সিরাজগঞ্জ , রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

বিপুল অঙ্কের ক্রিপ্টো চুরির ঘটনায় উত্তর কোরিয়াকে দায়ী করল এফবিআই

এআই দিয়ে তৈরি প্রতীকী ছবি

বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিপ্টোকারেন্সি বিনিময় প্ল্যাটফর্ম বাইন্যান্স থেকে রেকর্ড ৬৩০ কোটি ডলারের ভার্চ্যুয়াল সম্পদ চুরির ঘটনায় উত্তর কোরিয়াকে দায়ী করেছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই। সংস্থাটির দাবি, উত্তর কোরিয়ার হ্যাকাররা চুরি করা সম্পদের বেশির ভাগই ইথেরিয়াম ক্রিপ্টোকারেন্সিতে রূপান্তর করে অর্থ পাচার করছে।

 

 

 

 

এদিকে চুরি হওয়া অর্থের ৯০ শতাংশ কোম্পানির নিজস্ব তহবিল থেকে পুনরায় কিনে গ্রাহকদের ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়ার কথা জানিয়েছে বাইন্যান্স।

 

 

 

 

 

শনিবার (৩১ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে এফবিআই জানায়, উত্তর কোরিয়ার সাইবার অপরাধীরা চুরি করা সম্পদ বিভিন্ন মাধ্যমে পাচার করছে। এ ঘটনায় ‘ট্রেডারট্রেইটর’ নামে একটি গোষ্ঠীকে দায়ী করেছে সংস্থাটি। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে ক্রিপ্টো প্ল্যাটফর্ম বাইবিট থেকে ১৫০ কোটি ডলারের সম্পদ চুরির অভিযোগও ছিল একই গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে।

 

 

 

এফবিআইয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, চুরি করা সম্পদ ধাপে ধাপে আরও পাচার করা হতে পারে। এ কারণে সাম্প্রতিক অর্থ পাচার কার্যক্রমে ব্যবহৃত লেনদেনগুলো বন্ধ করতে ভার্চ্যুয়াল সম্পদসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। পাশাপাশি সন্দেহভাজন ডিজিটাল ঠিকানাগুলোও প্রকাশ করেছে, যাতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো সেগুলো শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারে।

 

 

অন্যদিকে শনিবার দেওয়া পৃথক এক বিবৃতিতে বাইন্যান্স জানিয়েছে, চুরি হওয়া সম্পদের ৯০ শতাংশের সমপরিমাণ নতুন টোকেন কোম্পানির নিজস্ব অর্থ দিয়ে কিনে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। বাকি ১০ শতাংশ তুলনামূলক কম তারল্যসম্পন্ন টোকেনের। ফলে সেগুলো কিনতে আরও সময় লাগতে পারে।

 

 

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে বাইন্যান্স বলেছে, ‘সব টোকেনের ক্ষেত্রে প্রতিস্থাপিত সম্পদের পরিমাণ ১০০ শতাংশে না পৌঁছানো পর্যন্ত আমরা অবশিষ্ট টোকেন সম্পদ কেনা অব্যাহত রাখব। চুরি হওয়া এসব তহবিলের আর্থিক ক্ষতি বিন্যান্স বহন করবে, গ্রাহকেরা নয়।’

 

 

 

 

চুরি হওয়া টোকেন পুনরায় কেনার অর্থ এসেছে গ্রাহকদের সুরক্ষায় বাইন্যান্সের রাখা এক বিলিয়ন ডলারের ‘সিকিউর অ্যাসেট ফান্ড ফর ইউজারস’ (সাফু) থেকে। নিরাপত্তা লঙ্ঘনের ঘটনায় গ্রাহকদের সুরক্ষা দিতে এ তহবিল গঠন করা হয়েছে। এতে থাকা বিটকয়েন রিজার্ভের পাশাপাশি কোম্পানির ফিউচার্স ইনস্যুরেন্স ফান্ড এবং করপোরেট কোষাগার থেকেও অর্থ ব্যবহার করা হয়েছে।

