিলায় সেনাবাহিনী মোতায়েন

মশাবাহিত প্রাণঘাতী ডেঙ্গু জ্বরের দ্রুত বিস্তার ঠেকাতে সেনাবাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে শ্রীলঙ্কা। দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে জানিয়েছে, প্রতিদিন ১ হাজারের বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

 

 

মঙ্গলবার (২৩ জুন) প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকের কার্যালয় জানায়, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর সদস্যদের নিয়ে একটি বিশেষ ইউনিট গঠন করা হবে। ইউনিটটি মশার প্রজননস্থল শনাক্ত ও ধ্বংসে কাজ করবে।

 

 

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে দেশটিতে প্রায় ৫০ হাজার ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে এবং মারা গেছেন ২৯ জন। তবে এই সংখ্যা এখনো ২০১৭ সালের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাবের তুলনায় কম। ওই বছর শ্রীলঙ্কায় ১ লাখ ৮৬ হাজার মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন এবং ৪৪০ জনের মৃত্যু হয়।

প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জানিয়েছে, যেসব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান তাদের স্থাপনায় মশার প্রজননের সুযোগ করে দেবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি বুধবার থেকে সারা দেশে মশার প্রজননস্থল পরিষ্কার করার বিশেষ অভিযান শুরু হচ্ছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) আগেই সতর্ক করেছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন মশাবাহিত রোগ দ্রুত বিস্তার লাভ করছে।

জুনের শুরু থেকে শ্রীলঙ্কায় ডেঙ্গু সংক্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সরকারি হিসাবে, চলতি সপ্তাহে একদিনেই এক হাজারের বেশি নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে।

 

 

দেশটির জাতীয় ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ ইউনিটের প্রধান কাপিলা কান্নাঙ্গারা বলেন, সংক্রমণ আরও বাড়লে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলো পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খেতে পারে।

 

 

তিনি বলেন, হাসপাতালগুলো ইতোমধ্যেই চাপের মধ্যে রয়েছে। ২০১৭ সালের মতো পরিস্থিতি আমরা আবার দেখতে চাই না।

 

 

 

টাঙ্গাইলে দূষিত পানি পান করে অসুস্থ ৩২ শিক্ষার্থী হাসপাতালে ভর্তি

টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার মাহমুদনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের নলকূপের পানিতে বিষাক্ত পদার্থ মেশানোর অভিযোগ উঠেছে। সেই পানি পান করে বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে অন্তত ৩২ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে।

 

 

মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকালে উপজেলার মাহমুদনগর ইউনিয়নের মাহমুদনগর উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুল কাদীর।

 

 

বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা জানান, সকালে বিদ্যালয়ের নলকূপের পানি পান করার পর একে একে কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে আরও শিক্ষার্থীর মধ্যে বমি, মাথা ঘোরা ও শারীরিক অস্বস্তির লক্ষণ দেখা দিলে তাদের দ্রুত নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কে বা কারা বিদ্যালয়ের নলকূপে কৃষিকাজে ব্যবহৃত তরল কীটনাশক বা অন্য কোনো বিষাক্ত পদার্থ মিশিয়ে দেয়। বিষয়টি টের পাওয়ার আগেই শিক্ষার্থীরা সেই পানি পান করে অসুস্থ হয়ে পড়ে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মোট ৩২ জন শিক্ষার্থী চিকিৎসার জন্য স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসে। তাদের মধ্যে ২৯ জনকে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর অসুস্থ দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। কয়েকজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়িতে বিশ্রামের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

মাহমুদনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘সকালে শিক্ষার্থীরা টিউবওয়েলের পানি পান করার পর অসুস্থ হয়ে পড়ে। আমরা দ্রুত তাদের হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছি। বর্তমানে শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা ও সার্বিক পরিস্থিতি সামাল দিতেই ব্যস্ত আছি।’

 

 

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক শিক্ষার্থী জানায়, বিরতির সময় ঝালমুড়ি খাওয়ার পর কয়েকজন সহপাঠী বিদ্যালয়ের পাশের টিউবওয়েলের পানি পান করে। এরপরই তারা বমি করতে শুরু করে এবং অসুস্থ হয়ে পড়ে। তবে সবাই ঝালমুড়ি খায়নি, অনেকেই শুধু পানি পান করার পর অসুস্থ হয়েছে।

 

 

মাহমুদনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ জজ কামাল বলেন, ‘বিদ্যালয়ের নলকূপে বিষ বা কীটনাশক মেশানোর কারণেই শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এটি পরিকল্পিত কোনো নাশকতা কি না, তা তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করা প্রয়োজন।’

 

 

 

নাগরপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাদীর আহামেদ জানান, ‘নলকূপের পাশ থেকে পলিথিনে মোড়ানো সাদা পেস্টজাতীয় একটি পদার্থ উদ্ধার করা হয়েছে। সেটি পানির সঙ্গে মিশে বিষক্রিয়ার কারণ হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।’

 

 

নাগরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. এরফান উদ্দিন জানান, নলকূপের পানির নমুনা পরীক্ষার জন্য পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষার ফল পাওয়ার পর ঘটনার প্রকৃত কারণ জানা যাবে এবং সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

 

নাগরপুর থানার ওসি মো. জহুরুল ইসলাম জানান, ‘পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। হাসপাতালে ভর্তি শিক্ষার্থীদের বেশিরভাগই এখন অনেকটা সুস্থ রয়েছে।’

 

 

 

হোয়াইট হাউস টার্গেট করে ষড়যন্ত্র, এফবিআই গ্রেপ্তার করল আরও ২ জন

হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত ইউএফসি ইভেন্টে হামলার কথিত ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল তদন্ত সংস্থা এফবিআই এ তথ্য জানিয়েছে। খবর আনাদোলু এজেন্সির।

 

 

গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা একটি বহু-রাজ্যভিত্তিক ষড়যন্ত্রের অংশ ছিলেন, যার লক্ষ্য ছিল বিস্ফোরক বহনকারী ড্রোন ব্যবহার করে অনুষ্ঠানে হামলা চালানো এবং পরবর্তীতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা।

 

 

 

মার্কিন বিচার বিভাগের এক বিবৃতিতে বলা হয়, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে হত্যার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে, যার সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।

তদন্তে জানা গেছে, পরিকল্পনাটি ছিল ১৪ জুন অনুষ্ঠিত ‘ইউএফসি ফ্রিডম ২৫০’ ইভেন্টকে লক্ষ্য করে। ওই অনুষ্ঠানে দক্ষিণ লনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উপস্থিত ছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, হামলাকারীদের পরিকল্পনা ছিল ড্রোনে বিস্ফোরক ব্যবহার করে ভিড়কে আতঙ্কিত করা এবং পরে গুলি চালানোর মাধ্যমে আরও বড় ক্ষতি করা।

এফবিআই-এর তথ্য অনুযায়ী, একজন সন্দেহভাজন ড্রোন অপারেটর ছিলেন এবং তিনি ড্রোনের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ক্ষতি করার কৌশল নিয়ে আলোচনা করেন। অন্য একজন অভিযুক্ত অর্থ জোগান, ভ্রমণ ব্যবস্থা এবং সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহে সহায়তা করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তার বাড়িতে থ্রিডি প্রিন্টারসহ কিছু উপকরণ পাওয়া গেছে, যা ড্রোনের যন্ত্রাংশ তৈরিতে ব্যবহৃত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

 

তদন্তকারীরা জানান, এই ষড়যন্ত্র প্রথম ধরা পড়ে ওহাইওর এক সহ-অভিযুক্তের বাবা-মা পুলিশকে তাদের সন্তানের সন্দেহজনক অনলাইন কার্যকলাপ ও অস্ত্র কেনার বিষয়ে জানালে।

 

 

 

এফবিআই বলেছে, দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে সম্ভাব্য বড় ধরনের হামলা ঠেকানো সম্ভব হয়েছে।

 

 

 

এ ঘটনায় মোট ২৩ জনের একটি নেটওয়ার্ক জড়িত থাকতে পারে বলে তদন্তে উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে মার্কিন গণমাধ্যম। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

বিশ্ববাজারে তেলের দামের নিয়ন্ত্রণ কি চীনের হাতে?

স্থায়ীভাবে হরমুজ প্রণালি খোলা রাখা এবং মধ্যপ্রাচ্যের তেলের প্রবাহ আবার স্বাভাবিক করার বিষয়ে যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে; তখন বাজারের পরবর্তী গতিপথ এমন একটি দেশের ওপর নির্ভর করতে পারে, যে দেশটি এই আলোচনায় সরাসরি উপস্থিত নেই। আর সেটি হলো চীন।

 

 

 

ইরানে চলমান যুদ্ধের কারণে প্রতিদিন ১ কোটি ১০ লাখ ব্যারেলেরও বেশি তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অপরিশোধিত তেল ভোক্তা চীন নিজেদের জ্বালানি সরবরাহ বজায় রাখতে সম্ভাব্য সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। আমদানি কমিয়ে, বিশাল তেল মজুতের ওপর নির্ভর করে এবং আরও বেশি পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ব্যবহার করে চীন দেশে উচ্চ তেলের দামের প্রভাবকে কিছুটা হলেও সামাল দিতে সক্ষম হয়েছে, যদিও পুরোপুরি তা দূর করতে পারেনি। চীনের এই পদক্ষেপগুলোর প্রভাব বৈশ্বিক বাজারেও অনুভূত হয়েছে।

 

 

 

যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর তিন মাসেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। এ সময় কিছু বিশ্লেষক পূর্বাভাস দিয়েছিলেন যে চলতি বছরে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২০০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছে যেতে পারে। কিন্তু মোট সরবরাহ ঘাটতি প্রায় ১ বিলিয়ন ব্যারেলের বেশি হওয়া সত্ত্বেও অপরিশোধিত তেলের দাম তুলনামূলকভাবে সীমিত পর্যায়েই রয়েছে। অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, এর প্রধান কারণ চীন।

জ্বালানি-বিষয়ক থিঙ্ক ট্যাংক এম্বারের প্রধান কর্মকর্তা ড্যান ওয়াল্টার বলেন, এশিয়ার বাকি অংশের জন্য এই পরিস্থিতিকে সামাল দিতে চীন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে, আর এর মাধ্যমে বৈশ্বিক অর্থনীতিকেও সুরক্ষা দিয়েছে।

সোমবার বৈশ্বিক মানদণ্ড হিসেবে ব্যবহৃত ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৭৮ ডলারের নিচে নেমে আসে। কারণ বাজারে আশা তৈরি হয়েছে যে, বিশ্বের মোট তেল পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে যায়, সেখানে খুব শিগগিরই স্বাভাবিক বাণিজ্য আবার শুরু হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা চালানোর আগের সপ্তাহগুলোতে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৭০ ডলারের নিচে ছিল। পরে মে মাসের শুরুতে তা চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠে ব্যারেলপ্রতি ১১৪ ডলারে স্থিত হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে চীনের প্রভাব ক্রমশ বাড়ছে। তাই হরমুজ প্রণালি কত দ্রুত পুনরায় পুরোপুরি চালু হয়, তা নির্বিশেষে ভবিষ্যতে তেলের বাজারের গতিপ্রকৃতি নির্ধারণে চীনের নীতি, জ্বালানি ব্যবহার এবং ভোগের ধরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

 

 

চীনের ‘অদৃশ্য হাত’

এই মাসের শুরুর দিকে প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে সোসিয়েট জেনারেলের বিশ্লেষকেরা লিখেছেন, ১৯৭৩ সালের ১৯৭৩ আরব অয়েল এম্বারগোর সময় বৈশ্বিক অপরিশোধিত তেল সরবরাহে ৭ শতাংশ ঘাটতি দেখা দিয়েছিল, যার ফলে তেলের দাম ১৩৪ শতাংশ বেড়ে গিয়েছিল। কিন্তু ইরানে চলমান যুদ্ধের সময় দাম সেই তুলনায় প্রায় বাড়েনি, যদিও এই সংঘাত বৈশ্বিক তেল সরবরাহের ১৪ শতাংশকে প্রভাবিত করেছে।

 

 

তাদের মতে, এই আপাতবিরোধী পরিস্থিতির প্রধান কারণ চীন, যা বাজারকে পুনরায় ভারসাম্যে ফিরিয়ে আনতে একটি ‘অদৃশ্য হাত’ হিসেবে কাজ করছে। কারণ চীন প্রতিদিন প্রায় ৩০ লাখ ব্যারেল তেল আমদানি কমাতে সক্ষম হয়েছে, যা প্রায় জাপানের মোট অপরিশোধিত তেল চাহিদার সমান।

 

 

চীন কয়েকটি কারণে তেলের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে পেরেছে। রিস্তাদ এনার্জির তেলবাজার বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট জনিভ শাহ বলেন, যুদ্ধ শুরুর আগে চীন ব্যাকআপ হিসেবে অপরিশোধিত তেলের মজুত গড়ে তুলছিল। এতে সহায়তা করেছে রাশিয়া ও ইরান থেকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা সস্তা তেলের সরবরাহ।

 

 

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে চীনের বাণিজ্যিক ও কৌশলগত মজুতে ১০০ কোটিরও বেশি ব্যারেল তেল রয়েছে, এবং দেশটি মে মাস থেকে সেই মজুত ব্যবহার শুরু করেছে।

 

 

শাহ বলেন, ‘চীন এতদিন তেলের দামের জন্য একটি ন্যূনতম ভিত্তি তৈরি করে রেখেছিল। কিন্তু এ বছর সেই ধারা উল্টে গেছে।’

 

 

দেশটির সরকার অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে ডিজেল ও পেট্রলের মতো পরিশোধিত তেলজাত পণ্যের রপ্তানিও সীমিত করেছে। এর ফলে চীনের তেল শোধনাগারগুলো, যারা একদিকে কম মুনাফার মুখোমুখি এবং অন্যদিকে বিদেশি বাজারে প্রবেশাধিকার হারিয়েছে, তারা বৈশ্বিক বাজার থেকে অপরিশোধিত তেল কেনার ব্যাপারে নিরুৎসাহিত হয়েছে।

 

 

এদিকে চীনে বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যাপক প্রসার দেশটির জীবাশ্ম জ্বালানির চাহিদা কমিয়ে দিয়েছে। বর্তমানে চীনে বিক্রি হওয়া প্রতি দুইটি নতুন যাত্রীবাহী গাড়ির মধ্যে প্রায় একটি হলো নতুন জ্বালানি প্রযুক্তিনির্ভর যানবাহন (নিউ এনার্জি ভেহিকল)।

 

 

আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, গত বছর চীনের বৈদ্যুতিক গাড়ির বহর প্রতিদিন প্রায় ১০ লাখ ব্যারেল তেল ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা কমিয়ে দিয়েছে।

 

 

চীনের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত বিশেষজ্ঞ ডেভিড ফিশম্যান বলেন, এটি বৈশ্বিক অপরিশোধিত তেলের বাজারের জন্য এক অসাধারণ চাপমুক্তির ভালভ হিসেবে কাজ করেছে।

 

 

তবে তিনি বলেন, উচ্চ তেলের দাম ভোক্তা ও শোধনাগারগুলোর চাহিদা কমিয়ে রাখতে পারে বটে, কিন্তু বৈশ্বিক সরবরাহ সংকট মোকাবিলায় চীনের সক্ষমতা নির্ভর করবে তারা কতদিন জ্বালানি মজুত ধরে রাখতে পারে তার ওপর।

 

 

ফিশম্যানের ভাষায়, ‘যে বিষয়টি অনির্দিষ্টকাল ধরে টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়, তা হলো অপরিশোধিত তেলের মজুত। যদি তেলের দাম কমতে শুরু করে, তাহলে আপনি আশা করতে পারেন যে তারা প্রথমেই আবার নতুন করে তেল মজুত করা শুরু করবে।’

 

 

ঘাটতি থেকে কি এবার অতিরিক্ত সরবরাহের যুগে?

ইতিহাসের সবচেয়ে বড় তেল সংকটের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে মাসের পর মাস উদ্বেগের পর আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থা এখন সতর্ক করছে যে, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে যাওয়ায় আগামী বছর বৈশ্বিক বাজারে তেলের অতিরিক্ত সরবরাহ সৃষ্টি হতে পারে।

 

 

 

বুধবার প্রকাশিত সংস্থাটির মাসিক তেলবাজার প্রতিবেদনে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে যে, মধ্যপ্রাচ্যে অপরিশোধিত তেলের উৎপাদন স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এলে আগামী বছর সরবরাহ বৃদ্ধির হার চাহিদা বৃদ্ধির হারকে প্রতিদিন ৪৭ লাখ ব্যারেল দ্বারা ছাড়িয়ে যাবে।

 

 

প্রতিবেদনে সংস্থাটি লিখেছে, এটি বাজারের জন্য একটি স্বস্তিদায়ক সুযোগ এনে দিতে পারে এবং ক্ষয়প্রাপ্ত মজুত পুনরায় পূরণ করার কিংবা নতুন কৌশলগত মজুত গড়ে তোলার সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে। কারণ সংকটের প্রতিক্রিয়ায় বিভিন্ন দেশ তাদের জ্বালানি কৌশল ও নীতিমালা পুনর্মূল্যায়ন করছে।

 

 

যদিও আগামী বছর বৈশ্বিক তেলের চাহিদা বৃদ্ধির পূর্বাভাস রয়েছে, সাম্প্রতিক অস্থিতিশীলতা নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রতি আগ্রহও বাড়িয়ে দিয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদে অপরিশোধিত তেলের ব্যবহার আরও কমিয়ে দিতে পারে। বৈদ্যুতিক গাড়ি, ব্যাটারি ও সৌরশক্তি প্রযুক্তিতে বিশ্বের শীর্ষ দেশ চীন ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর মার্চ মাসে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি প্রযুক্তি পণ্যের রপ্তানিতে রেকর্ড গড়ে।

 

 

চীনের জ্বালানি ও অটোমোবাইল খাত নিয়ে কাজ করা ট্রিভিয়াম চীনের বিশ্লেষক কসিমো রাইস বলেন, বিদ্যুতায়নের এই গতি ক্রমেই বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার অগ্রগতি কীভাবে হয়, তা আমাদের দেখতে হবে। তবে সামগ্রিকভাবে এটি বৈশ্বিক কার্বন নির্গমন হ্রাসের জন্য একটি অসাধারণ সুযোগ হয়ে উঠতে পারে।

 

 

পণ্যবাজারভিত্তিক তথ্য ও বিশ্লেষণ প্ল্যাটফর্ম কেপলারের জ্যেষ্ঠ তেল গবেষণা বিশ্লেষক মুয়ু জু বলেন, অতিরিক্ত সরবরাহের পরিস্থিতি আগামী মাসেই শুরু হতে পারে। তার মতে, হরমুজ প্রণালি দ্রুত খুলে যাওয়ার পর বর্তমানে আটকে থাকা ১০০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল আবার বাজারে প্রবেশ করবে।

 

 

একই সময়ে ইরানও সম্ভবত দ্রুতগতিতে নিজেদের তেল উৎপাদন বাড়াবে। তবে এর ফলে ইরানি তেল চীনের কাছে তুলনামূলকভাবে কম আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে। কারণ, এতদিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের বিক্রির সুযোগ সীমিত ছিল এবং সে কারণে চীন ছাড়মূল্যে ইরানি তেল কিনতে পেরেছে।

 

 

তবে শু আরও বলেন, অনেক দেশ ইতোমধ্যে গ্রীষ্মকালীন সময়ের জন্য তাদের তেলের চাহিদা পূরণ করে ফেলেছে। ফলে বাজারে পুনরায় ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে চীন আবারও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

 

 

 

শুর ভাষায়, ‘মাত্র দুই মাস আগের তুলনায় এখন পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। বর্তমানে অতিরিক্ত সরবরাহ শোষণ করার সক্ষমতা যে দেশের আছে, সেটি হলো চীন। কিন্তু আসল প্রশ্ন হলো—চীন কি আর তেল কিনতে চায়?’

বেলারুশের পাশে রাশিয়া, নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ প্রস্তুতির ঘোষণা

রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ বলেছেন, বেলারুশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে মস্কো সব ধরনের পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। তিনি মঙ্গলবার মস্কোতে বলেন, রাশিয়া-বেলারুশ নিরাপত্তা চুক্তির আওতায় এই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। খবর আনাদোলু এজেন্সির।

 

 

লাভরভের দাবি, ইউক্রেন বেলারুশকে সংঘাতে টেনে আনার চেষ্টা করছে এবং সীমান্তের কাছে সামরিক পরিস্থিতি তৈরি করে হুমকি দিচ্ছে।

 

 

তিনি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সাম্প্রতিক বক্তব্যেরও উল্লেখ করেন। জেলেনস্কি বলেছেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সামরিক সরঞ্জাম সরানো না হলে বেলারুশে হামলার নির্দেশ দেওয়া হতে পারে। বেলারুশে হামলার সক্ষমতা রয়েছে বলেও জেলেনস্কি হুঁশিয়ারি দেন।

লাভরভ জানান, যে সামরিক সরঞ্জামের কথা বলা হচ্ছে, তা বেলারুশের ভূখণ্ডে ইউক্রেন সীমান্তের কাছে অবস্থান করছে।

তিনি আরও বলেন, ২০২৫ সালের মার্চ থেকে রাশিয়া-বেলারুশের মধ্যে একটি নিরাপত্তা চুক্তি কার্যকর আছে এবং প্রয়োজন হলে সেই চুক্তির সব ধারা অনুযায়ী মস্কো পদক্ষেপ নেবে।

এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বিশ্বকাপের নকআউট নিশ্চিত দলগুলো, বিদায়ঘণ্টা বাজল যাদের

ফিফা বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব শেষ হওয়ার আগেই নকআউট পর্বের চিত্র ধীরে ধীরে স্পষ্ট হয়ে উঠছে। প্রথমবারের মতো ৪৮ দল নিয়ে আয়োজিত এই বিশ্বকাপে নতুন সংযোজন ‘রাউন্ড অব ৩২’। আগামী ২৮ জুন থেকে ৩ জুলাই পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে এই পর্ব, যেখানে জায়গা করে নেবে ৩২টি দল।

 

 

নকআউটে ওঠার নিয়ম কী?

নতুন নিয়ম অনুযায়ী ১২টি গ্রুপের প্রতিটি থেকে শীর্ষ দুই দল সরাসরি রাউন্ড অব ৩২-এ উঠবে। পাশাপাশি ১২টি গ্রুপের তৃতীয় স্থানে থাকা দলগুলোর মধ্যে সেরা আট দলও নকআউট পর্বে খেলার সুযোগ পাবে।

রাউন্ড অব ৩২ শেষে শুরু হবে রাউন্ড অব ১৬। এরপর পর্যায়ক্রমে অনুষ্ঠিত হবে কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল, তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ এবং ফাইনাল। আগামী ১৯ জুলাই হবে বিশ্বকাপের শিরোপা নির্ধারণী লড়াই।

টুর্নামেন্টের সূচি অনুযায়ী গ্রুপ পর্ব চলবে ২৭ জুন পর্যন্ত। রাউন্ড অব ১৬ অনুষ্ঠিত হবে ৪ থেকে ৭ জুলাই, কোয়ার্টার ফাইনাল ৯ থেকে ১১ জুলাই, সেমিফাইনাল ১৪ ও ১৫ জুলাই এবং তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ হবে ১৮ জুলাই।

টাইব্রেকারে নতুন নিয়ম

বিশ্বকাপের ইতিহাসে এবারই প্রথম সমান পয়েন্ট পাওয়া দলগুলোর মধ্যে অবস্থান নির্ধারণে গোল ব্যবধানের আগে হেড-টু-হেড ফলাফলকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ফিফার এই নতুন নিয়মের প্রভাব ইতোমধ্যেই দেখা গেছে।

 

 

এই নিয়মের কারণে হাইতি, তুরস্ক, তিউনিসিয়া ও জর্ডানের বিদায় নিশ্চিত হয়েছে। কারণ নিজেদের গ্রুপের তৃতীয় স্থানে থাকা প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিপক্ষে তারা হেরে যাওয়ায় আর সেরা তৃতীয় দল হওয়ার দৌড়ে টিকে থাকার সুযোগ নেই।

 

 

 

সমান পয়েন্ট হলে যেভাবে নির্ধারণ

একই গ্রুপে দুই বা ততোধিক দলের পয়েন্ট সমান হলে প্রথমে বিবেচনা করা হবে সংশ্লিষ্ট দলগুলোর পারস্পরিক ম্যাচে অর্জিত পয়েন্ট। এরপর দেখা হবে সেই ম্যাচগুলোর গোল ব্যবধান এবং করা গোলসংখ্যা।

 

 

 

এতেও সমাধান না হলে বিবেচনায় আসবে গ্রুপের সব ম্যাচ মিলিয়ে গোল ব্যবধান, মোট গোলসংখ্যা এবং হলুদ-লাল কার্ডের ভিত্তিতে ফেয়ার প্লে রেকর্ড। সবশেষে প্রয়োজন হলে ফিফা বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ের অবস্থান ব্যবহার করা হবে।

 

 

অন্যদিকে সেরা আট তৃতীয় স্থানধারী দল নির্ধারণে বিবেচনা করা হবে অর্জিত পয়েন্ট, গোল ব্যবধান, গোলসংখ্যা, ফেয়ার প্লে রেকর্ড এবং প্রয়োজনে ফিফা র‌্যাঙ্কিং।

 

 

নকআউট নিশ্চিত করেছে যেসব দল

সহ-আয়োজক মেক্সিকোই প্রথম দল হিসেবে রাউন্ড অব ৩২ নিশ্চিত করেছে। গ্রুপ ‘এ’-তে দক্ষিণ কোরিয়াকে ১-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয় জয় তুলে নেয় তারা। এর আগে উদ্বোধনী ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২-০ গোলে হারিয়েছিল মেক্সিকানরা।

 

 

 

গ্রুপ ‘ডি’-তে টানা দুই জয়ে নকআউট নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রথম ম্যাচে প্যারাগুয়েকে ৪-১ গোলে হারানোর পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২-০ গোলের জয় পায় স্বাগতিকরা।

 

 

 

জার্মানি গ্রুপ ‘ই’ থেকে শেষ ৩২-এ জায়গা করে নিয়েছে। প্রথম ম্যাচে কুরাসাওকে ৭-১ গোলে উড়িয়ে দেওয়ার পর আইভরি কোস্টকে ২-১ গোলে হারিয়ে নকআউট নিশ্চিত করে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। রাশিয়া ২০১৮ ও কাতার ২০২২ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেওয়ার পর এবার দারুণ প্রত্যাবর্তন হয়েছে তাদের।

 

 

বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাও নকআউট নিশ্চিত করেছে দাপটের সঙ্গে। গ্রুপ ‘জে’-তে অস্ট্রিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়ে শেষ ৩২-এ ওঠার পাশাপাশি শীর্ষস্থানও নিশ্চিত করেছে আলবিসেলেস্তেরা। ম্যাচে জোড়া গোল করেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। এর আগে আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিকও করেছিলেন তিনি।

 

 

 

গ্রুপ ‘আই’-তে নকআউট নিশ্চিত করেছে ফ্রান্স ও নরওয়ে। ফ্রান্স ইরাককে ৩-০ গোলে হারিয়ে শেষ ৩২-এ জায়গা করে নেয়। ম্যাচে জোড়া গোল করেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। অন্যদিকে সেনেগালকে ৩-২ গোলে হারিয়ে নকআউট নিশ্চিত করে নরওয়ে। ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে টানা দুই জয়ে দারুণ সূচনা করেছে স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দলটি।

 

 

বিদায় নিশ্চিত যাদের

গ্রুপ ‘সি’-তে ব্রাজিলের কাছে ৩-০ গোলে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়েছে হাইতির। ১৯৭৪ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলা দলটি প্রথম ম্যাচেও স্কটল্যান্ডের কাছে পরাজিত হয়েছিল।

 

 

 

গ্রুপ ‘ডি’-তে প্যারাগুয়ের কাছে ১-০ গোলে হেরে বিদায় নিশ্চিত হয় তুরস্কের। এর আগে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেও হার দেখেছিল তারা। ২৪ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে হতাশাজনক সমাপ্তি ঘটল ইউরোপের দলটির।

 

 

তিউনিসিয়ার বিশ্বকাপ অভিযানও শেষ হয়েছে গ্রুপ পর্বেই। গ্রুপ ‘এফ’-এ জাপানের কাছে ৪-০ গোলে হারার আগে প্রথম ম্যাচে সুইডেনের কাছে ৫-১ গোলের বড় ব্যবধানে পরাজিত হয়েছিল উত্তর আফ্রিকার দেশটি।

 

 

 

অন্যদিকে বিশ্বকাপে প্রথমবার অংশ নেওয়া জর্ডানের স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে গ্রুপ ‘জে’-তে। আলজেরিয়ার কাছে ২-১ গোলে হেরে তাদের বিদায় নিশ্চিত হয়। প্রথম ম্যাচেও অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে হারতে হয়েছিল দলটিকে। ফলে অভিষেক বিশ্বকাপেই গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিতে হলো মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিনিধিদের।

ঝড়-বজ্রবৃষ্টিতে আক্রান্ত হতে পারে দেশের ১৩ জেলা

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের ১৩ জেলার ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

 

 

মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিকেলে অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরের জন্য দেওয়া এক পূর্বাভাসে এই তথ্য জানানো হয়।

 

 

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ঢাকা, রংপুর, ময়মনসিংহ, ফরিদপুর, যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম এবং সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫-৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা ও ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ সময় বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টিও হতে পারে।

এসব এলাকার নদীবন্দরকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। এদিকে, আরেকটি বিজ্ঞপ্তিতে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, সন্ধ্যা পর্যন্ত দেশের সব বিভাগেই অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়ার সঙ্গে বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। একইসঙ্গে দেশের কিছু কিছু স্থানে মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণেরও আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া ঝড়বৃষ্টি ও ভারি বর্ষণের প্রবণতা আগামী কয়েক দিনে আরও বাড়তে পারে বলেও জানায় আবহাওয়া অধিদপ্তর।

ইরানের শীর্ষ নেতাদের পাকিস্তান সফর

সরকারি সফরে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে পৌঁছেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তার এই রাষ্ট্রীয় সফরের মধ্যেই সফরসঙ্গী হিসেবে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও যোগ দিবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

 

 

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আইআরআইবি জানিয়েছে, ওমানের রাজধানী মাস্কাট সফর শেষ করে আরাঘচি ইসলামাবাদে পৌঁছালে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা তাকে বিমানবন্দরে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।

 

 

তার এই সফরটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান পরোক্ষ আলোচনায় পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে আসছে। দুই দেশের মধ্যে ১৪ দফার একটি অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির রূপরেখা বা ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’ এই কূটনৈতিক তৎপরতার অন্যতম বড় প্রমাণ।

সফরকালে আরাঘচির নেতৃত্বে ইরানের শীর্ষ এই প্রতিনিধি দলটি দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় ছাড়াও আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের সাথে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

সিংড়ায় ১৫২ টি নৃগোষ্ঠী পরিবারের মাঝে শিক্ষা উপবৃত্তি, সেলাই মেশিন ও বাইসাইকেল বিতরণ

 প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কর্তৃক ক্ষুদ্র-নৃ-গোষ্ঠির জীবনমান উন্নয়নের জন্য বিশেষ এলাকার উন্নয়ন সহায়তা শীর্ষক কর্মসূচির আওতায় ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের নাটোরের সিংড়ায়  নৃগোষ্ঠী ছাত্র ছাত্রী ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নারীদের মোট  ১৫২ টি পরিবারের মাঝে শিক্ষা উপবৃত্তি, সেলাই মেশিন ও  বাইসাইকেল বিতরণ করা হয়েছে।
বুধবার বিকাল ৪টায় উপজেলা চত্বরে নৃগোষ্ঠীর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫৯ জন শিক্ষার্থী, মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৩৫ জন ও  কলেজের ২৪জন  শিক্ষার্থীর মাঝে উপবৃত্তি, ১৮টি বাইসাইকেল ও ১২ টি পরিবারের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)  আব্দুল্লাহ আল রিফাত।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিশাত আনজুম, উপজেলা বিএনপির  সদস্য সচীব অধ্যাপক শারফুল ইসলাম, ডায়াবেটিস সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ মিলন হোসেন মাস্টার, সাবেক ছাত্র নেতা রফিকুল ইসলাম বুলেট সহ উপকারভোগী নৃগোষ্ঠী পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী।

অভিনয়ের পর এবার নির্মাণে নওশাবা, আসছে ‘সোমেশ্বরী’

অভিনয়ের পাশাপাশি এবার চলচ্চিত্র নির্মাণেও নাম লিখিয়েছেন অভিনেত্রী কাজী নওশাবা আহমেদ। তার পরিচালনায় নির্মিত হয়েছে নতুন সিনেমা ‘সোমেশ্বরী’। এতে পরিচালনার পাশাপাশি অভিনয়ও করেছেন তিনি। সুনামগঞ্জের মধ্যনগর ও সোমেশ্বরী নদীকে ঘিরে নির্মিত এই সিনেমায় স্থানীয় মানুষদের নিয়ে তুলে ধরা হয়েছে প্রকৃতি, পরিবেশ ও মানুষের জীবনের গল্প।

 

 

 

মঞ্চ ও পর্দা, দুই মাধ্যমেই সমানভাবে সক্রিয় নওশাবা। রেজা আরিফের নির্দেশনায় ‘সিদ্ধার্থ’ নাটকে অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি পরিচালনা করছেন নিজের নাট্যদল ‘টুগেদার উই ক্যান’-এর বিভিন্ন প্রযোজনা। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের নিয়ে কাজ করা এই দলের ব্যানারে ইতোমধ্যে চারটি নাটক মঞ্চস্থ হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় এবার চলচ্চিত্র নির্মাণে হাত দিলেন নওশাবা। তার পরিচালিত প্রথম সিনেমা ‘সোমেশ্বরী’র প্রযোজক বিবেশ রায়।

 

 

 

প্রযোজকের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি একটি সম্মিলিত প্রয়াস। কাজী নওশাবা, আপন, লতা, জাহিদসহ কয়েকজন মিলে সিনেমাটির গল্প ও চিত্রনাট্য তৈরি করেছেন এবং নির্মাণ প্রক্রিয়ায় যুক্ত রয়েছেন।

সিনেমাটি নিয়ে নওশাবা বলেন, ‘শুরুতে গল্প বা চরিত্র সম্পর্কে কোনো পূর্বপরিকল্পনা ছিল না। পুরো টিম মধ্যনগরে গিয়ে স্থানীয় বাস্তবতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে গল্প নির্মাণ করেছে। মূল চরিত্রে অভিনয়েরও পরিকল্পনা ছিল না আমার, তবে উপযুক্ত কাউকে না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত নিজেই চরিত্রটি করি।’

নওশাবার ভাষ্য, গ্রামীণ জীবন সম্পর্কে তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থাকায় চরিত্রটি ফুটিয়ে তুলতে খুব বেশি বেগ পেতে হয়নি। স্থানীয় মানুষের সহযোগিতাও পেয়েছেন তিনি।

সিনেমার গল্প প্রসঙ্গে নওশাবা জানান, আধুনিকতার নামে প্রকৃতির ওপর মানুষের নেতিবাচক প্রভাব, পরিবেশ দূষণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য কেমন পৃথিবী রেখে যাওয়া হচ্ছে— এসব বিষয় ‘সোমেশ্বরী’র মূল উপজীব্য। পাশাপাশি এতে থাকছে একটি বিশেষ মানবিক গল্পও।

 

 

 

‘সোমেশ্বরী’ নির্মিত হয়েছে ইন্টারন্যাশনাল একাডেমি অব ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া-এর আওতাধীন গ্রিন ফিল্মসের ব্যানারে।

ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন, দায়িত্বে প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম

ডেঙ্গু মোকাবিলায় স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের নেতৃত্বে বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করেছে সরকার।

 

 

মঙ্গলবার (২৩ জুন) ‘ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত অন্যান্য রোগ প্রতিরোধ বিষয়ক জাতীয় কমিটি’র প্রথম সভায় স্থানীয় সরকার বিভাগের উদ্যোগে উচ্চপর্যায়ের এ ‘টাস্কফোর্স’ গঠন করা হয়।

 

 

জানা গেছে, ডেঙ্গু মোকাবিলায় গঠিত এ ‘টাস্কফোর্স’-এর সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

 

 

টাস্কফোর্সের কার্যপরিধির মধ্যে রয়েছে জাতীয় কমিটির গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহ মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় দিক-নির্দেশনা প্রদান। এছাড়া বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়মিতভাবে জাতীয় কমিটিকে অবহিত করা এবং বাস্তবায়নে কোনো সীমাবদ্ধতা থাকলে তা নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখা।

১৯ সদস্যের এই কমিটির অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন স্থানীয় সরকার বিভাগের নগর উন্নয়ন অনুবিভাগের প্রতিনিধি, দুই সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী, স্বাস্থ্য ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় (স্বাস্থ্য, শিক্ষা, গৃহায়ন ও গণপূর্ত), ডিএমপি, রাজউক, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধি এবং ‘ইম্প্রুভমেন্ট অব আরবান পাবলিক হেলথ প্রিভেন্টিভ সার্ভিসেস প্রজেক্ট’-এর প্রকল্প পরিচালক। সদস্য-সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্থানীয় সরকার বিভাগের নগর উন্নয়ন-২ শাখার উপসচিব।

সরকারের এই সময়োপযোগী পদক্ষেপ মাঠ পর্যায়ে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আরও কঠোর ও সমন্বিত নজরদারি নিশ্চিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

একযোগে পদত্যাগ করলেন ১৭ ডেপুটি ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল

জুলাই চার্টার বাস্তবায়ন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং বিচারক নিয়োগসংক্রান্ত বিষয়ে সরকারের অবস্থানের সঙ্গে মতপার্থক্যের কথা উল্লেখ করে পদত্যাগ করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের ১৭ জন আইন কর্মকর্তা। এদের মধ্যে ১০ জন ডেপুটি ও ৭ জন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল।

 

 

মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো পৃথক পদত্যাগপত্রে তারা দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। তারা সবাই জামায়াতপন্থি হিসেবে পরিচিত।

 

 

পদত্যাগকারী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলরা হলেন- অ্যাডভোকেট ইউসুফ আলী, শফিকুর রহমান, আবদুল করিম, ফরিদ উদ্দিন খান, গোলাম রহমান ভূঁইয়া, আসাদ উদ্দিন এবং মুহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।

এ ছাড়া পদত্যাগকারী সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলরা হলেন- ইমরুল কায়েছ রানা, হুমায়ুন কবির তানিম, আবদুল কাইয়ুম ভূঁইয়া, আবদুল্লাহিল মারুফ ফাহিম, জোয়াদুর রহমান, শামসিল আরেফিন, মাহাবুবা আক্তার রলি, নূর নবী উজ্জ্বল, আল রেজা আমির এবং রেজাউল ইসলাম।

পদত্যাগপত্রে তারা বলেন, জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী জুলাই চার্টার বাস্তবায়ন না হওয়া, বিচার বিভাগের জন্য স্বাধীন সচিবালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা এবং সুপ্রিম কোর্ট বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ বাতিলের মতো বিষয়গুলো নিয়ে তাদের গভীর উদ্বেগ রয়েছে। এসব কারণে সাংবিধানিক শাসন, আইনের শাসন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে তারা মনে করেন।

তারা আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে নিজেদের বিবেকের কাছে দায়বদ্ধ থেকে দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। তাই তারা অবিলম্বে কার্যকর হওয়ার শর্তে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।

১৮ বছরের দুর্নীতির জালে বন্দী উন্নয়ন, ১১ বছরের ভোগান্তি

চট্টগ্রামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অক্সিজেন-কুয়াইশ সড়ক আজ দীর্ঘ সময় ধরে নগরবাসীর দুর্ভোগের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ শিক্ষার্থী, রোগী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী ও পরিবহন শ্রমিক এই সড়কে চলাচল করতে গিয়ে সীমাহীন ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। খানাখন্দে ভরা সড়কে যানবাহনের গতি কমে যায়, বাড়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকি, নষ্ট হয় মূল্যবান সময়। সড়কটির দায়িত্ব সিডিএ নাকি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের, এ নিয়ে দুই প্রতিষ্ঠানের টানাপোড়েন আবারও আলোচনায় এসেছে।

 

 

তবে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, এই সংকটের শিকড় কেবল বর্তমান প্রশাসনিক জটিলতায় সীমাবদ্ধ নয়। এর পেছনে রয়েছে প্রায় দুই দশকজুড়ে অনিয়ম, দুর্নীতির অভিযোগ, তদন্তের বিতর্ক এবং জবাবদিহিহীনতার দীর্ঘ ইতিহাস।

 

 

 

এই ইতিহাসের সূত্রপাত ২০০৭ সালে। ওই বছরের ১ জুলাই চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) নির্বাহী প্রকৌশলী এ.জি.এম. সেলিম এবং সহকারী প্রকৌশলী রাজীব দাস অক্সিজেন জংশন থেকে কাপ্তাই রোড পর্যন্ত সংযোগ সড়ক নির্মাণকাজ পরিদর্শন করে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে একটি তদন্ত প্রতিবেদন তৎকালীন চেয়ারম্যানের কাছে জমা দেন। পরবর্তীতে এই প্রতিবেদনই দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্তের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

এরপর ২০০৮ সালে দুদক সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) প্রকৌশলীদের দিয়ে প্রকল্পটির পুনঃপরিমাপ করায়। সেই প্রতিবেদনে দেখা যায়, বাস্তবে সম্পন্ন হওয়া কাজের মূল্য ছিল মাত্র ১ লাখ ৫৫ হাজার ৪৬০ টাকা, অথচ ঠিকাদার উত্তোলন করেছেন ৫ লাখ ৯১ হাজার ৯৭ টাকা। অর্থাৎ অতিরিক্ত বিল উত্তোলনের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪ লাখ ৩৫ হাজার ৬৩৭ টাকা। এই তথ্যের ভিত্তিতে ২০০৮ সালের ৯ অক্টোবর কাজী হাসান বিন শামসসহ পাঁচজন প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে মোট ১৫টি দুর্নীতির মামলা দায়ের করে দুদক। অভিযোগ ছিল, প্রকৃত কাজের তুলনায় অতিরিক্ত বিল তুলে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।

এর কিছুদিন পর, ২০০৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অভিযুক্ত কাজী হাসান বিন শামস ট্রুথ কমিশনে হাজির হয়ে তিন লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেন এবং দায় স্বীকারের ভিত্তিতে মার্জনা গ্রহণ করেন। এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে আসে। যদি অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন হয়ে থাকে, তাহলে তিনি কেন ট্রুথ কমিশনের কাছে দায় স্বীকার করে অর্থ জমা দিলেন? যদিও পরে ট্রুথ কমিশনকে আদালত অবৈধ ঘোষণা করেন, তবুও দায় স্বীকার এবং অর্থ জমা দেওয়ার ঘটনাটি ইতিহাসের অংশ হয়ে রয়েছে।

পরবর্তীতে ২০০৮ সালের ১৩ নভেম্বর হাইকোর্ট ট্রুথ কমিশনকে অবৈধ ঘোষণা করেন এবং ২০১১ সালে আপিল বিভাগও সেই রায় বহাল রাখেন। এর ফলে ট্রুথ কমিশনের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়া দুর্নীতির মামলাগুলো পুনরায় সচল হয়ে যায় এবং মামলাগুলোর তদন্ত আবার নতুন করে শুরু হয়।

 

 

এই ধারাবাহিকতায় দুদকের তৎকালীন উপ-সহকারী পরিচালক মো. হুমায়ুন কবির দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০১২ সালের ২১ মে কমিশনে একটি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। কিন্তু বিস্ময়করভাবে সর্বশেষ তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. এমরান হোসেনের প্রতিবেদনে ২০১২ সালের তদন্তে কী পাওয়া গিয়েছিল, তার উপসংহার কী ছিল, কিংবা আগের তদন্তের সঙ্গে পরবর্তী তদন্তের পার্থক্য কোথায় এসব বিষয়ে কার্যত কোনো বিশ্লেষণই পাওয়া যায় না। ফলে একটি গুরুত্বপূর্ণ তদন্ত প্রতিবেদন রহস্যজনকভাবে আড়ালে থেকে গেছে বলে প্রশ্ন উঠেছে।

 

 

আরও বড় প্রশ্ন তৈরি হয়েছে পুনঃপরিমাপের প্রক্রিয়া নিয়ে। ২০০৮ সালে যে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) প্রকৌশলীরা পুনঃপরিমাপ করে দুর্নীতির অভিযোগের সত্যতা পেয়েছিলেন, ২০২৪ সালের পুনঃতদন্তে সেই সংস্থাকেই আর দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। এর পরিবর্তে পুনঃপরিমাপের দায়িত্ব দেওয়া হয় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এবং জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরকে (ডিপিএইচই)। বিশেষজ্ঞদের মতে, সড়ক নির্মাণের কারিগরি পরিমাপের ক্ষেত্রে সওজই সবচেয়ে অভিজ্ঞ ও স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান। তাহলে কেন সেই সংস্থাকে বাদ দেওয়া হলো এ প্রশ্নের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা তদন্ত প্রতিবেদনে পাওয়া যায় না।

 

 

এদিকে তদন্ত প্রক্রিয়া ঘিরে দুদকের ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে পড়েছে। আসামি কাজী হাসান বিন শামস ২০২২ সালের ১৭ নভেম্বর দুদক চেয়ারম্যান বরাবর আবেদন করে দাবি করেন, আগের পরিমাপে অসঙ্গতি রয়েছে এবং প্রকল্পের আওতায় নির্মিত কালভার্টগুলো অন্য কোনো প্রকৌশল বিভাগ দিয়ে পুনরায় পরিমাপ করা হোক। অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন দুদক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ অতীতে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব থাকাকালে কাজী হাসান বিন শামসের সঙ্গে পরিচিত ছিলেন এবং সেই সম্পর্কের প্রভাবেই আবেদনটি বিশেষভাবে বিবেচিত হয়।

 

 

পরবর্তীতে ২০২৩ সালের ২২ অক্টোবর দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে তদন্তকারী কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেওয়া হয় যে, পূর্ববর্তী পরিমাপ প্রকৌশল গাইডলাইন অনুসরণ না করে হয়ে থাকলে এবং তাতে ন্যায়বিচার ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকলে পুনঃপরিমাপ গ্রহণ করা যেতে পারে। একই সময়ে, দুদকের চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১-এর তৎকালীন পরিচালক ও উপপরিচালক নাজমুস সাদাতের কাছে কাজী হাসান বিন শামসের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের তথ্য থাকলেও তদন্তে সেগুলো যথাযথ গুরুত্ব পায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

 

 

সবশেষে প্রায় ১৮ বছর পর এলজিইডি ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের মতামতের ভিত্তিতে তদন্তে বলা হয়, বিলের পরিমাণ এবং বাস্তব কাজ প্রায় সমান, পার্থক্য খুবই নগণ্য এবং দীর্ঘ ব্যবহারে কিছু অপচয় হয়েছে। এরপর মামলাটি ঘটনাগত ভুল হিসেবে চূড়ান্ত প্রতিবেদন'(এফআর অ্যাজ মিস্টেক অব ফ্যাক্ট) আকারে নিষ্পত্তির সুপারিশ করা হয়।

 

 

কিন্তু এখানেই নতুন করে একাধিক প্রশ্ন সামনে এসেছে। ২০০৫-২০০৬ সালে নির্মিত একটি কালভার্ট ২০২৪ সালে পরিমাপ করে মূল নির্মাণকাজের পরিমাণ কতটা নির্ভুলভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব? তদন্তে কোথাও কোর টেস্ট, নন-ডেস্ট্রাকটিভ টেস্ট, ফটোগ্রাফিক এভিডেন্স, অ্যাজ-বিল্ট ড্রয়িংয়ের সত্যতা যাচাই কিংবা বিস্তারিত ফিল্ড ভেরিফিকেশনের তথ্য পাওয়া যায় না। ফলে পুনঃপরিমাপের বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নিয়েও সংশয় তৈরি হয়েছে।

 

 

আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, গত ১৮ বছরে এই সড়কে কতবার সংস্কার হয়েছে, কত টাকা ব্যয় হয়েছে, কোন অংশ পুনর্নির্মাণ হয়েছে এসব মৌলিক তথ্যও তদন্তে বিশ্লেষণ করা হয়নি। অথচ ২০১৩ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে প্রায় ৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫ দশমিক ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ অক্সিজেন-কুয়াইশ সড়ক পুনর্নির্মাণ করা হয়েছিল। অর্থাৎ যে করিডোরকে কেন্দ্র করে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল, পরবর্তীতে সেই একই করিডোরে বিপুল অর্থ ব্যয় করে নতুন সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। তাহলে পূর্ববর্তী নির্মাণকাজের গুণগত মান কী ছিল, কেন পুনর্নির্মাণের প্রয়োজন হলো এবং পুরোনো কাজের দায় কার এসব প্রশ্নেরও কোনো উত্তর তদন্তে নেই।

 

 

এদিকে বর্তমানে সড়কটির দায়িত্ব নিয়ে সিডিএ ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন একে অপরের দিকে দায় ঠেলে দিচ্ছে। কিন্তু এই টানাপোড়েনের মাঝেই বছরের পর বছর দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে যানবাহন, সময় নষ্ট হচ্ছে শিক্ষার্থী, রোগী ও কর্মজীবী মানুষের। ফলে প্রশ্ন উঠছে আজকের এই জনদুর্ভোগ কি শুধুই বর্তমান প্রশাসনিক সংকটের ফল, নাকি অতীতের অনিয়ম, দুর্বল তদারকি এবং জবাবদিহিহীনতার ধারাবাহিক পরিণতি?

 

 

অক্সিজেন কুয়াইশ সড়কের বর্তমান পুনঃনির্মাণ কাজের স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। কারণ সড়কটির মূল ফাউন্ডেশনই দুর্বল, ফলে শুধু ওপরের অংশ সংস্কার করলেও তা দীর্ঘমেয়াদে টিকবে না। অল্প সময়ের মধ্যেই আবার ভাঙন ও ক্ষয়ের ঝুঁকি থেকে যায়, এবং ভবিষ্যতে পুনরায় সংস্কার ও অতিরিক্ত ব্যয়ের প্রয়োজন হতে পারে।

 

 

এ বিষয়ে দুদকের তদন্ত কর্মকর্তা ইমরান হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি একটি মিটিংয়ে আছেন বলে কল কেটে দেন। পরবর্তীতে হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো হলেও তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

 

 

দুদকের ভূমিকাও তাই নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ২০০৮ সালে যে অভিযোগের ভিত্তিতে ১৫টি মামলা হয়েছিল,সেই অভিযোগ কি সম্পূর্ণ ভুল ছিল? যদি ভুল হয়ে থাকে, তাহলে মামলাগুলোর ভিত্তি কী ছিল? অভিযুক্ত ব্যক্তি ট্রুথ কমিশনে অর্থ জমা দিলেন কেন? ২০১২ সালের তদন্ত প্রতিবেদন কেন গুরুত্ব পেল না? সওজকে বাদ দিয়ে অন্য সংস্থাকে দিয়ে পুনঃপরিমাপ কেন করানো হলো? আর ১৮ বছর পর সংগৃহীত পরিমাপ কি ২০০৫ সালের বাস্তবতা নির্ধারণের জন্য যথেষ্ট?

 

 

এদিকে নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম দফায় সরেজমিনে অক্সিজেন -কুয়াইশ সড়কের সংস্কারকাজ পরিদর্শনে যান চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. বেলায়েত হোসেন। এ সময় তিনি প্রকল্প এলাকার চলমান কাজের অগ্রগতি, গুণগত মান এবং বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতাগুলো ঘুরে দেখেন।

 

 

সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. বেলায়েত হোসেন বলেন, পরিদর্শনকালে আমি দেখেছি অবৈধভাবে নালা দখল করা হয়েছে, ফুটপাতে ঢালাই দেওয়া হয়েছে এবং ময়লা আবর্জনা ফেলে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা বন্ধ করে রাখা হয়েছে। এতে পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং বৃষ্টির পানি দীর্ঘ সময় জমে থেকে সড়কের ক্ষতি করছে। এ ধরনের অবস্থা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

 

 

অক্সিজেন-কুয়াইশ সড়কের বর্তমান দুর্দশা তাই কেবল একটি ভাঙাচোরা রাস্তার গল্প নয়। এটি রাষ্ট্রীয় জবাবদিহি, উন্নয়ন প্রকল্পের সুশাসন, তদন্তের স্বচ্ছতা এবং দুর্নীতিবিরোধী ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে এক গভীর প্রশ্নের নাম। অতীতের অনিয়মের নিরপেক্ষ তদন্ত, বিতর্কিত সিদ্ধান্তগুলোর স্বচ্ছ ব্যাখ্যা এবং দায়ী ব্যক্তিদের জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে শত শত কোটি টাকা ব্যয় করে নতুন সড়ক নির্মাণ করলেও সমস্যার মূল কারণ অমীমাংসিতই থেকে যাবে।

 

 

নোয়াখালীতে মাদক ব্যবসার অভিযোগে গাঁজাসহ এক বৃদ্ধ আটক

নোয়াখালী পৌরসভার কালিতারা জালিয়াল এলাকায় সোমবার (২২ জুন) গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে গাঁজাসহ মো. শহীদ উল্লা (৫২) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে সুধারাম মডেল থানা পুলিশ।
পুলিশ জানায়, সুধারাম মডেল থানাধীন কালিতারা জালিয়াল এলাকার আব্দুল হক বেপারী বাড়ির বাসিন্দা মো. শহীদ উল্লার (৫২) নিজ দখলীয় বসতঘরে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে ২ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজা, নগদ ১৭ হাজার টাকা, একটি ওজন পরিমাপক যন্ত্র ও একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত মো. শহীদ উল্লা (৫২) মৃত সেকান্দর মিয়ার ছেলে। তিনি নোয়াখালী পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কালিতারা জালিয়াল এলাকার বাসিন্দা।
প্রাথমিকভাবে জানা যায়, শহীদ উল্লা কালিতারা এলাকায় গাঁজার খুচরা ব্যবসা করে আসছিলেন। বিভিন্ন মাদক স্পটে ফেরি করে গাঁজা বিক্রির অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে আলামতসহ হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর ৩৬(১) এর সারনির ক্রমিক নং-১৯(ক) এবং ২৬(১) ধারায় সুধারাম মডেল থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাটি দায়ের করেন পরিদর্শক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।
পুলিশ জানিয়েছে, মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আগামী ১৫ বছরে মিসরের সঙ্গে যুদ্ধে জড়াবে ইসরায়েল

ইসরায়েলের একজন প্রভাবশালী জায়নবাদী অধিকারকর্মী দাবি করেছেন, আগামী ১৫ বছরের মধ্যে মিসরের সঙ্গে ইসরায়েলের যুদ্ধ হবে। তার মতে, ইরান ও তার আঞ্চলিক মিত্রদের দুর্বল করার পর ভবিষ্যতে ইসরায়েলের প্রধান নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠবে সুন্নি মুসলিম শক্তিগুলো।

 

 

জেরুজালেমে অনুষ্ঠিত জিউইশ নিউজ সিন্ডিকেট (জেএনএস) ইন্টারন্যাশনাল পলিসি সামিটে বক্তব্য দিতে গিয়ে হেরুত সেন্টারের প্রধান নির্বাহী এবং ইসরায়েলের জাতীয়তাবাদী শিবিরের অন্যতম মুখ আমিয়াদ কোহেন বলেন, মিসর ও তুরস্ক দীর্ঘমেয়াদে ইসরায়েল এবং পশ্চিমাদের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

 

 

তিনি বলেন, ১৫ বছর পর ইসরায়েলের সঙ্গে মিসরের যুদ্ধ হবে। মুসলিম ব্রাদারহুড একসময় মিসরের নিয়ন্ত্রণ নেবে।

