আজ মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) জাতীয় সংসদের সাবেক স্পীকার, সাবেক পরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রয়াত হুমায়ুন রশিদ চৌধরীরর ৯৭তম জন্ম দিন। তিনি ১৯২৮ সালের ১১ নভেম্বর সিলেটের আম্বরখানা এলাকার দরগাহ গেইটের ‘রশীদ মঞ্জিলে’ জন্মগ্রহণ করেন। তার পৈতৃক নিবাস সুনামগঞ্জ জেলার দরগাপাশা গ্রামে। তার বাবা আব্দুর রশীদ চৌধুরী ছিলেন অবিভক্ত ভারতের কেন্দ্রীয় বিধানসভার সদস্য এবং সিলেট অঞ্চলের আদি সংবাদপত্র যুগভেরী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা। মা বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী ছিলেন পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য। সিলেটের প্রাচীনতম পত্রিকা যুগভেরী সম্পাদক আমীনূর রশীদ চৌধুরী ছিলেন তার বড় ভাই ও সাবেক অর্থমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য ফারুক রশীদ চৌধুরী তার ছোট ভাই।
হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসার হাই মাদ্রাসা সেকশনে প্রাথমিক শিক্ষা ও আসামে মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। তিনি ১৯৪৪ সালে ৮টি ক্রেডিটসহ সিনিয়র ক্যামব্রিজ পাশ করেন। ১৯৪৭ সালে আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মৃত্তিকা বিজ্ঞান, রসায়ন ও ভূগোল বিষয় নিয়ে স্নাতক ডিগ্রি সম্পন্ন করেন হুমায়ূন রশীদ চৌধুরী। তিনি হুমায়ূন রশীদ চৌধুরী ১৯৫৩ সালে তৎকালীন পাকিস্তানের বৈদেশিক সম্পর্ক বিভাগে যোগদান করেন। এর ফলে তিনি ঐ বিভাগের আওতায় বিভিন্ন প্রশিক্ষণে অংশ নেন। এছাড়াও, লন্ডনের ব্রিটিশ বৈদেশিক কার্যালয় এবং কমনওয়েলথ কার্যালয়েও বিভিন্ন প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।
১৯৫৩ সালে হুমায়ুন রশিদ পাকিস্তান ফরেন সার্ভিসে যোগ দেন। তিনি ম্যাস্যাচুসেটসের ফ্লেচার স্কুল অব ল’ অ্যান্ড ডিপ্লোম্যাসি থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৭১ সালে হুমায়ুন রশিদ চৌধুরী বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন এবং দিল্লিতে বাংলাদেশ মিশনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
স্বাধীন বাংলাদেশের প্রতি স্বীকৃতি আদায়ের জন্য তিনি বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আলোচনা করেন। এর আগে তিনি রোম, বাগদাদ, প্যারিস, লিসবন ও জাকার্তায় কুটনীতিকের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি জার্মানিতে, সৌদি আরবে এবং যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
হুমায়ুন রশিদ চৌধুরী প্রেসিডেন্ট হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মন্ত্রিসভায় পররাষ্ট্র মন্ত্রী ছিলেন। তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৪১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৮৬ এবং ১৯৮৮ সালে তিনি পর পর জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন।
১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে পুনরায় তিনি জাতীয় সংসদের সদস্য এবং স্পীকার নির্বাচিত হন।
বিশ্ব শান্তির ক্ষেত্রে তার অবদানের জন্য ভার্জিনিয়ায় অবস্থিত অ্যামেরিকান ইউনিভার্সিটি অব উইলিয়ম অ্যান্ড মেরী ১৯৮৪ সালে হুমায়ুন রশিদ চৌধুরীকে ‘মহাত্মা গান্ধী শান্তি পুরস্কার’ প্রদান করে। ২০০১ সালের ১০ জুলাই এই দেশপ্রেমিকের জীবনাবসান ঘটে। শ্রদ্ধাঞ্জলি।

ন্যাশনাল ডেস্ক। জনতার কণ্ঠ.কম 




















