নিজস্ব প্রতিবেদক। জনতার কণ্ঠ.কম
সিরাজগঞ্জের পৌর এলাকার মঙ্গলবাড়ীয়া ওএমএস’র বিক্রয কেদ্রে খোলার দুই ঘন্টা পূবেই বৃষ্টিতে ভিজে আটা কিনতে এসে কাঁদা মাটির লাইনে দাঁড়িয়েছেন মরিয়ম পারভীন (৪৮) ও প্রায় তিন শতাধিক নারী-পুরুষ। সকাল ১০ টায় ওএমএস’র ডিলার আটা বিক্রি শুরু করেছেন। কিন্তু বেলা বাড়ার সাথে কাঁদা মাটির লাইনে দীর্ঘ হচ্ছেই। এক পর্য্যায়ে দুপুর গড়ানোর আগেই এ ডিলারের বরাদ্দকৃত ৫০০ কেজি আটা শেষ হয়ে যায়। অবশ্য, মরিয়ম আটা পাওয়ার পর পরই বরাদ্দকৃক আটা ফুরিয়ে যাওয়ায় আটা না পেয়ে খালি হাতে বাড়ি ফিরেছেন অনন্তঃ শতাধিক নিন্ম আয়ের লোকজন।
মঙ্গলবার সরেজমিনে এ দৃশ্য দেখা গেছে, পৌর এলাকার রঘুনিলী ওএমএস’র বিক্রয কেন্দ্রে। এ সময নিন্ম আয়ের মানুষ মায়া রানী আক্ষেপ করে বলেন, সরকারি বরাদ্দ কম তাই ওএমএস’র বিক্রয় কেন্দ্রের ডিলারের আটা শেষ হয়। কিন্তু লাইন শেষ হয়না।
অপরদিকে, পৌর এলাকার রঘুনিলী মঙ্গলবাড়িয়া বাজার এলাকার ওএমএস’র বিক্রয কেন্দ্রের ডিলার হাদিউল হৃদয় জানান, সকালেই আটা কিনতে এসে লাইনে দাঁড়িয়ে যান প্রায় ৩২০-৩৪০ জন তিন নারী-পুরুষ। অথচ সরকারি বরাদ্দ প্রতি ডিলারের জন্য প্রতিদিন ৫০০ কেজি আটা। যা জন প্রতি ৫ কেজি করে দিলে সে আটা দেওয়া যায় ২০০ জনকে। এ কারনে চাহিদার বিপরীতে বরাদ্দ কম হওয়ায় শতাধিক লোক তো আটা পাবেন না। এটা বাস্তবতা।
তাড়াশ উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সুত্রে জানা গেছে, গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে তাড়াশ পৌরসভার ৬ জন ওএমএস‘র ডিলারের মাধ্যমে পৌরসভার ৬টি মহল্লায় আটা বিক্রি শুরু হয়েছে। মাসে ২২ কর্ম দিবসে ৬ জন ডিলার ২২ টণ আদা বিক্রি করবেন। সে মোতাবেক রেশনিং পদ্ধতিতে প্রতি একজন ডিলার এক দিনের জন্য ৫০০ কেজি সরকারি বরাদ্দের আটা বিক্রি করতে পারেন। অথাৎ নিয়নুযায়ী উপজেলা এলাকার যে কেউ জাতীয় পরিচয় পত্র দেখিয়ে জন প্রতি ৫ কেজি করে আটা কিনতে পারবেন। বা ওএমএস’র একজন ডিলার তার বরাদ্দকৃত আটা ২৪ টাকা কেজি দরে ২০০ জনকে দিতে পারবেন।
কিন্তু খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাজারে খোলা বর্তমান আটা বিক্রি হচ্ছে, ৪৫- ৪৮ টাকা ও প্যাকেটজাত আটা ৫২-৫৫ টাকা কেজি। সেখানে ওএমএস’র বিক্রয কেন্দ্রের প্রতি কেজি আটা ২৪ টাকায় বিক্রি হয়। যে কারণে তাড়াশ উপজেলার পৌর এলাকায় যে ৬টি ওএমএস’র বিক্রয কেন্দ্রে আটা বিক্রি হচ্ছে তার সব গুলোতে আটা ক্রেতা নারী- পুরুষের প্রচুর ভীড় ও দীর্ঘ লাইন লক্ষ্য করা গেছে।
এ দিকে তাড়াশ হাসপাতাল মোড়ে মহল্লার রহিছ উদ্দিন জানান, বাজারের চেয়ে কম দামে আটা এখানে আটা পাওয়ায় নিন্ম ও মধ্যবিত্ত পরিবারের লোকজনও আটা কিনতে আসছেন। এ কারণে ভীড়ও বেশি।
আরেক আটা ক্রেতা সাবিনা খাতুন বলেন, বাড়ির ছেলে-মেয়েরা ভাতের পাশাপাশি রুটি খেতে পছন্দ করে। আবার ওএমএস’র আটার দামও কম। তাই আটা কিনতে এসেছি। অবশ্য আমি ৫ কেজি আটা ১২০ টাকায় নিতে পারলেও দুপুরের পর পরই বিক্রয় কেন্দ্রে আটা ফুরিয়ে যাওয়ায় আমার সাথে আসা ২০-২৫ জন আটা নিতে পারেনি।
অবশ্য, সাবিনা খাতুন রাবেয়া বেগমসহ এ বিক্রয় কেন্দ্রে অনন্ত ১০ জন ওএমএস’র বিক্রয় কেন্দ্রের জন্য প্রতিদিন সরকারি আটা বরাদ্দ ৫০০ থেকে ১০০০ কেজি বাড়ানোর দাবী জানান।
এ প্রসঙ্গে তাড়াশ উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. ইকবাল হোসেন জানান, ওএমএস’র আটার দামও কম হওয়ায় আটা চাহিদা বরাদ্দের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি। পাশাপাশি চাহিদার প্রেক্ষিতে ওএমএস’র ডিলারদের ৫০০ কেজি আটার বরাদ্দ বাড়ানো যায় কিনা তা উর্দ্ধতনদের জানাবো।

রিপোর্টার: 



















