সিরাজগঞ্জ , শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬

শাকিল হত্যা দায়িত্বে অবহেলায় গুরুদাসপুর থানার ওসি প্রত্যাহার

ছাত্রদল নেতা শাকিল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে নাটোরের গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল হান্নানকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত জনস্বার্থে রাজশাহী রেঞ্জে সংযুক্ত করা হয়েছে। ডিআইজির কার্যালয়ে যোগদানের জন্য আদেশ জারির দিনই গুরুদাসপুর থানা থেকে ছাড়পত্র দিতে বলা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মো. আশিক সাঈদ স্বাক্ষরিত এক আদেশে প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

গত ২০ এপ্রিল ছাত্রদল নেতা শাকিল নিরাপত্তাহীনতার কথা জানিয়ে নিজের ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্ট দিয়েছিলেন। ওই পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, ‘আমি আমার জীবন নিয়ে সংশয়ে আছি খুবই। আমাকে মারার জন্য এক বড় ভাই বিভিন্ন চক্র ও গ্রুপের সঙ্গে যোগাযোগ করতেছে। যারা আমাকে মারতে পারবে, তাদের নাকি অনেকগুলো টাকা দেওয়া হবে। এই বিষয়ে আমি ওসির সঙ্গে কথা বলে থানায় একটা সাধারণ ডায়েরি করেছি এবং তাদের নাম উল্লেখ করা আছে। আমার যদি কিছু হয়ে যায়, তাহলে এ ডায়েরি (জিডি) অনুযায়ী মামলা করে দেবেন।’

জীবদ্দশায় দেওয়া শাকিলের ওই ফেসবুক পোস্টের বিষয়ে নাটোর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক নজরুল ইসলাম কোনো মন্তব্য করেননি। তিনি বলেন, সবকিছু চিন্তা করেই শাকিল হত্যার তদন্ত চলছে।

শাকিলের বাবা রবিউল মিস্ত্রি বলেন, হুমকি পাওয়ার পর শাকিল থানায় জিডি করেছিল। এরপর আমার ছেলে হামলার শিকার হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। এ ঘটনার পরও অপরাধী ধরতে পুলিশের নিষ্ক্রিয় ভূমিকা ছিল বলে তার অভিযোগ।

ছেলে হত্যার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চান রবিউল মিস্ত্রি।

নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইফতেখারের আলম বলেন, গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল হান্নানকে থানা থেকে জনস্বার্থে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

গত ১৪ অক্টোবর রাত ৯টার দিকে গুরুদাসপুর পৌর শহরের চাঁচকৈড় বাজারপাড়া এলাকায় হেলমেট পরা সশস্ত্র দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হন পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব শাকিল ইসলাম। এ সময় শাকিলকে কুপিয়ে জখম করে মোটরসাইকেলে পালিয়ে যান হামলাকারীরা। পরে তাকে উদ্ধার করে রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে ১২ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ১৯ অক্টোবর অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন নিহতের বাবা।

 

জনতার কণ্ঠ / কেএম

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শাকিল হত্যা দায়িত্বে অবহেলায় গুরুদাসপুর থানার ওসি প্রত্যাহার

আপডেট টাইম : ০৩:৪৫:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

ছাত্রদল নেতা শাকিল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে নাটোরের গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল হান্নানকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত জনস্বার্থে রাজশাহী রেঞ্জে সংযুক্ত করা হয়েছে। ডিআইজির কার্যালয়ে যোগদানের জন্য আদেশ জারির দিনই গুরুদাসপুর থানা থেকে ছাড়পত্র দিতে বলা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মো. আশিক সাঈদ স্বাক্ষরিত এক আদেশে প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

গত ২০ এপ্রিল ছাত্রদল নেতা শাকিল নিরাপত্তাহীনতার কথা জানিয়ে নিজের ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্ট দিয়েছিলেন। ওই পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, ‘আমি আমার জীবন নিয়ে সংশয়ে আছি খুবই। আমাকে মারার জন্য এক বড় ভাই বিভিন্ন চক্র ও গ্রুপের সঙ্গে যোগাযোগ করতেছে। যারা আমাকে মারতে পারবে, তাদের নাকি অনেকগুলো টাকা দেওয়া হবে। এই বিষয়ে আমি ওসির সঙ্গে কথা বলে থানায় একটা সাধারণ ডায়েরি করেছি এবং তাদের নাম উল্লেখ করা আছে। আমার যদি কিছু হয়ে যায়, তাহলে এ ডায়েরি (জিডি) অনুযায়ী মামলা করে দেবেন।’

জীবদ্দশায় দেওয়া শাকিলের ওই ফেসবুক পোস্টের বিষয়ে নাটোর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক নজরুল ইসলাম কোনো মন্তব্য করেননি। তিনি বলেন, সবকিছু চিন্তা করেই শাকিল হত্যার তদন্ত চলছে।

শাকিলের বাবা রবিউল মিস্ত্রি বলেন, হুমকি পাওয়ার পর শাকিল থানায় জিডি করেছিল। এরপর আমার ছেলে হামলার শিকার হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। এ ঘটনার পরও অপরাধী ধরতে পুলিশের নিষ্ক্রিয় ভূমিকা ছিল বলে তার অভিযোগ।

ছেলে হত্যার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চান রবিউল মিস্ত্রি।

নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইফতেখারের আলম বলেন, গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল হান্নানকে থানা থেকে জনস্বার্থে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

গত ১৪ অক্টোবর রাত ৯টার দিকে গুরুদাসপুর পৌর শহরের চাঁচকৈড় বাজারপাড়া এলাকায় হেলমেট পরা সশস্ত্র দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হন পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব শাকিল ইসলাম। এ সময় শাকিলকে কুপিয়ে জখম করে মোটরসাইকেলে পালিয়ে যান হামলাকারীরা। পরে তাকে উদ্ধার করে রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে ১২ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ১৯ অক্টোবর অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন নিহতের বাবা।

 

জনতার কণ্ঠ / কেএম