সিরাজগঞ্জ , শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বাংলা নামের কোন ভাষা নেই: বিজেপি

  • রিপোর্টার:
  • আপডেট টাইম : ০৩:৪১:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ অগাস্ট ২০২৫
  • ৫৩ জন দেখেছেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

দিল্লি পুলিশের ‘বাংলাদেশি ভাষা’ মন্তব্যকে এভাবেই ‘মূর্খের মতো’ সমর্থন করে বিজেপি জানিয়ে দিল, ‘বাংলা’ নামে কোনও ভাষাই নেই। সোমবার (৪ আগষ্ট) বিজেপির কেন্দ্রীয় আইটি সেলের প্রধান তথা দলীয় মুখপাত্র অমিত মালব্য  দিল্লি পুলিশের‘বাংলাদেশি ভাষা’ মন্তব্য সঠিক বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বাংলা নামক কোনও ভাষাই নেই। বাঙালি নামক জাতি রয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশি ভাষা হিসেবে যাকে বলা হয়ে থাকে, সেটি একঝাঁক ফ্যাক্টরের উপর নির্ভরশীল। উচ্চারণ, ধ্বনি, বাক্যরীতি ইত্যাদি। অমিত মালব্যর এমন সাফাইয়ে তোলপাড় পড়েছে বাংলা তথা দেশজুড়ে।

এটা যে বিজেপির ‘সরকারি অবস্থান’, সে ব্যাপারে সন্দেহ নেই। কারণ, মালব্যর বক্তব্যের কোনও বিরোধিতা রাত পর্যন্ত কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের তরফে করা হয়নি। আর তাই ‘বাংলা বিরোধী’ বিজেপির বিরুদ্ধে আক্রমণে নেমে পড়েছে শুভবুদ্ধিসম্পন্ন প্রত্যেক নাগরিক।

রাজ্যের মন্ত্রী ব্রাত্য বসুর সাফ কথা, ‘দিল্লি পুলিসকে মূর্খের মতো সমর্থন করছে বিজেপি। জোকারের মতো আচরণ।’ সবচেয়ে বড় কথা, এই ইস্যু সামনে রেখে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও আন্দোলনের ঝাঁঝ তীব্র করার দিকে এগচ্ছেন। সোমবার এমপিদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকে তাঁর নির্দেশ, ‘সংসদের ভিতরে এবং বাইরে বাঙালি হেনস্তার প্রত্যেকটা ঘটনা তুলে ধরতে হবে। বাংলা ভাষাকে ওরা মানতে চাইছে না। এটা কোনওভাবে মেনে নেওয়া যায় না। তাই বাংলার স্বার্থে এবং বাংলা ভাষাভাষী মানুষের জন্য আমাদের সর্বশক্তি দিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে।’

দিল্লির লোদি কলোনি থানায় বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী সন্দেহে অভিযোগ দায়ের হয়েছে কয়েকজনের বিরুদ্ধে। তাদের কাছে পাওয়া নথিতে বাংলা ভাষায় কিছু লেখা রয়েছে। সেটা দেখেই দিল্লি পুলিশ মনে করেছে, এই ভাষা ‘বাংলাদেশি’। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের দিল্লির দপ্তরে থানা থেকে চিঠি পাঠিয়ে বলা হয়েছে, এই ভাষা উদ্ধার করতে অনুবাদক প্রয়োজন। আপনারা একজন অনুবাদক দিন। একদিকে ‘বাংলা বললেই বাংলাদেশি’ ইস্যুতে হেনস্তার রাজনীতি। তার উপর এমন মন্তব্য। ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটেছে দেশজুড়ে। সংসদে তৃণমূলের এমপিরা সরব হয়েছেন। এমনকী, তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিন থেকে কংগ্রেসের গৌরব গগৈ—প্রত্যেকে আক্রমণ করেছেন মোদি সরকার, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এবং বিজেপিকে।

89
Created on
আপনার মতামত দিন

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপনি কোন দলকে ক্ষমতায় দেখতে চান ?

