সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬

চাঁদের আলোয় দেখা মিলবে বিরল রংধনুর

ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাত

সূর্যের আলোতে রংধনু দেখছেন। কিন্তু কখনো কি রাতে চাঁদের আলোয় রংধুন দেখেছেন? কী রাতে রংধনুর কথা শুনে চমকে উঠেছেন? চাইলে রাতেও দেখতে পারেন প্রকৃতির অন্যতম বিরল দৃশ্য।

খবর বিবিসির

জিম্বাবুয়ে এবং জাম্বিয়ার সীমান্তের ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাত পৃথিবীর অল্প কয়েকটি স্থানের একটি, যেখানে এই ‘মুনবো বা চন্দ্রধনুর’ দেখার সুযোগ মিলতে পারে।

 

সম্প্রতি ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাতে সারাহ স্টিজার রাতে চাঁদের আলোতে তৈরি রংধনু দেখেন এবং তা ক্যামেরাবন্দি করেন।

 

সারাহ স্টিজার সংবাদ মাধ্যম বিবিসি-তে তার চন্দ্রধনু দেখার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন।

 

সারাহ স্টিজার তার বিরল অভিজ্ঞতা নিয়ে বলেন, সেখানে (ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাতে) কোনো ফ্লাডলাইট ছিল না।

 

ছিল কেবল উদীয়মান পূর্ণিমার চাঁদের ম্লান আভা আর জাম্বিয়ার রাতের ঘন নীল-কালো অন্ধকার। অন্ধকারের ওপারে, ১০০ মিটারেরও (৩২৮ ফুট) বেশি নিচে গিরিখাতের মধ্যে আছড়ে পড়ছিল পানি।

আছড়ে পড়া পানি বাতাসের অনেক উঁচুতে বিশাল জলকণা বা স্প্রে-র স্তম্ভ পাঠিয়ে দিচ্ছিল।

সারাহ আরও বলেন, তারপর ধীরে ধীরে, প্রায় অলক্ষ্যে, জলকণার মাঝে একটি ম্লান দাগ, সরাসরি সেদিকে না তাকালে দেখা কঠিন। তারপর একটি বক্ররেখা ফুটে উঠল- একটি কোমল, উজ্জ্বল বন্ধনী; অন্ধকারের বুক চিরে প্রসারিত এবং নিচে হা করা গিরিখাতের ওপরে ঝুলে আছে রংধনু। এটি ছিল ‘মুনবো’ বা একটি চন্দ্রধনু। এটি সূর্যের আলোয় নয় বরং চাঁদের আলোয় তৈরি হয়।

জিম্বাবুয়ে এবং জাম্বিয়ার সীমান্তের মাঝে অবস্থিত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ জলপ্রপাত ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাত। এটি স্থানীয়ভাবে ‘মোসি-ওয়া-তুনিয়া’ বা ‘বজ্রধ্বনি সৃষ্টিকারী ধোঁয়া’ নামে পরিচিত।

 

প্রতি বছর প্রায় দশ লাখ মানুষ এই ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাত দেখতে আসেন। যাদের বেশিরভাগই দিনের আলোতে আসেন। কিন্তু অন্ধকার হওয়ার পর, পূর্ণিমার সময়টিতে অভিজ্ঞতাটি সম্পূর্ণ বদলে যায়। তখন রাতে অন্ধকারে চাঁদের আলোয় দেখা মিলতে পারে এই বিরল মুনবো বা চন্দ্রধনুর।

হামে একদিনে আরও ১২ জনের প্রাণ গেল

গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে হাম ও হামের উপসর্গে আরও ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১৫ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

 

এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা এক হাজার ১৯২ জন এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ১৫ মে পর্যন্ত সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা ৫৫ হাজার ৬১১ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ১১১ জন, গত ১৫ মার্চ থেকে ১৫ মে পর্যন্ত নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা সাত হাজার ৪১৬ জন।

১৫ মার্চ থেকে ১৫ মে পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪০ হাজার ১৭৬ জন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৩৬ হাজার ৫৫ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে আরও আট জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৫ মার্চ থেকে ১৫ মে পর্যন্ত সন্দেহজনক হামে মোট ৩৭৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।

 

গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে আরও চার জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৫ মার্চ থেকে ১৫ মে পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ৭৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

 

হাসপাতালের গাছে ঝুলছিল যুবকের মরদেহ

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার নরিনায় গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন হাসমত ফকির (৪০) নামের এক ব্যক্তি। শুক্রবার সকালে শাহজাদপুর থানা পুলিশ নরিনা হাসপাতাল কম্পাউন্ডের একটি আম গাছ থেকে ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে। মৃত হাসমত নরিনা মধ্যপাড়া গ্রামের মৃত সফিজ ফকিরের ছেলে।

 

জানা যায়, বৃহস্পতিবার (১৫ মে) সকালে নরিনা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কম্পাউন্ডের মধ্যে একটি আমগাছের সঙ্গে গলায় দড়ি দিয়ে ফাঁস দেওয়া অবস্থায় হাসমত ফকিরের মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকাবাসী ও স্বজনরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। খবর পেয়ে শাহজাদপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: হাফিজুর রহমান ও শাহজাদপুর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) নাজমুল কাদের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

 

এসময় ইন্সপেক্টর নাজমুল কাদের জানান, প্রাথমিকভাবে সুরতহাল করে মনে হচ্ছে এটি একটি আত্মহত্যা। তবে অধিকতর তদন্তের জন্য লাশ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

 

কৃষকের ধান কেটে ফেসবুকে ভিডিও ছড়ালো নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় এক কৃষকের ফসলের মাঠ পাকা ধান কেটে ফেসবুকে ভিডিও ছড়িয়ে দিয়েছে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ।  ৪৬ সেকেন্ডের ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে গেছে।
শুক্রবার (১৫ মে) খোজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার পঞ্চকোশী ইউনিয়নের ভদ্রকোল গ্রামের একটি ফসলি জমিতে ছাত্রলীগের ৮ থেকে ১০ জন নেতাকর্মী এক কৃষকের পাকা ধান কেটে দিচ্ছেন এবং মাথায় নিয়ে যাচ্ছে। ভিডিওতে এক যুবকের কথায় বলছে, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রী সহ-সভাপতি ভিপি ফরহাদ ভাইয়ের দিকনির্দ্দেশনায় উল্লাপাড়া উপজেলা ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে সাধারণ খেটে খাওয়া কৃষকের ধান কেটে দিচ্ছি। সাধান মানুষের পাশে থাকবে ছাত্রলী এই কথার পরে জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে ধান করতে শুরু করে। ভিতিওতে এমন দৃশ্য দেখা যাচ্ছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উল্লাপাড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোক্তারুজ্জামান বলেন, কৃষকদের ধান কেটে দিচ্ছে, এমন একটি ভিডিও আমরা দেখেছি। তবে, কোন এলাকার এমন কাজ করেছে, তা খোঁজা হচ্ছে। ভিডিওতে যাঁদের দেখা গেছে, তাঁদের শনাক্ত করার কাজ চলছে। শনাক্ত করা গেলে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
২০২৪ সালের (৫ আগষ্ট) আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর জেলা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আত্মগোপনে চলে গেছে। সংগঠনটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার পর থেকে প্রকাশ্যে আর তাদের কোনো কর্মসূচি করতে দেখা যায়নি বলে তিনি জানিয়েছেন।

 

সিরাজগঞ্জের এতিম রায়হান-রোহানের পাশে প্রধানমন্ত্রী

গণমাধ্যমে সংবাদ দেখে সিরাজগঞ্জের সদর উপজেলার এতিম দুই শিশু রায়হান ও রোহানের পাশে দাঁড়িয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

 

তার নির্দেশে শুক্রবার (১৫ মে) দুপুরে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর একটি প্রতিনিধি দল শিশু দুটির বাড়িতে গিয়ে তাদের পড়ালেখাসহ যাবতীয় দায়িত্ব গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছে।

 

জানা যায়, বাবা মারা গেছেন ছোটবেলায়, চার মাস আগে হারিয়েছে মাকেও- নানীর অন্যের বাড়িতে কাজের টাকায় কোনো রকমে চলছে এতিম দুই শিশুর জীবন- সম্প্রতি এমন একটি প্রতিবেদন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। বিষয়টি ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃষ্টিগোচর হয়।

 

এরপর তিনি শিশু দুটির খোঁজখবর নিতে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে তার অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনকে নির্দেশ দেন।

 

সেই নির্দেশনার ধারাবাহিকতায় শুক্রবার দুপুরে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার রতনকান্দি ইউনিয়নের একডালা গ্রামে যায় ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর প্রতিনিধি দল।

 

সংগঠনটির উপদেষ্টা আবুল কাশেমের উপস্থিতিতে এবং সদস্য সচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুনের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলটি রায়হান ও রোহানের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন এবং সহমর্মিতার বার্তা পৌঁছে দেন।

 

এ সময় প্রতিনিধি দলটি এতিম শিশু দুটির নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য, চিকিৎসা ও নিরাপদ আবাসনের জন্য সহায়তার উদ্যোগ নেয়।

 

পাশাপাশি অর্থাভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়া লেখাপড়া পুনরায় শুরু করতে এককালীন শিক্ষা বৃত্তি ও মাসিক শিক্ষা বৃত্তি দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, ৯ বছর বয়সী রায়হান ও ৭ বছর বয়সী রোহান ছোটবেলাতেই বাবাকে হারায়। চার মাস আগে মায়ের মৃত্যুর পর তারা এখন বৃদ্ধ নানা আজিজুর রহমান ও নানী মালেকা বেগমের আশ্রয়ে চরম অভাব-অনটনের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। অর্থাভাবে তাদের লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যায় এবং একটি জরাজীর্ণ টিনের ঘরে তারা বসবাস করছে।

 

প্রতিনিধি দলের পরিদর্শনকালে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সিরাজগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম রেজা, কাজিপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র আব্দুস সালাম, সিরাজগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল কায়েস, বিএনপি নেতা হাসান।

 

এছাড়া ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর সদস্য মাসুদ রানা লিটন, মুস্তাকিম বিল্লাহ, বুয়েট ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আবু হানিফ, ছাত্রদল নেতা মশিউর রহমান মহান, আব্দুল্লাহ আল মিসবাহসহ স্থানীয় বিএনপির নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।

 

 

১৪ হাজার ৫০০ টাকার খাসির খাজনা ১৫০০!

  • রিপোর্টার:
  • আপডেট টাইম : ০৬:০৩:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬

সিরাজগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী এনায়েতপুর কোরবানীর পশুর হাটে গরু ছাগলের  অস্বাভাবিক খাজনা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। গবাদিপশুর খাজনা নেওয়া হচ্ছে প্রতি হাজারে ১০০ টাকা করে। তবে রশিদে খাজনার পরিমাণ উল্লেখ করা নেই।

 

 

শুক্রবার (১৫ মে) এনায়েতপুর গরু-ছাগলের হাটে এভাবেই খাজনা নেওয়া হচ্ছে বলে এক ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন।

 

 

জানা যায়, বেলকুচি উপজেলার তামাই পূর্বপাড়া গ্রামের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ি আব্দুল কুদ্দুস কবিরাজ এনায়েতপুর হাট থেকে ১৪ হাজার ৫০০ টাকায় কোরবানির জন্য ছোট একটি খাসি কিনেছেন। কেনার পরই তিনি খাজনা ঘরে খাজনা দিতে গিয়ে পরেন বিপাকে। ইজারাদার মাসুদ রানা পাষাণ সরকার প্রতি হাজারে ১০০ টাকা করে দাবি করেন।

 

আব্দুল কুদ্দুস কবিরাজ বলেন, হাজারে একশো টাকা হিসেবে ১৪৫০ টাকা খাজনা আসে। কিন্তু দাবি করা হয় ১৫০০ টাকা। তিনি ১৩০০ টাকা দিতে চাইলেও রশিদ আটকে রাখেন ইজারাদারের লোকজন। বাধ্য হয়ে ১৫০০ টাকা দিয়েই রশিদ নিয়ে বাড়ি ফিরতে হয় তাকে।

 

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমি ঢাকায় ছোট ব্যবসা করি। আজই ঢাকা ফিরে যাব। সময় নাই দেখে তাড়াতাড়ি ওই খাসিটি কিনে ভ্যান যোগে বাড়ি যাচ্ছি। এত টাকা খাজনা হলে ওই হাটে যেতাম না। এখন খাজনরা রশিদে দেখছি টাকাও উল্লেখ নেই। এটা বড় প্রতারনা। নাম ঠিকানা দাম রশিদে উল্লেখ করলেও খাজনার দেড় হাজার টাকার কথা উল্লেখ করা হয়নি। এদের বিষয়ে সরকারিভাবে জরুরী পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানান তিনি।

 

এ বিষয়ে এনায়েতপুর হাটের ইজারাদার মাসুদ রানা পাষাণ বলেন, আমি খাজনা আদায় করি না। তবে যারা কালেকশন করে তাদের বলা আছে যতটুকো কম নেওয়া দরকার কম নিতে। সাড়ে ১৪ হাজার টাকার খাসির খাজনা ১৫০০ টাকা নেওয়া হয়েছে- এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন আমি এ বিষয়ে জানিনা।

 

তিনি বলেন, ঈদের সময় খরচ বেশি হয় এ জন্য একটু বেশি খাজনা নেওয়া হয়। তবে এত বেশি নেওয়ার কথা নয়।

 

সরকার নির্ধারিত খাজনা কতো এবং কত বেশি নেওয়া হচ্ছে এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারেন নাই।

 

এ ব্যাপারে জানতে চৌহালী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মোবাইলে ফোন দেওয়া হলে সেটা বন্ধ পাওয়া যায়।

 

 

ফেসবুকে যারা লেখে তারা গুপ্তের চেয়েও খারাপ: বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী

ফেসবুক ব্যবহারকারীদের সমালোচনা করে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, ফেসবুকের ওয়াল হয়ে গেছে, সবচেয়ে নোংরা ওয়াল। ফেসবুকে যারা লেখে তারা গুপ্তের চেয়ে খারাপ। তিনি বলেন, বাচ্চাদের বল দেন, ক্রিকেটের ব্যাট দেন, ডাঙ্গুলি দেন। এগুলো করলে সমাজ ভালো হবে।

 

শুক্রবার (১৫ মে) দুপুরের দিকে সিরাজগঞ্জ শহীদ শামসুদ্দিন স্টেডিয়ামে প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্ণামেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী চাইছেন, আগামি প্রজন্ম যারা বেড়ে উঠবে তারা খেলাধুলা করেই বেড়ে উঠবে। না খেললে মস্তিস্ক উর্বর হয় না।

 

নিজের বাল্যকালের স্মৃতিচারণ করে মন্ত্রী বলেন, সারাবছর ইসলামিয়া কলেজ মাঠ ছিল খেলাধুলায় সরব। ফুটবল, ক্রিকেট, ব্যাডমিন্টনসহ নানা খেলা চলতো। আমরা গোল্লাছুট, দাঁড়িয়াবান্দা আরও অনেক খেলা খেলেছি। আর খেলাধুলার কারণে নেশার দিকে ঝুকতে পারি নাই। আর এখন ওই মাঠটিতে হয় গরু চরে, নয় গরুর গোবর শুকানো হয়। এই জন্য আজকে সমাজ নেশার দিকে চলে গেছে। একটা জেনারেশন নেশার জন্য নষ্ট হয়ে গেছে। এখান থেকে ফেরাতে হবে। সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে মাদককে না বলা শেখাতে হবে।

 

তিনি বলেন, মাঠ কেন্দ্রিক সোসাইটি গড়ে তোলেন। প্রত্যেকটা ইউনিয়নে দুইটা খেলার মাঠ থাকবে। প্রত্যেকটা স্কুলে মাঠ আছে। মাঠে খেলাধুলা করাতে হবে। বাচ্চাদেরকে খেলা শেখান, মেয়েদেরকে খেলা শেখান।

 

ইসলামিয়া কলেজ মাঠকে ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রূপান্তরের আশ্বাস দিয়ে মন্ত্রী বলেন, এখানে ক্রিকেট একাডেমী বানাবো, ইনডোর ট্রেনিং হবে।

 

সিরাজগঞ্জের উন্নয়নে নিজের ব্যর্থতার কথা অকপটে স্বীকার করে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, আমি আমার ব্যর্থতার কথা বলি। আমি তিনমাস হলো মন্ত্রী, সিরাজগঞ্জে এক চুল পরিমাণ কিছু করতে পারি নাই। আমি স্বীকার করি। পারিনি কেন? আমি কো-অপারেশন পাইনি কারও কাছ থেকে। তাহলে এতদিনের সিরাজগঞ্জ সুন্দর ও সুশৃংখল শহরে পরিণত হতেো আপনারা কেউ সহযোগীতা করেন নাই আমাকে। টুকু সাহেব এই কথা কইছে, তাহলে আমরা সবাই মিলে নেমে পড়ি।

 

তিনি বলেন, এটা তো আমার একার দায়িত্ব নয়। হ্যা, যেটা হবে আমার ট্রার্ম শেষ হলে সবাই বলবে অনেক কথা বলেছিলেন কিন্তু করেন নাই। কিন্তু কেন যে করলাম না আপনারা কিন্তু সেটা খুঁজবেন না। খালি ডিসি আর এসপি দিয়ে কইলেই হবে? আপনাদেরও নামতে হবে।

 

মন্ত্রী আরও বলেন, সবাই ব্যবসা করবে, সবাই অর্থ রোজগার করবে-কিন্তু কেউ সমাজের কিচ্ছু করবে না। বাস রাস্তায় জড়ো ব্যবসা করবে। একজন  দোকানদারকে ব্যবসা করতে দোকান খুলতে হয়। কিন্তু বাস ওয়লাদের লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করবে কিন্তু বাসটা রাখার ব্যবস্থা করবে না। ওইটা সরকারি জায়গা আছে দখল করে ব্যবসা করবে। প্রত্যেকটা বাস মালিক যদি নিজেদের খরচায় নিজেদের বাস রাখার ব্যবস্থা করে, তাইলে শহরটা বিশৃংখল থাকে না।

 

জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলামের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে  অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) নাজরান রউফ, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মামুন খান, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. সাহাব উদ্দিনসহ প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

 

 

নিখোঁজ কিশোরীকে উদ্ধারে ঘুষ দাবির অভিযোগে এসআই প্রত্যাহার

জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে নিখোঁজ কিশোরীকে উদ্ধারের নামে টাকা নেওয়ার অভিযোগে ক্ষেতলাল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সঞ্জয় কুমার বর্মনকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের লিখিত অভিযোগের পর জেলা পুলিশ প্রশাসন এ ব্যবস্থা নেয়।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পাঁচুপীর খন্দকারপাড়া গ্রামের মো. শাহজাহান খন্দকারের ১৩ বছর বয়সী মেয়ে গত ৭ এপ্রিল নিখোঁজ হয়। এ ঘটনায় পরদিন ৮ এপ্রিল ক্ষেতলাল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-৩৪৯) করা হলে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় এসআই সঞ্জয় কুমার বর্মনকে।

ভুক্তভোগী পিতা শাহজাহান খন্দকার অভিযোগ করেন, জিডির কয়েকদিন পর তদন্ত কর্মকর্তা তার মেয়েকে উদ্ধারের কথা বলে টাকা দাবি করেন। মেয়ের সন্ধানে মরিয়া হয়ে তিনি এসআই সঞ্জয় কুমার বর্মনকে ৩ হাজার টাকা দেন। তবে টাকা নেওয়ার পরও কিশোরীকে উদ্ধারে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

পরে থানা পুলিশের সহযোগিতা না পেয়ে গত ৫ মে ভুক্তভোগী পরিবার আদালতে মামলা দায়ের করে। একইসঙ্গে ৭ মে পুলিশ সুপারের কাছে অভিযুক্ত এসআইয়ের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে লিখিত আবেদন জানানো হয়।

অভিযোগের প্রেক্ষিতে এসআই সঞ্জয় কুমার বর্মনকে ক্ষেতলাল থানা থেকে প্রত্যাহার করে জয়পুরহাট পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আরিফ হোসেন বলেন, তার বিরুদ্ধে এসপি স্যারের কাছে একটি অভিযোগ ছিলো। এর প্রেক্ষিতে তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

এদিকে, নিখোঁজের এক মাস পেরিয়ে গেলেও কিশোরীকে আজও খুঁজে পায়নি তার পরিবার। মেয়ের সন্ধান না পেয়ে চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে স্বজনদের।

আগৈলঝাড়ায় বোরো সংগ্রহ অভিযান উদ্বোধন

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় বোরো ধান সংগ্রহ অভিযান উদ্বোধন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা খাদ্যগুদাম চত্তরে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিখন বনিক।

 

 

 

 

 

খাদ্য গুদাম সূত্রে জানা গেছে, আগামী ৩১ আগষ্ট পর্যন্ত এই বোরো ধান সংগ্রহ অভিযান চলবে। প্রতিকেজি ধানের মুল্য নির্ধারন করা হয়েছে ৩৬ টাকা। কৃষি অফিসের তালিকাভুক্ত চাষীদের কাছ থেকে এই বোরে ধান সংগ্রহ করা হবে। প্রতিজন চাষীর কাজ থেকে সর্বোচ্চ তিনটন ধান সংগ্রহ করবেন খাদ্যগুদাম। চলতি মৌসুমে ১ হাজার ৬০ মেট্রিক টন চিটামুক্ত বোরো ধান সংগ্রহ করা হবে। যার আর্দ্রাতা সর্বোচ্চ ১৪।

 

 

 

উদ্বোধনী সভায় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা বিএনপি’র আহবায়ক সিকদার হাফিজুল ইসলাম, ওসি(তদন্ত)সুশংকর মল্লিক, উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা ফারজানা ফৌরদোস, খাদ্য পরিদর্শক(ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) মো.আবুক্কর ছিদ্দিক, প্রেসক্লাব সভাপতি মো.শামীমুল ইসলাম, বিএনপি’র যুগ্ন-আহবায়ক আবুল হোসেন মোল্লা প্রমুখ।

 

 

 

হিলিতে পুলিশের অভিযান: ৭ মামলার কুখ্যাত আসামি শওকতসহ গ্রেপ্তার ৯

​দিনাজপুরের হাকিমপুর থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী ও সাতটি মামলার পলাতক আসামি শওকতসহ মোট ৯ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বুধবার দিনভর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করে৷
​আজ বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দুপুর ২ ঘটিকায় এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন হাকিমপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাকির হোসেন।
​পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার পৃথক দুটি মাদক মামলা এবং বিভিন্ন ওয়ারেন্টের ভিত্তিতে এই অভিযান চালানো হয়। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ এর ৩৬(৫) ধারায় রুজুকৃত মামলায় ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাঁরা হলেন, মোঃ রশিদুল ইসলাম (৩২) বিরামপুর৷ মোঃ মোফাজ্জল হোসেন (৪৭), বিরামপুর৷ মোঃ মাহাবুব আলম (৪৯) হাকিমপুর৷ মোঃ শাহিনুর ইসলাম (২৫) বিরামপুর৷  মোঃ কাওসার হোসেন (৪২) বিরামপুর এবং শ্রী দীপক সিং (২৮) হাকিমপুর।
​এছাড়াও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩৬(১) সারণির ২৯(ক) ধারায় হাকিমপুরের দক্ষিণ মাধবপাড়া এলাকার মোঃ আনোয়ার মুন্সির ছেলে মোঃ রাহুলকে (২২) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এদিকে জিআর মামলায় ওয়ারেন্ট মূলে আরও ২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলেন কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী মোঃ সাখাওয়াত হোসেন ওরফে শওকতকে (৩৫) গ্রেপ্তার করে। তাঁর বিরুদ্ধে দিনাজপুর ও বগুড়াসহ বিভিন্ন থানায় ৭টি মাদক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এছাড়া বদরগঞ্জ থানার একটি ওয়ারেন্ট মূলে মোঃ মোস্তাক আহমেদকে (৫২) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
হাকিমপুর থানার অফিসার ইনচার্জ জানান, এলাকাকে মাদকমুক্ত করতে পুলিশের এই নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে। গ্রেপ্তারকৃত সকল আসামিকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

মাদক সিন্ডিকেট, মাসোয়ারা ও আপোষ বাণিজ্য: অভিযোগের কেন্দ্রে এসআই জুয়েল

রাজশাহীর গোদাগাড়ী মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জুয়েলের বিরুদ্ধে মাদক সিন্ডিকেট পরিচালনা, উদ্ধারকৃত অরিজিনাল হেরোইন বিক্রি এবং বিচারপ্রার্থীদের জিম্মি করে অর্থ আদায়ের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রভাবশালী এই পুলিশ কর্মকর্তার কর্মকাণ্ডে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিভিন্ন পক্ষ এখন আতঙ্ক ও ভোগান্তির মধ্যে রয়েছেন।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে উদ্ধারকৃত মাদক নিয়ে কারসাজির বিষয়ে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, এসআই জুয়েল মাদকসহ আসামি আটক করার পর উদ্ধারকৃত অরিজিনাল মাদক সরিয়ে সেখানে নকল বা মাদক সদৃশ বস্তু যুক্ত করে আদালতে চালান দেন।
গত ১০ এপ্রিল বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার ভাটোপাড়া এলাকা থেকে ১০০ গ্রাম মাদকসহ আলিয়ারা বেগম (স্বামী- মাসুদ রানা) নামের এক নারীকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় গোদাগাড়ী মডেল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা (এফআইআর নং-২১, জিআর নং-১০৯) রেকর্ড করা হয়। তবে অভিযোগ উঠেছে, উদ্ধারকৃত ১০০ গ্রাম অরিজিনাল হেরোইনের মধ্যে ৯০ গ্রামই বিক্রি করে দেন এসআই জুয়েল। পরে মাত্র ১০ গ্রাম ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠিয়ে বাকি অংশের জায়গায় মাদক সদৃশ বস্তু যুক্ত করে জব্দ তালিকায় দেখানো হয়।
থানার একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এসআই জুয়েলের বিরুদ্ধে উদ্ধারকৃত আসল মাদক বিক্রির অভিযোগ নতুন নয়। এর আগেও তিনি একই ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন বলে দাবি করেন তারা।
শুধু মাদক নয়, ফসলি জমির টপসয়েল (ওপরিভাগের মাটি) নিধন সিন্ডিকেট থেকেও নিয়মিত মাসোয়ারা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ওই সিন্ডিকেটের এক সদস্য ছদ্মনাম “রহিম” ফোনে জানান, তিনি নিয়মিত থানায় গিয়ে এসআই জুয়েলকে ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত দিয়ে থাকেন। তবে বর্তমান ওসির সঙ্গে এ ধরনের কোনো লেনদেন হয় না বলেও দাবি করেন তিনি।
এছাড়া উপজেলার সাফিনা পার্ক থেকেও নিয়মিত মাসোয়ারা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।
অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন মামলার বাদী ও বিবাদী উভয় পক্ষকে আপোষ-মীমাংসার কথা বলে থানায় ডেকে এনে ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে অর্থ আদায় করেন এসআই জুয়েল। কেউ টাকা দিতে ব্যর্থ হলে তাকে নানাভাবে হয়রানির শিকার হতে হয় বলেও জানিয়েছেন একাধিক ভুক্তভোগী।
এসব বিষয়ে বক্তব্য জানতে এসআই জুয়েলের ব্যক্তিগত মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
গোদাগাড়ী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান বলেন, “এ ধরনের কোনো অভিযোগ আমার জানা নেই। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, পুলিশের একজন সদস্যের বিরুদ্ধে ওঠা এসব গুরুতর অভিযোগ দ্রুত ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। অন্যথায় এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটার পাশাপাশি পুলিশের ভাবমূর্তিও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

ক্যান্সারের সাথে যুদ্ধে হার মানলেন পুলিশ সদস্য মিজানুর রহমান

ক্যান্সারের মতো মরণব্যাধির সঙ্গে মাত্র এক মাসের লড়াই শেষে না ফেরার দেশে চলে গেলেন পুলিশ কনস্টেবল মিজানুর রহমান মিজান ।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দুপুরে বগুড়ার টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ ও ক্যান্সার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

মিজানুর রহমান বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার নারায়ণ শহর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল থানায় কর্মরত ছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই মেয়ে ও এক ছেলেসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক মাস আগে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন মিজানুর রহমান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নেওয়া হলে বিভিন্ন পরীক্ষার মাধ্যমে তার শরীরে শেষ পর্যায়ের ক্যান্সার শনাক্ত হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় চিকিৎসকরা তাকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। পরবর্তীতে শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হলে তাকে বগুড়ার টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ ও ক্যানসার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

তার মৃত্যুতে ক্ষেতলাল থানা পুলিশ সদস্যদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পাশাপাশি নিজ গ্রামেও চলছে শোকের মাতম। সহকর্মী ও স্থানীয়রা শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, আজ বাদ এশায় জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।

তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. আরিফ হোসেন বলেন, ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে। তার মৃত্যুতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে এসপি স্যার একটি শোকবার্তা দিয়েছেন। অন্যদিকে জেলা পুলিশ এবং পুলিশ হেডকোয়ার্টারস এর পক্ষ তার পরিবারকে নগদ অর্থ সহায়তা করা হয়েছে।

ঠাকুরগাঁওয়ে অনিয়মের অভিযোগে মনছুর আলী ফিলিং স্টেশনকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

ঠাকুরগাঁওয়ে জ্বালানী তেল বিক্রিতে অনিয়মের অভিযোগে একটি ফিলিং স্টেশনে অভিযান চালিয়ে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দুপুরে সদর উপজেলার ভূল্লীতে মেসার্স আলহাজ্ব মনসুর আলী ফিলিং স্টেশনে অভিযানে অনিয়মের অভিযোগে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট হাসনা হেনা লাবনী।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, নির্ধারিত নিয়ম উপেক্ষা করে ফুয়েল কার্ড ছাড়া পেট্রোল বিক্রির অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পরে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ (সংশোধন) আইন, ২০০৯-এর ৪৫ ধারায় প্রতিষ্ঠানটিকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে জরিমানার অর্থ আদায় করা হয়।
অভিযান চলাকালে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জ্বালানী তেল বিক্রয়ে সরকারি নির্দেশনা ও বিধি-বিধান কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সাথে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম পাওয়া গেলে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট হাসনা হেনা লাবনী জানায়, ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষা, জ্বালানী তেল বিপণনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং অবৈধ কার্যক্রম বন্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
অভিযানে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

জয়পুরহাটে প্যানেল চেয়ারম্যানের ক্ষমতা বাতিল করে প্রকৌশলীকে নিয়োগ

জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার আলমপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মোছাঃ হোসেনে আরা বেগমের আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা বাতিল করা হয়েছে। পরিষদের কার্যক্রম ও জনসেবা নিরবচ্ছিন্ন রাখতে উপজেলা প্রকৌশলীকে এই দায়িত্ব প্রদান করেছে জেলা প্রশাসন।

 

​গত ১৩ মে ২০২৬ তারিখে জয়পুরহাট জেলা প্রশাসক মো: আল-মামুন মিয়া স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

 

​অফিস আদেশ সূত্রে জানা গেছে, আলমপুর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান জনাব মো: আনোয়ারুজ্জামান তালুকদার মামলাজনিত কারণে দীর্ঘদিন অনুপস্থিত রয়েছেন। এর ফলে স্থানীয় সরকার সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্যানেল চেয়ারম্যান-১ মোছাঃ হোসেনে আরা বেগমকে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল।

 

 

 

​তবে দায়িত্ব পাওয়ার পর প্যানেল চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও অভিযোগ তুলে ধরেন পরিষদের সদস্যরা। এরই প্রেক্ষিতে পরিষদের ৮ জন সদস্য তাঁর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনয়ন ও অপসারণের আবেদন করেন। সদস্যদের অনাস্থা ও প্রশাসনিক তদন্তের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক হোসেনে আরা বেগমের ক্ষমতা বাতিল করেন।

 

​আদেশে আরও উল্লেখ করা হয়, জনস্বার্থে এবং জনসেবা অব্যাহত রাখতে স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯-এর ৩৩, ১০১ এবং ১০২ ধারা মোতাবেক ক্ষেতলাল উপজেলা প্রকৌশলীকে আলমপুর ইউনিয়ন পরিষদের যাবতীয় আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা অর্পণ করা হয়েছে।

 

​জেলা প্রশাসক কর্তৃক জারিকৃত এই আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর করার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

গাজীপুরের আলোচিত পাঁচ খুনের রহস্য উদঘাটন

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলায় একই পরিবারের ৫ জনকে নৃশংস হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে জেলা পুলিশ। পারিবারিক কলহের জেরে পরিকল্পিতভাবে স্ত্রী, তিন কন্যা সন্তান ও শ্যালককে হত্যার পর প্রধান অভিযুক্ত ফোরকান মোল্লা পদ্মা সেতু এলাকা থেকে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

 

 

 

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানানো হয়।

 

 

 

প্রেস ব্রিফিংয়ে বলা হয়, গোপালগঞ্জ সদর থানার গোপীনাথপুর এলাকার মৃত আতিকার রহমান মোল্লার ছেলে ফোরকান মোল্লা (৪০) প্রায় ১৬ বছর আগে শারমিন বেগমকে বিয়ে করেন। তাদের সংসারে তিন কন্যা সন্তান জন্ম নেয়। দীর্ঘদিন ধরে দাম্পত্য কলহ ও পারিবারিক অশান্তি চলছিল। প্রায় ছয় মাস আগে ফোরকান মোল্লা স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার রাউজকোনা পূর্বপাড়া এলাকায় জনৈক মনির হোসেনের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস শুরু করেন। তিনি পেশায় একজন প্রাইভেটকার চালক ছিলেন।

এতে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ৮ মে রাতে ফোরকান মোল্লা তার শ্যালক রাসেল মোল্লাকে গাড়ি কেনার কথা বলে গোপালগঞ্জ থেকে কাপাসিয়ায় নিয়ে আসে। পরে গভীর রাতে পূর্বপরিকল্পিতভাবে পরিবারের সদস্যদের খাবারের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ বা অচেতনকারী পদার্থ মিশিয়ে খাওয়ানো হয় বলে পুলিশের ধারণা। সবাই অচেতন হয়ে পড়লে ধারালো চাপাতি দিয়ে স্ত্রী শারমিন বেগম, তিন কন্যা সন্তান এবং শ্যালক রাসেল মোল্লাকে কুপিয়ে হত্যা করে ফোরকান।

নিহত শারমিনের বাবা শাহাবুদ্দিন মোল্লার অভিযোগের ভিত্তিতে কাপাসিয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলার পরপরই জেলা পুলিশ, পুলিশ সুপারের কার্যালয় এবং কাপাসিয়া থানা পুলিশের সমন্বয়ে একাধিক টিম মাঠে নামে।

পুলিশ জানায়, আধুনিক প্রযুক্তি, মোবাইল ট্র্যাকিং ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের মাধ্যমে ঘটনার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়। তদন্তে দেখা যায়, হত্যাকাণ্ডের পর ফোরকান ঢাকার দিকে পালিয়ে যায় এবং পরে পদ্মা সেতু এলাকায় অবস্থান নেয়। ১১ মে সকালে পদ্মা সেতুর রেলিংয়ের পাশে ফোরকানের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, সাদা শার্ট ও কালো প্যান্ট পরিহিত এক ব্যক্তি কিছু সময় সেতুর ওপর অবস্থান করার পর নদীতে ঝাঁপ দেয়। পুলিশের ধারণা, ওই ব্যক্তি ফোরকান মোল্লা।

 

 

 

গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার শরিফ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ঘটনার পরপরই পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তি, সিসিটিভি ফুটেজ ও বিভিন্ন আলামত বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক কলহের জেরে ফোরকান মোল্লা পরিকল্পিতভাবে স্ত্রী, সন্তান ও শ্যালককে হত্যা করেছে।”

 

 

 

তিনি আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্ত আত্মগোপনে চলে যায় এবং পরবর্তীতে পদ্মা সেতু এলাকা থেকে আত্মহত্যার উদ্দেশ্যে নদীতে ঝাঁপ দেয় বলে আমরা জানতে পেরেছি। তবে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে। প্রকৃত সত্য উদঘাটনে পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।” এই মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। নিহতদের স্বজনরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।

 

শিক্ষাক্ষেত্রে সেশনজট কমাতে নতুন পরিকল্পনা: শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, সেশনজট যেনো বন্ধ হয়ে যায়, আমরা সেভাবেই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি চালু করবো৷ 

 

 

 

বুধবার (১৩ মে) বিকেলে গাজীপুরের ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি (আইইউটি) ক্যাম্পাসে ‘আইইউটি এক্সেলেন্স অ্যাওয়ার্ড’ অনুষ্ঠান শেষে তিনি এ তথ্য জানান। 

 

 

 

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমাদের টার্গেট একাডেমিক ক্যালেন্ডার হবে ৩১শে ডিসেম্বরের মধ্যে। 

 

 

বিগত সময়ে শিক্ষা ক্ষেত্রে যে অব্যবস্থাপন হয়েছে, সেগুলোর সমাধান করা। 

 

তিনি আরও বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও পলিসি মেকারদের কারণে কোনো শিক্ষার্থীর জীবন থেকে যেনো অতিরিক্ত ২ বছর ঝরে না পড়ে।

 

 

এজন্য ক্রমান্বয়ে আমার সিংক্রোনাইজ করছি। 

 

 

এসময় মন্ত্রী আইইউটির মানসম্মত গ্র্যাজুয়েট তৈরিতে ধারাবাহিক সাফল্যের প্রশংসা করেন এবং দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় উৎকর্ষতা অর্জনে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। 

 

 

অনুষ্ঠানে আইইউটি উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম ও উপ-উপাচার্য হোসাইন আরাবি নুর সহ অন্যান্যরা বক্তব্য রাখেন।

 

 

 

এরআগে মন্ত্রী আইইউটি শিক্ষার্থীদের তৈরি করা গাড়ি ও অন্যান্য যন্ত্র ঘুরে দেখেন৷ পরে বিভিন্ন দেশে প্রতিযোগীতায় অংশ নিয়ে পুরস্কার পাওয়া শিক্ষার্থীদের সম্মাননা স্মারক প্রদান করেন। 

 

 

 

শিক্ষার্থীদের একাডেমিক উৎকর্ষতা ও গবেষণায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিও প্রদান করেন শিক্ষামন্ত্রী। 

রায়গঞ্জের ধানের হাটে অনিয়মের অভিযোগ, অতিরিক্ত ওজন ও খাজনা নিয়ে ক্ষুব্ধ কৃষকরা

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ধানের হাটে সরকারি নিয়ম উপেক্ষা করে অতিরিক্ত ওজনে ধান ক্রয় এবং খাজনার নামে বাড়তি টাকা ও ধান আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, আড়ৎদার, ক্রেতা, ফড়িয়া ও ইজারাদারদের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা একটি সিন্ডিকেটের কারণে তারা প্রতিনিয়ত আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার প্রাচীন ও বড় হাটগুলোর মধ্যে সলঙ্গা, চান্দাইকোনা, নিমগাছীসহ অন্তত ১০টি ধানের হাটে নিয়মিত ধান কেনাবেচা হয়। পাশাপাশি এক শ্রেণির ফড়িয়া ব্যবসায়ী নির্ধারিত কমিশনের ভিত্তিতে গ্রামে গ্রামে ঘুরে কৃষকদের কাছ থেকে ধান ক্রয় করেন।
কৃষকদের অভিযোগ, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রতি মন ধানের ওজন ৪০ কেজি হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে প্রতি মণে ২ থেকে ৩ কেজি পর্যন্ত অতিরিক্ত ধান নেওয়া হচ্ছে। নির্ধারিত ওজনের কম হলে অনেক ক্ষেত্রে ধান কিনতে অনীহা দেখান ক্রেতারা। ফলে বাধ্য হয়ে কৃষকদের বাড়তি ধান দিতে হচ্ছে।
এ ছাড়া ইজারাদাররা ধান বিক্রেতাদের কাছ থেকে খাজনা বাবদ নগদ টাকা আদায়ের পাশাপাশি ধান (তোলা) বাবদ প্রতি মণে দেড় থেকে দুই কেজি পর্যন্ত অতিরিক্ত ধান নিয়ে থাকেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে কৃষকদের ক্ষোভ বাড়লেও প্রভাবশালীদের ভয়ে অনেকেই প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছেন না।
চান্দাইকোনা হাটে ধান বিক্রি করতে আসা কৃষক আব্দুল মালেক বলেন, “সার, তেল, সেচ ও শ্রমিকের খরচ কয়েকগুণ বাড়লেও ধানের দাম বাড়েনি। ধান বিক্রি করতে গেলেই ব্যবসায়িদের সিন্ডিকেটের ফাঁদে পড়তে হয়।”
তেলিজানা গ্রামের কৃষক আব্দুর রশিদ বলেন, “ঘুড়কা হাটে এক মন ধানে ৩ থেকে ৪ কেজি পর্যন্ত অতিরিক্ত ধান দিতে হচ্ছে। এতে লাভ তো দূরের কথা, উৎপাদন খরচই উঠছে না। সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। এভাবে চলতে থাকলে ধান চাষ ছেড়ে দিতে হবে।”
আরেক কৃষক আলাউদ্দিন বলেন, “হাটে কোনো নিয়মের তোয়াক্কা করা হয় না। কষকদের জিম্মি করে ব্যবসায়িরা পকেট ভরে। ধান চাষে খরচ বাড়লেও আমরা লাভের মুখ দেখতে পাই না।”
নিমগাছী হাটের এক বিক্রেতা অভিযোগ করে বলেন, “এ হাটে ধান বিক্রি করতে এলে প্রতি মণে ৩ থেকে ৪ কেজি বেশি দিতে হয়। এ ছাড়া ফড়িয়া ব্যবসায়িরা সুযোগ পেলে ধান ওজনের কারচুপি করে প্রতি বস্তায় দেড় থেকে দুই কেজি ধান কম বানায়।” তিনি আরও জানান, কিছু আড়ৎদার ধান কিনে যথাসময়ে টাকা পরিশোধ না করে টালবাহানা করেন এবং বাকিতে ধান নিয়ে থাকেন।
নিমগাছী বাজারের এক আড়ৎদার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “বছরের পর বছর ধরেই এভাবে ধান কেনাবেচা চলে আসছে। সবাই এভাবেই ব্যবসা করেন।” তিনি দাবি করেন, পরিবহন ও বাজার ব্যবস্থাপনার খরচের কারণেই কিছুটা বেশি ওজন নেওয়া হয়।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুল খালেক পাটোয়ারী বলেন, “অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অনিয়ম প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয় কৃষক ও সচেতন মহল মনে করছেন, ধানের হাটে অনিয়ম বন্ধে নিয়মিত নজরদারি, সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ এবং খাজনা ও তোলার নামে অতিরিক্ত অর্থ ও ধান আদায় বন্ধে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনাসহ প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ জরুরি।

