চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় সিরাজগঞ্জ জেলার সাতটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোন পরীক্ষার্থী পাস করতে পারেননি। শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষণ করে এ তথ্য জানা গেছে।
এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পাঁচটি মাদরাসা, একটি টেকনিক্যাল কলেজ এবং একটি স্কুল অ্যান্ড কলেজ রয়েছে। ফলাফল অনুযায়ী, সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার শিয়ালকোলের শ্যামপুর কাজী ইসমাইল হোসেন আলিম মাদরাসা থেকে আটজন, রায়গঞ্জ উপজেলার আমসারা ইসলামিয়া দারুল উলুম ফাজিল মাদরাসা থেকে ২১ জন, একই উপজেলার তেলিজানা আলিম মাদরাসা থেকে ১৫ জন, তাড়াশ উপজেলার দোবিলা ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসা থেকে ১৪ জন এবং উল্লাপাড়া উপজেলার চন্দ্রগাতি আলিম মাদরাসা থেকে ১৪ জন পরীক্ষায় অংশ নেন।
কিন্তু তাদের কেউই পাস করেননি। এ ছাড়া সদর উপজেলার ছাতিয়ানতলী মোরগ্রাম টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজের বানিজ্য বিভাগ থেকে তিনজন এবং শহরের এসবি রেলওয়ে কলোনি স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে একজন পরীক্ষায় অংশ নিলেও পাস করতে পারেননি কেউ। ছাতিয়ানতলী মোরগ্রাম টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজের অধ্যক্ষ মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, আমরা দুই বছর ধরে বানিজ্য শাখা খুলেছি। বানিজ্য শাখায় তিনজন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে কেউ পাস করেনি। তবে কলেজটির বিএম শাখা থেকে ১৭১ জন পরীক্ষা দিয়ে ৩০ জন পাস করেছে বলে জানান তিনি।
এসবি রেলওয়ে স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ আশরাফুল ইসলাম বলেন, কলেজে শিক্ষার্থী না থাকায় এবার একজন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। সে একটি বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে। সিরাজগঞ্জ অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) রোজিনা আক্তার জানান, এইচএসসি পরীক্ষায় সিরাজগঞ্জ জেলায় এ বছর পাসের হার ৩৭ দশমিক ৮৮ শতাংশ।
মোট পরীক্ষার্থী ২২ হাজার ৬৬৪ জন, এরমধ্যে পাস করেছেন ৮ হাজার ৫৮৫ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩০১ জন। পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তের সংখ্যায় এগিয়ে রয়েছেন নারীরা। নারীদের পাসের হার ৪৬ দশমিক ২৬, বিপরীতে পুরুষ ২৯ দশমিক ৪১। জিপিএ-৫ পাওয়া পুরুষ পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৯৯ জন, নারীর সংখ্যা ২০১ জন। তিনি আরও বলেন ‘শতভাগ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে। পাশাপাশি বিষয়টি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

নিজস্ব প্রতিবেদক। জনতার কণ্ঠ.কম 


















