জনতার কন্ঠ ডেস্ক:
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের দীর্ঘ এক বছর পর জুলাই ঘোষণাপত্র দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। সেই ঘোষণাপত্রে বলা হয়েছে, পরবর্তী নির্বাচনে নির্বাচিত সরকারের সংস্কার করা সংবিধানের তফসিলে এই ঘোষণাপত্র সন্নিবেশিত থাকবে।
আইনজীবীরা ঘোষণাপত্রকে সাধুবাদ জানিয়ে বলছেন, এটি জুলাই আন্দোলনের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি। এই ঘোষণাপত্র তফসিলে সন্নিবেশিত করতে হলে সংবিধানের ১৫০ অনুচ্ছেদ সংশোধন করতে হবে।
স্বৈরাচার শেখ হাসিনার পতন ও পলায়নের প্রথম বর্ষপূর্তির দিনে জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ করেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) বিকেল ৫টায় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ করেন তিনি।
ঘোষণাপত্রের সংশ্লিষ্ট অংশে বলা হয়, বাংলাদেশের জনগণ এই অভিপ্রায় ব্যক্ত করছে যে, ছাত্র-গণঅভ্যুত্থান ২০২৪-এর উপযুক্ত রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া হবে এবং পরবর্তী নির্বাচনে নির্বাচিত সরকারের সংস্কার করা সংবিধানের তফসিলে এ ঘোষণাপত্র সন্নিবেশিত থাকবে।
জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, এটি একটি হিস্ট্রিক্যাল এভিডেন্স। এটা সংবিধানের তফসিলে থাকতে পারে। এতে কোনো সমস্যা নেই। তবে সেটা সংবিধান সংশোধন করে যুক্ত করতে হবে।
বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের এক্সিকিউটিভ কমিটি চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, ঘোষণাপত্রের ২৭ নম্বর অনুচ্ছেদে ভবিষ্যতে সাংবিধানিকভাবে এর স্বীকৃতির কথা বলা হয়েছে এবং সুনির্দিষ্টভাবে সংস্কার করা সংবিধানের তফসিলে এ ঘোষণাপত্র সন্নিবেশিত থাকবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, এই ঘোষণাপত্র সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করতে হলে বিদ্যমান সংবিধানের ১৫০ নম্বর অনুচ্ছেদ সংশোধন করতে হবে। বিগত হাসিনা সরকার সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে এই অনুচ্ছেদও নিজেদের মতো করে সংশোধন করে সংবিধানকে মূলত আওয়ামী লীগের দলীয় দলিলে রূপান্তরিত করা হয়।
এই আইনজীবী বলেন, জনআকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়ন করতে হলে, হয় ১৫০ নম্বর অনুচ্ছেদকে পঞ্চদশ সংশোধনী আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে হবে অথবা সংবিধানের ১৫০ নম্বর অনুচ্ছেদ নতুন করে লিখতে হবে। ১৫০ নম্বর অনুচ্ছেদ আগের অবস্থায় ফিরিয়ে এনে আজকের ঘোষণাপত্রটি চতুর্থ তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করা হলে এর যথাযথ সাংবিধানিক স্বীকৃতি মিলবে। একই সঙ্গে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সাংবিধানিক বৈধতা ও পরবর্তী সরকার গঠন পর্যন্ত তাদের কাজের বৈধতাও এই ১৫০ নম্বর অনুচ্ছেদ ও চতুর্থ তফসিলের মাধ্যমে হতে হবে।
আইনজীবী শিশির মনির বলেন, এটি একটি অগ্রগতি। পরে সংস্কারের মাধ্যমে একটি নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ হবে। এই ঘোষণাপত্র পরবর্তী সময়ে সংবিধানের তফসিলে সংযুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। এই ঘোষণাপত্র ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে প্রযোজ্য হবে, সেটি শুনতে পাইনি।
বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আইন সংবিধানে ১১ ভাগে মোট ১৫৩টি অনুচ্ছেদ রয়েছে। সেখানে রাষ্ট্রপরিচালনার মূলনীতি, মৌলিক অধিকার, নির্বাহী বিভাগ, আইন সভা, বিচার বিভাগ, নির্বাচন ও কর্ম বিভাগ— ইত্যাদি কীভাবে চলবে সেটি সম্পর্কে বলা রয়েছে।
এর বাইরে সংবিধানে সাতটি তফসিল রয়েছে। তবে দ্বিতীয় তফসিল বিলুপ্ত। তফসিল হচ্ছে মূলত বিভিন্ন ধারার অধীনে অতিরিক্ত তথ্য। যেমন প্রথম তফসিলে ৪৭ নম্বর অনুচ্ছেদের অধীনে বিভিন্ন আইনের উল্লেখ করা হয়েছে। দ্বিতীয় তফসিল ছিল, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সংক্রান্ত। চতুর্থ সংশোধনীতে এটি বাতিল করা হয়েছে।
তৃতীয় তফসিল ১৪৮ নম্বর অনুচ্ছেদের অধীন শপথ ও ঘোষণা সংক্রান্ত। চতুর্থ তফসিল ১৫০ (১) অনুচ্ছেদের অধীন ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলি সংক্রান্ত। পঞ্চম তফসিল ১৫০(২) অনুচ্ছেদের অধীন ৭ মার্চের ভাষণ।
ষষ্ঠ তফসিল ১৫০(২) অনুচ্ছেদের অধীন শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা। সপ্তম তফসিল ১৫০(২) অনুচ্ছেদের অধীন ১০ এপ্রিল মুজিবনগর সরকারের জারি করা স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র রয়েছে।

রিপোর্টার: 



















