সিরাজগঞ্জ , রবিবার, ১০ মে ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

জনতার কণ্ঠে সংবাদ প্রকাশ: ক্ষেতলালের সেই ‘কমিশনখোর’ পিআইও বদলি

জনতার কন্ঠে সংবাদ প্রকাশ: ক্ষেতলালের সেই ‘কমিশনখোর’ পিআইও ওবায়দুল হক বদলি

জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলায় টিআর-কাবিখা প্রকল্পে ২৫ শতাংশ কমিশন বাণিজ্য ও ভ্যাট-আয়করের নামে অর্থ আত্মসাতের খবর ‘জনতার কণ্ঠে প্রকাশের পর অবশেষে ব্যবস্থা নিয়েছে প্রশাসন। অভিযুক্ত উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) ওবায়দুল হককে ক্ষেতলাল থেকে সরিয়ে পার্শ্ববর্তী পাঁচবিবি উপজেলায় বদলি করা হয়েছে।

 

​গত ৭ মে ২০২৬ তারিখে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (প্রশাসন-১) তাসনূভা নাশতারাণ স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এই বদলির আদেশ জারি করা হয়। আদেশে ওবায়দুল হকসহ ৮ জন পিআইও-কে জনস্বার্থে বদলি করা হলেও ক্ষেতলালে তার বিরুদ্ধে ওঠা পাহাড় সমান দুর্নীতির অভিযোগই এই বদলির নেপথ্যে কাজ করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

 

গত ২০ এপ্রিল জনতার কণ্ঠ ও সংবাদ সারাবেলা’য় “ক্ষেতলালে উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ: পিআইওর বিরুদ্ধে কমিশন বাণিজ্য” শিরোনামে একটি বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনে পিআইও ওবায়দুল হকের কমিশন বাণিজ্যের কারণে মেম্বার-চেয়ারম্যানদের জিম্মি দশা এবং প্রকল্পের টাকা লুটের চিত্র ফুটে ওঠে। বিশেষ করে বড়াইল ও আলমপুর ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিদের দেওয়া সরাসরি স্বীকারোক্তিগুলো প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের টনক নড়ায়। প্রতিবেদকের কাছে থাকা অডিও-ভিডিও প্রমাণ এবং নথিপত্র সংবাদের সত্যতাকে অকাট্য করে তোলে।

আরও পড়ুন: টিআর-কাবিখা প্রকল্পে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ পিআইওর বিরুদ্ধে

 

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, বদলিকৃত কর্মকর্তাদের আগামী ১৪ মে ২০২৬ তারিখের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত (Stand Released) হতে হবে। অন্যথায় ঐ দিন বিকেলেই তারা বর্তমান কর্মস্থল থেকে তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত বলে গণ্য হবেন। ক্ষেতলালে ওবায়দুল হকের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন পাঁচবিবির বর্তমান পিআইও মোঃ আবু বক্কর সিদ্দিক।

 

 

এই বদলিকে এলাকাবাসী স্বাগত জানালেও তারা কেবল বদলিতেই তুষ্ট নন। সচেতন মহলের দাবি, সংবাদ সারাবেলায় প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে একটি শক্তিশালী তদন্ত কমিটি গঠন করে ওবায়দুল হকের সময়কার সকল প্রকল্পের অডিট করা প্রয়োজন। দুর্নীতির মাধ্যমে আত্মসাৎকৃত সরকারি অর্থ উদ্ধার এবং তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

বিশ্বকাপ দেখা নিয়ে অনিশ্চয়তা বাংলাদেশে

বিশ্বকাপ ফুটবল মানেই বাড়তি উত্তাপ। ভক্ত-সমর্থকদের মধ্যে অন্যরকম উত্তেজনা। ২০২৬ বিশ্বকাপ শুরু হতে আর মাত্র ৩২ দিন বাকি। এবারের বিশ্বকাপ ফুটবলে সব কিছুর দামই আকাশচুম্বী! টিকিটের দাম থেকে শুরু করে এখন সম্প্রচার স্বত্বও চূড়ায় উঠতে শুরু করেছে। যে কারণে চীন, ভারত সম্প্রচার নিয়ে জটিলতায় পড়েছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা।

 

 

 

বাংলাদেশে বিশ্বকাপ সম্প্রচারের জন্য স্বত্ব পেয়েছে সিঙ্গাপুরভিত্তিক মিডিয়া সংস্থা ‘স্প্রিংবক’। কিন্তু তারা এখন সেটি সম্প্রচারের জন্য বিটিভির কাছে যে পরিমাণ অর্থ চেয়েছে, তা দেশের একমাত্র সরকারি টেলিভিশনের বাজেটকেই প্রায় ছুঁয়ে ফেলছে! অনলাইন নিউজপোর্টাল বাংলা ট্রিবিউন এর এক প্রতিবেদনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাংলাদেশ টেলিভিশনের ঊধ্বর্তন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ‘স্প্রিংবক থেকে আমাদের কাছে ১৫১ কোটি টাকার একটি প্রস্তাব এসেছে। এছাড়া এর সঙ্গে ট্যাক্স ও ভ্যাট মিলিয়ে সেটা দুইশত কোটি টাকা দাঁড়াবে।’

 

 

 

তারপরই ওই কর্তা জানান, এত অর্থ দিয়ে আসলে বিটিভির মতো প্রতিষ্ঠানের খেলা দেখানো অসম্ভব। তার কারণও ব্যাখ্যা করেছেন তিনি, ‘আসলে এত টাকা দিয়ে বিটিভির পক্ষে বিশ্বকাপ সম্প্রচার স্বত্ব কেনা সম্ভব নয়। বিটিভির সারা বছরের বাজেটই আছে তিনশত কোটি টাকা। এর মধ্যে যদি আমরা দুইশত কোটি টাকা দিয়ে সম্প্রচার স্বত্ব কিনি তাহলে টেলিভিশন চলবে কী করে? সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, এত টাকা দিয়ে স্বত্ব কিনে বিটিভি তো কোনোভাবেই লাভ করতে পারবে না। বড় ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।’

 

২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্ব ৯৮ কোটি টাকায় কিনেছিল বিটিভি। যার কারণে বড় ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছিল দেশের একমাত্র সরকারি টেলিভিশনকে। এ নিয়ে ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘কাতার বিশ্বকাপে সম্প্রচার স্বত্ব কেনা নিয়ে পরবর্তীতে বিটিভিকে বড় ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়েছিল। আমরা বিজ্ঞাপন থেকে কিছু টাকা সংগ্রহ করতে পারলেও বিনিয়োগের পুরা টাকা আসেনি। বড় ক্ষতি হয়েছিল। এখন সরকার যদি মনে করে বিটিভির মাধ্যমে বিশ্বকাপ দেখাবে, তাহলে হয়তো সম্ভব। এছাড়া এই মুহূর্তে অন্য কোনও বিকল্প নেই।’

 

শেষ পর্যন্ত যদি বাংলাদেশেও বিশ্বকাপ সম্প্রচার না হয় তাহলে বিশ্বের একটি বড় অংশই সম্প্রচার তালিকার বাইরে চলে যাবে।

 

 

কিছু দিন আগেই যেমন রয়টার্সকে ফিফা জানিয়েছিল যে তারা ১৭৫টিরও বেশি অঞ্চলের সঙ্গে সম্প্রচার চুক্তি সম্পন্ন করেছে। এটা সত্য হলেও বাস্তব চিত্র আরও জটিল। কারণ এখনও পাকিস্তান, বাংলাদেশ, থাইল্যান্ড ও মিয়ানমারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বাজারে বিশ্বকাপ সম্প্রচারের চুক্তি চূড়ান্ত হয়নি। তার ওপর ভারত ও চীনসহ বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল কয়েকটি দেশও ফিফার সম্প্রচার তালিকার বাইরে। অর্থাৎ বিশ্বের প্রায় ৪০ শতাংশ জনসংখ্যা এই সম্প্রচার কাভারেজের বাইরে রয়ে গেছেন।

 

 

 

বিশ্লেষকদের মতে, বাদ পড়া দেশগুলোর বড় অংশই একই অঞ্চলের, মূলত টাইম জোন সমস্যা। ভারত যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে সাড়ে ৯ ঘণ্টা এবং চীন ১২ ঘণ্টা এগিয়ে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত ম্যাচগুলো সেখানে বেশিরভাগ সময় গভীর রাত বা ভোরে সম্প্রচার হবে।

 

 

 

এর বিপরীতে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে সময়ের পার্থক্য ছিল তুলনামূলক সুবিধাজনক সময়ে। ভারতের সঙ্গে ব্যবধান ছিল মাত্র আড়াই ঘণ্টা এবং চীনের সঙ্গে ৫ ঘণ্টা। সেই কারণেই সে সময় ভারতের ভায়াকম১৮ (বর্তমানে রিলায়েন্সের অধীনে থাকা জিওসিনেমা প্ল্যাটফর্ম) ৬ কোটি ডলারে সম্প্রচার স্বত্ব কিনেছিল এবং বিনামূল্যে ম্যাচ দেখিয়েছিল। ফলে প্ল্যাটফর্মটির দর্শক সংখ্যা নাটকীয়ভাবে বেড়ে গিয়েছিল। তবে সেখানেও বিজ্ঞাপন আয় ছিল কম, প্রায় ৩ কোটি ডলার। যার ফলে প্রতিষ্ঠানটি লোকসান দেখেছে। ভারতে মূলত সাবস্ক্রিপশন নয়, বিজ্ঞাপনই মিডিয়ার আয়ের প্রধান উৎস হওয়ায় এই মডেল টেকসই হয়নি।

 

 

 

এই অভিজ্ঞতার পর ফিফা ২০২৬ ও ২০৩০ বিশ্বকাপ মিলিয়ে ভারতীয় বাজারের জন্য প্রায় ১০ কোটি ডলারের একটি প্যাকেজ চেয়েছিল। কিন্তু রিপোর্ট অনুযায়ী, জিওস্টার ও সনির দুই বড় প্রতিদ্বন্দ্বীই সেই দামে আগ্রহ দেখায়নি। বরং জিওস্টার মাত্র ২ কোটি ডলারের প্রস্তাব দিয়েছে।

 

 

 

বিশ্লেষকদের মতে, সময়ের পার্থক্য ছাড়াও বড় কারণ হলো ভারতীয় ক্রিকেটের আধিপত্য, বিশেষ করে আইপিএলের জন্য বিপুল বিনিয়োগ। একই সময়ে নারীদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপও থাকায় দর্শক ও বিজ্ঞাপনদাতাদের আগ্রহ সেদিকেই বেশি।

 

 

 

চীনের ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি প্রায় একই। সেখানকার সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বকাপ সম্প্রচারের কেন্দ্র। তবে ফিফার প্রত্যাশা অনুযায়ী চীনা বাজার থেকে বড় অঙ্কের অর্থ আসেনি। ফিফা শুরুতে ২৫ কোটি ডলার চাইলেও চীনা পক্ষের আগ্রহ ছিল অনেক কম। প্রস্তাব নেমে আসে ৮০ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত। ফলে সব দিক দিয়ে এখন অর্থই অনর্থের মূল হয়ে দাঁড়িয়েছে। এক্ষেত্রে সবাইকে বিশ্বকাপ দেখাতে হলে ফিফাকে বড় ধরনের মূল্য ছাড় দিতে হবে।

 

 

“ওঙ্কার আবৃত্তি চর্চা কেন্দ্রর” আত্মপ্রকাশ আগামীকাল

 

কবিতা জাগাবে বোধ” এই স্লোগানকে সামনে রেখে সিরাজগঞ্জে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে নতুন সাহিত্য ও আবৃত্তি সংগঠন “ওঙ্কার আবৃত্তি চর্চা কেন্দ্র”।

 

 

 

আগামীকাল সোমবার (১১ মে) সন্ধ্যা ৬টায় সিরাজগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে সংগঠনটির আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।

 

 

 

অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করবেন সিরাজগঞ্জ জেলা কালচারাল অফিসার মোঃ মাহমুদুল হাসান। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের কর্মী, শিল্পী ও সংস্কৃতিপ্রেমীরা উপস্থিত থাকবেন।

 

 

 

মায়াময় এ সংসারের ঘূর্ণাবর্তে, স্বার্থের বেড়াজালে যখন জীবন অস্থির হয়ে ওঠে এবং হৃদয় মন যখন অশান্ত থাকে, তখন আবৃত্তি, গান ও শিল্প-সাহিত্যের আড্ডার মাধ্যমে সুস্থ বিনোদন ও নির্মল আনন্দ ছড়িয়ে দেওয়ার প্রয়াসে “কবিতা জাগাবে বোধ” এই স্লোগানকে ধারণ করে সংগঠনটির কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

 

 

 

অনুষ্ঠানে অতিথিদের ফুল দিয়ে বরণ, আমন্ত্রিত অতিথিদের বক্তব্য এবং আবৃত্তি পরিবেশনার মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি শেষ হবে।

 

 

 

সংগঠনটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক উক্ত অনুষ্ঠানকে আনন্দময়, প্রাণবন্ত এবং সার্থক করতে সকলের উপস্থিতির জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।

 

 

 

অবরুদ্ধ পাঠশালা, আমাদের ভঙ্গুর শিরদাঁড়া: লায়ন মাহফুজ রহমান

  • রিপোর্টার:
  •  আপডেট টাইম : ০৬:৫৮:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬
 

প্রেস এবং সোশ্যাল মিডিয়াতে নেতা কর্মীরা যে বিবৃতি প্রদান করেন, কত হাত ঘুরে মিডিয়া পর্যন্ত আসে সে এক বিশাল কর্মযজ্ঞ, সত্যিই নির্মম সংঘর্ষ । দলীয় কোনো বিবৃতির পোস্টমর্টেম করলে জাতীয় রাজনীতির হতশ্রী সৃজনশীলতা আপনাদের যে কারো মন ভারাক্রান্ত হবে । যেমন দায়িত্ব প্রাপ্ত কোনো নেতাকর্মী, বক্তব্য টাইপ করতে নিয়ে যান শহরের নির্দিষ্ট স্পটে কোনো ইন্টারনেট ক্যাফে, দলিল লেখকদের দোকানে যেখানে জেলা, উপজেলা, থানা, ওয়ার্ড পর্যায়ের যত কাজ হয় সবাইকে আসতে হয় | দূরত্ব বুঝে দিতে হয় পরিবহণ ভাড়া, সাথে সঙ্গ দেয়া নেতাকর্মীদের চা নাস্তা, বিড়ির যোগান। দোকানে গিয়ে দেখলেন সেখানে বিদ্যুৎ নেই , আবার বিদ্যুৎ সচল হলে দেখলেন প্রিন্টার এর কালী নেই, কালী টপআপ করার পরে দেখলেন পেপার জ্যাম ।

 

 

 

দিন শেষে কাজটা শেষ না হলে, পরের দিন দেখলেন যে নেতাকে কাজটা দিয়েছেন নানা প্রয়োজনে সেই মানুষটা নাই। পরের দিন গিয়ে দেখলেন সাপ্তাহিক বন্ধ। একটা বিবৃতি মিডিয়ায় প্রেস রিলিজ দিতে পারাটা তাই দলীয় বিশাল কর্ম দক্ষতা | কার্যালয় গুলোতে একটা কম্পিউটার, প্রিন্টার থাকা অত্যাবশক হলেও সেটা কল্পনার বাহিরে। অনেক কার্যালয় গুলোতে দামি আলোক সজ্জা আছে, চেয়ারে আছে কিন্তু সেখানে একটা প্রিন্টার নাই। আর থাকলেও সেটা চালানোর মতো দক্ষ নেতাকর্মী নাই। প্রয়াত রেজিম ডিজিটাল বাংলাদেশ উপহার দেয়ার কথা বলে যে খিচুড়ি খাওয়া হকার নেতৃত্ব রেখে গেছেন, আজকের সরকারি দল সেখান থেকেই নিজেদের যোগ্যতার জানান দিচ্ছে। চেতনার মলম নিয়ে নব্য হকাররা ব্যস্ত কে কার পিও সেটি জানান দিতে | হৈচৈ, দৌড় ঝাপ আর তৈলাক্ত বাণী নিয়ে শিকার ধরতে ব্যস্ত |

 

 

 

একজন পেশাজীবী, ফুটবলার, ক্রিকেটার হতে যেমন প্রস্তুতি লাগে স্কিল লাগে, একজন নেতা, হতেও সেই একই পরিশ্রম জ্ঞান অধ্যাবসায় লাগে । বিস্ময়কর হলো এদেশে নেতা হতে কিছুই লাগে না, এমনকি মানুষত্বও লাগে না। যেমন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা অর্জন ছাড়াই প্রতিষ্ঠানের সভাপতি চেয়ারম্যান হওয়া যায়। তেমনি কোনো একাডেমিক, আক্ষরিক, জ্ঞান ছাড়াই এই দেশে জাতীয় নেতা হওয়া যায়। এ দেশের স্থানীয় সরকার প্রতিনিধিদের ৭০% যাদের স্কুল পাশ সার্টিফিকেট ছাড়াই স্বশিক্ষায় গর্বিত রাজনৈতিক নেতা।

 

 

 

আমাদের ভাষার বাইনারি হলো শব্দ, ভাব প্রকাশে শব্দের কথাবলা এক আনবাদ্য শিল্প, অনেকটা সংগীত শিল্পের মতন। নেতা হতে ভাষা গত প্রয়োগ ও পরিমাপ গুরুত্বপূর্ণ। নেতার দক্ষতা তার ভাষার ব্যবহারিক প্রয়োগের উপর নির্ভরশীল। একজন নেতার রাজনৈতিক, সামাজিক, ধর্মীয়, শিল্প, সাহিত্য, ভৌগোলিক জ্ঞান অত্যাবশ্যক। পরিতাপের বিষয় এই দেশে অধিকাংশ নেতাকর্মী ভালো করে কথা বলতে লিখতে পড়তে জানেন না। সেখানে রাষ্ট্র বিজ্ঞান ভাবনা প্রয়োগিক ব্যবহার তাদের দিয়ে হয় না, সেটা তাদের চেতণার পরিপন্থী ।

 

 

 

সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বদৌলতে কিছু নেতা কর্মী তৈরী হলেও যোগ্যতার মান দন্ডে তারাও অনেক পিছিয়ে। উচ্চ পদপদবি নিয়ে নেতাকর্মীরা সগৌরবে দাপিয়ে বেড়ান কিন্তু সমন্বয়হীনতা অব্যবস্থাপনায় কার কি কাজ সেটা তাদের জানা নেই | যেমনটা ধরুন বল যেখানে পুরো টীম সেখানে | কিছু কাজ নেতাকর্মীরা দল বেঁধে করতে পছন্দ করেন, তাই দেখবেন চাঁদাবাজি,নেশা হামলা, মামলা এগুলো তারা দল বেঁধে করেন। ঐযে কথায় আছে দশে মিলে করি কাজ নাহি ভয় নাহি লাজ।

 

 

আজকাল দলবেঁধে ধর্ষণ দেশের ক্ষয়ে যাওয়া রাজনীতির হতশ্রী ভেঙেপড়া আস্তাবল। জরুরী সেবা প্রয়োজনে জেলার এক বিজ্ঞ আইনজীবী নেতার চেম্বারে গিয়ে দেখলাম, কার্যালয়ে খাট পালংক বিছিয়ে দস্তুরখান বসিয়ে পুরোদস্তুর বাবুর্চিখানা খুলে বসেছেন । এখানে যারা আসেন বাজার থেকে খাবারের বন্দোবস্ত করেই আসেন | কি এক অভিজ্ঞতা যেমন খিচুরি খাওয়া নেতা কর্মী, তেমনি তাদের আইন পেশার জোগাড়, সবাই মিলে মিশে এক সুখী পরিবার। এখানে নেতাদের পরিচয় চেতনার ফেরিওয়ালা আর অন্যজন তাদের হ্যাকিম-কবিরাজ।

 

 

 

জেলার কোর্ট কাচারীর যে দুরাবস্থা সেখানে কে মক্কেল কে উকিল আলাদা করে জানা অনেক কঠিন, যেখানে আইন পেশার চেয়ে দালাল বেশি। উইন্ডোস ১১, কোর আই ৯ এর যুগে, চ্যাটজিপ্ট ব্যবহার করা কোনো তরুণই এই দৃশ্য দেখে আইন পেশায় যে আসতে চাইবে না সেটা পরিষ্কার ।

 

 

 

রাজনীতি এক চলমান পাঠশালা কিন্তু আমাদের সেই পাঠশালায় না আছে দরজা জানালা, না আছে শিক্ষক। যাদের দায়িত্ব ছিল নেতৃত্ব তৈরী করা, তারা রাজনীতিতে হ্কার পয়দা করেছেন| কমিটি বাণিজ্যের আড়ালে দেশ ব্যাপী হকার পুনর্বাসন কেন্দ্র গড়ে তুলেছেন। তাদের অয্যোগ্য নেতৃত্বে অবরুদ্ধ পুরোদেশ । রাজনৈতিক হকারদের হৈ-চৈ আর কর্তৃত্বে শিক্ষিত মধ্যেবিত্তরা রাজনীতি থেকে হারিয়ে গেছেন। দোকান ভাড়া নিয়ে দুই চারটে নেতার ছবি টাঙিয়ে, রাজনীতির পসরা সাজিয়ে সমাজকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছেন সেগুলো বন্ধ করতে হবে।

 

 

 

এই হ্কারদের ফাউ খাওয়া বন্ধ না হলে পরিবর্তন আসবে না। একজন পেশাদার নাগরিক হতে ব্যক্তি ও পরিবারের যে মেহনত, ত্যাগ প্রচেষ্টা সেটি আসলে শেষ পর্যন্ত পূর্ণতা পায় না। তার সুফল পায় না পরিবার, সমাজ ও দেশ। প্রতিটা পেশাজীবীই তার কর্ম জীবনে এই রাজনৈতিক দোকানদের হাতে জিম্মি। এই বাস্তবতায় দেশের তরুণরা ক্রমশই প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার প্রতি উদাসীন এবং নিরুৎসাহী হয়ে পড়ছে | তরুণরা জেনে গেছেন মেম্বার , চেয়ারম্যান, মেয়র, এমপি, মন্ত্রী হতে শিক্ষা জীবনের সাথে কোনো সম্পৃক্ততা নাই । তাই বর্তমান সাংসদের ৭৯ জন এমপি যারা স্বশিক্ষিত যাদের কেউ হাই স্কুল পাশ করেন নাই, বাকি এমপি মুন্ত্রীরাও কোনো রকম যোগাড় নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। এর চেয়েও হতশ্রী অবস্থা পুরো দেশের মেয়র, চেয়ারম্যান, মেম্বারদের তা দেশের রাষ্ট্রীও পর্যায় এখনো কেউ সেভাবে ভেবে দেখছেন না । কি এক অবস্থা, অযোগ্যতাই এইদেশে উন্নতির ওপেনসিক্রেট |

 

 

 

আমাদের গবেষণায় এই দেশে ১ কোটি ৮০ লক্ষ রাজনৈতিক নেতা কর্মী যারা সরাসরি দলীয় সুবিধাভোগী, রাজনৈতিক দোকানের উপর নির্ভরশীল। এই লোকগুলো তারা যাদের দলীয় কমিটিতে দায়িত্বশীল পদ রয়েছে। এই নেতা কর্মীদের আসলে পরিচয় দেবার মতো কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি, ট্রেনিং, গবেষণা, পরিচয় দেবার মতো পেশা নাই | দেশকে কিভাবে সামনে নিতে হবে দলের কেন্দ্রীয় পর্যায় সেই পৃষ্টপোষকতা নেই, রাজনৈতিক কোনো স্বদিচ্ছা নেই। পৃথিবীর সকল দেশে শিক্ষিত প্রগতিশীল,মধ্যেবিত্তরা রাজনীতি নিয়ন্ত্রন করলেও আমাদের দেশ নিয়ন্ত্রণ হয় অযোগ্য, সুবিধাভোগী রাজনৈতিক হকার দ্বারা। নেতা বলতে আমাদের দেশে শুধু রাজনৈতিক নেতাদেরকেই বুঝানো হয়। কিন্তু আরো অনেক নেতা আছে যেমন ব্যবসায়ীক নেতা, ক্রীড়া ব্যাক্তিক্ত, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, বিজ্ঞ আইনজ্ঞ, বিশেষজ্ঞ ডাক্তার সবাইকে কর্ম ক্ষেত্রে পেশাজীবী নেতা বলা হয়। পেশাজীবী নেতা হতে শিক্ষা, মেধা, শ্রম, গবেষণা প্রয়োজন হয়, প্রতিটা পরীক্ষা কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হতে পুরো জীবন উৎসর্গ করতে হয়। পলিটিকাল নেতা হতে কি কি লাগে সেটাও আপনারা জানেন। তাই তরুণদের মধ্যে শর্ট কার্ট নীতি তীব্র থেকে তীব্র হচ্ছে।

 

 

 

সেখানে শিক্ষা ও শিক্ষকের প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন হয় না আদেশ উপদেশ। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সুরে বলতে হয় : “নরমাংসের স্বাদ পাইলে মানুষের সম্বন্ধে বাঘের যে দশা হয়” অযোগ্য নেতা কর্মীদের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার স্বাদ, নরমাংসের স্বাদ পাওয়া সেই বাঘের দশা । ছোট্টো করে বলতে হয় : অবরুদ্ধ পাঠশালা, নেই কোনো দরজা জানালা! চারদিকে অবক্ষয়, ভঙ্গুর শিরদাঁড়া!! রুচির দুর্ভিক্ষ গড়া আমাদের বঙ্গ উপত্যকা !!!

 

লায়ন মাহফুজ রহমান রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সমাজ  কর্মী, সম্পাদক প্রবাসী পেশাজীবী কেন্দ্রীয় পরিষদ (BPRC) কনসালটেন্ট এজেন্ট ব্রিটিশ কাউন্সিল

 

 

‘সোজা গুলি করার’ ওপেন নির্দেশনা দিয়ে রেখেছিল শেখ হাসিনা: চিফ প্রসিকিউটর

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমাতে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের সরাসরি নির্দেশ দিয়েছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা— এমনটাই জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে ‘লেথাল ওয়েপন’ ব্যবহার করে যেখানে পাওয়া যাবে সেখানে গুলি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

 

 

 

রোববার (১০ মে) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

 

 

 

চিফ প্রসিকিউটর জানান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসের সঙ্গে হওয়া এক কথোপকথনে শেখ হাসিনার নির্দেশনার বিষয়টি উঠে এসেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনা বলেছিলেন— ‘আমার নির্দেশনা দেওয়া আছে, ওপেন নির্দেশনা দিয়ে দিছি। এখন লেথাল ওয়েপন ব্যবহার করবে, যেখানে পাবে সোজা গুলি করবে’।

 

 

তিনি বলেন, একজন সরকারপ্রধান হিসেবে শেখ হাসিনার এমন নির্দেশনা ছিল অমানবিক ও ভয়াবহ। এর ফলেই সারাদেশে ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে গুলি চালানোর প্রবণতা বেড়ে যায় এবং হাজারো মানুষ নিহত হন।

 

 

এই নির্দেশনার ভয়াবহতা তুলে ধরে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘একজন সরকারপ্রধান যিনি এই দেশের মানুষের অভিভাবক ছিলেন, ছাত্র-জনতার মাতৃতুল্য নেত্রী ছিলেন, যার ওপরে মানুষের এতো আশা ভরসা ছিল, হয়তো এই দেশের ছাত্র-জনতা কোনোদিন চিন্তা করে নাই তিনি এইরকম একটা হুকুম তিনি দিতে পারেন। তিনি আন্দোলন দমনে রাষ্ট্রীয় নানান কলাকৌশল ব্যবহার করতে পারেন। কিন্তু এরকম একটা ভয়াবহ আদেশ যার ফলশ্রুতিতে সারা দেশে লেথাল ওয়েপন ব্যবহারের প্রবণতা বেড়ে যায় এবং নির্বিচারে গুলি করে হাজারো মানুষকে হত্যা করা হয়।’

 

 

এদিকে এক-এগারো (১/১১) সরকারের প্রভাবশালী সেনা কর্মকর্তা লে. জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়েও কথা বলেন চিফ প্রসিকিউটর। তাকে ওই সময়ের ডি ফ্যাক্টো গভর্নমেন্টের অন্যতম নিয়ন্ত্রক আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘সে সময়কার মানবতাবিরোধী অপরাধের নেপথ্যের মূল মহানায়ক ছিলেন তিনি। এছাড়া বিগত জুলাই আন্দোলনেও ফ্যাসিস্ট কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে।’

 

 

 

একটি মিস কেসে তাকে অ্যারেস্ট দেখিয়ে সেফ হোমে একদিন জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং প্রাপ্ত তথ্য যাচাই-বাছাই চলছে বলে তিনি জানান।

 

 

 

এছাড়া জুলাই-আগস্টের ঘটনায় থানা ও ট্রাইব্যুনালের তদন্তের মধ্যে যাতে সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সেজন্য পুলিশকে ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ারাধীন মামলাগুলোতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন (ফাইনাল রিপোর্ট) জমা না দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

 

 

 

অন্যদিকে, গুম সংক্রান্ত তথ্যের জন্য সেনাসদরে চিঠি পাঠানোর বিষয়টি ট্রাইব্যুনালের ‘তদন্তের প্রয়োজনে অভ্যন্তরীণ কাজ’ বলে উল্লেখ করেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।

 

 

ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত মোটরসাইকেল চালক

হবিগঞ্জ সদর উপজেলার ধুলিয়াখাল বাইপাস সড়কে বাস ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে জাহিদুল ইসলাম (৩০) নামে এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন।

 

 

 

রোববার (১০ মে) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

 

 

 

নিহত জাহিদুল ইসলাম হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার মিরপুর এলাকার আব্দুল হামিদের ছেলে।

 

 

 

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দুপুরে জাহিদুল ইসলাম মোটরসাইকেলযোগে ধুলিয়াখাল বাইপাস সড়ক পার হচ্ছিলেন। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগামী বাসের সঙ্গে মোটরসাইকেলটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই মোটরসাইকেল আরোহী জাহিদুল ইসলাম প্রাণ হারান।

 

 

 

দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে হবিগঞ্জ সদর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও মোটরসাইকেলটি জব্দ করে থানায় নিয়ে যায়।

 

 

 

হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদ হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যা আধুনিক জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে কাজ করছে পুলিশ। এ ঘটনায় যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

জনতা ব্যাংকের সোয়া ৩ কোটি টাকা আত্মসাৎ, ৫ কর্মকর্তার সাজা

রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের একটি শাখা থেকে প্রায় ৩ কোটি ৪০ লাখ টাকা আত্মসাতের দায়ে দীর্ঘ ২৬ বছর পর পাঁচ সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তাকে কারাদণ্ড দিয়েছেন চট্টগ্রামের একটি বিশেষ আদালত।

 

 

 

রোববার (১০ মে) চট্টগ্রামের বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালত এই রায় ঘোষণা করেন।

 

 

 

আদালত সূত্রে জানা গেছে, দণ্ডিত পাঁচজন আসামিকে দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় মোট আট বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। তবে রায় ঘোষণার সময় দণ্ডিত কোনো আসামিও আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।

 

নথি অনুযায়ী, আত্মসাতের এ ঘটনাটি ঘটে ১৯৯৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০০০ সালের মার্চ মাসের মধ্যে। চট্টগ্রামের শেখ মুজিব রোড করপোরেট শাখার অভিযুক্ত কর্মকর্তারা গ্রাহকদের সঙ্গে যোগসাজশ করে ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন হিসাব থেকে অবৈধভাবে অর্থ স্থানান্তর করেন। পরবর্তীতে সেই অর্থ চলতি ও এসটিডি (Short Term Deposit) হিসাবের মাধ্যমে উত্তোলন করে আত্মসাৎ করা হয়।

 

ব্যাংকের একটি বিশেষ পরিদর্শন দলের তদন্তে মোট ৩ কোটি ৩৯ লাখ ৮১ হাজার টাকা গরমিলের তথ্য উঠে আসার পর ২০০০ সালের এপ্রিলে মামলাটি দায়ের করা হয়েছিল। আদালত কর্তৃক দণ্ডিত সাবেক পাঁচ কর্মকর্তা হলেন, মো. আবু তৈয়ব, বাবুল চন্দ্র মজুমদার, রনেন্দ্র বিকাশ সাহা, মোসলেম উদ্দিন, মো. সাঈদ হোসেন (সাবেক এসপিও, প্রধান কার্যালয়)।

 

দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মো. এনামুল ইসলাম কালবেলাকে বলেন, আদালত আসামিদের অপরাধের গুরুত্ব অনুযায়ী দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারায় ৫ বছর, ৪২০ ধারায় ২ বছর এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় ১ বছরের সাজা দিয়েছেন। সেই সঙ্গে প্রত্যেককে ৪৬ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে, যা পরিশোধে ব্যর্থ হলে তাদের আরও ১ বছর জেল খাটতে হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের যে জিরো টলারেন্স নীতি, এই রায় তারই প্রতিফলন।

 

অন্যদিকে, অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় নুরুল হুদা নামে এক সাবেক কর্মকর্তাকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আবু বকর সিদ্দিকী নামে অন্য এক আসামির উচ্চ আদালতে রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তার ক্ষেত্রে মামলার কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছে।

 

আদালত সূত্র জানিয়েছে, ২০০০ সালে মামলাটি দায়ের করা হলেও তদন্ত শেষ করে অভিযোগপত্র জমা দিতে পুলিশের সময় লেগেছিল ১১ বছর। ২০১১ সালে অভিযোগপত্র জমা দেওয়ার পর ২০১৩ সালে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। দীর্ঘ ১৩ বছরের বিচারিক প্রক্রিয়া এবং এক ডজন সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ শেষে আজ রোববার এই রায় আসলো। আদালত বর্তমানে পলাতক পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।

 

 

৬২ বছরের ইতিহাস বদলে দিলেন আজান

বাংলাদেশের বিপক্ষে পাকিস্তানের জার্সিতে অভিষেক টেস্টেই তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগার ছুঁয়ে ফেললেন পাকিস্তানের ওপেনার আজান আওয়াইস। আর তাতেই ৬২ বছরের পুরোনো এক রেকর্ডে ভাগ বসালেন তিনি।

 

 

 

মিরপুর টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৪১৩ রান করে বাংলাদেশ কিছুটা ফুরফুরে মেজাজেই ছিল। তবে স্বাগতিকদের সে স্বস্তি উবে যেতে সময় লাগেনি বেশি। পাকিস্তানের দুই ওপেনার তাদের উদ্বোধনী জুটিতেই যে তুলে ফেলেছিলেন ১০৬ রান। সেই জুটি ভাঙা গেলেও দিন শেষের আগে আর বিপদে পড়েনি পাকিস্তান।

 

 

 

এত কিছু যে হয়ে গেল, তাতে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন আজান। ইনিংসের প্রথম বলটা খেলেছিলেন, ওপাশে ইমাম উল হকের ঝুলিতে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা থাকার পরও! এরপর আজানের শুরুটাও ভালো হয়নি। ৭ রানে যখন ব্যাট করছেন, নাহিদ রানার ১৪১ কিলো মিটার গতির বল গিয়ে আঘাত হানে তার হেলমেটে। তা সামলে ক্রিজে ফিরতেও বেশ সময় লেগেছিল অভিষিক্ত এই ব্যাটারের।

এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাননি তিনি। ওপাশে ওপেনিং সঙ্গীকে হারান, তবে আজানকে টলানো যায়নি। ৮৫ রানে অপরাজিত থেকে আগের দিন শেষ করেন।

আজ রোববার সকালে সেঞ্চুরি পূরণ করতে সময় নেন মোটে ৫ ওভার। দিনের পঞ্চম ওভারে নাহিদ রানার বলে সিঙ্গেল নিয়েই তিন অঙ্ক ছুঁয়ে ফেলেন। আর তাতেই ৬২ বছরের পুরোনো রেকর্ডে ভাগ বসান তিনি। আজকের আগ পর্যন্ত ওপেনার হিসেবে অভিষেকে পাকিস্তানের হয়ে সেঞ্চুরি ছিল ৫টি। খালিদ ইবাদুল্লাহ, আলী নাকভি, তৌফিক ওমর, ফাওয়াদ আলম ও আবিদ আলি এই কীর্তি গড়েছিলেন।

তবে এক খালিদ ইবাদুল্লাহ বাদে কেউই দলীয় ইনিংসের প্রথম বল খেলেননি, অর্থাৎ ওপেনার হলেও তাদের ব্যাটিং পজিশন ছিল দুইয়ে। খালিদ এই রেকর্ডটা গড়েছিলেন সেই ১৯৬৪ সালে। এরপর ৬২ বছর পেরিয়ে গেলেও এই কীর্তি আর দেখেনি পাকিস্তান। বাংলাদেশের বিপক্ষে আজ সেটাই করে দেখালেন আজান।

 

 

 

তবে এরপরই তিনি ফিরে গেছেন তাসকিন আহমেদের শিকার হয়ে। যদিও তার আগে যা করেছেন, সেটা পাকিস্তানকে রেখে গেছে বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে।

 

 

স্বামীর অবস্থান আমার লাইফের সবচেয়ে ওপরে : পায়েল

ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী কেয়া পায়েল। সম্প্রতি একটি পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে নিজের ক্যারিয়ার কাজ ভাইরাল হওয়ার প্রবণতা এবং ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন এই অভিনেত্রী। ‘এটা আমাদেরই গল্প’ নাটকের জন্য সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার পেয়ে পুরো টিমকে তা উৎসর্গ করেছেন তিনি।

 

 

 

 

অ্যাওয়ার্ড ও কাজের অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে কেয়া পায়েল বলেন, ‘এটি আমাদের গল্পের জন্য আমার দ্বিতীয় অ্যাওয়ার্ড। আমাদের সবার পছন্দের এবং শ্রদ্ধেয় রাজ ভাইয়া আজ আসেননি তাই পুরো টিমকে আমার এই অ্যাওয়ার্ডটি ডেডিকেট করতে চাই। ভীষণ পছন্দের একটি কাজ এটি। এই গল্পের জন্য দর্শক অনেক কেঁদেছে। বেশ সাধারণ একটি গল্প এটি। আমরা কাজটি দেখলে বুঝতে পারব এই ঘটনাটা আমাদের সঙ্গেও ঘটে। মায়ের সঙ্গে কথা বলা বা স্বামীর সঙ্গে কেমিস্ট্রি সব মিলিয়ে আমরা নিজেদের জীবনটাকে খুঁজে পাব এই গল্পে। তাই দর্শক এত বেশি রিলেট করতে পেরেছে।’

 

 

 

ভাইরাল হওয়া নিয়ে এই অভিনেত্রী বলেন, ‘ভাইরাল হওয়া নিয়ে আমি এত বেশি ভাবি না। মনোযোগ দিয়ে কাজ করেছি কাজ দ্বারাই মানুষ আমাকে মনে রাখুক এটাই আমি চাই। কাজের মাধ্যমে স্বীকৃতি পেলাম এটা অন্যরকম ভালো লাগা। একজন শিল্পী হিসেবে ভাইরালের চেয়ে বড় কথা হলো কাজের মাধ্যমে মানুষের সম্মান পাওয়া। কাজ করে যাব তারপর একটা সময় হারিয়ে যাব এটা আমি চাই না। সম্মান নিয়ে বেঁচে থাকতে চাই।’

নিজেকে ভাঙার প্রসঙ্গে কেয়া জানান সম্প্রতি একটি পাগলের চরিত্র ও একটি কুৎসিত চেহারার মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করে বেশ প্রশংসা পেয়েছেন তিনি। তবে ‘এটা আমাদেরই গল্প’ নাটকের মেহেরিন চরিত্রটি তার কাছে বিশেষ কিছু। এই নাটকের একটি মৃত্যু দৃশ্যের শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা যখন এই দৃশ্যটি করছিলাম পুরো সেট ভারী হয়ে গিয়েছিল। সারাদিন কেউ কারও সঙ্গে কথা বলিনি। মানুষের মৃত্যু অনিবার্য যেকোনো সময় যেকোনো কিছু হয়ে যেতে পারে। দৃশ্যটি করার সময় আমরা মৃত্যুপরবর্তী প্রিয়জনদের অনুভূতিগুলো খুব গভীরভাবে ফিল করেছি।’

সাক্ষাৎকারের একপর্যায়ে সাবেক প্রেমিক ও বর্তমান জীবনসঙ্গী প্রসঙ্গেও কথা বলেন কেয়া পায়েল। তিনি বলেন, ‘আমার কাছে প্রিয় তো অবশ্যই আমি নিজে। আর এক্স তো এক্সই। তার প্রতি ভালোবাসা ছিল যদি ভালোবাসা থাকে সেই ভালোবাসা তো কখনো ফুরায় না। তাদের প্রতি একধরনের ভালোবাসা সারা জীবনই থেকে যাবে। কিন্তু যে আমার পার্টনার যে আমার স্বামী তার অবস্থান আমার লাইফের সবচেয়ে ওপরে।’

 

চার সন্তান থাকতেও বৃদ্ধাশ্রমে ঠাঁই হলো মায়ের

সন্তানের সুখের জন্য নিজের সুখ আর স্বপ্ন বিলিয়ে দিতে পারেন যিনি তিনি হলেন মা। অথচ সন্তান প্রতিষ্ঠিত হয়ে নিজের সুখের খোঁজে ভুলে যাচ্ছেন সেই মাকেই। আর তাই জীবনের অন্তিম মুহূর্তে কখনো কখনো বৃদ্ধাশ্রমের চার দেয়ালের মাঝে ঠাঁই হয় দুঃখিনি মায়ের।

 

 

 

এমনই একজন বৃদ্ধা মা বরিশালের ঊষা রাণী। যিনি চার সন্তানের জননী হয়েও জীবনের শেষ মুহূর্তটা কাটছে বৃদ্ধাশ্রমের চার দেয়ালের মাঝে একাকিত্বে।

 

 

 

 

জীবনের পুরোটা সময় সন্তানদের মানুষ করতে করতেই কেটে গেছে তার জীবন। নিজের কষ্ট ভুলে সন্তানদের সুখের জন্য লড়াই করেছিলেন প্রতিনিয়ত। মানুষের বাড়িতে কাজ করে চার ছেলেমেয়ের মুখে খাবার তুলে দিয়েছেন। কিন্তু বয়সের ভারে যখন একটু আশ্রয় আর স্নেহের প্রয়োজন হলো, ঠিক তখনই বৃদ্ধা মাকে খেলনার মতো ছুড়ে ফেলেছে সন্তানরা।

 

 

উষা রাণী জানান, নদী ভাঙনে বিলীন হয়েছে বাড়িঘর। ‎একটা সময় বড় ছেলের পা ধরে অনুরোধ কাছেন একটু আশ্রয়ের জন্য। তবুও মন গলেনি তার। ঘরের কোনেও ঠাঁই হয়নি উষা রাণীর। ছোট ছেলে তার ছেলের কথায় ঘর থেকে নামিয়ে দিয়েছে। অপর ছেলের বউ আশ্রয় দিতে রাজি হয়নি। একমাত্র মেয়ের বাসায় উঠেছিলেন ঊষা। সেখানেও ঠাঁই হয়নি। মেয়ে জামাই দূর দূর করে তাড়িয়ে দিয়েছে।

 

তিনি বলেন, ‎এক সন্তানের দরজা থেকে আরেক সন্তানের দরজায় ঘুরেও আশ্রয় মেলেনি। তাই শেষ বয়সে নিকট আত্মীয়ের সহযোগিতায় ঠাঁই হয়েছে কাউনিয়ার বেসরকারি বৃদ্ধাশ্রমে। সেখানেই মানবেতর জীবন কাটছে তার। তবে সন্তানদের অবহলো থেকে বৃদ্ধাশ্রমের তিনবেলা খেয়ে বেশ ভালই আছেন এই আশ্রমে। তবে হৃদয়বিদারক বিষয় হলো, এত রাগ, অভিমান আর কষ্টের পরেও ঊষা রাণীর একটু ক্ষোভও নেই সন্তানদের প্রতি। তিনি আজও সন্তানদের জন্য দোয়া চাইছেন সৃষ্টিকর্তার কাছে। তারা যেন ভালো থাকেন সেটাই কামনাই করেন তিনি। তিনি বলেন, আমি মারা যাওয়ার আগে যেন আমার কোনো সন্তানের কিছু না হয়। তারা যেন সুখে এবং শান্তিতেই থাকে। বৃদ্ধাশ্রমের আরেক নিবাসী বৃদ্ধা শেফালী বেগম বলেন, অল্প বয়সে বাবা-মা বিয়ে দিয়েছে। অল্প বয়সেই বিধবা হয়েছি। দিনমজুরের কাজ করে একমাত্র ছেলেকে বড় করেছি। ঈদে শশুর-শাশুড়িকে হাজার টাকায় মার্কেট করে দিয়েছে। আমার কপালে জোটেনি কিছু। জুটেছে শুধু ছেলের হাতে মারধর।

 

 

শুধু ঊষা রাণী এবং শেফালী বেগম নয়, বৃদ্ধাশ্রমের আশ্রিতা প্রতিটি মায়ের বুকেই চেপে আছে আকাশ সমান দুঃখ, কষ্ট আর অবহেলার গল্প। যেই বয়সে নাতি-নাতনিদের সাথে খুনসুটিতে মেতে থাকার কথা সেই বয়সে নিস্তব্ধ আর একাকিত্বে কাটছে তাদের জীবন।

 

 

 

তারা বলেন, বুড়ো হয়ে গেলে বাবা-মা সন্তানদের কাছে বোঝা হয়ে যায়। কীভাবে ঠেলে ফেলে দেবে সেই চিন্তা করে। তবুও সেই সন্তানদের অভিশাপ নয়, বরং তাদের উন্নতি আর সাফল্য কামনা করছেন তারা। মায়ের ভালোবাসা এমনই নিঃস্বার্থ, অটুট এবং চিরন্তন। মা দিবসে নয়, প্রতিদিন হোক মায়ের প্রতি ভালোবাসা ও যত্নের প্রতিশ্রুতি।

 

 

 

বৃদ্ধাশ্রম, বয়স্ক পুনর্বাসন কল্যাণ সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক মো. শাখাওয়াত হোসেন বলেন, একসময় ১৩০ শয্যার বৃদ্ধাশ্রম ছিল। মানুষের সাহায্য-সহযোগিতায় চলতো প্রতিষ্ঠান। তবে জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর সাহায্য সহযোগিতা কমে গেছে। এখন ভাড়া বাসায় ৬০ শয্যার বৃদ্ধাশ্রমে ৬০ জন মা আছেন। তবে অর্থ সংকটে তাও বন্ধের পথে।

 

 

 

তিনি বলেন, মায়েরা একসময় বোঝা হয়ে যায়। তবে প্রতিটি সন্তানের উচিত মায়েদের যত্ন নেওয়া, তাদের ভালোবাসা। মা-বাবা না থাকলে তাদের আর পাওয়া যাবে না।

 

 

 

ঊষা রাণী আর শেফালীদের গল্প আমাদের সামনে তুলে ধরছে এক কঠিন প্রশ্ন! আমরা কি সত্যিই বাবা-মায়ের প্রতি দায়িত্ব পালন করছি? নাকি শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি পোস্ট করে মায়েদের উপহাস করছি?

 

 

পুলিশের জন্য ওভারটাইম ভাতা চালুর পরিকল্পনা সরকারের

দেশে পুলিশিং কার্যক্রম আরও গতিশীল ও কার্যকর করতে পুলিশকে ওভারটাইম ভাতা দেওয়ার কথা ভাবছে সরকার। যেসব পুলিশ সদস্যরা অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা দায়িত্ব পালন করবেন, বিশেষ নীতিমালার ভিত্তিতে তাদের ওভারটাইম ভাতা দেওয়া হতে পারে। কনস্টেবল থেকে পরিদর্শক পর্যন্ত এই ভাতা পেতে পারেন। পাশাপাশি পুলিশের জন্য আরও উন্নত হাসপাতাল নির্মাণের প্রতিশ্রুতিও এসেছে।

 

 

 

রোববার (১০ মে) থেকে শুরু হওয়া পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত ‘প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ কল্যাণ সভায়’ এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। রাজধানীর রাজারবাগে পুলিশ অডিটরিয়ামে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

 

 

 

এর আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স মাঠে পুলিশ সপ্তাহের উদ্বোধন করেন। তিনি পুলিশের বিভিন্ন কন্টিনজেন্ট ও পতাকাবাহী দলের সুশৃঙ্খল, দৃষ্টিনন্দন ও বর্ণিল প্যারেড পরিদর্শন এবং অভিবাদন গ্রহণ করবেন। পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্যে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনামূলক ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী। পরে তিনি ঊর্ধ্বতন পুলিশ সদস্যদের নিয়ে পুলিশ অডিটরিয়ামে কল্যাণ সভায় যোগ দেন।

কল্যাণ সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পুলিশের নানা দাবি-দাওয়ার বিষয়ে কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, পুলিশিং কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করতে অতিরিক্ত কর্মঘণ্টায় দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ সদস্যদের জন্য বিশেষ নীতিমালার ভিত্তিতে ওভারটাইম ভাতা প্রদানের কথা ভাবছে সরকার। এতে পুলিশের মনোবল বৃদ্ধি ও সেবার মান উন্নয়নে সহায়ক হবে।

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা ও অধিক কর্মচাপ বিবেচনায় পুলিশ সদস্যদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কেন্দ্রীয় ও বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতালে আরও সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হবে। পুলিশের হাসপাতালগুলোকে আরো আধুনিক ও যুগোপযোগী করে গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য আরও উন্নত হাসপাতাল নির্মাণ করা হবে।

 

 

 

পুলিশের বিভিন্ন ভবন ও আবাস সমস্যা নিয়েও কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের ভবন, কার্যালয় নির্মাণ ও আবাসন সমস্যা দূর করতে বর্তমান সরকার আন্তরিক। এক্ষেত্রে ভূমি অধিগ্রহণসহ প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান করা সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে।

 

 

 

 

অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে অনেক পুলিশ কনস্টেবলরা ৪০ বছর চাকরি করে অবসর গ্রহণ করেও পরবর্তী পদোন্নতি পান না। সেজন্য বিশেষ নীতিমালা ও সন্তোষজনক চাকরির রেকর্ড বিবেচনায় অবসরকালীন সময়ে কিছু সংখ্যক পুলিশ সদস্যকে অনারারি পদোন্নতি দেওয়া হবে।

 

 

 

 

তিনি বলেন, ‘কনস্টেবল থেকে অনারারি সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) পদে, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) থেকে অনারারি উপপরিদর্শক (এসআই) পদে এবং উপপরিদর্শক (এসআই) থেকে অনারারি পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) পদে এই পদোন্নতি দেয়া হবে।’

 

 

 

 

‘আমার পুলিশ, আমার দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’- প্রতিপাদ্য নিয়ে এবারের পুলিশ সপ্তাহ শুরু হয়েছে। আগামী ১৩ মে নানা কর্ম অধিবেশনের মধ্য দিয়ে এই আয়োজন শেষ হবে। পুলিশ সপ্তাহের বিভিন্ন কর্ম অধিবেশনে বিগত বছরের কার্যক্রম পর্যালোচনা করে পরবর্তী বছরের কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করা হয়।

 

 

রায়গঞ্জে নিমগাছী স্কুলের সামনে কর্দমাক্ত রাস্তা সংস্কারের দাবিতে মানববন্ধন

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার নিমগাছী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে দীর্ঘদিন ধরে বেহাল ও কর্দমাক্ত সড়ক সংস্কার এবং ড্রেন নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
রোববার (১০ মে) দুপুরে বিদ্যালয়ের সামনে আয়োজিত এ মানববন্ধনে শতাধিক শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী অংশ নেন। কর্মসূচিতে বক্তারা দ্রুত রাস্তা সংস্কার ও পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেন নির্মাণে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি জানান।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুল জব্বার, শিক্ষক আব্দুল হাদি তালুকদার ও সাংবাদিক লিটন কুমার গুণ। শিক্ষার্থীদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন সিদ্ধার্থ গুণ, শাহরিয়ার শাফি, বিজয় মাহাতো, উদয়, আব্দুল্লাহ, সামিউল এবং বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী লাবিব।
বক্তারা অভিযোগ করেন, নিমগাছী বাজার থেকে কড়িতলা অভিমুখী সড়কটি দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই কাদাপানিতে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে। বিশেষ করে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও সাধারণ পথচারীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
তারা আরও বলেন, হাট কমিটি ও প্রশাসনের সিদ্ধান্তহীনতার কারণে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না। দ্রুত সড়ক সংস্কার ও ড্রেন নির্মাণ করা না হলে আন্দোলন আরও জোরদার করারও হুঁশিয়ারি দেন বক্তারা।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া এলাকাবাসী জানান, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

 

হামের প্রাদুর্ভাবে শিশুমৃত্যু: পরিবারকে ২ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে রিট

হামে মৃত ৩৫২ শিশুর প্রত্যেক পরিবারকে ২ কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের প্রত্যেক জেলা হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আইসিইউ, পিআইসিইউ এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষাসুবিধাসহ হামের চিকিৎসার জন্য বিশেষায়িত ইউনিট স্থাপনের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

 

 

 

এ ছাড়া রিটে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), ইউনিসেফ এবং আইইডিসিআরের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে ১০ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে সারাদেশে হাম ছাড়াও জলাতঙ্ক টিকার মজুত, সংরক্ষণ ও সরবরাহ ব্যবস্থার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে সাত দিনের মধ্যে আদালতে হলফনামা আকারে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে।

 

 

 

রোববার (১০ মে) মানবাধিকার সংগঠন ল’ অ্যান্ড লাইফ ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের পক্ষে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির পল্লব, ব্যারিস্টার মোহাম্মদ কাউছার ও মো. মাকসুদুর রহমান সরকারের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং আইইডিসিআরের পরিচালককে বিবাদী করে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে জনস্বার্থে এ রিট পিটিশন দায়ের করেন। আজ বিচারপতি রাজিক আল জলিল এবং বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর দ্বৈত বেঞ্চের অনুমতি নিয়ে রিটটি দাখিল করা হয়।

রিটে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশে ২০২৬ সালের মার্চ মাস থেকে শুরু হওয়া ভয়াবহ হাম প্রাদুর্ভাবে এ পর্যন্ত ৩৫২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সারাদেশে হাজার হাজার শিশু আক্রান্ত হচ্ছে এবং পরিস্থিতি ইতোমধ্যে দেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম গুরুতর জনস্বাস্থ্য সংকটে রূপ নিয়েছে। এই মৃত্যুগুলো আকস্মিক বা অনিবার্য ছিল না। বরং টিকা সংগ্রহ ও সরবরাহ ব্যবস্থায় নীতিগত পরিবর্তন, দীর্ঘদিনের কার্যকর ব্যবস্থার ব্যত্যয়, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সতর্কবার্তা উপেক্ষা এবং পর্যাপ্ত স্বাস্থ্য অবকাঠামোর অভাবের ফলেই এই বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে।

রিট পিটিশনে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে ইউনিসেফের মাধ্যমে পরিচালিত টিকা সংগ্রহ ব্যবস্থায় পরিবর্তন এনে বিগত অন্তর্বর্তী সরকার উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতি প্রবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর দেশে হামের টিকার সরবরাহ ও টিকাদান কার্যক্রমে গুরুতর বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। ইউনিসেফ একাধিকবার সম্ভাব্য টিকা সংকট, রোগের প্রাদুর্ভাব এবং শিশু মৃত্যুর ঝুঁকি সম্পর্কে তৎকালীন স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নুরজাহান বেগমকে সতর্ক করলেও তাতে কর্ণপাত করা হয়নি।

রিটে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পর্যাপ্ত আইসিইউ, পিআইসিইউ এবং বিশেষায়িত চিকিৎসাসুবিধার অভাবে বহু শিশু সময়মতো চিকিৎসা পায়নি। অনেক পরিবার এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে ঘুরেও শিশুদের জন্য আইসিইউ বা পিআইসিইউ বেড সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হয়েছে, যার ফলে একাধিক শিশুর মৃত্যু ঘটেছে।

 

 

 

উক্ত রিটে মৃত ৩৫২ শিশুর প্রত্যেকের পরিবারকে ২ কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের প্রতিটি জেলা হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আইসিইউ, পিআইসিইউ এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষাসুবিধাসহ বিশেষায়িত হামের চিকিৎসা ইউনিট স্থাপনের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

 

 

 

এ ছাড়া বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ এবং আইইডিসিআরের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে ১০ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে, যারা হামের প্রাদুর্ভাবের মূল কারণ, প্রশাসনিক ব্যর্থতা এবং দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে ৩০ দিনের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করবে। একইসঙ্গে সারাদেশে হাম ছাড়াও জলাতঙ্ক টিকার মজুত, সংরক্ষণ ও সরবরাহ ব্যবস্থার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে সাত দিনের মধ্যে আদালতে হলফনামা আকারে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশনাও প্রার্থনা করা হয়েছে।

 

 

 

রিটে বলা হয়েছে, সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইন, ২০১৮ অনুযায়ী জরুরি ভিত্তিতে যথাযথ প্রতিরোধমূলক ও চিকিৎসামূলক ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ব্যর্থ হয়েছে। ফলে তদন্তে যাদের দায় প্রমাণিত হবে, তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে।

 

 

 

এ বিষয়ে গত ৫ মে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে একটি আইনি নোটিশ পাঠিয়ে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছিল। কিন্তু নোটিশের মেয়াদ অতিবাহিত হওয়ার পরও কোনো কার্যকর প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় এবং প্রতিদিন হামের পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় জনস্বার্থে এ রিট পিটিশন দায়ের করা হয়েছে।

 

 

 

এ প্রসঙ্গে রিট আবেদনকারী আইনজীবী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির পল্লব বলেন, রাষ্ট্র তার নাগরিকদের, বিশেষত শিশুদের জীবন, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা রক্ষার সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে। এই রিটের উদ্দেশ্য কেবল ক্ষতিপূরণ প্রার্থনা নয়; বরং জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থায় জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা, দায়ী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা এবং ভবিষ্যতে যেন আর কোনো নাগরিককে এ ধরনের প্রতিরোধযোগ্য রোগে মৃত্যুর শিকার হতে না হয় তা নিশ্চিত করা। তিনি প্রত্যাশা করেন, দেশের সর্বোচ্চ আদালত সংবিধান এবং জনস্বার্থের অভিভাবক হিসেবে দেশের সব শিশু ও সংশ্লিষ্ট পরিবারের মৌলিক অধিকার রক্ষার্থে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবেন।

 

বিশ্বকাপের উদ্বোধনী রাতে সুরের জাদু ছড়াবেন বাংলাদেশের সঞ্জয়

ফুটবল বিশ্বকাপের উদ্বোধনী আয়োজনে এবার যুক্ত হলো বাংলাদেশের নামও। আসন্ন বিশ্বকাপের জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পারফর্ম করতে যাচ্ছেন বাংলাদেশি-আমেরিকান ডিজে সঞ্জয়। বিশ্বসংগীতের বড় বড় তারকাদের সঙ্গে একই মঞ্চে তার উপস্থিতির খবর প্রকাশের পর উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়েছে ভক্তদের মধ্যে।

 

 

আগামী ১১ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে এবার ব্যতিক্রমী আয়োজন করেছে ফিফা। স্বাগতিক তিন দেশ—যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে আলাদাভাবে তিনটি উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে। যেখানে সংগীত, সংস্কৃতি ও বিনোদনের এক বৈশ্বিক মঞ্চ তৈরি করতে যাচ্ছে ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

 

 

 

প্রথম উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে ১১ জুন মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক এস্তাদিও অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে। উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হবে মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকা। ম্যাচ শুরুর আগে মঞ্চ মাতাবেন কলম্বিয়ান রেগেটন তারকা জে বালভিন ও দক্ষিণ আফ্রিকার জনপ্রিয় গায়িকা টাইলা।

 

 

এরপর ১২ জুন কানাডার টরন্টোতে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে মাঠে নামবে স্বাগতিক কানাডা। সেই ম্যাচের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেই পারফর্ম করবেন কানাডিয়ান সংগীতশিল্পী মাইকেল বুবলে, অ্যালানিস মরিসেট এবং বাংলাদেশি-আমেরিকান ডিজে সঞ্জয়। একই আয়োজনে থাকবেন বলিউড সেনসেশন নোরা ফাতেহিও।

একই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফাই স্টেডিয়ামে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে মাঠে নামবে যুক্তরাষ্ট্র। সেই ম্যাচের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পারফর্ম করবেন বিশ্বখ্যাত পপ তারকা কেটি পেরি, দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় কে-পপ ব্যান্ড ব্ল্যাকপিঙ্কের সদস্য লিসা।

ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর মতে, বিশ্বকাপ শুধু ফুটবলের আসর নয়, এটি বিশ্ববাসীর সম্মিলিত উদযাপন। মেক্সিকো সিটি, টরন্টো ও লস অ্যাঞ্জেলেসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানগুলো সংগীত ও সংস্কৃতির এক অনন্য বৈশ্বিক মিলনমেলায় পরিণত হবে।

 

 

 

এদিকে বিশ্বকাপ ঘিরে সংগীত উন্মাদনাও শুরু হয়ে গেছে। চলতি সপ্তাহেই কলম্বিয়ান পপ তারকা শাকিরা বিশ্বকাপের অফিসিয়াল থিম সং-এর একটি ঝলক প্রকাশ করেছেন। নাইজেরিয়ান শিল্পী বার্না বয়ের সঙ্গে গাওয়া গানটি এবারের আসরের মূল সুর হিসেবে ব্যবহৃত হবে বলে জানিয়েছে ফিফা।

 

 

 

মোট ১০৪ ম্যাচের এই বিশ্বকাপকে ঘিরে ইতোমধ্যেই বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে উত্তেজনা। আর সেই মহাযজ্ঞের উদ্বোধনী মঞ্চে বাংলাদেশের একজন শিল্পীর উপস্থিতি দেশীয় সংগীতপ্রেমীদের জন্য বাড়তি গর্বের উপলক্ষ হয়ে উঠেছে।

 

 

 

মুক্তির পথে আইভী, আপিলেও মিলল জামিন

হত‍্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগের ১০ মামলায় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর জামিন বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। এর ফলে তার মুক্তিতে বাধা রইল না বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।

 

 

 

রোববার (১০ মে) হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে করা রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন খারিজ করে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন।

 

 

 

আদালতে আইভী রহমানের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট মো. মোতাহার হোসেন সাজু।

এর আগে গত বছরের ৯ মে ভোর ৩টার দিকে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ এলাকার চুনকা কুটির থেকে সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর বিভিন্ন মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরে হাইকোর্ট ৫ মামলায় তাকে জামিন দেন।

তবে আপিল বিভাগে তার স্থগিত হয়ে যায়। এরই মধ্যে গত ১৮ নভেম্বর তাকে আরও ৫ মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরে বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ গত ২৬ ফেব্রুয়ারি তাকে জামিন দেন।

 

ঈদের আগে হিলিতে মশলার দাম কমায় স্বস্তিতে ক্রেতারা

পবিত্র ঈদুল আজহা ও কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর সংলগ্ন মসলার বাজারে জমে উঠেছে বেচাকেনা। ভারত থেকে পর্যাপ্ত আমদানির ফলে গত বছরের তুলনায় এবার প্রায় সব ধরনের মসলার দাম নিম্নমুখী। এতে স্বস্তি প্রকাশ করছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা সাধারণ ক্রেতারা।
আজ রবিবার (১০ মে) সকালে হিলি বাজার ঘুরে দেখা যায়, মসলার দোকানগুলোতে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। বিশেষ করে এলাচ, জিরা, গোলমরিচ ও লবঙ্গের মতো অতিপ্রয়োজনীয় মসলার চাহিদা বেড়েছে বহুগুণ দামেও কম ।
গত বছরের তুলনায় চলতি মৌসুমে মসলার বাজারে দামের বড় ধরনের পার্থক্য লক্ষ্য করা গেছে। বর্তমানে প্রায় সব ধরনের মসলার দামই গত বছরের তুলনায় অনেকটাই কম। ​সাদা এলাচ, গত বছর ৫৫০০ – ৫৮০০ টাকা, যা বর্তমানে কমে দাঁড়িয়েছে ৪২০০ – ৪৫০০ টাকায়। কালো এলাচ, গত বছর ৩০০০ টাকা বর্তমানে তা ২৪০০ – ২৫০০ টাকা। জিরা, গত বছর প্রতি কেজি ৬৩০ টাকা, বর্তমানে তা ৫৭০ টাকা। লবঙ্গ, গত বছর ১৮০০ টাকা, বর্তমানে তা কমে হয়েছে ১৪০০ টাকা। গোলমরিচ, গত বছরের উচ্চমূল্য ১২০০ টাকার তুলনায় বর্তমানে এর দামও নিম্নমুখী।
হিলি বন্দরে মসলা কিনতে আসা পাঁচবিবির বাসিন্দা সাজু মিয়া জানান, যেহেতু হিলি দিয়ে সরাসরি ভারত থেকে মসলা আমদানি হয়, তাই এখানে সব সময় সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য পাওয়া যায়। প্রতি বছরের মতো এবারও হিলি বাজার থেকে ঈদের জন্য গোশতের মসলা কেনাকাটা করেছি৷
স্থানীয় ক্রেতা সোহেল রানা বলেন, গতবারের তুলনায় দাম অনেক কম। বিশেষ করে সাদা এলাচ কেজিতে ১০০০ থেকে ১৩০০ টাকার বেশি কমে পাওয়ায় আমাদের মতো সাধারণ মানুষের জন্য অনেক সুবিধা হয়েছে।
হিলি বাজারের বিসমিল্লাহ মসলা ঘর এর মহাজন  আওলাদ হোসেন জানান, ভারত থেকে নিয়মিত ও পর্যাপ্ত পরিমাণে মসলা আমদানি হওয়ার কারণে এবার বাজার বেশ স্থিতিশীল। তিনি বলেন ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকারি ও খুচরা ক্রেতারা তত বেশি আসছেন। বর্তমানে বেচাকেনা বেশ ভালো। আমরা আশা করছি, ঈদের আগে বিক্রি আরও কয়েকগুণ বাড়বে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আমদানির এই ধারা অব্যাহত থাকলে এবং বাজার মনিটরিং ঠিক থাকলে ঈদের আগ পর্যন্ত মসলার দাম সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যেই থাকবে।

 

নিকলীতে মাদকবিরোধী অভিযানে আটক স্বামী-স্ত্রী

কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে ইয়াবাসহ এক দম্পতিকে গ্রেফতার করেছে নিকলী থানা পুলিশ। রোববার ভোররাতে উপজেলার ভাটি বরাটিয়া গ্রামে পরিচালিত এ অভিযানে তাদের নিজ বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ও নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

 

 

পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে নিকলী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গোপনে মাদক ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ উঠছিল একটি চক্রের বিরুদ্ধে। সম্প্রতি স্থানীয়দের একাধিক অভিযোগ ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই চক্রের সদস্যদের শনাক্তে নজরদারি শুরু করে নিকলী থানা পুলিশ। এরই ধারাবাহিকতায় রোববার ভোরে উপজেলার ভাটি বরাটিয়া গ্রামে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

 

 

গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন— উপজেলার ভাটি বরাটিয়া গ্রামের বাসিন্দা আলী হোসেনের ছেলে নাদিম (২৯) এবং তার স্ত্রী রানু (২৬)। পুলিশ দাবি করেছে, তারা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় গোপনে ইয়াবা বিক্রি ও সরবরাহের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

 

 

অভিযান পরিচালনা করেন নিকলী থানার এসআই রোমান খান। তার সঙ্গে ছিলেন এসআই আব্দুস ছোবহান, এসআই শারিফুজ্জামান, পিএসআই সাগর বিশ্বাস, এএসআই আমজাদ হোসেন, এএসআই জাকির হোসেনসহ পুলিশের একটি চৌকস দল। পুরো অভিযানটি পরিচালিত হয় নিকলী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহাবুবুর রহমানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে।

 

 

পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, ভোররাতে অভিযানের সময় সন্দেহভাজনদের বাড়ি ঘিরে ফেলে পুলিশ। পরে তল্লাশি চালিয়ে ঘরের ভেতর থেকে ৬২ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও নগদ ১৩ হাজার ৪৪০ টাকা উদ্ধার করা হয়। এ সময় নাদিম ও তার স্ত্রী রানুকে আটক করা হলেও আনোয়ার হোসেন নামে আরেক ব্যক্তি কৌশলে পালিয়ে যান। তাকে আটকের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

 

 

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, উদ্ধার হওয়া নগদ অর্থ মাদক বিক্রির টাকা হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

 

 

এ ঘটনায় গ্রেফতার দুইজনসহ মোট তিনজনকে আসামি করে নিকলী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার পর আটককৃতদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে থানা পুলিশ।

 

 

 

নিকলী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহাবুবুর রহমান বলেন, “জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় নিকলীতে মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ করছে পুলিশ। মাদক কারবারিদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে।”

 

 

স্থানীয় সচেতন মহল পুলিশের এ ধরনের অভিযানের প্রশংসা করে বলেন, মাদক বর্তমানে সমাজের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে যুবসমাজ ধ্বংসের মুখে পড়ছে। তাই মাদক নির্মূলে প্রশাসনের পাশাপাশি সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে।

 

বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর ৭৬তম জন্মদিন আজ

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী এবং বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর আজ ৭৬ তম জন্মদিন।

 

 

 

 

১৯৫০ সালের ১০ মে তিনি সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার শিয়ালকোল ইউনিয়নের কয়েলগাঁতী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মরহুম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ ছিলেন পাকিস্তান সরকারের কেন্দ্রীয় শিল্প ও প্রাকৃতিক সম্পদ মন্ত্রী।

 

 

 

 

ইকবাল হাসান মাহমুদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করে ১৯৭৫ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ছাত্র অবস্থাতেই তিনি ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতিতে যুক্ত হন। তিনি ১৯৬৯ সালে ১১ দফা আন্দোলনেও অংশগ্রহণ করেন। পরবর্তী ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণ করেন।

 

 

 

 

রাজনৈতিক জীবনে ইকবাল হাসান মাহমুদ জাতীয় পার্টি ও পরবর্তীতে বিএনপির সঙ্গে যুক্ত হন। জাতীয় পার্টির প্রার্থী হয়ে ১৯৮৬ ও ১৯৮৮ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এর আগে সিরাজগঞ্জ জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

 

 

 

 

২০০০ সালে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপিতে যোগ দেন। ২০০১ সালের নির্বাচনে চারদলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে সিরাজগঞ্জ-২ আসনের নির্বাচন করেন। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট প্রার্থী সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমকে পরাজিত করে বিজয়ী হন। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারে বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও শেষ দিকে এসে কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

 

 

 

 

দীর্ঘ ১৭ বছর পর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি সিরাজগঞ্জ-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তার দল বিএনপি সরকার গঠন করে। তারেক রহমানের মন্ত্রীসভায় তিনি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন।

 

 

 

 

বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ও বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৯ সালের সর্বশেষ কাউন্সিলে তিনি বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মনোনীত হয়ে অদ্যাবধি দায়িত্ব পালন করছেন।

 

 

 

 

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বিভিন্ন রাজনৈতিক মামলার আসামি হিসেবে একাধিকবার তিনি কারাবরণ করেছেন।

 

 

 

 

ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর ৭৬ তম জন্মদিনে তাঁর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে বিবৃতি দিয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু।

 

 

 

 

তিনি বলেছেন, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর জন্মগ্রহণের মধ্য দিয়ে সিরাজগঞ্জ আলোকিত হয়েছে। সম্ভ্রান্ত রাজনৈতিক পরিবারের তাঁর জন্ম হয়েছে। তিনি সিরাজগঞ্জবাসীর অভিভাবক। তাঁর নেতৃত্বে সিরাজগঞ্জে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষা হচ্ছে।
প্রিয় নেতা ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্য কামনা করি। মহান রাব্বুল আলামিন তাঁকে দীর্ঘজীবি করবেন এটাই আমাদের কাম্য।

 

 

 

 

এদিকে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর জন্মদিন উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপি ও এর অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

 

 

আইনজীবী আলিফ হত্যা মামলা: চিন্ময় দাশকে জামিন দেননি হাইকোর্ট

চট্টগ্রামে আইনজীবী আলিফ হত্যা মামলায় ইসকন নেতা চিন্ময় দাশকে জামিন দেননি হাইকোর্ট।

 

 

 

রোববার (১০ মে) জামিনের রুল খারিজ করে বিচারপতি কে এম জাহিদ সারোয়ার ও বিচারপতি আবু তাহেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।

 

 

 

এছাড়া পুলিশের ওপর হামলা, কাজে বাধার, আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের ওপর হামলা ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় করা আরও ৪টি মামলায় জামিনের বিষয়ে জারি করা রুলের রায় কাল দিবেন বলেও জানায় হাইকোর্ট।

এর আগে গত ৭ মে ৫ মামলায় চিন্ময় কৃষ দাশকে কেনো জামিন দেওয়া হবে না জানতে চেয়ে রুল জারি করেছিলেন হাইকোর্ট।

আলিফ হত্যা মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ চলমান থাকায় এই মুহূর্তে চিন্ময় দাসকে জামিন দেওয়া যাবে না বলেও যুক্তি তুলে ধরে রাষ্ট্রপক্ষ। তবে তার আইনজীবীরা বলেন, তাকে জামিন দিলে মামলায় কোনো ব্যাঘাত সৃষ্টি হবে না।

 

 

বিনামূল্যে বিদ্যুৎ ও মাদকমুক্ত তামিলনাড়ুর প্রতিশ্রুতি বিজয়ের

শপথ নেওয়ার পর প্রথম দিনেই একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশে স্বাক্ষর করেছেন বিজয় থালাপতি। এর মধ্যে রয়েছে বিনামূল্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ, মাদকবিরোধী কঠোর পদক্ষেপ এবং নারীদের নিরাপত্তা জোরদারের উদ্যোগ।

 

 

 

রোববার (১০ মে) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

 

 

 

শপথ নেওয়ার পর ভাষণে বিজয় তামিল ভাষার একটি পরিচিত বাক্য দিয়ে বক্তব্য শুরু করেন। ‘এন নেনজিল কুদিয়িরুকুম’, যার অর্থ ‘যিনি আমার হৃদয়ে বাস করেন’। অতীতেও তিনি তার ভক্তদের উদ্দেশে এ বাক্য ব্যবহার করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রথম নির্দেশনায় টিভিকে প্রধান বিজয় ঘোষণা করেন, ২০০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিনামূল্যে দেওয়া হবে। পাশাপাশি মাদক সমস্যা মোকাবিলায় একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করা হবে এবং নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি বিশেষ বাহিনী ও হেল্পলাইন চালু করা হবে।

তিনি জানান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পানীয় জলের মতো মৌলিক বিষয়ে বিশেষভাবে নজর দেওয়া হবে। কৃষক ও মৎস্যজীবীদের কল্যাণেও কাজ করা হবে। সবকিছু ভালো হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

বিজয় বলেন, একজন সহকারী পরিচালকের ছেলে আজ মুখ্যমন্ত্রী হয়েছে। আমি দারিদ্র্য ও ক্ষুধা দেখেছি। আমি কোনো রাজপরিবার থেকে আসিনি। অনেক কষ্ট সহ্য করেছি, অনেকেই আমাকে অপমান করেছে। আমি আপনাদের ছেলে, আপনাদের ভাইয়ের মতো। আপনারা আমাকে হৃদয়ে জায়গা দিয়েছেন, গ্রহণ করেছেন।

 

 

মিথ্যা প্রতিশ্রুতি না দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, ডিএমকে রাজ্যের কোষাগার শূন্য করে দিয়েছে। আর আমরা এমন এক পরিস্থিতিতে দায়িত্ব নিয়েছি, যেখানে প্রায় ১০ লাখ কোটি রুপি ঋণ রয়েছে। আমরা জনগণের অর্থ থেকে এক পয়সাও নেব না এবং কাউকে রাজ্য লুট করতে দেব না।

 

 

 

 

তিনি ‘নতুন যুগের বাস্তব, ধর্মনিরপেক্ষ ও সামাজিক ন্যায়ের’ প্রতিশ্রুতি দিয়ে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও প্রবীন চক্রবর্তী, বাম নেতা মা বেবি এবং অন্যান্য জোটসঙ্গীদের ধন্যবাদ জানান।

 

 

রায়গঞ্জে গরু চুরি রোধে ‘বাঁশ ব্যারিয়ার: ব্যতিক্রমী উদ্যোগে খামারিদের স্বস্তি

পবিত্র ঈদুল আজাহকে সামনে রেখে সিরাজগঞ্জের  রায়গঞ্জে গরু চুরি রোধে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। চোরদের যাতায়াত ও পিকআপ ভ্যান ঠেকিয়ে দিতে বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা ও গ্রামের সংযোগ সড়কগুলোতে বাঁশ বেঁধে ব্যারিয়ার তৈরি করা হয়েছে। আর এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন রায়গঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আহসানুজ্জামান নিজে।
উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, সন্ধ্যার পর থেকে গ্রামের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার মোড়ে মোড়ে বাঁশ দিয়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়েছে। কোনো কোনো স্থানে স্থানীয় তরুণ ও কৃষকরা দলে বিভক্ত হয়ে রাত জেগে লাঠি ও টর্চ হাতে পাহারা দিচ্ছেন। বিশেষ করে ধানগড়া, চান্দাইকোনা,ব্রহ্মগাছা,ধামাই নগর ও সংলগ্ন ইউনিয়নগুলোর গ্রামগুলোতে এ তৎপরতা বেশি দেখা যাচ্ছে।
বাঐখোলা গ্রামের খামারী আব্দুর রাকিব খান বলেন, অনেক কষ্ট করে তিলে তিলে একেকটি গরু বড় করা হয়। কিন্তু সম্প্রতি সংঘবদ্ধ চোর চক্র ট্রাক বা পিকআপ নিয়ে গ্রামে ঢুকে মুহূর্তের মধ্যে গোয়াল ঘর ফাঁকা করে দেয়।  শালিয়া গাড়ি গ্রামের আব্দুর রশিদ বলেন, ওসির নির্দেশে  গরু চুরি রোধে শালিয়া গাড়ি বাজারেও একটি বাঁশ কল স্থাপন করা হয়েছে। পুলিশি টহলের পাশাপাশি গ্রামবাসী নিজেদের উদ্যোগে বাঁশ দিয়ে রাস্তা আটকে পাহারার ব্যবস্থা করেছেন যাতে অপরিচিত কোনো গাড়ি গ্রামে ঢুকতে গেলেই বাধার মুখে পড়ে। সদর উপজেলার বাগবাটি গ্রামের আব্দুল কুদ্দুস বলেন , চুরি রোধে ব্রহ্মগাছা বাজারের প্রবেশপথে একটি বাঁশ কল বসানো হয়েছে। এরপর থেকে এই এলাকায় কোন গরু চুরি হয়নি।
চান্দাইকোনা ইউনিয়ন বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু সামা সরকার বলেন, আমার গ্রাম রুদ্রপুরে প্রবেশপথে শক্ত বাঁশ দিয়ে গেটের মতো তৈরি করা হয়েছে। রাত ১০টার পর থেকে ভোররাত পর্যন্ত খামারিরা পালাক্রমে পাহারা দিচ্ছেন। চোর বা সন্দেহভাজন কাউকে দেখা মাত্রই এলাকাবাসীকে সজাগ করতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অবশ্য এই কাজে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের পুলিশ বিট অফিসার ও গ্রাম পুলিশ সদস্য সহযোগিতা করছেন।
চান্দাইকোনা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ হাবিবুর রহমান খান বলেন,জনবলের সীমাবদ্ধতার কারণে পুলিশের একার পক্ষে প্রতিটি গ্রামের অলিগলি পাহারা দেওয়া সম্ভব নয়। খামারিদের এই ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা চুরি রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। তবে আইন নিজের হাতে না তুলে সন্দেহভাজন কাউকে আটক করলে দ্রুত পুলিশকে হস্তান্তরের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পুলিশের এ ধরনের উদ্যোগকে তিনি অভিনন্দন জানিয়েছেন।
রায়গঞ্জ উপজেলা সদর ধানগড়া মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক শিশির কুমার বলেন,এই ‘বাঁশ ব্যারিয়ার ‘ ব্যবস্থা এবং রাত্রিকালীন পাহারার ফলে চুরির প্রকোপ কমবে বলে তারা আশা করছেন। তবে এর পাশাপাশি পুলিশি টহল আরও জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।
এ ব্যাপারে রায়গঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহসানুজ্জামান বলেন, উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথে গত দুই মাস পূর্বে বাঁশকল বসানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের পুলিশের বিট অফিসার গ্রাম পুলিশ এবং গ্রামের খামারীরা এই কাজে সহযোগিতা করছেন। তিনি আশা করেন এর ফলে উপজেলায় আর কোন  গরু চুরি হবে না। সাধারণ মানুষ এবং খামারিরা নিরাপদে তারা গরু লালন পালন করতে পারবেন।

কোটি টাকার হেরোইনসহ নারী মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় কোটি টাকার মূল্যের এক কেজি হেরোইনসহ এক নারী মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-১২ সদস্যরা।

 

 

 

শনিবার (৯ মে) সন্ধ্যায় হাটিকুমরুল-বনপাড়া মহাসড়কের উপজেলার সলঙ্গা থানাধীন হরিণচড়া বাজার এ অভিযান চালানো হয়।

 

 

 

রোববার (১০ মে) সকালে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন র‌্যাব-১২ সিরাজগঞ্জ সদর কোম্পানির কমান্ডার ক্যাপ্টেন তাবরীজ তাজওয়ার শরীফ। ৫২ বছর বয়সী গ্রেপ্তারকৃত নারীর নাম পরিচয় তদন্তের স্বার্থে গোপন রাখা হয়েছে বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তিনি উল্লেখ করেন।

 

 

 

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে র‌্যাব কমান্ডার বলেন, গোপন সংবাদ ও তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় শনিবার হরিণচড়া এলাকায় এক মাদক বিরোধী অভিযান চালানো হয়। এ সময় ওই নারীকে আটক করে তার শরীর তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার হয় এক কেজি হেরোইন।

 

 

 

রায়গঞ্জে ব্র্যাক সিড অ্যান্ড অ্যাগ্রো এন্টারপ্রাইজের উদ্যোগে ধানের অধিক ফলন নিশ্চিতে প্রশিক্ষণ কর্মশালা

ব্র্যাক সিড অ্যান্ড অ্যাগ্রো এন্টারপ্রাইজের উদ্যোগে হাইব্রিড ধান চাষের আধুনিক কলাকৌশল ও অধিক ফলন নিশ্চিতকরণ শীর্ষক এক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

 

 

শনিবার দিনব্যাপী উপজেলার সলঙ্গা বাজারে এ কর্মশালায় স্থানীয় কৃষকদের হাইব্রিড ধান চাষের আধুনিক প্রযুক্তি ও রোগবালাই দমনে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।

 

 

 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রায়গঞ্জের উপজেলার কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো: মমিনুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাক সিডের বগুড়া রিজিওনাল সেলস্ ম্যানেজার মানিক রাহা। সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া টেরিটোরি সেলস অফিসার আল আমিন – এর সঞ্চালনা ও সার্বিক তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠানটি আয়োজিত হয়। উল্লাপাড়া টেরিটোরির সিরাজগঞ্জ জেলার রায়গঞ্জ উপজেলার সলঙ্গা বাজারের এর ডিলার মো: মোজাম্মেল হক । আরোও উপস্থিত ছিলেন উল্লাপাড়া ১ এর টেরিটোরির সেলস অফিসার কৃষিবিদ মধুসূদন কুমার মন্ডল।

 

 

 

 

কর্মশালায় বক্তারা গুণগত মানসম্পন্ন হাইব্রিড ধানের উৎপাদন ও ফলন বৃদ্ধিতে ব্র্যাকের বীজর গুরুত্ব তুলে ধরেন। চাষাবাদের আধুনিক পদ্ধতি হিসেবে মাটি নির্বাচন, মাটির পিএইচ পরীক্ষা ও নিয়ন্ত্রণ, জমি শোধন এবং সঠিক দূরত্বে বীজ রোপণের ওপর বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এছাড়া মাটির গুণাগুণ অনুযায়ী সারের সঠিক ব্যবহার এবং সেচ প্রয়োগের সময়সূচী মেনে চলার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

 

 

 

 

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় অধিবেশনে হাইব্রিড ধানের মড়ক বা ‘ধানের শিষ ব্লাষ্ট রোগসহ কাণ্ডপচা রোগের আধুনিক প্রতিকার নিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। বিশেষ করে ভাইরাসজনিত রোগ নিয়ন্ত্রণে জাব পোকা (এফিড) দমনের রাসায়নিক ও ম্যানুয়াল পদ্ধতিগুলো কৃষকদের হাতে-কলমে শিখিয়ে দেওয়া হয়।

 

 

 

 

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো: মমিনুল ইসলাম বলেন ফসল সংগ্রহের আগের ও পরের ব্যবস্থাপনাও অত্যন্ত জরুরি।

 

 

 

 

আয়োজক প্রতিষ্ঠান ব্র্যাক সিড জানায়, দেশব্যাপী কৃষক পর্যায়ে এ ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষকরা আধুনিক কৃষি ব্যবস্থাপনায় আরও দক্ষ হয়ে উঠবে। এর ফলে হাইব্রিড ধান চাষে ঝুঁকি কমবে এবং হাইব্রিড জাতের কাঙ্ক্ষিত ফলন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

 

 

 

 

আয়োজিত প্রোগ্রাম শেষে ব্র্যাক সিডের হাইব্রিড ধান রাজা কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হয়।

 

 

রায়গঞ্জে ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজ, লাল নিশানায় চলছে সতর্কতা

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার ধানগড়া-বাগবাটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের হবনগাতি এলাকায় একটি ব্রিজের দুই পাশে লাল কাপড় টাঙিয়ে সতর্কবার্তা দিলেও ক্ষতিগ্রস্ত অংশ সংস্কারে এখনো দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এতে প্রতিদিন চরম ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে শত শত যানবাহন ও সাধারণ মানুষ।
রোববার (১০ মে) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, কয়েক মাস আগে ব্রিজের দুই পাশের সড়কের একাংশ ভেঙে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথমে এলাকাবাসী নিজেদের উদ্যোগে সেখানে লাল কাপড় বেঁধে সতর্কতা তৈরি করেন। পরে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও একই ধরনের সতর্ক সংকেত টাঙানো হয়। তবে রাতে বা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এসব লাল নিশানা সহজে চোখে পড়ে না, ফলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা আরও বেড়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় রিকশাচালক আবুল কালাম বলেন, “রাতে এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে ভয় লাগে। শুধু লাল কাপড় বেঁধে রেখে গেছে, কিন্তু মেরামতের জন্য এখনো কাউকে দেখা যায়নি।”
স্থানীয়দের দাবি, ধানগড়া-বাগবাটি সড়কটি এলাকায় যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ। প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে পণ্যবাহী ট্রাক, যাত্রীবাহী যানবাহন এবং স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা চলাচল করে। ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত সংস্কার না করা হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
এ বিষয়ে রায়গঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী রবিউল আলম বলেন, “বিষয়টি আমাদের নজরে রয়েছে। প্রাথমিক সতর্কতা হিসেবে লাল নিশানা টাঙানো হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

কামারখন্দে সড়ক দুর্ঘটনায় বুদ্ধি প্রতিবন্ধী যুবকের মৃত্যু

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলায় যমুনা সেতু পশ্চিম সংযোগ মহাসড়কে অজ্ঞাত গাড়ির চাপায় আসিফ (২০) নামে এক বুদ্ধি প্রতিবন্ধী যুবকের মৃত্যু হয়েছে। রোববার (১০ মে) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার মফিজ মোড় এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত আসিফ উপজেলার কোনাবাড়ী গ্রামের লিয়াকত আলীর ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, আসিফ বুদ্ধি প্রতিবন্ধী হওয়ায় প্রায়ই মহাসড়কের আশপাশে ঘোরাফেরা করতেন। অনেক সময় তাকে সড়কের ডিভাইডারের ওপর দাঁড়িয়ে থাকতেও দেখা যেত। রোববার সকালে রাস্তা পারাপারের সময় দ্রুতগতির একটি অজ্ঞাত গাড়ি তাকে চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন ও স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যান।
এ বিষয়ে যমুনা সেতু পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম জানান, ঘটনার প্রায় এক ঘণ্টা পর পুলিশ বিষয়টি জানতে পারে। অজ্ঞাত একটি গাড়ি তাকে চাপা দিয়ে পালিয়ে গেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। পরিবারের সদস্যরা মরদেহ বাড়িতে নিয়ে যাওয়ায় এবং নিহত ব্যক্তি বুদ্ধি প্রতিবন্ধী হওয়ায় মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়নি।

শপথ নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হলেন বিজয়

তামিলনাড়ুর নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন চন্দ্রশেখর জোসেফ বিজয় বা বিজয় থালাপতি। রোববার (১০ মে) সকালে চেন্নাইয়ের জওহরলাল নেহরু ইনডোর স্টেডিয়ামে তার শপথ অনুষ্ঠান হয়।

 

 

 

অভিনেতা থেকে রাজনীতিতে আসা ৫১ বছরের বিজয়ের দল তামিলাগা ভেট্রি কাজাগাম সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে ২৩৪টির মধ্যে ১০৮টি আসনে জয় লাভ করে। তবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত না হওয়ায় আটকে যায় তার শপথগ্রহণ। টানা পাঁচ দিন প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিতে আলোচনা ও গভর্নরের সঙ্গে চার দফা বৈঠক করতে হয় তাকে।

 

 

 

শেষ পর্যন্ত কংগ্রেসের পাঁচজন, বিদুথালাই চিরুথাইগাল কাচ্চির দুজন, ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি ও ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির (মার্কসবাদী) দুজন এবং ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লীগের দুই বিধায়কের সমর্থন নিয়ে বিজয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেন।

দুটি আসন থেকে নির্বাচিত হওয়ায় একটি আসন ছাড়তে হবে বিজয়কে। এরপরও তার জোটের মোট সদস্য সংখ্যা দাঁড়াবে ১২০ জনে।

এই সরকার গঠনের মাধ্যমে প্রায় ৬০ বছর পর তামিলনাড়ুতে ডিএমকে ও এআইএডিএমকের বাইরে অন্য কোনো দলের সরকার প্রতিষ্ঠিত হলো।

 

 

সিরাজগঞ্জে নির্মিত হচ্ছে আধুনিক ‘আল-আকসা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ’ কমপ্লেক্স

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার ৩ নম্বর বহুলী ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী ডুমুর ইছা গ্রামে নির্মিত হতে যাচ্ছে আধুনিক “আল-আকসা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ” কমপ্লেক্স। একইসঙ্গে একটি আধুনিক মাদ্রাসা, মাদ্রাসা ময়দান, ঈদগাহ মাঠ, খেলার মাঠ, প্রতিবন্ধী স্কুল ও স্পোর্টিং ক্লাব প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এসব উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা।

ডুমুর ইছা গ্রামের সাংবাদিক মো. ইয়াকুব আলী তালুকদারের উদ্যোগ ও আহ্বানে এবং প্রবাসী মো. আইয়ুব আলী তালুকদার ও মো. লিখন আলী তালুকদারের যৌথ সমন্বয়ে এই বৃহৎ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। এলাকার ধর্মীয়, সামাজিক ও শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নকে সামনে রেখে প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

উদ্যোক্তা মো. ইয়াকুব আলী তালুকদার বলেন, আধুনিক মসজিদ কমপ্লেক্স ও মাদ্রাসা ভবন নির্মিত হলে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা সুন্দর ও মনোরম পরিবেশে মহান আল্লাহর ইবাদত-বন্দেগি করতে পারবেন। পাশাপাশি গরিব, অসহায় ও তলবে এলেম শিক্ষার্থীরা ইসলামী শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করার সুযোগ পাবে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এই প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষার্থীরা ইসলামী জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে দেশ-বিদেশে সুনাম বয়ে আনতে সক্ষম হবে, ইনশা আল্লাহ।

তিনি আরও জানান, মসজিদ ও মাদ্রাসার পাশাপাশি একটি ঈদগাহ মাঠ, যুব সমাজের জন্য স্পোর্টিং ক্লাব এবং খেলার মাঠ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে যুবসমাজকে মাদক ও নানা সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রেখে সুস্থ ও সুন্দর সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে সামাজিক বিভিন্ন বিরোধ ও সমস্যা সমাধানের জন্য একটি ইতিবাচক পরিবেশও তৈরি করা হবে।

এই মহৎ উদ্যোগে এলাকার প্রবীণ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও একাত্মতা প্রকাশ করেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন মো. আব্দুস সাত্তার তালুকদার, মো. মঞ্জুর হাসান ঝন্টু, মো. আব্দুল মান্নান তালুকদার, মো. ঈমান আলী তালুকদার, মো. ইউনুস আলী তালুকদার, মো. আনোয়ার হোসেন সেখ, মো. আদম আলী তালুকদার, মো. হাসান সেখ, মো. রওশন আলী তালুকদার, মো. আব্দুল মোমিন সেখ, মো. সুমন তালুকদার, মো. ফরজ আলী তালুকদার, মো. হারুনর রশীদ হিরোন, মো. আশরাফুল ইসলাম ও মো. আলহাজ্ব আলী তালুকদারসহ আরও অনেকে।

তারা বলেন, এই প্রতিষ্ঠানের সার্বিক উন্নয়ন ও সফল বাস্তবায়নে তারা সবসময় সহযোগিতা করে যাবেন।

সবশেষে মো. ইয়াকুব আলী তালুকদার এলাকাবাসী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “এটি শুধু একটি স্থাপনা নির্মাণের উদ্যোগ নয়, বরং একটি আদর্শ সমাজ গঠনের স্বপ্ন। তাই গ্রামের ছোট-বড় সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে এসে সহযোগিতা করতে হবে। মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই এই মহৎ উদ্যোগ সফল করা সম্ভব।”

জননিরাপত্তা নিশ্চিত করাই পুলিশের মূল দায়িত্ব: প্রধানমন্ত্রী

জনগণের শান্তি এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পুলিশের দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (১০ মে) সকালে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স মাঠে বার্ষিক প্যারেড অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে তিনি এই কথা বলেন।

 

 

 

এর আগে ‘আমার পুলিশ, আমার দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে চারদিনব্যাপী পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬ এর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

 

 

 

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের বক্তব্যে তিনি বলেন, পুলিশ কর্মকর্তা এবং সদস্যবৃন্দ আনন্দঘন এই আয়োজন আপনারা সকলেই উপভোগ করেছেন। আমার কাছে এটি শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা মনে হয়নি। বরং এটি ছিল পুলিশ সদস্যদের শৃঙ্খলা, আত্মমর্যাদা দায়িত্ববোধ এবং সুন্দর ভবিষ্যতের দিকে দৃপ্ত পায়ে এগিয়ে চলার অবিচল অঙ্গীকারের বহিঃপ্রকাশের মাধ্যম।

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের ছাত্রজনতার এক রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানের পরে দেশের স্বাধীনতা প্রিয় মানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হচ্ছে জনগণের রায়ে গঠিত বর্তমান সরকার।

তিনি আরও বলেন, বছরের পর বছর ধরে অসংখ্য হামলা মামলার শিকার নিপীড়িত নির্যাতিত অধিকারহারা মানুষ বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের সময় শান্তি এবং নিরাপত্তা চায়।

পুলিশদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের জনগণের শান্তি এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আপনাদের কার্যক্রম। অর্থাৎ পুলিশের ভূমিকার ওপর সবচেয়ে বেশি নির্ভরশীল। আপনারা জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাধ্য এবং সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করবেন। এটিই আপনাদের কাছে বর্তমান সরকারের প্রত্যাশা।

 

 

গাজীপুরে গরুচোর সন্দেহে তিনজনকে পিটিয়ে হত্যা

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার ফুলবাড়িয়া ইউনিয়নের বাঘচালা গ্রামে গরু চোর সন্দেহে গণপিটুনিতে ৩ জন নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

 

 

 

 

রোববার (১০ মে) ভোররাত থেকে সকাল পর্যন্ত এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে বিক্ষুব্ধ জনতা চোরদের ব্যবহৃত একটি ট্রাকে আগুন ধরিয়ে দেয়।

 

 

 

 

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন কালিয়াকৈর থানার ওসি শহিদুল ইসলাম। তবে নিহত তিনজনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বেশ কিছুদিন ধরে গরু চুরির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছিল। এরই ধারাবাহিকতায় রোববার গভীর রাতে একটি সংঘবদ্ধ চক্র ট্রাক নিয়ে ফুলবাড়িয়া ইউনিয়নের বাগমারা-বাঘচালা এলাকায় গরু চুরি করতে আসে বলে অভিযোগ ওঠে। এ সময় স্থানীয় লোকজন বিষয়টি টের পেয়ে মাইকিং ও চিৎকার দিয়ে আশপাশের মানুষকে জড়ো করে চারদিক থেকে চোরদের ধাওয়া দেয়।

 

স্থানীয়রা জানান, চোরচক্রের কয়েকজন সদস্য পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও তিনজনকে আটক করে গণধোলাই দেওয়া হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়। পরে উত্তেজিত জনতা চোরদের বহনের কাজে ব্যবহৃত ট্রাকটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। মুহূর্তেই ট্রাকটি আগুনে পুড়ে যায়।

খবর পেয়ে কালিয়াকৈর থানা পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

 

 

 

কালিয়াকৈর থানার ওসি শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘গরু চুরি করতে আসা সন্দেহে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা তিনজনকে আটক করে গণপিটুনি দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়। এ সময় চুরি কাজে ব্যবহৃত একটি ট্রাকেও আগুন দেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

 

 

 

এ ঘটনায় এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পালিয়ে যাওয়া অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও আটকের চেষ্টা চলছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

 

 

 

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় গরু চুরি নিয়ে উত্তেজনা ও গণপিটুনির ঘটনা বাড়ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বারবার আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার আহ্বান জানালেও এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি উদ্বেগ তৈরি করেছে।

