সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo মমতাকে অব্যাহতি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হলো পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রিসভা Logo কবিগুরুর জন্মবার্ষিকী উদযাপনে প্রস্তুত শাহজাদপুরের কাছারিবাড়ি Logo নিকার অনুমোদন: ভূল্লী উপজেলা গঠনে জনসাধারণের উচ্ছ্বাস Logo ধর্ষণ মামলায় নির্দোষ ইমাম জেলে, ডিএনএ পরীক্ষায় বেরিয়ে এলো আসল তথ্য Logo অবৈধভাবে গড়ে উঠা স্থাপনা দখলমুক্ত হবে: পানি সম্পদ মন্ত্রী Logo বিদ্যুৎ মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি: বিদ্যুৎমন্ত্রী Logo  বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও ট্রান্সফরমার চোর চক্রের ৯ সদস্য গ্রেফতার Logo মাদক সেবনের দায়ে কারাদণ্ড, কলেজ ছাত্রদল সভাপতি বহিষ্কার Logo মাসুদ উদ্দিনকে জুলাই হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল Logo ইসরায়েলকে হুমকি দিলে কঠিন পরিণতি: নেতানিয়াহুর হুঁশিয়ারি

নান্দাইল দিঘিতে প্রবেশে দর্শনার্থীদের জিম্মি করে টিকেট বাণিজ্য

ঐতিহাসিক নান্দাইল দিঘির মেলা। ইনসেটে ১০০ টাকা মূল্যের টিকিট।

জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার ঐতিহাসিক নান্দাইল দিঘিতে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীদের জিম্মি করে অবৈধভাবে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক বিএনপি নেতা ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে। প্রশাসনের কোনো ধরনের অনুমোদন ছাড়াই প্রবেশপথে ১০০ টাকার টিকিট বিক্রি করে এই বাণিজ্য চালানো হয়।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, জেলার পুনট ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের ১৫ জন ব্যক্তির সমন্বয়ে একটি ‘নিরাপত্তা কমিটি’ গঠন করেন স্থানীয় বিএনপি নেতা গোলাম মোস্তফা। এরপর জাদুর খেলা দেখানোর নাম করে দিঘির প্রবেশপথে টিকিট কাউন্টার বসিয়ে দর্শনার্থীদের কাছ থেকে ১০০ টাকা করে আদায় করা হয়। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান কিংবা প্রশাসন- কাউকেই এই আয়োজনের বিষয়ে অবগত করা হয়নি।
স্থানীয়রা জানান, এর আগে নান্দাইল দিঘিতে প্রবেশে কখনো কোনো ফি লাগতো না। কিন্তু এবার ঈদের ছুটিতে মেলার নামে এই অবৈধ চাঁদাবাজি চলে। শুধু দিঘির প্রবেশপথেই নয়, পাশের এমপিওভুক্ত ডিগ্রি কলেজ মাঠে বসানো নাগরদোলা, সাম্পান নৌকা ও জাম্পিংয়ের মতো বিনোদনমূলক রাইড থেকেও প্রায় ১ লাখ টাকা চাঁদা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া মেলায় বসা ফুচকার দোকানসহ অন্যান্য ভ্রাম্যমান দোকানপ্রতি ৪ হাজার টাকা করে চাঁদা আদায় করা হয়েছে। এর ফলে মেলায় পণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়, যা নিয়ে দর্শনার্থীদের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। অভিযোগ রয়েছে, কালাই উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ইব্রাহিম হোসেনের নাম ভাঙিয়ে এবং তার ‘মৌখিক অনুমতি’ রয়েছে দাবি করে এই কার্যক্রম চালায় আয়োজকরা।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত গোলাম মোস্তফা কোনো সরকারি অনুমোদন বা টেন্ডার না নেওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, নিরাপত্তার জন্য আমাদের ৭০-৮০ জন লোক কাজ করেছে। টিকিট বিক্রি থেকে যে টাকা তোলা হয়, তা সবার মাঝে ভাগ করে দেওয়ার পর অবশিষ্ট টাকা মসজিদে দান করা হয়। তবে পরে পুলিশ এসে টিকিট বিক্রি বন্ধ করে দেয়।
উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ইব্রাহিম হোসেন ফকির তার সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করে বলেন, গোলাম মোস্তফা বিএনপির কোনো নেতা নন। প্রতি বছরই একটি সুযোগসন্ধানী গোষ্ঠী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় দর্শনার্থীদের জিম্মি করে এভাবেই অর্থ হাতিয়ে নেয়।
এ বিষয়ে কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ পাঠিয়ে টিকিট বিক্রি বন্ধ করা হয়েছে। ভুক্তভোগীদের কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মমতাকে অব্যাহতি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হলো পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রিসভা

