সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬

সরাইলের ওসির সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডা, ‘আ.লীগের চোর’ বললেন রুমিন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, দাঙ্গা-হাঙ্গামা, সংসদ সদস্য হিসেবে নিরাপত্তা না পাওয়া এবং ফোন না ধরার অভিযোগে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুর কাদের ভূঁইয়ার সঙ্গে স্থানীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার তুমুল বাগ্‌বিতণ্ডা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাত ৮টা থেকে ৯টা পর্যন্ত সরাইল থানায় ওসির কক্ষে এ ঘটনা ঘটে।

রাতে বাগ্‌বিতণ্ডার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

ভিডিওতে দেখা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা তার কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে থানায় যান।

পরে ওসির কক্ষে প্রবেশ করে তিনি সরাইলের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি সম্পর্কে জানতে চান। একই সঙ্গে সংসদ সদস্য হিসেবে তাকে নিরাপত্তা না দেওয়া এবং ফোন না ধরায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

একপর্যায়ে তিনি ওসিকে ‘আওয়ামী লীগের চোর’ বলে অভিহিত করেন।
এ সময় বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী নিয়ে থানায় আসায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়াও।

এ নিয়ে দুজনের মধ্যে বিতর্ক হয়।
এ বিষয়ে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা সাংবাদিকদের বলেন, আইন অনুযায়ী স্থানীয় সংসদ সদস্য নিরাপত্তা চাইলে তা দেওয়া হয়। সে অনুযায়ী বিজয়নগর ও আশুগঞ্জ থানার পুলিশ তাকে নিরাপত্তা দিয়েছে। অথচ সরাইল থানার ওসি ফোন ধরেন না। বরং তিনি বলেছেন, নির্বাচিত সংসদ সদস্যের নিরাপত্তা মানুষ দেবে। তাই তার সঙ্গে হাজার হাজার মানুষ এসেছেন, যারা তাকে নিরাপত্তা দিচ্ছেন।

রুমিন ফারহানা আরও বলেন, সরাইল থানার ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে ইটভাটা থেকে টাকা নেওয়া, মাটি কাটা এবং নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। এসব বিষয়ে জানতে তিনি থানায় এসেছেন।

অন্যদিকে, সরাইল থানার ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়া বলেন, সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বিপুলসংখ্যক লোকজন নিয়ে থানায় এসে হইচই করে মব সৃষ্টি করেছেন। এ সময় তিনি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কথা উল্লেখ করে নানা অজুহাত তুলে ধরেন। অথচ আগের তুলনায় দাঙ্গা-হাঙ্গামা অনেকটা কমেছে। তার সঙ্গে থাকা লোকজন যেসব অভিযোগ করেছেন, সেগুলো মিথ্যা। সংসদ সদস্য তাদের এসব শিখিয়ে এনেছেন।

নিরাপত্তা প্রসঙ্গে ওসি বলেন, তাদের যে সংখ্যক পুলিশ সদস্য রয়েছেন, তা দিয়ে থানার কার্যক্রম চালাতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। শারদীয় দুর্গাপূজায় সার্বিক নিরাপত্তার মধ্য দিয়েই ওই সংসদ সদস্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। সে সময় ব্যক্তিগতভাবে তার সঙ্গে পুলিশের একটি দল রাখা কঠিন ছিল। বরং তিনি গানম্যান চাইলে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আবেদন করতে হবে।

ওসি আরও বলেন, পুরো ঘটনাটি ভিডিও করে রাখা হয়েছে। বিষয়টি তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সরাইলের ওসির সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডা, ‘আ.লীগের চোর’ বললেন রুমিন

আপডেট টাইম : ০৮:৪৬:৪১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, দাঙ্গা-হাঙ্গামা, সংসদ সদস্য হিসেবে নিরাপত্তা না পাওয়া এবং ফোন না ধরার অভিযোগে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুর কাদের ভূঁইয়ার সঙ্গে স্থানীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার তুমুল বাগ্‌বিতণ্ডা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাত ৮টা থেকে ৯টা পর্যন্ত সরাইল থানায় ওসির কক্ষে এ ঘটনা ঘটে।

রাতে বাগ্‌বিতণ্ডার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

ভিডিওতে দেখা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা তার কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে থানায় যান।

পরে ওসির কক্ষে প্রবেশ করে তিনি সরাইলের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি সম্পর্কে জানতে চান। একই সঙ্গে সংসদ সদস্য হিসেবে তাকে নিরাপত্তা না দেওয়া এবং ফোন না ধরায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

একপর্যায়ে তিনি ওসিকে ‘আওয়ামী লীগের চোর’ বলে অভিহিত করেন।
এ সময় বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী নিয়ে থানায় আসায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়াও।

এ নিয়ে দুজনের মধ্যে বিতর্ক হয়।
এ বিষয়ে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা সাংবাদিকদের বলেন, আইন অনুযায়ী স্থানীয় সংসদ সদস্য নিরাপত্তা চাইলে তা দেওয়া হয়। সে অনুযায়ী বিজয়নগর ও আশুগঞ্জ থানার পুলিশ তাকে নিরাপত্তা দিয়েছে। অথচ সরাইল থানার ওসি ফোন ধরেন না। বরং তিনি বলেছেন, নির্বাচিত সংসদ সদস্যের নিরাপত্তা মানুষ দেবে। তাই তার সঙ্গে হাজার হাজার মানুষ এসেছেন, যারা তাকে নিরাপত্তা দিচ্ছেন।

রুমিন ফারহানা আরও বলেন, সরাইল থানার ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে ইটভাটা থেকে টাকা নেওয়া, মাটি কাটা এবং নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। এসব বিষয়ে জানতে তিনি থানায় এসেছেন।

অন্যদিকে, সরাইল থানার ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়া বলেন, সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বিপুলসংখ্যক লোকজন নিয়ে থানায় এসে হইচই করে মব সৃষ্টি করেছেন। এ সময় তিনি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কথা উল্লেখ করে নানা অজুহাত তুলে ধরেন। অথচ আগের তুলনায় দাঙ্গা-হাঙ্গামা অনেকটা কমেছে। তার সঙ্গে থাকা লোকজন যেসব অভিযোগ করেছেন, সেগুলো মিথ্যা। সংসদ সদস্য তাদের এসব শিখিয়ে এনেছেন।

নিরাপত্তা প্রসঙ্গে ওসি বলেন, তাদের যে সংখ্যক পুলিশ সদস্য রয়েছেন, তা দিয়ে থানার কার্যক্রম চালাতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। শারদীয় দুর্গাপূজায় সার্বিক নিরাপত্তার মধ্য দিয়েই ওই সংসদ সদস্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। সে সময় ব্যক্তিগতভাবে তার সঙ্গে পুলিশের একটি দল রাখা কঠিন ছিল। বরং তিনি গানম্যান চাইলে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আবেদন করতে হবে।

ওসি আরও বলেন, পুরো ঘটনাটি ভিডিও করে রাখা হয়েছে। বিষয়টি তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন।