সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo মমতাকে অব্যাহতি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হলো পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রিসভা Logo কবিগুরুর জন্মবার্ষিকী উদযাপনে প্রস্তুত শাহজাদপুরের কাছারিবাড়ি Logo নিকার অনুমোদন: ভূল্লী উপজেলা গঠনে জনসাধারণের উচ্ছ্বাস Logo ধর্ষণ মামলায় নির্দোষ ইমাম জেলে, ডিএনএ পরীক্ষায় বেরিয়ে এলো আসল তথ্য Logo অবৈধভাবে গড়ে উঠা স্থাপনা দখলমুক্ত হবে: পানি সম্পদ মন্ত্রী Logo বিদ্যুৎ মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি: বিদ্যুৎমন্ত্রী Logo  বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও ট্রান্সফরমার চোর চক্রের ৯ সদস্য গ্রেফতার Logo মাদক সেবনের দায়ে কারাদণ্ড, কলেজ ছাত্রদল সভাপতি বহিষ্কার Logo মাসুদ উদ্দিনকে জুলাই হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল Logo ইসরায়েলকে হুমকি দিলে কঠিন পরিণতি: নেতানিয়াহুর হুঁশিয়ারি

উল্লাপাড়ায় পারিবারিক দ্বন্দ্বে নয়জন নির্দোষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার অভিযোগ

  • রিপোর্টার:
  • আপডেট টাইম : ১১:৫০:৫৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৫
  • 292
নিজেস্ব প্রতিনিধি। জনতার কণ্ঠ.কম
পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে মিথ্যা মামলা দায়েরের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, মামলাটি সম্পূর্ণ প্রতিহিংসামূলকভাবে সাজানো হয়েছে, যার মাধ্যমে নয়জন নির্দোষ ব্যক্তিকে হয়রানি করা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাদী আবু তাহের ও আসামিপক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমি-সীমানা সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিল। সম্প্রতি একটি শালিস বৈঠকে বাদীপক্ষের দাবি খারিজ হলে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়।
এর পরপরই ৫ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে বাদী সিরাজগঞ্জ আদালতে একটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করেন, যেখানে একই পরিবারের একাধিক সদস্য ও প্রতিবেশীদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
গ্রামবাসীর মতে, মামলাটিতে যাদের আসামি করা হয়েছে, তাদের মধ্যে অনেকেই ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। বিশেষ করে ১নং আসামি মোঃ রফিকুল ইসলাম তালুকদার সেদিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত আগদিঘলগ্রাম মাদ্রাসায় উপস্থিত ছিলেন, যা মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে। আগদিঘলগ্রাম মাদ্রাসার সুপার বলেন,
রফিকুল ইসলাম সেদিন সকাল থেকেই একটি অনুষ্ঠানে মাদ্রাসায় ছিলেন।
একই দাবি করেছেন স্থানীয় মসজিদের ইমামসহ একাধিক শিক্ষক ও অভিভাবকও। গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দা আব্দুল কুদ্দুস তালুকদার বলেন
এই মামলাটা আসলে প্রতিশোধ নেওয়ার কৌশল। যাদের নাম দেওয়া হয়েছে, তারা নিরীহ মানুষ। কোনো মারামারি বা হামলায় তারা জড়িত নন। হয়রানির অভিযোগ আসামিপক্ষের পরিবার জানায়, মামলার পর থেকে তারা সামাজিকভাবে হেনস্তা ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় আছেন। একজন আসামির স্ত্রী বলেন, আমার স্বামী ঘটনাস্থলে ছিল না। তবুও তাকে আসামি করা হয়েছে। আমরা এখন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি। স্থানীয়দের মতে, বাদীপক্ষ মামলাটি ব্যবহার করছে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখার হাতিয়ার হিসেবে। এমনকি গ্রামের মানুষও এখন এই ধরনের হয়রানিমূলক মামলার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করছে।
সবমিলিয়ে দেখা যাচ্ছে, উল্লাপাড়ার আগদিঘলগ্রামে দায়ের হওয়া মামলাটি মূলত পারিবারিক ও জমিজমার বিরোধের জেরে তৈরি একটি প্রতিহিংসামূলক মামলা। নয়জন নির্দোষ ব্যক্তিকে হয়রানির অভিযোগে এলাকা জুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গ্রামবাসী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে মিথ্যা মামলায় জড়ানো নির্দোষ আসামিদের মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মমতাকে অব্যাহতি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হলো পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রিসভা

উল্লাপাড়ায় পারিবারিক দ্বন্দ্বে নয়জন নির্দোষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার অভিযোগ

আপডেট টাইম : ১১:৫০:৫৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৫
নিজেস্ব প্রতিনিধি। জনতার কণ্ঠ.কম
পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে মিথ্যা মামলা দায়েরের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, মামলাটি সম্পূর্ণ প্রতিহিংসামূলকভাবে সাজানো হয়েছে, যার মাধ্যমে নয়জন নির্দোষ ব্যক্তিকে হয়রানি করা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাদী আবু তাহের ও আসামিপক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমি-সীমানা সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিল। সম্প্রতি একটি শালিস বৈঠকে বাদীপক্ষের দাবি খারিজ হলে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়।
এর পরপরই ৫ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে বাদী সিরাজগঞ্জ আদালতে একটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করেন, যেখানে একই পরিবারের একাধিক সদস্য ও প্রতিবেশীদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
গ্রামবাসীর মতে, মামলাটিতে যাদের আসামি করা হয়েছে, তাদের মধ্যে অনেকেই ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। বিশেষ করে ১নং আসামি মোঃ রফিকুল ইসলাম তালুকদার সেদিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত আগদিঘলগ্রাম মাদ্রাসায় উপস্থিত ছিলেন, যা মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে। আগদিঘলগ্রাম মাদ্রাসার সুপার বলেন,
রফিকুল ইসলাম সেদিন সকাল থেকেই একটি অনুষ্ঠানে মাদ্রাসায় ছিলেন।
একই দাবি করেছেন স্থানীয় মসজিদের ইমামসহ একাধিক শিক্ষক ও অভিভাবকও। গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দা আব্দুল কুদ্দুস তালুকদার বলেন
এই মামলাটা আসলে প্রতিশোধ নেওয়ার কৌশল। যাদের নাম দেওয়া হয়েছে, তারা নিরীহ মানুষ। কোনো মারামারি বা হামলায় তারা জড়িত নন। হয়রানির অভিযোগ আসামিপক্ষের পরিবার জানায়, মামলার পর থেকে তারা সামাজিকভাবে হেনস্তা ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় আছেন। একজন আসামির স্ত্রী বলেন, আমার স্বামী ঘটনাস্থলে ছিল না। তবুও তাকে আসামি করা হয়েছে। আমরা এখন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি। স্থানীয়দের মতে, বাদীপক্ষ মামলাটি ব্যবহার করছে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখার হাতিয়ার হিসেবে। এমনকি গ্রামের মানুষও এখন এই ধরনের হয়রানিমূলক মামলার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করছে।
সবমিলিয়ে দেখা যাচ্ছে, উল্লাপাড়ার আগদিঘলগ্রামে দায়ের হওয়া মামলাটি মূলত পারিবারিক ও জমিজমার বিরোধের জেরে তৈরি একটি প্রতিহিংসামূলক মামলা। নয়জন নির্দোষ ব্যক্তিকে হয়রানির অভিযোগে এলাকা জুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গ্রামবাসী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে মিথ্যা মামলায় জড়ানো নির্দোষ আসামিদের মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।