সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

ফুলজোড়-করতোয়া ও বাঙালি নদী দুষণ বন্ধে হাইকোর্টের রুল

দুই ইন্ডাস্ট্রির বর্জ্যে ফুলজোড়, করতোয়া ও বাঙালি নদী দুষণ বন্ধে রুল জারি করেছেন উচ্চ আদালত। সেই সঙ্গে বগুড়ার শেরপুরে অবস্থিত এস আর কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ ও মজুমদার প্রোডাক্টস লিমিটেড নামের দুটি ইন্ডষ্ট্রির অননুমোদিত, ঝুঁকিপূর্ণ ও দূষণ কার্যক্রম বন্ধে বিবাদীগণের ব্যর্থতা কেন সংবিধান ও প্রচলিত আইনের পরিপন্থী, বেআইনি, আইনগত কর্তৃত্ববিহীন এবং জনস্বার্থ বিরোধী ঘোষণা করা হবেনা—তা জানতে চেয়ে বিবাদীগণের প্রতি রুল জারি করেছেন আদালত।

 

 

 

রোববার (৩ মে) সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও  বিচারপতি আবদুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত একটি ডিভিশন বেঞ্চ এই রুল জারি করেন। পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী দুই প্রতিষ্ঠানের বিপজ্জনক কার্যক্রম প্রতিরোধ এবং ফুলজোড়, করতোয়া ও বাঙ্গালী নদীকে পুনরায় দূষণের হাত থেকে রক্ষায় প্রয়োজনীয় নির্দেশনা কেন দেওয়া হবে না, জানতে চেয়েছেন আদালত।

 

 

 

সোমবার (৪ মে) বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) আইনজীবি এস হাসানুল হক বান্না কালবেলাকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

 

 

 

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি বেলার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানা গেছে, ফুলজোড়, করতোয়া ও বাঙ্গালী নদী সংলগ্ন এলাকায় বগুড়া জেলার শেরপুর উপজেলার রাজাপুর ও ছোনকা গ্রামের গড়ে ওঠা এসআর কেমিক্যাল ও মজুমদার প্রোডাক্টস (রাইস ব্রান অয়েল) দীর্ঘদিন ধরে অপরিশোধিত বর্জ্য নদীতে নিঃসরণ করে আসছে। এতে এই তিন নদী এবং সংশ্লিষ্ট জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। বিভিন্ন স্থানে মাছ মরে ভেসে উঠছে এবং সাপ, ব্যাঙ, কাঁকড়া, শামুকসহ নানা জলজ প্রাণীর মৃত্যু ঘটছে।

 

 

 

 

এছাড়া, সিরাজগঞ্জ জেলার রায়গঞ্জ উপজেলার ধানগড়া, মহেশপুর ও চান্দাইকোনা ইউনিয়নের বেড়াবাজুয়া এলাকায় নদীর পানির রং পরিবর্তিত হয়ে দুর্গন্ধযুক্ত ও ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। দূষণের অভিযোগে পরিবেশ অধিদপ্তর বিভিন্ন সময়ে প্রতিষ্ঠান দুটিকে জরিমানাও করেছে।

 

 

 

বগুড়া ও সিরাজগঞ্জ জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত ফুলজোড় নদীর ২৫ কিলোমিটার এলাকাকে দূষণমুক্ত রাখতে গঠিত টেকনিক্যাল কমিটি এসআর কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজকে ১১টি অবশ্য পালনীয় নির্দেশনা বাস্তবায়নের সুপারিশ করলেও প্রতিষ্ঠানটি তা অনুসরণ না করে দূষণ কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে বলে জানায় বেলা।

 

 

 

 

এসব এই প্রেক্ষাপটে করতোয়া, বাঙ্গালী ও ফুলজোড়  নদী এবং নদী কেন্দ্রিক জীব বৈচিত্র্য রক্ষায় বেলা জনস্বার্থে উচ্চ আদালতে একটি রিট পিটিশন দায়ের করে।

 

 

 

এতে উল্লেখিত দুই ইন্ডাষ্ট্রির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছাড়াও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সচিব, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, সিরাজগঞ্জ ও বগুড়ার জেলা প্রশাসক, এই দুই জেলার পুলিশ সুপার, দুই জেলার পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক (মনিটরিং অ্যান্ড এনফোর্সমেন্ট), রাজশাহী বিভাগীয় পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালককে বিবাদী করা হয়।

 

 

 

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) আইনজীবি এস হাসানুল হক বান্না বলেন, বেলার রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত রুল জারি করেন। এদিকে এসআর কেমিক্যাল ও মজুমদার প্রোডাক্টসের পক্ষ থেকেও রিট দায়ের করা হয়েছে। আদালত তাদের করা রিটের সঙ্গে চলমান মামলা একত্রে শুনানির সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অদম্য পলি রানী: পা দিয়ে লিখেই দিচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষা

ফুলজোড়-করতোয়া ও বাঙালি নদী দুষণ বন্ধে হাইকোর্টের রুল

আপডেট টাইম : ০৫:২০:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬

দুই ইন্ডাস্ট্রির বর্জ্যে ফুলজোড়, করতোয়া ও বাঙালি নদী দুষণ বন্ধে রুল জারি করেছেন উচ্চ আদালত। সেই সঙ্গে বগুড়ার শেরপুরে অবস্থিত এস আর কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ ও মজুমদার প্রোডাক্টস লিমিটেড নামের দুটি ইন্ডষ্ট্রির অননুমোদিত, ঝুঁকিপূর্ণ ও দূষণ কার্যক্রম বন্ধে বিবাদীগণের ব্যর্থতা কেন সংবিধান ও প্রচলিত আইনের পরিপন্থী, বেআইনি, আইনগত কর্তৃত্ববিহীন এবং জনস্বার্থ বিরোধী ঘোষণা করা হবেনা—তা জানতে চেয়ে বিবাদীগণের প্রতি রুল জারি করেছেন আদালত।

 

 

 

রোববার (৩ মে) সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও  বিচারপতি আবদুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত একটি ডিভিশন বেঞ্চ এই রুল জারি করেন। পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী দুই প্রতিষ্ঠানের বিপজ্জনক কার্যক্রম প্রতিরোধ এবং ফুলজোড়, করতোয়া ও বাঙ্গালী নদীকে পুনরায় দূষণের হাত থেকে রক্ষায় প্রয়োজনীয় নির্দেশনা কেন দেওয়া হবে না, জানতে চেয়েছেন আদালত।

 

 

 

সোমবার (৪ মে) বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) আইনজীবি এস হাসানুল হক বান্না কালবেলাকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

 

 

 

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি বেলার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানা গেছে, ফুলজোড়, করতোয়া ও বাঙ্গালী নদী সংলগ্ন এলাকায় বগুড়া জেলার শেরপুর উপজেলার রাজাপুর ও ছোনকা গ্রামের গড়ে ওঠা এসআর কেমিক্যাল ও মজুমদার প্রোডাক্টস (রাইস ব্রান অয়েল) দীর্ঘদিন ধরে অপরিশোধিত বর্জ্য নদীতে নিঃসরণ করে আসছে। এতে এই তিন নদী এবং সংশ্লিষ্ট জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। বিভিন্ন স্থানে মাছ মরে ভেসে উঠছে এবং সাপ, ব্যাঙ, কাঁকড়া, শামুকসহ নানা জলজ প্রাণীর মৃত্যু ঘটছে।

 

 

 

 

এছাড়া, সিরাজগঞ্জ জেলার রায়গঞ্জ উপজেলার ধানগড়া, মহেশপুর ও চান্দাইকোনা ইউনিয়নের বেড়াবাজুয়া এলাকায় নদীর পানির রং পরিবর্তিত হয়ে দুর্গন্ধযুক্ত ও ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। দূষণের অভিযোগে পরিবেশ অধিদপ্তর বিভিন্ন সময়ে প্রতিষ্ঠান দুটিকে জরিমানাও করেছে।

 

 

 

বগুড়া ও সিরাজগঞ্জ জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত ফুলজোড় নদীর ২৫ কিলোমিটার এলাকাকে দূষণমুক্ত রাখতে গঠিত টেকনিক্যাল কমিটি এসআর কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজকে ১১টি অবশ্য পালনীয় নির্দেশনা বাস্তবায়নের সুপারিশ করলেও প্রতিষ্ঠানটি তা অনুসরণ না করে দূষণ কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে বলে জানায় বেলা।

 

 

 

 

এসব এই প্রেক্ষাপটে করতোয়া, বাঙ্গালী ও ফুলজোড়  নদী এবং নদী কেন্দ্রিক জীব বৈচিত্র্য রক্ষায় বেলা জনস্বার্থে উচ্চ আদালতে একটি রিট পিটিশন দায়ের করে।

 

 

 

এতে উল্লেখিত দুই ইন্ডাষ্ট্রির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছাড়াও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সচিব, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, সিরাজগঞ্জ ও বগুড়ার জেলা প্রশাসক, এই দুই জেলার পুলিশ সুপার, দুই জেলার পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক (মনিটরিং অ্যান্ড এনফোর্সমেন্ট), রাজশাহী বিভাগীয় পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালককে বিবাদী করা হয়।

 

 

 

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) আইনজীবি এস হাসানুল হক বান্না বলেন, বেলার রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত রুল জারি করেন। এদিকে এসআর কেমিক্যাল ও মজুমদার প্রোডাক্টসের পক্ষ থেকেও রিট দায়ের করা হয়েছে। আদালত তাদের করা রিটের সঙ্গে চলমান মামলা একত্রে শুনানির সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন।