রাজনৈতিক বিভাজনের মধ্যেও সিরাজগঞ্জ-৩ আসনে নির্বাচনী রাজনীতিতে ব্যতিক্রমী এক চিত্র উঠে এসেছে। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এই আসনের তিনজন প্রার্থী একই মঞ্চে দাঁড়িয়ে নিজ নিজ নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন, যা স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১টায় রায়গঞ্জ উপজেলা পরিষদ চত্বরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী একত্রিত হয়ে তাঁদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেন। এ সময় নির্বাচন কমিশনের বিধি-বিধান ও আচরণবিধি মেনে শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের ওপর জোর দেওয়া হয়।

রায়গঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আমিনুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল খালেক পাটোয়ারী ও তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুসরাত জাহান। তাঁরা বলেন, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসন সর্বদা তৎপর থাকবে।
নির্বাচনী আচরণবিধি বাস্তবায়নে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাসুদ রানা এবং স্ট্রাইকিং ফোর্সের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জাকারিয়া হোসেন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে ইশতেহার পাঠ করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী ভিপি আয়নুল হক, খেলাফত মজলিসের পক্ষ থেকে ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশের ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী আব্দুর রউফ সরকার এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ইলিয়াস রেজা রবিন। জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. ফজলুল হক অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত ছিলেন।
ইশতেহারে প্রার্থীরা এলাকার সার্বিক উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কৃষি খাতের আধুনিকায়ন এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেন। পাশাপাশি ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বজায় রেখে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন পরিচালনার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তাঁরা।
একই মঞ্চে তিন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর ইশতেহার পাঠ স্থানীয় রাজনীতিতে একটি তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা দিচ্ছে। এতে একদিকে যেমন নির্বাচনী উত্তাপের মাঝেও সহনশীল রাজনৈতিক চর্চার ইঙ্গিত মিলছে, অন্যদিকে ভোটারদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর কৌশল হিসেবেও এটিকে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। দীর্ঘদিন ধরে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হিসেবে পরিচিত সিরাজগঞ্জ-৩ আসনে এ ধরনের যৌথ উপস্থিতি নির্বাচনী পরিবেশ শান্ত রাখতে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
উল্লেখ্য, সিরাজগঞ্জ-৩ আসনে মোট চারজন প্রার্থীকে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তাঁরা হলেন—
বিএনপির মো. আয়নুল হক (ধানের শীষ),
জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী খেলাফত মজলিসের মুহা. আব্দুর রউফ সরকার (রিকশা),
স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. ইলিয়াস রেজা রবিন (ঘোড়া)
জাতীয় পার্টির মো. ফজলুল হক (লাঙল)।
এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ১৪ হাজার ৮৪৩ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ২ লাখ ৬ হাজার ৩৭৫ জন এবং পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৮ হাজার ৪৬৮ জন।

রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি। জনতার কণ্ঠ.কম 



