নান্দাইল দিঘিতে প্রবেশে দর্শনার্থীদের জিম্মি করে টিকেট বাণিজ্য

আপডেট টাইম : ০৩:৩৩:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬
জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার ঐতিহাসিক নান্দাইল দিঘিতে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীদের জিম্মি করে অবৈধভাবে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক বিএনপি নেতা ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে। প্রশাসনের কোনো ধরনের অনুমোদন ছাড়াই প্রবেশপথে ১০০ টাকার টিকিট বিক্রি করে এই বাণিজ্য চালানো হয়।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, জেলার পুনট ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের ১৫ জন ব্যক্তির সমন্বয়ে একটি ‘নিরাপত্তা কমিটি’ গঠন করেন স্থানীয় বিএনপি নেতা গোলাম মোস্তফা। এরপর জাদুর খেলা দেখানোর নাম করে দিঘির প্রবেশপথে টিকিট কাউন্টার বসিয়ে দর্শনার্থীদের কাছ থেকে ১০০ টাকা করে আদায় করা হয়। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান কিংবা প্রশাসন- কাউকেই এই আয়োজনের বিষয়ে অবগত করা হয়নি।
স্থানীয়রা জানান, এর আগে নান্দাইল দিঘিতে প্রবেশে কখনো কোনো ফি লাগতো না। কিন্তু এবার ঈদের ছুটিতে মেলার নামে এই অবৈধ চাঁদাবাজি চলে। শুধু দিঘির প্রবেশপথেই নয়, পাশের এমপিওভুক্ত ডিগ্রি কলেজ মাঠে বসানো নাগরদোলা, সাম্পান নৌকা ও জাম্পিংয়ের মতো বিনোদনমূলক রাইড থেকেও প্রায় ১ লাখ টাকা চাঁদা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া মেলায় বসা ফুচকার দোকানসহ অন্যান্য ভ্রাম্যমান দোকানপ্রতি ৪ হাজার টাকা করে চাঁদা আদায় করা হয়েছে। এর ফলে মেলায় পণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়, যা নিয়ে দর্শনার্থীদের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। অভিযোগ রয়েছে, কালাই উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ইব্রাহিম হোসেনের নাম ভাঙিয়ে এবং তার ‘মৌখিক অনুমতি’ রয়েছে দাবি করে এই কার্যক্রম চালায় আয়োজকরা।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত গোলাম মোস্তফা কোনো সরকারি অনুমোদন বা টেন্ডার না নেওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, নিরাপত্তার জন্য আমাদের ৭০-৮০ জন লোক কাজ করেছে। টিকিট বিক্রি থেকে যে টাকা তোলা হয়, তা সবার মাঝে ভাগ করে দেওয়ার পর অবশিষ্ট টাকা মসজিদে দান করা হয়। তবে পরে পুলিশ এসে টিকিট বিক্রি বন্ধ করে দেয়।
উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ইব্রাহিম হোসেন ফকির তার সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করে বলেন, গোলাম মোস্তফা বিএনপির কোনো নেতা নন। প্রতি বছরই একটি সুযোগসন্ধানী গোষ্ঠী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় দর্শনার্থীদের জিম্মি করে এভাবেই অর্থ হাতিয়ে নেয়।
এ বিষয়ে কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ পাঠিয়ে টিকিট বিক্রি বন্ধ করা হয়েছে। ভুক্তভোগীদের কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।