সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo মমতাকে অব্যাহতি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হলো পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রিসভা Logo কবিগুরুর জন্মবার্ষিকী উদযাপনে প্রস্তুত শাহজাদপুরের কাছারিবাড়ি Logo নিকার অনুমোদন: ভূল্লী উপজেলা গঠনে জনসাধারণের উচ্ছ্বাস Logo ধর্ষণ মামলায় নির্দোষ ইমাম জেলে, ডিএনএ পরীক্ষায় বেরিয়ে এলো আসল তথ্য Logo অবৈধভাবে গড়ে উঠা স্থাপনা দখলমুক্ত হবে: পানি সম্পদ মন্ত্রী Logo বিদ্যুৎ মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি: বিদ্যুৎমন্ত্রী Logo  বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও ট্রান্সফরমার চোর চক্রের ৯ সদস্য গ্রেফতার Logo মাদক সেবনের দায়ে কারাদণ্ড, কলেজ ছাত্রদল সভাপতি বহিষ্কার Logo মাসুদ উদ্দিনকে জুলাই হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল Logo ইসরায়েলকে হুমকি দিলে কঠিন পরিণতি: নেতানিয়াহুর হুঁশিয়ারি

উল্লাপাড়ায় বইছে নির্বাচনী হাওয়া: একক প্রার্থী জামায়াতের, বিএনপিতে ৭

  • রিপোর্টার:
  • আপডেট টাইম : ০১:৪৯:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ অক্টোবর ২০২৫
  • 136
রায়হান আলী, উল্লাপাড়া (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি। জনতার কণ্ঠ.কম
সিরাজগঞ্জ-৪ (উল্লাপাড়া) আসনে নির্বাচনী উত্তাপ দিন দিন বেড়ে চলেছে। দীর্ঘ দুই যুগ ধরে আওয়ামী লীগের দখলে থাকা আসনটিতে এবার ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। রাজনৈতিক পালাবদলের পর দলটির স্থানীয় নেতাকর্মীদের অনেকেই এলাকা ছেড়ে গেছেন বলে জানা গেছে। ফলে নতুন করে সক্রিয় হয়ে উঠেছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী। পাশাপাশি মাঠে রয়েছে এনসিপি ও গণ অধিকার পরিষদও।
আওয়ামী লীগের ইতিহাস, নতুন বাস্তবতা:
উল্লাপাড়ায় ১৯৭৩ সালে আওয়ামী লীগের দবির উদ্দিন আহমেদ প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ১৯৮৬ ও ১৯৯৬ সালে আব্দুল লতিফ মির্জা, ২০০৮ ও ২০২৪ সালে শফিকুল ইসলাম শফি, এবং ২০১৪ ও ২০১৮ সালে তানভীর ইমাম দলটির হয়ে সংসদ সদস্য ছিলেন। অন্যদিকে ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টির আব্দুল হামিদ তালুকদার, ১৯৯১ ও ২০০১ সালে বিএনপির এম. আকবর আলী এবং ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী শামছুল আলম জয়ী হয়েছিলেন।
জামায়াতের প্রচারণা জোরদার:
বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আসনটিতে এবার ভাগ বসাতে চাচ্ছে জামায়াত। দলটির কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান মাঠে ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছেন। তার নেতৃত্বে সড়ক, হাট-বাজার ও জনসমাগমস্থলে ব্যানার-ফেস্টুনে ভরে উঠেছে এলাকা। স্থানীয়দের ধারণা, ভোটারদের একটি বড় অংশ এবার জামায়াতের প্রতি আগ্রহী।
মনোনয়ন লড়াইয়ে বিএনপির সাত প্রার্থী:
অন্যদিকে বিএনপি এখনো চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা না করলেও মনোনয়নপ্রত্যাশীদের কর্মতৎপরতা তুঙ্গে।
মনোনয়নপ্রত্যাশীরা হলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক এমপি এম. আকবর আলী,
জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি কেএম শরফুদ্দিন মঞ্জু, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট সিমকী ইমাম, উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আব্দুল ওয়াহাব, উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আজাদ হোসেন, সাবেক ডিআইজি ও পুলিশ সংস্কার কমিশনের সদস্য সচিব খান সাঈদ হাসান, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাওসার আহমেদ রনি। মনোনয়ন প্রত্যাশী প্রার্থীরা তাদের কর্মী সমর্থক নিয়ে মাঠে সক্রিয় রয়ছেন।
মনোনয়নপ্রত্যাশীদের বক্তব্য
এম. আকবর আলী বলেন, বিএনপি সরকারের আমলে উল্লাপাড়ার শিক্ষা ও অবকাঠামো উন্নয়নে আমি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছি। শিক্ষানগরী হিসেবে উল্লাপাড়ার সুনাম ফিরিয়ে আনাই হবে আমার অঙ্গীকার।”