শেষ শ্রদ্ধা জানাতে মানুষের ঢল সাবেকমন্ত্রী মোশাররফ হোসেনের জানাজায়

সাবেক মন্ত্রী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে চট্টগ্রামে সর্বস্তরের মানুষের ঢল নেমেছে।

 

 

 

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকাল ১১টার দিকে নগরের জমিয়াতুল ফালাহ জাতীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার পর তাকে মিরসরাইয়ে নেওয়া হয়।

 

 

সেখানে বাদ আসর ফজলুর রহমান স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে তৃতীয় নামাজের জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।

 

 

 

জানাজায় অংশ নেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। পাশাপাশি আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী ছাড়াও সাধারণ জনগণকে জানাজায় অংশ নিতে দেখা যায়।

 

 

এ সময় মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন ছিলেন দেশের রাজনীতির এক অভিজ্ঞ ও সজ্জন ব্যক্তিত্ব। মহান মুক্তিযুদ্ধে তার অবদান এবং চট্টগ্রামের উন্নয়নে দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের ভূমিকা মানুষ শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।

 

 

সাংবাদিক আনিস আলমগীরের স্থায়ী জামিন মঞ্জুর

অবৈধ সম্পদ অর্জন ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এর করা মামলায় সাংবাদিক আনিস আলমগীরের স্থায়ী জামিনের আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত।

 

 

 

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দুপুরে শুনানি শেষে ঢাকার মহানগর দায়রা জজ মো. সাব্বির ফয়েজের আদালত এই আদেশ দেন। একইসঙ্গে ব্যক্তিগত হাজিরা মওকুফ চেয়ে করা আবেদন নামঞ্জুর করে সশরীরে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেন।

 

 

 

আসামিপক্ষের আইনজীবী তাসলিমা জাহান পপি এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, দুদকের এই মামলায় তার স্থায়ী জামিন মঞ্জুর করেন। বিদেশযাত্রার ক্ষেত্রেই তার কোন বাঁধা নেই। তবে ব্যক্তিগত হাজিরা মওকুফের আবেদন না মঞ্জুর করেন আদালত।

 

এদিন সকালে আদালতে হাজিরা দিতে আসেন আনিস আলমগীর। এসময় তার পক্ষে স্থায়ী জামিন, ব্যক্তিগত হাজিরা মওকুফ ও যেকোন সময় বিদেশ যেতে পারেন এই বিষয়ে পৃথক তিনটি আবেদন করেন। শুনানি শেষে ব্যক্তিগত হাজিরা মওকুফের আবেদনের নামঞ্জুর করেন। তবে অপর দুটি আবেদন মঞ্জুর করেছেন।

 

গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর রাজধানীর ধানমন্ডি ২ নম্বরে অবস্থিত একটি ব্যায়ামাগার থেকে বের হওয়ার পর তাকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হেফাজতে নেন। এরপর তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবির কার্যালয়ে নেওয়া হয়। পরদিন ১৫ ডিসেম্বর আনিস আলমগীরকে উত্তরা পশ্চিম থানার সন্ত্রাস বিরোধী আইনে করা মামলায় পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়। রিমান্ড শেষে গত ২০ ডিসেম্বর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

 

 

এরপর গত ১৫ জানুয়ারি জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে আনিস আলমগীরের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করে দুদক। গত ২৫ জানুয়ারি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও দুদকের সহকারী পরিচালক আখতারুজ্জামান তাকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তাকে এই মামলা গ্রেপ্তার দেখানো আবেদন মঞ্জুর করেন। গত ১১ মার্চ এই মামলায় তার জামিন মঞ্জুর করেন আদালত।

 

 

 

মামলার অভিযোগে বলা হয়, আনিস আলমগীরের নামে ২৫ লাখ টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পদ এবং ৩ কোটি ৮৪ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮৯ টাকা মূল্যের অস্থাবর সম্পদসহ মোট ৪ কোটি ৯ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮৯ টাকার সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয় হিসেবে তার ব্যয় ধরা হয়েছে ১৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা।

 

 

 

তার মোট অর্জিত সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪ কোটি ২৫ লাখ ৫৮ হাজার ৭৮৯ টাকা। আনিস আলমগীরের বৈধ আয়ের উৎস থেকে মোট আয় পাওয়া গেছে ৯৯ লাখ ৯ হাজার ৮৫১ টাকা। এর মধ্যে অতীত সঞ্চয় ৫৪ লাখ ৪৫ হাজার ৮২১ টাকা, টক শো ও কনসালটেন্সি থেকে আয় ১৯ লাখ ৩৯ হাজার ৯৭৭ টাকা, প্লট বিক্রি থেকে ২২ লাখ টাকা এবং সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক সুদ বাবদ ৩ লাখ ২৪ হাজার ৫৩ টাকা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

 

 

 

এ হিসাবে তার ঘোষিত ও গ্রহণযোগ্য আয়ের তুলনায় ৩ কোটি ২৬ লাখ ৪৮ হাজার ৯৩৮ টাকার সম্পদ বেশি পাওয়া যায়, যা মোট অর্জিত সম্পদের প্রায় ৭৭ শতাংশ এবং তা জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ হিসেবে করা হয়।

 

 

 

উল্লেখ্য, গত ৫ মার্চ সন্ত্রাসবিরোধী আইনে এক মামলায় সাংবাদিক আনিস আলমগীরকে জামিন মঞ্জুর করেন উচ্চ আদালত।

 

 

অটোরিকশা চালককে গলা কেটে হত্যা, এলাকায় চাঞ্চল্য

গাজীপুরের শ্রীপুরে মেহেদী হাসান আসিফ নামের এক অটোরিকশা চালকের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

 

 

 

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকালে উপজেলার রাজাবাড়ি ইউনিয়নের ডোয়াইবাড়ি গ্রামের বগারভিটা এলাকার গজারি বনের পাশের মাঠ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

 

 

 

নিহত মেহেদী হাসান আসিফ (২২) উপজেলার রাজাবাড়ি ইউনিয়নের ডোয়াইবাড়ি গ্রামের মো. হুমায়ুন আহমেদ জাকিরের ছেলে। তিনি পেশায় একজন অটোরিকশা চালক।

 

জানা গেছে, হত্যার পর মরদেহ ও অটোরিকশা গজারি বনের পাশে ফাঁকা মাঠে ফেলে গেছে দুর্বৃত্তরা। মরদেহের পাশে পাওয়া গেছে নারীর ওড়না, জুতা ও চুলের ব্যান্ড। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন গাজীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আশফাক উজ্জামান। হত্যার রহস্য উদ্‌ঘাটনে ঘটনাস্থলে এসেছে সিআইডি, পিবিআই, ডিবিসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

নিহতের মা আছমা বেগম বলেন, বুধবার বিকেলে অটোরিকশা নিয়ে বের হয় আমার ছেলে। রাত ১১টার মধ্যে বাড়ি ফেরে। রাত বেশি হলে তাকে ফোন করা হয়। কিন্তু মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এরপর খুঁজাখুঁজি শুরু করি। অনেক অটোরিকশা চালকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়, কিন্তু তারা কোনো খোঁজ দিতে পারেনি।

 

 

তিনি আরও বলেন, রাতভর খোঁজাখুঁজি করলেও ছেলের সন্ধান পাওয়া যায়নি। ফজরের আজানের পর বাড়ির অদূরে একটি নির্জন স্থানে কে জানি ছেলের অটোরিকশা ফেলে গেছে। তারপর থেকে দুশ্চিন্তা আরও বাড়তে থাকে। সকালে বগারভিটা এলাকায় ছেলের গলাকাটা মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা।

 

 

 

শ্রীপুর থানার ওসি মোহাম্মদ নাছির আহমেদ বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল এসে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ভিকটিমকে হত্যা করা হয়। নারীর ওড়না, জুতা, মাথার চুলের ব্যান্ড পাওয়া গেছে সেখানে। রহস্য উদ্‌ঘাটনের জন্য কাজ করছে পুলিশ। এ ব্যাপারে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ চলমান ও হত্যার রহস্য উদ্‌ঘাটনে কাজ চলছে।

 

 

পারইল ইউনিয়নে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের উন্মুক্ত বাজেট সভা অনুষ্ঠিত

 নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার ৪নং পারইল ইউনিয়নে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের উন্মুক্ত বাজেট সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিমূলক বাজেট গড়ি, উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখি’ — এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকাল ১০টায় পারইল ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন ৪নং পারইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহিদুর রহমান জাহিদ। ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম আগামী অর্থবছরের খসড়া বার্ষিক আয়-ব্যয়ের বাজেট উপস্থাপন করেন।
উপস্থাপিত বাজেটে মোট বরাদ্দের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে ১ কোটি ৭৫ লাখ ২৭ হাজার ৬৪৬ টাকা। এর মধ্যে রাজস্ব খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১৭ লাখ ৭৪ হাজার ১০০ টাকা এবং উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১ কোটি ৫৭ লাখ ৫৩ হাজার ৫৪৬ টাকা।
এসময় জাহিদুর রহমান জাহিদ বলেন,সরকার বাজেট প্রণয়ন করে, কিন্তু এর সুফল ঘরে তুলতে আমাদেরও কিছু দায়িত্ব সঠিকভাবে দেশের উন্নয়ন মানে আমাদেরই উন্নয়ন। তাই সামর্থ্য অনুযায়ী নিয়মিত কর প্রদান করা আমাদের নাগরিক দায়িত্ব।সরকারি সম্পদ যেমন—বিদ্যুৎ, পানি বা রাস্তাঘাট, এগুলো আমাদের সম্পদ। এগুলোর অপচয় রোধ করা মানেই বাজেটের সাশ্রয়।
স্থানীয় পর্যায়ে বাজেটের টাকা সঠিক খাতে ব্যয় হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে আমাদের সকলের সচেতন থাকা জরুরি।সচেতনতা কেবল নিজের জন্য নয়, আমাদের সন্তানদের জন্য একটি নিরাপদ পৃথিবী রেখে যাওয়ার জন্য। সরকার বা কোনো সংস্থা একার চেষ্টায় সমাজ পরিবর্তন করতে পারবে না, যতক্ষণ না আমরা নাগরিক হিসেবে সচেতন হই।
সভায় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং সাধারণ জনগণ অংশগ্রহণ করেন। বাজেট সভায় উপস্থিত সকলে ইউনিয়নের উন্নয়নমূলক কার্যক্রম আরও গতিশীল করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

ইনুর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী মামলায় যুক্তিতর্ক শেষ, রায় যেকোনো দিন

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়েছে। ফলে যেকোনো দিন রায় ঘোষণা হতে পারে বলে জানা গেছে।

 

 

 

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ সর্বশেষ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করে রাষ্ট্রপক্ষ।

 

 

 

হাসানুল হক ইনু জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি ও আওয়ামী লীগ সরকার আমলে তথ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

জানা গেছে, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে কুষ্টিয়ায় ৬-৭ জন নিহতের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা হয়। এই মামলায় তার বিরুদ্ধে ৮টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে।

প্রসিকিউশনের দাবি, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উসকানি ও প্ররোচনা দিয়েছেন হাসানুল হক ইনু। ইনুর প্ররোচনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনা বিভিন্ন ধ্বংসাত্মক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করেন।

 

 

এছাড়া আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোটের অন্যতম শীর্ষ নেতা হিসেবে এসব অপরাধের ক্ষেত্রে তার ওপর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দায় (সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটি) বর্তায় বলেও প্রসিকিউশন যুক্তি উপস্থাপন করেছে।

 

 

 

গত বছরের ১ ডিসেম্বর এ মামলায় প্রসিকিউশনের সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। এর আগে ২৫ সেপ্টেম্বর প্রসিকিউশন সুনির্দিষ্ট আটটি অভিযোগ ট্রাইব্যুনালে দাখিল করে। একই দিন শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেয়।

 

 

২০২৪ সালের ২৬ আগস্ট তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

 

 

চোখ দিয়ে মাথায় ঢোকে গুলি, প্রাণ গেল শিশু রেশমীর

চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামীর রউফাবাদ কলোনিতে গুলিবিদ্ধ হওয়া পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী রেশমী আক্তার মারা গেছে। কয়েকদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকাল পৌনে ১০টায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় সে।

 

 

 

চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নিহত রেশমি স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী ছিল। তার বাবা রিয়াজ আহমেদ পেশায় সবজি বিক্রেতা। পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে রেশমি ছিল সবার ছোট।

 

 

 

চিকিৎসকরা জানান, গুলিটি রেশমীর বাঁ চোখ ভেদ করে মাথার ভেতরে ঢুকে মস্তিষ্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশে আটকে যায়। তার অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় অস্ত্রোপচার করা সম্ভব হয়নি এবং তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়।

 

স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবার জানায়, গত বৃহস্পতিবার রাতে রৌফাবাদ এলাকায় বোনের বাসায় বেড়াতে আসা হাসান রাজু (২৪) নামে এক যুবককে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে ৫-৬ মুখোশধারী দুর্বৃত্ত। ঘটনাস্থলেই রাজু নিহত হন। ওই সময় মায়ের কথায় দোকান থেকে পান আনতে গিয়ে গুলিবর্ষণের মাঝখানে পড়ে যায় শিশু রেশমি। একটি গুলি তার চোখে বিদ্ধ হয়।

 

আহত অবস্থায় রেশমিকে চমেক হাসপাতালে নেওয়া হলে প্রথমে নিউরোসার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। সেখানে আইসিইউ শয্যা খালি না থাকায় পরিবার তাকে দ্রুত একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে চমেক হাসপাতালে আইসিইউ খালি হলে তাকে পুনরায় সেখানে স্থানান্তর করা হয়। শুক্রবার রাত থেকে সেখানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিল। বৃহস্পতিবার সকালে চমেক হাসপাতালের আইসিইউতে তার মৃত্যু হয়।

 

 

পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘটনার সময় এলাকায় চার থেকে পাঁচ মিনিট ধরে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ চলে। আশপাশের লোকজন ভয়ে সরে গেলেও রেশমী নিজেকে আড়াল করতে পারেনি। এদিন সন্ত্রাসীদের গুলিতে রাজু নামে এক যুবক ঘটনাস্থলেই নিহত হন।

 

 

চাকরি দিচ্ছে যমুনা গ্রুপ, আবেদন করতে পারবেন ৪০ বছর বয়সীরাও

চাকরি দেবে বেসরকারি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান যমুনা গ্রুপ। প্রতিষ্ঠানটি তাদের প্লাজা ম্যানেজার পদে জনবল নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। ১৩ মে থেকেই আবেদন নেওয়া শুরু হয়েছে। চলবে আগামী ১২ জুন পর্যন্ত।

 

 

 

আগ্রহী প্রার্থীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। নির্বাচিতদের মাসিক বেতন ছাড়াও প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা অনুযায়ী আরও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হবে।

 

 

 

চলুন, একনজরে দেখ নিই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিটি-

প্রতিষ্ঠানের নাম: যমুনা গ্রুপ

পদের নাম: প্লাজা ম্যানেজার

লোকবল নিয়োগ: ৩০ জন

শিক্ষাগত যোগ্যতা: বিবিএ/বিবিএস অন্যান যোগ্যতা: কম্পিউটার জ্ঞান (এমএস ওয়ার্ড, এক্সেল, পিওএস/ইআরপি সিস্টেম)। অভিজ্ঞতা: ৫ থেকে ১০ বছর

চাকরির ধরন: ফুলটাইম

কর্মক্ষেত্র: প্লাজায়

প্রার্থীর ধরন: শুধু পুরুষ

বয়সসীমা: ২৫ থেকে ৪০ বছর

কর্মস্থল: যেকোনো জায়গায়

বেতন: আলোচনা সাপেক্ষে

অন্যান্য সুবিধা: প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা অনুযায়ী

আবেদন যেভাবে: আগ্রহী প্রার্থীরা আবেদন করতে ও বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তিটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন।

আবেদনের শেষ সময়: ১২ জুন ২০২৬

 

 

শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড

দীপু মনি, ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবুকে গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ

রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাংবাদিক মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল-১।

 

 

বৃহস্পতিবার (১৩ মে) বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। এর আগে এদিন সকালে তাদের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

 

 

একইসঙ্গে তদন্তাধীন মামলাটির প্রতিবেদন আগামী ৭ জুন দাখিলের জন্য দিন ধার্য রয়েছে। তদন্ত সংস্থার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ গত ৭ মে এই আদেশ দেন।

উল্লেখ্য, মামলার তদন্ত সংস্থার আবেদনের পর দীপু মনি, ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবুকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করতে গত ৭ মে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

ওই শুনানিতে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম দাবি করেন, ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে হত্যাকাণ্ডের সময় দীপু মনি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। তিনি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা একদল উচ্ছৃঙ্খল মানুষকে নির্মূল করেছেন বলে প্রচার করেন।

 

এছাড়া সাংবাদিক ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবুর বিরুদ্ধে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ নিয়ে উসকানিমূলক বক্তব্য প্রচারের অভিযোগ আনা হয়। সে সময় মোজাম্মেল বাবু একাত্তর টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং ফারজানা রুপা প্রতিষ্ঠানটির প্রধান প্রতিবেদক ছিলেন বলে উল্লেখ করা হয়।

 

 

 

সেদিন শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল তাদের আদালতে হাজিরের নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে আজ বৃহস্পতিবার তাদের ট্রাইব্যুনালে আনা হলে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক।

 

 

 

এ মামলায় এর আগে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক একেএম শহিদুল হক, সাবেক ডিআইজি মোল্যা নজরুল ইসলাম, একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টা মণ্ডলীর সভাপতি শাহরিয়ার কবির ও সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল।

 

 

 

শাপলা চত্বরের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ এনে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কাছে আবেদন করেন হেফাজতে ইসলামের নেতা আজিজুল হক। হেফাজত নেতা জুনায়েদ আল হাবিব ও মামুনুল হকের পক্ষে করা ওই অভিযোগে মোট ২১ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

 

 

রাজাকারদের চিনতে মুক্তিযোদ্ধা ‘টেপরি রাণীকে’ জানতে হবে

(সাহিত্যিক মোজাফ্ফর হোসেনের ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)

 

 

মুক্তিযোদ্ধা টেপরী রাণী চলে গেলেন। কে এই নারী জানবেন না?? জানতে ইচ্ছা করে না???
…যুদ্ধ চলছে। টেপরী রাণীর বয়স তখন মাত্র ১৭। আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে তার পরিবার। তখনই পরিবারকে বাঁচানোর নাম করে এগিয়ে এল এক রাজাকার। সে টেপরীর বাবাকে বলল—
“তোমার মেয়েকে যদি পাকিস্তানি ক্যাম্পে দাও, তাহলে পুরো পরিবার বেঁচে যাবে।”

 

 

 

পরিবারকে রক্ষা করতে টেপরীকে ‘বিসর্জন’ দেওয়ার কথা ভাবল তার অসহায় বাবা। বাবার কথা শুনে কিশোরী টেপরীও আর বাধা দিল না। সে জানত ক্যাম্পে গেলে কি হবে তার সঙ্গে। তবু পরিবারকে বাঁচাতে হবে। নিজের বাবা তার মেয়ের হাত ধরে পৌঁছে দিলো ক্যাম্পে, জমের মুখে। সেদিন সারাটা পথ বাবা-মেয়ে একটিও কথা বলেনি। মেয়েকে তুলে দেওয়া হচ্ছে পাকিস্তানি ক্যাম্পে। পাকসেনারা তাকে ধ*র্ষণ করবে, ধ*র্ষণের পর মেরেও ফেলতে পারে। এই যখন হবিতব্য, কি কথা বলবে বাবা মেয়েকে?

