সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে একটি ইসলামী জালসায় শ্লোগান দেওয়াকে কেন্দ্র করে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ও তার সমর্থকদের উপর দফায় দফায় হামলার অভিযোগ উঠেছে। বিএনপি নেতাকর্মীদের এই হামলায় জামায়াতের ১৪ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তবে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
সোমবার (৮ ডিসেম্বর) রাতে কাজিপুর উপজেলার সোনামুখী ইউনিয়নের স্থলবাড়ি এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক আরমান হোসেন ও সোনামুখী ইউনিয়ন জামায়াতের অর্থ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলামসহ ৪ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, স্থলবাড়ি কওমী মাদ্রাসায় ইসলামী জালসার প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সেলিম রেজা এবং প্রধান মেহমান ছিলেন জামায়াত মনোনীত প্রার্থী জেলা জামায়াতের আমীর মওলানা শাহীনুর আলম। রাত সাড়ে ৯টার দিকে সেলিম রেজা মঞ্চে বক্তব্য রেখে বের হয়ে আসেন। এ সময় মওলানা শাহীনুর আলম তার সমর্থকদের নিয়ে শ্লোগান দিতে দিতে মঞ্চে প্রবেশ করেন। এ নিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের সাথে হট্রগোল শুরু হয়। এক পর্যায়ে জালসার ব্যানারও ছেঁড়া ও মাইক খুলে নেওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে উভয় প্রার্থী মঞ্চে উঠে পরিস্থিতি শান্ত করেন।
জামায়াত ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মওলানা শাহীনুর আলম অভিযোগ করে বলেন, আমি মাহফিলে সাড়ে ৯টার দিকে যাই। এর আগে সেলিম সাহেব বক্তৃতা দিয়ে মঞ্চ থেকে নেমে গেছেন। আমি মঞ্চে গেলে কর্তৃপক্ষ আমাকে শুভেচ্ছা স্বাগতম দিয়েছে। এটাই তাদের গা জ্বালা হয়েছে। এরপর তারা মঞ্চের উপর উঠে আমাদের উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যাপক আরমান হোসেন ও সোনামুখী ইউনিয়ন জামায়াতরে অর্থ সম্পাদক নজরুল ইসলামকে মঞ্চ থেকে নামিয়ে মারধোর করে। এরই মাঝে সেলিম সাহেব আসেন। এরপর আমরা পরিস্থিতি শান্ত করে মাহফিলে আমি বক্তৃতি দিয়ে বের হয়ে চলে যাই। মাহফিল থেকে আধ কিলোমিটার ফাঁকে একটি ব্রীজের উপর আরেক দফা আমার গাড়ীর গতিরোধ করে কয়েকটি মোটর সাইকেল ভাংচুর এবং আমাদের লোকজনকে মারধোর করে। সেখান থেকে সোনামুখী বাজার পার হয়ে মহিষামুড়া রোডে ঢুকলে ওই একই গ্রুপ অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে আরেক দফায় হামলা করে। আমি সংঘাত এড়ানোর জন্য সেখান থেকে চলে আসি। এরপর পুলিশ প্রশাসন আসলে আমি রোগীদের নিয়ে হাসপাতালে চলে আসি।
তিনি বলেন, সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে ৩ জন ও বগুড়ার ধুনট হাসপাতালে ১ জন ভর্তি রয়েছেন। বাকি ১০ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সেলিম রেজা বলেন, ইসলামী জলসায় আমি যাওয়ার পর আমার আলাদা প্রোগ্রাম থাকায় আগে কথা শেষ করে যখন মঞ্চ থেকে নামছিলাম, তখনই দেখছি শাহীন সাহেব তার লোকজন নিয়ে শ্লোগান দিয়ে মিছিল সহকারে আসছে। মনে হচ্ছে এটা কোন ইসলামী জালসা নয়, এটা পলিটিক্যালি সভা। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ আমাকে অফিসে এসে বসতে বললেন। জামায়াতের প্রার্থী মঞ্চ পর্যন্ত মিছিল শ্লোগান দিয়ে আসছে, এ জিনিসটা স্থানীয় লোকজন ভালোভাবে নেয় নি। এ নিয়ে হট্টগোল শুরু হয়। এক পর্যায়ে মাহফিল বন্ধ হওয়ার উপক্রম। এ সময় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ আমার কাছে এসে বললেন সভাটা বন্ধ হলে আমাদের ক্ষতি হবে। তাই আমি মঞ্চে গিয়ে পরিবেশটা শান্ত করেছি। আমি তখন বলেছি, শাহীনুর আলমের এভাবে শ্লোগান দিয়ে আসা ঠিক হয় নাই। শাহীন সাহেব স্বীকারও করেছেন, যে এভাবে আসা ঠিক হয় নাই। তারপর আমরা কোলাকুলিও করেছি। কিন্তু আজ সকালে ফেসবুকে শাহীন সাহেব বাড়তি কিছু বলেছেন। আমাদের দলীয় লোকজন তাদের উপর হামলাও চালায় নাই, যা করেছে স্থানীয় লোকজন। তার উপর কোন এ্যাটাকের ঘটনা ঘটেনি।
সেলিম রেজা অভিযোগ করে বলেন, শাহীনুর আলমদের সঙ্গে কিছু আওয়ামী লীগ ছিল, তার সঙ্গে সিরাজগঞ্জ ও ধুনট জামায়াতের নেতারা ছিল। তাদের কাজিপুরে কোন অবস্থান নেই, বিভিন্ন জায়গা থেকে জামায়াতের লোকজন আর ক্যাডার নিয়ে আসে।
কাজিপুর থানার ওসি শাহ মো. এনায়েতুর রহমান বলেন, জামায়াত-বিএনপির দুই নেতা একটি মাহফিলে অতিথি ছিলেন। সেখানে শ্লোগান দেওয়াকে কেন্দ্র করে উভয়পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে সামান্য হাতাহাতি-ধাক্কাধাক্কি হয়। পরবর্তীতে রাস্তার মধ্যে আরেক দফায় হামলার ঘটনা ঘটেছে সেখানে জামায়াতের কিছু লোকজন আহত হয়েছে বলে তারা দাবী করেছেন। এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত থানায় কোন লিখিত অভিযোগ দেয়নি। আমরা রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি।

নিজস্ব প্রতিবেদক। জনতার কণ্ঠ.কম 



















