সিরাজগঞ্জ , শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রেষ্টুরেন্টের বাইরে উচ্চস্বরে গান বাজিয়ে কিশোরী ধর্ষণ, গ্রেপ্তার ৩

  • রিপোর্টার:
  • আপডেট টাইম : ০৩:৫৯:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ অক্টোবর ২০২৫
  • ১৭১ জন দেখেছেন

কামারখন্দ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি। জনতার কণ্ঠ.কম

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দের একটি রেষ্টুরেন্টের বাইরে সাউন্ডবক্সে উচ্চস্বরে গান বাজিয়ে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীকে জোরপূর্বক ধর্ষণের আলোচিত ঘটনায় ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

 

সোমবার (২০ অক্টোবর) গভীর রাত পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এরা হলেন, উপজেলার জামতৈল গ্রামের মো. আলমের ছেলে মো. আকাশ (২১), একই গ্রামের নান্নু সরকারের ছেলে মো. আতিক (২৩) ও কর্ণসূতি গ্রামের জাহাঙ্গীর প্রামানিকের ছেলে মো. নাজমুল হক নয়ন (২৩)।

 

এর আগে সোমবার সন্ধ্যায় নির্যাতিত কিশোরীর মা বাদী হয়ে ধর্ষক নাইম হোসেনকে (২১) প্রধান আসামি করে আরও ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। নাইম চর কামারখন্দ গ্রামের রহমত আলীর ছেলে।  গ্রেপ্তারকৃত তিনজন মামলার এজাহার নামীয় আসামি।

পড়ুন: রেষ্টুরেন্টে কিশোরী ধর্ষণের চিৎকার আড়াল করতে বাজানো হচ্ছিল গান

ভুক্তভোগী কিশোরী উপজেলার কর্ণসূতি গ্রামের বাসিন্দা এবং সে স্থানীয় একটি দাখিল মাদ্রাসার ৭ম শ্রেণীর ছাত্রী। মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা কামারখন্দ থানার উপ-পরিদর্শক রতন কুমার সাহা তিনজনকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

 

রোববার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে মাদ্রাসা থেকে কলম কেনার জন্য বাইরে বের হলে ওই কিশোরীকে ৬/৭ যুবক জোরপূর্বক অটোরিকশায় তুলে নেয়। তাকে জামতৈল সেন্ট্রাল পার্কের পাশে ডেরা ফাস্টফুড এন্ড চাইনিজ রেষ্টুরেন্টে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে নাইম। কিশোরীর চিৎকার যাতে বাইরে না যায় সে জন্য বাকি আসামিরা সাউন্ডবক্সে উচ্চস্বরে গান বাজায়। এক পর্যায়ে সে অসুস্থ্য হলে ধর্ষক ও তার বন্ধুরা হাসপাতালে নিয়ে সেখানে রেখে পালিয়ে যায়।

 

বর্তমানে ভিকটিম শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। সোমবার অস্ত্রপাচারের মাধ্যমে ভিকটিমের ক্ষতিগ্রস্থ বিশেষ অঙ্গ রিপায়ার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন, শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. এ. টি. এম. নুরুজ্জামান।

 

ভুক্তভোগী কিশোরীর মা বলেন, সকালে মেয়ে মাদ্রাসায় যায়। ছুটি হলেও সে বাড়ি না ফেরায় আমরা খুঁজতে থাকি। হঠাৎ কেউ ফোনে জানায় আমার মেয়ে অসুস্থ হয়ে সিরাজগঞ্জের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ভর্তি আছে। সেখানে গিয়ে মেয়ের অবস্থা খুব খারাপ দেখে মুনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে  ভর্তি করি।

এদিকে সোমবার সকালে ঘটনাস্থল ডেরা ফাস্ট ফুড এ্যান্ড চাইনিজ রেস্টুরেন্টে সাংবাদিকরা গিয়ে কয়েকজন যুবককে আড্ডা দিতে দেখে। এ সময় তারা সাংবাদিকদের উপর চড়াও হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে রেস্টুরেন্টটি সাময়িক বন্ধ করে দেয় এবং দুজনকে আটক করে।

স্থানীয়দের অভিযোগ কামারখন্দ সেন্টাল পার্ক সংলগ্ন এলাকার ওই রেস্টুরেন্টে তরুণ-তরুণী ও কিশোর-কিশোরীরা অসামাজিক কর্মকাণ্ড করে। ওই এলাকায় মাঝে মধ্যে ছিনতাইয়ের ঘটনাও ঘটে বলে অনেকেই অভিযোগ করেন।

কামারখন্দ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল লতিফ বলেন, আলোচিত এই ঘটনার পরপরই পুলিশ অভিযান শুরু করে। তিনজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। প্রধান আসামিসহ বাকিদের গ্রেপ্তার অভিযান চলছে। ক্রাইম সিন হিসেবে রেস্টুরেন্টটি বন্ধ করা হয়েছে।

83
Created on
আপনার মতামত দিন

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপনি কোন দলকে ক্ষমতায় দেখতে চান ?

