সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo মমতাকে অব্যাহতি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হলো পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রিসভা Logo কবিগুরুর জন্মবার্ষিকী উদযাপনে প্রস্তুত শাহজাদপুরের কাছারিবাড়ি Logo নিকার অনুমোদন: ভূল্লী উপজেলা গঠনে জনসাধারণের উচ্ছ্বাস Logo ধর্ষণ মামলায় নির্দোষ ইমাম জেলে, ডিএনএ পরীক্ষায় বেরিয়ে এলো আসল তথ্য Logo অবৈধভাবে গড়ে উঠা স্থাপনা দখলমুক্ত হবে: পানি সম্পদ মন্ত্রী Logo বিদ্যুৎ মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি: বিদ্যুৎমন্ত্রী Logo  বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও ট্রান্সফরমার চোর চক্রের ৯ সদস্য গ্রেফতার Logo মাদক সেবনের দায়ে কারাদণ্ড, কলেজ ছাত্রদল সভাপতি বহিষ্কার Logo মাসুদ উদ্দিনকে জুলাই হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল Logo ইসরায়েলকে হুমকি দিলে কঠিন পরিণতি: নেতানিয়াহুর হুঁশিয়ারি

চট্টগ্রামে ৪ ঘণ্টা আগুন নিয়ন্ত্রণে আসেনি, ২৫ শ্রমিক উদ্ধার

  • রিপোর্টার:
  • আপডেট টাইম : ০৮:২১:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৫
  • 88

ন্যাশনাল ডেস্ক। জনতার কণ্ঠ.কম

চট্টগ্রাম রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ এলাকার (সিইপিজেড) একটি ভবনে চিকিৎসা সরঞ্জাম তৈরির একটি কারখানায় লাগা ভয়াবহ আগুন চার ঘণ্টায়ও নিয়ন্ত্রণে আসেনি। আগুন নেভাতে যোগ দিয়ে সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনী। সৃষ্ট আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে কোনো তথ্য জানাতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস।

বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর‌) দুপুর ২টার দিকে সিইপিজেডের ১ নম্বর সেক্টরের ৫ নম্বর সড়কের ‘অ্যাডামস ক্যাপ অ্যান্ড টেক্সটাইল লিমিটেড’ নামের ওই কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত নগরীর সিইপিজেড, বন্দর, কেইপিজেড ও আগ্রাবাদের ১৫টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। যুক্ত হয়েছে নৌবাহিনীর ৪টি ইউনিট। এছাড়া ইপিজেড, সিইপিজেডে নিয়মিত সেনাবাহিনীর দল আগুনকবলিত এলাকায় উপস্থিত রয়েছে। সৃষ্ট আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে কোনো তথ্য জানাতে পারেনি আগুন নিয়ন্ত্রণকারী দল। তবে আগুনকবলিত কারখানা থেকে অন্তত ২০-২৫ জন শ্রমিককে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। সেখানে আর কোনো শ্রমিক-কর্মচারী আটকে আছেন কিনা, সেটা খুঁজে দেখা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

সিইপিজেড সূত্র জানায়, ভবনটিতে মোট ৭০০ শ্রমিক কাজ করেন। তাদের কেউ আহত হননি। চট্টগ্রাম রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের (সিইপিজেড) নির্বাহী পরিচালক আবদুস সুবাহান বলেন, ‘আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে শ্রমিকদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় কারও হতাহত হওয়ার আশঙ্কা নেই। আগুন নিয়ন্ত্রণের নৌবাহিনীর ফায়ার ফাইটার ইউনিট এখানে কাজ করছে। এছাড়া ফায়ার সার্ভিসের অনেকগুলো ইউনিট শুরু থেকেই আগুন নেভানোর কাজে অংশ নিয়েছে।’