ইরান ও অ্যাক্সিস অব রেজিস্ট্যান্সের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক সংঘাতের পর ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে আলোচনায় কোহেন বলেন, এখন শিয়া গোষ্ঠীগুলোর পরিবর্তে সুন্নি রাজনৈতিক আন্দোলনের দিকে নজর দেওয়া উচিত।

মুসলিম ব্রাদারহুডকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এক নম্বর হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেন। তার দাবি, সংগঠনটি যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে। এমনকি নিউইয়র্কের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের সঙ্গেও তিনি মুসলিম ব্রাদারহুডের প্রভাবের ইঙ্গিত দেন।

কোহেন তুরস্ককেও ভবিষ্যতের একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, আঙ্কারার ক্রমবর্ধমান আঞ্চলিক প্রভাবকে ইসরায়েলের জন্য কৌশলগত হুমকি হিসেবে দেখা উচিত।

 

 

বিশ্লেষকদের মতে, কোহেনের এই বক্তব্য ইসরায়েলের কিছু রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা মহলে ক্রমবর্ধমান সেই প্রবণতার প্রতিফলন, যেখানে ভবিষ্যৎ প্রতিপক্ষ হিসেবে তুরস্ক ও মিসরকে বিবেচনা করা হচ্ছে।

 

 

গত মাসে দণ্ডপ্রাপ্ত ইসরায়েলি গুপ্তচর জনাথন পোলার্ডও দাবি করেছিলেন, ইরান দুর্বল হওয়ার পর তুরস্ক ও মিসর ইসরায়েলের পরবর্তী নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জে পরিণত হতে পারে। তার তথ্য অনুযায়ী, আঙ্কারা ধীরে ধীরে তেহরানের জায়গা নিচ্ছে।

 

 

উল্লেখ্য, ১৯৭৯ সালে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের পর থেকে মিসর ও ইসরায়েলের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক এবং নিরাপত্তা সহযোগিতা বজায় রয়েছে। অন্যদিকে, গাজা, জেরুজালেমসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক ইস্যুতে তুরস্ক-ইসরায়েল সম্পর্ক বারবার উত্তেজনার মুখে পড়েছে।

 

 

কোহেন বলেন,ইসরায়েলকে এমন এক ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে, যেখানে প্রধান চ্যালেঞ্জ আসবে শিয়া গোষ্ঠী নয়, বরং সুন্নি রাজনৈতিক শক্তি ও আঞ্চলিক রাষ্ট্রগুলোর কাছ থেকে।

 

 

তিনি আরও বলেন, ইসরায়েলকে শক্তিশালী হতে হবে, আমেরিকাকেও শক্তিশালী হতে হবে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, আমেরিকা দুর্বল।

 

 

হামের প্রকোপে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু, প্রাণহানি পৌঁছাল ৬৮৬

দেশজুড়ে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ১৩৫ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ পাওয়া গেছে।

 

 

মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

 

 

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি।

এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে মোট ৫৯৩টি শিশুর। আর হামে আক্রান্ত হয়ে আরও ৯৩টি শিশু প্রাণ হারিয়েছে। অর্থাৎ হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এই সময়ে মোট ৬৮৬টি শিশু মারা গেছে।

এছাড়া, ২৪ ঘণ্টায় ১২৬টি শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে, আর হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১,০০৯ জন। এসময়ে ৯৭৩টি শিশু নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, আর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৯৮৬টি শিশু।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ৯৪ হাজার ৭৬৪, আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১১ হাজার ২৯৭। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ৭৮ হাজার ৭১৬ রোগী, যাদের মধ্যে ৭৪ হাজার ৯৭১ জন ছাড়পত্র পেয়ে ইতোমধ্যে বাড়ি ফিরেছে।

 

 

 

নিরাপত্তা জোরদারে রাজধানীজুড়ে বিজিবি মোতায়েন

রাজধানীতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে নাশকতা রুখতে বিভিন্ন স্থানে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

 

 

 

মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিজিবির জনসংযোগ বিভাগ থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

 

 

 

এতে বলা হয়, রাজধানীর ধানমন্ডি, শাহবাগ, আবরার ফাহাদ এভিনিউ, বাংলামোটর, কাওরান বাজার, শেরেবাংলা নগর ও মহাখালীসহ বিভিন্ন পয়েন্টে বিজিবি মোতায়েন করা হলো।

এর আগে দেশের ৫ জেলায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়। জেলাগুলো হলো: কক্সবাজার, মাদারীপুর, শেরপুর, গাজীপুর ও মৌলভীবাজার। সোমবার (২২ জুন) সন্ধ্যায় বিজিবি সদর দফতর থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছিল।

এ ছাড়া, দেশের অন্যান্য জেলাগুলোতেও প্রয়োজন অনুযায়ী তাৎক্ষণিকভাবে মোতায়েনের লক্ষ্যে বিজিবি সদস্যরা স্ট্যান্ডবাই রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

এদিকে, দিবসটিতে যেকোনো নাশকতা রোধে নারায়ণগঞ্জ, ফরিদপুর, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন স্থানে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীবাহিনী। মধ্য রাত থেকেই টহলে নামে সেনাবাহিনী। নজরদারি বাড়িয়েছে পুলিশ, র‍্যাব।

 

 

সকাল থেকে গুলিস্তানে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সতর্ক অবস্থানে দেখা যায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীবাহিনী। তবে সেখানে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

 

 

 

অন্যদিকে, বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন দলটির নেতাকর্মীরা। দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে একটি বিক্ষোভ মিছিলও হয়। পরে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে রুহুল কবির রিজভী বলেন, পাচার করা টাকায় পতিত শক্তি দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির ষড়যন্ত্র করছে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তাদের প্রতিহত করার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

 

 

 

পূর্বাচলের তিনশ ফিট এলাকায় রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়। এছাড়া, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের চোরাগুপ্তা মিছিল এবং জনমনে ভীতি সৃষ্টিতে চেষ্টার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন ভোলা, রাঙামাটিসহ বিভিন্ন জেলা বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

 

 

 

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে পুলিশ। কেউ সরকারকে বিব্রত করতে চাইলে তাদের পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ।

‘আওয়ামী লীগ এমন প্রবলভাবে আছে যা আগে কখনো ছিল না’, অভিনেত্রী শাওন

কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া এক ফেসবুক পোস্টে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন অভিনেত্রী ও নির্মাতা মেহের আফরোজা শাওন।

 

 

মঙ্গলবার (২৩ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া ওই পোস্টে তিনি দাবি করেন, ‘আওয়ামী লীগ আরও প্রবলভাবে আছে।’ তার এই মন্তব্য ঘিরে নেটিজেনদের মধ্যে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া। রাজনৈতিক বাস্তবতা, দলের বর্তমান অবস্থান এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে শাওনের এমন বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা বিতর্কেরও জন্ম দিয়েছে। পোস্টটি প্রকাশের পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা।

 

 

মেহের আফরোজা শাওন তার পোস্টে বলেন, “মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহোদয় বলেছিলেন ‘আওয়ামী লীগ নামে কোনো সংগঠন নেই’, কিন্তু আমি তো দেখছি আওয়ামী লীগ এমন প্রবলভাবে আছে যা আগে কখনো ছিল না! আওয়ামী লীগের ৭৭ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী খোদ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের চেয়ে আরো বেশি আলোচিত ও সফল করে তুলবার জন‍্য বর্তমান সরকারকে ধন্যবাদ।”

সালমান শাহর দেহাবশেষ উত্তোলনের নির্দেশ বহাল রাখল আদালত

চিত্রনায়ক সালমান শাহ’র মৃত্যুর প্রায় ৩০ বছর পর কবর থেকে তার দেহাবশেষ উত্তোলনের আদেশ বাতিল ঘোষণা করা হলেও, পরে তা নথিভুক্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

 

 

মঙ্গলবার (২৩ জুন) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালতে দেহাবশেষ উত্তোলনের আদেশ বাতিল চেয়ে আবেদন করেন মামলার বাদী মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম।

 

 

শুনানি শেষে সকালে বিচারকের উপস্থিতিতে এক পুলিশ কর্মকর্তা আদেশ পড়ে শুনিয়ে জানান, বাদীর পক্ষের আবেদন মঞ্জুর হয়েছে। লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিল করা হলো।

এই আদেশের পর গণমাধ্যমে ‘লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিল হয়েছে’ শিরোনামে সংবাদ প্রচার হয়। পরবর্তীতে আদালতের প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক শাহ আলম জানান, লাশ উত্তোলন আদেশ বাতিল হয়নি, বাদীপক্ষের আবেদনটি নথিভুক্ত রাখা হয়েছে।

এ বিষয়ে বাদীপক্ষের আইনজীবী আবিদ হাসান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সকালে প্রকাশ্যে আদালত সালমান শাহ’র দেহাবশেষ উত্তোলনের আদেশ বাতিল করেন। কিন্তু দুপুরে শুনছি আদেশ নাকি নথিভুক্ত করা হয়েছে। বিষয়টি আমার বোধগম্য হচ্ছে না। বিচার বিভাগের সকল কাজ আরও স্বচ্ছতা থাকা উচিত।

তিনি আরও বলেন, প্রকাশ্য আদালতে বিচারকের সামনে আদেশ ঘোষণা করা হয়েছে। বিচারকের সামনে এমন ভুল হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কীভাবে হয়েছে আমার বোধগম্য হচ্ছে না।

 

 

এদিকে, সালমান শাহার মামা ও মামলার বাদী আলমগীর কুমকুম বলেন, ‘আমি কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে যখন আবেদন করি তখন আদালত বলেন এক্সেপটেড (গ্রহণ)। আমি নিজের কানে শুনেছি। কিন্তু হঠাৎ করে শুনছি নথিভুক্ত হয়েছে। এটা কীভাবে সম্ভব!

 

 

এ বিষয়ে প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক শাহ আলম বলেন, ‘প্রকাশ্য আদালতে আমাদের এক পুলিশ কর্মকর্তা ভুল আদেশ ঘোষণা করেছিলেন। আসলে আদালত আবেদনটি নথিভুক্ত করেছেন।’

 

 

ওই আবেদনে বলা হয়, সালমান শাহকে ঢাকার শাহজালাল (রহ.) মাজার প্রাঙ্গণে দাফন করা হয়েছে এবং সেখানেই তার কবর রয়েছে। এ অবস্থায় দেহাবশেষ উত্তোলন ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত এবং অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়। বাদী ও নিহতের মা নীলা চৌধুরীর পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে আপত্তি জানানো হয়।

 

 

এর আগে, চলতি বছরের ২০ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক মো. জিয়াউল মোর্শেদ আদালতে দেহাবশেষ উত্তোলন, সুরতহাল ও ময়নাতদন্তের অনুমতি এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের আবেদন করেন। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৪ মে আদালত কবর থেকে দেহাবশেষ উত্তোলনের অনুমতি দেন।

 

 

গত বছরের ২০ অক্টোবর সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তার ভাই মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম রমনা থানায় মামলাটি দায়ের করেন। আদালত পরে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

 

 

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, বাদীর বোন ও বোন জামাই গ্রিন রোডের বাসায় পৃথকভাবে বসবাস করতেন। তারা সালমানের ইস্কাটনের বাসায় যাওয়ার পর স্ত্রী সামিরা এবং কর্মচারী আবুল জানান, সালমান ঘুমাচ্ছেন। ওই সময় চলচ্চিত্র প্রযোজক সিদ্দিকও সালমান শাহর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন। সালমান ঘুমাচ্ছেন শুনে তার বাবা-মা স্ত্রী সামিরাকে বলে আসেন যে, তারা সিলেটে যাওয়ার পথে সালমানের সঙ্গে দেখা করে যাবেন। এরপর তারা এবং প্রযোজক সিদ্দিক ইস্কাটনের বাসা ত্যাগ করেন।

 

 

ঘটনার দিন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে প্রোডাকশন ম্যানেজার সেলিম ফোন করে সালমান শাহর বাবাকে জানান, সালমানের ‘যেন কী হয়েছে’। খবর পেয়েই তারা দ্রুত বাসায় ছুটে যান। সেখানে গিয়ে দেখতে পান, সালমান তার শোবার ঘরে পড়ে আছেন।

 

 

অভিযোগে আরও বলা হয়, সে সময় দুই-একজন বহিরাগত নারী সালমানের হাতে-পায়ে তেল মালিশ করছিলেন এবং রুবী নামে একটি মেয়ে সেখানে বসে ছিলেন।

 

 

তখন সামিরা সালমানের মাকে বাসা থেকে বেরিয়ে যেতে বলেন। পরে সালমানের বাবা-মা তাকে নিয়ে হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে যাওয়ার পথে তার গলায় দড়ির দাগ এবং মুখমণ্ডল ও পা নীলবর্ণ ধারণ করতে দেখেন।

 

 

অবস্থার গুরুত্ব বুঝে দ্রুত তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, বেশ কিছুক্ষণ আগেই সালমান শাহ মারা গেছেন।

দীর্ঘদিন কোলন ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই শেষে না ফেরার দেশে জাকির হোসেন

দীর্ঘদিন কোলন ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই শেষে না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন অভিনেতা ও নৃত্য পরিচালক জাকির হোসেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫০ বছর। মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকালে রাজধানীর মহাখালী ক্যান্সার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তার মৃত্যুতে চলচ্চিত্র অঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। রেখে গেছেন স্ত্রী ও পাঁচ বছর বয়সী এক কন্যা সন্তান।

 

 

 

চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির কার্যনির্বাহী সদস্য সনি রহমান গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, জাকির হোসেন দীর্ঘদিন ধরে কোলন ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন। চিকিৎসার অংশ হিসেবে তিনি ভারতের ব্যাঙ্গালুরু থেকে চিকিৎসা গ্রহণ করেন। সম্প্রতি শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গত শনিবার (২০ জুন) মহাখালী ক্যান্সার হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

 

 

 

দীর্ঘদিন ধরে চলচ্চিত্রে নৃত্য পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন জাকির হোসেন। তিনি এক সময় বহু চলচ্চিত্রে নৃত্য নির্দেশনা দিয়ে দর্শকদের নজর কাড়েন; পাশাপাশি অভিনয়েও তার উপস্থিতি ছিল। এছাড়া চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতিতে তিনি ক্রীড়া ও সংস্কৃতি সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেছেন।

ক্যালকুলেটরে ঘুষের হিসাব: অভিযুক্ত কর্মকর্তা প্রত্যাহার

ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে ভিডিও ভাইরাল এবং দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে পঞ্চগড়ের বাবুল চন্দ্র রায়কে বর্তমান কর্মস্থল থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

 

 

মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ত্রাণ প্রশাসন শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে তাকে দেবীগঞ্জ উপজেলা থেকে প্রত্যাহার করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরে সংযুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

 

 

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, আগামী ২৪ জুনের মধ্যে তাকে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যোগদান না করলে ওইদিন অপরাহ্ণ থেকে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত (স্ট্যান্ড রিলিজড) হিসেবে গণ্য করা হবে। তবে প্রত্যাহারের সুনির্দিষ্ট কারণ প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়নি।

এর আগে, সোমবার বিভিন্ন জাতীয়, আঞ্চলিক ও অনলাইন গণমাধ্যমে বাবুল চন্দ্র রায়ের বিরুদ্ধে টিআর, কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পের বরাদ্দের বিপরীতে ১৫ শতাংশ কমিশন বা ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ সংবলিত সংবাদ প্রকাশিত হয়।

অভিযোগের সূত্রে পাওয়া প্রায় ৪ মিনিট ৪৭ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে বাবুল চন্দ্র রায়কে বিভিন্ন প্রকল্পের বরাদ্দের বিপরীতে কমিশনের পরিমাণ নির্ধারণ করতে দেখা যায়। ভিডিওতে তিনি ক্যালকুলেটরের মাধ্যমে হিসাব করে একাধিক প্রকল্পের বিপরীতে কমিশনের অঙ্ক নির্ধারণ করছেন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে এ বিষয়ে কথোপকথন করছেন বলে দেখা গেছে।

ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। স্থানীয় জনসাধারণ, রাজনৈতিক মহল এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি ওঠে।

 

 

এদিকে, পিআইও বাবুল চন্দ্র রায়ের প্রত্যাহারের আদেশকে ঘিরে এলাকায় নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

One thought on “ভাইয়ের মৃত্যুতে শোকাহত শোয়েব আখতার

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অদম্য পলি রানী: পা দিয়ে লিখেই দিচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষা

ভাইয়ের মৃত্যুতে শোকাহত শোয়েব আখতার

আপডেট টাইম : ০৫:২০:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

সাবেক পাকিস্তানি গতিদানব শোয়েব আখতারের পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। পাকিস্তানের ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই ক্রিকেটারের বড় ভাই শহীদ আখতার মারা গেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোয়েব আখতার নিজেই তার বড় ভাইয়ের মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন। তবে ঠিক কী কারণে তার মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়ে পারিবারিক সূত্র থেকে এখনো সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানানো হয়নি।

 

 

বড় ভাইয়ের মৃত্যুর খবর জানিয়ে শোয়েব আখতার তার পোস্টে লিখেছেন, অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি যে আমার প্রিয় বড় ভাই শহীদ আখতার আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে পরপারে চলে গেছেন।

 

 

সাবেক পাকিস্তান অধিনায়ক রশিদ লতিফও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শহীদ আখতারের মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করে মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন এবং জানাজার সময় ও স্থান নিয়ে তথ্য শেয়ার করেছেন।

পাকিস্তানের হয়ে ক্রিকেট ইতিহাসের দ্রুততম ডেলিভারির রেকর্ড গড়া এই পেসারের পরিবারে এটিই প্রথম বড় আঘাত নয়। এর আগে প্রায় পাঁচ বছর আগে শোয়েব আখতার তার মাকে হয়েছিলেন। মায়ের পর এবার বড় ভাইকে হারিয়ে শোয়েব ও তার পরিবার মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। এই মর্মান্তিক খবরের পর ক্রিকেট বিশ্বে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটারদের পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে ক্রিকেট ভক্তরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোয়েব ও তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করছেন।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের পর শোয়েব আখতার একজন বিশ্লেষক হিসেবে অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। সদ্য সমাপ্ত ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও পাকিস্তানি গণমাধ্যমে ক্রিকেট পণ্ডিত হিসেবে নিয়মিত উপস্থিত থেকে ম্যাচ বিশ্লেষণ করেছেন তিনি। মাঠের ক্রিকেট ও ক্রিকেট প্রশাসনের নানা অসংগতি নিয়ে সব সময় অকপট এই কিংবদন্তি এখন জীবনের এক কঠিন শোকের মুহূর্ত পার করছেন।

বিএনপি সভাপতির বিরুদ্ধে সহ সভাপতির সংবাদ সম্মেলন

বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থি,  কাজের প্রতিবাদে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরের  গোবিন্দপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন  করেছে স্থানীয় দলীয় নেতাকর্মীরা।
বুধবার (২৪ জুন)  দুপুরে উপজেলার গোবিন্দপুর চৌরাস্তা বাজারে  ইউনিয়ন বিএনপি ও সকল অঙ্গ এবং সহযোগী সংগঠনের ব্যানারে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন গোবিন্দপুর ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি জিয়াউদ্দিন, ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য আব্দুল কাদির বাবুল, আসাদ ও স্বপন মিয়া। তারা লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করেন, সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত এবং দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে চলেছেন। এ কারণে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে বলে নেতাকর্মীরা দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলন থেকে বক্তারা অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত সাংগঠনিক ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য হোসেনপুর উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ, কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম মাজহারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আব্দুল্লাহ আল মামুনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, “আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ যদি সত্য প্রমাণিত হয় তাহলে উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ তদন্ত করে সত্যতা পান, তাহলে সাংগঠনিকভাবে যে কোনো সিদ্ধান্ত নিলে আমি তা মেনে নেব।
উল্লেখ্য, গোবিন্দপুর ইউনিয়ন বিএনপিতে দীর্ঘদিন ধরে অভ্যন্তরীণ কোন্দল চলছিল। এবারের সংবাদ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

ঢাকার কাছে একের পর এক ভূমিকম্প, সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে একের পর এক ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে কয়েকটি ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল রাজধানীর খুব কাছাকাছি হওয়ায় প্রশ্ন উঠছে— এগুলো কি কেবল স্বাভাবিক ভূ-তাত্ত্বিক প্রক্রিয়ার অংশ, নাকি ভবিষ্যতের বড় কোনো ভূমিকম্পের পূর্বাভাস?

 

 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তাৎক্ষণিক আতঙ্কের কারণ না থাকলেও বাংলাদেশের ভূমিকম্প ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক থাকার যথেষ্ট কারণ রয়েছে।

 

 

উৎপত্তিস্থল ঘুরেফিরে ঢাকার আশপাশেই

সর্বশেষ ভূমিকম্পটি গত ২২ জুন রাত ৮টা ২৮ মিনিটে অনুভূত হয়। রিখটার স্কেলে যার মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৪ এবং উৎপত্তিস্থল ছিল ঢাকা থেকে মাত্র ১৬ কিলোমিটার দূরে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক গবেষণা সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল নরসিংদী থেকে ১০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং ভূপৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটার গভীরে। ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজির তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৪ এবং উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের ১৬ কিলোমিটার গভীরে।

অন্যদিকে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে, যা ঢাকা থেকে প্রায় ১৬ কিলোমিটার পূর্বে।

 

 

উৎপত্তিস্থল নিয়ে বিভিন্ন সংস্থার তথ্যের মধ্যে কিছু পার্থক্য থাকলেও আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুবায়েত কবীর বলেন, নরসিংদী থেকে ১০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে গেলে সেটি রূপগঞ্জ এলাকার মধ্যেই পড়ে।

 

 

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শুরু থেকে ২০২৬ সালের ২২শে জুন পর্যন্ত বাংলাদেশ ও সীমান্তবর্তী এলাকায় সংঘটিত বেশ কয়েকটি ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল ঢাকার কাছাকাছি।

 

 

চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ৩ দশমিক ২ মাত্রার একটি ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয়। এর কেন্দ্র ছিল ঢাকা থেকে প্রায় ৪২ কিলোমিটার দূরে।

 

 

এর আগে ২০২৫ সালের ২১শে নভেম্বর রিখটার স্কেলে ৫ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে ঢাকাসহ দেশের বিস্তীর্ণ এলাকা। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ওই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদী শহর থেকে প্রায় ১৪ কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণ-পশ্চিমে মাধবদী এলাকায়, ভূপৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটার গভীরে। ঢাকা থেকে এর দূরত্ব ছিল মাত্র ১৩ কিলোমিটার।

 

 

গত কয়েক দশকে দেশের অভ্যন্তরে উৎপত্তি হওয়া অন্যতম শক্তিশালী ভূমিকম্প হিসেবে বিবেচিত ওই ঘটনায় ঢাকায় চারজন, নরসিংদীতে পাঁচজন এবং নারায়ণগঞ্জে একজন নিহত হন। আহত হন সাড়ে চার শতাধিক মানুষ, যার মধ্যে গাজীপুরেই ছিলেন ২৫২ জন।

 

 

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ওই ভূমিকম্পের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আরও তিনটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়। চারটি ভূমিকম্পের মধ্যে তিনটির উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদীর বিভিন্ন এলাকায় এবং একটি ছিল ঢাকার বাড্ডায়।

 

 

পরদিন ২২ নভেম্বর নরসিংদীর পলাশে ৩ দশমিক ৩ মাত্রার, ঢাকার বাড্ডায় ৩ দশমিক ৭ মাত্রার এবং পরে নরসিংদীতে ৪ দশমিক ৩ মাত্রার আরও দুটি ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয়। এর কয়েকদিন পর ২৭ নভেম্বর ঘোড়াশালে ৩ দশমিক ৬ মাত্রার এবং ৪ ডিসেম্বর শিবপুরে ৪ দশমিক ১ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়।

 

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. বদরুদ্দোজা মিয়া বলেন, সাম্প্রতিক এসব ভূমিকম্প টেকটোনিক কার্যকলাপের ফল হতে পারে, আবার কোনো সক্রিয় ফল্টের সঙ্গেও সম্পর্কিত হতে পারে।

 

 

তার ভাষায়, অনেক সময় নতুন ফল্ট সৃষ্টি হয়, আবার দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় থাকা কোনো পুরোনো ফল্টও পুনরায় সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে।

 

 

বাংলাদেশের অবস্থান ইউরেশিয়ান, ইন্ডিয়ান এবং বার্মিজ— এই তিনটি টেকটোনিক প্লেটের প্রভাব বলয়ের মধ্যে হওয়ায় দেশে ঘন ঘন ভূমিকম্প হচ্ছে বলে জানান রুবায়েত কবীর।

 

 

এগুলো কি বড় ভূমিকম্পের পূর্বাভাস?

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পূরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ও ভূমিকম্প গবেষক মেহেদি আহমেদ আনসারীর মতে, সম্প্রতি ঢাকার আশপাশে হওয়া ছোট ও মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পগুলো থেকে বড় ধরনের ভবনধস বা ব্যাপক প্রাণহানির আশঙ্কা নেই।

 

 

যদিও তিনি মনে করেন, এসব ঘটনা মানুষকে ভূমিকম্প সম্পর্কে সচেতন হওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে।

 

 

তার মতে, বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো এমন ফল্টগুলো, যেগুলো অতীতে ৭ বা তার বেশি মাত্রার ভূমিকম্প সৃষ্টি করেছে।

 

 

তিনি বলেন, ভবিষ্যতে বড় ভূমিকম্পের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি রয়েছে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী অঞ্চল এবং ঢাকার কাছাকাছি শ্রীমঙ্গল ও বগুড়ার শেরপুর এলাকায়। কারণ ইতিহাসে এসব অঞ্চলে ৭-এর বেশি মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পের রেকর্ড রয়েছে।

 

 

১৯১৮ সালে শ্রীমঙ্গলে ৭ দশমিক ৬ মাত্রার এবং ১৮৮৫ সালে শেরপুরে ৭ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছিল।

 

 

মেহেদি আহমেদ আনসারী বলেন, এগুলো ঢাকা থেকে দেড়শো থেকে দু’শো কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে। বাকি বড় ভূমিকম্পগুলো ঢাকা থেকে আরও দূরে হয়েছিল।

 

 

 

তিনি আরও বলেন, প্রত্যেকটি ভূমিকম্পের একটি রিটার্ন পিরিয়ড বা পুনরাবৃত্তির চক্র থাকে। সাত মাত্রার ভূমিকম্প হয়তো আরও হয়েছে, কিন্তু আমাদের কাছে তথ্য নেই। সে কারণেই আমরা বলি, ঢাকার জন্য সাত মাত্রার একটি ভূমিকম্প ভবিষ্যতে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সেটি কবে হবে, তা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। ২০ বছরও লেগে যেতে পারে।

 

 

নরসিংদীতে সাম্প্রতিক সময়ে ঘন ঘন ভূমিকম্পকে বড় কোনো ঘটনার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা যেতে পারে বলে উল্লেখ করলেও তিনি বলেন, ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী নরসিংদীতে অতীতে বড় কোনো ভূমিকম্পের রেকর্ড নেই।

 

 

নরসিংদী বা ঢাকার আশপাশের সাম্প্রতিক ভূমিকম্পের হিসেবে ঢাকা ঝুঁকিপূর্ণ না, কিন্তু অতীতের বড় ভূমিকম্পগুলোর বিচারে ঢাকা খুবই ঝুঁকির মধ্যে আছে। বড় কোনো ভূমিকম্প হলে কয়েক বিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক ক্ষতি হতে পারে, বলেন তিনি।

 

 

রুবায়েত কবীরও বলেন, ঢাকাকেন্দ্রিক বড় ভূমিকম্পের ইতিহাস নেই। কিন্তু সীমান্ত অঞ্চলে বড় ভূমিকম্পের ইতিহাস আছে। আর গত এক-দুই বছর ধরে আমাদের এই অঞ্চলে ভূমিকম্পপ্রবণতা কিছুটা বেড়েছে বলে মনে হচ্ছে।

 

 

ভূমিকম্পে ঢাকার কোন এলাকা তুলনামূলক নিরাপদ?

বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো এলাকা কতটা নিরাপদ তা নির্ভর করে মূলত দুই বিষয়ের ওপর—ভূতাত্ত্বিক গঠন এবং অবকাঠামোর মান।

 

 

ভূতত্ত্ববিদ সৈয়দ হুমায়ুন আখতারের মতে, ঢাকা ও আশপাশের অধিকাংশ এলাকার ভূতাত্ত্বিক গঠন প্রায় একই হলেও উত্তরাংশে মধুপুরের শক্ত লাল মাটি রয়েছে, যা তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল।

 

 

তার মতে, শুধু ভূতাত্ত্বিক গঠন বিবেচনায় রমনা, মগবাজার, নিউমার্কেট, লালমাটিয়া, খিলগাঁও, মতিঝিল, ধানমন্ডি, লালবাগ, মিরপুর, গুলশান ও তেজগাঁওয়ের মতো এলাকা তুলনামূলক নিরাপদ।

 

 

যদিও বুয়েটের অধ্যাপক মেহেদি আহমেদ আনসারী মনে করেন, কেবল মাটির গঠন দেখে কোনো এলাকা নিরাপদ বা ঝুঁকিপূর্ণ বলা সম্ভব নয়।

 

 

যতক্ষণ না ভবনগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে, ততক্ষণ বলা যাবে না কোনটা ঝুঁকিপূর্ণ বা ঝুঁকিমুক্ত- বলেন তিনি।

 

 

তার মতে, পুরান ঢাকাকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ মনে হলেও মূল সমস্যা ভবনের চেয়ে সরু রাস্তা। দুর্যোগের সময় দ্রুত মানুষ সরিয়ে নেওয়া সেখানে কঠিন হতে পারে।

 

 

তিনি আরও উল্লেখ করেন, শত বছরের বেশি পুরোনো অনেক ভবন এখনো টিকে আছে এবং বিভিন্ন ভূমিকম্পেও ধসে পড়েনি। তাই কাঠামোগত মানই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

 

 

ঢাকার জন্য বাড়তি শঙ্কা ‘ব্লাইন্ড ফল্ট’

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঢাকার ভেতরে কোনো পরিচিত ফল্ট লাইন নেই। তবে বাংলাদেশের ভূমিকম্প ঝুঁকির সঙ্গে যুক্ত কয়েকটি প্রধান ফল্ট বা চ্যুতি রেখা রয়েছে।

 

 

এর মধ্যে রয়েছে মিয়ানমার থেকে নোয়াখালী পর্যন্ত প্লেট বাউন্ডারি, নরসিংদীর ওপর দিয়ে যাওয়া আরেকটি প্লেট বাউন্ডারি, সিলেট হয়ে ভারতের দিকে বিস্তৃত ফল্ট অঞ্চল, ডাউকি ফল্ট এবং মধুপুর ফল্ট।

 

 

অতীতে এসব অঞ্চলে ৭ থেকে ৮ দশমিক ৫ মাত্রা পর্যন্ত শক্তিশালী ভূমিকম্প হয়েছে।

 

 

গবেষকদের মতে, এসব ফল্টে কয়েকশ বছর পরপর বড় ভূমিকম্পের পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে।

 

 

তবে আরও উদ্বেগের বিষয় হলো ‘ব্লাইন্ড ফল্ট’ বা অদৃশ্য ফল্ট। এ ধরনের ফল্ট ভূ-পৃষ্ঠ পর্যন্ত পৌঁছায় না, ফলে সাধারণ ভূতাত্ত্বিক মানচিত্রে সহজে শনাক্ত করা যায় না।

 

 

বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত ময়মনসিংহ ও রংপুর অঞ্চলে দুটি ব্লাইন্ড ফল্ট শনাক্ত করা হয়েছে।

 

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের ফল্ট শনাক্ত করা কঠিন হওয়ায় আগে থেকে সতর্কবার্তা পাওয়াও প্রায় অসম্ভব। তাই ভবিষ্যতের ভূমিকম্প ঝুঁকি মূল্যায়নে ব্লাইন্ড ফল্টগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

 

 

সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকার আশপাশে ঘন ঘন ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল বিশেষজ্ঞদের নজর কাড়লেও তাৎক্ষণিকভাবে বড় ভূমিকম্পের নিশ্চিত পূর্বাভাস হিসেবে এগুলোকে দেখা হচ্ছে না।

 

 

তবে বাংলাদেশের ভূ-তাত্ত্বিক অবস্থান, অতীতের শক্তিশালী ভূমিকম্পের ইতিহাস এবং বিভিন্ন সক্রিয় ও অদৃশ্য ফল্টের উপস্থিতি রাজধানীসহ দেশের বিস্তীর্ণ এলাকাকে দীর্ঘমেয়াদে ভূমিকম্প ঝুঁকির মধ্যে রেখেছে। তাই সচেতনতা বৃদ্ধি, ভবনের মান নিশ্চিত করা এবং দুর্যোগ প্রস্তুতি জোরদার করার ওপরই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

 

 

 

 

শূন্যরেখার সংকট কাটিয়ে ফিরলেন ৬ জন, আটকে আছেন আরও ৩ জন

 

কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক পুশইনের শিকার হওয়া ছয় বাংলাদেশি নাগরিকের সবাই অবশেষে নিজ নিজ বাড়িতে ফিরেছেন।

 

 

 

তবে একই ঘটনায় সীমান্তের আরেক পয়েন্টে পুশইনের শিকার হওয়া আরও তিন বাংলাদেশি এখনো আন্তর্জাতিক শূন্যরেখায় মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন।

 

 

 

বিজিবি ও বিএসএফের কড়া নজরদারির মধ্যে দীর্ঘ ১০ দিন সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থানের পর বুধবার (২৪ জুন) ভোরে সেখান থেকে সরে যান দুই যুবক। পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পারিবারিক সূত্রে নিশ্চিত হওয়া যায়, তারা নিরাপদে নিজ বাড়িতে পৌঁছেছেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ১৪ জুন ভোরে রৌমারী উপজেলার শৌলমারী ইউনিয়নের গয়টাপাড়া সীমান্ত এলাকায় আন্তর্জাতিক ১০৬০ মেইন পিলারের ১ এস সাব-পিলার দিয়ে ভারতের আসাম রাজ্যের দক্ষিণ সালমারা-মানকারচর জেলার ঝালোরচর ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা ছয় বাংলাদেশিকে পুশইনের চেষ্টা করে। কিন্তু বিজিবি ও স্থানীয় জনতার বাধার মুখে তারা বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে না পেরে সীমান্তের শূন্যরেখায় আটকে পড়েন।

 

খোলা আকাশের নিচে টানা কয়েকদিন ঝড়-বৃষ্টি ও প্রতিকূল পরিবেশে অবস্থানের কারণে একই পরিবারের দুই শিশুসহ চারজন গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে বিজিবি ও বিএসএফের যৌথ মেডিকেল টিম তাদের চিকিৎসাসেবা দেয়।

 

 

পরে মানবিক কারণে বিজিবি ওই দুই শিশু ও তাদের বাবা-মাকে শূন্যরেখা থেকে উদ্ধার করে রৌমারী থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। পুলিশ যাচাই-বাছাই শেষে তাদের পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেয়।

 

 

 

উদ্ধার হওয়া চারজন হলেন ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার কংশেরকুল গ্রামের মো. বেলাল হোসেন (২৮), তার স্ত্রী সুমি আক্তার (২৬) এবং তাদের দুই সন্তান ফাইমা (৫ মাস) ও ফাতেমা আক্তার (৪)।

 

 

 

পরিবারের চার সদস্য বাড়ি ফিরে গেলেও বাকি দুই যুবক সীমান্তের শূন্যরেখায় দীর্ঘ ১০ দিন অবস্থান করছিলেন। তারা হলেন, একই গ্রামের লিটন মিয়ার ছেলে মো. সজিব হোসেন (২৫) ও মৃত শামসুল হকের ছেলে মো. হিমেল (১৮)।

 

 

 

বুধবার ভোর থেকে তাদের আর সীমান্তে দেখা না যাওয়ায় নানা গুঞ্জনের সৃষ্টি হয়। পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পরিবারের সদস্যরা নিশ্চিত করেন, তারাও এখন নিজ বাড়িতে অবস্থান করছেন।

 

 

 

শৌলমারী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. সোনা মিয়া বলেন, ‘গত রাত পর্যন্ত দুই যুবক শূন্যরেখায় ছিল। সকালে গিয়ে আর তাদের দেখা যায়নি। পরে জানতে পেরেছি, তারা পরিবারের কাছে ফিরে গেছে।’

 

 

 

এ বিষয়ে ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার বিরুনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছামছুল হোসাইন বলেন, ‘পুশইনের শিকার হওয়া ছয়জনই এখন বাড়িতে রয়েছে। আগে চারজন ফিরেছিল, পরে বাকি দুই যুবকও নিরাপদে বাড়ি ফিরে এসেছে।’

 

 

 

ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর দাবি, কাজের সন্ধানে প্রায় সাত মাস আগে তারা সীমান্তপথে ভারতে প্রবেশ করেন। পরবর্তীতে ভারতের আসাম রাজ্যের গুয়াহাটিতে পুলিশ তাদের আটক করে বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করে। পরে বিএসএফ তাদের বাংলাদেশ সীমান্তের দিকে ঠেলে দিলে তারা এই বিপর্যয়ের মুখে পড়েন।

 

 

 

তবে একদিকে ছয়জনের বাড়ি ফেরা স্বস্তি এনে দিলেও সীমান্তে এখনো অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে আরও তিন বাংলাদেশির।

 

 

 

স্থানীয় সূত্র জানায়, একই দিন গভীর রাতে রৌমারী সদর ইউনিয়নের ভন্দুরচর সীমান্তে আন্তর্জাতিক ১০৬৬ মেইন পিলার এলাকা দিয়ে আরও তিন বাংলাদেশিকে পুশইনের চেষ্টা চালায় বিএসএফ। বিজিবির বাধার মুখে তারাও শূন্যরেখায় আটকে পড়েন।

 

 

 

গত ১১ দিন ধরে তারা বিজিবি ও বিএসএফের কড়া পাহারার মধ্যে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

 

 

 

আটকে থাকা তিনজন হলেন সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার জহিরুল ইসলাম (২৬), নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার পারভেজ (২১) এবং ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার নাঈম মিয়া (২২)।

 

 

এদিকে, সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে দুই যুবকের সরে যাওয়া এবং তাদের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে জানতে জামালপুর ৩৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমানের কাছে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠানো হলে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।

 

 

 

লাল কার্ডের নিয়ম থাকলেও বেলিংহ্যামের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম কেন?

ফিফা বিশ্বকাপে ঘানার বিপক্ষে ইংল্যান্ডের ম্যাচে ড্রয়ের চেয়ে বেশি আলোচনায় উঠে এসেছেন জুড বেলিংহ্যাম। ম্যাচ চলাকালে মুখ ঢেকে প্রতিপক্ষের একজন খেলোয়াড়ের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায় এই ইংলিশ মিডফিল্ডারকে। চলতি বিশ্বকাপে ফিফার নতুন নিয়ম অনুযায়ী এমন আচরণের জন্য সরাসরি লাল কার্ড পাওয়ার বিধান থাকলেও শেষ পর্যন্ত কোনো শাস্তি পাননি তিনি।

 

 

ম্যাচের প্রথমার্ধ শেষে মাঠ ছাড়ার সময় ঘানার ডাগআউটের সদস্যদের সঙ্গে উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন বেলিংহ্যাম। পরিস্থিতি সামাল দিতে এগিয়ে আসতে হয় সতীর্থ মর্গান রজার্সকে। এমনকি ঘানার কোচ কার্লোস কুইরোজের সঙ্গেও তাকে তর্ক করতে দেখা যায়।

 

 

তবে ম্যাচের পর সবচেয়ে বেশি আলোচনার জন্ম দেয় ঘানার ফরোয়ার্ড জর্ডান আইউর সঙ্গে বেলিংহ্যামের একটি মুহূর্ত। কথোপকথনের সময় তিনি নিজের মুখ হাত দিয়ে ঢেকে রেখেছিলেন। আর এটিই নতুন বিতর্কের জন্ম দেয়।

চলতি বিশ্বকাপ থেকে ফিফা একটি নতুন নিয়ম চালু করেছে। কোনো উত্তপ্ত বা বিরোধপূর্ণ পরিস্থিতিতে খেলোয়াড় যদি মুখ আড়াল করে কথা বলেন, তাহলে রেফারি সরাসরি লাল কার্ড দেখাতে পারবেন। এর পেছনের যুক্তি হলো, মুখ ঢেকে কথা বললে কী বলা হচ্ছে তা বোঝা কঠিন হয়ে যায় এবং অনেক সময় আপত্তিকর মন্তব্যও আড়ালে থেকে যেতে পারে।

ইতোমধ্যে এই নিয়মের প্রয়োগও দেখা গেছে। তুরস্কের বিপক্ষে ম্যাচে মুখ ঢেকে কথা বলার কারণে প্যারাগুয়ের মিডফিল্ডার মিগুয়েল আলমিরনকে ভিএআরের সহায়তায় সরাসরি লাল কার্ড দেখানো হয়েছিল। ফলে বেলিংহ্যামের ঘটনাটি নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করে।

তবে ম্যাচ কর্মকর্তারা মনে করেন, জর্ডান আইউর সঙ্গে বেলিংহ্যামের কথোপকথন কোনোভাবেই উত্তপ্ত বা মারমুখী ছিল না। সেটি ছিল সাধারণ আলাপচারিতা। ফলে ঘটনাটি নতুন নিয়মের আওতায় পড়েনি এবং তাকে কোনো কার্ড দেখানো হয়নি।

 

 

বিশ্বকাপ শুরুর আগে ফিফার রেফারি কমিটির চেয়ারম্যান পিয়েরলুইজি কোলিনা জানিয়েছিলেন, বন্ধুত্বপূর্ণ বা স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে মুখ ঢেকে কথা বললে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে এমন আচরণ করলে সেটি সরাসরি লাল কার্ডযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।

 

 

এদিকে ম্যাচে বেশ কয়েকটি সুযোগ তৈরি করেও ঘানার রক্ষণভাগ ভাঙতে পারেনি ইংল্যান্ড। ফলে গোলশূন্য ড্র নিয়েই মাঠ ছাড়ে থ্রি লায়ন্সরা। দুই ম্যাচ শেষে এক জয় ও এক ড্রয়ে ৪ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ ‘এল’র শীর্ষে রয়েছে ইংল্যান্ড। সমান পয়েন্ট থাকলেও গোল ব্যবধানে পিছিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে ঘানা।

 

 

গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে পানামার মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড। সেই ম্যাচে জয় পেলেই নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করার পাশাপাশি গ্রুপ সেরা হওয়ার সুযোগও থাকবে বেলিংহ্যামদের সামনে।

 

 

 

চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

 

চীনের রাজধানী বেইজিং পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (২৪ জুন) চীনের স্থানীয় সময় দুপুর ২টায় ডালিয়ান থেকে হাই-স্পিড (বুলেট) ট্রেনে করে বিকেল ৫টা ৩৫ মিনিটে বেইজিং পৌঁছান। সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।

 

 

 

এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় ডালিয়ানে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম (ডব্লিউইএফ) আয়োজিত ‘গ্রীষ্মকালীন দাভোস’-এর বার্ষিক সম্মেলনে অংশ নেন। চীনের ডালিয়ান আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এটি অনুষ্ঠিত হয়।

 

 

 

১৭তম অ্যানুয়াল মিটিং অব দ্য নিউ চ্যাম্পিয়নসের এই আয়োজনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, গিনির প্রধানমন্ত্রী আমাদু উরি বাহ, কাজাখস্তানের প্রধানমন্ত্রী ওলঝাস বেকতেনভ, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী কিম মিন সেওক, মঙ্গোলিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিয়াম ওসর উচরাল এবং মন্টিনিগ্রোর প্রধানমন্ত্রী মিলোইকো স্পাইজিচ অংশ নেন। সম্মেলনটিতে ৯০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চল থেকে রাজনৈতিক, ব্যবসায়িক, শিক্ষাবিদ এবং গণমাধ্যম অঙ্গনের ১ হাজার ৭০০ জনেরও অধিক প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন।

 

 

‘গ্রীষ্মকালীন দাভোসে’ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অংশগ্রহণ বাংলাদেশের জন্য একদিকে নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ, অন্যদিকে বিভিন্ন দেশের সেরা অনুশীলন ও অভিজ্ঞতা গ্রহণের মাধ্যমে জাতীয় সক্ষমতাকে আরও সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী করবে।

 

উল্লেখ্য, মালয়েশিয়া সফর শেষে গত সোমবার (২২ জুন) চীনের ডালিয়ানে আসেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

প্রধানমন্ত্রীর সফরচিত্রে নিজের গান ব্যবহারে যা বললেন হাবিব

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরের একটি ভিডিও প্রকাশের পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে ‘মহাজাদু’ গানটি। ভিডিওটির আবহসংগীত হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে কোক স্টুডিও বাংলার জনপ্রিয় এই গান। এটি গেয়েছিলেন হাবিব ওয়াহিদ ।

 

 

ভিডিওটি প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন হাবিব ওয়াহিদ। তিনি জানান, আগে থেকে এ বিষয়ে কিছুই জানতেন না। সকালে ঘুম থেকে উঠে মোবাইলে পাঠানো কয়েকটি লিংকের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারেন।

 

 

 

হাবিব বলেন, ‘লিংকে ক্লিক করে দেখি দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর সফরের গুরুত্বপূর্ণ ভিডিওতে আমার গান ব্যবহার করা হয়েছে। এটা দেখে আমি সত্যিই অবাক হয়েছি। তারেক রহমানের প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরের ভিডিওতে আমার গান ব্যবহৃত হওয়ায় আমি সম্মানিত বোধ করছি। নিজেকে ভাগ্যবান মনে হচ্ছে।’

গানটি ব্যবহারের বিষয়ে কেউ আগে থেকে যোগাযোগ করেননি বলেও জানান এই সংগীতশিল্পী। তিনি বলেন, ‘আমার সঙ্গে এ নিয়ে কেউ কথা বলেনি। হঠাৎ করেই বিষয়টি জানতে পেরে আমি নিজেই সারপ্রাইজ হয়ে গেছি।’

ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লেও হাবিব জানান, তিনি নিয়মিত ফেসবুক ব্যবহার করেন না। তাই সরাসরি প্রতিক্রিয়াগুলো দেখতে না পারলেও বিভিন্নজনের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়ার কথা শুনছেন।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ভক্তদের যদি ভালো লাগে, সেটাই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। আমি ভক্তদের জন্যই গান করি। তাদের ভালো লাগা মানেই আমারও ভালো লাগা।’

 

 

তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর তার সঙ্গে কোনো সাক্ষাৎ বা যোগাযোগ হয়েছে কি না? এমন প্রশ্নের জবাবে হাবিব স্পষ্ট করে বলেন, ‘না, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমার দেখা হয়নি, কথাও হয়নি। এ কারণেই বিষয়টি আমাকে আরও বেশি অবাক করেছে।’

 

 

বর্তমান ব্যস্ততা সম্পর্কে হাবিব ওয়াহিদ জানান, তিনি নতুন গান নিয়েই ব্যস্ত সময় পার করছেন। সম্প্রতি তার ‘প্রেমের কলঙ্ক’ শিরোনামের একটি গান প্রকাশিত হয়েছে, যা শ্রোতাদের কাছ থেকে ভালো সাড়া পেয়েছে।

বিশ্বকাপের নিয়মে পরিবর্তন, বদলাচ্ছে টাইব্রেকার পদ্ধতি

বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব শেষ হওয়ার আগেই টাইব্রেকারের নিয়মে পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নিয়েছে ফিফা। নকআউট পর্ব শুরু হতে আর মাত্র কয়েক দিন বাকি থাকতেই পেনাল্টি শুটআউটের আগে ব্যবহৃত কয়েন টসের নিয়ম বদলানোর প্রস্তাব দিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

 

 

বর্তমানে কোনো নকআউট ম্যাচ নির্ধারিত সময় ও অতিরিক্ত সময়ের পরও সমতায় শেষ হলে ম্যাচের ফল নির্ধারণে টাইব্রেকারের আশ্রয় নেওয়া হয়। টাইব্রেকার শুরু হওয়ার আগে রেফারি দুই দলের অধিনায়কদের নিয়ে দুটি আলাদা কয়েন টস করেন। একটি টসে ঠিক হয় কোন প্রান্তে পেনাল্টি নেওয়া হবে, আর অন্য টসে নির্ধারিত হয় কোন দল প্রথম শট নেবে।

 

 

ফিফার মতে, এই ব্যবস্থায় কোনো কোনো দল একসঙ্গে দুটি সুবিধাই পেয়ে যেতে পারে। অর্থাৎ একটি দল যদি দুই টসেই জিতে যায়, তাহলে তারা প্রথম শট নেওয়ার পাশাপাশি নিজেদের পছন্দের প্রান্তও বেছে নিতে পারে। এতে প্রতিপক্ষ তুলনামূলকভাবে কিছুটা অসুবিধায় পড়ে।

এই কারণেই নিয়মে পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে ফিফা। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, ভবিষ্যতে দুটি নয়, মাত্র একটি কয়েন টস হবে। সেই টসে জয়ী অধিনায়ক দুটি সুবিধার মধ্যে একটি বেছে নিতে পারবেন। তিনি চাইলে প্রথম শট নেওয়ার অধিকার নেবেন, অথবা কোন প্রান্তে টাইব্রেকার হবে তা নির্ধারণ করবেন। অন্য সুবিধাটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাবে প্রতিপক্ষ দল।

ফিফা বিশ্বাস করে, এতে দুই দলের মধ্যে ভারসাম্য বজায় থাকবে এবং কোনো দল অতিরিক্ত সুবিধা পাবে না। সংস্থাটির মতে, পেনাল্টি শুটআউটের মতো গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ছোট ছোট বিষয়ও ম্যাচের ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। তাই নিয়মটিকে আরও গ্রহণযোগ্য করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিশ্বকাপে এবার এমনিতেই বেশ কিছু নতুন নিয়ম দেখা গেছে। ৪৮ দলের সম্প্রসারিত আসর, অতিরিক্ত পানিবিরতি এবং কিছু নতুন শৃঙ্খলাবিষয়ক নিয়ম ইতোমধ্যেই আলোচনায় এসেছে। এর মধ্যে টাইব্রেকারের নিয়ম পরিবর্তনের প্রস্তাব নতুন করে ফুটবল অঙ্গনে আলোচনা তৈরি করেছে।

 

 

এদিকে ২০২৬ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের টাইব্রেকারেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগে দুই বা ততোধিক দলের পয়েন্ট সমান হলে প্রথমে দেখা হতো গোল ব্যবধান। কিন্তু এবার প্রথম গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে মুখোমুখি ম্যাচের ফলাফলে। মুখোমুখি লড়াইয়ে এগিয়ে থাকা দলই পাবে বাড়তি সুবিধা। এরপর বিবেচনায় আসবে মুখোমুখি ম্যাচের গোল ব্যবধান ও গোলসংখ্যা। ফিফার এই নতুন নিয়মের প্রভাব ইতোমধ্যে দেখা গেছে। গোল ব্যবধানে এগিয়ে থাকলেও মুখোমুখি ফলাফলে পিছিয়ে থাকার কারণে কয়েকটি দল গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছে।

 

 

তবে টাইব্রেকারের কয়েন টস সংক্রান্ত নতুন প্রস্তাব এখনো কার্যকর হয়নি। এটি বাস্তবায়নের জন্য আন্তর্জাতিক ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ডের (আইএফএবি) অনুমোদন প্রয়োজন। অনুমোদন মিললে নকআউট পর্ব শুরু হওয়ার আগেই বিশ্বকাপে নতুন নিয়ম চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে বিশ্বকাপের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর অধ্যায় শুরুর আগে মাঠের খেলার পাশাপাশি নিয়মের পরিবর্তন নিয়েও এখন জোর আলোচনা চলছে ফুটবল বিশ্বে।

নকআউট পর্বে উঠবে কোন ৩২ দল, দেখে নিন

 

যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় চলমান ২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবলের গ্রুপ পর্বের লড়াই জমে উঠেছে। টুর্নামেন্টের পরিধি বেড়ে ৪৮ দলের হওয়ায় এবারই প্রথম দেখা যাবে ৩২ দলের নকআউট পর্ব। ইতোমধ্যেই দ্বিতীয় রাউন্ডের টিকিট নিশ্চিত করে ফেলেছে বেশ কয়েকটি পরাশক্তি, অন্যদিকে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেছে পাঁচ দল। নতুন নিয়ম অনুযায়ী এবার গোল ব্যবধানের চেয়ে দলগুলোর পারস্পরিক লড়াইয়ের (হেড-টু-হেড) ফলাফলকে টাইব্রেকার হিসেবে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে ফিফা।

 

 

 

গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচ শেষেই নকআউটের টিকিট কেটেছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। সোমবার অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ২-০ গোলের জয়ে জোড়া গোল করেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। এই কীর্তির মাধ্যমে বিশ্বকাপে নিজের মোট গোল সংখ্যা ১৮-তে নিয়ে গিয়ে বিশ্বমঞ্চের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড নিজের করে নিলেন তিনি। এর আগে আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে টুর্নামেন্ট শুরু করেছিলেন এই মহাতারকা। গ্রুপ ‘জে’ থেকে শীর্ষস্থান নিশ্চিত করেই পরের রাউন্ডে যাচ্ছে আলবিসেলেস্তেরা।

 

 

 

আর্জেন্টিনা ছাড়াও দ্বিতীয় রাউন্ড নিশ্চিত করেছে দুই সহ-আয়োজক মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্র। দক্ষিণ কোরিয়াকে হারিয়ে গ্রুপ ‘এ’ থেকে সবার আগে নকআউট নিশ্চিত করে মেক্সিকানরা। আর অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে গ্রুপ ‘ডি’ থেকে শেষ বত্রিশে জায়গা করে নেয় যুক্তরাষ্ট্র। এদিকে টানা দুই বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেওয়ার ধাক্কা সামলে এবার দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে জার্মানি। কুরাসাও এবং আইভরি কোস্টকে হারিয়ে নকআউটে পা রেখেছে তারা। এছাড়া গ্রুপ ‘আই’ থেকে কিলিয়ান এমবাপ্পের জোড়া গোলে ইরাককে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়ে ফেভারিট ফ্রান্স এবং সেনেগালকে ৩-২ গোলে হারিয়ে চমক দেখানো নরওয়ে শেষ বত্রিশের টিকিট নিশ্চিত করেছে।

অন্যদিকে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে পাঁচ দলের। গ্রুপ পর্বের দুটি করে ম্যাচ হেরে টুর্নামেন্ট থেকে সবার আগে বিদায় নিয়েছে হাইতি, তুরস্ক, তিউনিসিয়া, জর্ডান এবং পানামা। নতুন নিয়মে পারস্পরিক লড়াইয়ে পিছিয়ে থাকায় শেষ ম্যাচে অলৌকিক কিছু ঘটলেও আর তৃতীয় স্থানে থাকা দলগুলোকে ছোঁয়া সম্ভব নয় এই দলগুলোর পক্ষে। আগামী ২৭ জুন পর্যন্ত চলবে গ্রুপ পর্বের খেলা, আর ২৮ জুন থেকে শুরু হবে বহুল প্রতীক্ষিত নকআউট পর্বের মহালড়াই।

 

তিথির হাতের মেহেদীতে ‘আলভী’ লেখা ছবিটি এআই জেনারেটেড: আলভী

অভিনেত্রী ইফফাত আরা তিথির হাতের মেহেদী দেওয়া ছবিতে আলভী লেখা এআই জেনারেটেড বলে দাবি করেছেন অভিনেতা জাহের আলভী ওরফে মো. নিয়ামত উল্লাহ ভূঁইয়া।

 

 

বুধবার (২৪ জুন) আদালতকে এ তথ্য জানান আলভী।

 

 

তিনি বলেন, আমি এমন একটা পরিস্থিতিতে আছি। শোক পালন করব, নাকি কি করব বুঝতে পারছি না। আমরা দুজনে ম্যাচিউর। প্রেম করে বিয়ে করেছি। আমাদের বিয়ের পর খুনসুটি ছিল, অভিমান ছিল, ঝগড়া ছিল। আমাদের সম্পর্ক ইস্মুথ ছিল। এমন কিছু ঘটেনি যে ইকরা আত্মহত্যা করবে।

আলভী আরও বলেন, আমি যেহেতু মিডিয়ায় কাজ করি। আমার শুভাকাঙ্ক্ষী ছাড়াও হেটার্স আছে। তারাই ইকরার মৃত্যুর পর আমাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রপাগান্ডা ছড়িয়েছে। তিথির হাতের মেহেদী দেওয়া ছবিতে আলভী লেখা এআই জেনারেটেড। এখনো সেই ছবি আছে। আসল ছবিতে আলভী লেখা নেই।

তিনি আরও বলেন, আমি নাকি নেপালে গেছি ৬টা নাটক করতে। আমার সঙ্গে অনেক মানুষ ছিল। এমন না যে আমি বার্থডে সেলিব্রেট করতে গেছি। আমার একটা সন্তান আছে সে তার মাকে হারিয়েছে। সে যতোই নানা নানী দাদা দাদীর কাছে থাক। তার বাবা প্রয়োজন আমাকে জামিন দিন।

এদিন আসামিকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির মিরপুর বিভাগের পরিদর্শক মো. আব্দুল মালেক।

 

 

পরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুণী মীরের আদালত আলভীর ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

 

 

রিমান্ডের বিষয়টি কালবেলাকে নিশ্চিত করেছেন সিএমএম কোর্টের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট হারুনুর রশিদ।

 

 

এর আগে গত ১৮ জুন দুপুরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দিনের আদালতে আত্মসমর্পণ করে আইনজীবীদের মাধ্যমে জামিন আবেদন করেন আলভী। শুনানি শেষে দুপুর আড়াইটার দিকে আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

 

 

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মিরপুরের ডিওএইচএসে বাসা থেকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় ইকরাকে উদ্ধার করে পরিবারের সদস্যরা। পরে বাসার মালিকসহ স্বজনরা মিলে তাকে কুর্মিটোলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ওইদিন রাতেই মামলা করেন ইকরার বাবা কবির হায়াত খান।

 

 

দীর্ঘদিনের ‘পারিবারিক কলহ ও বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের কারণেই’ ইকরা আত্মহত্যা করতে ‘বাধ্য হয়েছেন’ বলে মামলায় অভিযোগ করেন তিনি। এই মামলায় গত ৪ জুন জাহের আলভীর মা নাসরিন সুলতানা শিউলি আত্মসমর্পণ করে জামিন পান।

 

 

২০২৭ থেকে জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হবে এসএসসি পরীক্ষা: শিক্ষামন্ত্রী

২০২৭ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা জানুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

 

 

 

বুধবার (২৪ জুন) ঢাকা শিক্ষা বোর্ড, ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ড, মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্রীয় সচিবদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ তথ্য জানান।

 

 

 

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষা জানুয়ারিতে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ২০২৮ সাল থেকে দেশের শিক্ষা কারিকুলামে পরিবর্তন আনা হবে।

সভায় বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে শিক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। নতুন কারিকুলামের কাঠামো ও এসএসসি পরীক্ষার সময়সূচি বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য শিগগিরই প্রকাশ করা হবে।

 

বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ে কঙ্কাল উদ্ধার, পাশে কাঁধের ব্যাগ

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে অজ্ঞাত ব্যক্তির কঙ্কাল উদ্ধার করেছে পুলিশ। কঙ্কালটির পরিচয় এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ বের করতে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

 

 

সোমবার (২২ জুন) সন্ধ্যায় সাতজন শ্রমিক উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকা বাইশারী ইউনিয়নের হাতির ডেরা নামক স্থানে এ কঙ্কাল দেখতে পেয়ে পুলিশকে জানান।

 

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বাইশারী বাজার থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার উত্তরে ২৮০ নং আলীক্ষ্যং মৌজার হাতির ডেরা এলাকায় ডিভাইন রাবার গার্ডেনের গয়াল দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা রাখাল আনোয়ারসহ সাতজন শ্রমিক সোমবার সন্ধ্যায় গয়াল আনতে গিয়ে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় মৃত বশির উল্লাহ খতিয়ানের পাহাড়ি জায়গায় একটি মানব কঙ্কাল দেখতে পান। পরে তারা বিষয়টি নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় অবহিত করেন।

খবর পেয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোজাম্মেল হকের নির্দেশে মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকালে আলীক্ষ্যং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বলাট্য চাকমার নেতৃত্বে একদল পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে যান। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে গহীন পাহাড়ি এলাকা থেকে কঙ্কালটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয় এবং এ ঘটনায় প্রাথমিক তদন্ত শুরু করা হয়।

পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থল থেকে কঙ্কালটির বিভিন্ন হাড়গোড় ও মাথার খুলি ছাড়াও একটি ব্যাগ, কিছু ওষুধ, তারকাটা, একটি লুঙ্গি এবং একটি চাদর উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া এসব আলামত পর্যালোচনা করে কঙ্কালটির পরিচয় শনাক্ত এবং মৃত্যুর রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলছে।

নাইক্ষ্যংছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোজাম্মেল হক বলেন, ‘উদ্ধার হওয়া কঙ্কালটির পরিচয় শনাক্ত এবং মৃত্যুর কারণ নির্ণয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। কঙ্কালটি কতদিন আগের, তা নিশ্চিত হতে বিশেষজ্ঞ মতামতের প্রয়োজন হতে পারে।’

 

 

এ বিষয়ে বাইশারী ইউনিয়ন বিএনপির নেতা ও সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী জসিম উদ্দিন বলেন, ‘উদ্ধার হওয়া কঙ্কালটি কার, তা দ্রুত শনাক্ত করা জরুরি। এতে কোনো নিখোঁজ ব্যক্তির পরিবারের দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটতে পারে।’

 

 

বাইশারী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কঙ্কালটি অনেক দিনের পুরোনো। তবে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসবে।’

 

 

স্থানীয়দের ধারণা, দুর্গম ও জনবিচ্ছিন্ন পাহাড়ি এলাকায় দীর্ঘ সময় ধরে পড়ে থাকার কারণেই মরদেহটি কঙ্কালে পরিণত হয়েছে। তবে এটি স্বাভাবিক দুর্ঘটনা নাকি অন্য কোনো ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট—তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।

দীর্ঘ বিরতির পর তিন কিংবদন্তি একই নাটকে

বাংলা নাট্যাঙ্গনের তিন গুণী শিল্পী আবুল হায়াত, দিলারা জামান ও ডলি জহুরকে দীর্ঘদিন পর আবারও দেখা যাবে একই নাটকে। রাহাত কবিরের রচনা ও পরিচালনায় নির্মিত একক নাটক ‘দাদি ভয়ংকর’-এ অভিনয় করেছেন এই তিন বরেণ্য শিল্পী। সম্প্রতি নাটকটির শুটিং সম্পন্ন হয়েছে। এর আগে আবুল হায়াতের রচনা ও নির্দেশনায় নির্মিত ‘শেষ পত্র’ নাটকে একসঙ্গে অভিনয় করেছিলেন দিলারা জামান, ডলি জহুর, শর্মিলী আহমেদ ও চিত্রলেখা গুহ। সেই স্মৃতি উসকে দিয়েই আবারও এক ফ্রেমে ফিরলেন আবুল হায়াত, দিলারা জামান ও ডলি জহুর। তবে এবার আবুল হায়াত নির্দেশকের ভূমিকায় নন, রয়েছেন অভিনয়ে।

 

 

 

নাটকটির গল্প সম্পর্কে পরিচালক রাহাত কবির বলেন, ‘ইন্টারনেট এবং আমাদের যাপিত জীবন এই নাটকের মূল বিষয়। ইন্টারনেটের ভালো দিক যেমন আছে, খারাপ দিকও আছে। এই নাটকে ভালো-খারাপ দুটি দিকই দেখানো হয়েছে। কিন্তু ইন্টারনেটের সঠিক ব্যবহার যে আমাদের জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, সেটাই বোঝানোর চেষ্টা করা হয়েছে। নাটকে তিনজন কিংবদন্তি গুণী শিল্পীর শিডিউল মেলাতে আমার কষ্ট হয়েছে, কিন্তু তারা ভীষণ আন্তরিকতার সঙ্গে কষ্ট করে সব দিক ম্যানেজ করে সময় দিয়েছেন, অভিনয় করেছেন। এই নাটক আমার জীবনের মাইলফলক হয়ে থাকবে।’

 

 

 

নাটকটিতে কাজের অভিজ্ঞতা জানিয়ে আবুল হায়াত বলেন, ‘ভীষণ ভালো লেগেছে নাটকটিতে কাজ করে। কারণ, কয়েকজন সিনিয়র শিল্পীকে এক করে একক নাটক নির্মাণ করা কঠিন একটি কাজ। রাহাত কবিরকে ধন্যবাদ এমন একটি গল্পে আমাদের নিয়ে নাটক নির্মাণের জন্য।’

দিলারা জামান বলেন, ‘প্রযুক্তি আমাদের যতটা স্বাচ্ছন্দ্য দিচ্ছে, ঠিক ততটা বিপদও ডেকে আনছে। সেই ব্যাপারেই মূলত নাটকের মধ্য দিয়ে সবাইকে সাবধান করে দেওয়া। খুব ভালো লেগেছে কাজটি করে। আমার তো বারবার সেই শেষ পত্রের দিনগুলোর কথা মনে পড়ছিল।’

ডলি জহুর বলেন, ‘অনেক বছর আগে হায়াত ভাইয়ের পরিচালনায় আমরা চারজন একসঙ্গে অভিনয় করেছিলাম, তার মধ্যে শর্মিলী আপা আমাদের মাঝে নেই। এত দিন পরে দিলারা আপা, হায়াত ভাইয়ের সঙ্গে এক নাটকে কাজ করে কী যে ভালো লেগেছে ভাষায় প্রকাশের নয়।’

‘দাদি ভয়ংকর’ নাটকে দিলারা জামান অভিনয় করেছেন দাদির চরিত্রে। আবুল হায়াতকে দেখা যাবে রাইসুল চরিত্রে এবং ডলি জহুর অভিনয় করেছেন মর্জিনা চরিত্রে। এছাড়া নাটকের বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন নাদের চৌধুরী, করভী মিজান, আরশ খান ও উর্বী।

 

 

 

নির্মাতা জানিয়েছেন, শিগগিরই একটি ইউটিউব চ্যানেলে নাটকটি দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।

রাতে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের চেষ্টা, স্থানীয়দের হাতে ধরা ৪

দিনাজপুর সদর উপজেলার শংকরপুর ইউনিয়নের বনতারা সীমান্ত দিয়ে রাতের আঁধারে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় চারজনকে আটক করেছে এলাকাবাসী। আটকদের মধ্যে তিন পুরুষ ও এক নারী রয়েছেন।

 

 

বুধবার (২৪ জুন) ভোর ৬টার দিকে শংকরপুর ইউনিয়নের শালকি মৈজাকুড়ি গ্রাম থেকে স্থানীয়রা তাদের আটক করে। পরে তাদের ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে যায়।

 

 

আটক চারজনের মধ্যে দুজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন— নড়াইল জেলার কালিয়া পৌরসভার মির্জাপুর গ্রামের বাসিন্দা আকুব্বর মোল্যা ও তার স্ত্রী জাহানারা বেগম।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাতে বনতারা গিলাবাড়ি সীমান্ত এলাকা দিয়ে তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করে। ভোরে শালকি মৈজাকুড়ি গ্রামের বিভিন্ন স্থানে তাদের ঘোরাফেরা করতে দেখে সন্দেহ হলে এলাকাবাসী তাদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। একপর্যায়ে তাদের ইউনিয়ন পরিষদে হস্তান্তর করা হয়।

শংকরপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য পংকজ বসাক বলেন, আটক ব্যক্তিদের বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা কাজের সন্ধানে ভারতে যাতায়াত করতেন। তবে কীভাবে তারা সীমান্ত পারাপার করতেন সে বিষয়ে পরিবার কিছুই জানে না।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে আটক ব্যক্তিদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।

 

 

ফুলবাড়ী ২৯ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফুজ্জামান বলেন, এটি কোনো পুশইনের ঘটনা নয়, বরং অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে প্রবেশের ঘটনা। আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

 

 

তিনি আরও বলেন, জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

হত্যাচেষ্টার অভিযোগে গ্রেপ্তার কণ্ঠশিল্পী মমতাজ

জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র রাজধানীর মিরপুর মডেল থানাধীন এলাকায় মো. মুক্তার হোসেনকে হত্যাচেষ্টা মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য ও জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগমকে ফের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

 

 

বুধবার (২৪ জুন) পুলিশের আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালত এ আদেশ দেন৷

 

 

এর আগে, মমতাজকে আদালতে হাজির করে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মিরপুর মডেল থানার উপপরিদর্শক মো. আজিজুল হক।

এদিন আদালতে রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর পিপি ওমর ফারুক ফারুকী মমতাজ বেগমকে গ্রেপ্তার দেখানোর পক্ষে শুনানি করেন। অপরদিকে তার আইনজীবীরা গ্রেপ্তারের বিরোধিতা করেন।

গ্রেপ্তারের আবেদনে বলা হয়, আসামির এই মামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার সাক্ষ্য প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। এজন্য আসামিকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো একান্ত প্রয়োজন। মামলার তদন্ত চলমান। আসামিকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলে তাকে মামলার ঘটনার বিষয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পরবর্তীতে পুলিশ রিমান্ডের আবেদন করা হতে পারে।

মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট জুলাই আন্দোলনের সময়ে বাদী ও ভিকটিম মো. মুক্তার হোসেন মিরপুরের সুইমিং ও ফায়ার সার্ভিসের রাস্তায় আন্দোলনে যোগ দেন। আন্দোলন দমাতে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের লোকজন তাদের ওপর হামলা ও গুলিবর্ষণ করে। পুলিশের ছোড়া রাবার বুলেট মুক্তার হোসেনের শরীর ও বুকে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে পরে যায়। পরবর্তীতে কুর্মিটোলা হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করেন। এ ঘটনায় মুক্তার একটি হত্যাচেষ্টা মামলা করেন। এই মামলায় সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে মমতাজ বেগমকে গ্রেপ্তার দেখানো হলো।

 

 

২০২৫ সালের ১২ মে রাত পৌনে ১২টায় ধানমন্ডির স্টার কাবাবের পেছনের একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। পরদিন তার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন ঢাকার সিএমএম আদালত। এরপর থেকে তিনি কারাগারে আছেন।

 

 

লোকসংগীতের জনপ্রিয় শিল্পী মমতাজ নবম সংসদ নির্বাচনের পর ২০০৯ সালে সংরক্ষিত নারী আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদ সদস্য হন। পরে ২০১৪ সালে তাকে আওয়ামী লীগ মনোনয়ন দেয়।

 

 

২০১৮ সালেও নৌকা নিয়ে জয় পাওয়া মমতাজ ২০২৪ সালের জানুয়ারির নির্বাচনে দলের নেতা এক স্বতন্ত্র প্রার্থীর কাছে হেরে যান।

নাতি হওয়ার নানার ব্যতিক্রম উল্লাস: ঘোড়ার গাড়িতে গ্রামভ্রমণ, ৩ হাজার মিষ্টি বিতরণ

নিজের কোনো পুত্রসন্তান নেই, তাই একমাত্র মেয়ের ঘরে দীর্ঘ এক যুগ পর ছেলেসন্তানের জন্ম হওয়ায় আনন্দের কোনো সীমা রইল না নানার। আর এই বিশেষ আনন্দকে স্মরণীয় করে রাখতে এক রাজকীয় ও ব্যতিক্রমী উৎসবের আয়োজন করলেন তিনি। ৭ মাস বয়সী নাতিকে সুসজ্জিত ঘোড়ার গাড়িতে চড়িয়ে, ব্যান্ডপার্টির নাচ-গানের তালে তালে পুরো গ্রাম ঘুরিয়ে বিতরণ করলেন ৩ হাজার পিস মিষ্টি!

​ব্যতিক্রমী ও জমকালো এই ঘটনাটি ঘটেছে নাটোরের সিংড়া উপজেলার শেরকোল ইউনিয়নের জোরমল্লিকা গ্রামে। জোড় মল্লিকা গ্রামের ওই নানার নাম মো. হান্নান।

বুধবার (২৪ জুন)  সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত পুরো এলাকাজুড়ে চলে এই আনন্দ উৎসব।

সরেজমিনে গিয়ে আয়োজকদের সাথে কথা বলে জানাযায়, জোরমল্লিকা গ্রামের বাসিন্দা মো. হান্নানের নিজের কোনো পুত্রসন্তান নেই। তার একমাত্র মেয়ে পান্না খাতুনকে বিয়ে দিয়েছেন একই ইউনিয়নের পার্শ্ববর্তী শাহবাজপুর গ্রামে মনির হোসেনের সাথে। বিয়ের পর এই দম্পতির ঘরে প্রথমে একটি কন্যাসন্তান জন্ম নেয়। এরপর কেটে যায় দীর্ঘ ১২টি বছর। অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে এই দম্পতির ঘর আলো করে আসে এক পুত্রসন্তান।

​একমাত্র মেয়ের ঘরে দীর্ঘ এক যুগ পর নাতি আসায় আনন্দের জোয়ার বয়ে যায় নানা মো. হান্নানের মনে। বর্তমানে নাতি আব্দুর রহমান বিন মুসালিনের বয়স ৭ মাস। নাতির এই আগমনকে স্মরণীয় করে রাখতেই তিনি এই অভিনব উৎসবের উদ্যোগ নেন।

​বুধবার সকালে নানা হান্নান তার ৭ মাস বয়সী নাতি মুসালিনকে একটি সুসজ্জিত ঘোড়ার গাড়িতে চড়ান। এরপর ব্যান্ডপার্টির ধুমধাম নাচ-গানের তালে তালে নিজ গ্রাম জোরমল্লিকা থেকে শুরু করে জামাতার গ্রাম শাহবাজপুর পর্যন্ত পুরো এলাকা প্রদক্ষিণ করেন।

শিশুর মা পান্না খাতুন বলেন,​”আমার প্রথম কন্যাসন্তান জন্ম নেওয়ার দীর্ঘ ১২ বছর পর আল্লাহ আমাকে পুত্রসন্তান দিয়েছেন। আমার ছেলে হওয়ার আনন্দে আমার বাবা ঘোড়ার গাড়িতে করে পুরো গ্রাম ঘুরিয়ে এবং মিষ্টি বিতরণ করে উৎসব করছেন। বাবার এই আনন্দ দেখে আমাদেরও খুব ভালো লাগছে। আপনারা সবাই আমার ছেলে-মেয়ে এবং আমার বাবার জন্য দোয়া করবেন।”

​নাতিকে নিয়ে উল্লাসিত নানা মো. হান্নান তার অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন,
“আমার নিজের কোনো ছেলে নেই। মহান আল্লাহ তায়ালা আমার মেয়ের ঘরে একটি নাতি উপহার দিয়ে আমার মনের দীর্ঘদিনের আশা পূরণ করেছেন। আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করতেই আমি আমার আত্মীয়-স্বজন ও গ্রামবাসীদের নিয়ে এই আনন্দ ভাগাভাগি করেছি।”

পিকআপের সঙ্গে সংঘর্ষে প্রাণ গেল দুই মোটরসাইকেল আরোহীর

নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলায় পিকআপ ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পিকআপচালক ও তার সহকারীকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে স্থানীয়রা।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে কবিরহাট-সোনাপুর সড়কের উপজেলার সুন্দলপুর এলাকার বারীপুকুরপাড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চর কাকড়া পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাশেম বেপারী বাড়ির মোহাম্মদ কামাল উদ্দিনের ছেলে মোহাম্মদ তারেক রহমান শিবলু (১৬) এবং বসুরহাট পৌরসভার হাজীপাড়া এলাকার রহমতউল্লাহর ছেলে জিহাদ হোসেন (২০)।
আটকরা হলেন- পিকআপচালক মহি উদ্দিন মাহমুদ ও তার সহকারী সালাউদ্দিন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে কবিরহাট-সোনাপুর সড়কের বারীপুকুরপাড় এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মোটরসাইকেলটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই দুই আরোহী নিহত হন।
খবর পেয়ে কবিরহাট থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
কবিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া দুইজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

কৃষক কার্ড ইস্যুতে আলোচনায় আসা কবির হোসেনের মৃত্যু

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে কৃষক কার্ড নিয়ে আলোচনায় আসা টাঙ্গাইলের সেই ভাইরাল কবির হোসেন মারা গেছেন। (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

 

 

 

মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়নের তারটিয়া গ্রামে নিজ বাড়িতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান তিনি।

 

 

 

কবির হোসেনের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও টাঙ্গাইল-৫ আসনের সংসদ সদস্য সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

শোকবার্তায় প্রতিমন্ত্রী মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। একই সঙ্গে তিনি শোকাহত পরিবারকে এই শোক সহ্য করার শক্তি ও ধৈর্য দানের জন্য মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন।

 

গত ১৪ এপ্রিল কবির হোসেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে কৃষক কার্ড গ্রহণের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। বিভিন্ন মহলে তাকে নিয়ে নানা ধরনের প্রচারণা চালায়, যা দ্রুত ভাইরাল হয়ে পড়ে।

পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর তদন্ত করে। তদন্তে কবির হোসেনকে একজন প্রকৃত কৃষক হিসেবে শনাক্ত করা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে কৃষিকাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং নিজ জমিসহ বিভিন্ন কৃষি কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতেন। তদন্ত প্রতিবেদনের মাধ্যমে তার কৃষক পরিচয়ের সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর তাকে ঘিরে বিতর্কের অবসান ঘটে।

 

 

 

 

তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার-পরিজন, আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

 

 

 

 

বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন। কবির হোসেনের জানাজা ও দাফনের বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে পরে বিস্তারিত জানানো হবে বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।

 

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের বিক্ষোভ

আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর বেশ কয়েকটি স্থানে বিক্ষোভ মিছিল করেছে দলটির নেতাকর্মীরা।

 

 

 

মঙ্গলবার তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকা, সংসদ ভবনের পূর্বপাশের সড়ক, ডেমরা, মিরপুরের রূপনগর ও কাফরুল এলাকায় মিছিল করেন তারা।

 

 

 

আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ছাড়াও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরাও এসব মিছিলে অংশ নেন। আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মুক্তির দাবি জানানো হয় বিক্ষোভ মিছিল থেকে।

ডেমরায় আওয়ামী লীগের শতাধিক নেতাকর্মী বিক্ষোভ করেন। সংসদ ভবনের পূর্বপাশের সড়কে বিক্ষোভ করেন আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। মিরপুরের রূপনগর ও কাফরুল এলাকায় মিছিল করেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

 

 

তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। সিদ্ধেশ্বরী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা মালিবাগ চৌধুরীপাড়া এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেন।

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে পুলিশের কড়া নিরাপত্তা ছাড়াও ছয় জেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়। সেনাবাহিনীকে দেওয়া হয় ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা।

 

 

 

এদিন আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বিএনপির সহযোগী সংগঠন যুব দল ও ছাত্রদল ছাড়াও জামায়াতে ইসলামের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল করেছে রাজধানীতে। বিজয়নগরে সমাবেশ করেছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য।

 

 

 

আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে ধানমন্ডি ৩২ নম্বর ও দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যাওয়া কয়েকজনকে মারধর করে পুলিশে দিয়েছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামের নেতাকর্মীরা।

সুত্র: বিডিনিউজ২৪.কম

ফাইনালে ওঠার সমীকরণে এগিয়ে আর্জেন্টিনা

স্পেনের কাছে উরুগুয়ে হারলে, সমীকরণ কেপ ভার্দে কিংবা সৌদি আরবকে নকআউটের শেষ-৩২ রাউন্ডে পাবে আর্জেন্টিনা! সমীকরণ তো কথার মতো মিলে যাওয়ার বিষয় নয়, বললেই মিলে গেল! তবে মিলেও তো যেতে পারে। 

গ্রুপ পর্বের বাধা পেরিয়ে চ্যাম্পিয়ন হিসেবে ইতোমধ্যেই নকআউট পর্ব (রাউন্ড অব ৩২) নিশ্চিত করেছে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। তবে লিওনেল স্কালোনির দলের শেষ ৩২-এর প্রতিপক্ষ কে হচ্ছে, তা নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। ‘এইচ’ গ্রুপের জটিল সমীকরণের ওপর নির্ভর করছে আলবিসেলেস্তেদের পরবর্তী প্রতিপক্ষ।

 

 

 

এই মুহূর্তে ‘এইচ’ গ্রুপে রয়েছে স্পেন, উরুগুয়ে, কেপ ভার্দে ও সৌদি আরব। নিয়ম অনুযায়ী, আর্জেন্টিনা মুখোমুখি হবে এই গ্রুপের রানার্সআপ দলের। বর্তমানে টেবিলের যা অবস্থা, তাতে সমীকরণটা বেশ রোমাঞ্চকর এক মোড় নিয়েছে।

 

 

 

‘এইচ’ গ্রুপের বর্তমান চিত্র- দুই ম্যাচ শেষে ৪ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে স্পেন। সমান ২ পয়েন্ট নিয়ে গোল ব্যবধানে এগিয়ে থেকে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে যথাক্রমে উরুগুয়ে ও কেপ ভার্দে। ১ পয়েন্ট নিয়ে তলানিতে সৌদি আরব। ফলে শেষ ম্যাচের ওপরই নির্ভর করছে আর্জেন্টিনার ভাগ্য। 

কার মুখোমুখি হতে পারে আর্জেন্টিনা? স্পেনের বিপক্ষে যদি উরুগুয়ে তাদের শেষ ম্যাচে জেতে, সৌদি আরবের বিপক্ষে কেপ ভার্দে ড্র করে বা হেরে যায়, তবে স্পেন রানার্সআপ হতে পারে (যদি তারা শেষ ম্যাচে হেরে যায়)। আবার কেপ ভার্দে যদি ৪ বা তার বেশি গোলের ব্যবধানে জিতে যায় এবং উরুগুয়ে ড্র করে, সেক্ষেত্রেও স্পেনের রানার্সআপ হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে।

 

 

 

যদি উরুগুয়ে ও কেপ ভার্দে—উভয় দলই তাদের শেষ ম্যাচে জয় পায়, তবে গোল ব্যবধান, ফেয়ার প্লে বা মুখোমুখি লড়াইয়ের জটিল সমীকরণে যে দল দ্বিতীয় হবে, তারাই খেলবে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে। আবার দুটি ম্যাচই যদি ড্র হয়, তবে উরুগুয়ে ও কেপ ভার্দের মধ্যেই দ্বিতীয় স্থান নির্ধারণী লড়াই হবে।

 

 

 

উরুগুয়ে যদি নিজেদের শেষ ম্যাচে জিততে না পারে এবং সৌদি আরব তাদের ম্যাচে জয় তুলে নেয়, তবে আর্জেন্টাইনদের প্রতিপক্ষ হতে পারে মধ্যপ্রাচ্যের দেশটি।

 

 

 

কোয়ার্টার ও সেমিফাইনালের সম্ভাব্য রোডম্যাপ।
রাউন্ড অব ৩২-এর বাধা পার হতে পারলে স্কালোনির দল শেষ ১৬-তে মুখোমুখি হতে পারে প্যারাগুয়ে, অস্ট্রেলিয়া, ইরান বা বেলজিয়ামের মতো দলের।

 

 

কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনার সামনে পড়তে পারে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর পর্তুগাল (যদি তারা কলম্বিয়াকে টপকে গ্রুপ সেরা হয়) অথবা সুইজারল্যান্ড ও কানাডার মধ্যকার যেকোনো এক দল। 

আসল রোমাঞ্চ লুকিয়ে আছে সেমিফাইনালে। আর্জেন্টিনা যদি গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে নকআউটে এগিয়ে যায়, তবে শেষ চারে তাদের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিল কিংবা শক্তিশালী ইংল্যান্ড।

 

 

 

ফাইনালের আগে দেখা হবে না ফ্রান্স-জার্মানির সঙ্গে। ব্র্যাকেটের বর্তমান কাঠামো অনুযায়ী, আর্জেন্টিনা যদি টেবিলের শীর্ষস্থান ধরে রেখে ফাইনালে ওঠে, তবে মেগা ফাইনালের আগে ফ্রান্স, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস কিংবা স্পেনের (যদি তারা গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়) মুখোমুখি হতে হবে না মেসি-মার্তিনেজদের। এই দলগুলোর সঙ্গে আর্জেন্টিনার দেখা হওয়ার একমাত্র সম্ভাবনা কেবল স্বপ্নের ফাইনালে।

 

 

 

এখন দেখার বিষয়, শেষ ষোলোর টিকিট কাটার লড়াইয়ে কোন দল আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হওয়ার চ্যালেঞ্জটি লুফে নেয়।

 

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই দিনব্যাপী রবীন্দ্র ও নজরুল জয়ন্তী উৎসব

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে অবস্থিত রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশে সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সৃজনশীলতায় ভরপুর পরিবেশে দুই দিনব্যাপী ‘রবীন্দ্র ও নজরুল জয়ন্তী উৎসব ১৪৩৩’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
২২ ও ২৩ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এ উৎসবে সেমিনার, সংগীত পরিবেশনা, রবীন্দ্র মেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং পুরস্কার বিতরণীসহ নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন ও কর্মকে স্মরণ করা হয়।
সোমবার (২২ জুন) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী একাডেমিক ভবন-৩ এ উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন উপাচার্য (ভাইস-চ্যান্সেলর) প্রফেসর ড. তাহমিনা আক্তার। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর  ড. সুমন কান্তি বড়ুয়া।
উদ্বোধনী পর্ব শেষে সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে রবীন্দ্র মেলার উদ্বোধন করা হয়। মেলায় রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য, দর্শন, সংস্কৃতি ও জীবনবোধভিত্তিক বিভিন্ন প্রদর্শনী দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করে। পরে সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে একাডেমিক ভবন-১ এর ‘গীতাঞ্জলি স্টুডিও থিয়েটার’-এ অনুষ্ঠিত হয় রবীন্দ্রসংগীত প্রতিযোগিতা। এতে বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও  বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে। রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে নিজেদের সাংস্কৃতিক দক্ষতা তুলে ধরেন।
প্রথম দিনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সেমিনার। বিকেল ৩টায় অনুষ্ঠিত এ সেমিনারে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. অনিরুদ্ধ কাহালি। তিনি রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য, মানবতাবাদী দর্শন, শিক্ষা-চিন্তা এবং সমকালীন সমাজে তাঁর প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
দিনব্যাপী আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে। সংগীত বিভাগের শিক্ষার্থীদের পরিবেশিত নজরুল ও রবীন্দ্রসংগীত দর্শক-শ্রোতাদের ব্যাপকভাবে মুগ্ধ করে।
উৎসবের দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকাল ১০টায় পুনরায় রবীন্দ্র মেলার কার্যক্রম শুরু হয়। পরে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারে নজরুলের সাহিত্য, সংগীত, অসাম্প্রদায়িক চেতনা, সাম্যবাদী দর্শন এবং বিদ্রোহী মননের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।
দিনের শেষ পর্বে অনুষ্ঠিত সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অনলাইনের মাধ্যমে বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী প্রফেসর ডা. এম. এ. মুহিত। বক্তব্যে তিনি বলেন, “একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থায়ী ক্যাম্পাস ছাড়া পরিপূর্ণভাবে পরিচালিত হতে পারে না।” তিনি রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস বাস্তবায়নে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট নজরুল গবেষক ও দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য আব্দুল হাই সিকদার। তিনি তাঁর বক্তব্যে নতুন প্রজন্মের মধ্যে নজরুলচর্চা বিস্তারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং জাতীয় কবির সাহিত্য ও দর্শনের বহুমাত্রিক গুরুত্ব তুলে ধরেন।
সবশেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃত্যকলা বিভাগের শিল্পীদের বর্ণাঢ্য নৃত্য পরিবেশনার মধ্য দিয়ে দুই দিনব্যাপী উৎসবের পর্দা নামে। অনুষ্ঠানজুড়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সংস্কৃতিপ্রেমী দর্শনার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ উৎসবকে প্রাণবন্ত করে তোলে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, সংস্কৃতি ও মানবিক মূল্যবোধ নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে এ ধরনের আয়োজন ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

মেসিকে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়া কে এই শতবর্ষী নারী?

লিওনেল মেসির খেলা ঘিরে বিশ্বজুড়ে আলোচনার মাঝেই এবার গ্যালারি থেকে নজর কাড়লেন ১০০ বছর বয়সী এক নারী দর্শক, যিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আগেই পরিচিত ‘গ্র্যানি স্মিথ’ নামে। বিশ্বকাপের ম্যাচে আর্জেন্টিনার জার্সি পরে তার উপস্থিতি ও হাতে ধরা একটি প্ল্যাকার্ড মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়, যেখানে লেখা ছিল—‘আমি ১০০ বছর বয়সী এবং আমি মেসির ভক্ত।’

 

 

 

ডালাসে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ২-০ গোলের জয়ের ম্যাচে এই দৃশ্য সম্প্রচারে আসার পর থেকেই বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে শুরু হয় কৌতূহল—কে এই শতবর্ষী নারী, যিনি মেসিকে ঘিরে এমন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এলেন।

 

 

এই নারী দর্শকের প্রকৃত নাম পউলিনে কানা। তবে অনলাইন দুনিয়ায় তিনি বেশি পরিচিত ‘গ্র্যানি স্মিথ’ বা ‘গ্যাংস্টার গ্র্যানি’ নামে। যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের এই কনটেন্ট ক্রিয়েটর তার নাতি রস স্মিথের সঙ্গে তৈরি করা কমেডি ভিডিও, স্টান্ট ও ভাইরাল কনটেন্টের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন।

 

টিকটকে তার অনুসারীর সংখ্যা কোটি ছাড়িয়েছে, পাশাপাশি ইনস্টাগ্রাম ও ইউটিউবেও রয়েছে বিশাল ভক্তগোষ্ঠী। বয়সকে অতিক্রম করে সাহসী ও হাস্যরসাত্মক কনটেন্ট তৈরির কারণে তিনি দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় রয়েছেন এবং গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসেও তার নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

 

 

মেসির প্রতি ভালোবাসার পুরোনো গল্প

মেসির প্রতি তার ভালোবাসা নতুন নয়। এর আগেও বিভিন্ন ফুটবল ইভেন্টে তাকে দেখা গেছে আর্জেন্টাইন তারকার প্রতি আবেগ প্রকাশ করতে। ২০২৫ সালের ক্লাব বিশ্বকাপে ইন্টার মায়ামির ম্যাচে উপস্থিত হয়ে তিনি বেশ কয়েকটি প্ল্যাকার্ড দেখান, যা তখনও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়।

 

 

 

পোর্তোর বিপক্ষে ম্যাচে তিনি একবার লিখে আনেন, ‘মেসি, তুমি কি আমাকে বিয়ে করবে?’ আবার পিএসজির বিপক্ষে ম্যাচে তার প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, ‘মেসি, আমি তোমাকে ভালোবাসি। বয়স শুধু একটি সংখ্যা।’

 

 

 

সেই সময় ওয়ার্ম-আপ চলাকালে মেসি দূর থেকে তার দিকে তাকিয়ে হাসেন এবং হাত নাড়েন—যা পরবর্তীতে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

 

 

 

বিশ্বকাপের রাতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু

অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে বিশ্বকাপ ম্যাচে মেসি দুটি গোল করে দলকে জেতানোর পাশাপাশি নিজের রেকর্ডও উন্নত করেন। একই ম্যাচে গ্যালারিতে থাকা পউলিনে কানার উপস্থিতি আলাদা মাত্রা যোগ করে।

 

 

 

হাতে ‘১০০ বছর বয়সী মেসি ভক্ত’ লেখা প্ল্যাকার্ড এবং আর্জেন্টিনার জার্সিতে তার উপস্থিতি সম্প্রচার ক্যামেরায় ধরা পড়তেই মুহূর্তে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে দৃশ্যটি। অনেকেই মেসির রেকর্ড গড়া রাতের পাশাপাশি এই শতবর্ষী ভক্তকেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রাখেন।

 

 

 

ভাইরাল দাদির জনপ্রিয়তার পেছনের গল্প

পউলিনে কানা শুধুমাত্র একজন ফুটবল ভক্ত নন, বরং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একজন সুপরিচিত ইনফ্লুয়েন্সার। নাতি রস স্মিথের সঙ্গে তার ভিডিওগুলো প্রথম ভাইনে ভাইরাল হয়, পরে টিকটক ও ইনস্টাগ্রামে তাদের জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী হয়।

 

 

 

তাদের কনটেন্টের মূল আকর্ষণ হলো বয়সকে অতিক্রম করে একজন বৃদ্ধ নারীর সাহসী অংশগ্রহণ, যেখানে তিনি হাস্যরস, চ্যালেঞ্জ এবং কখনও শারীরিক স্টান্টেও অংশ নেন।

 

 

 

একটি আলোচিত ঘটনায় তিনি ৯৯ বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে একটি কনসার্টে ক্রাউড সার্ফিং করে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড গড়েন, যা তাকে বিশ্বব্যাপী আরও পরিচিত করে তোলে।

 

 

 

১০০ বছর বয়সে বিশ্বকাপের গ্যালারিতে উপস্থিত হয়ে পউলিনে কানা আবারও প্রমাণ করেছেন, ফুটবল কেবল তরুণদের খেলা নয়—এটি আবেগের খেলা, যেখানে বয়স কোনো বাধা নয়।

 

 

 

মেসির রেকর্ড গড়া মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি এই শতবর্ষী ভক্তের উপস্থিতিও ম্যাচটিকে স্মরণীয় করে তুলেছে। ফলে একদিকে যেমন মাঠে ইতিহাস লিখেছেন মেসি, অন্যদিকে গ্যালারিতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়েছেন তার এক ব্যতিক্রমী ভক্ত—পউলিনে কানা।

 

 

অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ২-০ ব্যবধানের জয়ের ম্যাচে রেফারি লিওনেল মেসিকে বাড়তি সুবিধা দিয়েছেন বলে দাবি করেছেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কিংবদন্তি গোলরক্ষক পিটার স্মাইকেল।

 

 

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি টেলিভিশন চ্যানেলে ম্যাচ বিশ্লেষণ করার সময় তিনি এই বিতর্কিত মন্তব্য করেন।

 

 

স্মাইকেলের মতে, ম্যাচের একটি গোল বিল্ড-আপের সময় আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার অস্ট্রিয়ার জাভার শ্লাগারকে ফাউল করেছিলেন।

রেফারি সেই ফাউলটি এড়িয়ে যান এবং ভিএআর প্রযুক্তিও এতে হস্তক্ষেপ করেনি, যার ফলে মেসি বিশ্বকাপে তার রেকর্ড-ব্রেকিং ১৭তম গোলটি করার সুযোগ পান।

সাবেক এই ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড তারকা স্পষ্ট জানান, তিনি মেসির খেলার ভক্ত হলেও এই সিদ্ধান্তটি ছিল রেফারির একটি ‘স্পষ্ট এবং দৃশ্যমান ভুল’। তিনি মনে করেন, ফিফার অফিশিয়ালরা এখানে পক্ষপাতিত্ব বা বড় ধরনের ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

শ্রীলঙ্কায় ডেঙ্গু মোকাবিলায় সেনাবাহিনী মোতায়েন

মশাবাহিত প্রাণঘাতী ডেঙ্গু জ্বরের দ্রুত বিস্তার ঠেকাতে সেনাবাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে শ্রীলঙ্কা। দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে জানিয়েছে, প্রতিদিন ১ হাজারের বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

 

 

মঙ্গলবার (২৩ জুন) প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকের কার্যালয় জানায়, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর সদস্যদের নিয়ে একটি বিশেষ ইউনিট গঠন করা হবে। ইউনিটটি মশার প্রজননস্থল শনাক্ত ও ধ্বংসে কাজ করবে।

 

 

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে দেশটিতে প্রায় ৫০ হাজার ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে এবং মারা গেছেন ২৯ জন। তবে এই সংখ্যা এখনো ২০১৭ সালের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাবের তুলনায় কম। ওই বছর শ্রীলঙ্কায় ১ লাখ ৮৬ হাজার মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন এবং ৪৪০ জনের মৃত্যু হয়।

প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জানিয়েছে, যেসব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান তাদের স্থাপনায় মশার প্রজননের সুযোগ করে দেবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি বুধবার থেকে সারা দেশে মশার প্রজননস্থল পরিষ্কার করার বিশেষ অভিযান শুরু হচ্ছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) আগেই সতর্ক করেছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন মশাবাহিত রোগ দ্রুত বিস্তার লাভ করছে।

জুনের শুরু থেকে শ্রীলঙ্কায় ডেঙ্গু সংক্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সরকারি হিসাবে, চলতি সপ্তাহে একদিনেই এক হাজারের বেশি নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে।

 

 

দেশটির জাতীয় ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ ইউনিটের প্রধান কাপিলা কান্নাঙ্গারা বলেন, সংক্রমণ আরও বাড়লে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলো পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খেতে পারে।

 

 

তিনি বলেন, হাসপাতালগুলো ইতোমধ্যেই চাপের মধ্যে রয়েছে। ২০১৭ সালের মতো পরিস্থিতি আমরা আবার দেখতে চাই না।

 

 

 

টাঙ্গাইলে দূষিত পানি পান করে অসুস্থ ৩২ শিক্ষার্থী হাসপাতালে ভর্তি

টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার মাহমুদনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের নলকূপের পানিতে বিষাক্ত পদার্থ মেশানোর অভিযোগ উঠেছে। সেই পানি পান করে বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে অন্তত ৩২ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে।

 

 

মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকালে উপজেলার মাহমুদনগর ইউনিয়নের মাহমুদনগর উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুল কাদীর।

 

 

বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা জানান, সকালে বিদ্যালয়ের নলকূপের পানি পান করার পর একে একে কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে আরও শিক্ষার্থীর মধ্যে বমি, মাথা ঘোরা ও শারীরিক অস্বস্তির লক্ষণ দেখা দিলে তাদের দ্রুত নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কে বা কারা বিদ্যালয়ের নলকূপে কৃষিকাজে ব্যবহৃত তরল কীটনাশক বা অন্য কোনো বিষাক্ত পদার্থ মিশিয়ে দেয়। বিষয়টি টের পাওয়ার আগেই শিক্ষার্থীরা সেই পানি পান করে অসুস্থ হয়ে পড়ে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মোট ৩২ জন শিক্ষার্থী চিকিৎসার জন্য স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসে। তাদের মধ্যে ২৯ জনকে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর অসুস্থ দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। কয়েকজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়িতে বিশ্রামের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

মাহমুদনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘সকালে শিক্ষার্থীরা টিউবওয়েলের পানি পান করার পর অসুস্থ হয়ে পড়ে। আমরা দ্রুত তাদের হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছি। বর্তমানে শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা ও সার্বিক পরিস্থিতি সামাল দিতেই ব্যস্ত আছি।’

 

 

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক শিক্ষার্থী জানায়, বিরতির সময় ঝালমুড়ি খাওয়ার পর কয়েকজন সহপাঠী বিদ্যালয়ের পাশের টিউবওয়েলের পানি পান করে। এরপরই তারা বমি করতে শুরু করে এবং অসুস্থ হয়ে পড়ে। তবে সবাই ঝালমুড়ি খায়নি, অনেকেই শুধু পানি পান করার পর অসুস্থ হয়েছে।

 

 

মাহমুদনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ জজ কামাল বলেন, ‘বিদ্যালয়ের নলকূপে বিষ বা কীটনাশক মেশানোর কারণেই শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এটি পরিকল্পিত কোনো নাশকতা কি না, তা তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করা প্রয়োজন।’

 

 

 

নাগরপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাদীর আহামেদ জানান, ‘নলকূপের পাশ থেকে পলিথিনে মোড়ানো সাদা পেস্টজাতীয় একটি পদার্থ উদ্ধার করা হয়েছে। সেটি পানির সঙ্গে মিশে বিষক্রিয়ার কারণ হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।’

 

 

নাগরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. এরফান উদ্দিন জানান, নলকূপের পানির নমুনা পরীক্ষার জন্য পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষার ফল পাওয়ার পর ঘটনার প্রকৃত কারণ জানা যাবে এবং সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

 

নাগরপুর থানার ওসি মো. জহুরুল ইসলাম জানান, ‘পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। হাসপাতালে ভর্তি শিক্ষার্থীদের বেশিরভাগই এখন অনেকটা সুস্থ রয়েছে।’

 

 

 

হোয়াইট হাউস টার্গেট করে ষড়যন্ত্র, এফবিআই গ্রেপ্তার করল আরও ২ জন

হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত ইউএফসি ইভেন্টে হামলার কথিত ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল তদন্ত সংস্থা এফবিআই এ তথ্য জানিয়েছে। খবর আনাদোলু এজেন্সির।

 

 

গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা একটি বহু-রাজ্যভিত্তিক ষড়যন্ত্রের অংশ ছিলেন, যার লক্ষ্য ছিল বিস্ফোরক বহনকারী ড্রোন ব্যবহার করে অনুষ্ঠানে হামলা চালানো এবং পরবর্তীতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা।

 

 

 

মার্কিন বিচার বিভাগের এক বিবৃতিতে বলা হয়, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে হত্যার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে, যার সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।

তদন্তে জানা গেছে, পরিকল্পনাটি ছিল ১৪ জুন অনুষ্ঠিত ‘ইউএফসি ফ্রিডম ২৫০’ ইভেন্টকে লক্ষ্য করে। ওই অনুষ্ঠানে দক্ষিণ লনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উপস্থিত ছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, হামলাকারীদের পরিকল্পনা ছিল ড্রোনে বিস্ফোরক ব্যবহার করে ভিড়কে আতঙ্কিত করা এবং পরে গুলি চালানোর মাধ্যমে আরও বড় ক্ষতি করা।

এফবিআই-এর তথ্য অনুযায়ী, একজন সন্দেহভাজন ড্রোন অপারেটর ছিলেন এবং তিনি ড্রোনের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ক্ষতি করার কৌশল নিয়ে আলোচনা করেন। অন্য একজন অভিযুক্ত অর্থ জোগান, ভ্রমণ ব্যবস্থা এবং সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহে সহায়তা করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তার বাড়িতে থ্রিডি প্রিন্টারসহ কিছু উপকরণ পাওয়া গেছে, যা ড্রোনের যন্ত্রাংশ তৈরিতে ব্যবহৃত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

 

তদন্তকারীরা জানান, এই ষড়যন্ত্র প্রথম ধরা পড়ে ওহাইওর এক সহ-অভিযুক্তের বাবা-মা পুলিশকে তাদের সন্তানের সন্দেহজনক অনলাইন কার্যকলাপ ও অস্ত্র কেনার বিষয়ে জানালে।

 

 

 

এফবিআই বলেছে, দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে সম্ভাব্য বড় ধরনের হামলা ঠেকানো সম্ভব হয়েছে।

 

 

 

এ ঘটনায় মোট ২৩ জনের একটি নেটওয়ার্ক জড়িত থাকতে পারে বলে তদন্তে উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে মার্কিন গণমাধ্যম। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

বিশ্ববাজারে তেলের দামের নিয়ন্ত্রণ কি চীনের হাতে?

স্থায়ীভাবে হরমুজ প্রণালি খোলা রাখা এবং মধ্যপ্রাচ্যের তেলের প্রবাহ আবার স্বাভাবিক করার বিষয়ে যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে; তখন বাজারের পরবর্তী গতিপথ এমন একটি দেশের ওপর নির্ভর করতে পারে, যে দেশটি এই আলোচনায় সরাসরি উপস্থিত নেই। আর সেটি হলো চীন।

 

 

 

ইরানে চলমান যুদ্ধের কারণে প্রতিদিন ১ কোটি ১০ লাখ ব্যারেলেরও বেশি তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অপরিশোধিত তেল ভোক্তা চীন নিজেদের জ্বালানি সরবরাহ বজায় রাখতে সম্ভাব্য সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। আমদানি কমিয়ে, বিশাল তেল মজুতের ওপর নির্ভর করে এবং আরও বেশি পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ব্যবহার করে চীন দেশে উচ্চ তেলের দামের প্রভাবকে কিছুটা হলেও সামাল দিতে সক্ষম হয়েছে, যদিও পুরোপুরি তা দূর করতে পারেনি। চীনের এই পদক্ষেপগুলোর প্রভাব বৈশ্বিক বাজারেও অনুভূত হয়েছে।

 

 

 

যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর তিন মাসেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। এ সময় কিছু বিশ্লেষক পূর্বাভাস দিয়েছিলেন যে চলতি বছরে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২০০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছে যেতে পারে। কিন্তু মোট সরবরাহ ঘাটতি প্রায় ১ বিলিয়ন ব্যারেলের বেশি হওয়া সত্ত্বেও অপরিশোধিত তেলের দাম তুলনামূলকভাবে সীমিত পর্যায়েই রয়েছে। অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, এর প্রধান কারণ চীন।

জ্বালানি-বিষয়ক থিঙ্ক ট্যাংক এম্বারের প্রধান কর্মকর্তা ড্যান ওয়াল্টার বলেন, এশিয়ার বাকি অংশের জন্য এই পরিস্থিতিকে সামাল দিতে চীন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে, আর এর মাধ্যমে বৈশ্বিক অর্থনীতিকেও সুরক্ষা দিয়েছে।

সোমবার বৈশ্বিক মানদণ্ড হিসেবে ব্যবহৃত ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৭৮ ডলারের নিচে নেমে আসে। কারণ বাজারে আশা তৈরি হয়েছে যে, বিশ্বের মোট তেল পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে যায়, সেখানে খুব শিগগিরই স্বাভাবিক বাণিজ্য আবার শুরু হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা চালানোর আগের সপ্তাহগুলোতে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৭০ ডলারের নিচে ছিল। পরে মে মাসের শুরুতে তা চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠে ব্যারেলপ্রতি ১১৪ ডলারে স্থিত হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে চীনের প্রভাব ক্রমশ বাড়ছে। তাই হরমুজ প্রণালি কত দ্রুত পুনরায় পুরোপুরি চালু হয়, তা নির্বিশেষে ভবিষ্যতে তেলের বাজারের গতিপ্রকৃতি নির্ধারণে চীনের নীতি, জ্বালানি ব্যবহার এবং ভোগের ধরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

 

 

চীনের ‘অদৃশ্য হাত’

এই মাসের শুরুর দিকে প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে সোসিয়েট জেনারেলের বিশ্লেষকেরা লিখেছেন, ১৯৭৩ সালের ১৯৭৩ আরব অয়েল এম্বারগোর সময় বৈশ্বিক অপরিশোধিত তেল সরবরাহে ৭ শতাংশ ঘাটতি দেখা দিয়েছিল, যার ফলে তেলের দাম ১৩৪ শতাংশ বেড়ে গিয়েছিল। কিন্তু ইরানে চলমান যুদ্ধের সময় দাম সেই তুলনায় প্রায় বাড়েনি, যদিও এই সংঘাত বৈশ্বিক তেল সরবরাহের ১৪ শতাংশকে প্রভাবিত করেছে।

 

 

তাদের মতে, এই আপাতবিরোধী পরিস্থিতির প্রধান কারণ চীন, যা বাজারকে পুনরায় ভারসাম্যে ফিরিয়ে আনতে একটি ‘অদৃশ্য হাত’ হিসেবে কাজ করছে। কারণ চীন প্রতিদিন প্রায় ৩০ লাখ ব্যারেল তেল আমদানি কমাতে সক্ষম হয়েছে, যা প্রায় জাপানের মোট অপরিশোধিত তেল চাহিদার সমান।

 

 

চীন কয়েকটি কারণে তেলের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে পেরেছে। রিস্তাদ এনার্জির তেলবাজার বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট জনিভ শাহ বলেন, যুদ্ধ শুরুর আগে চীন ব্যাকআপ হিসেবে অপরিশোধিত তেলের মজুত গড়ে তুলছিল। এতে সহায়তা করেছে রাশিয়া ও ইরান থেকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা সস্তা তেলের সরবরাহ।

 

 

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে চীনের বাণিজ্যিক ও কৌশলগত মজুতে ১০০ কোটিরও বেশি ব্যারেল তেল রয়েছে, এবং দেশটি মে মাস থেকে সেই মজুত ব্যবহার শুরু করেছে।

 

 

শাহ বলেন, ‘চীন এতদিন তেলের দামের জন্য একটি ন্যূনতম ভিত্তি তৈরি করে রেখেছিল। কিন্তু এ বছর সেই ধারা উল্টে গেছে।’

 

 

দেশটির সরকার অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে ডিজেল ও পেট্রলের মতো পরিশোধিত তেলজাত পণ্যের রপ্তানিও সীমিত করেছে। এর ফলে চীনের তেল শোধনাগারগুলো, যারা একদিকে কম মুনাফার মুখোমুখি এবং অন্যদিকে বিদেশি বাজারে প্রবেশাধিকার হারিয়েছে, তারা বৈশ্বিক বাজার থেকে অপরিশোধিত তেল কেনার ব্যাপারে নিরুৎসাহিত হয়েছে।

 

 

এদিকে চীনে বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যাপক প্রসার দেশটির জীবাশ্ম জ্বালানির চাহিদা কমিয়ে দিয়েছে। বর্তমানে চীনে বিক্রি হওয়া প্রতি দুইটি নতুন যাত্রীবাহী গাড়ির মধ্যে প্রায় একটি হলো নতুন জ্বালানি প্রযুক্তিনির্ভর যানবাহন (নিউ এনার্জি ভেহিকল)।

 

 

আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, গত বছর চীনের বৈদ্যুতিক গাড়ির বহর প্রতিদিন প্রায় ১০ লাখ ব্যারেল তেল ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা কমিয়ে দিয়েছে।

 

 

চীনের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত বিশেষজ্ঞ ডেভিড ফিশম্যান বলেন, এটি বৈশ্বিক অপরিশোধিত তেলের বাজারের জন্য এক অসাধারণ চাপমুক্তির ভালভ হিসেবে কাজ করেছে।

 

 

তবে তিনি বলেন, উচ্চ তেলের দাম ভোক্তা ও শোধনাগারগুলোর চাহিদা কমিয়ে রাখতে পারে বটে, কিন্তু বৈশ্বিক সরবরাহ সংকট মোকাবিলায় চীনের সক্ষমতা নির্ভর করবে তারা কতদিন জ্বালানি মজুত ধরে রাখতে পারে তার ওপর।

 

 

ফিশম্যানের ভাষায়, ‘যে বিষয়টি অনির্দিষ্টকাল ধরে টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়, তা হলো অপরিশোধিত তেলের মজুত। যদি তেলের দাম কমতে শুরু করে, তাহলে আপনি আশা করতে পারেন যে তারা প্রথমেই আবার নতুন করে তেল মজুত করা শুরু করবে।’

 

 

ঘাটতি থেকে কি এবার অতিরিক্ত সরবরাহের যুগে?