One thought on “জনতার কণ্ঠে সংবাদ প্রকাশ: ক্ষেতলালের সেই ‘কমিশনখোর’ পিআইও বদলি

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চাকরি দিচ্ছে আরএফএল গ্রুপ, থাকছে বাড়তি সুবিধা

জনতার কণ্ঠে সংবাদ প্রকাশ: ক্ষেতলালের সেই ‘কমিশনখোর’ পিআইও বদলি

আপডেট টাইম : ০৮:৩১:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬

জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলায় টিআর-কাবিখা প্রকল্পে ২৫ শতাংশ কমিশন বাণিজ্য ও ভ্যাট-আয়করের নামে অর্থ আত্মসাতের খবর ‘জনতার কণ্ঠে প্রকাশের পর অবশেষে ব্যবস্থা নিয়েছে প্রশাসন। অভিযুক্ত উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) ওবায়দুল হককে ক্ষেতলাল থেকে সরিয়ে পার্শ্ববর্তী পাঁচবিবি উপজেলায় বদলি করা হয়েছে।

 

​গত ৭ মে ২০২৬ তারিখে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (প্রশাসন-১) তাসনূভা নাশতারাণ স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এই বদলির আদেশ জারি করা হয়। আদেশে ওবায়দুল হকসহ ৮ জন পিআইও-কে জনস্বার্থে বদলি করা হলেও ক্ষেতলালে তার বিরুদ্ধে ওঠা পাহাড় সমান দুর্নীতির অভিযোগই এই বদলির নেপথ্যে কাজ করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

 

গত ২০ এপ্রিল জনতার কণ্ঠ ও সংবাদ সারাবেলা’য় “ক্ষেতলালে উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ: পিআইওর বিরুদ্ধে কমিশন বাণিজ্য” শিরোনামে একটি বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনে পিআইও ওবায়দুল হকের কমিশন বাণিজ্যের কারণে মেম্বার-চেয়ারম্যানদের জিম্মি দশা এবং প্রকল্পের টাকা লুটের চিত্র ফুটে ওঠে। বিশেষ করে বড়াইল ও আলমপুর ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিদের দেওয়া সরাসরি স্বীকারোক্তিগুলো প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের টনক নড়ায়। প্রতিবেদকের কাছে থাকা অডিও-ভিডিও প্রমাণ এবং নথিপত্র সংবাদের সত্যতাকে অকাট্য করে তোলে।

আরও পড়ুন: টিআর-কাবিখা প্রকল্পে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ পিআইওর বিরুদ্ধে

 

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, বদলিকৃত কর্মকর্তাদের আগামী ১৪ মে ২০২৬ তারিখের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত (Stand Released) হতে হবে। অন্যথায় ঐ দিন বিকেলেই তারা বর্তমান কর্মস্থল থেকে তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত বলে গণ্য হবেন। ক্ষেতলালে ওবায়দুল হকের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন পাঁচবিবির বর্তমান পিআইও মোঃ আবু বক্কর সিদ্দিক।

 

 

এই বদলিকে এলাকাবাসী স্বাগত জানালেও তারা কেবল বদলিতেই তুষ্ট নন। সচেতন মহলের দাবি, সংবাদ সারাবেলায় প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে একটি শক্তিশালী তদন্ত কমিটি গঠন করে ওবায়দুল হকের সময়কার সকল প্রকল্পের অডিট করা প্রয়োজন। দুর্নীতির মাধ্যমে আত্মসাৎকৃত সরকারি অর্থ উদ্ধার এবং তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

বিশ্বকাপ দেখা নিয়ে অনিশ্চয়তা বাংলাদেশে

বিশ্বকাপ ফুটবল মানেই বাড়তি উত্তাপ। ভক্ত-সমর্থকদের মধ্যে অন্যরকম উত্তেজনা। ২০২৬ বিশ্বকাপ শুরু হতে আর মাত্র ৩২ দিন বাকি। এবারের বিশ্বকাপ ফুটবলে সব কিছুর দামই আকাশচুম্বী! টিকিটের দাম থেকে শুরু করে এখন সম্প্রচার স্বত্বও চূড়ায় উঠতে শুরু করেছে। যে কারণে চীন, ভারত সম্প্রচার নিয়ে জটিলতায় পড়েছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা।

 

 

 

বাংলাদেশে বিশ্বকাপ সম্প্রচারের জন্য স্বত্ব পেয়েছে সিঙ্গাপুরভিত্তিক মিডিয়া সংস্থা ‘স্প্রিংবক’। কিন্তু তারা এখন সেটি সম্প্রচারের জন্য বিটিভির কাছে যে পরিমাণ অর্থ চেয়েছে, তা দেশের একমাত্র সরকারি টেলিভিশনের বাজেটকেই প্রায় ছুঁয়ে ফেলছে! অনলাইন নিউজপোর্টাল বাংলা ট্রিবিউন এর এক প্রতিবেদনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাংলাদেশ টেলিভিশনের ঊধ্বর্তন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ‘স্প্রিংবক থেকে আমাদের কাছে ১৫১ কোটি টাকার একটি প্রস্তাব এসেছে। এছাড়া এর সঙ্গে ট্যাক্স ও ভ্যাট মিলিয়ে সেটা দুইশত কোটি টাকা দাঁড়াবে।’

 

 

 

তারপরই ওই কর্তা জানান, এত অর্থ দিয়ে আসলে বিটিভির মতো প্রতিষ্ঠানের খেলা দেখানো অসম্ভব। তার কারণও ব্যাখ্যা করেছেন তিনি, ‘আসলে এত টাকা দিয়ে বিটিভির পক্ষে বিশ্বকাপ সম্প্রচার স্বত্ব কেনা সম্ভব নয়। বিটিভির সারা বছরের বাজেটই আছে তিনশত কোটি টাকা। এর মধ্যে যদি আমরা দুইশত কোটি টাকা দিয়ে সম্প্রচার স্বত্ব কিনি তাহলে টেলিভিশন চলবে কী করে? সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, এত টাকা দিয়ে স্বত্ব কিনে বিটিভি তো কোনোভাবেই লাভ করতে পারবে না। বড় ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।’

 

২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্ব ৯৮ কোটি টাকায় কিনেছিল বিটিভি। যার কারণে বড় ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছিল দেশের একমাত্র সরকারি টেলিভিশনকে। এ নিয়ে ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘কাতার বিশ্বকাপে সম্প্রচার স্বত্ব কেনা নিয়ে পরবর্তীতে বিটিভিকে বড় ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়েছিল। আমরা বিজ্ঞাপন থেকে কিছু টাকা সংগ্রহ করতে পারলেও বিনিয়োগের পুরা টাকা আসেনি। বড় ক্ষতি হয়েছিল। এখন সরকার যদি মনে করে বিটিভির মাধ্যমে বিশ্বকাপ দেখাবে, তাহলে হয়তো সম্ভব। এছাড়া এই মুহূর্তে অন্য কোনও বিকল্প নেই।’

 

শেষ পর্যন্ত যদি বাংলাদেশেও বিশ্বকাপ সম্প্রচার না হয় তাহলে বিশ্বের একটি বড় অংশই সম্প্রচার তালিকার বাইরে চলে যাবে।

 

 

কিছু দিন আগেই যেমন রয়টার্সকে ফিফা জানিয়েছিল যে তারা ১৭৫টিরও বেশি অঞ্চলের সঙ্গে সম্প্রচার চুক্তি সম্পন্ন করেছে। এটা সত্য হলেও বাস্তব চিত্র আরও জটিল। কারণ এখনও পাকিস্তান, বাংলাদেশ, থাইল্যান্ড ও মিয়ানমারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বাজারে বিশ্বকাপ সম্প্রচারের চুক্তি চূড়ান্ত হয়নি। তার ওপর ভারত ও চীনসহ বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল কয়েকটি দেশও ফিফার সম্প্রচার তালিকার বাইরে। অর্থাৎ বিশ্বের প্রায় ৪০ শতাংশ জনসংখ্যা এই সম্প্রচার কাভারেজের বাইরে রয়ে গেছেন।

 

 

 

বিশ্লেষকদের মতে, বাদ পড়া দেশগুলোর বড় অংশই একই অঞ্চলের, মূলত টাইম জোন সমস্যা। ভারত যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে সাড়ে ৯ ঘণ্টা এবং চীন ১২ ঘণ্টা এগিয়ে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত ম্যাচগুলো সেখানে বেশিরভাগ সময় গভীর রাত বা ভোরে সম্প্রচার হবে।

 

 

 

এর বিপরীতে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে সময়ের পার্থক্য ছিল তুলনামূলক সুবিধাজনক সময়ে। ভারতের সঙ্গে ব্যবধান ছিল মাত্র আড়াই ঘণ্টা এবং চীনের সঙ্গে ৫ ঘণ্টা। সেই কারণেই সে সময় ভারতের ভায়াকম১৮ (বর্তমানে রিলায়েন্সের অধীনে থাকা জিওসিনেমা প্ল্যাটফর্ম) ৬ কোটি ডলারে সম্প্রচার স্বত্ব কিনেছিল এবং বিনামূল্যে ম্যাচ দেখিয়েছিল। ফলে প্ল্যাটফর্মটির দর্শক সংখ্যা নাটকীয়ভাবে বেড়ে গিয়েছিল। তবে সেখানেও বিজ্ঞাপন আয় ছিল কম, প্রায় ৩ কোটি ডলার। যার ফলে প্রতিষ্ঠানটি লোকসান দেখেছে। ভারতে মূলত সাবস্ক্রিপশন নয়, বিজ্ঞাপনই মিডিয়ার আয়ের প্রধান উৎস হওয়ায় এই মডেল টেকসই হয়নি।

 

 

 

এই অভিজ্ঞতার পর ফিফা ২০২৬ ও ২০৩০ বিশ্বকাপ মিলিয়ে ভারতীয় বাজারের জন্য প্রায় ১০ কোটি ডলারের একটি প্যাকেজ চেয়েছিল। কিন্তু রিপোর্ট অনুযায়ী, জিওস্টার ও সনির দুই বড় প্রতিদ্বন্দ্বীই সেই দামে আগ্রহ দেখায়নি। বরং জিওস্টার মাত্র ২ কোটি ডলারের প্রস্তাব দিয়েছে।

 

 

 

বিশ্লেষকদের মতে, সময়ের পার্থক্য ছাড়াও বড় কারণ হলো ভারতীয় ক্রিকেটের আধিপত্য, বিশেষ করে আইপিএলের জন্য বিপুল বিনিয়োগ। একই সময়ে নারীদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপও থাকায় দর্শক ও বিজ্ঞাপনদাতাদের আগ্রহ সেদিকেই বেশি।

 

 

 

চীনের ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি প্রায় একই। সেখানকার সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বকাপ সম্প্রচারের কেন্দ্র। তবে ফিফার প্রত্যাশা অনুযায়ী চীনা বাজার থেকে বড় অঙ্কের অর্থ আসেনি। ফিফা শুরুতে ২৫ কোটি ডলার চাইলেও চীনা পক্ষের আগ্রহ ছিল অনেক কম। প্রস্তাব নেমে আসে ৮০ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত। ফলে সব দিক দিয়ে এখন অর্থই অনর্থের মূল হয়ে দাঁড়িয়েছে। এক্ষেত্রে সবাইকে বিশ্বকাপ দেখাতে হলে ফিফাকে বড় ধরনের মূল্য ছাড় দিতে হবে।

 

 

“ওঙ্কার আবৃত্তি চর্চা কেন্দ্রর” আত্মপ্রকাশ আগামীকাল

 

কবিতা জাগাবে বোধ” এই স্লোগানকে সামনে রেখে সিরাজগঞ্জে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে নতুন সাহিত্য ও আবৃত্তি সংগঠন “ওঙ্কার আবৃত্তি চর্চা কেন্দ্র”।

 

 

 

আগামীকাল সোমবার (১১ মে) সন্ধ্যা ৬টায় সিরাজগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে সংগঠনটির আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।

 

 

 

অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করবেন সিরাজগঞ্জ জেলা কালচারাল অফিসার মোঃ মাহমুদুল হাসান। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের কর্মী, শিল্পী ও সংস্কৃতিপ্রেমীরা উপস্থিত থাকবেন।

 

 

 

মায়াময় এ সংসারের ঘূর্ণাবর্তে, স্বার্থের বেড়াজালে যখন জীবন অস্থির হয়ে ওঠে এবং হৃদয় মন যখন অশান্ত থাকে, তখন আবৃত্তি, গান ও শিল্প-সাহিত্যের আড্ডার মাধ্যমে সুস্থ বিনোদন ও নির্মল আনন্দ ছড়িয়ে দেওয়ার প্রয়াসে “কবিতা জাগাবে বোধ” এই স্লোগানকে ধারণ করে সংগঠনটির কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

 

 

 

অনুষ্ঠানে অতিথিদের ফুল দিয়ে বরণ, আমন্ত্রিত অতিথিদের বক্তব্য এবং আবৃত্তি পরিবেশনার মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি শেষ হবে।

 

 

 

সংগঠনটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক উক্ত অনুষ্ঠানকে আনন্দময়, প্রাণবন্ত এবং সার্থক করতে সকলের উপস্থিতির জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।

 

 

 

অবরুদ্ধ পাঠশালা, আমাদের ভঙ্গুর শিরদাঁড়া: লায়ন মাহফুজ রহমান

  • রিপোর্টার:
  •  আপডেট টাইম : ০৬:৫৮:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬
 

প্রেস এবং সোশ্যাল মিডিয়াতে নেতা কর্মীরা যে বিবৃতি প্রদান করেন, কত হাত ঘুরে মিডিয়া পর্যন্ত আসে সে এক বিশাল কর্মযজ্ঞ, সত্যিই নির্মম সংঘর্ষ । দলীয় কোনো বিবৃতির পোস্টমর্টেম করলে জাতীয় রাজনীতির হতশ্রী সৃজনশীলতা আপনাদের যে কারো মন ভারাক্রান্ত হবে । যেমন দায়িত্ব প্রাপ্ত কোনো নেতাকর্মী, বক্তব্য টাইপ করতে নিয়ে যান শহরের নির্দিষ্ট স্পটে কোনো ইন্টারনেট ক্যাফে, দলিল লেখকদের দোকানে যেখানে জেলা, উপজেলা, থানা, ওয়ার্ড পর্যায়ের যত কাজ হয় সবাইকে আসতে হয় | দূরত্ব বুঝে দিতে হয় পরিবহণ ভাড়া, সাথে সঙ্গ দেয়া নেতাকর্মীদের চা নাস্তা, বিড়ির যোগান। দোকানে গিয়ে দেখলেন সেখানে বিদ্যুৎ নেই , আবার বিদ্যুৎ সচল হলে দেখলেন প্রিন্টার এর কালী নেই, কালী টপআপ করার পরে দেখলেন পেপার জ্যাম ।

 

 

 

দিন শেষে কাজটা শেষ না হলে, পরের দিন দেখলেন যে নেতাকে কাজটা দিয়েছেন নানা প্রয়োজনে সেই মানুষটা নাই। পরের দিন গিয়ে দেখলেন সাপ্তাহিক বন্ধ। একটা বিবৃতি মিডিয়ায় প্রেস রিলিজ দিতে পারাটা তাই দলীয় বিশাল কর্ম দক্ষতা | কার্যালয় গুলোতে একটা কম্পিউটার, প্রিন্টার থাকা অত্যাবশক হলেও সেটা কল্পনার বাহিরে। অনেক কার্যালয় গুলোতে দামি আলোক সজ্জা আছে, চেয়ারে আছে কিন্তু সেখানে একটা প্রিন্টার নাই। আর থাকলেও সেটা চালানোর মতো দক্ষ নেতাকর্মী নাই। প্রয়াত রেজিম ডিজিটাল বাংলাদেশ উপহার দেয়ার কথা বলে যে খিচুড়ি খাওয়া হকার নেতৃত্ব রেখে গেছেন, আজকের সরকারি দল সেখান থেকেই নিজেদের যোগ্যতার জানান দিচ্ছে। চেতনার মলম নিয়ে নব্য হকাররা ব্যস্ত কে কার পিও সেটি জানান দিতে | হৈচৈ, দৌড় ঝাপ আর তৈলাক্ত বাণী নিয়ে শিকার ধরতে ব্যস্ত |

 

 

 

একজন পেশাজীবী, ফুটবলার, ক্রিকেটার হতে যেমন প্রস্তুতি লাগে স্কিল লাগে, একজন নেতা, হতেও সেই একই পরিশ্রম জ্ঞান অধ্যাবসায় লাগে । বিস্ময়কর হলো এদেশে নেতা হতে কিছুই লাগে না, এমনকি মানুষত্বও লাগে না। যেমন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা অর্জন ছাড়াই প্রতিষ্ঠানের সভাপতি চেয়ারম্যান হওয়া যায়। তেমনি কোনো একাডেমিক, আক্ষরিক, জ্ঞান ছাড়াই এই দেশে জাতীয় নেতা হওয়া যায়। এ দেশের স্থানীয় সরকার প্রতিনিধিদের ৭০% যাদের স্কুল পাশ সার্টিফিকেট ছাড়াই স্বশিক্ষায় গর্বিত রাজনৈতিক নেতা।

 

 

 

আমাদের ভাষার বাইনারি হলো শব্দ, ভাব প্রকাশে শব্দের কথাবলা এক আনবাদ্য শিল্প, অনেকটা সংগীত শিল্পের মতন। নেতা হতে ভাষা গত প্রয়োগ ও পরিমাপ গুরুত্বপূর্ণ। নেতার দক্ষতা তার ভাষার ব্যবহারিক প্রয়োগের উপর নির্ভরশীল। একজন নেতার রাজনৈতিক, সামাজিক, ধর্মীয়, শিল্প, সাহিত্য, ভৌগোলিক জ্ঞান অত্যাবশ্যক। পরিতাপের বিষয় এই দেশে অধিকাংশ নেতাকর্মী ভালো করে কথা বলতে লিখতে পড়তে জানেন না। সেখানে রাষ্ট্র বিজ্ঞান ভাবনা প্রয়োগিক ব্যবহার তাদের দিয়ে হয় না, সেটা তাদের চেতণার পরিপন্থী ।

 

 

 

সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বদৌলতে কিছু নেতা কর্মী তৈরী হলেও যোগ্যতার মান দন্ডে তারাও অনেক পিছিয়ে। উচ্চ পদপদবি নিয়ে নেতাকর্মীরা সগৌরবে দাপিয়ে বেড়ান কিন্তু সমন্বয়হীনতা অব্যবস্থাপনায় কার কি কাজ সেটা তাদের জানা নেই | যেমনটা ধরুন বল যেখানে পুরো টীম সেখানে | কিছু কাজ নেতাকর্মীরা দল বেঁধে করতে পছন্দ করেন, তাই দেখবেন চাঁদাবাজি,নেশা হামলা, মামলা এগুলো তারা দল বেঁধে করেন। ঐযে কথায় আছে দশে মিলে করি কাজ নাহি ভয় নাহি লাজ।

 

 

আজকাল দলবেঁধে ধর্ষণ দেশের ক্ষয়ে যাওয়া রাজনীতির হতশ্রী ভেঙেপড়া আস্তাবল। জরুরী সেবা প্রয়োজনে জেলার এক বিজ্ঞ আইনজীবী নেতার চেম্বারে গিয়ে দেখলাম, কার্যালয়ে খাট পালংক বিছিয়ে দস্তুরখান বসিয়ে পুরোদস্তুর বাবুর্চিখানা খুলে বসেছেন । এখানে যারা আসেন বাজার থেকে খাবারের বন্দোবস্ত করেই আসেন | কি এক অভিজ্ঞতা যেমন খিচুরি খাওয়া নেতা কর্মী, তেমনি তাদের আইন পেশার জোগাড়, সবাই মিলে মিশে এক সুখী পরিবার। এখানে নেতাদের পরিচয় চেতনার ফেরিওয়ালা আর অন্যজন তাদের হ্যাকিম-কবিরাজ।

 

 

 

জেলার কোর্ট কাচারীর যে দুরাবস্থা সেখানে কে মক্কেল কে উকিল আলাদা করে জানা অনেক কঠিন, যেখানে আইন পেশার চেয়ে দালাল বেশি। উইন্ডোস ১১, কোর আই ৯ এর যুগে, চ্যাটজিপ্ট ব্যবহার করা কোনো তরুণই এই দৃশ্য দেখে আইন পেশায় যে আসতে চাইবে না সেটা পরিষ্কার ।

 

 

 

রাজনীতি এক চলমান পাঠশালা কিন্তু আমাদের সেই পাঠশালায় না আছে দরজা জানালা, না আছে শিক্ষক। যাদের দায়িত্ব ছিল নেতৃত্ব তৈরী করা, তারা রাজনীতিতে হ্কার পয়দা করেছেন| কমিটি বাণিজ্যের আড়ালে দেশ ব্যাপী হকার পুনর্বাসন কেন্দ্র গড়ে তুলেছেন। তাদের অয্যোগ্য নেতৃত্বে অবরুদ্ধ পুরোদেশ । রাজনৈতিক হকারদের হৈ-চৈ আর কর্তৃত্বে শিক্ষিত মধ্যেবিত্তরা রাজনীতি থেকে হারিয়ে গেছেন। দোকান ভাড়া নিয়ে দুই চারটে নেতার ছবি টাঙিয়ে, রাজনীতির পসরা সাজিয়ে সমাজকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছেন সেগুলো বন্ধ করতে হবে।

 

 

 

এই হ্কারদের ফাউ খাওয়া বন্ধ না হলে পরিবর্তন আসবে না। একজন পেশাদার নাগরিক হতে ব্যক্তি ও পরিবারের যে মেহনত, ত্যাগ প্রচেষ্টা সেটি আসলে শেষ পর্যন্ত পূর্ণতা পায় না। তার সুফল পায় না পরিবার, সমাজ ও দেশ। প্রতিটা পেশাজীবীই তার কর্ম জীবনে এই রাজনৈতিক দোকানদের হাতে জিম্মি। এই বাস্তবতায় দেশের তরুণরা ক্রমশই প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার প্রতি উদাসীন এবং নিরুৎসাহী হয়ে পড়ছে | তরুণরা জেনে গেছেন মেম্বার , চেয়ারম্যান, মেয়র, এমপি, মন্ত্রী হতে শিক্ষা জীবনের সাথে কোনো সম্পৃক্ততা নাই । তাই বর্তমান সাংসদের ৭৯ জন এমপি যারা স্বশিক্ষিত যাদের কেউ হাই স্কুল পাশ করেন নাই, বাকি এমপি মুন্ত্রীরাও কোনো রকম যোগাড় নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। এর চেয়েও হতশ্রী অবস্থা পুরো দেশের মেয়র, চেয়ারম্যান, মেম্বারদের তা দেশের রাষ্ট্রীও পর্যায় এখনো কেউ সেভাবে ভেবে দেখছেন না । কি এক অবস্থা, অযোগ্যতাই এইদেশে উন্নতির ওপেনসিক্রেট |

 

 

 

আমাদের গবেষণায় এই দেশে ১ কোটি ৮০ লক্ষ রাজনৈতিক নেতা কর্মী যারা সরাসরি দলীয় সুবিধাভোগী, রাজনৈতিক দোকানের উপর নির্ভরশীল। এই লোকগুলো তারা যাদের দলীয় কমিটিতে দায়িত্বশীল পদ রয়েছে। এই নেতা কর্মীদের আসলে পরিচয় দেবার মতো কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি, ট্রেনিং, গবেষণা, পরিচয় দেবার মতো পেশা নাই | দেশকে কিভাবে সামনে নিতে হবে দলের কেন্দ্রীয় পর্যায় সেই পৃষ্টপোষকতা নেই, রাজনৈতিক কোনো স্বদিচ্ছা নেই। পৃথিবীর সকল দেশে শিক্ষিত প্রগতিশীল,মধ্যেবিত্তরা রাজনীতি নিয়ন্ত্রন করলেও আমাদের দেশ নিয়ন্ত্রণ হয় অযোগ্য, সুবিধাভোগী রাজনৈতিক হকার দ্বারা। নেতা বলতে আমাদের দেশে শুধু রাজনৈতিক নেতাদেরকেই বুঝানো হয়। কিন্তু আরো অনেক নেতা আছে যেমন ব্যবসায়ীক নেতা, ক্রীড়া ব্যাক্তিক্ত, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, বিজ্ঞ আইনজ্ঞ, বিশেষজ্ঞ ডাক্তার সবাইকে কর্ম ক্ষেত্রে পেশাজীবী নেতা বলা হয়। পেশাজীবী নেতা হতে শিক্ষা, মেধা, শ্রম, গবেষণা প্রয়োজন হয়, প্রতিটা পরীক্ষা কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হতে পুরো জীবন উৎসর্গ করতে হয়। পলিটিকাল নেতা হতে কি কি লাগে সেটাও আপনারা জানেন। তাই তরুণদের মধ্যে শর্ট কার্ট নীতি তীব্র থেকে তীব্র হচ্ছে।

 

 

 

সেখানে শিক্ষা ও শিক্ষকের প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন হয় না আদেশ উপদেশ। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সুরে বলতে হয় : “নরমাংসের স্বাদ পাইলে মানুষের সম্বন্ধে বাঘের যে দশা হয়” অযোগ্য নেতা কর্মীদের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার স্বাদ, নরমাংসের স্বাদ পাওয়া সেই বাঘের দশা । ছোট্টো করে বলতে হয় : অবরুদ্ধ পাঠশালা, নেই কোনো দরজা জানালা! চারদিকে অবক্ষয়, ভঙ্গুর শিরদাঁড়া!! রুচির দুর্ভিক্ষ গড়া আমাদের বঙ্গ উপত্যকা !!!

 

লায়ন মাহফুজ রহমান রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সমাজ  কর্মী, সম্পাদক প্রবাসী পেশাজীবী কেন্দ্রীয় পরিষদ (BPRC) কনসালটেন্ট এজেন্ট ব্রিটিশ কাউন্সিল

 

 

‘সোজা গুলি করার’ ওপেন নির্দেশনা দিয়ে রেখেছিল শেখ হাসিনা: চিফ প্রসিকিউটর

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমাতে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের সরাসরি নির্দেশ দিয়েছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা— এমনটাই জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে ‘লেথাল ওয়েপন’ ব্যবহার করে যেখানে পাওয়া যাবে সেখানে গুলি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

 

 

 

রোববার (১০ মে) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

 

 

 

চিফ প্রসিকিউটর জানান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসের সঙ্গে হওয়া এক কথোপকথনে শেখ হাসিনার নির্দেশনার বিষয়টি উঠে এসেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনা বলেছিলেন— ‘আমার নির্দেশনা দেওয়া আছে, ওপেন নির্দেশনা দিয়ে দিছি। এখন লেথাল ওয়েপন ব্যবহার করবে, যেখানে পাবে সোজা গুলি করবে’।

 

 

তিনি বলেন, একজন সরকারপ্রধান হিসেবে শেখ হাসিনার এমন নির্দেশনা ছিল অমানবিক ও ভয়াবহ। এর ফলেই সারাদেশে ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে গুলি চালানোর প্রবণতা বেড়ে যায় এবং হাজারো মানুষ নিহত হন।

 

 

এই নির্দেশনার ভয়াবহতা তুলে ধরে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘একজন সরকারপ্রধান যিনি এই দেশের মানুষের অভিভাবক ছিলেন, ছাত্র-জনতার মাতৃতুল্য নেত্রী ছিলেন, যার ওপরে মানুষের এতো আশা ভরসা ছিল, হয়তো এই দেশের ছাত্র-জনতা কোনোদিন চিন্তা করে নাই তিনি এইরকম একটা হুকুম তিনি দিতে পারেন। তিনি আন্দোলন দমনে রাষ্ট্রীয় নানান কলাকৌশল ব্যবহার করতে পারেন। কিন্তু এরকম একটা ভয়াবহ আদেশ যার ফলশ্রুতিতে সারা দেশে লেথাল ওয়েপন ব্যবহারের প্রবণতা বেড়ে যায় এবং নির্বিচারে গুলি করে হাজারো মানুষকে হত্যা করা হয়।’

 

 

এদিকে এক-এগারো (১/১১) সরকারের প্রভাবশালী সেনা কর্মকর্তা লে. জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়েও কথা বলেন চিফ প্রসিকিউটর। তাকে ওই সময়ের ডি ফ্যাক্টো গভর্নমেন্টের অন্যতম নিয়ন্ত্রক আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘সে সময়কার মানবতাবিরোধী অপরাধের নেপথ্যের মূল মহানায়ক ছিলেন তিনি। এছাড়া বিগত জুলাই আন্দোলনেও ফ্যাসিস্ট কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে।’

 

 

 

একটি মিস কেসে তাকে অ্যারেস্ট দেখিয়ে সেফ হোমে একদিন জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং প্রাপ্ত তথ্য যাচাই-বাছাই চলছে বলে তিনি জানান।

 

 

 

এছাড়া জুলাই-আগস্টের ঘটনায় থানা ও ট্রাইব্যুনালের তদন্তের মধ্যে যাতে সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সেজন্য পুলিশকে ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ারাধীন মামলাগুলোতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন (ফাইনাল রিপোর্ট) জমা না দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

 

 

 

অন্যদিকে, গুম সংক্রান্ত তথ্যের জন্য সেনাসদরে চিঠি পাঠানোর বিষয়টি ট্রাইব্যুনালের ‘তদন্তের প্রয়োজনে অভ্যন্তরীণ কাজ’ বলে উল্লেখ করেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।

 

 

ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত মোটরসাইকেল চালক

হবিগঞ্জ সদর উপজেলার ধুলিয়াখাল বাইপাস সড়কে বাস ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে জাহিদুল ইসলাম (৩০) নামে এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন।

 

 

 

রোববার (১০ মে) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

 

 

 

নিহত জাহিদুল ইসলাম হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার মিরপুর এলাকার আব্দুল হামিদের ছেলে।

 

 

 

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দুপুরে জাহিদুল ইসলাম মোটরসাইকেলযোগে ধুলিয়াখাল বাইপাস সড়ক পার হচ্ছিলেন। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগামী বাসের সঙ্গে মোটরসাইকেলটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই মোটরসাইকেল আরোহী জাহিদুল ইসলাম প্রাণ হারান।

 

 

 

দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে হবিগঞ্জ সদর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও মোটরসাইকেলটি জব্দ করে থানায় নিয়ে যায়।

 

 

 

হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদ হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যা আধুনিক জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে কাজ করছে পুলিশ। এ ঘটনায় যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

জনতা ব্যাংকের সোয়া ৩ কোটি টাকা আত্মসাৎ, ৫ কর্মকর্তার সাজা

রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের একটি শাখা থেকে প্রায় ৩ কোটি ৪০ লাখ টাকা আত্মসাতের দায়ে দীর্ঘ ২৬ বছর পর পাঁচ সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তাকে কারাদণ্ড দিয়েছেন চট্টগ্রামের একটি বিশেষ আদালত।

 

 

 

রোববার (১০ মে) চট্টগ্রামের বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালত এই রায় ঘোষণা করেন।

 

 

 

আদালত সূত্রে জানা গেছে, দণ্ডিত পাঁচজন আসামিকে দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় মোট আট বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। তবে রায় ঘোষণার সময় দণ্ডিত কোনো আসামিও আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।

 

নথি অনুযায়ী, আত্মসাতের এ ঘটনাটি ঘটে ১৯৯৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০০০ সালের মার্চ মাসের মধ্যে। চট্টগ্রামের শেখ মুজিব রোড করপোরেট শাখার অভিযুক্ত কর্মকর্তারা গ্রাহকদের সঙ্গে যোগসাজশ করে ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন হিসাব থেকে অবৈধভাবে অর্থ স্থানান্তর করেন। পরবর্তীতে সেই অর্থ চলতি ও এসটিডি (Short Term Deposit) হিসাবের মাধ্যমে উত্তোলন করে আত্মসাৎ করা হয়।

 

ব্যাংকের একটি বিশেষ পরিদর্শন দলের তদন্তে মোট ৩ কোটি ৩৯ লাখ ৮১ হাজার টাকা গরমিলের তথ্য উঠে আসার পর ২০০০ সালের এপ্রিলে মামলাটি দায়ের করা হয়েছিল। আদালত কর্তৃক দণ্ডিত সাবেক পাঁচ কর্মকর্তা হলেন, মো. আবু তৈয়ব, বাবুল চন্দ্র মজুমদার, রনেন্দ্র বিকাশ সাহা, মোসলেম উদ্দিন, মো. সাঈদ হোসেন (সাবেক এসপিও, প্রধান কার্যালয়)।

 

দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মো. এনামুল ইসলাম কালবেলাকে বলেন, আদালত আসামিদের অপরাধের গুরুত্ব অনুযায়ী দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারায় ৫ বছর, ৪২০ ধারায় ২ বছর এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় ১ বছরের সাজা দিয়েছেন। সেই সঙ্গে প্রত্যেককে ৪৬ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে, যা পরিশোধে ব্যর্থ হলে তাদের আরও ১ বছর জেল খাটতে হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের যে জিরো টলারেন্স নীতি, এই রায় তারই প্রতিফলন।

 

অন্যদিকে, অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় নুরুল হুদা নামে এক সাবেক কর্মকর্তাকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আবু বকর সিদ্দিকী নামে অন্য এক আসামির উচ্চ আদালতে রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তার ক্ষেত্রে মামলার কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছে।

 

আদালত সূত্র জানিয়েছে, ২০০০ সালে মামলাটি দায়ের করা হলেও তদন্ত শেষ করে অভিযোগপত্র জমা দিতে পুলিশের সময় লেগেছিল ১১ বছর। ২০১১ সালে অভিযোগপত্র জমা দেওয়ার পর ২০১৩ সালে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। দীর্ঘ ১৩ বছরের বিচারিক প্রক্রিয়া এবং এক ডজন সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ শেষে আজ রোববার এই রায় আসলো। আদালত বর্তমানে পলাতক পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।

 

 

৬২ বছরের ইতিহাস বদলে দিলেন আজান

বাংলাদেশের বিপক্ষে পাকিস্তানের জার্সিতে অভিষেক টেস্টেই তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগার ছুঁয়ে ফেললেন পাকিস্তানের ওপেনার আজান আওয়াইস। আর তাতেই ৬২ বছরের পুরোনো এক রেকর্ডে ভাগ বসালেন তিনি।

 

 

 

মিরপুর টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৪১৩ রান করে বাংলাদেশ কিছুটা ফুরফুরে মেজাজেই ছিল। তবে স্বাগতিকদের সে স্বস্তি উবে যেতে সময় লাগেনি বেশি। পাকিস্তানের দুই ওপেনার তাদের উদ্বোধনী জুটিতেই যে তুলে ফেলেছিলেন ১০৬ রান। সেই জুটি ভাঙা গেলেও দিন শেষের আগে আর বিপদে পড়েনি পাকিস্তান।

 

 

 

এত কিছু যে হয়ে গেল, তাতে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন আজান। ইনিংসের প্রথম বলটা খেলেছিলেন, ওপাশে ইমাম উল হকের ঝুলিতে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা থাকার পরও! এরপর আজানের শুরুটাও ভালো হয়নি। ৭ রানে যখন ব্যাট করছেন, নাহিদ রানার ১৪১ কিলো মিটার গতির বল গিয়ে আঘাত হানে তার হেলমেটে। তা সামলে ক্রিজে ফিরতেও বেশ সময় লেগেছিল অভিষিক্ত এই ব্যাটারের।

এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাননি তিনি। ওপাশে ওপেনিং সঙ্গীকে হারান, তবে আজানকে টলানো যায়নি। ৮৫ রানে অপরাজিত থেকে আগের দিন শেষ করেন।

আজ রোববার সকালে সেঞ্চুরি পূরণ করতে সময় নেন মোটে ৫ ওভার। দিনের পঞ্চম ওভারে নাহিদ রানার বলে সিঙ্গেল নিয়েই তিন অঙ্ক ছুঁয়ে ফেলেন। আর তাতেই ৬২ বছরের পুরোনো রেকর্ডে ভাগ বসান তিনি। আজকের আগ পর্যন্ত ওপেনার হিসেবে অভিষেকে পাকিস্তানের হয়ে সেঞ্চুরি ছিল ৫টি। খালিদ ইবাদুল্লাহ, আলী নাকভি, তৌফিক ওমর, ফাওয়াদ আলম ও আবিদ আলি এই কীর্তি গড়েছিলেন।

তবে এক খালিদ ইবাদুল্লাহ বাদে কেউই দলীয় ইনিংসের প্রথম বল খেলেননি, অর্থাৎ ওপেনার হলেও তাদের ব্যাটিং পজিশন ছিল দুইয়ে। খালিদ এই রেকর্ডটা গড়েছিলেন সেই ১৯৬৪ সালে। এরপর ৬২ বছর পেরিয়ে গেলেও এই কীর্তি আর দেখেনি পাকিস্তান। বাংলাদেশের বিপক্ষে আজ সেটাই করে দেখালেন আজান।

 

 

 

তবে এরপরই তিনি ফিরে গেছেন তাসকিন আহমেদের শিকার হয়ে। যদিও তার আগে যা করেছেন, সেটা পাকিস্তানকে রেখে গেছে বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে।

 

 

স্বামীর অবস্থান আমার লাইফের সবচেয়ে ওপরে : পায়েল

ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী কেয়া পায়েল। সম্প্রতি একটি পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে নিজের ক্যারিয়ার কাজ ভাইরাল হওয়ার প্রবণতা এবং ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন এই অভিনেত্রী। ‘এটা আমাদেরই গল্প’ নাটকের জন্য সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার পেয়ে পুরো টিমকে তা উৎসর্গ করেছেন তিনি।

 

 

 

 

অ্যাওয়ার্ড ও কাজের অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে কেয়া পায়েল বলেন, ‘এটি আমাদের গল্পের জন্য আমার দ্বিতীয় অ্যাওয়ার্ড। আমাদের সবার পছন্দের এবং শ্রদ্ধেয় রাজ ভাইয়া আজ আসেননি তাই পুরো টিমকে আমার এই অ্যাওয়ার্ডটি ডেডিকেট করতে চাই। ভীষণ পছন্দের একটি কাজ এটি। এই গল্পের জন্য দর্শক অনেক কেঁদেছে। বেশ সাধারণ একটি গল্প এটি। আমরা কাজটি দেখলে বুঝতে পারব এই ঘটনাটা আমাদের সঙ্গেও ঘটে। মায়ের সঙ্গে কথা বলা বা স্বামীর সঙ্গে কেমিস্ট্রি সব মিলিয়ে আমরা নিজেদের জীবনটাকে খুঁজে পাব এই গল্পে। তাই দর্শক এত বেশি রিলেট করতে পেরেছে।’

 

 

 

ভাইরাল হওয়া নিয়ে এই অভিনেত্রী বলেন, ‘ভাইরাল হওয়া নিয়ে আমি এত বেশি ভাবি না। মনোযোগ দিয়ে কাজ করেছি কাজ দ্বারাই মানুষ আমাকে মনে রাখুক এটাই আমি চাই। কাজের মাধ্যমে স্বীকৃতি পেলাম এটা অন্যরকম ভালো লাগা। একজন শিল্পী হিসেবে ভাইরালের চেয়ে বড় কথা হলো কাজের মাধ্যমে মানুষের সম্মান পাওয়া। কাজ করে যাব তারপর একটা সময় হারিয়ে যাব এটা আমি চাই না। সম্মান নিয়ে বেঁচে থাকতে চাই।’

নিজেকে ভাঙার প্রসঙ্গে কেয়া জানান সম্প্রতি একটি পাগলের চরিত্র ও একটি কুৎসিত চেহারার মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করে বেশ প্রশংসা পেয়েছেন তিনি। তবে ‘এটা আমাদেরই গল্প’ নাটকের মেহেরিন চরিত্রটি তার কাছে বিশেষ কিছু। এই নাটকের একটি মৃত্যু দৃশ্যের শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা যখন এই দৃশ্যটি করছিলাম পুরো সেট ভারী হয়ে গিয়েছিল। সারাদিন কেউ কারও সঙ্গে কথা বলিনি। মানুষের মৃত্যু অনিবার্য যেকোনো সময় যেকোনো কিছু হয়ে যেতে পারে। দৃশ্যটি করার সময় আমরা মৃত্যুপরবর্তী প্রিয়জনদের অনুভূতিগুলো খুব গভীরভাবে ফিল করেছি।’

সাক্ষাৎকারের একপর্যায়ে সাবেক প্রেমিক ও বর্তমান জীবনসঙ্গী প্রসঙ্গেও কথা বলেন কেয়া পায়েল। তিনি বলেন, ‘আমার কাছে প্রিয় তো অবশ্যই আমি নিজে। আর এক্স তো এক্সই। তার প্রতি ভালোবাসা ছিল যদি ভালোবাসা থাকে সেই ভালোবাসা তো কখনো ফুরায় না। তাদের প্রতি একধরনের ভালোবাসা সারা জীবনই থেকে যাবে। কিন্তু যে আমার পার্টনার যে আমার স্বামী তার অবস্থান আমার লাইফের সবচেয়ে ওপরে।’

 

চার সন্তান থাকতেও বৃদ্ধাশ্রমে ঠাঁই হলো মায়ের

সন্তানের সুখের জন্য নিজের সুখ আর স্বপ্ন বিলিয়ে দিতে পারেন যিনি তিনি হলেন মা। অথচ সন্তান প্রতিষ্ঠিত হয়ে নিজের সুখের খোঁজে ভুলে যাচ্ছেন সেই মাকেই। আর তাই জীবনের অন্তিম মুহূর্তে কখনো কখনো বৃদ্ধাশ্রমের চার দেয়ালের মাঝে ঠাঁই হয় দুঃখিনি মায়ের।

 

 

 

এমনই একজন বৃদ্ধা মা বরিশালের ঊষা রাণী। যিনি চার সন্তানের জননী হয়েও জীবনের শেষ মুহূর্তটা কাটছে বৃদ্ধাশ্রমের চার দেয়ালের মাঝে একাকিত্বে।

 

 

 

 

জীবনের পুরোটা সময় সন্তানদের মানুষ করতে করতেই কেটে গেছে তার জীবন। নিজের কষ্ট ভুলে সন্তানদের সুখের জন্য লড়াই করেছিলেন প্রতিনিয়ত। মানুষের বাড়িতে কাজ করে চার ছেলেমেয়ের মুখে খাবার তুলে দিয়েছেন। কিন্তু বয়সের ভারে যখন একটু আশ্রয় আর স্নেহের প্রয়োজন হলো, ঠিক তখনই বৃদ্ধা মাকে খেলনার মতো ছুড়ে ফেলেছে সন্তানরা।

 

 

উষা রাণী জানান, নদী ভাঙনে বিলীন হয়েছে বাড়িঘর। ‎একটা সময় বড় ছেলের পা ধরে অনুরোধ কাছেন একটু আশ্রয়ের জন্য। তবুও মন গলেনি তার। ঘরের কোনেও ঠাঁই হয়নি উষা রাণীর। ছোট ছেলে তার ছেলের কথায় ঘর থেকে নামিয়ে দিয়েছে। অপর ছেলের বউ আশ্রয় দিতে রাজি হয়নি। একমাত্র মেয়ের বাসায় উঠেছিলেন ঊষা। সেখানেও ঠাঁই হয়নি। মেয়ে জামাই দূর দূর করে তাড়িয়ে দিয়েছে।

 

তিনি বলেন, ‎এক সন্তানের দরজা থেকে আরেক সন্তানের দরজায় ঘুরেও আশ্রয় মেলেনি। তাই শেষ বয়সে নিকট আত্মীয়ের সহযোগিতায় ঠাঁই হয়েছে কাউনিয়ার বেসরকারি বৃদ্ধাশ্রমে। সেখানেই মানবেতর জীবন কাটছে তার। তবে সন্তানদের অবহলো থেকে বৃদ্ধাশ্রমের তিনবেলা খেয়ে বেশ ভালই আছেন এই আশ্রমে। তবে হৃদয়বিদারক বিষয় হলো, এত রাগ, অভিমান আর কষ্টের পরেও ঊষা রাণীর একটু ক্ষোভও নেই সন্তানদের প্রতি। তিনি আজও সন্তানদের জন্য দোয়া চাইছেন সৃষ্টিকর্তার কাছে। তারা যেন ভালো থাকেন সেটাই কামনাই করেন তিনি। তিনি বলেন, আমি মারা যাওয়ার আগে যেন আমার কোনো সন্তানের কিছু না হয়। তারা যেন সুখে এবং শান্তিতেই থাকে। বৃদ্ধাশ্রমের আরেক নিবাসী বৃদ্ধা শেফালী বেগম বলেন, অল্প বয়সে বাবা-মা বিয়ে দিয়েছে। অল্প বয়সেই বিধবা হয়েছি। দিনমজুরের কাজ করে একমাত্র ছেলেকে বড় করেছি। ঈদে শশুর-শাশুড়িকে হাজার টাকায় মার্কেট করে দিয়েছে। আমার কপালে জোটেনি কিছু। জুটেছে শুধু ছেলের হাতে মারধর।

 

 

শুধু ঊষা রাণী এবং শেফালী বেগম নয়, বৃদ্ধাশ্রমের আশ্রিতা প্রতিটি মায়ের বুকেই চেপে আছে আকাশ সমান দুঃখ, কষ্ট আর অবহেলার গল্প। যেই বয়সে নাতি-নাতনিদের সাথে খুনসুটিতে মেতে থাকার কথা সেই বয়সে নিস্তব্ধ আর একাকিত্বে কাটছে তাদের জীবন।

 

 

 

তারা বলেন, বুড়ো হয়ে গেলে বাবা-মা সন্তানদের কাছে বোঝা হয়ে যায়। কীভাবে ঠেলে ফেলে দেবে সেই চিন্তা করে। তবুও সেই সন্তানদের অভিশাপ নয়, বরং তাদের উন্নতি আর সাফল্য কামনা করছেন তারা। মায়ের ভালোবাসা এমনই নিঃস্বার্থ, অটুট এবং চিরন্তন। মা দিবসে নয়, প্রতিদিন হোক মায়ের প্রতি ভালোবাসা ও যত্নের প্রতিশ্রুতি।

 

 

 

বৃদ্ধাশ্রম, বয়স্ক পুনর্বাসন কল্যাণ সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক মো. শাখাওয়াত হোসেন বলেন, একসময় ১৩০ শয্যার বৃদ্ধাশ্রম ছিল। মানুষের সাহায্য-সহযোগিতায় চলতো প্রতিষ্ঠান। তবে জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর সাহায্য সহযোগিতা কমে গেছে। এখন ভাড়া বাসায় ৬০ শয্যার বৃদ্ধাশ্রমে ৬০ জন মা আছেন। তবে অর্থ সংকটে তাও বন্ধের পথে।

 

 

 

তিনি বলেন, মায়েরা একসময় বোঝা হয়ে যায়। তবে প্রতিটি সন্তানের উচিত মায়েদের যত্ন নেওয়া, তাদের ভালোবাসা। মা-বাবা না থাকলে তাদের আর পাওয়া যাবে না।

 

 

 

ঊষা রাণী আর শেফালীদের গল্প আমাদের সামনে তুলে ধরছে এক কঠিন প্রশ্ন! আমরা কি সত্যিই বাবা-মায়ের প্রতি দায়িত্ব পালন করছি? নাকি শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি পোস্ট করে মায়েদের উপহাস করছি?