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ফায়ার সার্ভিস ও নৌবাহিনীর সদস্য আগুন নেভাতে কাজ করছেন। চারপাশে ছড়িয়ে পড়েছে ঘন কালো ধোঁয়া। আগুন ধীরে ধীরে ছয় ও পাঁচতলায় ছড়িয়ে পড়ছে। আগুনকবলিত ভবনটির চারপাশ ঘিরে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও শিল্প পুলিশের সদস্যরা অবস্থান নিয়েছেন। অহেতুক লোকজন যাতে ভিড় করতে না পারে, সেই চেষ্টা করছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। তবে প্রচুর পরিমাণে দাহ্য বস্তু থাকতে পারে বলে ধারণা ফায়ার সাভিসের।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স বিভাগের উপ-পরিচালক মো. জসিম উদ্দিন বলেন, আটতলা ভবনটির ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম তলায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। দ্রুত আগুন নেভানের সব ধরনের সরঞ্জাম নিয়ে ফায়ার সার্ভিসের ইউনিটগুলো কাজ করছে। আগুন এখনো নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি। আগুনের যে অবস্থা, ভেতরে ঢোকা আমাদের জন্য কঠিন। তারপরও পাঁচতলা পর্যন্ত আমরা গেছি। ওইখানে আমাদের টিম কাজ করছে। এখন আমরা যেটা চাচ্ছি, আগে আমরা ছয়তলা, সাততলা এটার আগুন নিয়ন্ত্রণে আনবো। এটার চতুর্দিকে ইলেকট্রিকের লাইন আছে, ভেতরে যাবার কোনো স্পেস নেই।

তিনি আরও বলেন, অলরেডি ২০-২৫ জনের মতো আমরা রেস্কিউ করেছি। আর কেউ আছে কিনা সেটা আমরা খুঁজে দেখছি। কিন্তু আগুন যতক্ষণ পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণে আসবে না, ততক্ষণ পর্যন্ত কিছুই বলা যাবে না। আমরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছি। আমরা বিল্ডিংটাকে চতুর্দিকে ঘিরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছি। যেহেতু এটা কারখানা, এখানে প্রচুর পরিমাণে দাহ্য বস্তু আছে।

জি হং মেডিকেল কোম্পানির শ্রমিক মোছাম্মত শিপা বলেন, ‘যে জায়গা থেকে আগুনের সূত্রপাত, সেখানে সাধারণত নারীদের যাওয়া নিষেধ।’ তিনি পাঁচতলায় কাজ করতেন। দুপুরে খাওয়ার পর তিনি ‘আগুন, আগুন’ বলে চিৎকার করে ওপর থেকে অনেককে নামতে দেখেন। এ চিৎকার শুনে তিনিসহ সবাই দৌড়ে নিচে নেমে আসেন।

এ বিষয়ে ইপিজেড থানার ওসি মোহাম্মদ জামির হোসেন জিয়া কালবেলাকে বলেন, ‘সিইপিজেডে একটি ভবনে চিকিৎসা সরঞ্জাম তৈরির একটি কোম্পানির দুইটি তলায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ওই দুই তলায় গুদাম বলে ধারণা করছি। আগুন লাগার খবরে সিঁড়ি দিয়ে হুড়োহুড়ি করে নারীদের নামতে দেখা গেছে। গুরুতর তেমন আহত হয়নি। এখনো সেখানে আগুন জ্বলছে।’

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মমতাকে অব্যাহতি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হলো পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রিসভা

চট্টগ্রামে ৪ ঘণ্টা আগুন নিয়ন্ত্রণে আসেনি, ২৫ শ্রমিক উদ্ধার

আপডেট টাইম : ০৮:২১:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৫

ন্যাশনাল ডেস্ক। জনতার কণ্ঠ.কম

চট্টগ্রাম রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ এলাকার (সিইপিজেড) একটি ভবনে চিকিৎসা সরঞ্জাম তৈরির একটি কারখানায় লাগা ভয়াবহ আগুন চার ঘণ্টায়ও নিয়ন্ত্রণে আসেনি। আগুন নেভাতে যোগ দিয়ে সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনী। সৃষ্ট আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে কোনো তথ্য জানাতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস।

বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর‌) দুপুর ২টার দিকে সিইপিজেডের ১ নম্বর সেক্টরের ৫ নম্বর সড়কের ‘অ্যাডামস ক্যাপ অ্যান্ড টেক্সটাইল লিমিটেড’ নামের ওই কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত নগরীর সিইপিজেড, বন্দর, কেইপিজেড ও আগ্রাবাদের ১৫টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। যুক্ত হয়েছে নৌবাহিনীর ৪টি ইউনিট। এছাড়া ইপিজেড, সিইপিজেডে নিয়মিত সেনাবাহিনীর দল আগুনকবলিত এলাকায় উপস্থিত রয়েছে। সৃষ্ট আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে কোনো তথ্য জানাতে পারেনি আগুন নিয়ন্ত্রণকারী দল। তবে আগুনকবলিত কারখানা থেকে অন্তত ২০-২৫ জন শ্রমিককে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। সেখানে আর কোনো শ্রমিক-কর্মচারী আটকে আছেন কিনা, সেটা খুঁজে দেখা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