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলা নামের কোন ভাষা নেই: বিজেপি

আপডেট টাইম : ০৩:৪১:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ অগাস্ট ২০২৫

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

দিল্লি পুলিশের ‘বাংলাদেশি ভাষা’ মন্তব্যকে এভাবেই ‘মূর্খের মতো’ সমর্থন করে বিজেপি জানিয়ে দিল, ‘বাংলা’ নামে কোনও ভাষাই নেই। সোমবার (৪ আগষ্ট) বিজেপির কেন্দ্রীয় আইটি সেলের প্রধান তথা দলীয় মুখপাত্র অমিত মালব্য  দিল্লি পুলিশের‘বাংলাদেশি ভাষা’ মন্তব্য সঠিক বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বাংলা নামক কোনও ভাষাই নেই। বাঙালি নামক জাতি রয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশি ভাষা হিসেবে যাকে বলা হয়ে থাকে, সেটি একঝাঁক ফ্যাক্টরের উপর নির্ভরশীল। উচ্চারণ, ধ্বনি, বাক্যরীতি ইত্যাদি। অমিত মালব্যর এমন সাফাইয়ে তোলপাড় পড়েছে বাংলা তথা দেশজুড়ে।

এটা যে বিজেপির ‘সরকারি অবস্থান’, সে ব্যাপারে সন্দেহ নেই। কারণ, মালব্যর বক্তব্যের কোনও বিরোধিতা রাত পর্যন্ত কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের তরফে করা হয়নি। আর তাই ‘বাংলা বিরোধী’ বিজেপির বিরুদ্ধে আক্রমণে নেমে পড়েছে শুভবুদ্ধিসম্পন্ন প্রত্যেক নাগরিক।

রাজ্যের মন্ত্রী ব্রাত্য বসুর সাফ কথা, ‘দিল্লি পুলিসকে মূর্খের মতো সমর্থন করছে বিজেপি। জোকারের মতো আচরণ।’ সবচেয়ে বড় কথা, এই ইস্যু সামনে রেখে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও আন্দোলনের ঝাঁঝ তীব্র করার দিকে এগচ্ছেন। সোমবার এমপিদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকে তাঁর নির্দেশ, ‘সংসদের ভিতরে এবং বাইরে বাঙালি হেনস্তার প্রত্যেকটা ঘটনা তুলে ধরতে হবে। বাংলা ভাষাকে ওরা মানতে চাইছে না। এটা কোনওভাবে মেনে নেওয়া যায় না। তাই বাংলার স্বার্থে এবং বাংলা ভাষাভাষী মানুষের জন্য আমাদের সর্বশক্তি দিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে।’

দিল্লির লোদি কলোনি থানায় বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী সন্দেহে অভিযোগ দায়ের হয়েছে কয়েকজনের বিরুদ্ধে। তাদের কাছে পাওয়া নথিতে বাংলা ভাষায় কিছু লেখা রয়েছে। সেটা দেখেই দিল্লি পুলিশ মনে করেছে, এই ভাষা ‘বাংলাদেশি’। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের দিল্লির দপ্তরে থানা থেকে চিঠি পাঠিয়ে বলা হয়েছে, এই ভাষা উদ্ধার করতে অনুবাদক প্রয়োজন। আপনারা একজন অনুবাদক দিন। একদিকে ‘বাংলা বললেই বাংলাদেশি’ ইস্যুতে হেনস্তার রাজনীতি। তার উপর এমন মন্তব্য। ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটেছে দেশজুড়ে। সংসদে তৃণমূলের এমপিরা সরব হয়েছেন। এমনকী, তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিন থেকে কংগ্রেসের গৌরব গগৈ—প্রত্যেকে আক্রমণ করেছেন মোদি সরকার, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এবং বিজেপিকে।