ইতিহাসের সবচেয়ে বড় তেল সংকটের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে মাসের পর মাস উদ্বেগের পর আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থা এখন সতর্ক করছে যে, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে যাওয়ায় আগামী বছর বৈশ্বিক বাজারে তেলের অতিরিক্ত সরবরাহ সৃষ্টি হতে পারে।

 

 

 

বুধবার প্রকাশিত সংস্থাটির মাসিক তেলবাজার প্রতিবেদনে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে যে, মধ্যপ্রাচ্যে অপরিশোধিত তেলের উৎপাদন স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এলে আগামী বছর সরবরাহ বৃদ্ধির হার চাহিদা বৃদ্ধির হারকে প্রতিদিন ৪৭ লাখ ব্যারেল দ্বারা ছাড়িয়ে যাবে।

 

 

প্রতিবেদনে সংস্থাটি লিখেছে, এটি বাজারের জন্য একটি স্বস্তিদায়ক সুযোগ এনে দিতে পারে এবং ক্ষয়প্রাপ্ত মজুত পুনরায় পূরণ করার কিংবা নতুন কৌশলগত মজুত গড়ে তোলার সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে। কারণ সংকটের প্রতিক্রিয়ায় বিভিন্ন দেশ তাদের জ্বালানি কৌশল ও নীতিমালা পুনর্মূল্যায়ন করছে।

 

 

যদিও আগামী বছর বৈশ্বিক তেলের চাহিদা বৃদ্ধির পূর্বাভাস রয়েছে, সাম্প্রতিক অস্থিতিশীলতা নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রতি আগ্রহও বাড়িয়ে দিয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদে অপরিশোধিত তেলের ব্যবহার আরও কমিয়ে দিতে পারে। বৈদ্যুতিক গাড়ি, ব্যাটারি ও সৌরশক্তি প্রযুক্তিতে বিশ্বের শীর্ষ দেশ চীন ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর মার্চ মাসে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি প্রযুক্তি পণ্যের রপ্তানিতে রেকর্ড গড়ে।

 

 

চীনের জ্বালানি ও অটোমোবাইল খাত নিয়ে কাজ করা ট্রিভিয়াম চীনের বিশ্লেষক কসিমো রাইস বলেন, বিদ্যুতায়নের এই গতি ক্রমেই বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার অগ্রগতি কীভাবে হয়, তা আমাদের দেখতে হবে। তবে সামগ্রিকভাবে এটি বৈশ্বিক কার্বন নির্গমন হ্রাসের জন্য একটি অসাধারণ সুযোগ হয়ে উঠতে পারে।

 

 

পণ্যবাজারভিত্তিক তথ্য ও বিশ্লেষণ প্ল্যাটফর্ম কেপলারের জ্যেষ্ঠ তেল গবেষণা বিশ্লেষক মুয়ু জু বলেন, অতিরিক্ত সরবরাহের পরিস্থিতি আগামী মাসেই শুরু হতে পারে। তার মতে, হরমুজ প্রণালি দ্রুত খুলে যাওয়ার পর বর্তমানে আটকে থাকা ১০০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল আবার বাজারে প্রবেশ করবে।

 

 

একই সময়ে ইরানও সম্ভবত দ্রুতগতিতে নিজেদের তেল উৎপাদন বাড়াবে। তবে এর ফলে ইরানি তেল চীনের কাছে তুলনামূলকভাবে কম আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে। কারণ, এতদিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের বিক্রির সুযোগ সীমিত ছিল এবং সে কারণে চীন ছাড়মূল্যে ইরানি তেল কিনতে পেরেছে।

 

 

তবে শু আরও বলেন, অনেক দেশ ইতোমধ্যে গ্রীষ্মকালীন সময়ের জন্য তাদের তেলের চাহিদা পূরণ করে ফেলেছে। ফলে বাজারে পুনরায় ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে চীন আবারও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

 

 

 

শুর ভাষায়, ‘মাত্র দুই মাস আগের তুলনায় এখন পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। বর্তমানে অতিরিক্ত সরবরাহ শোষণ করার সক্ষমতা যে দেশের আছে, সেটি হলো চীন। কিন্তু আসল প্রশ্ন হলো—চীন কি আর তেল কিনতে চায়?’

বেলারুশের পাশে রাশিয়া, নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ প্রস্তুতির ঘোষণা

রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ বলেছেন, বেলারুশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে মস্কো সব ধরনের পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। তিনি মঙ্গলবার মস্কোতে বলেন, রাশিয়া-বেলারুশ নিরাপত্তা চুক্তির আওতায় এই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। খবর আনাদোলু এজেন্সির।

 

 

লাভরভের দাবি, ইউক্রেন বেলারুশকে সংঘাতে টেনে আনার চেষ্টা করছে এবং সীমান্তের কাছে সামরিক পরিস্থিতি তৈরি করে হুমকি দিচ্ছে।

 

 

তিনি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সাম্প্রতিক বক্তব্যেরও উল্লেখ করেন। জেলেনস্কি বলেছেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সামরিক সরঞ্জাম সরানো না হলে বেলারুশে হামলার নির্দেশ দেওয়া হতে পারে। বেলারুশে হামলার সক্ষমতা রয়েছে বলেও জেলেনস্কি হুঁশিয়ারি দেন।

লাভরভ জানান, যে সামরিক সরঞ্জামের কথা বলা হচ্ছে, তা বেলারুশের ভূখণ্ডে ইউক্রেন সীমান্তের কাছে অবস্থান করছে।

তিনি আরও বলেন, ২০২৫ সালের মার্চ থেকে রাশিয়া-বেলারুশের মধ্যে একটি নিরাপত্তা চুক্তি কার্যকর আছে এবং প্রয়োজন হলে সেই চুক্তির সব ধারা অনুযায়ী মস্কো পদক্ষেপ নেবে।

এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বিশ্বকাপের নকআউট নিশ্চিত দলগুলো, বিদায়ঘণ্টা বাজল যাদের

ফিফা বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব শেষ হওয়ার আগেই নকআউট পর্বের চিত্র ধীরে ধীরে স্পষ্ট হয়ে উঠছে। প্রথমবারের মতো ৪৮ দল নিয়ে আয়োজিত এই বিশ্বকাপে নতুন সংযোজন ‘রাউন্ড অব ৩২’। আগামী ২৮ জুন থেকে ৩ জুলাই পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে এই পর্ব, যেখানে জায়গা করে নেবে ৩২টি দল।

 

 

নকআউটে ওঠার নিয়ম কী?

নতুন নিয়ম অনুযায়ী ১২টি গ্রুপের প্রতিটি থেকে শীর্ষ দুই দল সরাসরি রাউন্ড অব ৩২-এ উঠবে। পাশাপাশি ১২টি গ্রুপের তৃতীয় স্থানে থাকা দলগুলোর মধ্যে সেরা আট দলও নকআউট পর্বে খেলার সুযোগ পাবে।

রাউন্ড অব ৩২ শেষে শুরু হবে রাউন্ড অব ১৬। এরপর পর্যায়ক্রমে অনুষ্ঠিত হবে কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল, তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ এবং ফাইনাল। আগামী ১৯ জুলাই হবে বিশ্বকাপের শিরোপা নির্ধারণী লড়াই।

টুর্নামেন্টের সূচি অনুযায়ী গ্রুপ পর্ব চলবে ২৭ জুন পর্যন্ত। রাউন্ড অব ১৬ অনুষ্ঠিত হবে ৪ থেকে ৭ জুলাই, কোয়ার্টার ফাইনাল ৯ থেকে ১১ জুলাই, সেমিফাইনাল ১৪ ও ১৫ জুলাই এবং তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ হবে ১৮ জুলাই।

টাইব্রেকারে নতুন নিয়ম

বিশ্বকাপের ইতিহাসে এবারই প্রথম সমান পয়েন্ট পাওয়া দলগুলোর মধ্যে অবস্থান নির্ধারণে গোল ব্যবধানের আগে হেড-টু-হেড ফলাফলকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ফিফার এই নতুন নিয়মের প্রভাব ইতোমধ্যেই দেখা গেছে।

 

 

এই নিয়মের কারণে হাইতি, তুরস্ক, তিউনিসিয়া ও জর্ডানের বিদায় নিশ্চিত হয়েছে। কারণ নিজেদের গ্রুপের তৃতীয় স্থানে থাকা প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিপক্ষে তারা হেরে যাওয়ায় আর সেরা তৃতীয় দল হওয়ার দৌড়ে টিকে থাকার সুযোগ নেই।

 

 

 

সমান পয়েন্ট হলে যেভাবে নির্ধারণ

একই গ্রুপে দুই বা ততোধিক দলের পয়েন্ট সমান হলে প্রথমে বিবেচনা করা হবে সংশ্লিষ্ট দলগুলোর পারস্পরিক ম্যাচে অর্জিত পয়েন্ট। এরপর দেখা হবে সেই ম্যাচগুলোর গোল ব্যবধান এবং করা গোলসংখ্যা।

 

 

 

এতেও সমাধান না হলে বিবেচনায় আসবে গ্রুপের সব ম্যাচ মিলিয়ে গোল ব্যবধান, মোট গোলসংখ্যা এবং হলুদ-লাল কার্ডের ভিত্তিতে ফেয়ার প্লে রেকর্ড। সবশেষে প্রয়োজন হলে ফিফা বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ের অবস্থান ব্যবহার করা হবে।

 

 

অন্যদিকে সেরা আট তৃতীয় স্থানধারী দল নির্ধারণে বিবেচনা করা হবে অর্জিত পয়েন্ট, গোল ব্যবধান, গোলসংখ্যা, ফেয়ার প্লে রেকর্ড এবং প্রয়োজনে ফিফা র‌্যাঙ্কিং।

 

 

নকআউট নিশ্চিত করেছে যেসব দল

সহ-আয়োজক মেক্সিকোই প্রথম দল হিসেবে রাউন্ড অব ৩২ নিশ্চিত করেছে। গ্রুপ ‘এ’-তে দক্ষিণ কোরিয়াকে ১-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয় জয় তুলে নেয় তারা। এর আগে উদ্বোধনী ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২-০ গোলে হারিয়েছিল মেক্সিকানরা।

 

 

 

গ্রুপ ‘ডি’-তে টানা দুই জয়ে নকআউট নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রথম ম্যাচে প্যারাগুয়েকে ৪-১ গোলে হারানোর পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২-০ গোলের জয় পায় স্বাগতিকরা।

 

 

 

জার্মানি গ্রুপ ‘ই’ থেকে শেষ ৩২-এ জায়গা করে নিয়েছে। প্রথম ম্যাচে কুরাসাওকে ৭-১ গোলে উড়িয়ে দেওয়ার পর আইভরি কোস্টকে ২-১ গোলে হারিয়ে নকআউট নিশ্চিত করে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। রাশিয়া ২০১৮ ও কাতার ২০২২ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেওয়ার পর এবার দারুণ প্রত্যাবর্তন হয়েছে তাদের।

 

 

বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাও নকআউট নিশ্চিত করেছে দাপটের সঙ্গে। গ্রুপ ‘জে’-তে অস্ট্রিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়ে শেষ ৩২-এ ওঠার পাশাপাশি শীর্ষস্থানও নিশ্চিত করেছে আলবিসেলেস্তেরা। ম্যাচে জোড়া গোল করেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। এর আগে আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিকও করেছিলেন তিনি।

 

 

 

গ্রুপ ‘আই’-তে নকআউট নিশ্চিত করেছে ফ্রান্স ও নরওয়ে। ফ্রান্স ইরাককে ৩-০ গোলে হারিয়ে শেষ ৩২-এ জায়গা করে নেয়। ম্যাচে জোড়া গোল করেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। অন্যদিকে সেনেগালকে ৩-২ গোলে হারিয়ে নকআউট নিশ্চিত করে নরওয়ে। ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে টানা দুই জয়ে দারুণ সূচনা করেছে স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দলটি।

 

 

বিদায় নিশ্চিত যাদের

গ্রুপ ‘সি’-তে ব্রাজিলের কাছে ৩-০ গোলে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়েছে হাইতির। ১৯৭৪ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলা দলটি প্রথম ম্যাচেও স্কটল্যান্ডের কাছে পরাজিত হয়েছিল।

 

 

 

গ্রুপ ‘ডি’-তে প্যারাগুয়ের কাছে ১-০ গোলে হেরে বিদায় নিশ্চিত হয় তুরস্কের। এর আগে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেও হার দেখেছিল তারা। ২৪ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে হতাশাজনক সমাপ্তি ঘটল ইউরোপের দলটির।

 

 

তিউনিসিয়ার বিশ্বকাপ অভিযানও শেষ হয়েছে গ্রুপ পর্বেই। গ্রুপ ‘এফ’-এ জাপানের কাছে ৪-০ গোলে হারার আগে প্রথম ম্যাচে সুইডেনের কাছে ৫-১ গোলের বড় ব্যবধানে পরাজিত হয়েছিল উত্তর আফ্রিকার দেশটি।

 

 

 

অন্যদিকে বিশ্বকাপে প্রথমবার অংশ নেওয়া জর্ডানের স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে গ্রুপ ‘জে’-তে। আলজেরিয়ার কাছে ২-১ গোলে হেরে তাদের বিদায় নিশ্চিত হয়। প্রথম ম্যাচেও অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে হারতে হয়েছিল দলটিকে। ফলে অভিষেক বিশ্বকাপেই গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিতে হলো মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিনিধিদের।

ঝড়-বজ্রবৃষ্টিতে আক্রান্ত হতে পারে দেশের ১৩ জেলা

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের ১৩ জেলার ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

 

 

মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিকেলে অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরের জন্য দেওয়া এক পূর্বাভাসে এই তথ্য জানানো হয়।

 

 

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ঢাকা, রংপুর, ময়মনসিংহ, ফরিদপুর, যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম এবং সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫-৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা ও ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ সময় বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টিও হতে পারে।

এসব এলাকার নদীবন্দরকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। এদিকে, আরেকটি বিজ্ঞপ্তিতে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, সন্ধ্যা পর্যন্ত দেশের সব বিভাগেই অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়ার সঙ্গে বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। একইসঙ্গে দেশের কিছু কিছু স্থানে মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণেরও আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া ঝড়বৃষ্টি ও ভারি বর্ষণের প্রবণতা আগামী কয়েক দিনে আরও বাড়তে পারে বলেও জানায় আবহাওয়া অধিদপ্তর।

ইরানের শীর্ষ নেতাদের পাকিস্তান সফর

সরকারি সফরে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে পৌঁছেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তার এই রাষ্ট্রীয় সফরের মধ্যেই সফরসঙ্গী হিসেবে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও যোগ দিবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

 

 

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আইআরআইবি জানিয়েছে, ওমানের রাজধানী মাস্কাট সফর শেষ করে আরাঘচি ইসলামাবাদে পৌঁছালে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা তাকে বিমানবন্দরে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।

 

 

তার এই সফরটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান পরোক্ষ আলোচনায় পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে আসছে। দুই দেশের মধ্যে ১৪ দফার একটি অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির রূপরেখা বা ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’ এই কূটনৈতিক তৎপরতার অন্যতম বড় প্রমাণ।

সফরকালে আরাঘচির নেতৃত্বে ইরানের শীর্ষ এই প্রতিনিধি দলটি দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় ছাড়াও আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের সাথে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

সিংড়ায় ১৫২ টি নৃগোষ্ঠী পরিবারের মাঝে শিক্ষা উপবৃত্তি, সেলাই মেশিন ও বাইসাইকেল বিতরণ

 প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কর্তৃক ক্ষুদ্র-নৃ-গোষ্ঠির জীবনমান উন্নয়নের জন্য বিশেষ এলাকার উন্নয়ন সহায়তা শীর্ষক কর্মসূচির আওতায় ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের নাটোরের সিংড়ায়  নৃগোষ্ঠী ছাত্র ছাত্রী ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নারীদের মোট  ১৫২ টি পরিবারের মাঝে শিক্ষা উপবৃত্তি, সেলাই মেশিন ও  বাইসাইকেল বিতরণ করা হয়েছে।
বুধবার বিকাল ৪টায় উপজেলা চত্বরে নৃগোষ্ঠীর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫৯ জন শিক্ষার্থী, মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৩৫ জন ও  কলেজের ২৪জন  শিক্ষার্থীর মাঝে উপবৃত্তি, ১৮টি বাইসাইকেল ও ১২ টি পরিবারের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)  আব্দুল্লাহ আল রিফাত।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিশাত আনজুম, উপজেলা বিএনপির  সদস্য সচীব অধ্যাপক শারফুল ইসলাম, ডায়াবেটিস সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ মিলন হোসেন মাস্টার, সাবেক ছাত্র নেতা রফিকুল ইসলাম বুলেট সহ উপকারভোগী নৃগোষ্ঠী পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী।

অভিনয়ের পর এবার নির্মাণে নওশাবা, আসছে ‘সোমেশ্বরী’

অভিনয়ের পাশাপাশি এবার চলচ্চিত্র নির্মাণেও নাম লিখিয়েছেন অভিনেত্রী কাজী নওশাবা আহমেদ। তার পরিচালনায় নির্মিত হয়েছে নতুন সিনেমা ‘সোমেশ্বরী’। এতে পরিচালনার পাশাপাশি অভিনয়ও করেছেন তিনি। সুনামগঞ্জের মধ্যনগর ও সোমেশ্বরী নদীকে ঘিরে নির্মিত এই সিনেমায় স্থানীয় মানুষদের নিয়ে তুলে ধরা হয়েছে প্রকৃতি, পরিবেশ ও মানুষের জীবনের গল্প।

 

 

 

মঞ্চ ও পর্দা, দুই মাধ্যমেই সমানভাবে সক্রিয় নওশাবা। রেজা আরিফের নির্দেশনায় ‘সিদ্ধার্থ’ নাটকে অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি পরিচালনা করছেন নিজের নাট্যদল ‘টুগেদার উই ক্যান’-এর বিভিন্ন প্রযোজনা। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের নিয়ে কাজ করা এই দলের ব্যানারে ইতোমধ্যে চারটি নাটক মঞ্চস্থ হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় এবার চলচ্চিত্র নির্মাণে হাত দিলেন নওশাবা। তার পরিচালিত প্রথম সিনেমা ‘সোমেশ্বরী’র প্রযোজক বিবেশ রায়।

 

 

 

প্রযোজকের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি একটি সম্মিলিত প্রয়াস। কাজী নওশাবা, আপন, লতা, জাহিদসহ কয়েকজন মিলে সিনেমাটির গল্প ও চিত্রনাট্য তৈরি করেছেন এবং নির্মাণ প্রক্রিয়ায় যুক্ত রয়েছেন।

সিনেমাটি নিয়ে নওশাবা বলেন, ‘শুরুতে গল্প বা চরিত্র সম্পর্কে কোনো পূর্বপরিকল্পনা ছিল না। পুরো টিম মধ্যনগরে গিয়ে স্থানীয় বাস্তবতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে গল্প নির্মাণ করেছে। মূল চরিত্রে অভিনয়েরও পরিকল্পনা ছিল না আমার, তবে উপযুক্ত কাউকে না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত নিজেই চরিত্রটি করি।’

নওশাবার ভাষ্য, গ্রামীণ জীবন সম্পর্কে তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থাকায় চরিত্রটি ফুটিয়ে তুলতে খুব বেশি বেগ পেতে হয়নি। স্থানীয় মানুষের সহযোগিতাও পেয়েছেন তিনি।

সিনেমার গল্প প্রসঙ্গে নওশাবা জানান, আধুনিকতার নামে প্রকৃতির ওপর মানুষের নেতিবাচক প্রভাব, পরিবেশ দূষণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য কেমন পৃথিবী রেখে যাওয়া হচ্ছে— এসব বিষয় ‘সোমেশ্বরী’র মূল উপজীব্য। পাশাপাশি এতে থাকছে একটি বিশেষ মানবিক গল্পও।

 

 

 

‘সোমেশ্বরী’ নির্মিত হয়েছে ইন্টারন্যাশনাল একাডেমি অব ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া-এর আওতাধীন গ্রিন ফিল্মসের ব্যানারে।

ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন, দায়িত্বে প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম

ডেঙ্গু মোকাবিলায় স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের নেতৃত্বে বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করেছে সরকার।

 

 

মঙ্গলবার (২৩ জুন) ‘ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত অন্যান্য রোগ প্রতিরোধ বিষয়ক জাতীয় কমিটি’র প্রথম সভায় স্থানীয় সরকার বিভাগের উদ্যোগে উচ্চপর্যায়ের এ ‘টাস্কফোর্স’ গঠন করা হয়।

 

 

জানা গেছে, ডেঙ্গু মোকাবিলায় গঠিত এ ‘টাস্কফোর্স’-এর সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

 

 

টাস্কফোর্সের কার্যপরিধির মধ্যে রয়েছে জাতীয় কমিটির গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহ মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় দিক-নির্দেশনা প্রদান। এছাড়া বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়মিতভাবে জাতীয় কমিটিকে অবহিত করা এবং বাস্তবায়নে কোনো সীমাবদ্ধতা থাকলে তা নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখা।

১৯ সদস্যের এই কমিটির অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন স্থানীয় সরকার বিভাগের নগর উন্নয়ন অনুবিভাগের প্রতিনিধি, দুই সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী, স্বাস্থ্য ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় (স্বাস্থ্য, শিক্ষা, গৃহায়ন ও গণপূর্ত), ডিএমপি, রাজউক, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধি এবং ‘ইম্প্রুভমেন্ট অব আরবান পাবলিক হেলথ প্রিভেন্টিভ সার্ভিসেস প্রজেক্ট’-এর প্রকল্প পরিচালক। সদস্য-সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্থানীয় সরকার বিভাগের নগর উন্নয়ন-২ শাখার উপসচিব।

সরকারের এই সময়োপযোগী পদক্ষেপ মাঠ পর্যায়ে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আরও কঠোর ও সমন্বিত নজরদারি নিশ্চিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

একযোগে পদত্যাগ করলেন ১৭ ডেপুটি ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল

জুলাই চার্টার বাস্তবায়ন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং বিচারক নিয়োগসংক্রান্ত বিষয়ে সরকারের অবস্থানের সঙ্গে মতপার্থক্যের কথা উল্লেখ করে পদত্যাগ করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের ১৭ জন আইন কর্মকর্তা। এদের মধ্যে ১০ জন ডেপুটি ও ৭ জন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল।

 

 

মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো পৃথক পদত্যাগপত্রে তারা দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। তারা সবাই জামায়াতপন্থি হিসেবে পরিচিত।

 

 

পদত্যাগকারী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলরা হলেন- অ্যাডভোকেট ইউসুফ আলী, শফিকুর রহমান, আবদুল করিম, ফরিদ উদ্দিন খান, গোলাম রহমান ভূঁইয়া, আসাদ উদ্দিন এবং মুহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।

এ ছাড়া পদত্যাগকারী সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলরা হলেন- ইমরুল কায়েছ রানা, হুমায়ুন কবির তানিম, আবদুল কাইয়ুম ভূঁইয়া, আবদুল্লাহিল মারুফ ফাহিম, জোয়াদুর রহমান, শামসিল আরেফিন, মাহাবুবা আক্তার রলি, নূর নবী উজ্জ্বল, আল রেজা আমির এবং রেজাউল ইসলাম।

পদত্যাগপত্রে তারা বলেন, জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী জুলাই চার্টার বাস্তবায়ন না হওয়া, বিচার বিভাগের জন্য স্বাধীন সচিবালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা এবং সুপ্রিম কোর্ট বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ বাতিলের মতো বিষয়গুলো নিয়ে তাদের গভীর উদ্বেগ রয়েছে। এসব কারণে সাংবিধানিক শাসন, আইনের শাসন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে তারা মনে করেন।

তারা আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে নিজেদের বিবেকের কাছে দায়বদ্ধ থেকে দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। তাই তারা অবিলম্বে কার্যকর হওয়ার শর্তে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।

১৮ বছরের দুর্নীতির জালে বন্দী উন্নয়ন, ১১ বছরের ভোগান্তি

চট্টগ্রামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অক্সিজেন-কুয়াইশ সড়ক আজ দীর্ঘ সময় ধরে নগরবাসীর দুর্ভোগের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ শিক্ষার্থী, রোগী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী ও পরিবহন শ্রমিক এই সড়কে চলাচল করতে গিয়ে সীমাহীন ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। খানাখন্দে ভরা সড়কে যানবাহনের গতি কমে যায়, বাড়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকি, নষ্ট হয় মূল্যবান সময়। সড়কটির দায়িত্ব সিডিএ নাকি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের, এ নিয়ে দুই প্রতিষ্ঠানের টানাপোড়েন আবারও আলোচনায় এসেছে।

 

 

তবে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, এই সংকটের শিকড় কেবল বর্তমান প্রশাসনিক জটিলতায় সীমাবদ্ধ নয়। এর পেছনে রয়েছে প্রায় দুই দশকজুড়ে অনিয়ম, দুর্নীতির অভিযোগ, তদন্তের বিতর্ক এবং জবাবদিহিহীনতার দীর্ঘ ইতিহাস।

 

 

 

এই ইতিহাসের সূত্রপাত ২০০৭ সালে। ওই বছরের ১ জুলাই চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) নির্বাহী প্রকৌশলী এ.জি.এম. সেলিম এবং সহকারী প্রকৌশলী রাজীব দাস অক্সিজেন জংশন থেকে কাপ্তাই রোড পর্যন্ত সংযোগ সড়ক নির্মাণকাজ পরিদর্শন করে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে একটি তদন্ত প্রতিবেদন তৎকালীন চেয়ারম্যানের কাছে জমা দেন। পরবর্তীতে এই প্রতিবেদনই দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্তের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

এরপর ২০০৮ সালে দুদক সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) প্রকৌশলীদের দিয়ে প্রকল্পটির পুনঃপরিমাপ করায়। সেই প্রতিবেদনে দেখা যায়, বাস্তবে সম্পন্ন হওয়া কাজের মূল্য ছিল মাত্র ১ লাখ ৫৫ হাজার ৪৬০ টাকা, অথচ ঠিকাদার উত্তোলন করেছেন ৫ লাখ ৯১ হাজার ৯৭ টাকা। অর্থাৎ অতিরিক্ত বিল উত্তোলনের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪ লাখ ৩৫ হাজার ৬৩৭ টাকা। এই তথ্যের ভিত্তিতে ২০০৮ সালের ৯ অক্টোবর কাজী হাসান বিন শামসসহ পাঁচজন প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে মোট ১৫টি দুর্নীতির মামলা দায়ের করে দুদক। অভিযোগ ছিল, প্রকৃত কাজের তুলনায় অতিরিক্ত বিল তুলে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।

এর কিছুদিন পর, ২০০৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অভিযুক্ত কাজী হাসান বিন শামস ট্রুথ কমিশনে হাজির হয়ে তিন লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেন এবং দায় স্বীকারের ভিত্তিতে মার্জনা গ্রহণ করেন। এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে আসে। যদি অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন হয়ে থাকে, তাহলে তিনি কেন ট্রুথ কমিশনের কাছে দায় স্বীকার করে অর্থ জমা দিলেন? যদিও পরে ট্রুথ কমিশনকে আদালত অবৈধ ঘোষণা করেন, তবুও দায় স্বীকার এবং অর্থ জমা দেওয়ার ঘটনাটি ইতিহাসের অংশ হয়ে রয়েছে।

পরবর্তীতে ২০০৮ সালের ১৩ নভেম্বর হাইকোর্ট ট্রুথ কমিশনকে অবৈধ ঘোষণা করেন এবং ২০১১ সালে আপিল বিভাগও সেই রায় বহাল রাখেন। এর ফলে ট্রুথ কমিশনের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়া দুর্নীতির মামলাগুলো পুনরায় সচল হয়ে যায় এবং মামলাগুলোর তদন্ত আবার নতুন করে শুরু হয়।

 

 

এই ধারাবাহিকতায় দুদকের তৎকালীন উপ-সহকারী পরিচালক মো. হুমায়ুন কবির দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০১২ সালের ২১ মে কমিশনে একটি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। কিন্তু বিস্ময়করভাবে সর্বশেষ তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. এমরান হোসেনের প্রতিবেদনে ২০১২ সালের তদন্তে কী পাওয়া গিয়েছিল, তার উপসংহার কী ছিল, কিংবা আগের তদন্তের সঙ্গে পরবর্তী তদন্তের পার্থক্য কোথায় এসব বিষয়ে কার্যত কোনো বিশ্লেষণই পাওয়া যায় না। ফলে একটি গুরুত্বপূর্ণ তদন্ত প্রতিবেদন রহস্যজনকভাবে আড়ালে থেকে গেছে বলে প্রশ্ন উঠেছে।

