নিজেস্ব প্রতবিদেক।জনতার কণ্ঠ.কম
সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সাবেক ছাত্রনেতা মির্জা মোস্তফা জামান বলেছেন, আগামী দিনে তারেক রহমানের ডাকে জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী নতুন বাংলাদেশ বিনির্মানে আন্দোলনে সিএনজি অটোরিকশা শ্রমিক দলকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। দলের প্রতিটি সদস্যকে এক একজন সৈনিক হিসেবে রাজপথে থাকতে হবে। এই আন্দোলন শুধু বিএনপিকে ক্ষমতায় আনার আন্দোলন নয়, এই আন্দোলন সিএনজি অটোরিকশা শ্রমিকদেরঅধিকার আদায়ের আন্দোলন। আমরা একটি শক্তিশালী, গণতান্ত্রিক ও শ্রমিকবান্ধব সরকার প্রতিষ্ঠা করতে চাই, যেখানে প্রতিটি শ্রমিকের মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত হবে।
২১ সেপ্টেম্বর (রোববার) বিকাল ৫টায় সিরাজগঞ্জ পৌর শহরের একটি হলরুমে জাতীয়তাবাদী সিএনজি অটোরিকশা শ্রমিক দলের এক আলোচনা সভায় প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, আজকে এই সভা শুধুমাত্র একটি নতুন কমিটি গঠনের জন্য নয়, এই সভা হলো ঐক্যবদ্ধ হওয়ার শপথ গ্রহণের সভা। শ্রমিক সমাজকে আজ বুঝতে হবে, তাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। একদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম আকাশছোঁয়া, অন্যদিকে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে আপনাদের আয় কমে গেছে।
মির্জা মোস্তফা জামান আরও বলেন, আপনাদের শক্তিই সিরাজগঞ্জ জেলা জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের ও জেলা বিএনপির শক্তি। আপনারা ঐক্যবদ্ধ থাকলে এমন কোনো শক্তি নেই যে আপনাদের ন্যায্য দাবী আদায়ের অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে পারে।
কমিটি গঠন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এমন নেতৃত্ব নির্বাচন করতে হবে যারা দুর্দিনে পালিয়ে যাবে না, যারা শ্রমিকের পাশে থেকে তাদের জন্য লড়াই করবে। যারা চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী, মাদকাসক্ত ব্যাক্তি এবং কোনো সুবিধাবাদী বা নিষ্ক্রিয় ব্যক্তির স্থান এই কমিটিতে হবে না।
সিএনজি অটোরিকশা শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক মো. শামসুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও জেলা ড্যাবের সভাপতি ডা. এম এ লতিফ। তিনি বলেন, শ্রমিকদের আরও শক্তিশালী করতে হবে। জাতীয়তাবাদী শক্তিকে তৃণমূল পর্যন্ত পৌঁছে দিতে এই সংগঠনের ভূমিকা অপরিসীম। তাই, সৎ, যোগ্য, ত্যাগী এবং পরীক্ষিত নেতাদের দিয়েই একটি কার্যকরী ও শক্তিশালী কমিটি গঠন করতে হবে, যারা সাধারণ শ্রমিকদের সুখে-দুঃখে পাশে দাঁড়াবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির নির্বাহী সদস্য ও জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. আসলাম উদ্দিন। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন জেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক রিফাত হাসান সুমন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আকাশ খন্দকার, জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. তাইবুল হাসান, পৌর জাসাস সভাপতি সাইফুল ইসলাম, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম এবং জেলা তরুণ দলের সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া সরকার ও জেলা মহিলা দলের নেত্রী আইনুর নাহার কলি সহ প্রমুখ।।
বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, শ্রমিক সমাজ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের শক্তির অন্যতম প্রধান উৎস। সিএনজি অটোরিকশা শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা এবং তাদের ন্যায্য দাবি আদায়ের জন্য একটি শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ কমিটি গঠনের কোনো বিকল্প নেই। তারা অভিযোগ করে বলেন, বর্তমানে পতিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসররা শ্রমিকদের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত। দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি, দফায় দফায় গণপরিবহন খাতে সৃষ্ট বিশৃঙ্খলার কারণে সিএনজি অটোরিকশা শ্রমিকরা আজ এক চরম সংকটের মধ্য দিয়ে দিনাতিপাত করছেন। এজন্য নিরেপক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অতি দ্রুত একটি গ্রহণ যোগ্য নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে জাতীয় সরকার গঠনের মাধ্যমে অবহেলিত শ্রমিকদের ন্যায্য হিস্যা বাস্তবায়ন হবে নলে আশা প্রকাশ করেন।।
সভার শেষ পর্যায়ে, উপস্থিত নেতৃবৃন্দ কমিটি গঠন বিষয়ে বিভিন্ন প্রাথমিক প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। সকলের সম্মিলিত মতামতের ভিত্তিতে শীঘ্রই একটি পূর্ণাঙ্গ, শক্তিশালী ও কার্যকরী কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় উপস্থিত শ্রমিকরা তাদের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে যেকোনো ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
নতুন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এই সভায় জেলা বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ এবং বিপুল সংখ্যক সিএনজি অটোরিকশা শ্রমিক ও মালিক কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন। আয়োজিত এই সভাটি কার্যত শ্রমিক-নেতাদের এক মিলনমেলায় পরিণত হয়।

রিপোর্টার: 



