 

 

সেদিন টেপরিকে ক্যাম্পে তুলে দিয়ে মাথা নিচু করে ফিরে আসেন নির্বাক বাবা। এই নিরবতার অর্থ বোঝেন? নিজের মেয়ের দিকে তাকিয়ে (নিজেকে বাবা বা মেয়ের স্থানে বসিয়ে) কল্পনা করেন তো!!

 

 

 

টেপরী আর পাঁচটা মেয়ের মতো মরে যেত পারত। কিন্তু কপাল খারাপ তার, সে মরেনি। দীর্ঘ ছয় মাসের নরকযন্ত্রণা ভোগ করে ফিরে আসে সে। এমন কোনো রাত যায়নি, পাকসেনারা তাকে ধ*র্ষণ করেনি। আজ শুনতে ‘বাড়াবাড়ি’ মনে হচ্ছে না? ইয়েস, একাত্তর মিথ না, এই ‘বাড়াবাড়ির’ নামই একাত্তর!
মুক্তিযুদ্ধ শেষ হলে অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় বাড়ি ফেরেন টেপরী। শুরু হয় আরেক যন্ত্রণা। অনাগত সন্তানকে গ্রহণ করতে প্রস্তুত না সমাজ। সন্তানকে ‘নষ্ট’ করে ফেলার জন্য নানা চাপ আসে চারদিক থেকে। তখন মেয়ের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়ান তার বাবা। তিনি বলেছিলেন, “না মা, রাখ। এ-ই হবে তোর সম্বল। তোকে তো আর কেউ গ্রহণ করবে না। শেষ বয়সে এই সন্তানই হবে তোর বেঁচে থাকার অবলম্বন।”

 

 

হয়েছেও তাই। ছেলে সুধীর বর্মনের আশ্রয়েই তার বাকি জীবনটা কেটেছে।
কিন্তু সমাজের কটূক্তি সুধীরেরও পিছু ছাড়েনি। সুধীরকে ‘পাঞ্জাবির বাচ্চা’ বলে অপমান করা হয়েছে প্রতিনিয়ত। একবার তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, সে প্রতিবাদ করে না কেনো?

 

 

সুধীরের উত্তর—“ঝগড়া করতে তো লোক লাগে, কিন্তু আমার কে আছে?”
না, সুধীরের পাশে কেউ নেই। তখনও ছিল না, এখনও নেই। কিন্তু এরপরও সুধীর বেঁচে আছে মাথা উঁচু করে। তার একটা মেয়ে আছে, নাম—‘জনতা’।
জনতা কি ভাবে জানেন? তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল তার দাদিকে নিয়ে। সে দৃঢ় কণ্ঠে বলেছিল—
“দেশে যদি আবার যুদ্ধ হয়, দাদীর মতো আমিও দেশের জন্য নিজের সব কিছু বিসর্জন দিতে দ্বিতীয়বার ভাববো না।”
এই আমাদের ‘জনতা’, একাত্তরের উত্তরসূরি।

 

 

দীর্ঘ অবহেলার পর ২০১৭ সালে রাষ্ট্রীয়ভাবে বীরাঙ্গনা (হওয়ার উচিত ‘মুক্তিযোদ্ধার’) স্বীকৃতি পান টেপরী রাণী।
তাকে তখন জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, কি চান তিনি। বৃদ্ধবয়সী টেপরী রানী বলেছিলেন: মৃত্যুর পর তাঁর দেহটাকে লাল-সবুজের পতাকায় মুড়িয়ে জাতি বিদায় জানাবে। এর চেয়ে আর বেশি কিছু তার চাওয়া নেই।
তার সেই চাওয়া পূরণ হয়েছে।

 

 

 

আসেন আমরা অন্তর থেকে তাঁকে স্যালুট জানাই। তাঁর স্মরণে একা একা এক মিনিট নিরবতা পালন করি। একশো থেকে এক হাজার, এক হাজার থেকে এক লক্ষ, লক্ষ থেকে কোটি মানুষ নিরবতা পালন করুন এই মায়ের জন্য। সুধীর ও জনতার জন্য।

 

 

 

[এই রাজাকারের আব্বা এবং বাচ্চারা শুনে রাখ, তোদের কারণেই আমাদের মুক্তিযুদ্ধটা আরো বেশি কঠিন, আরো বেশি ক্ষয় ও যন্ত্রণার হয়ে উঠেছিল। শেষ কথা, এই দেশটার উপর তোদের চেয়ে টেপরী রাণী, সুধীর ও জনতার অধিকার ও হক শতগুণ বেশি।]

 

 

 

ওমানে সড়ক দুর্ঘটনায় চট্টগ্রামের আপন ৪ ভাই একসাথে নিহত

ওমানে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার একই পরিবারের চার প্রবাসী ভাই নিহত হয়েছেন। বুধবার (১৩ মে) সকাল ১০টার দিকে রাজধানী মাস্কাট থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরের মোলাদ্দা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

 

 

 

ওমানে বাংলাদেশ দূতাবাস চার বাংলাদেশির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। নিহতরা চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বন্দারাজারপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং তারা একই পরিবারের চার ভাই।

 

 

 

জানা গেছে, কর্মস্থলে যাওয়ার পথে তাদের বহনকারী গাড়িতে গ্যাস লিকেজ থেকে হঠাৎ বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই চারজনের মৃত্যু হয়।

একসঙ্গে চার ভাইয়ের মর্মান্তিক মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের মাতম নেমে এসেছে। একই সঙ্গে ওমানে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটিতেও গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে।

 

 

 

নবম পে স্কেলে বাড়তে পারে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে-স্কেল নিয়ে আবারও আলোচনা উঠেছে। সম্ভাব্য নতুন বেতন কাঠামোর বিভিন্ন গ্রেডের প্রস্তাবিত বেতন প্রকাশের পর সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও কৌতূহল তৈরি হয়েছে। যদিও এখনো সরকারিভাবে কোনো প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি, তবে সংশ্লিষ্ট মহলে বিষয়টি নিয়ে জোর প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।

 

 

 

স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশে প্রথম জাতীয় বেতন স্কেল কার্যকর হয়। এরপর ২০১৫ সাল পর্যন্ত মোট আটবার নতুন পে-স্কেল ঘোষণা করা হয়েছে। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী প্রতি পাঁচ বছর পরপর নতুন বেতন কাঠামো প্রণয়নের কথা থাকলেও করোনা মহামারি, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট এবং রাজস্ব চাপে সেই প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন পিছিয়ে যায়।

 

 

 

২০২৬ সালে এসে নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে। সরকারি সূত্রগুলো বলছে, নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা চলছে। এ লক্ষ্যে গঠিত ১০ সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি বিভিন্ন সুপারিশ বিশ্লেষণ করে চূড়ান্ত মতামত প্রস্তুতের কাজ করছে।

 

প্রস্তাবিত তালিকা অনুযায়ী, প্রথম গ্রেডের বেতন নির্ধারণ করা হতে পারে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা। দ্বিতীয় গ্রেডে সম্ভাব্য বেতন ধরা হয়েছে ১ লাখ ৩২ হাজার থেকে ১ লাখ ৫৩ হাজার টাকা এবং তৃতীয় গ্রেডে ১ লাখ ১৩ হাজার থেকে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৮০০ টাকা। চতুর্থ গ্রেডে সম্ভাব্য বেতন ১ লাখ থেকে ১ লাখ ৪২ হাজার ৪০০ টাকা এবং পঞ্চম গ্রেডে ৮৬ হাজার থেকে ১ লাখ ৩৯ হাজার ৭০০ টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে।

 

এছাড়া ষষ্ঠ গ্রেডে সম্ভাব্য বেতন ৭১ হাজার থেকে ১ লাখ ৩৪ হাজার টাকা এবং সপ্তম গ্রেডে ৫৮ হাজার থেকে ১ লাখ ২৬ হাজার ৮০০ টাকা ধরা হয়েছে। অষ্টম গ্রেডে ৪৭ হাজার ২০০ থেকে ১ লাখ ১৩ হাজার ৭০০ টাকা এবং নবম গ্রেডে ৪৫ হাজার ১০০ থেকে ১ লাখ ৮ হাজার ৮০০ টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে।

 

 

অন্যদিকে দশম গ্রেডে সম্ভাব্য বেতন ৩২ হাজার থেকে ৭৭ হাজার ৩০০ টাকা, একাদশ গ্রেডে ২৫ হাজার থেকে ৬০ হাজার ৫০০ টাকা এবং দ্বাদশ গ্রেডে ২৪ হাজার ৩০০ থেকে ৫৮ হাজার ৭০০ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে। ত্রয়োদশ থেকে বিংশ গ্রেড পর্যন্ত বেতনও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে।

 

 

 

তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি এখনো একটি প্রস্তাবিত কাঠামো মাত্র। সরকারিভাবে গেজেট বা প্রজ্ঞাপন প্রকাশের পরই নবম জাতীয় পে-স্কেলের চূড়ান্ত বেতন কাঠামো সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।

 

 

স্কুলছাত্রীকে বেঁধে রেখে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ, গ্রেপ্তার ৪

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় অষ্টম শ্রেণির ছাত্রীকে বেঁধে রেখে সঙ্গে থাকা আরেক নবম শ্রেণির ছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করেছেন সাত শ্রমিক।

 

 

 

বুধবার (১৩ মে) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। গ্রেপ্তার চারজন হলেন— মো. আবু সৈয়দ (১৫), মো. মানিক ইসলাম (২০), মো. আবদুর রহিম (১৮) ও মো. রাকিব (২০)।

 

 

 

জানা গেছে, দুই কিশোরী পাহাড়ি এলাকায় প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে ঘুরতে বের হয়। অভিযুক্ত শ্রমিকদের মধ্যে একজন তাদের গতিবিধি লক্ষ্য করে অন্য ছয়জনকে মুঠোফোনে ডেকে আনে। পরে দুই কিশোরীকে তুলে নিয়ে একজনকে বেঁধে রেখে অন্যজনকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে। ধর্ষণ শেষে ভুক্তভোগীকে হত্যার উদ্দেশ্যে প্লাস্টিকের বস্তা দিয়ে মুখ চেপে ধরে।

মানুষের আনাগোনা টের পেয়ে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় দুই কিশোরী বাড়িতে এলে পরিবার বিষয়টি জানতে পারে। পরবর্তীতে বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে এলে সন্ধ্যায় অভিযুক্তদের খোঁজাখুঁজি শুরু করে। পরবর্তীতে সাতকানিয়া থানা পুলিশকে খবর দিলে ঘটনাস্থলে বিশেষ অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করে।

 

সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফুল ইসলাম ছিদ্দিকি বলেন, সাতজন স্থানীয় প্রজেক্টের কাজের শ্রমিক কর্তৃক নবম শ্রেণির এক ছাত্রী ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের মধ্যে স্থানীয়দের সহায়তায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের অভিযান চলছে।

 

 

তিনি আরও বলেন, গ্রেপ্তারদের আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতে সোপর্দ করা হবে।

 

 

সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত বাংলাদেশি

লালমনিরহাটের হাতিবান্ধার বনচৌকি সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে খাদেমুল ইসলাম নামের এক বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন।

 

 

 

বুধবার (১৩ মে) রাত ২টার দিকে সীমান্তের বনচৌকি বিওপি সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত যুবকের নাম মো. খাদেমুল (২৫)। তিনি উপজেলার উত্তর আমঝোল গ্রামের আমজাদ হোসেনের ছেলে।

 

 

 

জানা গেছে, বুধবার রাত ২টার দিকে বনচৌকি সিমান্ত পিলার ৯০৫/৬ এস থেকে ১৫০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে কয়েকজন বাংলাদেশি কাঁটাতারের বেড়ার কাছে গেলে ভারতীয় ৭৮ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের পাগলামারী ক্যাম্পের টহল দল তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে।

গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তিনি দ্রুত বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ফিরে আসেন। পরে স্থানীয় ও তার সহযোগীরা তাকে উদ্ধার করে রংপুরের একটি ক্লিনিকে ভর্তি করলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

লালমনিরহাট ব্যাটালিয়নের (১৫ বিজিবি) কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বিএসএফের গুলিতে একজন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। তবে কী কারণে বিএসএফ গুলি চালিয়েছে তা জানা যায়নি।

 

 

ভেনেজুয়েলাকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘৫১তম অঙ্গরাজ্য’ হিসেবে ট্রাম্পের পোস্ট

ভেনেজুয়েলাকে ‘৫১তম অঙ্গরাজ্য’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল এক পোস্টে তিনি দেশটিকে যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্য বলে দাবি করেছেন।

 

 

 

বুধবার (১৩ মে) আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

 

 

 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে একটি পোস্ট শেয়ার করেছেন। পোস্টে ভেনেজুয়েলার মানচিত্রের ওপর মার্কিন পতাকা বসানো ছিল। সেখানে দেশটিকে ‘৫১তম অঙ্গরাজ্য’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

এর একদিন আগে ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রুদ্রিগেজ দেশটিকে যুক্তরাষ্ট্রের আরেকটি অঙ্গরাজ্যে পরিণত করার ধারণা প্রত্যাখ্যান করেন। ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনি বিষয়টি ‘গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছেন’।

 

রদ্রিগেজ বলেন, আমরা আমাদের ভূখণ্ডের অখণ্ডতা, সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা এবং ইতিহাস রক্ষা করে যাব। এটি একটি গৌরবময় ইতিহাস। কোনো উপনিবেশ না হয়ে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে টিকে থাকার জন্য অসংখ্য নারী-পুরুষ নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন।

 

 

ট্রাম্পের ফক্স নিউজে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারের পর রুদ্রিগেজের এ মন্তব্য সামনে আসে। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ভেনেজুয়েলাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য করার বিষয়টি তিনি বিবেচনা করছেন।

 

 

 

গত ২ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে রাজধানী কারাকাসের বাড়ি থেকে তুলে আনে যুক্তরাষ্ট্র। এরপর থেকে ট্রাম্প বারবার দাবি করে আসছেন যে তিনি ভেনেজুয়েলার সঙ্গে খুব ভালো সম্পর্ক বজায় রাখছেন।

 

 

এক কোটি টাকা দিলে মামলা থেকে নাম উঠিয়ে দেবে বলা হয়েছিল : সাকিব

নিজের বিরুদ্ধে করা মামলায় নাম প্রত্যাহারের বিনিময়ে এক কোটি টাকা দাবি করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। সংবাদমাধ্যম প্রথম আলোতে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশের রাজনীতি, মামলা, জাতীয় দলে ফেরা এবং নিজের বর্তমান জীবন নিয়ে খোলামেলা আলোচনায় তিনি এমন দাবি করেন।

 

 

 

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দলটির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে জুলাই অভ্যুত্থানে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে সারা দেশে মামলা হয়েছে। বাদ নেই ক্রিকেটার ও দলটির সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসানও।

 

 

 

তবে সাকিবের দাবি একটি মহল থেকে অর্থের বিনিময়ে মামলা থেকে রেহাই দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

 

এ বিষয়ে সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, একটি পক্ষ তার কাছে প্রস্তাব দিয়েছিল— নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ দিলে মামলার তালিকা থেকে তার নাম সরিয়ে দেওয়া হবে। তবে তিনি মনে করেন, যারা এই প্রস্তাব দিয়েছে তারা নিজেরাও জানে না যে মামলা হওয়ার পর শুধু বাদীপক্ষ চাইলে নাম সরিয়ে ফেলা সম্ভব নয়।

 

সাক্ষাৎকারে এ ক্রিকেটার বলেন, ‘বলেছে, এক কোটি টাকা দিলে আমার নাম কেস থেকে উঠিয়ে দেবে। কিন্তু যারা বলছে, তাদের ধারণা নেই যে কেস হয়ে যাওয়ার পর চাইলেই নাম উঠানো যায় না। শেষ পর্যন্ত পুলিশের তদন্তেই ঠিক হবে আমার সম্পৃক্ততা ছিল কি না।’

 

 

কারা এই প্রস্তাব দিয়েছিল— এমন প্রশ্নে সাকিব জানান, এফআইআরে বাদীপক্ষের যোগাযোগের জন্য যার নাম ছিল, তিনি কয়েকজনের মাধ্যমে বিষয়টি পৌঁছে দেন। তবে কার মাধ্যমে যোগাযোগ হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত বলতে চাননি তিনি।

 

 

 

প্রস্তাব পেয়ে কী জবাব দিয়েছিলেন এমন প্রশ্নে সাকিব বলেন, ‘এসব টাকা দিয়ে কেন করতে হবে ভাই? টাকা দেওয়া মানে তো হচ্ছে আমার সমস্যা আছে, আমি চাচ্ছি যে আমাকে এখান থেকে বাঁচিয়ে দেওয়া হোক। হতে পারে তারা ভেবেছে আমার কাছে অনেক বেশি টাকা, চাইলেই হলো।’

 

 

 

দেশে ফেরা নিয়ে নিজের অবস্থানও ব্যাখ্যা করেছেন সাবেক এই অলরাউন্ডার। তার ভাষ্য, দেশে ফিরতে আইনগত কোনো বাধা নেই, তবে তিনি নিরাপত্তা ও দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টিকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন।

 

 

 

সাকিব বলেন, ‘আমি চাই স্বাভাবিক একটা নিরাপত্তা এবং দেশত্যাগের নিষেধাজ্ঞা উঠে যাক। এ দুটি বিষয় আমার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। দেশত্যাগের নিষেধাজ্ঞা না ওঠানো পর্যন্ত আমার পক্ষে যাওয়া সম্ভব নয়।’

 

 

 

তিনি আরও বলেন, গ্রেপ্তার হওয়ার ভয় তার নেই। তবে অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি বা ব্যক্তিগত আক্রমণের ঝুঁকি নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। ‘মব হতে পারে, ব্যক্তিগত শত্রুতা থেকেও কিছু হতে পারে। অন্তত এমন একটা জায়গা তো থাকা উচিত, যেখানে বিপদ হলে কেউ দায়িত্ব নেবে,’ বলেন তিনি।

 

 

 

জাতীয় দলে না খেলতে পারার বিষয়েও আক্ষেপ আছে জানিয়ে সাকিব বলেন, তিনি এখনো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার মতো অবস্থায় আছেন বলে বিশ্বাস করেন। বিশেষ করে ওয়ানডে ক্রিকেটে এখনো অবদান রাখার সুযোগ দেখছেন তিনি।

 

 

 

২০২৭ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে নিজের পরিকল্পনার কথাও জানান সাকিব। তিনি বলেন, ‘সুযোগ পেলে আবার নিজেকে প্রস্তুত করতে চাই। এক-দুটি সিরিজ খেললে তখন বোঝা যাবে আমি কোথায় আছি, দলও বুঝতে পারবে।’

 

 

 

রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও অনুশোচনা নেই বলে জানান সাবেক এই অধিনায়ক। তার ভাষায়, ‘আজকে যেটা ঠিক মনে হয় না, পাঁচ বা দশ বছর পরে হয়তো সেটাই ঠিক মনে হবে। মানুষ বারবার ভুলে যায় যে, আমি একটি নির্দিষ্ট এলাকা থেকে সংসদ সদস্য হয়েছিলাম। এলাকার মানুষ আমাকে ভোট দিয়েছেন দেখেই আমি জিতেছি। তারা যদি ভোট না দিতেন, আমি জিততাম না। সারা দেশের মানুষ তো আমাকে ভোট দেননি।’

 

 

 

সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়েও নিজের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন সাকিব। তিনি বলেন, দেশের মানুষ রাজনীতিকে খারাপ হিসেবে দেখে, কারণ অনেকেই সেবা করার বদলে সুবিধা নিতে রাজনীতিতে আসেন। তবে রাজনীতির মাধ্যমেই পরিবর্তন সম্ভব বলে বিশ্বাস করেন তিনি।