 

 

আরও বড় প্রশ্ন তৈরি হয়েছে পুনঃপরিমাপের প্রক্রিয়া নিয়ে। ২০০৮ সালে যে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) প্রকৌশলীরা পুনঃপরিমাপ করে দুর্নীতির অভিযোগের সত্যতা পেয়েছিলেন, ২০২৪ সালের পুনঃতদন্তে সেই সংস্থাকেই আর দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। এর পরিবর্তে পুনঃপরিমাপের দায়িত্ব দেওয়া হয় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এবং জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরকে (ডিপিএইচই)। বিশেষজ্ঞদের মতে, সড়ক নির্মাণের কারিগরি পরিমাপের ক্ষেত্রে সওজই সবচেয়ে অভিজ্ঞ ও স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান। তাহলে কেন সেই সংস্থাকে বাদ দেওয়া হলো এ প্রশ্নের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা তদন্ত প্রতিবেদনে পাওয়া যায় না।

 

 

এদিকে তদন্ত প্রক্রিয়া ঘিরে দুদকের ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে পড়েছে। আসামি কাজী হাসান বিন শামস ২০২২ সালের ১৭ নভেম্বর দুদক চেয়ারম্যান বরাবর আবেদন করে দাবি করেন, আগের পরিমাপে অসঙ্গতি রয়েছে এবং প্রকল্পের আওতায় নির্মিত কালভার্টগুলো অন্য কোনো প্রকৌশল বিভাগ দিয়ে পুনরায় পরিমাপ করা হোক। অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন দুদক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ অতীতে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব থাকাকালে কাজী হাসান বিন শামসের সঙ্গে পরিচিত ছিলেন এবং সেই সম্পর্কের প্রভাবেই আবেদনটি বিশেষভাবে বিবেচিত হয়।

 

 

পরবর্তীতে ২০২৩ সালের ২২ অক্টোবর দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে তদন্তকারী কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেওয়া হয় যে, পূর্ববর্তী পরিমাপ প্রকৌশল গাইডলাইন অনুসরণ না করে হয়ে থাকলে এবং তাতে ন্যায়বিচার ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকলে পুনঃপরিমাপ গ্রহণ করা যেতে পারে। একই সময়ে, দুদকের চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১-এর তৎকালীন পরিচালক ও উপপরিচালক নাজমুস সাদাতের কাছে কাজী হাসান বিন শামসের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের তথ্য থাকলেও তদন্তে সেগুলো যথাযথ গুরুত্ব পায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

 

 

সবশেষে প্রায় ১৮ বছর পর এলজিইডি ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের মতামতের ভিত্তিতে তদন্তে বলা হয়, বিলের পরিমাণ এবং বাস্তব কাজ প্রায় সমান, পার্থক্য খুবই নগণ্য এবং দীর্ঘ ব্যবহারে কিছু অপচয় হয়েছে। এরপর মামলাটি ঘটনাগত ভুল হিসেবে চূড়ান্ত প্রতিবেদন'(এফআর অ্যাজ মিস্টেক অব ফ্যাক্ট) আকারে নিষ্পত্তির সুপারিশ করা হয়।

 

 

কিন্তু এখানেই নতুন করে একাধিক প্রশ্ন সামনে এসেছে। ২০০৫-২০০৬ সালে নির্মিত একটি কালভার্ট ২০২৪ সালে পরিমাপ করে মূল নির্মাণকাজের পরিমাণ কতটা নির্ভুলভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব? তদন্তে কোথাও কোর টেস্ট, নন-ডেস্ট্রাকটিভ টেস্ট, ফটোগ্রাফিক এভিডেন্স, অ্যাজ-বিল্ট ড্রয়িংয়ের সত্যতা যাচাই কিংবা বিস্তারিত ফিল্ড ভেরিফিকেশনের তথ্য পাওয়া যায় না। ফলে পুনঃপরিমাপের বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নিয়েও সংশয় তৈরি হয়েছে।

 

 

আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, গত ১৮ বছরে এই সড়কে কতবার সংস্কার হয়েছে, কত টাকা ব্যয় হয়েছে, কোন অংশ পুনর্নির্মাণ হয়েছে এসব মৌলিক তথ্যও তদন্তে বিশ্লেষণ করা হয়নি। অথচ ২০১৩ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে প্রায় ৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫ দশমিক ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ অক্সিজেন-কুয়াইশ সড়ক পুনর্নির্মাণ করা হয়েছিল। অর্থাৎ যে করিডোরকে কেন্দ্র করে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল, পরবর্তীতে সেই একই করিডোরে বিপুল অর্থ ব্যয় করে নতুন সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। তাহলে পূর্ববর্তী নির্মাণকাজের গুণগত মান কী ছিল, কেন পুনর্নির্মাণের প্রয়োজন হলো এবং পুরোনো কাজের দায় কার এসব প্রশ্নেরও কোনো উত্তর তদন্তে নেই।

 

 

এদিকে বর্তমানে সড়কটির দায়িত্ব নিয়ে সিডিএ ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন একে অপরের দিকে দায় ঠেলে দিচ্ছে। কিন্তু এই টানাপোড়েনের মাঝেই বছরের পর বছর দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে যানবাহন, সময় নষ্ট হচ্ছে শিক্ষার্থী, রোগী ও কর্মজীবী মানুষের। ফলে প্রশ্ন উঠছে আজকের এই জনদুর্ভোগ কি শুধুই বর্তমান প্রশাসনিক সংকটের ফল, নাকি অতীতের অনিয়ম, দুর্বল তদারকি এবং জবাবদিহিহীনতার ধারাবাহিক পরিণতি?

 

 

অক্সিজেন কুয়াইশ সড়কের বর্তমান পুনঃনির্মাণ কাজের স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। কারণ সড়কটির মূল ফাউন্ডেশনই দুর্বল, ফলে শুধু ওপরের অংশ সংস্কার করলেও তা দীর্ঘমেয়াদে টিকবে না। অল্প সময়ের মধ্যেই আবার ভাঙন ও ক্ষয়ের ঝুঁকি থেকে যায়, এবং ভবিষ্যতে পুনরায় সংস্কার ও অতিরিক্ত ব্যয়ের প্রয়োজন হতে পারে।

 

 

এ বিষয়ে দুদকের তদন্ত কর্মকর্তা ইমরান হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি একটি মিটিংয়ে আছেন বলে কল কেটে দেন। পরবর্তীতে হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো হলেও তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

 

 

দুদকের ভূমিকাও তাই নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ২০০৮ সালে যে অভিযোগের ভিত্তিতে ১৫টি মামলা হয়েছিল,সেই অভিযোগ কি সম্পূর্ণ ভুল ছিল? যদি ভুল হয়ে থাকে, তাহলে মামলাগুলোর ভিত্তি কী ছিল? অভিযুক্ত ব্যক্তি ট্রুথ কমিশনে অর্থ জমা দিলেন কেন? ২০১২ সালের তদন্ত প্রতিবেদন কেন গুরুত্ব পেল না? সওজকে বাদ দিয়ে অন্য সংস্থাকে দিয়ে পুনঃপরিমাপ কেন করানো হলো? আর ১৮ বছর পর সংগৃহীত পরিমাপ কি ২০০৫ সালের বাস্তবতা নির্ধারণের জন্য যথেষ্ট?

 

 

এদিকে নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম দফায় সরেজমিনে অক্সিজেন -কুয়াইশ সড়কের সংস্কারকাজ পরিদর্শনে যান চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. বেলায়েত হোসেন। এ সময় তিনি প্রকল্প এলাকার চলমান কাজের অগ্রগতি, গুণগত মান এবং বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতাগুলো ঘুরে দেখেন।

 

 

সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. বেলায়েত হোসেন বলেন, পরিদর্শনকালে আমি দেখেছি অবৈধভাবে নালা দখল করা হয়েছে, ফুটপাতে ঢালাই দেওয়া হয়েছে এবং ময়লা আবর্জনা ফেলে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা বন্ধ করে রাখা হয়েছে। এতে পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং বৃষ্টির পানি দীর্ঘ সময় জমে থেকে সড়কের ক্ষতি করছে। এ ধরনের অবস্থা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

 

 

অক্সিজেন-কুয়াইশ সড়কের বর্তমান দুর্দশা তাই কেবল একটি ভাঙাচোরা রাস্তার গল্প নয়। এটি রাষ্ট্রীয় জবাবদিহি, উন্নয়ন প্রকল্পের সুশাসন, তদন্তের স্বচ্ছতা এবং দুর্নীতিবিরোধী ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে এক গভীর প্রশ্নের নাম। অতীতের অনিয়মের নিরপেক্ষ তদন্ত, বিতর্কিত সিদ্ধান্তগুলোর স্বচ্ছ ব্যাখ্যা এবং দায়ী ব্যক্তিদের জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে শত শত কোটি টাকা ব্যয় করে নতুন সড়ক নির্মাণ করলেও সমস্যার মূল কারণ অমীমাংসিতই থেকে যাবে।

 

 

নোয়াখালীতে মাদক ব্যবসার অভিযোগে গাঁজাসহ এক বৃদ্ধ আটক

নোয়াখালী পৌরসভার কালিতারা জালিয়াল এলাকায় সোমবার (২২ জুন) গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে গাঁজাসহ মো. শহীদ উল্লা (৫২) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে সুধারাম মডেল থানা পুলিশ।
পুলিশ জানায়, সুধারাম মডেল থানাধীন কালিতারা জালিয়াল এলাকার আব্দুল হক বেপারী বাড়ির বাসিন্দা মো. শহীদ উল্লার (৫২) নিজ দখলীয় বসতঘরে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে ২ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজা, নগদ ১৭ হাজার টাকা, একটি ওজন পরিমাপক যন্ত্র ও একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত মো. শহীদ উল্লা (৫২) মৃত সেকান্দর মিয়ার ছেলে। তিনি নোয়াখালী পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কালিতারা জালিয়াল এলাকার বাসিন্দা।
প্রাথমিকভাবে জানা যায়, শহীদ উল্লা কালিতারা এলাকায় গাঁজার খুচরা ব্যবসা করে আসছিলেন। বিভিন্ন মাদক স্পটে ফেরি করে গাঁজা বিক্রির অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে আলামতসহ হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর ৩৬(১) এর সারনির ক্রমিক নং-১৯(ক) এবং ২৬(১) ধারায় সুধারাম মডেল থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাটি দায়ের করেন পরিদর্শক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।
পুলিশ জানিয়েছে, মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আগামী ১৫ বছরে মিসরের সঙ্গে যুদ্ধে জড়াবে ইসরায়েল

ইসরায়েলের একজন প্রভাবশালী জায়নবাদী অধিকারকর্মী দাবি করেছেন, আগামী ১৫ বছরের মধ্যে মিসরের সঙ্গে ইসরায়েলের যুদ্ধ হবে। তার মতে, ইরান ও তার আঞ্চলিক মিত্রদের দুর্বল করার পর ভবিষ্যতে ইসরায়েলের প্রধান নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠবে সুন্নি মুসলিম শক্তিগুলো।

 

 

জেরুজালেমে অনুষ্ঠিত জিউইশ নিউজ সিন্ডিকেট (জেএনএস) ইন্টারন্যাশনাল পলিসি সামিটে বক্তব্য দিতে গিয়ে হেরুত সেন্টারের প্রধান নির্বাহী এবং ইসরায়েলের জাতীয়তাবাদী শিবিরের অন্যতম মুখ আমিয়াদ কোহেন বলেন, মিসর ও তুরস্ক দীর্ঘমেয়াদে ইসরায়েল এবং পশ্চিমাদের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

 

 

তিনি বলেন, ১৫ বছর পর ইসরায়েলের সঙ্গে মিসরের যুদ্ধ হবে। মুসলিম ব্রাদারহুড একসময় মিসরের নিয়ন্ত্রণ নেবে।

ইরান ও অ্যাক্সিস অব রেজিস্ট্যান্সের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক সংঘাতের পর ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে আলোচনায় কোহেন বলেন, এখন শিয়া গোষ্ঠীগুলোর পরিবর্তে সুন্নি রাজনৈতিক আন্দোলনের দিকে নজর দেওয়া উচিত।

মুসলিম ব্রাদারহুডকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এক নম্বর হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেন। তার দাবি, সংগঠনটি যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে। এমনকি নিউইয়র্কের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের সঙ্গেও তিনি মুসলিম ব্রাদারহুডের প্রভাবের ইঙ্গিত দেন।

কোহেন তুরস্ককেও ভবিষ্যতের একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, আঙ্কারার ক্রমবর্ধমান আঞ্চলিক প্রভাবকে ইসরায়েলের জন্য কৌশলগত হুমকি হিসেবে দেখা উচিত।

 

 

বিশ্লেষকদের মতে, কোহেনের এই বক্তব্য ইসরায়েলের কিছু রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা মহলে ক্রমবর্ধমান সেই প্রবণতার প্রতিফলন, যেখানে ভবিষ্যৎ প্রতিপক্ষ হিসেবে তুরস্ক ও মিসরকে বিবেচনা করা হচ্ছে।

 

 

গত মাসে দণ্ডপ্রাপ্ত ইসরায়েলি গুপ্তচর জনাথন পোলার্ডও দাবি করেছিলেন, ইরান দুর্বল হওয়ার পর তুরস্ক ও মিসর ইসরায়েলের পরবর্তী নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জে পরিণত হতে পারে। তার তথ্য অনুযায়ী, আঙ্কারা ধীরে ধীরে তেহরানের জায়গা নিচ্ছে।

 

 

উল্লেখ্য, ১৯৭৯ সালে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের পর থেকে মিসর ও ইসরায়েলের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক এবং নিরাপত্তা সহযোগিতা বজায় রয়েছে। অন্যদিকে, গাজা, জেরুজালেমসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক ইস্যুতে তুরস্ক-ইসরায়েল সম্পর্ক বারবার উত্তেজনার মুখে পড়েছে।

 

 

কোহেন বলেন,ইসরায়েলকে এমন এক ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে, যেখানে প্রধান চ্যালেঞ্জ আসবে শিয়া গোষ্ঠী নয়, বরং সুন্নি রাজনৈতিক শক্তি ও আঞ্চলিক রাষ্ট্রগুলোর কাছ থেকে।

 

 

তিনি আরও বলেন, ইসরায়েলকে শক্তিশালী হতে হবে, আমেরিকাকেও শক্তিশালী হতে হবে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, আমেরিকা দুর্বল।

 

 

হামের প্রকোপে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু, প্রাণহানি পৌঁছাল ৬৮৬

দেশজুড়ে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ১৩৫ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ পাওয়া গেছে।

 

 

মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

 

 

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি।

এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে মোট ৫৯৩টি শিশুর। আর হামে আক্রান্ত হয়ে আরও ৯৩টি শিশু প্রাণ হারিয়েছে। অর্থাৎ হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এই সময়ে মোট ৬৮৬টি শিশু মারা গেছে।

এছাড়া, ২৪ ঘণ্টায় ১২৬টি শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে, আর হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১,০০৯ জন। এসময়ে ৯৭৩টি শিশু নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, আর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৯৮৬টি শিশু।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ৯৪ হাজার ৭৬৪, আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১১ হাজার ২৯৭। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ৭৮ হাজার ৭১৬ রোগী, যাদের মধ্যে ৭৪ হাজার ৯৭১ জন ছাড়পত্র পেয়ে ইতোমধ্যে বাড়ি ফিরেছে।

 

 

 

নিরাপত্তা জোরদারে রাজধানীজুড়ে বিজিবি মোতায়েন

রাজধানীতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে নাশকতা রুখতে বিভিন্ন স্থানে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

 

 

 

মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিজিবির জনসংযোগ বিভাগ থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

 

 

 

এতে বলা হয়, রাজধানীর ধানমন্ডি, শাহবাগ, আবরার ফাহাদ এভিনিউ, বাংলামোটর, কাওরান বাজার, শেরেবাংলা নগর ও মহাখালীসহ বিভিন্ন পয়েন্টে বিজিবি মোতায়েন করা হলো।

এর আগে দেশের ৫ জেলায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়। জেলাগুলো হলো: কক্সবাজার, মাদারীপুর, শেরপুর, গাজীপুর ও মৌলভীবাজার। সোমবার (২২ জুন) সন্ধ্যায় বিজিবি সদর দফতর থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছিল।

এ ছাড়া, দেশের অন্যান্য জেলাগুলোতেও প্রয়োজন অনুযায়ী তাৎক্ষণিকভাবে মোতায়েনের লক্ষ্যে বিজিবি সদস্যরা স্ট্যান্ডবাই রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

এদিকে, দিবসটিতে যেকোনো নাশকতা রোধে নারায়ণগঞ্জ, ফরিদপুর, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন স্থানে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীবাহিনী। মধ্য রাত থেকেই টহলে নামে সেনাবাহিনী। নজরদারি বাড়িয়েছে পুলিশ, র‍্যাব।

 

 

সকাল থেকে গুলিস্তানে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সতর্ক অবস্থানে দেখা যায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীবাহিনী। তবে সেখানে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

 

 

 

অন্যদিকে, বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন দলটির নেতাকর্মীরা। দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে একটি বিক্ষোভ মিছিলও হয়। পরে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে রুহুল কবির রিজভী বলেন, পাচার করা টাকায় পতিত শক্তি দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির ষড়যন্ত্র করছে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তাদের প্রতিহত করার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

 

 

 

পূর্বাচলের তিনশ ফিট এলাকায় রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়। এছাড়া, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের চোরাগুপ্তা মিছিল এবং জনমনে ভীতি সৃষ্টিতে চেষ্টার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন ভোলা, রাঙামাটিসহ বিভিন্ন জেলা বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

 

 

 

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে পুলিশ। কেউ সরকারকে বিব্রত করতে চাইলে তাদের পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ।

‘আওয়ামী লীগ এমন প্রবলভাবে আছে যা আগে কখনো ছিল না’, অভিনেত্রী শাওন

কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া এক ফেসবুক পোস্টে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন অভিনেত্রী ও নির্মাতা মেহের আফরোজা শাওন।

 

 

মঙ্গলবার (২৩ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া ওই পোস্টে তিনি দাবি করেন, ‘আওয়ামী লীগ আরও প্রবলভাবে আছে।’ তার এই মন্তব্য ঘিরে নেটিজেনদের মধ্যে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া। রাজনৈতিক বাস্তবতা, দলের বর্তমান অবস্থান এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে শাওনের এমন বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা বিতর্কেরও জন্ম দিয়েছে। পোস্টটি প্রকাশের পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা।

 

 

মেহের আফরোজা শাওন তার পোস্টে বলেন, “মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহোদয় বলেছিলেন ‘আওয়ামী লীগ নামে কোনো সংগঠন নেই’, কিন্তু আমি তো দেখছি আওয়ামী লীগ এমন প্রবলভাবে আছে যা আগে কখনো ছিল না! আওয়ামী লীগের ৭৭ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী খোদ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের চেয়ে আরো বেশি আলোচিত ও সফল করে তুলবার জন‍্য বর্তমান সরকারকে ধন্যবাদ।”

সালমান শাহর দেহাবশেষ উত্তোলনের নির্দেশ বহাল রাখল আদালত

চিত্রনায়ক সালমান শাহ’র মৃত্যুর প্রায় ৩০ বছর পর কবর থেকে তার দেহাবশেষ উত্তোলনের আদেশ বাতিল ঘোষণা করা হলেও, পরে তা নথিভুক্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

 

 

মঙ্গলবার (২৩ জুন) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালতে দেহাবশেষ উত্তোলনের আদেশ বাতিল চেয়ে আবেদন করেন মামলার বাদী মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম।

 

 

শুনানি শেষে সকালে বিচারকের উপস্থিতিতে এক পুলিশ কর্মকর্তা আদেশ পড়ে শুনিয়ে জানান, বাদীর পক্ষের আবেদন মঞ্জুর হয়েছে। লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিল করা হলো।

এই আদেশের পর গণমাধ্যমে ‘লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিল হয়েছে’ শিরোনামে সংবাদ প্রচার হয়। পরবর্তীতে আদালতের প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক শাহ আলম জানান, লাশ উত্তোলন আদেশ বাতিল হয়নি, বাদীপক্ষের আবেদনটি নথিভুক্ত রাখা হয়েছে।

এ বিষয়ে বাদীপক্ষের আইনজীবী আবিদ হাসান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সকালে প্রকাশ্যে আদালত সালমান শাহ’র দেহাবশেষ উত্তোলনের আদেশ বাতিল করেন। কিন্তু দুপুরে শুনছি আদেশ নাকি নথিভুক্ত করা হয়েছে। বিষয়টি আমার বোধগম্য হচ্ছে না। বিচার বিভাগের সকল কাজ আরও স্বচ্ছতা থাকা উচিত।

তিনি আরও বলেন, প্রকাশ্য আদালতে বিচারকের সামনে আদেশ ঘোষণা করা হয়েছে। বিচারকের সামনে এমন ভুল হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কীভাবে হয়েছে আমার বোধগম্য হচ্ছে না।

 

 

এদিকে, সালমান শাহার মামা ও মামলার বাদী আলমগীর কুমকুম বলেন, ‘আমি কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে যখন আবেদন করি তখন আদালত বলেন এক্সেপটেড (গ্রহণ)। আমি নিজের কানে শুনেছি। কিন্তু হঠাৎ করে শুনছি নথিভুক্ত হয়েছে। এটা কীভাবে সম্ভব!

 

 

এ বিষয়ে প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক শাহ আলম বলেন, ‘প্রকাশ্য আদালতে আমাদের এক পুলিশ কর্মকর্তা ভুল আদেশ ঘোষণা করেছিলেন। আসলে আদালত আবেদনটি নথিভুক্ত করেছেন।’

 

 

ওই আবেদনে বলা হয়, সালমান শাহকে ঢাকার শাহজালাল (রহ.) মাজার প্রাঙ্গণে দাফন করা হয়েছে এবং সেখানেই তার কবর রয়েছে। এ অবস্থায় দেহাবশেষ উত্তোলন ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত এবং অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়। বাদী ও নিহতের মা নীলা চৌধুরীর পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে আপত্তি জানানো হয়।

 

 

এর আগে, চলতি বছরের ২০ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক মো. জিয়াউল মোর্শেদ আদালতে দেহাবশেষ উত্তোলন, সুরতহাল ও ময়নাতদন্তের অনুমতি এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের আবেদন করেন। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৪ মে আদালত কবর থেকে দেহাবশেষ উত্তোলনের অনুমতি দেন।

 

 

গত বছরের ২০ অক্টোবর সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তার ভাই মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম রমনা থানায় মামলাটি দায়ের করেন। আদালত পরে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

 

 

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, বাদীর বোন ও বোন জামাই গ্রিন রোডের বাসায় পৃথকভাবে বসবাস করতেন। তারা সালমানের ইস্কাটনের বাসায় যাওয়ার পর স্ত্রী সামিরা এবং কর্মচারী আবুল জানান, সালমান ঘুমাচ্ছেন। ওই সময় চলচ্চিত্র প্রযোজক সিদ্দিকও সালমান শাহর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন। সালমান ঘুমাচ্ছেন শুনে তার বাবা-মা স্ত্রী সামিরাকে বলে আসেন যে, তারা সিলেটে যাওয়ার পথে সালমানের সঙ্গে দেখা করে যাবেন। এরপর তারা এবং প্রযোজক সিদ্দিক ইস্কাটনের বাসা ত্যাগ করেন।

 

 

ঘটনার দিন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে প্রোডাকশন ম্যানেজার সেলিম ফোন করে সালমান শাহর বাবাকে জানান, সালমানের ‘যেন কী হয়েছে’। খবর পেয়েই তারা দ্রুত বাসায় ছুটে যান। সেখানে গিয়ে দেখতে পান, সালমান তার শোবার ঘরে পড়ে আছেন।

 

 

অভিযোগে আরও বলা হয়, সে সময় দুই-একজন বহিরাগত নারী সালমানের হাতে-পায়ে তেল মালিশ করছিলেন এবং রুবী নামে একটি মেয়ে সেখানে বসে ছিলেন।

 

 

তখন সামিরা সালমানের মাকে বাসা থেকে বেরিয়ে যেতে বলেন। পরে সালমানের বাবা-মা তাকে নিয়ে হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে যাওয়ার পথে তার গলায় দড়ির দাগ এবং মুখমণ্ডল ও পা নীলবর্ণ ধারণ করতে দেখেন।

 

 

অবস্থার গুরুত্ব বুঝে দ্রুত তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, বেশ কিছুক্ষণ আগেই সালমান শাহ মারা গেছেন।

দীর্ঘদিন কোলন ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই শেষে না ফেরার দেশে জাকির হোসেন

দীর্ঘদিন কোলন ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই শেষে না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন অভিনেতা ও নৃত্য পরিচালক জাকির হোসেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫০ বছর। মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকালে রাজধানীর মহাখালী ক্যান্সার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তার মৃত্যুতে চলচ্চিত্র অঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। রেখে গেছেন স্ত্রী ও পাঁচ বছর বয়সী এক কন্যা সন্তান।

 

 

 

চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির কার্যনির্বাহী সদস্য সনি রহমান গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, জাকির হোসেন দীর্ঘদিন ধরে কোলন ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন। চিকিৎসার অংশ হিসেবে তিনি ভারতের ব্যাঙ্গালুরু থেকে চিকিৎসা গ্রহণ করেন। সম্প্রতি শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গত শনিবার (২০ জুন) মহাখালী ক্যান্সার হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

 

 

 

দীর্ঘদিন ধরে চলচ্চিত্রে নৃত্য পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন জাকির হোসেন। তিনি এক সময় বহু চলচ্চিত্রে নৃত্য নির্দেশনা দিয়ে দর্শকদের নজর কাড়েন; পাশাপাশি অভিনয়েও তার উপস্থিতি ছিল। এছাড়া চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতিতে তিনি ক্রীড়া ও সংস্কৃতি সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেছেন।

ক্যালকুলেটরে ঘুষের হিসাব: অভিযুক্ত কর্মকর্তা প্রত্যাহার

ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে ভিডিও ভাইরাল এবং দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে পঞ্চগড়ের বাবুল চন্দ্র রায়কে বর্তমান কর্মস্থল থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

 

 

মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ত্রাণ প্রশাসন শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে তাকে দেবীগঞ্জ উপজেলা থেকে প্রত্যাহার করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরে সংযুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

 

 

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, আগামী ২৪ জুনের মধ্যে তাকে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যোগদান না করলে ওইদিন অপরাহ্ণ থেকে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত (স্ট্যান্ড রিলিজড) হিসেবে গণ্য করা হবে। তবে প্রত্যাহারের সুনির্দিষ্ট কারণ প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়নি।

এর আগে, সোমবার বিভিন্ন জাতীয়, আঞ্চলিক ও অনলাইন গণমাধ্যমে বাবুল চন্দ্র রায়ের বিরুদ্ধে টিআর, কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পের বরাদ্দের বিপরীতে ১৫ শতাংশ কমিশন বা ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ সংবলিত সংবাদ প্রকাশিত হয়।

অভিযোগের সূত্রে পাওয়া প্রায় ৪ মিনিট ৪৭ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে বাবুল চন্দ্র রায়কে বিভিন্ন প্রকল্পের বরাদ্দের বিপরীতে কমিশনের পরিমাণ নির্ধারণ করতে দেখা যায়। ভিডিওতে তিনি ক্যালকুলেটরের মাধ্যমে হিসাব করে একাধিক প্রকল্পের বিপরীতে কমিশনের অঙ্ক নির্ধারণ করছেন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে এ বিষয়ে কথোপকথন করছেন বলে দেখা গেছে।

ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। স্থানীয় জনসাধারণ, রাজনৈতিক মহল এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি ওঠে।

 

 

এদিকে, পিআইও বাবুল চন্দ্র রায়ের প্রত্যাহারের আদেশকে ঘিরে এলাকায় নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।