বিশিষ্ট চলচ্চিত্র পরিচালক ও চিত্রগ্রাহক সিরাজগঞ্জের কৃতি সন্তান আব্দুল লতিফ বাচ্চু ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজেউন)।
রোববার (৪ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানী ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন।
চলচ্চিত্র পরিচালক কবিরুল ইসলাম রানা তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে বলেন, গতকাল বিকেলেও তার সঙ্গে আমার ফোনে কথা হয়েছে। আজ দুপুর ১২ টায় খবর পাই তিনি আর নেই।
কবিরুল ইসলাম রানা আরো জানান, কয়েক মাস আগে তিনি নিউমোনিয়া আক্রান্ত হয়ে স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে তাকে এয়ার এ্যাম্বুলেন্স থাইল্যান্ডে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানে তিনি চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে দেশে ফিরেছিলেন।
আব্দুল লতিফ বাচ্চু ১৯৪২ সালের ৯ জানুয়ারি সিরাজগঞ্জ পৌর এলাকার বাহিরগোলাতে জন্মগ্রহণ করেন। সর্বশেষ তিনি বাংলাদেশ চলচ্চিত্রগ্রাহক সমিতির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ব্যক্তিগতভাবে তিনি তিন ছেলেন জনক। তারা সবাই আমেরিকা প্রবাসী।
প্রখ্যাত চিত্রগ্রাহ সাধন রায়ের সহকারি হিসেবে আব্দুল লতিফ বাচ্চুর চলচ্চিত্রজীবনের শুরু। সে সময় তিনি ‘আলোর পিপাসা’, ‘আগন্তুক’ ও ‘দর্পচূর্ণ’-এর মতো সিনেমায় কাজ করেন। ১৯৬৮ সালে ‘রূপকুমারী’ সিনেমার মাধ্যমে চিত্রগ্রাহক হিসেবে একক যাত্রা শুরু করেন। স্বাধীনতার পর ‘অবুঝ মন’ সিনেমায় চিত্রা জহির ও কাজী জহিরের সঙ্গে কাজ করে নিজের অবস্থান আরো সুদৃঢ় করেন। চিত্রগ্রাহক হিসেবে যেমন তিনি ছিলেন সুপরিচিত, তেমনি পরিচালক হিসেবেও তিনি দর্শকপ্রিয় একাধিক চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন। তাঁর পরিচালিত উল্লেখযোগ্য ছবির মধ্যে রয়েছে ‘যাদুর বাঁশী’, ‘দ্বীপকন্যা’, ‘নতুন বউ, ‘মি. মাওলা’ ‘প্রতারক, ‘স্বামীর ঘরসহ বেশ কয়েকটি যৌথ প্রযোজনার চলচ্চিত্র।
চলচ্চিত্রে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি বাচসাস পুরস্কার ও ফজলুল হক স্মৃতি পুরস্কার অর্জন করেন। পাশাপাশি তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের জুরি বোর্ডের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কমিটির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক। জনতার কণ্ঠ.কম 



