One thought on “চাঁদের আলোয় দেখা মিলবে বিরল রংধনুর

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চাঁদের আলোয় দেখা মিলবে বিরল রংধনুর

আপডেট টাইম : ০৬:৪৭:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬

সূর্যের আলোতে রংধনু দেখছেন। কিন্তু কখনো কি রাতে চাঁদের আলোয় রংধুন দেখেছেন? কী রাতে রংধনুর কথা শুনে চমকে উঠেছেন? চাইলে রাতেও দেখতে পারেন প্রকৃতির অন্যতম বিরল দৃশ্য।

খবর বিবিসির

জিম্বাবুয়ে এবং জাম্বিয়ার সীমান্তের ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাত পৃথিবীর অল্প কয়েকটি স্থানের একটি, যেখানে এই ‘মুনবো বা চন্দ্রধনুর’ দেখার সুযোগ মিলতে পারে।

 

সম্প্রতি ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাতে সারাহ স্টিজার রাতে চাঁদের আলোতে তৈরি রংধনু দেখেন এবং তা ক্যামেরাবন্দি করেন।

 

সারাহ স্টিজার সংবাদ মাধ্যম বিবিসি-তে তার চন্দ্রধনু দেখার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন।

 

সারাহ স্টিজার তার বিরল অভিজ্ঞতা নিয়ে বলেন, সেখানে (ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাতে) কোনো ফ্লাডলাইট ছিল না।

 

ছিল কেবল উদীয়মান পূর্ণিমার চাঁদের ম্লান আভা আর জাম্বিয়ার রাতের ঘন নীল-কালো অন্ধকার। অন্ধকারের ওপারে, ১০০ মিটারেরও (৩২৮ ফুট) বেশি নিচে গিরিখাতের মধ্যে আছড়ে পড়ছিল পানি।

আছড়ে পড়া পানি বাতাসের অনেক উঁচুতে বিশাল জলকণা বা স্প্রে-র স্তম্ভ পাঠিয়ে দিচ্ছিল।

সারাহ আরও বলেন, তারপর ধীরে ধীরে, প্রায় অলক্ষ্যে, জলকণার মাঝে একটি ম্লান দাগ, সরাসরি সেদিকে না তাকালে দেখা কঠিন। তারপর একটি বক্ররেখা ফুটে উঠল- একটি কোমল, উজ্জ্বল বন্ধনী; অন্ধকারের বুক চিরে প্রসারিত এবং নিচে হা করা গিরিখাতের ওপরে ঝুলে আছে রংধনু। এটি ছিল ‘মুনবো’ বা একটি চন্দ্রধনু। এটি সূর্যের আলোয় নয় বরং চাঁদের আলোয় তৈরি হয়।

জিম্বাবুয়ে এবং জাম্বিয়ার সীমান্তের মাঝে অবস্থিত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ জলপ্রপাত ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাত। এটি স্থানীয়ভাবে ‘মোসি-ওয়া-তুনিয়া’ বা ‘বজ্রধ্বনি সৃষ্টিকারী ধোঁয়া’ নামে পরিচিত।

 

প্রতি বছর প্রায় দশ লাখ মানুষ এই ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাত দেখতে আসেন। যাদের বেশিরভাগই দিনের আলোতে আসেন। কিন্তু অন্ধকার হওয়ার পর, পূর্ণিমার সময়টিতে অভিজ্ঞতাটি সম্পূর্ণ বদলে যায়। তখন রাতে অন্ধকারে চাঁদের আলোয় দেখা মিলতে পারে এই বিরল মুনবো বা চন্দ্রধনুর।

হামে একদিনে আরও ১২ জনের প্রাণ গেল

গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে হাম ও হামের উপসর্গে আরও ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১৫ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

 

এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা এক হাজার ১৯২ জন এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ১৫ মে পর্যন্ত সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা ৫৫ হাজার ৬১১ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ১১১ জন, গত ১৫ মার্চ থেকে ১৫ মে পর্যন্ত নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা সাত হাজার ৪১৬ জন।

১৫ মার্চ থেকে ১৫ মে পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪০ হাজার ১৭৬ জন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৩৬ হাজার ৫৫ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে আরও আট জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৫ মার্চ থেকে ১৫ মে পর্যন্ত সন্দেহজনক হামে মোট ৩৭৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।

 

গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে আরও চার জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৫ মার্চ থেকে ১৫ মে পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ৭৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

 

হাসপাতালের গাছে ঝুলছিল যুবকের মরদেহ

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার নরিনায় গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন হাসমত ফকির (৪০) নামের এক ব্যক্তি। শুক্রবার সকালে শাহজাদপুর থানা পুলিশ নরিনা হাসপাতাল কম্পাউন্ডের একটি আম গাছ থেকে ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে। মৃত হাসমত নরিনা মধ্যপাড়া গ্রামের মৃত সফিজ ফকিরের ছেলে।

 

জানা যায়, বৃহস্পতিবার (১৫ মে) সকালে নরিনা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কম্পাউন্ডের মধ্যে একটি আমগাছের সঙ্গে গলায় দড়ি দিয়ে ফাঁস দেওয়া অবস্থায় হাসমত ফকিরের মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকাবাসী ও স্বজনরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। খবর পেয়ে শাহজাদপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: হাফিজুর রহমান ও শাহজাদপুর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) নাজমুল কাদের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

 

এসময় ইন্সপেক্টর নাজমুল কাদের জানান, প্রাথমিকভাবে সুরতহাল করে মনে হচ্ছে এটি একটি আত্মহত্যা। তবে অধিকতর তদন্তের জন্য লাশ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

 

কৃষকের ধান কেটে ফেসবুকে ভিডিও ছড়ালো নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় এক কৃষকের ফসলের মাঠ পাকা ধান কেটে ফেসবুকে ভিডিও ছড়িয়ে দিয়েছে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ।  ৪৬ সেকেন্ডের ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে গেছে।
শুক্রবার (১৫ মে) খোজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার পঞ্চকোশী ইউনিয়নের ভদ্রকোল গ্রামের একটি ফসলি জমিতে ছাত্রলীগের ৮ থেকে ১০ জন নেতাকর্মী এক কৃষকের পাকা ধান কেটে দিচ্ছেন এবং মাথায় নিয়ে যাচ্ছে। ভিডিওতে এক যুবকের কথায় বলছে, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রী সহ-সভাপতি ভিপি ফরহাদ ভাইয়ের দিকনির্দ্দেশনায় উল্লাপাড়া উপজেলা ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে সাধারণ খেটে খাওয়া কৃষকের ধান কেটে দিচ্ছি। সাধান মানুষের পাশে থাকবে ছাত্রলী এই কথার পরে জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে ধান করতে শুরু করে। ভিতিওতে এমন দৃশ্য দেখা যাচ্ছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উল্লাপাড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোক্তারুজ্জামান বলেন, কৃষকদের ধান কেটে দিচ্ছে, এমন একটি ভিডিও আমরা দেখেছি। তবে, কোন এলাকার এমন কাজ করেছে, তা খোঁজা হচ্ছে। ভিডিওতে যাঁদের দেখা গেছে, তাঁদের শনাক্ত করার কাজ চলছে। শনাক্ত করা গেলে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
২০২৪ সালের (৫ আগষ্ট) আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর জেলা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আত্মগোপনে চলে গেছে। সংগঠনটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার পর থেকে প্রকাশ্যে আর তাদের কোনো কর্মসূচি করতে দেখা যায়নি বলে তিনি জানিয়েছেন।

 

সিরাজগঞ্জের এতিম রায়হান-রোহানের পাশে প্রধানমন্ত্রী

গণমাধ্যমে সংবাদ দেখে সিরাজগঞ্জের সদর উপজেলার এতিম দুই শিশু রায়হান ও রোহানের পাশে দাঁড়িয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

 

তার নির্দেশে শুক্রবার (১৫ মে) দুপুরে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর একটি প্রতিনিধি দল শিশু দুটির বাড়িতে গিয়ে তাদের পড়ালেখাসহ যাবতীয় দায়িত্ব গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছে।

 

জানা যায়, বাবা মারা গেছেন ছোটবেলায়, চার মাস আগে হারিয়েছে মাকেও- নানীর অন্যের বাড়িতে কাজের টাকায় কোনো রকমে চলছে এতিম দুই শিশুর জীবন- সম্প্রতি এমন একটি প্রতিবেদন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। বিষয়টি ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃষ্টিগোচর হয়।

 

এরপর তিনি শিশু দুটির খোঁজখবর নিতে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে তার অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনকে নির্দেশ দেন।

 

সেই নির্দেশনার ধারাবাহিকতায় শুক্রবার দুপুরে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার রতনকান্দি ইউনিয়নের একডালা গ্রামে যায় ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর প্রতিনিধি দল।

 

সংগঠনটির উপদেষ্টা আবুল কাশেমের উপস্থিতিতে এবং সদস্য সচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুনের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলটি রায়হান ও রোহানের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন এবং সহমর্মিতার বার্তা পৌঁছে দেন।

 

এ সময় প্রতিনিধি দলটি এতিম শিশু দুটির নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য, চিকিৎসা ও নিরাপদ আবাসনের জন্য সহায়তার উদ্যোগ নেয়।

 

পাশাপাশি অর্থাভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়া লেখাপড়া পুনরায় শুরু করতে এককালীন শিক্ষা বৃত্তি ও মাসিক শিক্ষা বৃত্তি দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, ৯ বছর বয়সী রায়হান ও ৭ বছর বয়সী রোহান ছোটবেলাতেই বাবাকে হারায়। চার মাস আগে মায়ের মৃত্যুর পর তারা এখন বৃদ্ধ নানা আজিজুর রহমান ও নানী মালেকা বেগমের আশ্রয়ে চরম অভাব-অনটনের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। অর্থাভাবে তাদের লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যায় এবং একটি জরাজীর্ণ টিনের ঘরে তারা বসবাস করছে।

 

প্রতিনিধি দলের পরিদর্শনকালে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সিরাজগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম রেজা, কাজিপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র আব্দুস সালাম, সিরাজগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল কায়েস, বিএনপি নেতা হাসান।

 

এছাড়া ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর সদস্য মাসুদ রানা লিটন, মুস্তাকিম বিল্লাহ, বুয়েট ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আবু হানিফ, ছাত্রদল নেতা মশিউর রহমান মহান, আব্দুল্লাহ আল মিসবাহসহ স্থানীয় বিএনপির নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।

 

 

১৪ হাজার ৫০০ টাকার খাসির খাজনা ১৫০০!

  • রিপোর্টার:
  • আপডেট টাইম : ০৬:০৩:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬

সিরাজগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী এনায়েতপুর কোরবানীর পশুর হাটে গরু ছাগলের  অস্বাভাবিক খাজনা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। গবাদিপশুর খাজনা নেওয়া হচ্ছে প্রতি হাজারে ১০০ টাকা করে। তবে রশিদে খাজনার পরিমাণ উল্লেখ করা নেই।

 

 

শুক্রবার (১৫ মে) এনায়েতপুর গরু-ছাগলের হাটে এভাবেই খাজনা নেওয়া হচ্ছে বলে এক ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন।

 

 

জানা যায়, বেলকুচি উপজেলার তামাই পূর্বপাড়া গ্রামের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ি আব্দুল কুদ্দুস কবিরাজ এনায়েতপুর হাট থেকে ১৪ হাজার ৫০০ টাকায় কোরবানির জন্য ছোট একটি খাসি কিনেছেন। কেনার পরই তিনি খাজনা ঘরে খাজনা দিতে গিয়ে পরেন বিপাকে। ইজারাদার মাসুদ রানা পাষাণ সরকার প্রতি হাজারে ১০০ টাকা করে দাবি করেন।

 

আব্দুল কুদ্দুস কবিরাজ বলেন, হাজারে একশো টাকা হিসেবে ১৪৫০ টাকা খাজনা আসে। কিন্তু দাবি করা হয় ১৫০০ টাকা। তিনি ১৩০০ টাকা দিতে চাইলেও রশিদ আটকে রাখেন ইজারাদারের লোকজন। বাধ্য হয়ে ১৫০০ টাকা দিয়েই রশিদ নিয়ে বাড়ি ফিরতে হয় তাকে।

 

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমি ঢাকায় ছোট ব্যবসা করি। আজই ঢাকা ফিরে যাব। সময় নাই দেখে তাড়াতাড়ি ওই খাসিটি কিনে ভ্যান যোগে বাড়ি যাচ্ছি। এত টাকা খাজনা হলে ওই হাটে যেতাম না। এখন খাজনরা রশিদে দেখছি টাকাও উল্লেখ নেই। এটা বড় প্রতারনা। নাম ঠিকানা দাম রশিদে উল্লেখ করলেও খাজনার দেড় হাজার টাকার কথা উল্লেখ করা হয়নি। এদের বিষয়ে সরকারিভাবে জরুরী পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানান তিনি।

 

এ বিষয়ে এনায়েতপুর হাটের ইজারাদার মাসুদ রানা পাষাণ বলেন, আমি খাজনা আদায় করি না। তবে যারা কালেকশন করে তাদের বলা আছে যতটুকো কম নেওয়া দরকার কম নিতে। সাড়ে ১৪ হাজার টাকার খাসির খাজনা ১৫০০ টাকা নেওয়া হয়েছে- এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন আমি এ বিষয়ে জানিনা।

 

তিনি বলেন, ঈদের সময় খরচ বেশি হয় এ জন্য একটু বেশি খাজনা নেওয়া হয়। তবে এত বেশি নেওয়ার কথা নয়।

 

সরকার নির্ধারিত খাজনা কতো এবং কত বেশি নেওয়া হচ্ছে এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারেন নাই।

 

এ ব্যাপারে জানতে চৌহালী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মোবাইলে ফোন দেওয়া হলে সেটা বন্ধ পাওয়া যায়।

 

 

ফেসবুকে যারা লেখে তারা গুপ্তের চেয়েও খারাপ: বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী

ফেসবুক ব্যবহারকারীদের সমালোচনা করে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, ফেসবুকের ওয়াল হয়ে গেছে, সবচেয়ে নোংরা ওয়াল। ফেসবুকে যারা লেখে তারা গুপ্তের চেয়ে খারাপ। তিনি বলেন, বাচ্চাদের বল দেন, ক্রিকেটের ব্যাট দেন, ডাঙ্গুলি দেন। এগুলো করলে সমাজ ভালো হবে।

 

শুক্রবার (১৫ মে) দুপুরের দিকে সিরাজগঞ্জ শহীদ শামসুদ্দিন স্টেডিয়ামে প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্ণামেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী চাইছেন, আগামি প্রজন্ম যারা বেড়ে উঠবে তারা খেলাধুলা করেই বেড়ে উঠবে। না খেললে মস্তিস্ক উর্বর হয় না।

 

নিজের বাল্যকালের স্মৃতিচারণ করে মন্ত্রী বলেন, সারাবছর ইসলামিয়া কলেজ মাঠ ছিল খেলাধুলায় সরব। ফুটবল, ক্রিকেট, ব্যাডমিন্টনসহ নানা খেলা চলতো। আমরা গোল্লাছুট, দাঁড়িয়াবান্দা আরও অনেক খেলা খেলেছি। আর খেলাধুলার কারণে নেশার দিকে ঝুকতে পারি নাই। আর এখন ওই মাঠটিতে হয় গরু চরে, নয় গরুর গোবর শুকানো হয়। এই জন্য আজকে সমাজ নেশার দিকে চলে গেছে। একটা জেনারেশন নেশার জন্য নষ্ট হয়ে গেছে। এখান থেকে ফেরাতে হবে। সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে মাদককে না বলা শেখাতে হবে।

 

তিনি বলেন, মাঠ কেন্দ্রিক সোসাইটি গড়ে তোলেন। প্রত্যেকটা ইউনিয়নে দুইটা খেলার মাঠ থাকবে। প্রত্যেকটা স্কুলে মাঠ আছে। মাঠে খেলাধুলা করাতে হবে। বাচ্চাদেরকে খেলা শেখান, মেয়েদেরকে খেলা শেখান।

 

ইসলামিয়া কলেজ মাঠকে ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রূপান্তরের আশ্বাস দিয়ে মন্ত্রী বলেন, এখানে ক্রিকেট একাডেমী বানাবো, ইনডোর ট্রেনিং হবে।

 

সিরাজগঞ্জের উন্নয়নে নিজের ব্যর্থতার কথা অকপটে স্বীকার করে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, আমি আমার ব্যর্থতার কথা বলি। আমি তিনমাস হলো মন্ত্রী, সিরাজগঞ্জে এক চুল পরিমাণ কিছু করতে পারি নাই। আমি স্বীকার করি। পারিনি কেন? আমি কো-অপারেশন পাইনি কারও কাছ থেকে। তাহলে এতদিনের সিরাজগঞ্জ সুন্দর ও সুশৃংখল শহরে পরিণত হতেো আপনারা কেউ সহযোগীতা করেন নাই আমাকে। টুকু সাহেব এই কথা কইছে, তাহলে আমরা সবাই মিলে নেমে পড়ি।

 

তিনি বলেন, এটা তো আমার একার দায়িত্ব নয়। হ্যা, যেটা হবে আমার ট্রার্ম শেষ হলে সবাই বলবে অনেক কথা বলেছিলেন কিন্তু করেন নাই। কিন্তু কেন যে করলাম না আপনারা কিন্তু সেটা খুঁজবেন না। খালি ডিসি আর এসপি দিয়ে কইলেই হবে? আপনাদেরও নামতে হবে।

 

মন্ত্রী আরও বলেন, সবাই ব্যবসা করবে, সবাই অর্থ রোজগার করবে-কিন্তু কেউ সমাজের কিচ্ছু করবে না। বাস রাস্তায় জড়ো ব্যবসা করবে। একজন  দোকানদারকে ব্যবসা করতে দোকান খুলতে হয়। কিন্তু বাস ওয়লাদের লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করবে কিন্তু বাসটা রাখার ব্যবস্থা করবে না। ওইটা সরকারি জায়গা আছে দখল করে ব্যবসা করবে। প্রত্যেকটা বাস মালিক যদি নিজেদের খরচায় নিজেদের বাস রাখার ব্যবস্থা করে, তাইলে শহরটা বিশৃংখল থাকে না।

 

জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলামের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে  অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) নাজরান রউফ, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মামুন খান, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. সাহাব উদ্দিনসহ প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

 

 

নিখোঁজ কিশোরীকে উদ্ধারে ঘুষ দাবির অভিযোগে এসআই প্রত্যাহার

জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে নিখোঁজ কিশোরীকে উদ্ধারের নামে টাকা নেওয়ার অভিযোগে ক্ষেতলাল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সঞ্জয় কুমার বর্মনকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের লিখিত অভিযোগের পর জেলা পুলিশ প্রশাসন এ ব্যবস্থা নেয়।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পাঁচুপীর খন্দকারপাড়া গ্রামের মো. শাহজাহান খন্দকারের ১৩ বছর বয়সী মেয়ে গত ৭ এপ্রিল নিখোঁজ হয়। এ ঘটনায় পরদিন ৮ এপ্রিল ক্ষেতলাল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-৩৪৯) করা হলে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় এসআই সঞ্জয় কুমার বর্মনকে।

ভুক্তভোগী পিতা শাহজাহান খন্দকার অভিযোগ করেন, জিডির কয়েকদিন পর তদন্ত কর্মকর্তা তার মেয়েকে উদ্ধারের কথা বলে টাকা দাবি করেন। মেয়ের সন্ধানে মরিয়া হয়ে তিনি এসআই সঞ্জয় কুমার বর্মনকে ৩ হাজার টাকা দেন। তবে টাকা নেওয়ার পরও কিশোরীকে উদ্ধারে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

পরে থানা পুলিশের সহযোগিতা না পেয়ে গত ৫ মে ভুক্তভোগী পরিবার আদালতে মামলা দায়ের করে। একইসঙ্গে ৭ মে পুলিশ সুপারের কাছে অভিযুক্ত এসআইয়ের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে লিখিত আবেদন জানানো হয়।

অভিযোগের প্রেক্ষিতে এসআই সঞ্জয় কুমার বর্মনকে ক্ষেতলাল থানা থেকে প্রত্যাহার করে জয়পুরহাট পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আরিফ হোসেন বলেন, তার বিরুদ্ধে এসপি স্যারের কাছে একটি অভিযোগ ছিলো। এর প্রেক্ষিতে তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

এদিকে, নিখোঁজের এক মাস পেরিয়ে গেলেও কিশোরীকে আজও খুঁজে পায়নি তার পরিবার। মেয়ের সন্ধান না পেয়ে চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে স্বজনদের।

আগৈলঝাড়ায় বোরো সংগ্রহ অভিযান উদ্বোধন

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় বোরো ধান সংগ্রহ অভিযান উদ্বোধন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা খাদ্যগুদাম চত্তরে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিখন বনিক।