 

 

 

 

বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ পরিচালনাকারী বাইন্যান্স গ্রাহকদের অর্থ নিরাপদ থাকার আশ্বাস দেওয়ার চেষ্টা করার মধ্যেই শুক্রবার ক্রিপ্টোকারেন্সির বাজারে দরপতন ঘটে।

 

 

 

 

বিন্যান্সের সহপ্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রিচার্ড টেং শুক্রবার জানান, এটি ছিল একটি ‘জটিল সাইবার হামলা’। এতে একটি ল্যাপটপের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেওয়া হয়েছিল এবং হামলার কার্যক্রমের প্রমাণ মুছে ফেলার জন্য ক্ষতিকর সফটওয়্যার ব্যবহার করা হয়। ফলে হামলার উৎস শনাক্ত করা ও তদন্ত পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়ে।

 

 

 

 

হামলার পর গ্রাহকদের অর্থ উত্তোলনের সুযোগ বন্ধ করে দেয় বাইন্যান্স। তবে শনিবার পরে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, রোববার (১ নভেম্বর) থেকে আবার অর্থ উত্তোলনের কার্যক্রম চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।

 

 

 

 

এ ছাড়া গ্রাহকদের সম্পদের বিপরীতে পর্যাপ্ত রিজার্ভ রয়েছে কি না, তা যাচাইয়ের সুযোগ দিতে নতুন ‘প্রুফ অব রিজার্ভস’ প্রতিবেদন প্রকাশের ঘোষণা দিয়েছে বাইন্যান্স। এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা নিজেরাই যাচাই করতে পারবেন, তাদের জমা রাখা সম্পদের বিপরীতে কোম্পানির কাছে অন্তত সমপরিমাণ সম্পদ রয়েছে কি না।

সূত্র: আল জাজিরা

 

 

 

জনতার কণ্ঠ/জেডএইচ

 

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

তাহসিফের সঙ্গে বারে যাওয়া কে এই তরুণী?

বিপুল অঙ্কের ক্রিপ্টো চুরির ঘটনায় উত্তর কোরিয়াকে দায়ী করল এফবিআই

আপডেট টাইম : ০৮:১০:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬

বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিপ্টোকারেন্সি বিনিময় প্ল্যাটফর্ম বাইন্যান্স থেকে রেকর্ড ৬৩০ কোটি ডলারের ভার্চ্যুয়াল সম্পদ চুরির ঘটনায় উত্তর কোরিয়াকে দায়ী করেছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই। সংস্থাটির দাবি, উত্তর কোরিয়ার হ্যাকাররা চুরি করা সম্পদের বেশির ভাগই ইথেরিয়াম ক্রিপ্টোকারেন্সিতে রূপান্তর করে অর্থ পাচার করছে।

 

 

 

 

এদিকে চুরি হওয়া অর্থের ৯০ শতাংশ কোম্পানির নিজস্ব তহবিল থেকে পুনরায় কিনে গ্রাহকদের ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়ার কথা জানিয়েছে বাইন্যান্স।

 

 

 

 

 

শনিবার (৩১ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে এফবিআই জানায়, উত্তর কোরিয়ার সাইবার অপরাধীরা চুরি করা সম্পদ বিভিন্ন মাধ্যমে পাচার করছে। এ ঘটনায় ‘ট্রেডারট্রেইটর’ নামে একটি গোষ্ঠীকে দায়ী করেছে সংস্থাটি। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে ক্রিপ্টো প্ল্যাটফর্ম বাইবিট থেকে ১৫০ কোটি ডলারের সম্পদ চুরির অভিযোগও ছিল একই গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে।

 

 

 

