সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo মমতাকে অব্যাহতি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হলো পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রিসভা Logo কবিগুরুর জন্মবার্ষিকী উদযাপনে প্রস্তুত শাহজাদপুরের কাছারিবাড়ি Logo নিকার অনুমোদন: ভূল্লী উপজেলা গঠনে জনসাধারণের উচ্ছ্বাস Logo ধর্ষণ মামলায় নির্দোষ ইমাম জেলে, ডিএনএ পরীক্ষায় বেরিয়ে এলো আসল তথ্য Logo অবৈধভাবে গড়ে উঠা স্থাপনা দখলমুক্ত হবে: পানি সম্পদ মন্ত্রী Logo বিদ্যুৎ মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি: বিদ্যুৎমন্ত্রী Logo  বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও ট্রান্সফরমার চোর চক্রের ৯ সদস্য গ্রেফতার Logo মাদক সেবনের দায়ে কারাদণ্ড, কলেজ ছাত্রদল সভাপতি বহিষ্কার Logo মাসুদ উদ্দিনকে জুলাই হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল Logo ইসরায়েলকে হুমকি দিলে কঠিন পরিণতি: নেতানিয়াহুর হুঁশিয়ারি

নৌকাডুবির পর বিএনপিতে ভিড়, দীর্ঘদিন পর রাজশাহীতে নতুন নেতৃত্ব

  • রিপোর্টার:
  • আপডেট টাইম : ০৭:০৩:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ নভেম্বর ২০২৫
  • 42
মো. সাকিবুল ইসলাম স্বাধীন, রাজশাহী প্রতিনিধি
প্রায় চার বছর পর রাজশাহী মহানগর বিএনপির আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। ২০২১ সালে গঠিত আহ্বায়ক কমিটিতে আহ্বায়ক ছিলেন এডভোকেট এরশাদ আলী ঈসা, সদস্য সচিব ছিলেন মামুনুর রশিদ মামুন। দীর্ঘ রাজনৈতিক স্থবিরতা, নেতৃত্ব সংকট ও বিভাজনের পর অবশেষে নতুন কমিটি ঘোষণার মধ্য দিয়ে রাজশাহী বিএনপির রাজনীতিতে আবারও নড়াচড়া শুরু হয়েছে।
বিগত চার বছরে গুটি কয়েক নেতা ত্যাগ ও সংগ্রামের রাজনীতি করেছেন। কিন্তু গত ৫ আগস্টে হাসিনা সরকারের নৌকাডুবির পর বিএনপিতে অসংখ্য নতুন মুখ যোগ দেন—যাদের মধ্যে অনেকে নিজেদের ‘ত্যাগী নেতা’ হিসেবে পরিচয় দিলেও আন্দোলন-সংগ্রামের দিনগুলোতে তাদের দেখা যায়নি বলে অভিযোগ পুরোনো কর্মীদের। এই নবাগত নেতাদের অনেকে ‘হাইব্রিড নেতা’ হিসেবে পরিচিতি পান।
অভিযোগ রয়েছে, এদের কেউ কেউ দখলবাজি, চাঁদাবাজি, পদবাণিজ্য ও আওয়ামী লীগের বিভিন্ন দোসরকে আশ্রয় দেওয়ার মতো কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। এর ফলে রাজশাহী মহানগর বিএনপি ৩–৪টি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পড়ে। একে অপরের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন, মানববন্ধন, এমনকি কেন্দ্রে অভিযোগ পাঠানোর ঘটনাও ঘটে।
পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে কেন্দ্রীয় বিএনপি সিদ্ধান্ত নেয়—রাজশাহীকে আবার ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। একসময় যেভাবে জনাব মিজানুর রহমান মিনু রাজশাহীর বিএনপিকে ঐক্যবদ্ধ রেখেছিলেন, সেই ঐক্য ফিরিয়ে আনাই এখন লক্ষ্য।
দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন,রাজশাহী একসময় বিএনপির শক্ত ঘাঁটি ছিল। সামনে জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে এখানকার নেতাকর্মীদের ঐক্য ফিরিয়ে আনতে আমরা নতুন কমিটি দিয়েছি। এই কমিটি রাজশাহীতে আবারও বিএনপির শক্ত অবস্থান ফিরিয়ে আনবে।
দলনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ও রাজশাহীর সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিনু বলেন,দীর্ঘদিন পর ত্যাগী নেতাদের নিয়ে সুন্দর একটি কমিটি ঘোষণা দিয়েছে কেন্দ্র। এখন এই কমিটির সকলের দায়িত্ব হবে নিঃস্বার্থভাবে দলের জন্য কাজ করা এবং আংশিক কমিটিকে পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে রূপ দেওয়া।
রাজশাহী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সাঈদ চাঁদ বলেন,কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তে আমরা আনন্দিত। মহানগর বিএনপির নতুন নেতৃত্বের ওপর আমাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে। তারা বিভাজন দূর করে রাজশাহীতে বিএনপিকে পুনরায় ঐক্যবদ্ধ করবে।
সভাপতি মামুনুর রশিদ মামুন বলেন, আমাদের সামনে তিনটি চ্যালেঞ্জ— দলীয় ঐক্য ফিরিয়ে আনা, সাংগঠনিক পুনর্গঠন সম্পন্ন করা এবং রাজশাহীর আন্দোলনমুখী রাজনীতি আবার সক্রিয় করা। এই লক্ষ্য নিয়েই আমরা মাঠে নামব।
সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন,“দীর্ঘদিনের স্থবিরতা ও বিভাজন আমাদের রাজনীতিকে পিছিয়ে দিয়েছিল। আমরা চাই সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে। এখন আর কাউকে বাদ নয়, সবাই রাজশাহীর বিএনপির ঘরে ফিরবে।
তিনি আরো বলেন,দলের সবার ভেদাভেদ কাটিয়ে দেশনায়ক তারেক রহমানের ঘোষিত ৩১ দফা দাবিকে বাস্তবায়নে রাজশাহী মহানগরে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করব। সামনে নির্বাচনে আমরা এই ৩১ দফাকে সামনে রেখে জনগণের ভোটাধিকার ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে দিতে চাই। বর্তমানে দেশের পরিস্থিতিতে জনগণের নিরাপত্তা খুবই জরুরি, আর সেটা নিশ্চিত করতে পারবে কেবল বিএনপি।
রাজশাহীর স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই আংশিক কমিটি যদি বিভাজনের রাজনীতি পেরিয়ে তৃণমূলকে একত্র করতে পারে, তবে রাজশাহী আবারও বিএনপির ঐতিহ্যবাহী ঘাঁটি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মমতাকে অব্যাহতি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হলো পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রিসভা

নৌকাডুবির পর বিএনপিতে ভিড়, দীর্ঘদিন পর রাজশাহীতে নতুন নেতৃত্ব

আপডেট টাইম : ০৭:০৩:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ নভেম্বর ২০২৫
মো. সাকিবুল ইসলাম স্বাধীন, রাজশাহী প্রতিনিধি
প্রায় চার বছর পর রাজশাহী মহানগর বিএনপির আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। ২০২১ সালে গঠিত আহ্বায়ক কমিটিতে আহ্বায়ক ছিলেন এডভোকেট এরশাদ আলী ঈসা, সদস্য সচিব ছিলেন মামুনুর রশিদ মামুন। দীর্ঘ রাজনৈতিক স্থবিরতা, নেতৃত্ব সংকট ও বিভাজনের পর অবশেষে নতুন কমিটি ঘোষণার মধ্য দিয়ে রাজশাহী বিএনপির রাজনীতিতে আবারও নড়াচড়া শুরু হয়েছে।
বিগত চার বছরে গুটি কয়েক নেতা ত্যাগ ও সংগ্রামের রাজনীতি করেছেন। কিন্তু গত ৫ আগস্টে হাসিনা সরকারের নৌকাডুবির পর বিএনপিতে অসংখ্য নতুন মুখ যোগ দেন—যাদের মধ্যে অনেকে নিজেদের ‘ত্যাগী নেতা’ হিসেবে পরিচয় দিলেও আন্দোলন-সংগ্রামের দিনগুলোতে তাদের দেখা যায়নি বলে অভিযোগ পুরোনো কর্মীদের। এই নবাগত নেতাদের অনেকে ‘হাইব্রিড নেতা’ হিসেবে পরিচিতি পান।
