সিরাজগঞ্জ , মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo অবকাঠামোগত সংকটেও শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে জলঢাকার পাঠানপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় Logo টানা চার মাস শ্রেষ্ঠ অফিসার ইনচার্জ নির্বাচিত হলেন সদর থানার ওসি রাকিবুল হাসান Logo তিন যুগেও নির্মিত হয়নি সেতু, প্রতিশ্রুতির ভারে নুয়ে পড়েছে সাহেবের চরবাসী Logo হোসেনপুরে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে, চিকিৎসায় প্রস্তুত হাসপাতাল Logo টেন্ডার ছাড়াই ভবন নির্মাণ শুরু চেয়ারম্যানের, বন্ধ করলেন ইউএনও Logo ‘ঘাড় থেকে মাথা সরিয়ে দেব’, বিএনপি নেতাকে হুঁশিয়ারি স্বেচ্ছাসেবক দল সভাপতির Logo নওগাঁ কারা হেফাজতে থাকা বগুড়ার আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যু Logo ডেঙ্গুতে নতুন করে ৬ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ২ হাজার ১০ জন Logo থাপ্পড়কাণ্ডে শাহজালাল রুমিকে আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ Logo জাজিরায় মৃত্যুর দুই মাস পরের দলিলে জমি দাবি, বিরোধে দুই পক্ষ

পাঁচ দিন নিখোঁজ আলম, খালে উদ্ধার মরদেহ ঘিরে রহস্য

নিখোঁজ আলম গাজী। ছবি: সংগৃহীত

পটুয়াখালীর বাউফল পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা পাঁচ দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন আলম গাজী (৫৭)। এর মধ্যে শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) পৌর শহরের বাংলাবাজার মসজিদের পাশে একটি খাল থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় এক ব্যক্তির অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

 

 

 

 

স্থানীয়দের প্রশ্ন, গত ২১ অক্টোবর থেকে নিখোঁজ রয়েছেন আলম গাজী। এখন পর্যন্ত তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। তাহলে অর্ধগলিত মরদেহটি কার?

 

 

 

 

 

নিখোঁজের পরিবারের দাবি, উদ্ধার হওয়া মরদেহটি আলম গাজীর হতে পারে। পরনের পোশাক দেখে ধারণা করলেও মরদেহের পরিচয় সম্পর্কে শতভাগ নিশ্চিত হতে পারেননি তারা। এ ঘটনায় নিখোঁজ আলম গাজীর সন্ধান এবং উদ্ধার হওয়া মরদেহের পরিচয় নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে তার পরিবারের মধ্যে।

 

আলম গাজীর বড় ছেলে সাইফুল ইসলাম বলেন, খাল থেকে উদ্ধার হওয়া মরদেহের পরনে থাকা লুঙ্গি ও গেঞ্জি বাবার পোশাকের মতো মনে হয়েছে। এ কারণে মরদেহটি বাবার হতে পারে বলে সন্দেহ আমাদের।

তিনি আরও বলেন, মরদেহ বাবার হতে পারে সন্দেহ করে তারা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি এবং থানায় জিডি করেছি। পুলিশ জানিয়েছে, ওই সময় পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় মরদেহটি ময়নাতদন্ত শেষে অজ্ঞাতপরিচয় দেখিয়ে পটুয়াখালী শহরের কেন্দ্রীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। পুলিশ মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষার উদ্যোগ নেবে।

 

 

 

আলম গাজীর প্রথম স্ত্রী পিয়ারা বেগমের আশঙ্কা, তার স্বামীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। পিয়ারা বেগমের দাবি, প্রায় ৩৮ বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। তাদের এক ছেলে ও তিন মেয়ে রয়েছে। তবে আলম গাজী স্ত্রী-সন্তানদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন না। মাঝে মধ্যে তাদের কাছে আসতেন। তিনি মূলত ছোট স্ত্রী ফারজানা বেগমের সঙ্গে থাকতেন।