এফবিআইয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, চুরি করা সম্পদ ধাপে ধাপে আরও পাচার করা হতে পারে। এ কারণে সাম্প্রতিক অর্থ পাচার কার্যক্রমে ব্যবহৃত লেনদেনগুলো বন্ধ করতে ভার্চ্যুয়াল সম্পদসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। পাশাপাশি সন্দেহভাজন ডিজিটাল ঠিকানাগুলোও প্রকাশ করেছে, যাতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো সেগুলো শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারে।

 

 

অন্যদিকে শনিবার দেওয়া পৃথক এক বিবৃতিতে বাইন্যান্স জানিয়েছে, চুরি হওয়া সম্পদের ৯০ শতাংশের সমপরিমাণ নতুন টোকেন কোম্পানির নিজস্ব অর্থ দিয়ে কিনে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। বাকি ১০ শতাংশ তুলনামূলক কম তারল্যসম্পন্ন টোকেনের। ফলে সেগুলো কিনতে আরও সময় লাগতে পারে।

 

 

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে বাইন্যান্স বলেছে, ‘সব টোকেনের ক্ষেত্রে প্রতিস্থাপিত সম্পদের পরিমাণ ১০০ শতাংশে না পৌঁছানো পর্যন্ত আমরা অবশিষ্ট টোকেন সম্পদ কেনা অব্যাহত রাখব। চুরি হওয়া এসব তহবিলের আর্থিক ক্ষতি বিন্যান্স বহন করবে, গ্রাহকেরা নয়।’

 

 

 

 

চুরি হওয়া টোকেন পুনরায় কেনার অর্থ এসেছে গ্রাহকদের সুরক্ষায় বাইন্যান্সের রাখা এক বিলিয়ন ডলারের ‘সিকিউর অ্যাসেট ফান্ড ফর ইউজারস’ (সাফু) থেকে। নিরাপত্তা লঙ্ঘনের ঘটনায় গ্রাহকদের সুরক্ষা দিতে এ তহবিল গঠন করা হয়েছে। এতে থাকা বিটকয়েন রিজার্ভের পাশাপাশি কোম্পানির ফিউচার্স ইনস্যুরেন্স ফান্ড এবং করপোরেট কোষাগার থেকেও অর্থ ব্যবহার করা হয়েছে।

 

 

 

 

বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ পরিচালনাকারী বাইন্যান্স গ্রাহকদের অর্থ নিরাপদ থাকার আশ্বাস দেওয়ার চেষ্টা করার মধ্যেই শুক্রবার ক্রিপ্টোকারেন্সির বাজারে দরপতন ঘটে।

 

 

 

 

বিন্যান্সের সহপ্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রিচার্ড টেং শুক্রবার জানান, এটি ছিল একটি ‘জটিল সাইবার হামলা’। এতে একটি ল্যাপটপের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেওয়া হয়েছিল এবং হামলার কার্যক্রমের প্রমাণ মুছে ফেলার জন্য ক্ষতিকর সফটওয়্যার ব্যবহার করা হয়। ফলে হামলার উৎস শনাক্ত করা ও তদন্ত পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়ে।

 

 

 

 

হামলার পর গ্রাহকদের অর্থ উত্তোলনের সুযোগ বন্ধ করে দেয় বাইন্যান্স। তবে শনিবার পরে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, রোববার (১ নভেম্বর) থেকে আবার অর্থ উত্তোলনের কার্যক্রম চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।

 

 

 

 

এ ছাড়া গ্রাহকদের সম্পদের বিপরীতে পর্যাপ্ত রিজার্ভ রয়েছে কি না, তা যাচাইয়ের সুযোগ দিতে নতুন ‘প্রুফ অব রিজার্ভস’ প্রতিবেদন প্রকাশের ঘোষণা দিয়েছে বাইন্যান্স। এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা নিজেরাই যাচাই করতে পারবেন, তাদের জমা রাখা সম্পদের বিপরীতে কোম্পানির কাছে অন্তত সমপরিমাণ সম্পদ রয়েছে কি না।

সূত্র: আল জাজিরা

 

 

 

জনতার কণ্ঠ/জেডএইচ