 

 

 

 

 

খাদ্য গুদাম সূত্রে জানা গেছে, আগামী ৩১ আগষ্ট পর্যন্ত এই বোরো ধান সংগ্রহ অভিযান চলবে। প্রতিকেজি ধানের মুল্য নির্ধারন করা হয়েছে ৩৬ টাকা। কৃষি অফিসের তালিকাভুক্ত চাষীদের কাছ থেকে এই বোরে ধান সংগ্রহ করা হবে। প্রতিজন চাষীর কাজ থেকে সর্বোচ্চ তিনটন ধান সংগ্রহ করবেন খাদ্যগুদাম। চলতি মৌসুমে ১ হাজার ৬০ মেট্রিক টন চিটামুক্ত বোরো ধান সংগ্রহ করা হবে। যার আর্দ্রাতা সর্বোচ্চ ১৪।

 

 

 

উদ্বোধনী সভায় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা বিএনপি’র আহবায়ক সিকদার হাফিজুল ইসলাম, ওসি(তদন্ত)সুশংকর মল্লিক, উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা ফারজানা ফৌরদোস, খাদ্য পরিদর্শক(ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) মো.আবুক্কর ছিদ্দিক, প্রেসক্লাব সভাপতি মো.শামীমুল ইসলাম, বিএনপি’র যুগ্ন-আহবায়ক আবুল হোসেন মোল্লা প্রমুখ।

 

 

 

হিলিতে পুলিশের অভিযান: ৭ মামলার কুখ্যাত আসামি শওকতসহ গ্রেপ্তার ৯

​দিনাজপুরের হাকিমপুর থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী ও সাতটি মামলার পলাতক আসামি শওকতসহ মোট ৯ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বুধবার দিনভর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করে৷
​আজ বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দুপুর ২ ঘটিকায় এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন হাকিমপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাকির হোসেন।
​পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার পৃথক দুটি মাদক মামলা এবং বিভিন্ন ওয়ারেন্টের ভিত্তিতে এই অভিযান চালানো হয়। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ এর ৩৬(৫) ধারায় রুজুকৃত মামলায় ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাঁরা হলেন, মোঃ রশিদুল ইসলাম (৩২) বিরামপুর৷ মোঃ মোফাজ্জল হোসেন (৪৭), বিরামপুর৷ মোঃ মাহাবুব আলম (৪৯) হাকিমপুর৷ মোঃ শাহিনুর ইসলাম (২৫) বিরামপুর৷  মোঃ কাওসার হোসেন (৪২) বিরামপুর এবং শ্রী দীপক সিং (২৮) হাকিমপুর।
​এছাড়াও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩৬(১) সারণির ২৯(ক) ধারায় হাকিমপুরের দক্ষিণ মাধবপাড়া এলাকার মোঃ আনোয়ার মুন্সির ছেলে মোঃ রাহুলকে (২২) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এদিকে জিআর মামলায় ওয়ারেন্ট মূলে আরও ২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলেন কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী মোঃ সাখাওয়াত হোসেন ওরফে শওকতকে (৩৫) গ্রেপ্তার করে। তাঁর বিরুদ্ধে দিনাজপুর ও বগুড়াসহ বিভিন্ন থানায় ৭টি মাদক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এছাড়া বদরগঞ্জ থানার একটি ওয়ারেন্ট মূলে মোঃ মোস্তাক আহমেদকে (৫২) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
হাকিমপুর থানার অফিসার ইনচার্জ জানান, এলাকাকে মাদকমুক্ত করতে পুলিশের এই নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে। গ্রেপ্তারকৃত সকল আসামিকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

মাদক সিন্ডিকেট, মাসোয়ারা ও আপোষ বাণিজ্য: অভিযোগের কেন্দ্রে এসআই জুয়েল

রাজশাহীর গোদাগাড়ী মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জুয়েলের বিরুদ্ধে মাদক সিন্ডিকেট পরিচালনা, উদ্ধারকৃত অরিজিনাল হেরোইন বিক্রি এবং বিচারপ্রার্থীদের জিম্মি করে অর্থ আদায়ের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রভাবশালী এই পুলিশ কর্মকর্তার কর্মকাণ্ডে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিভিন্ন পক্ষ এখন আতঙ্ক ও ভোগান্তির মধ্যে রয়েছেন।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে উদ্ধারকৃত মাদক নিয়ে কারসাজির বিষয়ে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, এসআই জুয়েল মাদকসহ আসামি আটক করার পর উদ্ধারকৃত অরিজিনাল মাদক সরিয়ে সেখানে নকল বা মাদক সদৃশ বস্তু যুক্ত করে আদালতে চালান দেন।
গত ১০ এপ্রিল বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার ভাটোপাড়া এলাকা থেকে ১০০ গ্রাম মাদকসহ আলিয়ারা বেগম (স্বামী- মাসুদ রানা) নামের এক নারীকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় গোদাগাড়ী মডেল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা (এফআইআর নং-২১, জিআর নং-১০৯) রেকর্ড করা হয়। তবে অভিযোগ উঠেছে, উদ্ধারকৃত ১০০ গ্রাম অরিজিনাল হেরোইনের মধ্যে ৯০ গ্রামই বিক্রি করে দেন এসআই জুয়েল। পরে মাত্র ১০ গ্রাম ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠিয়ে বাকি অংশের জায়গায় মাদক সদৃশ বস্তু যুক্ত করে জব্দ তালিকায় দেখানো হয়।
থানার একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এসআই জুয়েলের বিরুদ্ধে উদ্ধারকৃত আসল মাদক বিক্রির অভিযোগ নতুন নয়। এর আগেও তিনি একই ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন বলে দাবি করেন তারা।
শুধু মাদক নয়, ফসলি জমির টপসয়েল (ওপরিভাগের মাটি) নিধন সিন্ডিকেট থেকেও নিয়মিত মাসোয়ারা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ওই সিন্ডিকেটের এক সদস্য ছদ্মনাম “রহিম” ফোনে জানান, তিনি নিয়মিত থানায় গিয়ে এসআই জুয়েলকে ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত দিয়ে থাকেন। তবে বর্তমান ওসির সঙ্গে এ ধরনের কোনো লেনদেন হয় না বলেও দাবি করেন তিনি।
এছাড়া উপজেলার সাফিনা পার্ক থেকেও নিয়মিত মাসোয়ারা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।
অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন মামলার বাদী ও বিবাদী উভয় পক্ষকে আপোষ-মীমাংসার কথা বলে থানায় ডেকে এনে ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে অর্থ আদায় করেন এসআই জুয়েল। কেউ টাকা দিতে ব্যর্থ হলে তাকে নানাভাবে হয়রানির শিকার হতে হয় বলেও জানিয়েছেন একাধিক ভুক্তভোগী।
এসব বিষয়ে বক্তব্য জানতে এসআই জুয়েলের ব্যক্তিগত মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
গোদাগাড়ী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান বলেন, “এ ধরনের কোনো অভিযোগ আমার জানা নেই। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, পুলিশের একজন সদস্যের বিরুদ্ধে ওঠা এসব গুরুতর অভিযোগ দ্রুত ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। অন্যথায় এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটার পাশাপাশি পুলিশের ভাবমূর্তিও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

ক্যান্সারের সাথে যুদ্ধে হার মানলেন পুলিশ সদস্য মিজানুর রহমান

ক্যান্সারের মতো মরণব্যাধির সঙ্গে মাত্র এক মাসের লড়াই শেষে না ফেরার দেশে চলে গেলেন পুলিশ কনস্টেবল মিজানুর রহমান মিজান ।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দুপুরে বগুড়ার টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ ও ক্যান্সার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

মিজানুর রহমান বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার নারায়ণ শহর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল থানায় কর্মরত ছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই মেয়ে ও এক ছেলেসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক মাস আগে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন মিজানুর রহমান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নেওয়া হলে বিভিন্ন পরীক্ষার মাধ্যমে তার শরীরে শেষ পর্যায়ের ক্যান্সার শনাক্ত হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় চিকিৎসকরা তাকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। পরবর্তীতে শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হলে তাকে বগুড়ার টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ ও ক্যানসার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

তার মৃত্যুতে ক্ষেতলাল থানা পুলিশ সদস্যদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পাশাপাশি নিজ গ্রামেও চলছে শোকের মাতম। সহকর্মী ও স্থানীয়রা শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, আজ বাদ এশায় জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।

তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. আরিফ হোসেন বলেন, ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে। তার মৃত্যুতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে এসপি স্যার একটি শোকবার্তা দিয়েছেন। অন্যদিকে জেলা পুলিশ এবং পুলিশ হেডকোয়ার্টারস এর পক্ষ তার পরিবারকে নগদ অর্থ সহায়তা করা হয়েছে।

ঠাকুরগাঁওয়ে অনিয়মের অভিযোগে মনছুর আলী ফিলিং স্টেশনকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

ঠাকুরগাঁওয়ে জ্বালানী তেল বিক্রিতে অনিয়মের অভিযোগে একটি ফিলিং স্টেশনে অভিযান চালিয়ে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দুপুরে সদর উপজেলার ভূল্লীতে মেসার্স আলহাজ্ব মনসুর আলী ফিলিং স্টেশনে অভিযানে অনিয়মের অভিযোগে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট হাসনা হেনা লাবনী।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, নির্ধারিত নিয়ম উপেক্ষা করে ফুয়েল কার্ড ছাড়া পেট্রোল বিক্রির অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পরে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ (সংশোধন) আইন, ২০০৯-এর ৪৫ ধারায় প্রতিষ্ঠানটিকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে জরিমানার অর্থ আদায় করা হয়।
অভিযান চলাকালে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জ্বালানী তেল বিক্রয়ে সরকারি নির্দেশনা ও বিধি-বিধান কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সাথে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম পাওয়া গেলে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট হাসনা হেনা লাবনী জানায়, ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষা, জ্বালানী তেল বিপণনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং অবৈধ কার্যক্রম বন্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
অভিযানে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

জয়পুরহাটে প্যানেল চেয়ারম্যানের ক্ষমতা বাতিল করে প্রকৌশলীকে নিয়োগ

জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার আলমপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মোছাঃ হোসেনে আরা বেগমের আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা বাতিল করা হয়েছে। পরিষদের কার্যক্রম ও জনসেবা নিরবচ্ছিন্ন রাখতে উপজেলা প্রকৌশলীকে এই দায়িত্ব প্রদান করেছে জেলা প্রশাসন।

 

​গত ১৩ মে ২০২৬ তারিখে জয়পুরহাট জেলা প্রশাসক মো: আল-মামুন মিয়া স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

 

​অফিস আদেশ সূত্রে জানা গেছে, আলমপুর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান জনাব মো: আনোয়ারুজ্জামান তালুকদার মামলাজনিত কারণে দীর্ঘদিন অনুপস্থিত রয়েছেন। এর ফলে স্থানীয় সরকার সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্যানেল চেয়ারম্যান-১ মোছাঃ হোসেনে আরা বেগমকে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল।

 

 

 

​তবে দায়িত্ব পাওয়ার পর প্যানেল চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও অভিযোগ তুলে ধরেন পরিষদের সদস্যরা। এরই প্রেক্ষিতে পরিষদের ৮ জন সদস্য তাঁর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনয়ন ও অপসারণের আবেদন করেন। সদস্যদের অনাস্থা ও প্রশাসনিক তদন্তের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক হোসেনে আরা বেগমের ক্ষমতা বাতিল করেন।

 

​আদেশে আরও উল্লেখ করা হয়, জনস্বার্থে এবং জনসেবা অব্যাহত রাখতে স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯-এর ৩৩, ১০১ এবং ১০২ ধারা মোতাবেক ক্ষেতলাল উপজেলা প্রকৌশলীকে আলমপুর ইউনিয়ন পরিষদের যাবতীয় আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা অর্পণ করা হয়েছে।

 

​জেলা প্রশাসক কর্তৃক জারিকৃত এই আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর করার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

গাজীপুরের আলোচিত পাঁচ খুনের রহস্য উদঘাটন

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলায় একই পরিবারের ৫ জনকে নৃশংস হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে জেলা পুলিশ। পারিবারিক কলহের জেরে পরিকল্পিতভাবে স্ত্রী, তিন কন্যা সন্তান ও শ্যালককে হত্যার পর প্রধান অভিযুক্ত ফোরকান মোল্লা পদ্মা সেতু এলাকা থেকে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

 

 

 

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানানো হয়।

 

 

 

প্রেস ব্রিফিংয়ে বলা হয়, গোপালগঞ্জ সদর থানার গোপীনাথপুর এলাকার মৃত আতিকার রহমান মোল্লার ছেলে ফোরকান মোল্লা (৪০) প্রায় ১৬ বছর আগে শারমিন বেগমকে বিয়ে করেন। তাদের সংসারে তিন কন্যা সন্তান জন্ম নেয়। দীর্ঘদিন ধরে দাম্পত্য কলহ ও পারিবারিক অশান্তি চলছিল। প্রায় ছয় মাস আগে ফোরকান মোল্লা স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার রাউজকোনা পূর্বপাড়া এলাকায় জনৈক মনির হোসেনের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস শুরু করেন। তিনি পেশায় একজন প্রাইভেটকার চালক ছিলেন।

এতে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ৮ মে রাতে ফোরকান মোল্লা তার শ্যালক রাসেল মোল্লাকে গাড়ি কেনার কথা বলে গোপালগঞ্জ থেকে কাপাসিয়ায় নিয়ে আসে। পরে গভীর রাতে পূর্বপরিকল্পিতভাবে পরিবারের সদস্যদের খাবারের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ বা অচেতনকারী পদার্থ মিশিয়ে খাওয়ানো হয় বলে পুলিশের ধারণা। সবাই অচেতন হয়ে পড়লে ধারালো চাপাতি দিয়ে স্ত্রী শারমিন বেগম, তিন কন্যা সন্তান এবং শ্যালক রাসেল মোল্লাকে কুপিয়ে হত্যা করে ফোরকান।

নিহত শারমিনের বাবা শাহাবুদ্দিন মোল্লার অভিযোগের ভিত্তিতে কাপাসিয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলার পরপরই জেলা পুলিশ, পুলিশ সুপারের কার্যালয় এবং কাপাসিয়া থানা পুলিশের সমন্বয়ে একাধিক টিম মাঠে নামে।

পুলিশ জানায়, আধুনিক প্রযুক্তি, মোবাইল ট্র্যাকিং ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের মাধ্যমে ঘটনার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়। তদন্তে দেখা যায়, হত্যাকাণ্ডের পর ফোরকান ঢাকার দিকে পালিয়ে যায় এবং পরে পদ্মা সেতু এলাকায় অবস্থান নেয়। ১১ মে সকালে পদ্মা সেতুর রেলিংয়ের পাশে ফোরকানের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, সাদা শার্ট ও কালো প্যান্ট পরিহিত এক ব্যক্তি কিছু সময় সেতুর ওপর অবস্থান করার পর নদীতে ঝাঁপ দেয়। পুলিশের ধারণা, ওই ব্যক্তি ফোরকান মোল্লা।

 

 

 

গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার শরিফ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ঘটনার পরপরই পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তি, সিসিটিভি ফুটেজ ও বিভিন্ন আলামত বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক কলহের জেরে ফোরকান মোল্লা পরিকল্পিতভাবে স্ত্রী, সন্তান ও শ্যালককে হত্যা করেছে।”

 

 

 

তিনি আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্ত আত্মগোপনে চলে যায় এবং পরবর্তীতে পদ্মা সেতু এলাকা থেকে আত্মহত্যার উদ্দেশ্যে নদীতে ঝাঁপ দেয় বলে আমরা জানতে পেরেছি। তবে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে। প্রকৃত সত্য উদঘাটনে পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।” এই মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। নিহতদের স্বজনরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।

 

শিক্ষাক্ষেত্রে সেশনজট কমাতে নতুন পরিকল্পনা: শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, সেশনজট যেনো বন্ধ হয়ে যায়, আমরা সেভাবেই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি চালু করবো৷ 

 

 

 

বুধবার (১৩ মে) বিকেলে গাজীপুরের ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি (আইইউটি) ক্যাম্পাসে ‘আইইউটি এক্সেলেন্স অ্যাওয়ার্ড’ অনুষ্ঠান শেষে তিনি এ তথ্য জানান। 

 

 

 

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমাদের টার্গেট একাডেমিক ক্যালেন্ডার হবে ৩১শে ডিসেম্বরের মধ্যে। 

 

 

বিগত সময়ে শিক্ষা ক্ষেত্রে যে অব্যবস্থাপন হয়েছে, সেগুলোর সমাধান করা। 

 

তিনি আরও বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও পলিসি মেকারদের কারণে কোনো শিক্ষার্থীর জীবন থেকে যেনো অতিরিক্ত ২ বছর ঝরে না পড়ে।

 

 

এজন্য ক্রমান্বয়ে আমার সিংক্রোনাইজ করছি। 

 

 

এসময় মন্ত্রী আইইউটির মানসম্মত গ্র্যাজুয়েট তৈরিতে ধারাবাহিক সাফল্যের প্রশংসা করেন এবং দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় উৎকর্ষতা অর্জনে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। 

 

 

অনুষ্ঠানে আইইউটি উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম ও উপ-উপাচার্য হোসাইন আরাবি নুর সহ অন্যান্যরা বক্তব্য রাখেন।

 

 

 

এরআগে মন্ত্রী আইইউটি শিক্ষার্থীদের তৈরি করা গাড়ি ও অন্যান্য যন্ত্র ঘুরে দেখেন৷ পরে বিভিন্ন দেশে প্রতিযোগীতায় অংশ নিয়ে পুরস্কার পাওয়া শিক্ষার্থীদের সম্মাননা স্মারক প্রদান করেন। 

 

 

 

শিক্ষার্থীদের একাডেমিক উৎকর্ষতা ও গবেষণায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিও প্রদান করেন শিক্ষামন্ত্রী। 

রায়গঞ্জের ধানের হাটে অনিয়মের অভিযোগ, অতিরিক্ত ওজন ও খাজনা নিয়ে ক্ষুব্ধ কৃষকরা

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ধানের হাটে সরকারি নিয়ম উপেক্ষা করে অতিরিক্ত ওজনে ধান ক্রয় এবং খাজনার নামে বাড়তি টাকা ও ধান আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, আড়ৎদার, ক্রেতা, ফড়িয়া ও ইজারাদারদের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা একটি সিন্ডিকেটের কারণে তারা প্রতিনিয়ত আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার প্রাচীন ও বড় হাটগুলোর মধ্যে সলঙ্গা, চান্দাইকোনা, নিমগাছীসহ অন্তত ১০টি ধানের হাটে নিয়মিত ধান কেনাবেচা হয়। পাশাপাশি এক শ্রেণির ফড়িয়া ব্যবসায়ী নির্ধারিত কমিশনের ভিত্তিতে গ্রামে গ্রামে ঘুরে কৃষকদের কাছ থেকে ধান ক্রয় করেন।
কৃষকদের অভিযোগ, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রতি মন ধানের ওজন ৪০ কেজি হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে প্রতি মণে ২ থেকে ৩ কেজি পর্যন্ত অতিরিক্ত ধান নেওয়া হচ্ছে। নির্ধারিত ওজনের কম হলে অনেক ক্ষেত্রে ধান কিনতে অনীহা দেখান ক্রেতারা। ফলে বাধ্য হয়ে কৃষকদের বাড়তি ধান দিতে হচ্ছে।
এ ছাড়া ইজারাদাররা ধান বিক্রেতাদের কাছ থেকে খাজনা বাবদ নগদ টাকা আদায়ের পাশাপাশি ধান (তোলা) বাবদ প্রতি মণে দেড় থেকে দুই কেজি পর্যন্ত অতিরিক্ত ধান নিয়ে থাকেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে কৃষকদের ক্ষোভ বাড়লেও প্রভাবশালীদের ভয়ে অনেকেই প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছেন না।
চান্দাইকোনা হাটে ধান বিক্রি করতে আসা কৃষক আব্দুল মালেক বলেন, “সার, তেল, সেচ ও শ্রমিকের খরচ কয়েকগুণ বাড়লেও ধানের দাম বাড়েনি। ধান বিক্রি করতে গেলেই ব্যবসায়িদের সিন্ডিকেটের ফাঁদে পড়তে হয়।”
তেলিজানা গ্রামের কৃষক আব্দুর রশিদ বলেন, “ঘুড়কা হাটে এক মন ধানে ৩ থেকে ৪ কেজি পর্যন্ত অতিরিক্ত ধান দিতে হচ্ছে। এতে লাভ তো দূরের কথা, উৎপাদন খরচই উঠছে না। সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। এভাবে চলতে থাকলে ধান চাষ ছেড়ে দিতে হবে।”
আরেক কৃষক আলাউদ্দিন বলেন, “হাটে কোনো নিয়মের তোয়াক্কা করা হয় না। কষকদের জিম্মি করে ব্যবসায়িরা পকেট ভরে। ধান চাষে খরচ বাড়লেও আমরা লাভের মুখ দেখতে পাই না।”
নিমগাছী হাটের এক বিক্রেতা অভিযোগ করে বলেন, “এ হাটে ধান বিক্রি করতে এলে প্রতি মণে ৩ থেকে ৪ কেজি বেশি দিতে হয়। এ ছাড়া ফড়িয়া ব্যবসায়িরা সুযোগ পেলে ধান ওজনের কারচুপি করে প্রতি বস্তায় দেড় থেকে দুই কেজি ধান কম বানায়।” তিনি আরও জানান, কিছু আড়ৎদার ধান কিনে যথাসময়ে টাকা পরিশোধ না করে টালবাহানা করেন এবং বাকিতে ধান নিয়ে থাকেন।
নিমগাছী বাজারের এক আড়ৎদার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “বছরের পর বছর ধরেই এভাবে ধান কেনাবেচা চলে আসছে। সবাই এভাবেই ব্যবসা করেন।” তিনি দাবি করেন, পরিবহন ও বাজার ব্যবস্থাপনার খরচের কারণেই কিছুটা বেশি ওজন নেওয়া হয়।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুল খালেক পাটোয়ারী বলেন, “অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অনিয়ম প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয় কৃষক ও সচেতন মহল মনে করছেন, ধানের হাটে অনিয়ম বন্ধে নিয়মিত নজরদারি, সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ এবং খাজনা ও তোলার নামে অতিরিক্ত অর্থ ও ধান আদায় বন্ধে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনাসহ প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ জরুরি।

শেষ শ্রদ্ধা জানাতে মানুষের ঢল সাবেকমন্ত্রী মোশাররফ হোসেনের জানাজায়

সাবেক মন্ত্রী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে চট্টগ্রামে সর্বস্তরের মানুষের ঢল নেমেছে।

 

 

 

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকাল ১১টার দিকে নগরের জমিয়াতুল ফালাহ জাতীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার পর তাকে মিরসরাইয়ে নেওয়া হয়।

 

 

সেখানে বাদ আসর ফজলুর রহমান স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে তৃতীয় নামাজের জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।

 

 

 

জানাজায় অংশ নেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। পাশাপাশি আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী ছাড়াও সাধারণ জনগণকে জানাজায় অংশ নিতে দেখা যায়।

 

 

এ সময় মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন ছিলেন দেশের রাজনীতির এক অভিজ্ঞ ও সজ্জন ব্যক্তিত্ব। মহান মুক্তিযুদ্ধে তার অবদান এবং চট্টগ্রামের উন্নয়নে দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের ভূমিকা মানুষ শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।

 

 

সাংবাদিক আনিস আলমগীরের স্থায়ী জামিন মঞ্জুর

অবৈধ সম্পদ অর্জন ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এর করা মামলায় সাংবাদিক আনিস আলমগীরের স্থায়ী জামিনের আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত।

 

 

 

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দুপুরে শুনানি শেষে ঢাকার মহানগর দায়রা জজ মো. সাব্বির ফয়েজের আদালত এই আদেশ দেন। একইসঙ্গে ব্যক্তিগত হাজিরা মওকুফ চেয়ে করা আবেদন নামঞ্জুর করে সশরীরে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেন।

 

 

 

আসামিপক্ষের আইনজীবী তাসলিমা জাহান পপি এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, দুদকের এই মামলায় তার স্থায়ী জামিন মঞ্জুর করেন। বিদেশযাত্রার ক্ষেত্রেই তার কোন বাঁধা নেই। তবে ব্যক্তিগত হাজিরা মওকুফের আবেদন না মঞ্জুর করেন আদালত।

 

এদিন সকালে আদালতে হাজিরা দিতে আসেন আনিস আলমগীর। এসময় তার পক্ষে স্থায়ী জামিন, ব্যক্তিগত হাজিরা মওকুফ ও যেকোন সময় বিদেশ যেতে পারেন এই বিষয়ে পৃথক তিনটি আবেদন করেন। শুনানি শেষে ব্যক্তিগত হাজিরা মওকুফের আবেদনের নামঞ্জুর করেন। তবে অপর দুটি আবেদন মঞ্জুর করেছেন।

 

গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর রাজধানীর ধানমন্ডি ২ নম্বরে অবস্থিত একটি ব্যায়ামাগার থেকে বের হওয়ার পর তাকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হেফাজতে নেন। এরপর তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবির কার্যালয়ে নেওয়া হয়। পরদিন ১৫ ডিসেম্বর আনিস আলমগীরকে উত্তরা পশ্চিম থানার সন্ত্রাস বিরোধী আইনে করা মামলায় পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়। রিমান্ড শেষে গত ২০ ডিসেম্বর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

 

 

এরপর গত ১৫ জানুয়ারি জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে আনিস আলমগীরের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করে দুদক। গত ২৫ জানুয়ারি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও দুদকের সহকারী পরিচালক আখতারুজ্জামান তাকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তাকে এই মামলা গ্রেপ্তার দেখানো আবেদন মঞ্জুর করেন। গত ১১ মার্চ এই মামলায় তার জামিন মঞ্জুর করেন আদালত।

 

 

 

মামলার অভিযোগে বলা হয়, আনিস আলমগীরের নামে ২৫ লাখ টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পদ এবং ৩ কোটি ৮৪ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮৯ টাকা মূল্যের অস্থাবর সম্পদসহ মোট ৪ কোটি ৯ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮৯ টাকার সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয় হিসেবে তার ব্যয় ধরা হয়েছে ১৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা।

 

 

 

তার মোট অর্জিত সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪ কোটি ২৫ লাখ ৫৮ হাজার ৭৮৯ টাকা। আনিস আলমগীরের বৈধ আয়ের উৎস থেকে মোট আয় পাওয়া গেছে ৯৯ লাখ ৯ হাজার ৮৫১ টাকা। এর মধ্যে অতীত সঞ্চয় ৫৪ লাখ ৪৫ হাজার ৮২১ টাকা, টক শো ও কনসালটেন্সি থেকে আয় ১৯ লাখ ৩৯ হাজার ৯৭৭ টাকা, প্লট বিক্রি থেকে ২২ লাখ টাকা এবং সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক সুদ বাবদ ৩ লাখ ২৪ হাজার ৫৩ টাকা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

 

 

 

এ হিসাবে তার ঘোষিত ও গ্রহণযোগ্য আয়ের তুলনায় ৩ কোটি ২৬ লাখ ৪৮ হাজার ৯৩৮ টাকার সম্পদ বেশি পাওয়া যায়, যা মোট অর্জিত সম্পদের প্রায় ৭৭ শতাংশ এবং তা জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ হিসেবে করা হয়।

 

 

 

উল্লেখ্য, গত ৫ মার্চ সন্ত্রাসবিরোধী আইনে এক মামলায় সাংবাদিক আনিস আলমগীরকে জামিন মঞ্জুর করেন উচ্চ আদালত।

 

 

অটোরিকশা চালককে গলা কেটে হত্যা, এলাকায় চাঞ্চল্য

গাজীপুরের শ্রীপুরে মেহেদী হাসান আসিফ নামের এক অটোরিকশা চালকের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

 

 

 

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকালে উপজেলার রাজাবাড়ি ইউনিয়নের ডোয়াইবাড়ি গ্রামের বগারভিটা এলাকার গজারি বনের পাশের মাঠ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

 

 

 

নিহত মেহেদী হাসান আসিফ (২২) উপজেলার রাজাবাড়ি ইউনিয়নের ডোয়াইবাড়ি গ্রামের মো. হুমায়ুন আহমেদ জাকিরের ছেলে। তিনি পেশায় একজন অটোরিকশা চালক।

 

জানা গেছে, হত্যার পর মরদেহ ও অটোরিকশা গজারি বনের পাশে ফাঁকা মাঠে ফেলে গেছে দুর্বৃত্তরা। মরদেহের পাশে পাওয়া গেছে নারীর ওড়না, জুতা ও চুলের ব্যান্ড। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন গাজীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আশফাক উজ্জামান। হত্যার রহস্য উদ্‌ঘাটনে ঘটনাস্থলে এসেছে সিআইডি, পিবিআই, ডিবিসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

নিহতের মা আছমা বেগম বলেন, বুধবার বিকেলে অটোরিকশা নিয়ে বের হয় আমার ছেলে। রাত ১১টার মধ্যে বাড়ি ফেরে। রাত বেশি হলে তাকে ফোন করা হয়। কিন্তু মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এরপর খুঁজাখুঁজি শুরু করি। অনেক অটোরিকশা চালকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়, কিন্তু তারা কোনো খোঁজ দিতে পারেনি।

 

 

তিনি আরও বলেন, রাতভর খোঁজাখুঁজি করলেও ছেলের সন্ধান পাওয়া যায়নি। ফজরের আজানের পর বাড়ির অদূরে একটি নির্জন স্থানে কে জানি ছেলের অটোরিকশা ফেলে গেছে। তারপর থেকে দুশ্চিন্তা আরও বাড়তে থাকে। সকালে বগারভিটা এলাকায় ছেলের গলাকাটা মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা।

 

 

 

শ্রীপুর থানার ওসি মোহাম্মদ নাছির আহমেদ বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল এসে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ভিকটিমকে হত্যা করা হয়। নারীর ওড়না, জুতা, মাথার চুলের ব্যান্ড পাওয়া গেছে সেখানে। রহস্য উদ্‌ঘাটনের জন্য কাজ করছে পুলিশ। এ ব্যাপারে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ চলমান ও হত্যার রহস্য উদ্‌ঘাটনে কাজ চলছে।

 

 

পারইল ইউনিয়নে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের উন্মুক্ত বাজেট সভা অনুষ্ঠিত

 নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার ৪নং পারইল ইউনিয়নে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের উন্মুক্ত বাজেট সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিমূলক বাজেট গড়ি, উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখি’ — এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকাল ১০টায় পারইল ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন ৪নং পারইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহিদুর রহমান জাহিদ। ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম আগামী অর্থবছরের খসড়া বার্ষিক আয়-ব্যয়ের বাজেট উপস্থাপন করেন।
উপস্থাপিত বাজেটে মোট বরাদ্দের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে ১ কোটি ৭৫ লাখ ২৭ হাজার ৬৪৬ টাকা। এর মধ্যে রাজস্ব খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১৭ লাখ ৭৪ হাজার ১০০ টাকা এবং উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১ কোটি ৫৭ লাখ ৫৩ হাজার ৫৪৬ টাকা।
এসময় জাহিদুর রহমান জাহিদ বলেন,সরকার বাজেট প্রণয়ন করে, কিন্তু এর সুফল ঘরে তুলতে আমাদেরও কিছু দায়িত্ব সঠিকভাবে দেশের উন্নয়ন মানে আমাদেরই উন্নয়ন। তাই সামর্থ্য অনুযায়ী নিয়মিত কর প্রদান করা আমাদের নাগরিক দায়িত্ব।সরকারি সম্পদ যেমন—বিদ্যুৎ, পানি বা রাস্তাঘাট, এগুলো আমাদের সম্পদ। এগুলোর অপচয় রোধ করা মানেই বাজেটের সাশ্রয়।
স্থানীয় পর্যায়ে বাজেটের টাকা সঠিক খাতে ব্যয় হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে আমাদের সকলের সচেতন থাকা জরুরি।সচেতনতা কেবল নিজের জন্য নয়, আমাদের সন্তানদের জন্য একটি নিরাপদ পৃথিবী রেখে যাওয়ার জন্য। সরকার বা কোনো সংস্থা একার চেষ্টায় সমাজ পরিবর্তন করতে পারবে না, যতক্ষণ না আমরা নাগরিক হিসেবে সচেতন হই।
সভায় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং সাধারণ জনগণ অংশগ্রহণ করেন। বাজেট সভায় উপস্থিত সকলে ইউনিয়নের উন্নয়নমূলক কার্যক্রম আরও গতিশীল করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

ইনুর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী মামলায় যুক্তিতর্ক শেষ, রায় যেকোনো দিন

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়েছে। ফলে যেকোনো দিন রায় ঘোষণা হতে পারে বলে জানা গেছে।

 

 

 

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ সর্বশেষ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করে রাষ্ট্রপক্ষ।

 

 

 

হাসানুল হক ইনু জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি ও আওয়ামী লীগ সরকার আমলে তথ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

জানা গেছে, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে কুষ্টিয়ায় ৬-৭ জন নিহতের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা হয়। এই মামলায় তার বিরুদ্ধে ৮টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে।

প্রসিকিউশনের দাবি, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উসকানি ও প্ররোচনা দিয়েছেন হাসানুল হক ইনু। ইনুর প্ররোচনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনা বিভিন্ন ধ্বংসাত্মক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করেন।

 

 

এছাড়া আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোটের অন্যতম শীর্ষ নেতা হিসেবে এসব অপরাধের ক্ষেত্রে তার ওপর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দায় (সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটি) বর্তায় বলেও প্রসিকিউশন যুক্তি উপস্থাপন করেছে।

 

 

 

গত বছরের ১ ডিসেম্বর এ মামলায় প্রসিকিউশনের সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। এর আগে ২৫ সেপ্টেম্বর প্রসিকিউশন সুনির্দিষ্ট আটটি অভিযোগ ট্রাইব্যুনালে দাখিল করে। একই দিন শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেয়।

 

 

২০২৪ সালের ২৬ আগস্ট তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

 

 

চোখ দিয়ে মাথায় ঢোকে গুলি, প্রাণ গেল শিশু রেশমীর

চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামীর রউফাবাদ কলোনিতে গুলিবিদ্ধ হওয়া পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী রেশমী আক্তার মারা গেছে। কয়েকদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকাল পৌনে ১০টায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় সে।

 

 

 

চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নিহত রেশমি স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী ছিল। তার বাবা রিয়াজ আহমেদ পেশায় সবজি বিক্রেতা। পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে রেশমি ছিল সবার ছোট।

 

 

 

চিকিৎসকরা জানান, গুলিটি রেশমীর বাঁ চোখ ভেদ করে মাথার ভেতরে ঢুকে মস্তিষ্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশে আটকে যায়। তার অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় অস্ত্রোপচার করা সম্ভব হয়নি এবং তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়।

 

স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবার জানায়, গত বৃহস্পতিবার রাতে রৌফাবাদ এলাকায় বোনের বাসায় বেড়াতে আসা হাসান রাজু (২৪) নামে এক যুবককে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে ৫-৬ মুখোশধারী দুর্বৃত্ত। ঘটনাস্থলেই রাজু নিহত হন। ওই সময় মায়ের কথায় দোকান থেকে পান আনতে গিয়ে গুলিবর্ষণের মাঝখানে পড়ে যায় শিশু রেশমি। একটি গুলি তার চোখে বিদ্ধ হয়।

 

আহত অবস্থায় রেশমিকে চমেক হাসপাতালে নেওয়া হলে প্রথমে নিউরোসার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। সেখানে আইসিইউ শয্যা খালি না থাকায় পরিবার তাকে দ্রুত একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে চমেক হাসপাতালে আইসিইউ খালি হলে তাকে পুনরায় সেখানে স্থানান্তর করা হয়। শুক্রবার রাত থেকে সেখানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিল। বৃহস্পতিবার সকালে চমেক হাসপাতালের আইসিইউতে তার মৃত্যু হয়।

 

 

পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘটনার সময় এলাকায় চার থেকে পাঁচ মিনিট ধরে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ চলে। আশপাশের লোকজন ভয়ে সরে গেলেও রেশমী নিজেকে আড়াল করতে পারেনি। এদিন সন্ত্রাসীদের গুলিতে রাজু নামে এক যুবক ঘটনাস্থলেই নিহত হন।

 

 

চাকরি দিচ্ছে যমুনা গ্রুপ, আবেদন করতে পারবেন ৪০ বছর বয়সীরাও

চাকরি দেবে বেসরকারি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান যমুনা গ্রুপ। প্রতিষ্ঠানটি তাদের প্লাজা ম্যানেজার পদে জনবল নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। ১৩ মে থেকেই আবেদন নেওয়া শুরু হয়েছে। চলবে আগামী ১২ জুন পর্যন্ত।

 

 

 

আগ্রহী প্রার্থীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। নির্বাচিতদের মাসিক বেতন ছাড়াও প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা অনুযায়ী আরও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হবে।

 

 

 

চলুন, একনজরে দেখ নিই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিটি-

প্রতিষ্ঠানের নাম: যমুনা গ্রুপ

পদের নাম: প্লাজা ম্যানেজার

লোকবল নিয়োগ: ৩০ জন

শিক্ষাগত যোগ্যতা: বিবিএ/বিবিএস অন্যান যোগ্যতা: কম্পিউটার জ্ঞান (এমএস ওয়ার্ড, এক্সেল, পিওএস/ইআরপি সিস্টেম)। অভিজ্ঞতা: ৫ থেকে ১০ বছর

চাকরির ধরন: ফুলটাইম

কর্মক্ষেত্র: প্লাজায়

প্রার্থীর ধরন: শুধু পুরুষ

বয়সসীমা: ২৫ থেকে ৪০ বছর

কর্মস্থল: যেকোনো জায়গায়

বেতন: আলোচনা সাপেক্ষে

অন্যান্য সুবিধা: প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা অনুযায়ী

আবেদন যেভাবে: আগ্রহী প্রার্থীরা আবেদন করতে ও বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তিটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন।

আবেদনের শেষ সময়: ১২ জুন ২০২৬

 

 

শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড

দীপু মনি, ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবুকে গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ

রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাংবাদিক মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল-১।

 

 

বৃহস্পতিবার (১৩ মে) বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। এর আগে এদিন সকালে তাদের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

 

 

একইসঙ্গে তদন্তাধীন মামলাটির প্রতিবেদন আগামী ৭ জুন দাখিলের জন্য দিন ধার্য রয়েছে। তদন্ত সংস্থার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ গত ৭ মে এই আদেশ দেন।

উল্লেখ্য, মামলার তদন্ত সংস্থার আবেদনের পর দীপু মনি, ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবুকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করতে গত ৭ মে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

ওই শুনানিতে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম দাবি করেন, ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে হত্যাকাণ্ডের সময় দীপু মনি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। তিনি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা একদল উচ্ছৃঙ্খল মানুষকে নির্মূল করেছেন বলে প্রচার করেন।

 

এছাড়া সাংবাদিক ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবুর বিরুদ্ধে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ নিয়ে উসকানিমূলক বক্তব্য প্রচারের অভিযোগ আনা হয়। সে সময় মোজাম্মেল বাবু একাত্তর টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং ফারজানা রুপা প্রতিষ্ঠানটির প্রধান প্রতিবেদক ছিলেন বলে উল্লেখ করা হয়।

 

 

 

সেদিন শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল তাদের আদালতে হাজিরের নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে আজ বৃহস্পতিবার তাদের ট্রাইব্যুনালে আনা হলে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক।

 

 

 

এ মামলায় এর আগে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক একেএম শহিদুল হক, সাবেক ডিআইজি মোল্যা নজরুল ইসলাম, একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টা মণ্ডলীর সভাপতি শাহরিয়ার কবির ও সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল।

 

 

 

শাপলা চত্বরের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ এনে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কাছে আবেদন করেন হেফাজতে ইসলামের নেতা আজিজুল হক। হেফাজত নেতা জুনায়েদ আল হাবিব ও মামুনুল হকের পক্ষে করা ওই অভিযোগে মোট ২১ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

 

 

রাজাকারদের চিনতে মুক্তিযোদ্ধা ‘টেপরি রাণীকে’ জানতে হবে

(সাহিত্যিক মোজাফ্ফর হোসেনের ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)

 

 

মুক্তিযোদ্ধা টেপরী রাণী চলে গেলেন। কে এই নারী জানবেন না?? জানতে ইচ্ছা করে না???
…যুদ্ধ চলছে। টেপরী রাণীর বয়স তখন মাত্র ১৭। আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে তার পরিবার। তখনই পরিবারকে বাঁচানোর নাম করে এগিয়ে এল এক রাজাকার। সে টেপরীর বাবাকে বলল—
“তোমার মেয়েকে যদি পাকিস্তানি ক্যাম্পে দাও, তাহলে পুরো পরিবার বেঁচে যাবে।”

 

 

 

পরিবারকে রক্ষা করতে টেপরীকে ‘বিসর্জন’ দেওয়ার কথা ভাবল তার অসহায় বাবা। বাবার কথা শুনে কিশোরী টেপরীও আর বাধা দিল না। সে জানত ক্যাম্পে গেলে কি হবে তার সঙ্গে। তবু পরিবারকে বাঁচাতে হবে। নিজের বাবা তার মেয়ের হাত ধরে পৌঁছে দিলো ক্যাম্পে, জমের মুখে। সেদিন সারাটা পথ বাবা-মেয়ে একটিও কথা বলেনি। মেয়েকে তুলে দেওয়া হচ্ছে পাকিস্তানি ক্যাম্পে। পাকসেনারা তাকে ধ*র্ষণ করবে, ধ*র্ষণের পর মেরেও ফেলতে পারে। এই যখন হবিতব্য, কি কথা বলবে বাবা মেয়েকে?

