সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo মমতাকে অব্যাহতি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হলো পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রিসভা Logo কবিগুরুর জন্মবার্ষিকী উদযাপনে প্রস্তুত শাহজাদপুরের কাছারিবাড়ি Logo নিকার অনুমোদন: ভূল্লী উপজেলা গঠনে জনসাধারণের উচ্ছ্বাস Logo ধর্ষণ মামলায় নির্দোষ ইমাম জেলে, ডিএনএ পরীক্ষায় বেরিয়ে এলো আসল তথ্য Logo অবৈধভাবে গড়ে উঠা স্থাপনা দখলমুক্ত হবে: পানি সম্পদ মন্ত্রী Logo বিদ্যুৎ মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি: বিদ্যুৎমন্ত্রী Logo  বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও ট্রান্সফরমার চোর চক্রের ৯ সদস্য গ্রেফতার Logo মাদক সেবনের দায়ে কারাদণ্ড, কলেজ ছাত্রদল সভাপতি বহিষ্কার Logo মাসুদ উদ্দিনকে জুলাই হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল Logo ইসরায়েলকে হুমকি দিলে কঠিন পরিণতি: নেতানিয়াহুর হুঁশিয়ারি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ব্লাস্ট রোগে ক্ষতিগ্রস্ত বোরো ধান, দুশ্চিন্তায় কৃষক

ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত বোরো ধান । ছবি : সংগৃহীত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় বোরো মৌসুমে ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত বোরো ধান। এই রোগের কারণে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। উপজেলা কৃষি অফিসের দায়িত্বরত উপ-সহকারীদের সহযোগিতা না পেয়ে নিজের চেষ্টায় কীটনাশক ব্যবহার করেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত সুফল। এতে ফসলহানির আশঙ্কায় হতাশাগ্রস্ত কৃষক।

 

 

উপজেলা কৃষি অফিস বলছে, এটি নেক ব্লাস্ট রোগ। সব ধানে নয়, শুধু ব্রি-২৮ এবং ব্রি-৮৮ জাতের ধান ক্ষেতেই বেশি আক্রান্ত হচ্ছে।

 

 

উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, এ বছর ১৩ হাজার ৭৭০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। গত বছর বাম্পার ফলন হওয়ায় এ বছর প্রায় ২৫ হেক্টর জমিতে বেশি আবাদ হয়েছে। চলমান কিছুটা জ্বালানি ও বিদ্যুতের সংকট থাকলেও তা কাটিয়ে ভালো ফলনের আশায় বোরো আবাদ করেছেন স্থানীয় কৃষকরা। জমিতে কোথাও শীষ বের হয়েছে, আবার কোথাও শীষ থেকে ধান রূপান্তর হচ্ছে—ঠিক এই সময়ে হঠাৎ করে কয়েকদিন ধরে দেখা দিয়েছে এই রোগ। এ রোগ এখন কৃষকের জন্য মরার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অন্যান্য ইউনিয়নের তুলনায় বিশেষ করে উপজেলার বিনাউটি, বাদৈর ও মেহারী ইউনিয়নে এ রোগের প্রাদুর্ভাব বেশি দেখা গেছে। ব্রি-২৮ ও ব্রি-৮৮ জাতের ধানক্ষেতগুলোতে এর প্রকোপ বেশি।

কৃষক বিদু ও দোলন মিয়াসহ একাধিক কৃষক জানান, এক বছর আগে ইউনিয়ন কৃষি কর্মকর্তা নিয়মিত যোগাযোগ করে পরামর্শ দিতেন। তিনি বদলি হওয়ার পর বর্তমান কর্মকর্তাকে মাঠে দেখা যায়নি। কোনো পরামর্শ বা সহযোগিতা না পেয়ে নিরুপায় হয়ে নিজেরাই বিভিন্ন কীটনাশক প্রয়োগ করেছেন, কিন্তু তাতে কোনো লাভ হয়নি। তারা বলেন, ফসল বিক্রি করেই ধার-দেনা পরিশোধ ও সংসার চালাতে হয়। এখন ফসল নষ্ট হলে পরিবার নিয়ে কীভাবে চলবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন। সরকারের আর্থিক সহযোগিতা পেলে ভবিষ্যতে আবার চাষাবাদ করতে পারবেন বলেও জানান তারা।

 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আয়েশা আক্তার বলেন, নেক ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত হয়েছে এসব ধান। পুরাতন জাত হওয়ায় ব্রি-২৮ ও ব্রি-৮৮ ধানের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেছে। তাই এসব জাতের চাষ না করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি কিছুটা প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণেও এ সমস্যা দেখা দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এরপরও কৃষি অফিস থেকে সরকারি প্রণোদনাসহ সব ধরনের সহযোগিতা ও পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মমতাকে অব্যাহতি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হলো পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রিসভা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ব্লাস্ট রোগে ক্ষতিগ্রস্ত বোরো ধান, দুশ্চিন্তায় কৃষক

আপডেট টাইম : ১১:১৪:১৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় বোরো মৌসুমে ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত বোরো ধান। এই রোগের কারণে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। উপজেলা কৃষি অফিসের দায়িত্বরত উপ-সহকারীদের সহযোগিতা না পেয়ে নিজের চেষ্টায় কীটনাশক ব্যবহার করেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত সুফল। এতে ফসলহানির আশঙ্কায় হতাশাগ্রস্ত কৃষক।

 

 

উপজেলা কৃষি অফিস বলছে, এটি নেক ব্লাস্ট রোগ। সব ধানে নয়, শুধু ব্রি-২৮ এবং ব্রি-৮৮ জাতের ধান ক্ষেতেই বেশি আক্রান্ত হচ্ছে।

 

 

উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, এ বছর ১৩ হাজার ৭৭০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। গত বছর বাম্পার ফলন হওয়ায় এ বছর প্রায় ২৫ হেক্টর জমিতে বেশি আবাদ হয়েছে। চলমান কিছুটা জ্বালানি ও বিদ্যুতের সংকট থাকলেও তা কাটিয়ে ভালো ফলনের আশায় বোরো আবাদ করেছেন স্থানীয় কৃষকরা। জমিতে কোথাও শীষ বের হয়েছে, আবার কোথাও শীষ থেকে ধান রূপান্তর হচ্ছে—ঠিক এই সময়ে হঠাৎ করে কয়েকদিন ধরে দেখা দিয়েছে এই রোগ। এ রোগ এখন কৃষকের জন্য মরার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অন্যান্য ইউনিয়নের তুলনায় বিশেষ করে উপজেলার বিনাউটি, বাদৈর ও মেহারী ইউনিয়নে এ রোগের প্রাদুর্ভাব বেশি দেখা গেছে। ব্রি-২৮ ও ব্রি-৮৮ জাতের ধানক্ষেতগুলোতে এর প্রকোপ বেশি।

কৃষক বিদু ও দোলন মিয়াসহ একাধিক কৃষক জানান, এক বছর আগে ইউনিয়ন কৃষি কর্মকর্তা নিয়মিত যোগাযোগ করে পরামর্শ দিতেন। তিনি বদলি হওয়ার পর বর্তমান কর্মকর্তাকে মাঠে দেখা যায়নি। কোনো পরামর্শ বা সহযোগিতা না পেয়ে নিরুপায় হয়ে নিজেরাই বিভিন্ন কীটনাশক প্রয়োগ করেছেন, কিন্তু তাতে কোনো লাভ হয়নি। তারা বলেন, ফসল বিক্রি করেই ধার-দেনা পরিশোধ ও সংসার চালাতে হয়। এখন ফসল নষ্ট হলে পরিবার নিয়ে কীভাবে চলবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন। সরকারের আর্থিক সহযোগিতা পেলে ভবিষ্যতে আবার চাষাবাদ করতে পারবেন বলেও জানান তারা।

 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আয়েশা আক্তার বলেন, নেক ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত হয়েছে এসব ধান। পুরাতন জাত হওয়ায় ব্রি-২৮ ও ব্রি-৮৮ ধানের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেছে। তাই এসব জাতের চাষ না করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি কিছুটা প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণেও এ সমস্যা দেখা দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এরপরও কৃষি অফিস থেকে সরকারি প্রণোদনাসহ সব ধরনের সহযোগিতা ও পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে।