গাজীপুরের কোনাবাড়ীতে থাকা মা-বাবার কাছ থেকে বাসে সিরাজগঞ্জে আসার পথে মাদ্রাসা এক ছাত্র নিখোঁজ হয়েছে। নিখোঁজ হাসান আলী (১৩) সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার সনাতনীর শ্রীপুর গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবা মোকদম আলী ফকির গাজীপুরের কোনাবাড়ীতে লেপ তোষকের ক্ষুদ্র ব্যবসা ও মা হাসিনা খাতুন গার্মেন্টস কর্মী হিসেবে সেখানে কর্মরত। তার নিখোঁজের ঘটনায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।
নিখোঁজ হাসানের পিতা মোকদম আলী ফকির জানান, দুই ছেলে এক মেয়ের মধ্যে হাসান আলী সবার বড়। সে বেলকুচির সুবর্ণসাড়া জামিয়া সিদ্দিকিয়া হাফিজিয়া কবরস্থান মাদ্রাসায় হেফজ বিভাগে লেখাপড়া করতো। গত ৯ সেপ্টেম্বর মাদ্রাসা থেকে ছুটিতে কোনাবাড়িতে বাবা মায়ের কাছে যান৷ সেখানে ৪দিন থাকার পর টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের হাটুভাঙ্গা সোহাগপাড়ায় কিছুটা শারীরিক সমস্যার কারণে হাসানকে তার বাবা ১৩ সেপ্টেম্বর এক চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। সেখানে ওষুধপত্র সংগ্রহের পর দুপুরে মাদ্রাসায় লেখাপড়া খরচ বাবদ হাসানের কাছে ২৭শ টাকা ও ভাড়ার টাকা সুপারভাইজারকে পরিশোধ করে বাবা রাজশাহী গামী জাহাঙ্গীর পরিবহনের বাসে তুলে দেন সিরাজগঞ্জের যমুনা সেতুর পশ্চিমপাড় কড্ডারমোড়ে তাকে নামিয়ে দিতে।
রাতে মাদ্রাসার শিক্ষককে ফোন করলে তার ছেলে আসেনি বলে অবহিত করেন বাবাকে। এরপর থেকে নানা ভাবে খোঁজখবর নিয়েও তার সন্ধান মিলছে না। এজন্য ১৬ সেপ্টেম্বর টাঙ্গাইলের মির্জাপুর থানায় ১০৫২ নম্বর সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: ডিবির অভিযানে ১০ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ৩ যুবক
মোকদম আলী জানান, আমার ছেলে লেখাপড়ায় ছিল মনোযোগী ও নিরহ। বর্তমানে আমি রাজশাহীতে তাকে খুঁজতে এসেছি। কোথায় গিয়েছে জানা যাচ্ছে না। আমরা সবাই তাকে না পেয়ে খুবই হতাশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছি। কেউ সন্ধান পেলে আমাদেরকে দয়া করে জানাবেন।
এ ব্যাপারে সুবর্ণসাড়া জামিয়া সিদ্দিকিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসায় শিক্ষক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, হাসান আমাদের মাদ্রাসার মেধাবী সহজ সরল ছাত্র ছিলেন। ১৩ সেপ্টেম্বর তার বাবা বাসে উঠিয়ে দিলেও মাদ্রাসায় সেদিন আসেনি। আমরাও তার খোঁজখবর নিচ্ছি। কিন্তু এখনো পাচ্ছিনা।
বিষয়টি নিয়ে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, এখন পর্যন্ত নিখোঁজ হাসানের আমরা সন্ধান পাইনি।

নিজস্ব প্রতিবেদক। জনতার কণ্ঠ.কম 




