অভিযোগ রয়েছে, এদের কেউ কেউ দখলবাজি, চাঁদাবাজি, পদবাণিজ্য ও আওয়ামী লীগের বিভিন্ন দোসরকে আশ্রয় দেওয়ার মতো কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। এর ফলে রাজশাহী মহানগর বিএনপি ৩–৪টি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পড়ে। একে অপরের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন, মানববন্ধন, এমনকি কেন্দ্রে অভিযোগ পাঠানোর ঘটনাও ঘটে।
পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে কেন্দ্রীয় বিএনপি সিদ্ধান্ত নেয়—রাজশাহীকে আবার ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। একসময় যেভাবে জনাব মিজানুর রহমান মিনু রাজশাহীর বিএনপিকে ঐক্যবদ্ধ রেখেছিলেন, সেই ঐক্য ফিরিয়ে আনাই এখন লক্ষ্য।
দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন,রাজশাহী একসময় বিএনপির শক্ত ঘাঁটি ছিল। সামনে জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে এখানকার নেতাকর্মীদের ঐক্য ফিরিয়ে আনতে আমরা নতুন কমিটি দিয়েছি। এই কমিটি রাজশাহীতে আবারও বিএনপির শক্ত অবস্থান ফিরিয়ে আনবে।
দলনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ও রাজশাহীর সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিনু বলেন,দীর্ঘদিন পর ত্যাগী নেতাদের নিয়ে সুন্দর একটি কমিটি ঘোষণা দিয়েছে কেন্দ্র। এখন এই কমিটির সকলের দায়িত্ব হবে নিঃস্বার্থভাবে দলের জন্য কাজ করা এবং আংশিক কমিটিকে পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে রূপ দেওয়া।
রাজশাহী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সাঈদ চাঁদ বলেন,কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তে আমরা আনন্দিত। মহানগর বিএনপির নতুন নেতৃত্বের ওপর আমাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে। তারা বিভাজন দূর করে রাজশাহীতে বিএনপিকে পুনরায় ঐক্যবদ্ধ করবে।
সভাপতি মামুনুর রশিদ মামুন বলেন, আমাদের সামনে তিনটি চ্যালেঞ্জ— দলীয় ঐক্য ফিরিয়ে আনা, সাংগঠনিক পুনর্গঠন সম্পন্ন করা এবং রাজশাহীর আন্দোলনমুখী রাজনীতি আবার সক্রিয় করা। এই লক্ষ্য নিয়েই আমরা মাঠে নামব।
সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন,“দীর্ঘদিনের স্থবিরতা ও বিভাজন আমাদের রাজনীতিকে পিছিয়ে দিয়েছিল। আমরা চাই সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে। এখন আর কাউকে বাদ নয়, সবাই রাজশাহীর বিএনপির ঘরে ফিরবে।
তিনি আরো বলেন,দলের সবার ভেদাভেদ কাটিয়ে দেশনায়ক তারেক রহমানের ঘোষিত ৩১ দফা দাবিকে বাস্তবায়নে রাজশাহী মহানগরে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করব। সামনে নির্বাচনে আমরা এই ৩১ দফাকে সামনে রেখে জনগণের ভোটাধিকার ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে দিতে চাই। বর্তমানে দেশের পরিস্থিতিতে জনগণের নিরাপত্তা খুবই জরুরি, আর সেটা নিশ্চিত করতে পারবে কেবল বিএনপি।
রাজশাহীর স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই আংশিক কমিটি যদি বিভাজনের রাজনীতি পেরিয়ে তৃণমূলকে একত্র করতে পারে, তবে রাজশাহী আবারও বিএনপির ঐতিহ্যবাহী ঘাঁটি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।