সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo মমতাকে অব্যাহতি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হলো পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রিসভা Logo কবিগুরুর জন্মবার্ষিকী উদযাপনে প্রস্তুত শাহজাদপুরের কাছারিবাড়ি Logo নিকার অনুমোদন: ভূল্লী উপজেলা গঠনে জনসাধারণের উচ্ছ্বাস Logo ধর্ষণ মামলায় নির্দোষ ইমাম জেলে, ডিএনএ পরীক্ষায় বেরিয়ে এলো আসল তথ্য Logo অবৈধভাবে গড়ে উঠা স্থাপনা দখলমুক্ত হবে: পানি সম্পদ মন্ত্রী Logo বিদ্যুৎ মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি: বিদ্যুৎমন্ত্রী Logo  বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও ট্রান্সফরমার চোর চক্রের ৯ সদস্য গ্রেফতার Logo মাদক সেবনের দায়ে কারাদণ্ড, কলেজ ছাত্রদল সভাপতি বহিষ্কার Logo মাসুদ উদ্দিনকে জুলাই হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল Logo ইসরায়েলকে হুমকি দিলে কঠিন পরিণতি: নেতানিয়াহুর হুঁশিয়ারি

বিয়ের আগেই গর্ভবতী, অনাগত সন্তানের স্বীকৃতি চেয়ে ৪ দিন ধরে অনশন

  • রিপোর্টার:
  • আপডেট টাইম : ০৬:০৩:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৫
  • 82
 শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি। জনতার কণ্ঠ.কম
বরিশাল থেকে শাহজাদপুরে এসে গর্ভের সন্তানের স্বীকৃতি চেয়ে ৪ দিন ধরে অনশন করছেন সৈয়দা সোনিয়া আকতার নামে এক নারী। ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার আগ নুকালী গ্রামে আনছার আলীর বাড়ীতে। সৈয়দা সোনিয়া আকতার গর্ভের বাচ্চা ও  স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে কাবিননামা হাতে নিয়ে অনশন শুরু করছেন। গত ২৫ অক্টোবর থেকে এ অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
অনশনকারী গৃহবধূ সৈয়দা সোনিয়া জানান, তার বাড়ী বরিশাল জেলার উজিরপুর উপজেলার
মুন্ডুপাশা গ্রামে। প্রথম স্বামী সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেলে দেড় বছরের শিশু পুত্র নিয়ে ঢাকায় চলে আসেন।  সাভার হেমায়েতপুর রাফি আর্ট গ্যালারির গ্রাফিক্স ডিজাইনার হিসেবে কর্মরত অবস্থায় দুই বছর আগে পরিচয় ঘটে শাহজাদপুরের আগ নুকালি গ্রামের কেসমত মাষ্টারের পুত্র আনছার আলীর সাথে। এক পর্যায়ে সোনিয়ার ফোন নম্বর নিয়ে কথা বলতে বলতে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে।
এরপর বিয়ে করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে একটি বাসা ভাড়া নিয়ে  স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বসবাস করতে থাকে তারা।বিয়ে ও কাবিনের কথা বললে বিভিন্ন অযুহাতে কালক্ষেপণ করে আনছার। একপর্যায়ে সৈয়দা সোনিয়া অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে আনছার আলীকে বিয়ের জন্য চাপ দিলে গত ১লা জুলাই সাভার নিকাহ রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে সাড়ে চার লক্ষ টাকা কাবিনে বিয়ে করে বসবাস করে আসছিলো। বিয়ের ৪মাস না যেতেই হঠাৎ করে বাসা থেকে বের হয়ে আত্মগোপনে চলে যায় আনছার আলী। বেশ কয়েকদিন পর ফোন করে জানান তিনি মালয়েশিয়া গিয়েছেন এবং যাবার আগে সোনিয়াকে ডিভোর্স লেটার পাঠিয়েছেন। এ খবর শুনে মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়ে সোনিয়ার। উপায়ন্ত না দেখে গর্ভের সন্তানের স্বীকৃতি ও স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবী নিয়ে ছুটে আসে আগ নুকালী গ্রামে আনছারের পৈতৃক বাড়িতে। ন্যায়বিচার না পাওয়া পর্যন্ত অনশন চালিয়ে যাবার ঘোষণা গৃহবধূ সোনিয়ার।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলে দলে দলে আসতে থাকে মানুষ। এদিকে এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে  আনছারের বাড়িতে ছুটে আসেন প্রথম স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস শিউলির স্বজনরা।
শিউলির বড় ভাই রুহুল আমিন জানান, ২০০৩ সালে আনছার আলীর সাথে তার বোন শিউলির বিয়ে হয়। দীর্ঘদিন সংসার করার পর জাপান যাওয়ার কথা বলে দফায় দফায় ৮লাখ টাকা নিয়ে সাউথ আফ্রিকায় চলে যায়। এরপর আনছারের পরিবারের লোকজন শিউলির উপর নির্যাতন করতে থাকে। বছর কয়েক আগে আনছারের বড় ভাই স্কুল শিক্ষক আফছার আলী এবং পিতা স্কুল শিক্ষক কিসমত মিলে গভীর রাতে দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করে। পরে শিউলি বাবার বাড়িতে আশ্রয় নেয় এবং একটি মামলা করে। সেই মামলা এখনো চলমান রয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলে আনছারের পিতা কিসমত জানান, আনসারকে তিনি সন্তান হিসেবে মানেন না। আনছারের জন্য তার অনেক ক্ষতি হয়েছে। এর আগেও বিয়ে করে বিদেশে চলে যায়। পরে কবে ফেরৎ এসে নতুন করে এই মেয়েকে বিয়ে করেছে তা তিনি জানেন না।
বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল বারী জানান, আনছারের স্ত্রী পরিচয় দিয়ে মেয়েটি গর্ভের সন্তানের স্বীকৃতি চেয়ে অনশন করছে। দুই পরিবারের অভিভাবক নিয়ে বসে বিষয়টি সমাধান করা হবে।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মমতাকে অব্যাহতি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হলো পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রিসভা

বিয়ের আগেই গর্ভবতী, অনাগত সন্তানের স্বীকৃতি চেয়ে ৪ দিন ধরে অনশন

আপডেট টাইম : ০৬:০৩:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৫
 শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি। জনতার কণ্ঠ.কম
বরিশাল থেকে শাহজাদপুরে এসে গর্ভের সন্তানের স্বীকৃতি চেয়ে ৪ দিন ধরে অনশন করছেন সৈয়দা সোনিয়া আকতার নামে এক নারী। ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার আগ নুকালী গ্রামে আনছার আলীর বাড়ীতে। সৈয়দা সোনিয়া আকতার গর্ভের বাচ্চা ও  স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে কাবিননামা হাতে নিয়ে অনশন শুরু করছেন। গত ২৫ অক্টোবর থেকে এ অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
অনশনকারী গৃহবধূ সৈয়দা সোনিয়া জানান, তার বাড়ী বরিশাল জেলার উজিরপুর উপজেলার
মুন্ডুপাশা গ্রামে। প্রথম স্বামী সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেলে দেড় বছরের শিশু পুত্র নিয়ে ঢাকায় চলে আসেন।  সাভার হেমায়েতপুর রাফি আর্ট গ্যালারির গ্রাফিক্স ডিজাইনার হিসেবে কর্মরত অবস্থায় দুই বছর আগে পরিচয় ঘটে শাহজাদপুরের আগ নুকালি গ্রামের কেসমত মাষ্টারের পুত্র আনছার আলীর সাথে। এক পর্যায়ে সোনিয়ার ফোন নম্বর নিয়ে কথা বলতে বলতে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে।
এরপর বিয়ে করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে একটি বাসা ভাড়া নিয়ে  স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বসবাস করতে থাকে তারা।বিয়ে ও কাবিনের কথা বললে বিভিন্ন অযুহাতে কালক্ষেপণ করে আনছার। একপর্যায়ে সৈয়দা সোনিয়া অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে আনছার আলীকে বিয়ের জন্য চাপ দিলে গত ১লা জুলাই সাভার নিকাহ রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে সাড়ে চার লক্ষ টাকা কাবিনে বিয়ে করে বসবাস করে আসছিলো। বিয়ের ৪মাস না যেতেই হঠাৎ করে বাসা থেকে বের হয়ে আত্মগোপনে চলে যায় আনছার আলী। বেশ কয়েকদিন পর ফোন করে জানান তিনি মালয়েশিয়া গিয়েছেন এবং যাবার আগে সোনিয়াকে ডিভোর্স লেটার পাঠিয়েছেন। এ খবর শুনে মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়ে সোনিয়ার। উপায়ন্ত না দেখে গর্ভের সন্তানের স্বীকৃতি ও স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবী নিয়ে ছুটে আসে আগ নুকালী গ্রামে আনছারের পৈতৃক বাড়িতে। ন্যায়বিচার না পাওয়া পর্যন্ত অনশন চালিয়ে যাবার ঘোষণা গৃহবধূ সোনিয়ার।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলে দলে দলে আসতে থাকে মানুষ। এদিকে এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে  আনছারের বাড়িতে ছুটে আসেন প্রথম স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস শিউলির স্বজনরা।
শিউলির বড় ভাই রুহুল আমিন জানান, ২০০৩ সালে আনছার আলীর সাথে তার বোন শিউলির বিয়ে হয়। দীর্ঘদিন সংসার করার পর জাপান যাওয়ার কথা বলে দফায় দফায় ৮লাখ টাকা নিয়ে সাউথ আফ্রিকায় চলে যায়। এরপর আনছারের পরিবারের লোকজন শিউলির উপর নির্যাতন করতে থাকে। বছর কয়েক আগে আনছারের বড় ভাই স্কুল শিক্ষক আফছার আলী এবং পিতা স্কুল শিক্ষক কিসমত মিলে গভীর রাতে দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করে। পরে শিউলি বাবার বাড়িতে আশ্রয় নেয় এবং একটি মামলা করে। সেই মামলা এখনো চলমান রয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলে আনছারের পিতা কিসমত জানান, আনসারকে তিনি সন্তান হিসেবে মানেন না। আনছারের জন্য তার অনেক ক্ষতি হয়েছে। এর আগেও বিয়ে করে বিদেশে চলে যায়। পরে কবে ফেরৎ এসে নতুন করে এই মেয়েকে বিয়ে করেছে তা তিনি জানেন না।
বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল বারী জানান, আনছারের স্ত্রী পরিচয় দিয়ে মেয়েটি গর্ভের সন্তানের স্বীকৃতি চেয়ে অনশন করছে। দুই পরিবারের অভিভাবক নিয়ে বসে বিষয়টি সমাধান করা হবে।