সিরাজগঞ্জ , বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মিটার না থাকায় নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ, ভোগান্তিতে শত শত গ্রাহক

বগুড়ার গাবতলীতে পল্লী বিদ্যুতের জোনাল অফিসে নতুন বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য আবেদন করে মাসের পর মাস অপেক্ষা করছেন গ্রাহকরা। মিটার ও সার্ভিস ড্রপ তারের সংকটের কারণে গত চার-পাঁচ মাস ধরে নতুন সংযোগ কার্যক্রম কার্যত বন্ধ রয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন শত শত সেবাপ্রত্যাশী।

 

 

 

 

 

বগুড়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর আওতাধীন গাবতলী জোনাল অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ অফিসের অধীনে বর্তমানে প্রায় ১ লাখ ৭ হাজার ৫০৬ জন গ্রাহক বিদ্যুৎ সেবা নিচ্ছেন। প্রতি মাসে নতুন সংযোগের জন্য গড়ে ৪০০টি আবেদন জমা পড়ে। তবে মিটার ও সার্ভিস ড্রপ তারের সরবরাহ না থাকায় পুরোনো আবেদনই এখনো নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে প্রায় ৭৬২টি পুরোনো আবেদন সংযোগের অপেক্ষায় রয়েছে।

 

 

 

 

 

গ্রাহকদের অভিযোগ, নতুন সংযোগের জন্য আবেদন করার সময় প্রয়োজনীয় টাকা জমা দেওয়ার পরও মাসের পর মাস অপেক্ষা করতে হচ্ছে। সংযোগ পাওয়ার আশায় অনেকেই নিয়মিত পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে এসে খোঁজ নিচ্ছেন। এতে সময় ও অর্থ দুটোই ব্যয় হচ্ছে।

গাবতলী জোনাল অফিসে গিয়ে দেখা গেছে, নতুন সংযোগের আবেদনকারী কয়েকজন গ্রাহক অফিসে অপেক্ষা করছেন। তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কেউ দুই-তিন মাস আগে, আবার কেউ তারও আগে সংযোগের জন্য আবেদন করেছেন। কিন্তু এখনো মিটার ও সংযোগ পাননি।

 

নতুন সংযোগের জন্য আবেদন করা এক গ্রাহক বলেন, তিন মাস আগে আবেদন করেছি। মিটারের জন্য টাকাও জমা দিয়েছি। এরপর থেকে প্রায় প্রতি সপ্তাহে একবার করে অফিসে আসি। ঘুরতে ঘুরতে বিরক্ত হয়ে গেছি। কিন্তু এখনো নতুন সংযোগ পাইনি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক গ্রাহক জানান, দীর্ঘদিন ধরে নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হচ্ছে না। মিটার ও তারের সংকটের কথা বলে তাদের অপেক্ষা করতে বলা হচ্ছে। দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে ভোগান্তি আরও বাড়বে।

 

 

 

 

পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মিটার ও সার্ভিস ড্রপ তারের পাশাপাশি কোথাও কোথাও ট্রান্সফরমারের সরবরাহেও সংকট রয়েছে। ফলে নতুন সংযোগের আবেদন জমা পড়লেও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম না থাকায় তা বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না। পুরোনো আবেদনের সিরিয়াল অনুযায়ী সংযোগ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

 

 

 

সূত্র আরও জানায়, গ্রাহকদের নতুন সংযোগ দিতে প্রয়োজনীয় মিটার ও তার অনেক ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (বিআরইবি) সরবরাহের ওপর নির্ভর করতে হয়। সরবরাহ কম থাকায় সংকট তৈরি হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির নিজস্ব অর্থায়নেও মিটার ও তার সংগ্রহ করে গ্রাহকদের সংযোগ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

 

 

 

গাবতলী জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) প্রকৌশলী মাসুম আহমেদ বলেন, চাহিদা অনুযায়ী মিটার ও সার্ভিস ড্রপ তারের সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেছি। আশা করছি, খুব শিগগিরই সরঞ্জামের সরবরাহ পাওয়া যাবে এবং গ্রাহকদের নতুন সংযোগ দেওয়া সম্ভব হবে।

One thought on “মিটার না থাকায় নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ, ভোগান্তিতে শত শত গ্রাহক

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মিটার না থাকায় নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ, ভোগান্তিতে শত শত গ্রাহক

আপডেট টাইম : ০৪:০২:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বগুড়ার গাবতলীতে পল্লী বিদ্যুতের জোনাল অফিসে নতুন বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য আবেদন করে মাসের পর মাস অপেক্ষা করছেন গ্রাহকরা। মিটার ও সার্ভিস ড্রপ তারের সংকটের কারণে গত চার-পাঁচ মাস ধরে নতুন সংযোগ কার্যক্রম কার্যত বন্ধ রয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন শত শত সেবাপ্রত্যাশী।

 

 

 

 

 

বগুড়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর আওতাধীন গাবতলী জোনাল অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ অফিসের অধীনে বর্তমানে প্রায় ১ লাখ ৭ হাজার ৫০৬ জন গ্রাহক বিদ্যুৎ সেবা নিচ্ছেন। প্রতি মাসে নতুন সংযোগের জন্য গড়ে ৪০০টি আবেদন জমা পড়ে। তবে মিটার ও সার্ভিস ড্রপ তারের সরবরাহ না থাকায় পুরোনো আবেদনই এখনো নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে প্রায় ৭৬২টি পুরোনো আবেদন সংযোগের অপেক্ষায় রয়েছে।

 

 

 

 

 

গ্রাহকদের অভিযোগ, নতুন সংযোগের জন্য আবেদন করার সময় প্রয়োজনীয় টাকা জমা দেওয়ার পরও মাসের পর মাস অপেক্ষা করতে হচ্ছে। সংযোগ পাওয়ার আশায় অনেকেই নিয়মিত পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে এসে খোঁজ নিচ্ছেন। এতে সময় ও অর্থ দুটোই ব্যয় হচ্ছে।

আরও পড়ুন : শিল্পে গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিকের আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

গাবতলী জোনাল অফিসে গিয়ে দেখা গেছে, নতুন সংযোগের আবেদনকারী কয়েকজন গ্রাহক অফিসে অপেক্ষা করছেন। তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কেউ দুই-তিন মাস আগে, আবার কেউ তারও আগে সংযোগের জন্য আবেদন করেছেন। কিন্তু এখনো মিটার ও সংযোগ পাননি।

 

নতুন সংযোগের জন্য আবেদন করা এক গ্রাহক বলেন, তিন মাস আগে আবেদন করেছি। মিটারের জন্য টাকাও জমা দিয়েছি। এরপর থেকে প্রায় প্রতি সপ্তাহে একবার করে অফিসে আসি। ঘুরতে ঘুরতে বিরক্ত হয়ে গেছি। কিন্তু এখনো নতুন সংযোগ পাইনি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক গ্রাহক জানান, দীর্ঘদিন ধরে নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হচ্ছে না। মিটার ও তারের সংকটের কথা বলে তাদের অপেক্ষা করতে বলা হচ্ছে। দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে ভোগান্তি আরও বাড়বে।

 

 

 

 

পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মিটার ও সার্ভিস ড্রপ তারের পাশাপাশি কোথাও কোথাও ট্রান্সফরমারের সরবরাহেও সংকট রয়েছে। ফলে নতুন সংযোগের আবেদন জমা পড়লেও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম না থাকায় তা বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না। পুরোনো আবেদনের সিরিয়াল অনুযায়ী সংযোগ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

 

 

 

সূত্র আরও জানায়, গ্রাহকদের নতুন সংযোগ দিতে প্রয়োজনীয় মিটার ও তার অনেক ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (বিআরইবি) সরবরাহের ওপর নির্ভর করতে হয়। সরবরাহ কম থাকায় সংকট তৈরি হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির নিজস্ব অর্থায়নেও মিটার ও তার সংগ্রহ করে গ্রাহকদের সংযোগ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

 

 

 

গাবতলী জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) প্রকৌশলী মাসুম আহমেদ বলেন, চাহিদা অনুযায়ী মিটার ও সার্ভিস ড্রপ তারের সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেছি। আশা করছি, খুব শিগগিরই সরঞ্জামের সরবরাহ পাওয়া যাবে এবং গ্রাহকদের নতুন সংযোগ দেওয়া সম্ভব হবে।