অ্যাডভোকেট সিমকী ইমাম বলেন, দীর্ঘদিন ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে রাজপথে লড়েছি। মনোনয়ন পেলে নারী নেতৃত্বের দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চাই।
আব্দুল ওয়াহাব বলেন, আমি নির্বাচিত হলে উল্লাপাড়াকে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজিমুক্ত উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলব।
আজাদ হোসেন বলেন, আমি দীর্ঘদিন সংগঠন টিকিয়ে রেখেছি। আন্দোলন-সংগ্রামে সামনে ছিলাম, ৬০টিরও বেশি মামলার আসামি হয়েছি। দল মনোনয়ন দিলে জনগণই আমাকে জয়ী করবে।
খান সাঈদ হাসান বলেন, তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষ্য না দেওয়ায় আমাকে মামলায় জড়ানো হয়েছিল। উল্লাপাড়ার উন্নয়নে কাজ করতে চাই।
অন্যান্য দলের অবস্থান:
এনসিপি’র সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব দ্যুতি অরণ্য চৌধুরী (প্রীতি) বলেন, দল এখনো প্রার্থী চূড়ান্ত করেনি। তবে আমি নিয়মিত উল্লাপাড়ার জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি।
গণ অধিকার পরিষদের ঢাকা মহানগর উত্তর নেতারা এ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করে প্রচারণা চালাচ্ছেন। তারা উল্লাপাড়াকে “চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিমুক্ত উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।
জামায়াতের আশাবাদ:
মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, উল্লাপাড়ায় জামায়াতের সংগঠন শক্তিশালী। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে এবার আমরা চমক দেখাবো ইনশাআল্লাহ।
২০০৮ সালের নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ: সর্বশেষ অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায় ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিরাজগঞ্জ-৪ (উল্লাপাড়া) আসনে আওয়ামী লীগের মো. শফিকুল ইসলাম ১ লাখ ৬২ হাজার ৫০৩ ভোট (৫৭%) পেয়ে বিজয়ী হন। জামায়াতের মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান পান ৯৭ হাজার ৪৬৩ ভোট (৩৪.২%) এবং বিএনপির এম. আকবর আলী পান ২৪ হাজার ৪৬০ ভোট ৮.৬ শতাংশ।
বিশ্লেষকদের মত:
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে এবার উল্লাপাড়ায় মূল লড়াই হবে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে। আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক যার দিকে যাবে, তার পক্ষেই বিজয়ের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মমতাকে অব্যাহতি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হলো পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রিসভা

উল্লাপাড়ায় বইছে নির্বাচনী হাওয়া: একক প্রার্থী জামায়াতের, বিএনপিতে ৭

আপডেট টাইম : ০১:৪৯:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ অক্টোবর ২০২৫
রায়হান আলী, উল্লাপাড়া (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি। জনতার কণ্ঠ.কম
সিরাজগঞ্জ-৪ (উল্লাপাড়া) আসনে নির্বাচনী উত্তাপ দিন দিন বেড়ে চলেছে। দীর্ঘ দুই যুগ ধরে আওয়ামী লীগের দখলে থাকা আসনটিতে এবার ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। রাজনৈতিক পালাবদলের পর দলটির স্থানীয় নেতাকর্মীদের অনেকেই এলাকা ছেড়ে গেছেন বলে জানা গেছে। ফলে নতুন করে সক্রিয় হয়ে উঠেছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী। পাশাপাশি মাঠে রয়েছে এনসিপি ও গণ অধিকার পরিষদও।
আওয়ামী লীগের ইতিহাস, নতুন বাস্তবতা:
উল্লাপাড়ায় ১৯৭৩ সালে আওয়ামী লীগের দবির উদ্দিন আহমেদ প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ১৯৮৬ ও ১৯৯৬ সালে আব্দুল লতিফ মির্জা, ২০০৮ ও ২০২৪ সালে শফিকুল ইসলাম শফি, এবং ২০১৪ ও ২০১৮ সালে তানভীর ইমাম দলটির হয়ে সংসদ সদস্য ছিলেন। অন্যদিকে ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টির আব্দুল হামিদ তালুকদার, ১৯৯১ ও ২০০১ সালে বিএনপির এম. আকবর আলী এবং ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী শামছুল আলম জয়ী হয়েছিলেন।
জামায়াতের প্রচারণা জোরদার:
বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আসনটিতে এবার ভাগ বসাতে চাচ্ছে জামায়াত। দলটির কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান মাঠে ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছেন। তার নেতৃত্বে সড়ক, হাট-বাজার ও জনসমাগমস্থলে ব্যানার-ফেস্টুনে ভরে উঠেছে এলাকা। স্থানীয়দের ধারণা, ভোটারদের একটি বড় অংশ এবার জামায়াতের প্রতি আগ্রহী।
মনোনয়ন লড়াইয়ে বিএনপির সাত প্রার্থী:
অন্যদিকে বিএনপি এখনো চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা না করলেও মনোনয়নপ্রত্যাশীদের কর্মতৎপরতা তুঙ্গে।
মনোনয়নপ্রত্যাশীরা হলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক এমপি এম. আকবর আলী,
জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি কেএম শরফুদ্দিন মঞ্জু, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট সিমকী ইমাম, উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আব্দুল ওয়াহাব, উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আজাদ হোসেন, সাবেক ডিআইজি ও পুলিশ সংস্কার কমিশনের সদস্য সচিব খান সাঈদ হাসান, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাওসার আহমেদ রনি। মনোনয়ন প্রত্যাশী প্রার্থীরা তাদের কর্মী সমর্থক নিয়ে মাঠে সক্রিয় রয়ছেন।
মনোনয়নপ্রত্যাশীদের বক্তব্য
এম. আকবর আলী বলেন, বিএনপি সরকারের আমলে উল্লাপাড়ার শিক্ষা ও অবকাঠামো উন্নয়নে আমি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছি। শিক্ষানগরী হিসেবে উল্লাপাড়ার সুনাম ফিরিয়ে আনাই হবে আমার অঙ্গীকার।”
অ্যাডভোকেট সিমকী ইমাম বলেন, দীর্ঘদিন ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে রাজপথে লড়েছি। মনোনয়ন পেলে নারী নেতৃত্বের দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চাই।
আব্দুল ওয়াহাব বলেন, আমি নির্বাচিত হলে উল্লাপাড়াকে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজিমুক্ত উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলব।
আজাদ হোসেন বলেন, আমি দীর্ঘদিন সংগঠন টিকিয়ে রেখেছি। আন্দোলন-সংগ্রামে সামনে ছিলাম, ৬০টিরও বেশি মামলার আসামি হয়েছি। দল মনোনয়ন দিলে জনগণই আমাকে জয়ী করবে।
খান সাঈদ হাসান বলেন, তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষ্য না দেওয়ায় আমাকে মামলায় জড়ানো হয়েছিল। উল্লাপাড়ার উন্নয়নে কাজ করতে চাই।
অন্যান্য দলের অবস্থান:
এনসিপি’র সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব দ্যুতি অরণ্য চৌধুরী (প্রীতি) বলেন, দল এখনো প্রার্থী চূড়ান্ত করেনি। তবে আমি নিয়মিত উল্লাপাড়ার জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি।
গণ অধিকার পরিষদের ঢাকা মহানগর উত্তর নেতারা এ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করে প্রচারণা চালাচ্ছেন। তারা উল্লাপাড়াকে “চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিমুক্ত উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।
জামায়াতের আশাবাদ:
মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, উল্লাপাড়ায় জামায়াতের সংগঠন শক্তিশালী। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে এবার আমরা চমক দেখাবো ইনশাআল্লাহ।
২০০৮ সালের নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ: সর্বশেষ অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায় ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিরাজগঞ্জ-৪ (উল্লাপাড়া) আসনে আওয়ামী লীগের মো. শফিকুল ইসলাম ১ লাখ ৬২ হাজার ৫০৩ ভোট (৫৭%) পেয়ে বিজয়ী হন। জামায়াতের মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান পান ৯৭ হাজার ৪৬৩ ভোট (৩৪.২%) এবং বিএনপির এম. আকবর আলী পান ২৪ হাজার ৪৬০ ভোট ৮.৬ শতাংশ।
বিশ্লেষকদের মত:
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে এবার উল্লাপাড়ায় মূল লড়াই হবে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে। আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক যার দিকে যাবে, তার পক্ষেই বিজয়ের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।