পিয়ারা বেগম অভিযোগ করেন, তার স্বামীর সঙ্গে ছোট স্ত্রীর প্রায়ই ঝগড়াঝাঁটি হতো এবং তাকে মারধর করা হতো। আলম গাজী নিখোঁজ হওয়ার পর ফারজানা বেগমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সন্তোষজনক উত্তর পাননি বলে দাবি করেন তিনি। এসব কারণে তার সন্দেহ বেড়েছে। উদ্ধার হওয়া মরদেহটি তার স্বামীর হয়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

 

 

 

 

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আলম গাজী তিনটি বিয়ে করেছেন। দ্বিতীয় স্ত্রী কমলা বেগম গলাচিপা উপজেলার পাতাবুনিয়া গ্রামে থাকেন। তাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। প্রায় ১৫ বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। তবে গত আট থেকে দশ বছর ধরে তাদের মধ্যে যোগাযোগ ছিল না বলে জানা গেছে।

 

 

 

 

আলম গাজীর ছোট স্ত্রী ফারজানা বেগমের সঙ্গে তিনি বাউফলের দাসপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। পরিবারের সদস্যদের তথ্য অনুযায়ী, তার কোনো সন্তান নেই।

 

 

 

 

আলম গাজীর ছোট স্ত্রী ফারজানা বেগম বলেন, গত বুধবার আমার স্বামী পাঞ্জাবি ও লুঙ্গি পরে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল। এরপর তিনি আর বাড়ি ফিরে আসেননি। মরদেহের হাতের আঙুলের সঙ্গে তার স্বামীর হাতের আঙুলের মিল খুঁজে পেয়েছেন বলে তিনি জানান। তবে মরদেহের সঙ্গে পাওয়া লুঙ্গি ও গেঞ্জি তার স্বামীর নয় বলে তিনি দাবি করেন।

 

 

 

এ বিষয়ে বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিরাজুল ইসলাম বলেন, আলম গাজীর নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি পুলিশকে জানিয়েছে তার পরিবার। উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পটুয়াখালী শহরের কেন্দ্রীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। ডিএনএ পরীক্ষার জন্য মৃত ব্যক্তির মাথার চুলসহ প্রয়োজনীয় আলামত সংরক্ষণ করা হয়েছে।

 

 

তিনি আরও বলেন, মরদেহের দাবিদারদের নমুনার সঙ্গে সংরক্ষিত আলামতের ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফল মিলিয়ে দেখা হবে। পরীক্ষার ফলাফল পাওয়ার পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে, উদ্ধার হওয়া মরদেহটি নিখোঁজ আলম গাজীর কি না।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অবকাঠামোগত সংকটেও শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে জলঢাকার পাঠানপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়

পাঁচ দিন নিখোঁজ আলম, খালে উদ্ধার মরদেহ ঘিরে রহস্য

আপডেট টাইম : ১১:৪৩:২৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

পটুয়াখালীর বাউফল পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা পাঁচ দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন আলম গাজী (৫৭)। এর মধ্যে শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) পৌর শহরের বাংলাবাজার মসজিদের পাশে একটি খাল থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় এক ব্যক্তির অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

 

 

 

 

স্থানীয়দের প্রশ্ন, গত ২১ অক্টোবর থেকে নিখোঁজ রয়েছেন আলম গাজী। এখন পর্যন্ত তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। তাহলে অর্ধগলিত মরদেহটি কার?