সিইপিজেড সূত্র জানায়, ভবনটিতে মোট ৭০০ শ্রমিক কাজ করেন। তাদের কেউ আহত হননি। চট্টগ্রাম রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের (সিইপিজেড) নির্বাহী পরিচালক আবদুস সুবাহান বলেন, ‘আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে শ্রমিকদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় কারও হতাহত হওয়ার আশঙ্কা নেই। আগুন নিয়ন্ত্রণের নৌবাহিনীর ফায়ার ফাইটার ইউনিট এখানে কাজ করছে। এছাড়া ফায়ার সার্ভিসের অনেকগুলো ইউনিট শুরু থেকেই আগুন নেভানোর কাজে অংশ নিয়েছে।’

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ফায়ার সার্ভিস ও নৌবাহিনীর সদস্য আগুন নেভাতে কাজ করছেন। চারপাশে ছড়িয়ে পড়েছে ঘন কালো ধোঁয়া। আগুন ধীরে ধীরে ছয় ও পাঁচতলায় ছড়িয়ে পড়ছে। আগুনকবলিত ভবনটির চারপাশ ঘিরে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও শিল্প পুলিশের সদস্যরা অবস্থান নিয়েছেন। অহেতুক লোকজন যাতে ভিড় করতে না পারে, সেই চেষ্টা করছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। তবে প্রচুর পরিমাণে দাহ্য বস্তু থাকতে পারে বলে ধারণা ফায়ার সাভিসের।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স বিভাগের উপ-পরিচালক মো. জসিম উদ্দিন বলেন, আটতলা ভবনটির ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম তলায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। দ্রুত আগুন নেভানের সব ধরনের সরঞ্জাম নিয়ে ফায়ার সার্ভিসের ইউনিটগুলো কাজ করছে। আগুন এখনো নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি। আগুনের যে অবস্থা, ভেতরে ঢোকা আমাদের জন্য কঠিন। তারপরও পাঁচতলা পর্যন্ত আমরা গেছি। ওইখানে আমাদের টিম কাজ করছে। এখন আমরা যেটা চাচ্ছি, আগে আমরা ছয়তলা, সাততলা এটার আগুন নিয়ন্ত্রণে আনবো। এটার চতুর্দিকে ইলেকট্রিকের লাইন আছে, ভেতরে যাবার কোনো স্পেস নেই।

তিনি আরও বলেন, অলরেডি ২০-২৫ জনের মতো আমরা রেস্কিউ করেছি। আর কেউ আছে কিনা সেটা আমরা খুঁজে দেখছি। কিন্তু আগুন যতক্ষণ পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণে আসবে না, ততক্ষণ পর্যন্ত কিছুই বলা যাবে না। আমরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছি। আমরা বিল্ডিংটাকে চতুর্দিকে ঘিরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছি। যেহেতু এটা কারখানা, এখানে প্রচুর পরিমাণে দাহ্য বস্তু আছে।

জি হং মেডিকেল কোম্পানির শ্রমিক মোছাম্মত শিপা বলেন, ‘যে জায়গা থেকে আগুনের সূত্রপাত, সেখানে সাধারণত নারীদের যাওয়া নিষেধ।’ তিনি পাঁচতলায় কাজ করতেন। দুপুরে খাওয়ার পর তিনি ‘আগুন, আগুন’ বলে চিৎকার করে ওপর থেকে অনেককে নামতে দেখেন। এ চিৎকার শুনে তিনিসহ সবাই দৌড়ে নিচে নেমে আসেন।

এ বিষয়ে ইপিজেড থানার ওসি মোহাম্মদ জামির হোসেন জিয়া কালবেলাকে বলেন, ‘সিইপিজেডে একটি ভবনে চিকিৎসা সরঞ্জাম তৈরির একটি কোম্পানির দুইটি তলায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ওই দুই তলায় গুদাম বলে ধারণা করছি। আগুন লাগার খবরে সিঁড়ি দিয়ে হুড়োহুড়ি করে নারীদের নামতে দেখা গেছে। গুরুতর তেমন আহত হয়নি। এখনো সেখানে আগুন জ্বলছে।’