নিজস্ব প্রতিবেদক। জনতার কণ্ঠ.কম
সিরাজগঞ্জ-৩ (রায়গঞ্জ-তাড়াশ) আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী সেলিম জাহাঙ্গীরের পক্ষে একাট্রা হয়েছে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ। এখানকার হিন্দু সম্প্রদায়ের ৪০ হাজার ভোটের নিশ্চয়তা দিয়েছেন নেতৃবৃন্দ।
রোববার (৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সিরাজগঞ্জের তাড়াশ রাধা গোবিন্দ মন্দির প্রাঙ্গনে শারদীয় দুর্গাপূজা উত্তর পূণর্মিলনী অনুষ্ঠানে বক্তারা সেলিম জাহাঙ্গীরকে পূর্ণ সমর্থন দেন। সনাতন সংস্থা, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ ও পৌর পুজা উদযাপন পরিষদ এই পূণর্মিলনীর আয়োজন করে।
এ সময় হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ এবার জাতীয়তাবাদী দল থেকে তাড়াশের প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়ার দাবী জানিয়ে বক্তব্য রাখেন।
বক্তারা শারদীয় দুর্গোৎসবের সাফল্যের পাশাপাশি এই ধরনের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি আরও দৃঢ় হবে বলে আশা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি সিরাজগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী খন্দকার সেলিম জাহাঙ্গীরকে এমপি মনোনয়ন দেয়ার জোর দাবী জানান। এ সময় হিন্দু ও আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষ দল-মত নির্বিশেষে খন্দকার সেলিম জাহাঙ্গীরকে ভোট দেওয়ার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা বিএনপির উপদেষ্টা ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সেলিম জাহাঙ্গীর আদিবাসী ও বর্ণ হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, এবার তাড়াশে হিন্দু-মুসলমান ঐক্যবদ্ধ হয়ে দাবী করছে তাড়াশে এমপি মনোনয়ন দিতে হবে। আপনাদের মনোনীত প্রার্থী হাইব্রিড নয়। ব্যবসা-বানিজ্য করে হঠাৎ করে রাজনীতিতে আসি নাই। আমার বাবা এই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছিলেন, আমার ছোট ভাই এই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছিল। আমি উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলাম, ফল পরিবর্তণ করে অন্যজনকে জেতানো হয়েছে।
জামায়াতে ইসলামীর কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, যখন ব্রিটিশের কাছ থেকে বিভক্ত হতে চাইলাম, সেদিনও মওদুদী সাহেবের জামায়াত বিরোধীতা করেছিল। কিন্তু তাদের বিরোধীতায় কিছু আসে যায় নাই। ভারতও স্বাধীনতা পেয়েছে পাকিস্তানও স্বাধীনতা পেয়েছে। জামায়াত দালালি করে ঠেকাতে পারে নাই। আমরা যখন বাংলার মানুষ ৬৯ এর গণ আন্দোলন, ৭০ এর ভোট। ৭১-এ আমাদের বাঙালি জেগে উঠলো। সে সময় আমাদের যুবক ছেলেরা বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়ে সম্মুখ যুদ্ধে নেমেছিল। দেশ স্বাধীন করেই তারা ঘরে ফিরেছিল। সেদিনও যারা স্বাধীনতার বিরোধীতা করেছিল, হিন্দুদের বাড়ি দেখিয়ে দিয়েছিল, তাদের বাড়িতে আগুন দিয়েছিল। আজকে তারা সাধু সেজে তাদের মনোগ্রাম থেকে আল্লাহর নাম মুছে দিচ্ছে, যাতে মানুষ বোঝে যে আমরা আর আগের মতো নাই। ওই ছবিতে নাম মোছা না মোছা নিয়ে কিছু আসে যায়, যদি চরিত্র না বদলায়।
তিনি বলেন, দলের নাম জামায়াতে ইসলামী, তাহলে ইসলামের দল। তারা আবার হিন্দু শাখা করতেছে। তোমরা একবার মুসলমানের কাছে বলো বেহেশতের টিকিট নিতে হলে আমাদের জামায়াতে ইসলামে আসা লাগবে। হিন্দুদের কাছে গিয়ে কি বলবে, যে স্বর্গের টিকিটও আমরা দেবো। আরে মুর্খ তোমাদের বলতে চাই, পৃথিবীর কয়টা দেশে জামায়াতে ইসলাম আছে। পাকিস্তান-বাংলাদেশ আর ভারতে কিছুটা আছে। তাহলে এই তিন দেশের বাইরে যে সকল মানুষ আছে, হিন্দু মুসলমান বৌদ্ধ খ্রীষ্টান এরা কি বেহেশতে যাবে না। তোমরা বেহেশতের টিকিট দিচ্ছো এই তিন দেশের মানুষের জন্য। তাহলে ওইসব দেশের মানুষকে বেহেশতের টিকিট দেবে কে?
এইসব ভন্ডামি বাদ দিয়ে রাজনীতি করতে চাইলে রাজনীতির মাঠে আসো। মেনুফেস্টো তুলে ধরো, যদি মানুষকে বুঝাইয়া ভোট নিতে পারো ভালো। তুমি মসজিদে গিয়া ইমামতী করতে চাও, মসজিদ দখল করতে চাও, মসজিদ রাজনৈতিক অফিস করতে চাও। আজকে এখানে বলে দিলাম আর কোন তাড়াশ থানার মসজিদে রাজনৈতিক কর্মকান্ড চলবে না। আমরা যেমন মঞ্চে রাজনীতি করি তোমাদেরও মঞ্চে ফিরে আসতে হবে। ভন্ডামি বাদ দিতে হবে। নভেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত ইসলামাকি জালসা হবে। মঞ্চে কোন ইসলামী জালসা, কবরস্থান মসজিদ যেসব জালসা হবে কোথাও রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে দেওয়া হবে না। রাজনৈতিক বক্তৃতা রাজনৈতিক মঞ্চেই দিতে হবে।
এটা অন্য কেউ নয় সেলিম জাহাঙ্গীর তাড়াশে বিএনপির নেতৃত্ব দেয়। এখানে হিসাব করে রাজনীতি করতে হবে। ভন্ডামি করার সুযোগ আমি সেলিম জাহাঙ্গীর থাকতে করতে দেব না।
তিনি বলেন, যারা স্বাধীনতা চায়নি, তারা যুদ্ধে হেরে গেছে। পশ্চিমা পাক হানাদার বাহিনীরা যখন যুদ্ধ শুরু করলো, তখন তো আমরা যখন হতাশ। সেই সময় ২৬ মার্চ শহীদ প্রেসিডেন্ট মেজর জিয়াউর রহমান কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দিলো। যুদ্ধের ঘোষণা দিয়ে তিনি পালিয়ে যান নি। তিনি সেক্টর কমান্ডার হয়ে যুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছেন। মেজর জিয়ার দল করে আমি গর্বিত। আমি গর্বিত আমি মুক্তিযোদ্ধার সন্তান।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, বিষমডাঙ্গা বালিকা স্কুল এন্ড কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ খগেন্দ্রনাথ মাহাতো। হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শ্যাম সুন্দর টুটুলের আরও বক্তব্য রাখেন, তাড়াশ পৌর বিএনপির সাবেক আহবায়ক তপন গোস্বামী, সনাতন সংস্থার সহ-সভাপতি সনাতন দাশ, সাধারণ সম্পাদক মৃদুল সরকার, আদিবাসী নেতা সুশীল মাহাতো, ধীরেন বসাক, বাসুদেব উড়াও, পরেশ মাহাতো, বিচিত্রা রানী, সনজিত মাহাতো প্রমূখ।

রিপোর্টার: 



















