সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

জাতীয় প্রেস ক্লাবে সালমান শাহ হত্যার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ

  • রিপোর্টার:
  • আপডেট টাইম : ০৮:০৩:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ নভেম্বর ২০২৫
  • 39

জনতার কণ্ঠ.কম

ঢাকাই সিনেমার ক্ষণজন্মা নায়ক সালমান শাহের মৃত্যুর বিচার দাবিতে আবারও উত্তাল হলো জাতীয় প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণ। প্রায় তিন দশক পরেও কাঙ্ক্ষিত বিচার না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ ভক্তরা শনিবার (১ নভেম্বর) বিকেলে এক মানববন্ধনের আয়োজন করেন। তাদের দাবি—সালমান শাহ আত্মহত্যা করেননি, তাকে হত্যা করা হয়েছে এবং অবিলম্বে এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত আসামিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে।

মানববন্ধন প্রাঙ্গণ ভক্তদের একের পর এক স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে। ‘রক্তের বন্যায় ভেসে যাবে অন্যায়’, ‘আপস না সংগ্রাম?’ এবং ‘সামিরার ফাঁসি চাই, ফাঁসি চাই’—এমন সব স্লোগানে বিচারহীনতার বিরুদ্ধে নিজেদের ক্ষোভ জানান দেন তারা।

দীর্ঘ ২৯ বছর ধরে বিচার না পাওয়ায় ভক্তরা তাদের বক্তব্যে রাষ্ট্র ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এক ভক্ত ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘৩০ বছর হয়ে গেছে সালমান হত্যার বিচার চেয়েছি। সামীরা (সালমানের স্ত্রী) এত ক্ষমতাবান? সরকারের চেয়েও তার ক্ষমতা বেশি? এত বছরে যে কয়েকটা সরকার আসছে-গেছে, এদের থেকেও কি তার ক্ষমতা বেশি? নাকি সে তার রূপ দেখিয়ে সবকিছু কন্ট্রোল করে রেখেছে?’

তিনি মামলার অন্যতম আসামি সামিরার সাম্প্রতিক আগাম জামিন নেওয়ার চেষ্টার তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ‘এত বছর বলছে আমিতো দেশে আছি। আমি তো পালাইনি। এখন পালাচ্ছে কেন? এখন কেন আদালত থেকে জামিন নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে? আমি চুরি না করলে তো প্রমাণ করে দিব যে আমি চুরি করি নাই।’

আরেক ভক্ত মামলার তদন্তে ধীরগতিতে হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ‘সালমানকে যে হত্যা করা হয়েছে এটার প্রমাণতো আছে। এদিকে ডলি জহুর, শাবনূর.. সন্দেহভাজন হিসেবে কি এদের ডাকতে পারে না? আইন কি চোখে দেখে না? কাঠের চশমা পড়ে থাকলে আরও ৩০ বছর পড়ে থাকা যাবে।’

মানববন্ধনে কেবল ক্ষোভ নয়, ছিল দীর্ঘদিনের জমানো আবেগ আর হাহাকার। ১১-১২ বছর বয়স থেকে সালমান শাহের ভিউ কার্ড জমানো এক ভক্ত বলেন, ‘২৯ বছর ধরে এই ভিউ কার্ডগুলো আমি অনেক যত্ন করে রেখেছিলাম। আজকে এগুলো বাইরে নিয়ে এসেছি। আমি বা আমরা কেউই বাঁচবো না, তবে চাই সঠিক বিচারটা দেখে যেতে।’

আরেক ভক্ত সালমান শাহের মা নীলা চৌধুরীর কষ্টের কথা তুলে ধরে আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, ‘পৃথিবীতে সবচেয়ে ভারী হচ্ছে বাবা-মায়ের কাঁধে সন্তানের লাশ। ৩০ বছর একটা মা তার সন্তানের লাশ সে নিজের হাতে কবর দিছে। আপনাদের যদি এটা হইতো, কী করতেন?’

ভক্তরা অভিযোগ করেন, আদালতের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, কিন্তু আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের গ্রেপ্তার করছে না। তারা বলেন, ‘আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। সেই শ্রদ্ধা থেকেই বলছি, আপনারা অবিলম্বে আসামিদের গ্রেপ্তার করুন।’

ভক্তরা প্রত্যয় ব্যক্ত করেন, ন্যায়বিচার না পাওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথ ছাড়বেন না। এক ভক্তের কথায়, ‘আমাদের মা নীলা চৌধুরী বলেছেন, আমরা মাফ করে দিব। কিন্তু (প্রথমে) বিচার চাই। সে যদি মারাও যায়, আমরা সালমানভক্তরা ভিক্ষা করেই মামলা চালাব। কিন্তু আমরা হত্যার বিচার চাই।’

