জনতার কণ্ঠ অনলাইন ও মাল্টিমিডিয়ায়সহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর ভারতে অবস্থান করা ব্যক্তির জমি জাল স্বাক্ষরে রেজিষ্ট্রির ঘটনাটি তদন্ত শুরু হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) সিরাজগঞ্জের বেলকুচি সাব রেজিষ্ট্রি অফিসে সরেজমিনে তদন্ত শুরু করেন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহজাদপুর সাব-রেজিস্ট্রার মো. রবিউল ইসলাম। দিনভর তদন্তকালে তিনি বেলকুচি সাব-রেজিস্ট্রার, অফিস সহকারি দলিল লেখক, ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য নেন।
শাহজাদপুর সাব-রেজিস্টার মো. রবিউল ইসলাম বলেন, তদন্ত শুরু করে দিয়েছি। ভারতে অবস্থান করা ভুক্তভোগীর সঙ্গে অনলাইনে কথা বলেছি। তার পরিবারের সদস্যদের বক্তব্যও নেওয়া হয়েছে। তবে ওই দলিলের স্বাক্ষী ও সনাক্তকারীকে সমীরন মন্ডল এবং অপর স্বাক্ষী আমজাদ হোসেনকে চিঠি ইস্যু করা হলেও তারা উপস্থিত হননি। আমরা আবার তাদের চিঠি পাঠাবো। তারা আসলে বক্তব্য নিয়ে তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করা হবে।
উল্লেখ্য, প্রায় ২০ বছর ধরে ভারতে অবস্থান করছেন বেলকুচি উপজেলার গাবগাছী গ্রামের মৃত বেনী মাধব পোদ্দারের ছেলে জিতেন্দ্র নাথ পোদ্দার। তিনি দেশে না আসলেও চলতি বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি তার নামে রেকর্ডীয় বাড়ি ও ফসলী জমির ২৮.৩৮৩ শতাংশ রেজিষ্ট্রি করে নিয়েছেন বীরেন্দ্র নাথ পোদ্দার। অভিযোগ উঠেছে দলিল লেখক আব্দুল মতিনের যোগসাজসে ভুয়া ক্রেতার জাল স্বাক্ষরে ৩০ লাখ টাকা মূল্যের জমি রেজিষ্ট্রি করা হয়। আর এর মূল হোতা ক্রেতার একমাত্র মেয়ের জামাই বগুড়া জেলার শেরপুর উপজেলার সমীরন মণ্ডল। বিষয়টি নিয়ে জনতার কণ্ঠ মাল্টিমিডয়া ও জনতার কণ্ঠ অনলাইনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়।
সংবাদ প্রকাশের পর জেলা রেজিষ্ট্রার শরীফ তোরাফ হোসেন বিষয়টি তদন্তের জন্য শাহজাদপুর সাব-রেজিস্ট্রারকে দায়িত্ব দেন।
এদিকে জাল দলিলকাণ্ডের মূল হোতা মেয়ের জামাই সমীরন মন্ডলের বাড়িতে বীরেন্দ্রনাথ পোদ্দারের মৃত্যু নিয়ে ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে। একমাত্র ওয়ারিশ সমীরন নিজের স্বার্থ হাসিলের বীরেন্দ্রকে হত্যা করতে পারে বলে স্বজনদের ধারণা।
উত্তম কুমার পোদ্দার ও শচীন্দ্রনাথ পোদ্দারসহ অনেকেই অভিযোগ করে বলেন, বীরেন্দ্রেনাথ পোদ্দার মেয়ের জামাই সমীরন মন্ডলের বাড়িতে মারা গেছে। মৃত্যুর পর আমাদের খবর দিয়েছে। তার মৃত্যু সন্দেহজনক। সমীরন জমির জন্য যা কিছু করতে পারে। আর জাল স্বাক্ষরে জমি দলিলের বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পরপরই ক্রেতা বীরেন্দ্রনাথের হঠাৎ মৃত্যু নিয়ে আমরাও সন্দিহান।
এ বিষয়েসমীরন মন্ডল বলেন, আমার শ্বশুর বীরেন্দ্রনাথ পোদ্দার বার্ধক্যজনিত কারণে অসুস্থ্য ছিলেন। অসুস্থ্য হয়েই তিনি মারা গেছেন।
বেলকুচি সাব-রেজিষ্টার মো. মাসুদ রানা বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমি বিব্রত। আমি তার মৃত্যুর খবর শুনেছি। কেউ বলছে অস্বাভাবিক মৃত্যু আবার কেউ বলছে স্বাভাবিক মৃত্যু। আসলে জমির জন্য মানুষ পশু হয়েও যেতে পারে।
আরও পড়ুন: বেলকুচি রেজিষ্ট্রি অফিসে জালিয়াতি: ভারতে থাকা ব্যক্তির জমি বিক্রি
আরও পড়ুন: জাল স্বাক্ষরে জমি রেজিষ্ট্রি, জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবী

নিজস্ব প্রতিবেদক। জনতার কন্ঠ.কম 



