One thought on “রেষ্টুরেন্টের বাইরে উচ্চস্বরে গান বাজিয়ে কিশোরী ধর্ষণ, গ্রেপ্তার ৩

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রেষ্টুরেন্টের বাইরে উচ্চস্বরে গান বাজিয়ে কিশোরী ধর্ষণ, গ্রেপ্তার ৩

আপডেট টাইম : ০৩:৫৯:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ অক্টোবর ২০২৫

কামারখন্দ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি। জনতার কণ্ঠ.কম

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দের একটি রেষ্টুরেন্টের বাইরে সাউন্ডবক্সে উচ্চস্বরে গান বাজিয়ে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীকে জোরপূর্বক ধর্ষণের আলোচিত ঘটনায় ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

 

সোমবার (২০ অক্টোবর) গভীর রাত পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এরা হলেন, উপজেলার জামতৈল গ্রামের মো. আলমের ছেলে মো. আকাশ (২১), একই গ্রামের নান্নু সরকারের ছেলে মো. আতিক (২৩) ও কর্ণসূতি গ্রামের জাহাঙ্গীর প্রামানিকের ছেলে মো. নাজমুল হক নয়ন (২৩)।

 

এর আগে সোমবার সন্ধ্যায় নির্যাতিত কিশোরীর মা বাদী হয়ে ধর্ষক নাইম হোসেনকে (২১) প্রধান আসামি করে আরও ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। নাইম চর কামারখন্দ গ্রামের রহমত আলীর ছেলে।  গ্রেপ্তারকৃত তিনজন মামলার এজাহার নামীয় আসামি।

পড়ুন: রেষ্টুরেন্টে কিশোরী ধর্ষণের চিৎকার আড়াল করতে বাজানো হচ্ছিল গান

ভুক্তভোগী কিশোরী উপজেলার কর্ণসূতি গ্রামের বাসিন্দা এবং সে স্থানীয় একটি দাখিল মাদ্রাসার ৭ম শ্রেণীর ছাত্রী। মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা কামারখন্দ থানার উপ-পরিদর্শক রতন কুমার সাহা তিনজনকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

 

রোববার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে মাদ্রাসা থেকে কলম কেনার জন্য বাইরে বের হলে ওই কিশোরীকে ৬/৭ যুবক জোরপূর্বক অটোরিকশায় তুলে নেয়। তাকে জামতৈল সেন্ট্রাল পার্কের পাশে ডেরা ফাস্টফুড এন্ড চাইনিজ রেষ্টুরেন্টে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে নাইম। কিশোরীর চিৎকার যাতে বাইরে না যায় সে জন্য বাকি আসামিরা সাউন্ডবক্সে উচ্চস্বরে গান বাজায়। এক পর্যায়ে সে অসুস্থ্য হলে ধর্ষক ও তার বন্ধুরা হাসপাতালে নিয়ে সেখানে রেখে পালিয়ে যায়।

 

বর্তমানে ভিকটিম শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। সোমবার অস্ত্রপাচারের মাধ্যমে ভিকটিমের ক্ষতিগ্রস্থ বিশেষ অঙ্গ রিপায়ার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন, শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. এ. টি. এম. নুরুজ্জামান।

 

ভুক্তভোগী কিশোরীর মা বলেন, সকালে মেয়ে মাদ্রাসায় যায়। ছুটি হলেও সে বাড়ি না ফেরায় আমরা খুঁজতে থাকি। হঠাৎ কেউ ফোনে জানায় আমার মেয়ে অসুস্থ হয়ে সিরাজগঞ্জের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ভর্তি আছে। সেখানে গিয়ে মেয়ের অবস্থা খুব খারাপ দেখে মুনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে  ভর্তি করি।

এদিকে সোমবার সকালে ঘটনাস্থল ডেরা ফাস্ট ফুড এ্যান্ড চাইনিজ রেস্টুরেন্টে সাংবাদিকরা গিয়ে কয়েকজন যুবককে আড্ডা দিতে দেখে। এ সময় তারা সাংবাদিকদের উপর চড়াও হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে রেস্টুরেন্টটি সাময়িক বন্ধ করে দেয় এবং দুজনকে আটক করে।

স্থানীয়দের অভিযোগ কামারখন্দ সেন্টাল পার্ক সংলগ্ন এলাকার ওই রেস্টুরেন্টে তরুণ-তরুণী ও কিশোর-কিশোরীরা অসামাজিক কর্মকাণ্ড করে। ওই এলাকায় মাঝে মধ্যে ছিনতাইয়ের ঘটনাও ঘটে বলে অনেকেই অভিযোগ করেন।

কামারখন্দ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল লতিফ বলেন, আলোচিত এই ঘটনার পরপরই পুলিশ অভিযান শুরু করে। তিনজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। প্রধান আসামিসহ বাকিদের গ্রেপ্তার অভিযান চলছে। ক্রাইম সিন হিসেবে রেস্টুরেন্টটি বন্ধ করা হয়েছে।