সিরাজগঞ্জ , বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo পোশাক শ্রমিকদের নতুন মজুরি নির্ধারণে দ্বিতীয় সভা ৯ নভেম্বর Logo সরকার আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে সম্পূর্ণ ব্যর্থ: নাহিদ ইসলাম Logo হরমুজ প্রণালিতে ভারত-চীনসহ ৪ দেশকে বিশেষ ছাড় দিল ইরান Logo একের পর এক সুযোগ নষ্ট, প্রথমার্ধে গোল পায়নি বাংলাদেশ Logo চালু হচ্ছে পাবনা-ঢাকা রুটে নতুন দুই আন্তঃনগর ট্রেন Logo গোপালগঞ্জ জেলা স্কুলে ‘জয়বাংলা’ স্লোগান, ছাড়পত্র পেল ৯ শিক্ষার্থী Logo স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ নতুন দায়িত্ব পেলেন ৬ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী Logo নতুন করে দুটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী Logo নদীভাঙন কবলিত জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তি ও মানবিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গবেষণার প্রাথমিক ফলাফল উপস্থাপন Logo হিলিতে পুলিশের অভিযানে সাজাপ্রাপ্ত আসামিসহ গ্রেপ্তার ৩

হরমুজ প্রণালিতে ভারত-চীনসহ ৪ দেশকে বিশেষ ছাড় দিল ইরান

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে বিশেষ ছাড় দিয়েছে ইরান। ভারত, চীন, ইরাক ও কাতারের বাণিজ্যিক জাহাজকে চলাচলের বিধিনিষেধ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে তেহরান। তবে এই সুবিধা পেলেও জাহাজগুলোকে নির্ধারিত ট্রানজিট ফি বা যাতায়াত মাশুল দিতে হতে পারে।

ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক কমিটির সহ-সভাপতি আমির হায়াত মোকাদ্দাম এ তথ্য জানিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, বর্তমানে চার দেশের জাহাজ হরমুজ প্রণালি দিয়ে তুলনামূলক স্বাধীনভাবে চলাচল করতে পারছে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রও এসব জাহাজ চলাচলে বাধা দিচ্ছে না।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের জাহাজ চলাচলে ছাড় দেওয়ার অন্যতম কারণ দেশটি থেকে প্রয়োজনীয় ওষুধ আমদানি সহজ রাখা। অন্যদিকে চীনের ক্ষেত্রে তেহরানের লক্ষ্য বেইজিংয়ের রাজনৈতিক সমর্থন ও কৌশলগত সম্পর্ক অটুট রাখা।

তবে এই ছাড়ের অর্থ বিনা মূল্যে হরমুজ প্রণালি ব্যবহারের সুযোগ নয়। ভারতীয় জাহাজগুলোকে নির্ধারিত ট্রানজিট ফি দিতে হতে পারে। অর্থাৎ ইরানের এই সিদ্ধান্ত মূলত জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রে, আর্থিক মাশুল মওকুফের ক্ষেত্রে নয়।

কেন বিশেষ ছাড় পেল চার দেশ?

ইরানের কাছে চীনের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব অনেক বেশি। দেশটি ইরানি তেলের অন্যতম প্রধান ক্রেতা। পাশাপাশি বিভিন্ন অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক ক্ষেত্রে তেহরানের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার বেইজিং। চীনা জাহাজ চলাচলে সুবিধা দিয়ে ইরান দুই দেশের সম্পর্ক আরও সুরক্ষিত রাখতে চাইছে।

অন্যদিকে ভারতের সঙ্গে ইরানের বাণিজ্যিক সম্পর্কও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ওষুধসহ প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে ভারতের ওপর নির্ভরতা রয়েছে তেহরানের।

কাতার ও ইরাকের ক্ষেত্রেও রয়েছে বিশেষ কৌশলগত বিবেচনা। কাতার বিশ্বের অন্যতম প্রধান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রপ্তানিকারক দেশ। উপসাগরীয় অঞ্চলের নৌপথ সচল রাখার ক্ষেত্রেও দেশটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। আর ইরাকের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতাকে নিজেদের আঞ্চলিক নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত মনে করে ইরান।

হরমুজ প্রণালিতে বাড়ছে অস্থিরতা:

পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরকে সংযুক্ত করেছে হরমুজ প্রণালি। বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যে এর গুরুত্ব অপরিসীম।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান শুরুর পর পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটে। পাল্টা হামলার পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে তেহরান। পরে ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ-অবরোধ জারি করে ওয়াশিংটনও।

এরপর থেকে নির্দিষ্ট কিছু জাহাজ চলাচলের অনুমতি পেলেও অন্য জাহাজগুলোকে কঠোর নিরাপত্তা তল্লাশির মুখে পড়তে হচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে দিতে হচ্ছে মোটা অঙ্কের ট্রানজিট ফি।

এদিকে সংঘাত শুরুর পর থেকে এ অঞ্চলে বিভিন্ন জাহাজে হামলার ঘটনায় অন্তত ১৫ ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু হয়েছে। সবশেষ গত সোমবার সন্ধ্যায় ওমানের লিমার কাছে এমএসভি আল জুসুফি নামের একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলায় এক ভারতীয় নাবিক নিহত হন।

বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারত। একই সঙ্গে আলোচনা ও কূটনীতির মাধ্যমে সংকট সমাধানের ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছে দেশটি।

সূত্র: এনডিটিভি

 

জনতার কণ্ঠ / কেএম

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পোশাক শ্রমিকদের নতুন মজুরি নির্ধারণে দ্বিতীয় সভা ৯ নভেম্বর

হরমুজ প্রণালিতে ভারত-চীনসহ ৪ দেশকে বিশেষ ছাড় দিল ইরান

আপডেট টাইম : ০৯:৩১:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে বিশেষ ছাড় দিয়েছে ইরান। ভারত, চীন, ইরাক ও কাতারের বাণিজ্যিক জাহাজকে চলাচলের বিধিনিষেধ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে তেহরান। তবে এই সুবিধা পেলেও জাহাজগুলোকে নির্ধারিত ট্রানজিট ফি বা যাতায়াত মাশুল দিতে হতে পারে।

ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক কমিটির সহ-সভাপতি আমির হায়াত মোকাদ্দাম এ তথ্য জানিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, বর্তমানে চার দেশের জাহাজ হরমুজ প্রণালি দিয়ে তুলনামূলক স্বাধীনভাবে চলাচল করতে পারছে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রও এসব জাহাজ চলাচলে বাধা দিচ্ছে না।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের জাহাজ চলাচলে ছাড় দেওয়ার অন্যতম কারণ দেশটি থেকে প্রয়োজনীয় ওষুধ আমদানি সহজ রাখা। অন্যদিকে চীনের ক্ষেত্রে তেহরানের লক্ষ্য বেইজিংয়ের রাজনৈতিক সমর্থন ও কৌশলগত সম্পর্ক অটুট রাখা।

তবে এই ছাড়ের অর্থ বিনা মূল্যে হরমুজ প্রণালি ব্যবহারের সুযোগ নয়। ভারতীয় জাহাজগুলোকে নির্ধারিত ট্রানজিট ফি দিতে হতে পারে। অর্থাৎ ইরানের এই সিদ্ধান্ত মূলত জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রে, আর্থিক মাশুল মওকুফের ক্ষেত্রে নয়।

কেন বিশেষ ছাড় পেল চার দেশ?

ইরানের কাছে চীনের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব অনেক বেশি। দেশটি ইরানি তেলের অন্যতম প্রধান ক্রেতা। পাশাপাশি বিভিন্ন অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক ক্ষেত্রে তেহরানের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার বেইজিং। চীনা জাহাজ চলাচলে সুবিধা দিয়ে ইরান দুই দেশের সম্পর্ক আরও সুরক্ষিত রাখতে চাইছে।

অন্যদিকে ভারতের সঙ্গে ইরানের বাণিজ্যিক সম্পর্কও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ওষুধসহ প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে ভারতের ওপর নির্ভরতা রয়েছে তেহরানের।

কাতার ও ইরাকের ক্ষেত্রেও রয়েছে বিশেষ কৌশলগত বিবেচনা। কাতার বিশ্বের অন্যতম প্রধান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রপ্তানিকারক দেশ। উপসাগরীয় অঞ্চলের নৌপথ সচল রাখার ক্ষেত্রেও দেশটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। আর ইরাকের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতাকে নিজেদের আঞ্চলিক নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত মনে করে ইরান।

হরমুজ প্রণালিতে বাড়ছে অস্থিরতা:

পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরকে সংযুক্ত করেছে হরমুজ প্রণালি। বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যে এর গুরুত্ব অপরিসীম।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান শুরুর পর পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটে। পাল্টা হামলার পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে তেহরান। পরে ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ-অবরোধ জারি করে ওয়াশিংটনও।

এরপর থেকে নির্দিষ্ট কিছু জাহাজ চলাচলের অনুমতি পেলেও অন্য জাহাজগুলোকে কঠোর নিরাপত্তা তল্লাশির মুখে পড়তে হচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে দিতে হচ্ছে মোটা অঙ্কের ট্রানজিট ফি।

এদিকে সংঘাত শুরুর পর থেকে এ অঞ্চলে বিভিন্ন জাহাজে হামলার ঘটনায় অন্তত ১৫ ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু হয়েছে। সবশেষ গত সোমবার সন্ধ্যায় ওমানের লিমার কাছে এমএসভি আল জুসুফি নামের একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলায় এক ভারতীয় নাবিক নিহত হন।

বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারত। একই সঙ্গে আলোচনা ও কূটনীতির মাধ্যমে সংকট সমাধানের ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছে দেশটি।

সূত্র: এনডিটিভি

 

জনতার কণ্ঠ / কেএম