 

 

পুলিশের জন্য ওভারটাইম ভাতা চালুর পরিকল্পনা সরকারের

দেশে পুলিশিং কার্যক্রম আরও গতিশীল ও কার্যকর করতে পুলিশকে ওভারটাইম ভাতা দেওয়ার কথা ভাবছে সরকার। যেসব পুলিশ সদস্যরা অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা দায়িত্ব পালন করবেন, বিশেষ নীতিমালার ভিত্তিতে তাদের ওভারটাইম ভাতা দেওয়া হতে পারে। কনস্টেবল থেকে পরিদর্শক পর্যন্ত এই ভাতা পেতে পারেন। পাশাপাশি পুলিশের জন্য আরও উন্নত হাসপাতাল নির্মাণের প্রতিশ্রুতিও এসেছে।

 

 

 

রোববার (১০ মে) থেকে শুরু হওয়া পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত ‘প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ কল্যাণ সভায়’ এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। রাজধানীর রাজারবাগে পুলিশ অডিটরিয়ামে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

 

 

 

এর আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স মাঠে পুলিশ সপ্তাহের উদ্বোধন করেন। তিনি পুলিশের বিভিন্ন কন্টিনজেন্ট ও পতাকাবাহী দলের সুশৃঙ্খল, দৃষ্টিনন্দন ও বর্ণিল প্যারেড পরিদর্শন এবং অভিবাদন গ্রহণ করবেন। পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্যে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনামূলক ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী। পরে তিনি ঊর্ধ্বতন পুলিশ সদস্যদের নিয়ে পুলিশ অডিটরিয়ামে কল্যাণ সভায় যোগ দেন।

কল্যাণ সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পুলিশের নানা দাবি-দাওয়ার বিষয়ে কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, পুলিশিং কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করতে অতিরিক্ত কর্মঘণ্টায় দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ সদস্যদের জন্য বিশেষ নীতিমালার ভিত্তিতে ওভারটাইম ভাতা প্রদানের কথা ভাবছে সরকার। এতে পুলিশের মনোবল বৃদ্ধি ও সেবার মান উন্নয়নে সহায়ক হবে।

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা ও অধিক কর্মচাপ বিবেচনায় পুলিশ সদস্যদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কেন্দ্রীয় ও বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতালে আরও সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হবে। পুলিশের হাসপাতালগুলোকে আরো আধুনিক ও যুগোপযোগী করে গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য আরও উন্নত হাসপাতাল নির্মাণ করা হবে।

 

 

 

পুলিশের বিভিন্ন ভবন ও আবাস সমস্যা নিয়েও কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের ভবন, কার্যালয় নির্মাণ ও আবাসন সমস্যা দূর করতে বর্তমান সরকার আন্তরিক। এক্ষেত্রে ভূমি অধিগ্রহণসহ প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান করা সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে।

 

 

 

 

অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে অনেক পুলিশ কনস্টেবলরা ৪০ বছর চাকরি করে অবসর গ্রহণ করেও পরবর্তী পদোন্নতি পান না। সেজন্য বিশেষ নীতিমালা ও সন্তোষজনক চাকরির রেকর্ড বিবেচনায় অবসরকালীন সময়ে কিছু সংখ্যক পুলিশ সদস্যকে অনারারি পদোন্নতি দেওয়া হবে।

 

 

 

 

তিনি বলেন, ‘কনস্টেবল থেকে অনারারি সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) পদে, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) থেকে অনারারি উপপরিদর্শক (এসআই) পদে এবং উপপরিদর্শক (এসআই) থেকে অনারারি পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) পদে এই পদোন্নতি দেয়া হবে।’

 

 

 

 

‘আমার পুলিশ, আমার দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’- প্রতিপাদ্য নিয়ে এবারের পুলিশ সপ্তাহ শুরু হয়েছে। আগামী ১৩ মে নানা কর্ম অধিবেশনের মধ্য দিয়ে এই আয়োজন শেষ হবে। পুলিশ সপ্তাহের বিভিন্ন কর্ম অধিবেশনে বিগত বছরের কার্যক্রম পর্যালোচনা করে পরবর্তী বছরের কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করা হয়।

 

 

রায়গঞ্জে নিমগাছী স্কুলের সামনে কর্দমাক্ত রাস্তা সংস্কারের দাবিতে মানববন্ধন

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার নিমগাছী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে দীর্ঘদিন ধরে বেহাল ও কর্দমাক্ত সড়ক সংস্কার এবং ড্রেন নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
রোববার (১০ মে) দুপুরে বিদ্যালয়ের সামনে আয়োজিত এ মানববন্ধনে শতাধিক শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী অংশ নেন। কর্মসূচিতে বক্তারা দ্রুত রাস্তা সংস্কার ও পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেন নির্মাণে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি জানান।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুল জব্বার, শিক্ষক আব্দুল হাদি তালুকদার ও সাংবাদিক লিটন কুমার গুণ। শিক্ষার্থীদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন সিদ্ধার্থ গুণ, শাহরিয়ার শাফি, বিজয় মাহাতো, উদয়, আব্দুল্লাহ, সামিউল এবং বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী লাবিব।
বক্তারা অভিযোগ করেন, নিমগাছী বাজার থেকে কড়িতলা অভিমুখী সড়কটি দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই কাদাপানিতে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে। বিশেষ করে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও সাধারণ পথচারীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
তারা আরও বলেন, হাট কমিটি ও প্রশাসনের সিদ্ধান্তহীনতার কারণে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না। দ্রুত সড়ক সংস্কার ও ড্রেন নির্মাণ করা না হলে আন্দোলন আরও জোরদার করারও হুঁশিয়ারি দেন বক্তারা।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া এলাকাবাসী জানান, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

 

হামের প্রাদুর্ভাবে শিশুমৃত্যু: পরিবারকে ২ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে রিট

হামে মৃত ৩৫২ শিশুর প্রত্যেক পরিবারকে ২ কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের প্রত্যেক জেলা হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আইসিইউ, পিআইসিইউ এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষাসুবিধাসহ হামের চিকিৎসার জন্য বিশেষায়িত ইউনিট স্থাপনের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

 

 

 

এ ছাড়া রিটে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), ইউনিসেফ এবং আইইডিসিআরের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে ১০ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে সারাদেশে হাম ছাড়াও জলাতঙ্ক টিকার মজুত, সংরক্ষণ ও সরবরাহ ব্যবস্থার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে সাত দিনের মধ্যে আদালতে হলফনামা আকারে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে।

 

 

 

রোববার (১০ মে) মানবাধিকার সংগঠন ল’ অ্যান্ড লাইফ ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের পক্ষে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির পল্লব, ব্যারিস্টার মোহাম্মদ কাউছার ও মো. মাকসুদুর রহমান সরকারের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং আইইডিসিআরের পরিচালককে বিবাদী করে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে জনস্বার্থে এ রিট পিটিশন দায়ের করেন। আজ বিচারপতি রাজিক আল জলিল এবং বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর দ্বৈত বেঞ্চের অনুমতি নিয়ে রিটটি দাখিল করা হয়।

রিটে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশে ২০২৬ সালের মার্চ মাস থেকে শুরু হওয়া ভয়াবহ হাম প্রাদুর্ভাবে এ পর্যন্ত ৩৫২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সারাদেশে হাজার হাজার শিশু আক্রান্ত হচ্ছে এবং পরিস্থিতি ইতোমধ্যে দেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম গুরুতর জনস্বাস্থ্য সংকটে রূপ নিয়েছে। এই মৃত্যুগুলো আকস্মিক বা অনিবার্য ছিল না। বরং টিকা সংগ্রহ ও সরবরাহ ব্যবস্থায় নীতিগত পরিবর্তন, দীর্ঘদিনের কার্যকর ব্যবস্থার ব্যত্যয়, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সতর্কবার্তা উপেক্ষা এবং পর্যাপ্ত স্বাস্থ্য অবকাঠামোর অভাবের ফলেই এই বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে।

রিট পিটিশনে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে ইউনিসেফের মাধ্যমে পরিচালিত টিকা সংগ্রহ ব্যবস্থায় পরিবর্তন এনে বিগত অন্তর্বর্তী সরকার উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতি প্রবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর দেশে হামের টিকার সরবরাহ ও টিকাদান কার্যক্রমে গুরুতর বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। ইউনিসেফ একাধিকবার সম্ভাব্য টিকা সংকট, রোগের প্রাদুর্ভাব এবং শিশু মৃত্যুর ঝুঁকি সম্পর্কে তৎকালীন স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নুরজাহান বেগমকে সতর্ক করলেও তাতে কর্ণপাত করা হয়নি।

রিটে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পর্যাপ্ত আইসিইউ, পিআইসিইউ এবং বিশেষায়িত চিকিৎসাসুবিধার অভাবে বহু শিশু সময়মতো চিকিৎসা পায়নি। অনেক পরিবার এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে ঘুরেও শিশুদের জন্য আইসিইউ বা পিআইসিইউ বেড সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হয়েছে, যার ফলে একাধিক শিশুর মৃত্যু ঘটেছে।

 

 

 

উক্ত রিটে মৃত ৩৫২ শিশুর প্রত্যেকের পরিবারকে ২ কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের প্রতিটি জেলা হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আইসিইউ, পিআইসিইউ এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষাসুবিধাসহ বিশেষায়িত হামের চিকিৎসা ইউনিট স্থাপনের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

 

 

 

এ ছাড়া বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ এবং আইইডিসিআরের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে ১০ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে, যারা হামের প্রাদুর্ভাবের মূল কারণ, প্রশাসনিক ব্যর্থতা এবং দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে ৩০ দিনের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করবে। একইসঙ্গে সারাদেশে হাম ছাড়াও জলাতঙ্ক টিকার মজুত, সংরক্ষণ ও সরবরাহ ব্যবস্থার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে সাত দিনের মধ্যে আদালতে হলফনামা আকারে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশনাও প্রার্থনা করা হয়েছে।

 

 

 

রিটে বলা হয়েছে, সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইন, ২০১৮ অনুযায়ী জরুরি ভিত্তিতে যথাযথ প্রতিরোধমূলক ও চিকিৎসামূলক ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ব্যর্থ হয়েছে। ফলে তদন্তে যাদের দায় প্রমাণিত হবে, তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে।

 

 

 

এ বিষয়ে গত ৫ মে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে একটি আইনি নোটিশ পাঠিয়ে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছিল। কিন্তু নোটিশের মেয়াদ অতিবাহিত হওয়ার পরও কোনো কার্যকর প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় এবং প্রতিদিন হামের পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় জনস্বার্থে এ রিট পিটিশন দায়ের করা হয়েছে।

 

 

 

এ প্রসঙ্গে রিট আবেদনকারী আইনজীবী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির পল্লব বলেন, রাষ্ট্র তার নাগরিকদের, বিশেষত শিশুদের জীবন, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা রক্ষার সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে। এই রিটের উদ্দেশ্য কেবল ক্ষতিপূরণ প্রার্থনা নয়; বরং জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থায় জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা, দায়ী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা এবং ভবিষ্যতে যেন আর কোনো নাগরিককে এ ধরনের প্রতিরোধযোগ্য রোগে মৃত্যুর শিকার হতে না হয় তা নিশ্চিত করা। তিনি প্রত্যাশা করেন, দেশের সর্বোচ্চ আদালত সংবিধান এবং জনস্বার্থের অভিভাবক হিসেবে দেশের সব শিশু ও সংশ্লিষ্ট পরিবারের মৌলিক অধিকার রক্ষার্থে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবেন।

 

বিশ্বকাপের উদ্বোধনী রাতে সুরের জাদু ছড়াবেন বাংলাদেশের সঞ্জয়

ফুটবল বিশ্বকাপের উদ্বোধনী আয়োজনে এবার যুক্ত হলো বাংলাদেশের নামও। আসন্ন বিশ্বকাপের জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পারফর্ম করতে যাচ্ছেন বাংলাদেশি-আমেরিকান ডিজে সঞ্জয়। বিশ্বসংগীতের বড় বড় তারকাদের সঙ্গে একই মঞ্চে তার উপস্থিতির খবর প্রকাশের পর উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়েছে ভক্তদের মধ্যে।

 

 

আগামী ১১ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে এবার ব্যতিক্রমী আয়োজন করেছে ফিফা। স্বাগতিক তিন দেশ—যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে আলাদাভাবে তিনটি উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে। যেখানে সংগীত, সংস্কৃতি ও বিনোদনের এক বৈশ্বিক মঞ্চ তৈরি করতে যাচ্ছে ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

 

 

 

প্রথম উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে ১১ জুন মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক এস্তাদিও অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে। উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হবে মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকা। ম্যাচ শুরুর আগে মঞ্চ মাতাবেন কলম্বিয়ান রেগেটন তারকা জে বালভিন ও দক্ষিণ আফ্রিকার জনপ্রিয় গায়িকা টাইলা।

 

 

এরপর ১২ জুন কানাডার টরন্টোতে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে মাঠে নামবে স্বাগতিক কানাডা। সেই ম্যাচের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেই পারফর্ম করবেন কানাডিয়ান সংগীতশিল্পী মাইকেল বুবলে, অ্যালানিস মরিসেট এবং বাংলাদেশি-আমেরিকান ডিজে সঞ্জয়। একই আয়োজনে থাকবেন বলিউড সেনসেশন নোরা ফাতেহিও।

একই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফাই স্টেডিয়ামে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে মাঠে নামবে যুক্তরাষ্ট্র। সেই ম্যাচের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পারফর্ম করবেন বিশ্বখ্যাত পপ তারকা কেটি পেরি, দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় কে-পপ ব্যান্ড ব্ল্যাকপিঙ্কের সদস্য লিসা।

ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর মতে, বিশ্বকাপ শুধু ফুটবলের আসর নয়, এটি বিশ্ববাসীর সম্মিলিত উদযাপন। মেক্সিকো সিটি, টরন্টো ও লস অ্যাঞ্জেলেসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানগুলো সংগীত ও সংস্কৃতির এক অনন্য বৈশ্বিক মিলনমেলায় পরিণত হবে।

 

 

 

এদিকে বিশ্বকাপ ঘিরে সংগীত উন্মাদনাও শুরু হয়ে গেছে। চলতি সপ্তাহেই কলম্বিয়ান পপ তারকা শাকিরা বিশ্বকাপের অফিসিয়াল থিম সং-এর একটি ঝলক প্রকাশ করেছেন। নাইজেরিয়ান শিল্পী বার্না বয়ের সঙ্গে গাওয়া গানটি এবারের আসরের মূল সুর হিসেবে ব্যবহৃত হবে বলে জানিয়েছে ফিফা।

 

 

 

মোট ১০৪ ম্যাচের এই বিশ্বকাপকে ঘিরে ইতোমধ্যেই বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে উত্তেজনা। আর সেই মহাযজ্ঞের উদ্বোধনী মঞ্চে বাংলাদেশের একজন শিল্পীর উপস্থিতি দেশীয় সংগীতপ্রেমীদের জন্য বাড়তি গর্বের উপলক্ষ হয়ে উঠেছে।

 

 

 

মুক্তির পথে আইভী, আপিলেও মিলল জামিন

হত‍্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগের ১০ মামলায় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর জামিন বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। এর ফলে তার মুক্তিতে বাধা রইল না বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।

 

 

 

রোববার (১০ মে) হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে করা রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন খারিজ করে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন।

 

 

 

আদালতে আইভী রহমানের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট মো. মোতাহার হোসেন সাজু।

এর আগে গত বছরের ৯ মে ভোর ৩টার দিকে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ এলাকার চুনকা কুটির থেকে সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর বিভিন্ন মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরে হাইকোর্ট ৫ মামলায় তাকে জামিন দেন।

তবে আপিল বিভাগে তার স্থগিত হয়ে যায়। এরই মধ্যে গত ১৮ নভেম্বর তাকে আরও ৫ মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরে বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ গত ২৬ ফেব্রুয়ারি তাকে জামিন দেন।

 

ঈদের আগে হিলিতে মশলার দাম কমায় স্বস্তিতে ক্রেতারা

পবিত্র ঈদুল আজহা ও কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর সংলগ্ন মসলার বাজারে জমে উঠেছে বেচাকেনা। ভারত থেকে পর্যাপ্ত আমদানির ফলে গত বছরের তুলনায় এবার প্রায় সব ধরনের মসলার দাম নিম্নমুখী। এতে স্বস্তি প্রকাশ করছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা সাধারণ ক্রেতারা।
আজ রবিবার (১০ মে) সকালে হিলি বাজার ঘুরে দেখা যায়, মসলার দোকানগুলোতে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। বিশেষ করে এলাচ, জিরা, গোলমরিচ ও লবঙ্গের মতো অতিপ্রয়োজনীয় মসলার চাহিদা বেড়েছে বহুগুণ দামেও কম ।
গত বছরের তুলনায় চলতি মৌসুমে মসলার বাজারে দামের বড় ধরনের পার্থক্য লক্ষ্য করা গেছে। বর্তমানে প্রায় সব ধরনের মসলার দামই গত বছরের তুলনায় অনেকটাই কম। ​সাদা এলাচ, গত বছর ৫৫০০ – ৫৮০০ টাকা, যা বর্তমানে কমে দাঁড়িয়েছে ৪২০০ – ৪৫০০ টাকায়। কালো এলাচ, গত বছর ৩০০০ টাকা বর্তমানে তা ২৪০০ – ২৫০০ টাকা। জিরা, গত বছর প্রতি কেজি ৬৩০ টাকা, বর্তমানে তা ৫৭০ টাকা। লবঙ্গ, গত বছর ১৮০০ টাকা, বর্তমানে তা কমে হয়েছে ১৪০০ টাকা। গোলমরিচ, গত বছরের উচ্চমূল্য ১২০০ টাকার তুলনায় বর্তমানে এর দামও নিম্নমুখী।
হিলি বন্দরে মসলা কিনতে আসা পাঁচবিবির বাসিন্দা সাজু মিয়া জানান, যেহেতু হিলি দিয়ে সরাসরি ভারত থেকে মসলা আমদানি হয়, তাই এখানে সব সময় সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য পাওয়া যায়। প্রতি বছরের মতো এবারও হিলি বাজার থেকে ঈদের জন্য গোশতের মসলা কেনাকাটা করেছি৷
স্থানীয় ক্রেতা সোহেল রানা বলেন, গতবারের তুলনায় দাম অনেক কম। বিশেষ করে সাদা এলাচ কেজিতে ১০০০ থেকে ১৩০০ টাকার বেশি কমে পাওয়ায় আমাদের মতো সাধারণ মানুষের জন্য অনেক সুবিধা হয়েছে।
হিলি বাজারের বিসমিল্লাহ মসলা ঘর এর মহাজন  আওলাদ হোসেন জানান, ভারত থেকে নিয়মিত ও পর্যাপ্ত পরিমাণে মসলা আমদানি হওয়ার কারণে এবার বাজার বেশ স্থিতিশীল। তিনি বলেন ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকারি ও খুচরা ক্রেতারা তত বেশি আসছেন। বর্তমানে বেচাকেনা বেশ ভালো। আমরা আশা করছি, ঈদের আগে বিক্রি আরও কয়েকগুণ বাড়বে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আমদানির এই ধারা অব্যাহত থাকলে এবং বাজার মনিটরিং ঠিক থাকলে ঈদের আগ পর্যন্ত মসলার দাম সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যেই থাকবে।

 

নিকলীতে মাদকবিরোধী অভিযানে আটক স্বামী-স্ত্রী

কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে ইয়াবাসহ এক দম্পতিকে গ্রেফতার করেছে নিকলী থানা পুলিশ। রোববার ভোররাতে উপজেলার ভাটি বরাটিয়া গ্রামে পরিচালিত এ অভিযানে তাদের নিজ বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ও নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

 

 

পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে নিকলী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গোপনে মাদক ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ উঠছিল একটি চক্রের বিরুদ্ধে। সম্প্রতি স্থানীয়দের একাধিক অভিযোগ ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই চক্রের সদস্যদের শনাক্তে নজরদারি শুরু করে নিকলী থানা পুলিশ। এরই ধারাবাহিকতায় রোববার ভোরে উপজেলার ভাটি বরাটিয়া গ্রামে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

 

 

গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন— উপজেলার ভাটি বরাটিয়া গ্রামের বাসিন্দা আলী হোসেনের ছেলে নাদিম (২৯) এবং তার স্ত্রী রানু (২৬)। পুলিশ দাবি করেছে, তারা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় গোপনে ইয়াবা বিক্রি ও সরবরাহের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

 

 

অভিযান পরিচালনা করেন নিকলী থানার এসআই রোমান খান। তার সঙ্গে ছিলেন এসআই আব্দুস ছোবহান, এসআই শারিফুজ্জামান, পিএসআই সাগর বিশ্বাস, এএসআই আমজাদ হোসেন, এএসআই জাকির হোসেনসহ পুলিশের একটি চৌকস দল। পুরো অভিযানটি পরিচালিত হয় নিকলী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহাবুবুর রহমানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে।

 

 

পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, ভোররাতে অভিযানের সময় সন্দেহভাজনদের বাড়ি ঘিরে ফেলে পুলিশ। পরে তল্লাশি চালিয়ে ঘরের ভেতর থেকে ৬২ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও নগদ ১৩ হাজার ৪৪০ টাকা উদ্ধার করা হয়। এ সময় নাদিম ও তার স্ত্রী রানুকে আটক করা হলেও আনোয়ার হোসেন নামে আরেক ব্যক্তি কৌশলে পালিয়ে যান। তাকে আটকের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

 

 

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, উদ্ধার হওয়া নগদ অর্থ মাদক বিক্রির টাকা হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

 

 

এ ঘটনায় গ্রেফতার দুইজনসহ মোট তিনজনকে আসামি করে নিকলী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার পর আটককৃতদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে থানা পুলিশ।

 

 

 

নিকলী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহাবুবুর রহমান বলেন, “জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় নিকলীতে মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ করছে পুলিশ। মাদক কারবারিদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে।”

 

 

স্থানীয় সচেতন মহল পুলিশের এ ধরনের অভিযানের প্রশংসা করে বলেন, মাদক বর্তমানে সমাজের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে যুবসমাজ ধ্বংসের মুখে পড়ছে। তাই মাদক নির্মূলে প্রশাসনের পাশাপাশি সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে।

 

বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর ৭৬তম জন্মদিন আজ

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী এবং বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর আজ ৭৬ তম জন্মদিন।

 

 

 

 

১৯৫০ সালের ১০ মে তিনি সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার শিয়ালকোল ইউনিয়নের কয়েলগাঁতী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মরহুম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ ছিলেন পাকিস্তান সরকারের কেন্দ্রীয় শিল্প ও প্রাকৃতিক সম্পদ মন্ত্রী।

 

 

 

 

ইকবাল হাসান মাহমুদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করে ১৯৭৫ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ছাত্র অবস্থাতেই তিনি ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতিতে যুক্ত হন। তিনি ১৯৬৯ সালে ১১ দফা আন্দোলনেও অংশগ্রহণ করেন। পরবর্তী ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণ করেন।

 

 

 

 

রাজনৈতিক জীবনে ইকবাল হাসান মাহমুদ জাতীয় পার্টি ও পরবর্তীতে বিএনপির সঙ্গে যুক্ত হন। জাতীয় পার্টির প্রার্থী হয়ে ১৯৮৬ ও ১৯৮৮ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এর আগে সিরাজগঞ্জ জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

 

 

 

 

২০০০ সালে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপিতে যোগ দেন। ২০০১ সালের নির্বাচনে চারদলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে সিরাজগঞ্জ-২ আসনের নির্বাচন করেন। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট প্রার্থী সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমকে পরাজিত করে বিজয়ী হন। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারে বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও শেষ দিকে এসে কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

 

 

 

 

দীর্ঘ ১৭ বছর পর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি সিরাজগঞ্জ-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তার দল বিএনপি সরকার গঠন করে। তারেক রহমানের মন্ত্রীসভায় তিনি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন।

 

 

 

 

বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ও বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৯ সালের সর্বশেষ কাউন্সিলে তিনি বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মনোনীত হয়ে অদ্যাবধি দায়িত্ব পালন করছেন।

 

 

 

 

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বিভিন্ন রাজনৈতিক মামলার আসামি হিসেবে একাধিকবার তিনি কারাবরণ করেছেন।

 

 

 

 

ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর ৭৬ তম জন্মদিনে তাঁর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে বিবৃতি দিয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু।

 

 

 

 

তিনি বলেছেন, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর জন্মগ্রহণের মধ্য দিয়ে সিরাজগঞ্জ আলোকিত হয়েছে। সম্ভ্রান্ত রাজনৈতিক পরিবারের তাঁর জন্ম হয়েছে। তিনি সিরাজগঞ্জবাসীর অভিভাবক। তাঁর নেতৃত্বে সিরাজগঞ্জে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষা হচ্ছে।
প্রিয় নেতা ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্য কামনা করি। মহান রাব্বুল আলামিন তাঁকে দীর্ঘজীবি করবেন এটাই আমাদের কাম্য।

 

 

 

 

এদিকে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর জন্মদিন উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপি ও এর অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

 

 

আইনজীবী আলিফ হত্যা মামলা: চিন্ময় দাশকে জামিন দেননি হাইকোর্ট

চট্টগ্রামে আইনজীবী আলিফ হত্যা মামলায় ইসকন নেতা চিন্ময় দাশকে জামিন দেননি হাইকোর্ট।

 

 

 

রোববার (১০ মে) জামিনের রুল খারিজ করে বিচারপতি কে এম জাহিদ সারোয়ার ও বিচারপতি আবু তাহেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।

 

 

 

এছাড়া পুলিশের ওপর হামলা, কাজে বাধার, আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের ওপর হামলা ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় করা আরও ৪টি মামলায় জামিনের বিষয়ে জারি করা রুলের রায় কাল দিবেন বলেও জানায় হাইকোর্ট।

এর আগে গত ৭ মে ৫ মামলায় চিন্ময় কৃষ দাশকে কেনো জামিন দেওয়া হবে না জানতে চেয়ে রুল জারি করেছিলেন হাইকোর্ট।

আলিফ হত্যা মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ চলমান থাকায় এই মুহূর্তে চিন্ময় দাসকে জামিন দেওয়া যাবে না বলেও যুক্তি তুলে ধরে রাষ্ট্রপক্ষ। তবে তার আইনজীবীরা বলেন, তাকে জামিন দিলে মামলায় কোনো ব্যাঘাত সৃষ্টি হবে না।

 

 

বিনামূল্যে বিদ্যুৎ ও মাদকমুক্ত তামিলনাড়ুর প্রতিশ্রুতি বিজয়ের

শপথ নেওয়ার পর প্রথম দিনেই একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশে স্বাক্ষর করেছেন বিজয় থালাপতি। এর মধ্যে রয়েছে বিনামূল্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ, মাদকবিরোধী কঠোর পদক্ষেপ এবং নারীদের নিরাপত্তা জোরদারের উদ্যোগ।

 

 

 

রোববার (১০ মে) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

 

 

 

শপথ নেওয়ার পর ভাষণে বিজয় তামিল ভাষার একটি পরিচিত বাক্য দিয়ে বক্তব্য শুরু করেন। ‘এন নেনজিল কুদিয়িরুকুম’, যার অর্থ ‘যিনি আমার হৃদয়ে বাস করেন’। অতীতেও তিনি তার ভক্তদের উদ্দেশে এ বাক্য ব্যবহার করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রথম নির্দেশনায় টিভিকে প্রধান বিজয় ঘোষণা করেন, ২০০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিনামূল্যে দেওয়া হবে। পাশাপাশি মাদক সমস্যা মোকাবিলায় একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করা হবে এবং নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি বিশেষ বাহিনী ও হেল্পলাইন চালু করা হবে।

তিনি জানান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পানীয় জলের মতো মৌলিক বিষয়ে বিশেষভাবে নজর দেওয়া হবে। কৃষক ও মৎস্যজীবীদের কল্যাণেও কাজ করা হবে। সবকিছু ভালো হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

বিজয় বলেন, একজন সহকারী পরিচালকের ছেলে আজ মুখ্যমন্ত্রী হয়েছে। আমি দারিদ্র্য ও ক্ষুধা দেখেছি। আমি কোনো রাজপরিবার থেকে আসিনি। অনেক কষ্ট সহ্য করেছি, অনেকেই আমাকে অপমান করেছে। আমি আপনাদের ছেলে, আপনাদের ভাইয়ের মতো। আপনারা আমাকে হৃদয়ে জায়গা দিয়েছেন, গ্রহণ করেছেন।

 

 

মিথ্যা প্রতিশ্রুতি না দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, ডিএমকে রাজ্যের কোষাগার শূন্য করে দিয়েছে। আর আমরা এমন এক পরিস্থিতিতে দায়িত্ব নিয়েছি, যেখানে প্রায় ১০ লাখ কোটি রুপি ঋণ রয়েছে। আমরা জনগণের অর্থ থেকে এক পয়সাও নেব না এবং কাউকে রাজ্য লুট করতে দেব না।

 

 

 

 

তিনি ‘নতুন যুগের বাস্তব, ধর্মনিরপেক্ষ ও সামাজিক ন্যায়ের’ প্রতিশ্রুতি দিয়ে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও প্রবীন চক্রবর্তী, বাম নেতা মা বেবি এবং অন্যান্য জোটসঙ্গীদের ধন্যবাদ জানান।

 

 

রায়গঞ্জে গরু চুরি রোধে ‘বাঁশ ব্যারিয়ার: ব্যতিক্রমী উদ্যোগে খামারিদের স্বস্তি

পবিত্র ঈদুল আজাহকে সামনে রেখে সিরাজগঞ্জের  রায়গঞ্জে গরু চুরি রোধে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। চোরদের যাতায়াত ও পিকআপ ভ্যান ঠেকিয়ে দিতে বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা ও গ্রামের সংযোগ সড়কগুলোতে বাঁশ বেঁধে ব্যারিয়ার তৈরি করা হয়েছে। আর এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন রায়গঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আহসানুজ্জামান নিজে।
উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, সন্ধ্যার পর থেকে গ্রামের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার মোড়ে মোড়ে বাঁশ দিয়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়েছে। কোনো কোনো স্থানে স্থানীয় তরুণ ও কৃষকরা দলে বিভক্ত হয়ে রাত জেগে লাঠি ও টর্চ হাতে পাহারা দিচ্ছেন। বিশেষ করে ধানগড়া, চান্দাইকোনা,ব্রহ্মগাছা,ধামাই নগর ও সংলগ্ন ইউনিয়নগুলোর গ্রামগুলোতে এ তৎপরতা বেশি দেখা যাচ্ছে।
বাঐখোলা গ্রামের খামারী আব্দুর রাকিব খান বলেন, অনেক কষ্ট করে তিলে তিলে একেকটি গরু বড় করা হয়। কিন্তু সম্প্রতি সংঘবদ্ধ চোর চক্র ট্রাক বা পিকআপ নিয়ে গ্রামে ঢুকে মুহূর্তের মধ্যে গোয়াল ঘর ফাঁকা করে দেয়।  শালিয়া গাড়ি গ্রামের আব্দুর রশিদ বলেন, ওসির নির্দেশে  গরু চুরি রোধে শালিয়া গাড়ি বাজারেও একটি বাঁশ কল স্থাপন করা হয়েছে। পুলিশি টহলের পাশাপাশি গ্রামবাসী নিজেদের উদ্যোগে বাঁশ দিয়ে রাস্তা আটকে পাহারার ব্যবস্থা করেছেন যাতে অপরিচিত কোনো গাড়ি গ্রামে ঢুকতে গেলেই বাধার মুখে পড়ে। সদর উপজেলার বাগবাটি গ্রামের আব্দুল কুদ্দুস বলেন , চুরি রোধে ব্রহ্মগাছা বাজারের প্রবেশপথে একটি বাঁশ কল বসানো হয়েছে। এরপর থেকে এই এলাকায় কোন গরু চুরি হয়নি।
চান্দাইকোনা ইউনিয়ন বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু সামা সরকার বলেন, আমার গ্রাম রুদ্রপুরে প্রবেশপথে শক্ত বাঁশ দিয়ে গেটের মতো তৈরি করা হয়েছে। রাত ১০টার পর থেকে ভোররাত পর্যন্ত খামারিরা পালাক্রমে পাহারা দিচ্ছেন। চোর বা সন্দেহভাজন কাউকে দেখা মাত্রই এলাকাবাসীকে সজাগ করতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অবশ্য এই কাজে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের পুলিশ বিট অফিসার ও গ্রাম পুলিশ সদস্য সহযোগিতা করছেন।
চান্দাইকোনা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ হাবিবুর রহমান খান বলেন,জনবলের সীমাবদ্ধতার কারণে পুলিশের একার পক্ষে প্রতিটি গ্রামের অলিগলি পাহারা দেওয়া সম্ভব নয়। খামারিদের এই ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা চুরি রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। তবে আইন নিজের হাতে না তুলে সন্দেহভাজন কাউকে আটক করলে দ্রুত পুলিশকে হস্তান্তরের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পুলিশের এ ধরনের উদ্যোগকে তিনি অভিনন্দন জানিয়েছেন।
রায়গঞ্জ উপজেলা সদর ধানগড়া মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক শিশির কুমার বলেন,এই ‘বাঁশ ব্যারিয়ার ‘ ব্যবস্থা এবং রাত্রিকালীন পাহারার ফলে চুরির প্রকোপ কমবে বলে তারা আশা করছেন। তবে এর পাশাপাশি পুলিশি টহল আরও জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।
এ ব্যাপারে রায়গঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহসানুজ্জামান বলেন, উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথে গত দুই মাস পূর্বে বাঁশকল বসানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের পুলিশের বিট অফিসার গ্রাম পুলিশ এবং গ্রামের খামারীরা এই কাজে সহযোগিতা করছেন। তিনি আশা করেন এর ফলে উপজেলায় আর কোন  গরু চুরি হবে না। সাধারণ মানুষ এবং খামারিরা নিরাপদে তারা গরু লালন পালন করতে পারবেন।

কোটি টাকার হেরোইনসহ নারী মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় কোটি টাকার মূল্যের এক কেজি হেরোইনসহ এক নারী মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-১২ সদস্যরা।

 

 

 

শনিবার (৯ মে) সন্ধ্যায় হাটিকুমরুল-বনপাড়া মহাসড়কের উপজেলার সলঙ্গা থানাধীন হরিণচড়া বাজার এ অভিযান চালানো হয়।

 

 

 

রোববার (১০ মে) সকালে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন র‌্যাব-১২ সিরাজগঞ্জ সদর কোম্পানির কমান্ডার ক্যাপ্টেন তাবরীজ তাজওয়ার শরীফ। ৫২ বছর বয়সী গ্রেপ্তারকৃত নারীর নাম পরিচয় তদন্তের স্বার্থে গোপন রাখা হয়েছে বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তিনি উল্লেখ করেন।

 

 

 

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে র‌্যাব কমান্ডার বলেন, গোপন সংবাদ ও তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় শনিবার হরিণচড়া এলাকায় এক মাদক বিরোধী অভিযান চালানো হয়। এ সময় ওই নারীকে আটক করে তার শরীর তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার হয় এক কেজি হেরোইন।

 

 

 

রায়গঞ্জে ব্র্যাক সিড অ্যান্ড অ্যাগ্রো এন্টারপ্রাইজের উদ্যোগে ধানের অধিক ফলন নিশ্চিতে প্রশিক্ষণ কর্মশালা

ব্র্যাক সিড অ্যান্ড অ্যাগ্রো এন্টারপ্রাইজের উদ্যোগে হাইব্রিড ধান চাষের আধুনিক কলাকৌশল ও অধিক ফলন নিশ্চিতকরণ শীর্ষক এক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

 

 

শনিবার দিনব্যাপী উপজেলার সলঙ্গা বাজারে এ কর্মশালায় স্থানীয় কৃষকদের হাইব্রিড ধান চাষের আধুনিক প্রযুক্তি ও রোগবালাই দমনে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।

 

 

 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রায়গঞ্জের উপজেলার কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো: মমিনুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাক সিডের বগুড়া রিজিওনাল সেলস্ ম্যানেজার মানিক রাহা। সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া টেরিটোরি সেলস অফিসার আল আমিন – এর সঞ্চালনা ও সার্বিক তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠানটি আয়োজিত হয়। উল্লাপাড়া টেরিটোরির সিরাজগঞ্জ জেলার রায়গঞ্জ উপজেলার সলঙ্গা বাজারের এর ডিলার মো: মোজাম্মেল হক । আরোও উপস্থিত ছিলেন উল্লাপাড়া ১ এর টেরিটোরির সেলস অফিসার কৃষিবিদ মধুসূদন কুমার মন্ডল।

 

 

 

 

কর্মশালায় বক্তারা গুণগত মানসম্পন্ন হাইব্রিড ধানের উৎপাদন ও ফলন বৃদ্ধিতে ব্র্যাকের বীজর গুরুত্ব তুলে ধরেন। চাষাবাদের আধুনিক পদ্ধতি হিসেবে মাটি নির্বাচন, মাটির পিএইচ পরীক্ষা ও নিয়ন্ত্রণ, জমি শোধন এবং সঠিক দূরত্বে বীজ রোপণের ওপর বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এছাড়া মাটির গুণাগুণ অনুযায়ী সারের সঠিক ব্যবহার এবং সেচ প্রয়োগের সময়সূচী মেনে চলার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

 

 

 

 

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় অধিবেশনে হাইব্রিড ধানের মড়ক বা ‘ধানের শিষ ব্লাষ্ট রোগসহ কাণ্ডপচা রোগের আধুনিক প্রতিকার নিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। বিশেষ করে ভাইরাসজনিত রোগ নিয়ন্ত্রণে জাব পোকা (এফিড) দমনের রাসায়নিক ও ম্যানুয়াল পদ্ধতিগুলো কৃষকদের হাতে-কলমে শিখিয়ে দেওয়া হয়।

 

 

 

 

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো: মমিনুল ইসলাম বলেন ফসল সংগ্রহের আগের ও পরের ব্যবস্থাপনাও অত্যন্ত জরুরি।

 

 

 

 

আয়োজক প্রতিষ্ঠান ব্র্যাক সিড জানায়, দেশব্যাপী কৃষক পর্যায়ে এ ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষকরা আধুনিক কৃষি ব্যবস্থাপনায় আরও দক্ষ হয়ে উঠবে। এর ফলে হাইব্রিড ধান চাষে ঝুঁকি কমবে এবং হাইব্রিড জাতের কাঙ্ক্ষিত ফলন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

 

 

 

 

আয়োজিত প্রোগ্রাম শেষে ব্র্যাক সিডের হাইব্রিড ধান রাজা কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হয়।

 

 

রায়গঞ্জে ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজ, লাল নিশানায় চলছে সতর্কতা

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার ধানগড়া-বাগবাটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের হবনগাতি এলাকায় একটি ব্রিজের দুই পাশে লাল কাপড় টাঙিয়ে সতর্কবার্তা দিলেও ক্ষতিগ্রস্ত অংশ সংস্কারে এখনো দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এতে প্রতিদিন চরম ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে শত শত যানবাহন ও সাধারণ মানুষ।
রোববার (১০ মে) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, কয়েক মাস আগে ব্রিজের দুই পাশের সড়কের একাংশ ভেঙে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথমে এলাকাবাসী নিজেদের উদ্যোগে সেখানে লাল কাপড় বেঁধে সতর্কতা তৈরি করেন। পরে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও একই ধরনের সতর্ক সংকেত টাঙানো হয়। তবে রাতে বা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এসব লাল নিশানা সহজে চোখে পড়ে না, ফলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা আরও বেড়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় রিকশাচালক আবুল কালাম বলেন, “রাতে এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে ভয় লাগে। শুধু লাল কাপড় বেঁধে রেখে গেছে, কিন্তু মেরামতের জন্য এখনো কাউকে দেখা যায়নি।”
স্থানীয়দের দাবি, ধানগড়া-বাগবাটি সড়কটি এলাকায় যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ। প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে পণ্যবাহী ট্রাক, যাত্রীবাহী যানবাহন এবং স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা চলাচল করে। ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত সংস্কার না করা হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
এ বিষয়ে রায়গঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী রবিউল আলম বলেন, “বিষয়টি আমাদের নজরে রয়েছে। প্রাথমিক সতর্কতা হিসেবে লাল নিশানা টাঙানো হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

কামারখন্দে সড়ক দুর্ঘটনায় বুদ্ধি প্রতিবন্ধী যুবকের মৃত্যু

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলায় যমুনা সেতু পশ্চিম সংযোগ মহাসড়কে অজ্ঞাত গাড়ির চাপায় আসিফ (২০) নামে এক বুদ্ধি প্রতিবন্ধী যুবকের মৃত্যু হয়েছে। রোববার (১০ মে) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার মফিজ মোড় এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত আসিফ উপজেলার কোনাবাড়ী গ্রামের লিয়াকত আলীর ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, আসিফ বুদ্ধি প্রতিবন্ধী হওয়ায় প্রায়ই মহাসড়কের আশপাশে ঘোরাফেরা করতেন। অনেক সময় তাকে সড়কের ডিভাইডারের ওপর দাঁড়িয়ে থাকতেও দেখা যেত। রোববার সকালে রাস্তা পারাপারের সময় দ্রুতগতির একটি অজ্ঞাত গাড়ি তাকে চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন ও স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যান।
এ বিষয়ে যমুনা সেতু পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম জানান, ঘটনার প্রায় এক ঘণ্টা পর পুলিশ বিষয়টি জানতে পারে। অজ্ঞাত একটি গাড়ি তাকে চাপা দিয়ে পালিয়ে গেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। পরিবারের সদস্যরা মরদেহ বাড়িতে নিয়ে যাওয়ায় এবং নিহত ব্যক্তি বুদ্ধি প্রতিবন্ধী হওয়ায় মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়নি।

শপথ নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হলেন বিজয়

তামিলনাড়ুর নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন চন্দ্রশেখর জোসেফ বিজয় বা বিজয় থালাপতি। রোববার (১০ মে) সকালে চেন্নাইয়ের জওহরলাল নেহরু ইনডোর স্টেডিয়ামে তার শপথ অনুষ্ঠান হয়।

 

 

 

অভিনেতা থেকে রাজনীতিতে আসা ৫১ বছরের বিজয়ের দল তামিলাগা ভেট্রি কাজাগাম সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে ২৩৪টির মধ্যে ১০৮টি আসনে জয় লাভ করে। তবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত না হওয়ায় আটকে যায় তার শপথগ্রহণ। টানা পাঁচ দিন প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিতে আলোচনা ও গভর্নরের সঙ্গে চার দফা বৈঠক করতে হয় তাকে।

 

 

 

শেষ পর্যন্ত কংগ্রেসের পাঁচজন, বিদুথালাই চিরুথাইগাল কাচ্চির দুজন, ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি ও ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির (মার্কসবাদী) দুজন এবং ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লীগের দুই বিধায়কের সমর্থন নিয়ে বিজয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেন।

দুটি আসন থেকে নির্বাচিত হওয়ায় একটি আসন ছাড়তে হবে বিজয়কে। এরপরও তার জোটের মোট সদস্য সংখ্যা দাঁড়াবে ১২০ জনে।

এই সরকার গঠনের মাধ্যমে প্রায় ৬০ বছর পর তামিলনাড়ুতে ডিএমকে ও এআইএডিএমকের বাইরে অন্য কোনো দলের সরকার প্রতিষ্ঠিত হলো।

 

 

সিরাজগঞ্জে নির্মিত হচ্ছে আধুনিক ‘আল-আকসা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ’ কমপ্লেক্স

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার ৩ নম্বর বহুলী ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী ডুমুর ইছা গ্রামে নির্মিত হতে যাচ্ছে আধুনিক “আল-আকসা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ” কমপ্লেক্স। একইসঙ্গে একটি আধুনিক মাদ্রাসা, মাদ্রাসা ময়দান, ঈদগাহ মাঠ, খেলার মাঠ, প্রতিবন্ধী স্কুল ও স্পোর্টিং ক্লাব প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এসব উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা।

ডুমুর ইছা গ্রামের সাংবাদিক মো. ইয়াকুব আলী তালুকদারের উদ্যোগ ও আহ্বানে এবং প্রবাসী মো. আইয়ুব আলী তালুকদার ও মো. লিখন আলী তালুকদারের যৌথ সমন্বয়ে এই বৃহৎ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। এলাকার ধর্মীয়, সামাজিক ও শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নকে সামনে রেখে প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

উদ্যোক্তা মো. ইয়াকুব আলী তালুকদার বলেন, আধুনিক মসজিদ কমপ্লেক্স ও মাদ্রাসা ভবন নির্মিত হলে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা সুন্দর ও মনোরম পরিবেশে মহান আল্লাহর ইবাদত-বন্দেগি করতে পারবেন। পাশাপাশি গরিব, অসহায় ও তলবে এলেম শিক্ষার্থীরা ইসলামী শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করার সুযোগ পাবে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এই প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষার্থীরা ইসলামী জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে দেশ-বিদেশে সুনাম বয়ে আনতে সক্ষম হবে, ইনশা আল্লাহ।

তিনি আরও জানান, মসজিদ ও মাদ্রাসার পাশাপাশি একটি ঈদগাহ মাঠ, যুব সমাজের জন্য স্পোর্টিং ক্লাব এবং খেলার মাঠ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে যুবসমাজকে মাদক ও নানা সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রেখে সুস্থ ও সুন্দর সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে সামাজিক বিভিন্ন বিরোধ ও সমস্যা সমাধানের জন্য একটি ইতিবাচক পরিবেশও তৈরি করা হবে।

এই মহৎ উদ্যোগে এলাকার প্রবীণ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও একাত্মতা প্রকাশ করেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন মো. আব্দুস সাত্তার তালুকদার, মো. মঞ্জুর হাসান ঝন্টু, মো. আব্দুল মান্নান তালুকদার, মো. ঈমান আলী তালুকদার, মো. ইউনুস আলী তালুকদার, মো. আনোয়ার হোসেন সেখ, মো. আদম আলী তালুকদার, মো. হাসান সেখ, মো. রওশন আলী তালুকদার, মো. আব্দুল মোমিন সেখ, মো. সুমন তালুকদার, মো. ফরজ আলী তালুকদার, মো. হারুনর রশীদ হিরোন, মো. আশরাফুল ইসলাম ও মো. আলহাজ্ব আলী তালুকদারসহ আরও অনেকে।

তারা বলেন, এই প্রতিষ্ঠানের সার্বিক উন্নয়ন ও সফল বাস্তবায়নে তারা সবসময় সহযোগিতা করে যাবেন।

সবশেষে মো. ইয়াকুব আলী তালুকদার এলাকাবাসী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “এটি শুধু একটি স্থাপনা নির্মাণের উদ্যোগ নয়, বরং একটি আদর্শ সমাজ গঠনের স্বপ্ন। তাই গ্রামের ছোট-বড় সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে এসে সহযোগিতা করতে হবে। মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই এই মহৎ উদ্যোগ সফল করা সম্ভব।”

জননিরাপত্তা নিশ্চিত করাই পুলিশের মূল দায়িত্ব: প্রধানমন্ত্রী

জনগণের শান্তি এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পুলিশের দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (১০ মে) সকালে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স মাঠে বার্ষিক প্যারেড অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে তিনি এই কথা বলেন।

 

 

 

এর আগে ‘আমার পুলিশ, আমার দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে চারদিনব্যাপী পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬ এর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

 

 

 

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের বক্তব্যে তিনি বলেন, পুলিশ কর্মকর্তা এবং সদস্যবৃন্দ আনন্দঘন এই আয়োজন আপনারা সকলেই উপভোগ করেছেন। আমার কাছে এটি শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা মনে হয়নি। বরং এটি ছিল পুলিশ সদস্যদের শৃঙ্খলা, আত্মমর্যাদা দায়িত্ববোধ এবং সুন্দর ভবিষ্যতের দিকে দৃপ্ত পায়ে এগিয়ে চলার অবিচল অঙ্গীকারের বহিঃপ্রকাশের মাধ্যম।

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের ছাত্রজনতার এক রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানের পরে দেশের স্বাধীনতা প্রিয় মানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হচ্ছে জনগণের রায়ে গঠিত বর্তমান সরকার।

তিনি আরও বলেন, বছরের পর বছর ধরে অসংখ্য হামলা মামলার শিকার নিপীড়িত নির্যাতিত অধিকারহারা মানুষ বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের সময় শান্তি এবং নিরাপত্তা চায়।

পুলিশদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের জনগণের শান্তি এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আপনাদের কার্যক্রম। অর্থাৎ পুলিশের ভূমিকার ওপর সবচেয়ে বেশি নির্ভরশীল। আপনারা জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাধ্য এবং সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করবেন। এটিই আপনাদের কাছে বর্তমান সরকারের প্রত্যাশা।

 

 

গাজীপুরে গরুচোর সন্দেহে তিনজনকে পিটিয়ে হত্যা

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার ফুলবাড়িয়া ইউনিয়নের বাঘচালা গ্রামে গরু চোর সন্দেহে গণপিটুনিতে ৩ জন নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

 

 

 

 

রোববার (১০ মে) ভোররাত থেকে সকাল পর্যন্ত এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে বিক্ষুব্ধ জনতা চোরদের ব্যবহৃত একটি ট্রাকে আগুন ধরিয়ে দেয়।

 

 

 

 

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন কালিয়াকৈর থানার ওসি শহিদুল ইসলাম। তবে নিহত তিনজনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বেশ কিছুদিন ধরে গরু চুরির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছিল। এরই ধারাবাহিকতায় রোববার গভীর রাতে একটি সংঘবদ্ধ চক্র ট্রাক নিয়ে ফুলবাড়িয়া ইউনিয়নের বাগমারা-বাঘচালা এলাকায় গরু চুরি করতে আসে বলে অভিযোগ ওঠে। এ সময় স্থানীয় লোকজন বিষয়টি টের পেয়ে মাইকিং ও চিৎকার দিয়ে আশপাশের মানুষকে জড়ো করে চারদিক থেকে চোরদের ধাওয়া দেয়।

 

স্থানীয়রা জানান, চোরচক্রের কয়েকজন সদস্য পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও তিনজনকে আটক করে গণধোলাই দেওয়া হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়। পরে উত্তেজিত জনতা চোরদের বহনের কাজে ব্যবহৃত ট্রাকটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। মুহূর্তেই ট্রাকটি আগুনে পুড়ে যায়।

খবর পেয়ে কালিয়াকৈর থানা পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

 

 

 

কালিয়াকৈর থানার ওসি শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘গরু চুরি করতে আসা সন্দেহে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা তিনজনকে আটক করে গণপিটুনি দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়। এ সময় চুরি কাজে ব্যবহৃত একটি ট্রাকেও আগুন দেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

 

 

 

এ ঘটনায় এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পালিয়ে যাওয়া অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও আটকের চেষ্টা চলছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

 

 

 

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় গরু চুরি নিয়ে উত্তেজনা ও গণপিটুনির ঘটনা বাড়ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বারবার আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার আহ্বান জানালেও এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি উদ্বেগ তৈরি করেছে।