 

 

 

 

 

নিখোঁজের পরিবারের দাবি, উদ্ধার হওয়া মরদেহটি আলম গাজীর হতে পারে। পরনের পোশাক দেখে ধারণা করলেও মরদেহের পরিচয় সম্পর্কে শতভাগ নিশ্চিত হতে পারেননি তারা। এ ঘটনায় নিখোঁজ আলম গাজীর সন্ধান এবং উদ্ধার হওয়া মরদেহের পরিচয় নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে তার পরিবারের মধ্যে।

 

আলম গাজীর বড় ছেলে সাইফুল ইসলাম বলেন, খাল থেকে উদ্ধার হওয়া মরদেহের পরনে থাকা লুঙ্গি ও গেঞ্জি বাবার পোশাকের মতো মনে হয়েছে। এ কারণে মরদেহটি বাবার হতে পারে বলে সন্দেহ আমাদের।

তিনি আরও বলেন, মরদেহ বাবার হতে পারে সন্দেহ করে তারা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি এবং থানায় জিডি করেছি। পুলিশ জানিয়েছে, ওই সময় পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় মরদেহটি ময়নাতদন্ত শেষে অজ্ঞাতপরিচয় দেখিয়ে পটুয়াখালী শহরের কেন্দ্রীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। পুলিশ মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষার উদ্যোগ নেবে।

 

 

 

আলম গাজীর প্রথম স্ত্রী পিয়ারা বেগমের আশঙ্কা, তার স্বামীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। পিয়ারা বেগমের দাবি, প্রায় ৩৮ বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। তাদের এক ছেলে ও তিন মেয়ে রয়েছে। তবে আলম গাজী স্ত্রী-সন্তানদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন না। মাঝে মধ্যে তাদের কাছে আসতেন। তিনি মূলত ছোট স্ত্রী ফারজানা বেগমের সঙ্গে থাকতেন।

পিয়ারা বেগম অভিযোগ করেন, তার স্বামীর সঙ্গে ছোট স্ত্রীর প্রায়ই ঝগড়াঝাঁটি হতো এবং তাকে মারধর করা হতো। আলম গাজী নিখোঁজ হওয়ার পর ফারজানা বেগমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সন্তোষজনক উত্তর পাননি বলে দাবি করেন তিনি। এসব কারণে তার সন্দেহ বেড়েছে। উদ্ধার হওয়া মরদেহটি তার স্বামীর হয়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

 

 

 

 

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আলম গাজী তিনটি বিয়ে করেছেন। দ্বিতীয় স্ত্রী কমলা বেগম গলাচিপা উপজেলার পাতাবুনিয়া গ্রামে থাকেন। তাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। প্রায় ১৫ বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। তবে গত আট থেকে দশ বছর ধরে তাদের মধ্যে যোগাযোগ ছিল না বলে জানা গেছে।

 

 

 

 

আলম গাজীর ছোট স্ত্রী ফারজানা বেগমের সঙ্গে তিনি বাউফলের দাসপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। পরিবারের সদস্যদের তথ্য অনুযায়ী, তার কোনো সন্তান নেই।

 

 

 

 

আলম গাজীর ছোট স্ত্রী ফারজানা বেগম বলেন, গত বুধবার আমার স্বামী পাঞ্জাবি ও লুঙ্গি পরে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল। এরপর তিনি আর বাড়ি ফিরে আসেননি। মরদেহের হাতের আঙুলের সঙ্গে তার স্বামীর হাতের আঙুলের মিল খুঁজে পেয়েছেন বলে তিনি জানান। তবে মরদেহের সঙ্গে পাওয়া লুঙ্গি ও গেঞ্জি তার স্বামীর নয় বলে তিনি দাবি করেন।

 

 

 

এ বিষয়ে বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিরাজুল ইসলাম বলেন, আলম গাজীর নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি পুলিশকে জানিয়েছে তার পরিবার। উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পটুয়াখালী শহরের কেন্দ্রীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। ডিএনএ পরীক্ষার জন্য মৃত ব্যক্তির মাথার চুলসহ প্রয়োজনীয় আলামত সংরক্ষণ করা হয়েছে।

 

 

তিনি আরও বলেন, মরদেহের দাবিদারদের নমুনার সঙ্গে সংরক্ষিত আলামতের ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফল মিলিয়ে দেখা হবে। পরীক্ষার ফলাফল পাওয়ার পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে, উদ্ধার হওয়া মরদেহটি নিখোঁজ আলম গাজীর কি না।