নওগাঁর রাণীনগরে এলজিইডির অর্থায়নে ১ কোটি ২৭ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন সড়কে নিম্নমানের ইট ও খোয়া ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। ডাকাহার-কালিগ্রাম সড়কের নলপুকুর থেকে কসবা পাড়া পর্যন্ত ১ হাজার ২১০ মিটার অংশের নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, সড়কের বিভিন্ন অংশে নিম্নমানের ইট ব্যবহার করা হচ্ছে এবং বালু ও খোয়ার মিশ্রণে নির্ধারিত অনুপাত মানা হচ্ছে না।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সড়কটির নির্মাণকাজের জন্য ১ কোটি ২৭ লাখ টাকা বরাদ্দ পেয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স তৃষ্ণা স্টুডিও।
ডাকাহার পাড়ার বাসিন্দা জমসেদ (পেলু) অভিযোগ করে বলেন, কাজের শুরুতে নিম্নমানের ইটের খোয়া ব্যবহার করা হয়েছিল। মাঝখানে কিছুদিন ভালো মানের খোয়া ব্যবহার করা হলেও বর্তমানে আবার নিম্নমানের ইট ব্যবহার করা হচ্ছে। বিশেষ করে সড়কের দুই পাশে নিম্নমানের ইট বসানো হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
জমসেদ বলেন, ‘ইট ভ্যানগাড়িতে তোলার সময় হালকা আঘাতেই ভেঙে যাচ্ছে। ইট ভালো মানের হলে এত সামান্য আঘাতে কয়েক টুকরো হয়ে যাওয়ার কথা নয়।’ এ ঘটনায় সড়কের স্থায়িত্ব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
নলপুকুর গ্রামের মসজিদের মোয়াজ্জেম জলিলও একই অভিযোগ করেন। তাঁর ভাষ্য, সড়কের দুই পাশে ব্যবহৃত ইটের ওপর রাস্তার স্থায়িত্ব অনেকটাই নির্ভর করে। অথচ ওই অংশেই নিম্নমানের ইট ব্যবহার করা হয়েছে।
একই গ্রামের বাসিন্দা ফিরোজ অভিযোগ করেন, সড়ক নির্মাণে বালু ও খোয়ার মিশ্রণে বালুর পরিমাণ বেশি দেওয়া হচ্ছে। তাঁর দাবি, প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ মিটার অংশে খোয়ার পরিমাণ এত কম যে তা সহজেই চোখে পড়ে। অথচ নিয়ম অনুযায়ী, এ সড়কে বালু ও খোয়ার অনুপাত সমান থাকার কথা বলে তিনি দাবি করেন।
সরেজমিনে গিয়ে সড়ক নির্মাণকাজে নিম্নমানের ইট ও খোয়া ব্যবহারের চিত্র দেখা যায়। এ সময় সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন দুই গাড়ি ইট ইটভাটায় ফেরত পাঠান। সেখানে উপস্থিত ঠিকাদারের লোকজন জানান, ইট নিম্নমানের হওয়ায় সেগুলো ফেরত পাঠানো হয়েছে। আগের দিনও এক গাড়ি নিম্নমানের ইট আসায় তা ফেরত দেওয়া হয়েছিল বলে তাঁরা দাবি করেন।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে গুলজার রহমান বলেন, ‘আমরা যে কাজ করছি, সেখানে সব ইট ভালো—এমন নয়; কিছু নিম্নমানের ইটও রয়েছে। ভালো ইটের মধ্যে ভাটার মালিকেরা খারাপ ইটও দিয়ে দেন। এটা ভাটার মালিকদের ব্যবসা।’ তিনি আরও বলেন, বর্তমানে ইটের অফ সিজন চলায় ভালো মানের ইট পাওয়া যাচ্ছে না।
এ বিষয়ে রাণীনগর উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী শুভাশীষ রায় বলেন, ‘প্রতিটি কাজই আমাদের দপ্তর থেকে নিয়মিত তদারকি করা হয়। এ কাজে অনিয়মের অভিযোগ আপনাদের কাছ থেকেই প্রথম শুনলাম।’
তিনি জানান, সড়কটির নির্মাণমান নিয়ে যাতে কোনো প্রশ্ন না ওঠে, সে জন্য কঠোর নজরদারি করা হবে। কাজ এখনো চলমান রয়েছে। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে কোনো অসংগতি পাওয়া গেলে তা সংশোধনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি গাইডওয়ালের কাজে ত্রুটি থাকলেও তা ঠিক করে নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের কাছে সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আসন্ন ধান কাটার মৌসুমে ধান পরিবহন ও বাজারে বিক্রির জন্য এটি তাঁদের অন্যতম প্রধান যোগাযোগপথ। তাই জনস্বার্থে সড়কটির নির্মাণকাজের মান যাচাই করে টেকসই ও মানসম্মত সড়ক নির্মাণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন এলাকাবাসী।

রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি। জনতার কণ্ঠ.কম। 



















