মোঃসোহাগ হোসেন তাড়াশ,( সিরাজগঞ্জ ) প্রতিবেদক। জনতার কণ্ঠ.কম
বলদীপাড়া কমিউনিটি ক্লিনিকে উষাইকোল গ্রামের ফুলবালা মাহাতো বৃহস্পতিবার শরীর ও ব্যথা নিয়ে এসেছেন কমিউনিটি ক্লিনিকে। কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) রাজীব মাহাতো তাকে দেখে ব্যবস্থাপত্র দেন। ওষুধ চাইলে বাজার থেকে কিনতে বলেছেন।
আক্ষেপ করে ফুলবালা মাহাতো বলেন, ‘আগে জ্বর, সর্দি-কাশির মতো সাধারণ রোগের জন্য ওষুধ বিনামূল্যে পাওয়া যেত। এখন বাইরে থেকে কিনতে বলা হচ্ছে। এটি আমাদের জন্য কষ্টকর।
এ চিত্র শুধু বলদীপাড়া কমিউনিটি ক্লিনিক নয়,এ অবস্থা তাড়াশ উপজেলার ৩০টি কমিউনিটি ক্লিনিকে। সাড়ে তিন মাস ধরে এসব স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। প্রতিদিন রোগী সেবা নিতে এসে শুধু পরামর্শ নিয়েই ফিরে যাচ্ছেন। এতে হতাশ প্রান্তিক অঞ্চলের রোগীরা।
জেলা সিভিল সার্জনের অফিস সূত্রে জানা যায়, প্রত্যন্ত জনপদের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে তাড়াশের আটটি ইউনিয়ন ও একটি পৌর এলাকায় ৩১টি কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন করা হয়েছে। বর্তমানে ৩০টি চালু আছে। আগে এসব ক্লিনিক থেকে রোগীদের মধ্যে বিনামূল্যে ২২ ধরনের ওষুধ সরবরাহ করা হতো। সাড়ে তিন মাস ধরে রোগীরা ওষুধ পাচ্ছেন না।
শোলাপাড়া কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি ফিরোজ জামান জানান, আগে তিন মাস পরপর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ২২ ধরনের ওষুধ সরবরাহ করা হতো। ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার ৭০০ রোগী ব্যবস্থাপত্রের অনুকূলে এ সুবিধা পেতেন। গত ১৬ জুন সর্বশেষ এক কার্টন ওষুধ সরবরাহ করা হয়েছিল, যা সপ্তাহ দুই চলার পর শেষ হয়ে যায়। এরপর আর কোনো ওষুধ সরবরাহ করা হয়নি।
এদিকে ওষুধ সরবরাহ বন্ধ থাকায় কমিউনিটি ক্লিনিক বিমুখ হয়ে পড়েছেন সেবাপ্রত্যাশীরা। বেশির ভাগ ক্লিনিক সকাল ১০টার পর খোলা হচ্ছে। জোহরের নামাজের আজান দিলেই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে ক্লিনিক– এমন অভিযোগ করেন বদলীপাড়ার শাহানাজ পারভীন।
তাড়াশ পৌর এলাকার কাউরাইল কমিউনিটি ক্লিনিক ঘুরে দেখা যায়, শেফালী খাতুন, মনিরা পারভীন, টুটুল হোসেনসহ অনন্ত ৮ থেকে ১০ জন রোগী ওষুধ না পেয়ে খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন। আক্ষেপ করে তারা জানিয়েছেন, ‘আমরা স্বল্প আয়ের মানুষ। সাধারণ রোগের জন্য বিনা মূল্যের ওষুধ আমাদের অনেক উপকার হয়েছে।’ একই অবস্থা দেখা গেছে সোলাপাড়া কমিউনিটি ক্লিনিকে।
সোলাপাড়া কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি ফিরোজ জামান বলেন, ‘দুই মাস হলো ওষুধের সরবরাহ নেই। রোগীরা খুব একটা আসেন না। যারা আসেন, তাদের অনেকেই বিষয়টা বুঝতে চান না। ওষুধ না পেয়ে গালাগাল করেন। বিষয়টি কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে।’উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কর্মকর্তা ডা. এরফান আহম্মেদ জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ওষুধ কেনার দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। আশা করছি, স্বল্প সময়ে কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ সম্ভব হবে।

রিপোর্টার: 




















