আমিরুল ইসলাম। জনতার কণ্ঠ.কম
ব্যবসার লভ্যাংশ দেওয়ার কথা বলে বাড়িওলার কাছ থেকে ১৫ লাখ টাকা এবং বিভিন্ন এনজিও ও স্থানীয়দের কাছে থেকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকারসহ আরও ২ লাখ টাকা নিয়ে উধাও হয়েছেন হলেন ভাড়াটিয়া দুই সহোদর।
ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার জামতৈল গ্রামে। মোস্তফা এবং রুবেল নামের কুমিল্লা জেলার দেবিদ্বার থানার বাসিন্দা দুই ভাই চার বছর ধরে জামতৈল গ্রামের শেখ এনায়েত বাবলুর বাসায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বাস করছিলেন। তারা এলাকায় ভাড়া থেকে ভ্যানে করিয়া কাপড়ের ব্যবসা করতেন।
এ ব্যাপারে বাড়িওয়ালী থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযুক্ত ভাড়াটিয়া মো. মোস্তফা (৩৯) এবং মো. রুবেল (৩০) কুমিল্লা জেলার দেবিদ্বার থানার বাঙ্গুরী গ্রামের আব্দুস সাত্তার-রতনের নেছা দম্পত্তির দুই ছেলে এবং অভিযোগকারী বাড়িওয়ালা উপজেলার জামতৈল গ্রামের শেখ এনায়েত বাবলু ।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বিগত চার বছর যাবৎ বাবলুর বাড়ীতে ভাড়া থেকে এলাকায় ভ্যানযোগে কাপড়ের ব্যবসা করতেন মোস্তফা এবং রুবেল । দীর্ঘদিন একই বাসায় থাকায় তাহারা বাড়িওয়ালির কাছ থেকে কাপড়ের ব্যবসার কথা বলে ২% লভ্যাংশ দেওয়ার শর্তে বিভিন্ন সময়ে সর্বমোট ১৫ লক্ষ টাকা নেয়। কিন্তু গত ৬ সেপ্টেম্বর সকালে ভাড়াটিয়ার ঘরে তালা লাগানো দেখেন। এরপর তাদের ফোন নাম্বারে একাধিকবার একাধিক সময়ে যোগাযোগের চেষ্টা করিলে নাম্বার বন্ধ পাওয়া যায়। বাড়িওয়ালী আরো জানতে পারেন আশেপাশে বিভিন্ন লোকজনের নিকট থেকে টাকা পয়সা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে তারা প্রতারণামূলক ভাবে আত্মসাৎ করিয়া পলায়ন করিয়াছে।
উপজেলার জামতৈল বাজারের জুয়েলারি ব্যবসায়ী ভজন কর্মকার বলেন, তারা আমার দোকানে দীর্ঘদিন ধরে কমবেশি যাতায়াত করে সে সূত্রে একটা ভালো সম্পর্ক হয়ে যায় কিন্তু গত কয়েকদিন আগে তারা আমার কাছ থেকে একটি স্বর্ণের চেইন ও লকেট নেয়। যার আনুমানিক মূল্য ৫২ হাজার টাকা। এরপরে আমি শুনি তাহারা আর এলাকাতে নেই তাদের ফোন নাম্বার বন্ধ আমি ক্ষতির সম্মুখীন হলাম।
স্থানীয় ভ্যান মিস্ত্রি আবুবক্কার বলেন, আমার কাছ থেকে ভ্যানের ব্যাটারি বাবদ ৪০ হাজার টাকা নিয়েছে । আমি খুবই কষ্টে অল্প অল্প করে এই টাকা জমিয়েছিলাম। এভাবেই উপার্জন করে আমি আমার পরিবার বর্গ নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করি। আমার টাকাটা আর পাবো কিনা আমি জানিনা। তবে এ জগতে মানুষকে আর বিশ্বাস করতে নেই।
এ ব্যাপারে কামারখন্দ থানার অফিসার ইনর্চাজ আব্দুল লতিফ বলেন, অভিযোগের বিষয়টা তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে দেওয়া হয়েছে তারা তদন্ত করে দেখবে কি ঘটেছে। তদন্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

রিপোর্টার: 




















