সিরাজগঞ্জ , বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ড্রেজড ম্যাটেরিয়াল অপসারণে অপপ্রচার বন্ধের দাবি, সংবাদ সম্মেলনে রয়েল মাঝি

পদ্মা সেতুর ড্রেজিং প্রকল্পের আওতায় ড্রেজড ম্যাটেরিয়াল (বালু) অপসারণ কার্যক্রমকে ঘিরে চলমান অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তাসিন তাহান কনস্ট্রাকশনের প্রোপ্রাইটর ফরিদ আহমেদ রয়েল মাঝি।

 

 

 

 

সোমবার (৬ জুলাই) রাত ৯টায় নড়িয়া প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, পদ্মা সেতুর ড্রেজিং প্রকল্পের মাধ্যমে উত্তোলিত বিপুল পরিমাণ ড্রেজড ম্যাটেরিয়াল পূর্বে শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার চরআত্রা এলাকায় পদ্মা নদীর বাম তীরসংলগ্ন ডুবোচরে ফেলে রাখা হয়েছিল। এতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হয়ে ভাঙনের ঝুঁকি সৃষ্টি হয়। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় অতীতে দুই দফায় মোট ১ কোটি ৭০ লাখ ঘনফুট ড্রেজড ম্যাটেরিয়াল অপসারণের জন্য সরকারি কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছিল।

 

 

 

তিনি জানান, একই ধারাবাহিকতায় অবশিষ্ট ড্রেজড ম্যাটেরিয়াল অপসারণের লক্ষ্যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দরপত্র আহ্বান করে। সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে তিনি ২০২৫ সালের ৬ এপ্রিল ১০ কোটি ঘনফুট ড্রেজড ম্যাটেরিয়াল অপসারণের কার্যাদেশ পান এবং সরকারি বিধি-বিধান অনুসরণ করে কাজ শুরু করেন।

 

 

 

ফরিদ আহমেদ রয়েল মাঝির অভিযোগ, কাজ শুরুর পর থেকেই একটি স্বার্থান্বেষী মহল তাঁর বৈধ কার্যক্রমকে ‘অবৈধ বালু উত্তোলন’ হিসেবে প্রচার করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে এবং কিছু গণমাধ্যমও যথাযথ তথ্য যাচাই না করেই সংবাদ প্রকাশ করেছে বলে তিনি দাবি করেন।

 

 

 

তিনি বলেন, ঈদকে কেন্দ্র করে নৌযান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা, পদ্মা নদীর তীব্র স্রোত, প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা এবং অপপ্রচারের কারণে ২০২৫ সালের ১২ সেপ্টেম্বর সাময়িকভাবে কাজ বন্ধ করতে বাধ্য হন। যদিও কার্যাদেশের মেয়াদ ছিল ৯ মাস, বাস্তবে তিনি মাত্র ৫ মাস কাজ করতে সক্ষম হন। ওই সময়ে ৫ কোটি ৭ লাখ ১৩ হাজার ৪৭০ ঘনফুট ড্রেজড ম্যাটেরিয়াল অপসারণ করা হয়।

 

 

 

পরবর্তীতে জেলা ও উপজেলা ড্রেজড ম্যাটেরিয়াল ব্যবস্থাপনা কমিটির অনুমোদনের পর প্রায় আট মাস বন্ধ থাকার পর ২০২৬ সালের ৭ মে পুনরায় কাজ শুরুর অনুমতি পান। তবে পুনরায় কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর আবারও পুরোনো ভিডিও ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ব্যবহার করে তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

 

 

 

সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, চলতি বছরের ২ জুলাই পর্যন্ত মোট ৫ কোটি ৮০ লাখ ৪৮ হাজার ৪৭০ ঘনফুট ড্রেজড ম্যাটেরিয়াল অপসারণ করা হয়েছে। এখনও অপসারণের জন্য বাকি রয়েছে ৪ কোটি ১৯ লাখ ৫১ হাজার ৫৩০ ঘনফুট।

 

 

 

ফরিদ আহমেদ রয়েল মাঝি বলেন, তিনি সরকারি কার্যাদেশ এবং নির্ধারিত শর্তাবলি মেনেই কাজ পরিচালনা করছেন। তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অনিয়মের অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট সরকারি কমিটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারে। তবে তথ্য যাচাই ছাড়া তাঁকে ‘অবৈধ বালু ব্যবসায়ী’ হিসেবে প্রচার করা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং মানহানিকর।

 

 

 

তিনি আরও বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য আত্মীয়-স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছ থেকে ঋণ গ্রহণের পাশাপাশি ড্রেজারসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতিতে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করেছেন। কিন্তু অপপ্রচার ও কাজে বাধার কারণে তিনি ইতোমধ্যে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।

 

 

 

তিনি সতর্ক করে বলেন, যথাযথ কর্তৃপক্ষ যদি তাঁর বৈধ কার্যক্রম নির্বিঘ্নে পরিচালনার পরিবেশ নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে তিনি অপসারণ কার্যক্রম বন্ধ করতে বাধ্য হবেন এবং ক্ষতিপূরণ আদায়ের জন্য আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। একই সঙ্গে যারা তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর তথ্য প্রচার করছেন, তাদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

 

 

সংবাদ সম্মেলনের শেষে ফরিদ আহমেদ রয়েল মাঝি বলেন, তাঁর প্রতিষ্ঠান অতীতেও কোনো বেআইনি কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল না, বর্তমানে নেই এবং ভবিষ্যতেও থাকবে না।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ড্রেজড ম্যাটেরিয়াল অপসারণে অপপ্রচার বন্ধের দাবি, সংবাদ সম্মেলনে রয়েল মাঝি

আপডেট টাইম : ১০:৫২:৫৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬

পদ্মা সেতুর ড্রেজিং প্রকল্পের আওতায় ড্রেজড ম্যাটেরিয়াল (বালু) অপসারণ কার্যক্রমকে ঘিরে চলমান অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তাসিন তাহান কনস্ট্রাকশনের প্রোপ্রাইটর ফরিদ আহমেদ রয়েল মাঝি।

 

 

 

 

সোমবার (৬ জুলাই) রাত ৯টায় নড়িয়া প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, পদ্মা সেতুর ড্রেজিং প্রকল্পের মাধ্যমে উত্তোলিত বিপুল পরিমাণ ড্রেজড ম্যাটেরিয়াল পূর্বে শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার চরআত্রা এলাকায় পদ্মা নদীর বাম তীরসংলগ্ন ডুবোচরে ফেলে রাখা হয়েছিল। এতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হয়ে ভাঙনের ঝুঁকি সৃষ্টি হয়। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় অতীতে দুই দফায় মোট ১ কোটি ৭০ লাখ ঘনফুট ড্রেজড ম্যাটেরিয়াল অপসারণের জন্য সরকারি কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছিল।

 

 

 

তিনি জানান, একই ধারাবাহিকতায় অবশিষ্ট ড্রেজড ম্যাটেরিয়াল অপসারণের লক্ষ্যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দরপত্র আহ্বান করে। সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে তিনি ২০২৫ সালের ৬ এপ্রিল ১০ কোটি ঘনফুট ড্রেজড ম্যাটেরিয়াল অপসারণের কার্যাদেশ পান এবং সরকারি বিধি-বিধান অনুসরণ করে কাজ শুরু করেন।

 

 

 

ফরিদ আহমেদ রয়েল মাঝির অভিযোগ, কাজ শুরুর পর থেকেই একটি স্বার্থান্বেষী মহল তাঁর বৈধ কার্যক্রমকে ‘অবৈধ বালু উত্তোলন’ হিসেবে প্রচার করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে এবং কিছু গণমাধ্যমও যথাযথ তথ্য যাচাই না করেই সংবাদ প্রকাশ করেছে বলে তিনি দাবি করেন।

 

 

 

তিনি বলেন, ঈদকে কেন্দ্র করে নৌযান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা, পদ্মা নদীর তীব্র স্রোত, প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা এবং অপপ্রচারের কারণে ২০২৫ সালের ১২ সেপ্টেম্বর সাময়িকভাবে কাজ বন্ধ করতে বাধ্য হন। যদিও কার্যাদেশের মেয়াদ ছিল ৯ মাস, বাস্তবে তিনি মাত্র ৫ মাস কাজ করতে সক্ষম হন। ওই সময়ে ৫ কোটি ৭ লাখ ১৩ হাজার ৪৭০ ঘনফুট ড্রেজড ম্যাটেরিয়াল অপসারণ করা হয়।

 

 

 

পরবর্তীতে জেলা ও উপজেলা ড্রেজড ম্যাটেরিয়াল ব্যবস্থাপনা কমিটির অনুমোদনের পর প্রায় আট মাস বন্ধ থাকার পর ২০২৬ সালের ৭ মে পুনরায় কাজ শুরুর অনুমতি পান। তবে পুনরায় কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর আবারও পুরোনো ভিডিও ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ব্যবহার করে তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

 

 

 

সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, চলতি বছরের ২ জুলাই পর্যন্ত মোট ৫ কোটি ৮০ লাখ ৪৮ হাজার ৪৭০ ঘনফুট ড্রেজড ম্যাটেরিয়াল অপসারণ করা হয়েছে। এখনও অপসারণের জন্য বাকি রয়েছে ৪ কোটি ১৯ লাখ ৫১ হাজার ৫৩০ ঘনফুট।

 

 

 

ফরিদ আহমেদ রয়েল মাঝি বলেন, তিনি সরকারি কার্যাদেশ এবং নির্ধারিত শর্তাবলি মেনেই কাজ পরিচালনা করছেন। তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অনিয়মের অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট সরকারি কমিটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারে। তবে তথ্য যাচাই ছাড়া তাঁকে ‘অবৈধ বালু ব্যবসায়ী’ হিসেবে প্রচার করা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং মানহানিকর।

 

 

 

তিনি আরও বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য আত্মীয়-স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছ থেকে ঋণ গ্রহণের পাশাপাশি ড্রেজারসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতিতে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করেছেন। কিন্তু অপপ্রচার ও কাজে বাধার কারণে তিনি ইতোমধ্যে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।

 

 

 

তিনি সতর্ক করে বলেন, যথাযথ কর্তৃপক্ষ যদি তাঁর বৈধ কার্যক্রম নির্বিঘ্নে পরিচালনার পরিবেশ নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে তিনি অপসারণ কার্যক্রম বন্ধ করতে বাধ্য হবেন এবং ক্ষতিপূরণ আদায়ের জন্য আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। একই সঙ্গে যারা তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর তথ্য প্রচার করছেন, তাদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

 

 

সংবাদ সম্মেলনের শেষে ফরিদ আহমেদ রয়েল মাঝি বলেন, তাঁর প্রতিষ্ঠান অতীতেও কোনো বেআইনি কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল না, বর্তমানে নেই এবং ভবিষ্যতেও থাকবে না।