নিজস্ব প্রতিবেদক। জনতার কণ্ঠ.কম
সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে ছেলে শামীম শেখ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া মেয়ে রেশমা খাতুনের মুক্তি দাবী করলেন বাদী বাবা। সেই সঙ্গে ছেলের প্রকৃত হত্যাকারীদের বিচারও দাবী করেন তিনি।
বুধবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে সিরাজগঞ্জ প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কামারখন্দের কুটিরচর শাটিবাড়ি মো. ছাইফুল ইসলাম ডিবি পুলিশের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ এনে এমন দাবী করেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, এসিআই ফুড লিমিটেডের কর্মকর্তাদের বাঁচাতেই তার ছেলে হত্যা মামলায় মেয়েকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, গত ৪ জুলাই ভদ্রঘাট এসিআই ফুড লিমিটেডের উত্তরে ডোবায় কচুরি পানার ভেতর থেকে শামীমের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ আমাকে জিজ্ঞেস করে কাউকে সন্দেহ হয় কি না। তখন আমি এসিআই ফুড লিমিটেডের সিকিউরিটি গার্ড রফিক, সিকিউরিটি গার্ডের বস জাবেদ, এডমিন আইয়ুব, লেবার সাপ্লাইয়ার মালেক, সোলাইমান ও জাকিরের নাম বলি। কিন্তু পুলিশ তাদের আসামী না করে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের নামে মামলা রজু করান।
আরও পড়ুন: বোনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড দেখে ফেলাই কাল হলো প্রতিবন্ধী শামীমের
পরবর্তীতে ডিবি পুলিশ সন্দেহজনক আসামি শ্রী তপু সরকার, শ্রী সুজন চন্দ্র ভৌমিক ও গোলাম মোস্তফাকে গ্রেপ্তার করে। ৩০ সেপ্টেম্বর আমার মেয়ে রেশমা খাতুন ও হাবিজা খাতুন নামে অপর একজনকে গ্রেপ্তার করে। রেশমাকে আটকের পর রিমান্ডে নির্যাতন করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি নিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে ছাইফুল ইসলাম আরও বলেন, আমার ছেলে হত্যা মামলায় যারা জড়িত ডিবি পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার না করে আমার মেয়েকে গ্রেপ্তার করে। আমার মেয়ের সাথে তার ৪ বছরের ছেলে স্বাধীন ও ৫ বছরের নুসরাত নামে একটি মেয়ে রয়েছে। আমার মেয়ে তার ভাইকে মেরে ফেলতে পারে না। আমার মেয়ে ঘটনার সাথে জড়িত না।
তিনি বলেন, ডিবি পুলিশ বিভিন্নভাবে আমাদের হয়রানি করছে। আমার আরেক মেয়ে শিল্পী খাতুন ও নাতি তানভীর এবং বড় ছেলেকেও গ্রেপ্তারের হুমকি দিচ্ছে পুলিশ। এসিআই ফুড লি: এর সিকিউরিটি গার্ড ও এডমিনকে বাঁচাতে আমার মেয়েকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তিনি মামলাটি সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করে প্রকৃত আসামীদের গ্রেপ্তার ও তার মেয়ে রেশমার মুক্তির দাবী জানান।
তবে এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা উল্লেখ করে সিরাজগঞ্জ গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. একরামুল হোসাইন বলেন, শুধু মেয়ে নয় ওর বাবাও আসামি হবে এই মামলায়। সংবাদ সম্মেলনে সে যেসব নাম বলেছে তাদের মধ্যে আইয়ুব বাদে সবাই আমাদের হাতে আটক রয়েছে। আর মেয়ে তো বিজ্ঞ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে।

রিপোর্টার: 



