 

 

সেদিন টেপরিকে ক্যাম্পে তুলে দিয়ে মাথা নিচু করে ফিরে আসেন নির্বাক বাবা। এই নিরবতার অর্থ বোঝেন? নিজের মেয়ের দিকে তাকিয়ে (নিজেকে বাবা বা মেয়ের স্থানে বসিয়ে) কল্পনা করেন তো!!

 

 

 

টেপরী আর পাঁচটা মেয়ের মতো মরে যেত পারত। কিন্তু কপাল খারাপ তার, সে মরেনি। দীর্ঘ ছয় মাসের নরকযন্ত্রণা ভোগ করে ফিরে আসে সে। এমন কোনো রাত যায়নি, পাকসেনারা তাকে ধ*র্ষণ করেনি। আজ শুনতে ‘বাড়াবাড়ি’ মনে হচ্ছে না? ইয়েস, একাত্তর মিথ না, এই ‘বাড়াবাড়ির’ নামই একাত্তর!
মুক্তিযুদ্ধ শেষ হলে অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় বাড়ি ফেরেন টেপরী। শুরু হয় আরেক যন্ত্রণা। অনাগত সন্তানকে গ্রহণ করতে প্রস্তুত না সমাজ। সন্তানকে ‘নষ্ট’ করে ফেলার জন্য নানা চাপ আসে চারদিক থেকে। তখন মেয়ের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়ান তার বাবা। তিনি বলেছিলেন, “না মা, রাখ। এ-ই হবে তোর সম্বল। তোকে তো আর কেউ গ্রহণ করবে না। শেষ বয়সে এই সন্তানই হবে তোর বেঁচে থাকার অবলম্বন।”

 

 

হয়েছেও তাই। ছেলে সুধীর বর্মনের আশ্রয়েই তার বাকি জীবনটা কেটেছে।
কিন্তু সমাজের কটূক্তি সুধীরেরও পিছু ছাড়েনি। সুধীরকে ‘পাঞ্জাবির বাচ্চা’ বলে অপমান করা হয়েছে প্রতিনিয়ত। একবার তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, সে প্রতিবাদ করে না কেনো?

 

 

সুধীরের উত্তর—“ঝগড়া করতে তো লোক লাগে, কিন্তু আমার কে আছে?”
না, সুধীরের পাশে কেউ নেই। তখনও ছিল না, এখনও নেই। কিন্তু এরপরও সুধীর বেঁচে আছে মাথা উঁচু করে। তার একটা মেয়ে আছে, নাম—‘জনতা’।
জনতা কি ভাবে জানেন? তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল তার দাদিকে নিয়ে। সে দৃঢ় কণ্ঠে বলেছিল—
“দেশে যদি আবার যুদ্ধ হয়, দাদীর মতো আমিও দেশের জন্য নিজের সব কিছু বিসর্জন দিতে দ্বিতীয়বার ভাববো না।”
এই আমাদের ‘জনতা’, একাত্তরের উত্তরসূরি।

 

 

দীর্ঘ অবহেলার পর ২০১৭ সালে রাষ্ট্রীয়ভাবে বীরাঙ্গনা (হওয়ার উচিত ‘মুক্তিযোদ্ধার’) স্বীকৃতি পান টেপরী রাণী।
তাকে তখন জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, কি চান তিনি। বৃদ্ধবয়সী টেপরী রানী বলেছিলেন: মৃত্যুর পর তাঁর দেহটাকে লাল-সবুজের পতাকায় মুড়িয়ে জাতি বিদায় জানাবে। এর চেয়ে আর বেশি কিছু তার চাওয়া নেই।
তার সেই চাওয়া পূরণ হয়েছে।

 

 

 

আসেন আমরা অন্তর থেকে তাঁকে স্যালুট জানাই। তাঁর স্মরণে একা একা এক মিনিট নিরবতা পালন করি। একশো থেকে এক হাজার, এক হাজার থেকে এক লক্ষ, লক্ষ থেকে কোটি মানুষ নিরবতা পালন করুন এই মায়ের জন্য। সুধীর ও জনতার জন্য।

 

 

 

[এই রাজাকারের আব্বা এবং বাচ্চারা শুনে রাখ, তোদের কারণেই আমাদের মুক্তিযুদ্ধটা আরো বেশি কঠিন, আরো বেশি ক্ষয় ও যন্ত্রণার হয়ে উঠেছিল। শেষ কথা, এই দেশটার উপর তোদের চেয়ে টেপরী রাণী, সুধীর ও জনতার অধিকার ও হক শতগুণ বেশি।]

 

 

 

ওমানে সড়ক দুর্ঘটনায় চট্টগ্রামের আপন ৪ ভাই একসাথে নিহত

ওমানে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার একই পরিবারের চার প্রবাসী ভাই নিহত হয়েছেন। বুধবার (১৩ মে) সকাল ১০টার দিকে রাজধানী মাস্কাট থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরের মোলাদ্দা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

 

 

 

ওমানে বাংলাদেশ দূতাবাস চার বাংলাদেশির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। নিহতরা চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বন্দারাজারপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং তারা একই পরিবারের চার ভাই।

 

 

 

জানা গেছে, কর্মস্থলে যাওয়ার পথে তাদের বহনকারী গাড়িতে গ্যাস লিকেজ থেকে হঠাৎ বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই চারজনের মৃত্যু হয়।

একসঙ্গে চার ভাইয়ের মর্মান্তিক মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের মাতম নেমে এসেছে। একই সঙ্গে ওমানে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটিতেও গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে।

 

 

 

নবম পে স্কেলে বাড়তে পারে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে-স্কেল নিয়ে আবারও আলোচনা উঠেছে। সম্ভাব্য নতুন বেতন কাঠামোর বিভিন্ন গ্রেডের প্রস্তাবিত বেতন প্রকাশের পর সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও কৌতূহল তৈরি হয়েছে। যদিও এখনো সরকারিভাবে কোনো প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি, তবে সংশ্লিষ্ট মহলে বিষয়টি নিয়ে জোর প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।

 

 

 

স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশে প্রথম জাতীয় বেতন স্কেল কার্যকর হয়। এরপর ২০১৫ সাল পর্যন্ত মোট আটবার নতুন পে-স্কেল ঘোষণা করা হয়েছে। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী প্রতি পাঁচ বছর পরপর নতুন বেতন কাঠামো প্রণয়নের কথা থাকলেও করোনা মহামারি, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট এবং রাজস্ব চাপে সেই প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন পিছিয়ে যায়।

 

 

 

২০২৬ সালে এসে নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে। সরকারি সূত্রগুলো বলছে, নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা চলছে। এ লক্ষ্যে গঠিত ১০ সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি বিভিন্ন সুপারিশ বিশ্লেষণ করে চূড়ান্ত মতামত প্রস্তুতের কাজ করছে।

 

প্রস্তাবিত তালিকা অনুযায়ী, প্রথম গ্রেডের বেতন নির্ধারণ করা হতে পারে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা। দ্বিতীয় গ্রেডে সম্ভাব্য বেতন ধরা হয়েছে ১ লাখ ৩২ হাজার থেকে ১ লাখ ৫৩ হাজার টাকা এবং তৃতীয় গ্রেডে ১ লাখ ১৩ হাজার থেকে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৮০০ টাকা। চতুর্থ গ্রেডে সম্ভাব্য বেতন ১ লাখ থেকে ১ লাখ ৪২ হাজার ৪০০ টাকা এবং পঞ্চম গ্রেডে ৮৬ হাজার থেকে ১ লাখ ৩৯ হাজার ৭০০ টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে।

 

এছাড়া ষষ্ঠ গ্রেডে সম্ভাব্য বেতন ৭১ হাজার থেকে ১ লাখ ৩৪ হাজার টাকা এবং সপ্তম গ্রেডে ৫৮ হাজার থেকে ১ লাখ ২৬ হাজার ৮০০ টাকা ধরা হয়েছে। অষ্টম গ্রেডে ৪৭ হাজার ২০০ থেকে ১ লাখ ১৩ হাজার ৭০০ টাকা এবং নবম গ্রেডে ৪৫ হাজার ১০০ থেকে ১ লাখ ৮ হাজার ৮০০ টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে।

 

 

অন্যদিকে দশম গ্রেডে সম্ভাব্য বেতন ৩২ হাজার থেকে ৭৭ হাজার ৩০০ টাকা, একাদশ গ্রেডে ২৫ হাজার থেকে ৬০ হাজার ৫০০ টাকা এবং দ্বাদশ গ্রেডে ২৪ হাজার ৩০০ থেকে ৫৮ হাজার ৭০০ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে। ত্রয়োদশ থেকে বিংশ গ্রেড পর্যন্ত বেতনও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে।

 

 

 

তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি এখনো একটি প্রস্তাবিত কাঠামো মাত্র। সরকারিভাবে গেজেট বা প্রজ্ঞাপন প্রকাশের পরই নবম জাতীয় পে-স্কেলের চূড়ান্ত বেতন কাঠামো সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।

 

 

স্কুলছাত্রীকে বেঁধে রেখে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ, গ্রেপ্তার ৪

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় অষ্টম শ্রেণির ছাত্রীকে বেঁধে রেখে সঙ্গে থাকা আরেক নবম শ্রেণির ছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করেছেন সাত শ্রমিক।

 

 

 

বুধবার (১৩ মে) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। গ্রেপ্তার চারজন হলেন— মো. আবু সৈয়দ (১৫), মো. মানিক ইসলাম (২০), মো. আবদুর রহিম (১৮) ও মো. রাকিব (২০)।

 

 

 

জানা গেছে, দুই কিশোরী পাহাড়ি এলাকায় প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে ঘুরতে বের হয়। অভিযুক্ত শ্রমিকদের মধ্যে একজন তাদের গতিবিধি লক্ষ্য করে অন্য ছয়জনকে মুঠোফোনে ডেকে আনে। পরে দুই কিশোরীকে তুলে নিয়ে একজনকে বেঁধে রেখে অন্যজনকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে। ধর্ষণ শেষে ভুক্তভোগীকে হত্যার উদ্দেশ্যে প্লাস্টিকের বস্তা দিয়ে মুখ চেপে ধরে।

মানুষের আনাগোনা টের পেয়ে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় দুই কিশোরী বাড়িতে এলে পরিবার বিষয়টি জানতে পারে। পরবর্তীতে বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে এলে সন্ধ্যায় অভিযুক্তদের খোঁজাখুঁজি শুরু করে। পরবর্তীতে সাতকানিয়া থানা পুলিশকে খবর দিলে ঘটনাস্থলে বিশেষ অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করে।

 

সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফুল ইসলাম ছিদ্দিকি বলেন, সাতজন স্থানীয় প্রজেক্টের কাজের শ্রমিক কর্তৃক নবম শ্রেণির এক ছাত্রী ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের মধ্যে স্থানীয়দের সহায়তায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের অভিযান চলছে।

 

 

তিনি আরও বলেন, গ্রেপ্তারদের আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতে সোপর্দ করা হবে।

 

 

সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত বাংলাদেশি

লালমনিরহাটের হাতিবান্ধার বনচৌকি সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে খাদেমুল ইসলাম নামের এক বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন।

 

 

 

বুধবার (১৩ মে) রাত ২টার দিকে সীমান্তের বনচৌকি বিওপি সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত যুবকের নাম মো. খাদেমুল (২৫)। তিনি উপজেলার উত্তর আমঝোল গ্রামের আমজাদ হোসেনের ছেলে।

 

 

 

জানা গেছে, বুধবার রাত ২টার দিকে বনচৌকি সিমান্ত পিলার ৯০৫/৬ এস থেকে ১৫০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে কয়েকজন বাংলাদেশি কাঁটাতারের বেড়ার কাছে গেলে ভারতীয় ৭৮ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের পাগলামারী ক্যাম্পের টহল দল তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে।

গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তিনি দ্রুত বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ফিরে আসেন। পরে স্থানীয় ও তার সহযোগীরা তাকে উদ্ধার করে রংপুরের একটি ক্লিনিকে ভর্তি করলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

লালমনিরহাট ব্যাটালিয়নের (১৫ বিজিবি) কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বিএসএফের গুলিতে একজন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। তবে কী কারণে বিএসএফ গুলি চালিয়েছে তা জানা যায়নি।

 

 

ভেনেজুয়েলাকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘৫১তম অঙ্গরাজ্য’ হিসেবে ট্রাম্পের পোস্ট

ভেনেজুয়েলাকে ‘৫১তম অঙ্গরাজ্য’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল এক পোস্টে তিনি দেশটিকে যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্য বলে দাবি করেছেন।

 

 

 

বুধবার (১৩ মে) আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

 

 

 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে একটি পোস্ট শেয়ার করেছেন। পোস্টে ভেনেজুয়েলার মানচিত্রের ওপর মার্কিন পতাকা বসানো ছিল। সেখানে দেশটিকে ‘৫১তম অঙ্গরাজ্য’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

এর একদিন আগে ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রুদ্রিগেজ দেশটিকে যুক্তরাষ্ট্রের আরেকটি অঙ্গরাজ্যে পরিণত করার ধারণা প্রত্যাখ্যান করেন। ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনি বিষয়টি ‘গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছেন’।

 

রদ্রিগেজ বলেন, আমরা আমাদের ভূখণ্ডের অখণ্ডতা, সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা এবং ইতিহাস রক্ষা করে যাব। এটি একটি গৌরবময় ইতিহাস। কোনো উপনিবেশ না হয়ে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে টিকে থাকার জন্য অসংখ্য নারী-পুরুষ নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন।

 

 

ট্রাম্পের ফক্স নিউজে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারের পর রুদ্রিগেজের এ মন্তব্য সামনে আসে। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ভেনেজুয়েলাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য করার বিষয়টি তিনি বিবেচনা করছেন।

 

 

 

গত ২ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে রাজধানী কারাকাসের বাড়ি থেকে তুলে আনে যুক্তরাষ্ট্র। এরপর থেকে ট্রাম্প বারবার দাবি করে আসছেন যে তিনি ভেনেজুয়েলার সঙ্গে খুব ভালো সম্পর্ক বজায় রাখছেন।

 

 

এক কোটি টাকা দিলে মামলা থেকে নাম উঠিয়ে দেবে বলা হয়েছিল : সাকিব

নিজের বিরুদ্ধে করা মামলায় নাম প্রত্যাহারের বিনিময়ে এক কোটি টাকা দাবি করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। সংবাদমাধ্যম প্রথম আলোতে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশের রাজনীতি, মামলা, জাতীয় দলে ফেরা এবং নিজের বর্তমান জীবন নিয়ে খোলামেলা আলোচনায় তিনি এমন দাবি করেন।

 

 

 

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দলটির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে জুলাই অভ্যুত্থানে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে সারা দেশে মামলা হয়েছে। বাদ নেই ক্রিকেটার ও দলটির সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসানও।

 

 

 

তবে সাকিবের দাবি একটি মহল থেকে অর্থের বিনিময়ে মামলা থেকে রেহাই দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

 

এ বিষয়ে সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, একটি পক্ষ তার কাছে প্রস্তাব দিয়েছিল— নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ দিলে মামলার তালিকা থেকে তার নাম সরিয়ে দেওয়া হবে। তবে তিনি মনে করেন, যারা এই প্রস্তাব দিয়েছে তারা নিজেরাও জানে না যে মামলা হওয়ার পর শুধু বাদীপক্ষ চাইলে নাম সরিয়ে ফেলা সম্ভব নয়।

 

সাক্ষাৎকারে এ ক্রিকেটার বলেন, ‘বলেছে, এক কোটি টাকা দিলে আমার নাম কেস থেকে উঠিয়ে দেবে। কিন্তু যারা বলছে, তাদের ধারণা নেই যে কেস হয়ে যাওয়ার পর চাইলেই নাম উঠানো যায় না। শেষ পর্যন্ত পুলিশের তদন্তেই ঠিক হবে আমার সম্পৃক্ততা ছিল কি না।’

 

 

কারা এই প্রস্তাব দিয়েছিল— এমন প্রশ্নে সাকিব জানান, এফআইআরে বাদীপক্ষের যোগাযোগের জন্য যার নাম ছিল, তিনি কয়েকজনের মাধ্যমে বিষয়টি পৌঁছে দেন। তবে কার মাধ্যমে যোগাযোগ হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত বলতে চাননি তিনি।

 

 

 

প্রস্তাব পেয়ে কী জবাব দিয়েছিলেন এমন প্রশ্নে সাকিব বলেন, ‘এসব টাকা দিয়ে কেন করতে হবে ভাই? টাকা দেওয়া মানে তো হচ্ছে আমার সমস্যা আছে, আমি চাচ্ছি যে আমাকে এখান থেকে বাঁচিয়ে দেওয়া হোক। হতে পারে তারা ভেবেছে আমার কাছে অনেক বেশি টাকা, চাইলেই হলো।’

 

 

 

দেশে ফেরা নিয়ে নিজের অবস্থানও ব্যাখ্যা করেছেন সাবেক এই অলরাউন্ডার। তার ভাষ্য, দেশে ফিরতে আইনগত কোনো বাধা নেই, তবে তিনি নিরাপত্তা ও দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টিকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন।

 

 

 

সাকিব বলেন, ‘আমি চাই স্বাভাবিক একটা নিরাপত্তা এবং দেশত্যাগের নিষেধাজ্ঞা উঠে যাক। এ দুটি বিষয় আমার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। দেশত্যাগের নিষেধাজ্ঞা না ওঠানো পর্যন্ত আমার পক্ষে যাওয়া সম্ভব নয়।’

 

 

 

তিনি আরও বলেন, গ্রেপ্তার হওয়ার ভয় তার নেই। তবে অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি বা ব্যক্তিগত আক্রমণের ঝুঁকি নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। ‘মব হতে পারে, ব্যক্তিগত শত্রুতা থেকেও কিছু হতে পারে। অন্তত এমন একটা জায়গা তো থাকা উচিত, যেখানে বিপদ হলে কেউ দায়িত্ব নেবে,’ বলেন তিনি।

 

 

 

জাতীয় দলে না খেলতে পারার বিষয়েও আক্ষেপ আছে জানিয়ে সাকিব বলেন, তিনি এখনো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার মতো অবস্থায় আছেন বলে বিশ্বাস করেন। বিশেষ করে ওয়ানডে ক্রিকেটে এখনো অবদান রাখার সুযোগ দেখছেন তিনি।

 

 

 

২০২৭ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে নিজের পরিকল্পনার কথাও জানান সাকিব। তিনি বলেন, ‘সুযোগ পেলে আবার নিজেকে প্রস্তুত করতে চাই। এক-দুটি সিরিজ খেললে তখন বোঝা যাবে আমি কোথায় আছি, দলও বুঝতে পারবে।’

 

 

 

রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও অনুশোচনা নেই বলে জানান সাবেক এই অধিনায়ক। তার ভাষায়, ‘আজকে যেটা ঠিক মনে হয় না, পাঁচ বা দশ বছর পরে হয়তো সেটাই ঠিক মনে হবে। মানুষ বারবার ভুলে যায় যে, আমি একটি নির্দিষ্ট এলাকা থেকে সংসদ সদস্য হয়েছিলাম। এলাকার মানুষ আমাকে ভোট দিয়েছেন দেখেই আমি জিতেছি। তারা যদি ভোট না দিতেন, আমি জিততাম না। সারা দেশের মানুষ তো আমাকে ভোট দেননি।’

 

 

 

সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়েও নিজের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন সাকিব। তিনি বলেন, দেশের মানুষ রাজনীতিকে খারাপ হিসেবে দেখে, কারণ অনেকেই সেবা করার বদলে সুবিধা নিতে রাজনীতিতে আসেন। তবে রাজনীতির মাধ্যমেই পরিবর্তন সম্ভব বলে বিশ্বাস করেন তিনি।