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অদম্য পলি রানী: পা দিয়ে লিখেই দিচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষা

জাতীয় প্রেস ক্লাবে সালমান শাহ হত্যার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ

আপডেট টাইম : ০৮:০৩:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ নভেম্বর ২০২৫

জনতার কণ্ঠ.কম

ঢাকাই সিনেমার ক্ষণজন্মা নায়ক সালমান শাহের মৃত্যুর বিচার দাবিতে আবারও উত্তাল হলো জাতীয় প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণ। প্রায় তিন দশক পরেও কাঙ্ক্ষিত বিচার না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ ভক্তরা শনিবার (১ নভেম্বর) বিকেলে এক মানববন্ধনের আয়োজন করেন। তাদের দাবি—সালমান শাহ আত্মহত্যা করেননি, তাকে হত্যা করা হয়েছে এবং অবিলম্বে এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত আসামিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে।

মানববন্ধন প্রাঙ্গণ ভক্তদের একের পর এক স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে। ‘রক্তের বন্যায় ভেসে যাবে অন্যায়’, ‘আপস না সংগ্রাম?’ এবং ‘সামিরার ফাঁসি চাই, ফাঁসি চাই’—এমন সব স্লোগানে বিচারহীনতার বিরুদ্ধে নিজেদের ক্ষোভ জানান দেন তারা।

দীর্ঘ ২৯ বছর ধরে বিচার না পাওয়ায় ভক্তরা তাদের বক্তব্যে রাষ্ট্র ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এক ভক্ত ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘৩০ বছর হয়ে গেছে সালমান হত্যার বিচার চেয়েছি। সামীরা (সালমানের স্ত্রী) এত ক্ষমতাবান? সরকারের চেয়েও তার ক্ষমতা বেশি? এত বছরে যে কয়েকটা সরকার আসছে-গেছে, এদের থেকেও কি তার ক্ষমতা বেশি? নাকি সে তার রূপ দেখিয়ে সবকিছু কন্ট্রোল করে রেখেছে?’

তিনি মামলার অন্যতম আসামি সামিরার সাম্প্রতিক আগাম জামিন নেওয়ার চেষ্টার তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ‘এত বছর বলছে আমিতো দেশে আছি। আমি তো পালাইনি। এখন পালাচ্ছে কেন? এখন কেন আদালত থেকে জামিন নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে? আমি চুরি না করলে তো প্রমাণ করে দিব যে আমি চুরি করি নাই।’

আরেক ভক্ত মামলার তদন্তে ধীরগতিতে হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ‘সালমানকে যে হত্যা করা হয়েছে এটার প্রমাণতো আছে। এদিকে ডলি জহুর, শাবনূর.. সন্দেহভাজন হিসেবে কি এদের ডাকতে পারে না? আইন কি চোখে দেখে না? কাঠের চশমা পড়ে থাকলে আরও ৩০ বছর পড়ে থাকা যাবে।’

মানববন্ধনে কেবল ক্ষোভ নয়, ছিল দীর্ঘদিনের জমানো আবেগ আর হাহাকার। ১১-১২ বছর বয়স থেকে সালমান শাহের ভিউ কার্ড জমানো এক ভক্ত বলেন, ‘২৯ বছর ধরে এই ভিউ কার্ডগুলো আমি অনেক যত্ন করে রেখেছিলাম। আজকে এগুলো বাইরে নিয়ে এসেছি। আমি বা আমরা কেউই বাঁচবো না, তবে চাই সঠিক বিচারটা দেখে যেতে।’

আরেক ভক্ত সালমান শাহের মা নীলা চৌধুরীর কষ্টের কথা তুলে ধরে আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, ‘পৃথিবীতে সবচেয়ে ভারী হচ্ছে বাবা-মায়ের কাঁধে সন্তানের লাশ। ৩০ বছর একটা মা তার সন্তানের লাশ সে নিজের হাতে কবর দিছে। আপনাদের যদি এটা হইতো, কী করতেন?’

ভক্তরা অভিযোগ করেন, আদালতের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, কিন্তু আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের গ্রেপ্তার করছে না। তারা বলেন, ‘আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। সেই শ্রদ্ধা থেকেই বলছি, আপনারা অবিলম্বে আসামিদের গ্রেপ্তার করুন।’

ভক্তরা প্রত্যয় ব্যক্ত করেন, ন্যায়বিচার না পাওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথ ছাড়বেন না। এক ভক্তের কথায়, ‘আমাদের মা নীলা চৌধুরী বলেছেন, আমরা মাফ করে দিব। কিন্তু (প্রথমে) বিচার চাই। সে যদি মারাও যায়, আমরা সালমানভক্তরা ভিক্ষা করেই মামলা চালাব। কিন্তু আমরা হত্যার বিচার চাই।’