যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় এবার ঈদুল আজহা এসেছে গভীর হতাশা আর অনিশ্চয়তার আবহ নিয়ে। নতুন পোশাক, কোরবানির পশু কিংবা ঈদের ঐতিহ্যবাহী খাবার সবকিছুই যেন নাগালের বাইরে গাজাবাসীর।
গাজার বাসিন্দা নাদিয়া আবু শামালা বলেন, ‘আমি শুধু বাজারে ঘুরে দেখতে যাই, কারণ কিছু কেনার সামর্থ্য নেই। জিনিসপত্রের দাম শুনলেই মন ভেঙে যায়।’
৪০ বছর বয়সী এই নারী উত্তর গাজা থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে গত দুই বছরের বেশি সময় ধরে মধ্য গাজার দেইর আল বালাহ শহরে বসবাস করছেন। তিনি বলেন, ‘যুদ্ধ, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং সন্তানদের ন্যূনতম প্রয়োজনও পূরণ করতে না পারার কারণে এবার গাজায় ঈদের কোনো আনন্দ নেই।’
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও গাজায় এখনো প্রায়ই ইসরায়েলি বিমান হামলা হচ্ছে। দীর্ঘ সংঘাতে গাজার প্রায় ৮০ শতাংশ ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানকার অধিকাংশ মানুষ এখন মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল।
এদিকে, গাজায় প্রবেশের সব সীমান্তপথ নিয়ন্ত্রণ করছে ইসরায়েল। বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার অভিযোগ, প্রয়োজনের তুলনায় খুব কম পরিমাণ ত্রাণ ও পণ্যবাহী ট্রাক প্রবেশের অনুমতি দেওয়ায় দ্রব্যমূল্য কমছে না এবং পণ্যের সংকট আরও তীব্র হচ্ছে।
গাজার আরেক বাসিন্দা ৫৯ বছর বয়সী আবু আবদুল্লাহ আল-মোসাদার বলেন, ‘যুদ্ধবিরতি আসলে বড় এক প্রতারণা। তারপরও আমরা শিশুদের মুখে একটু হাসি ফোটানোর চেষ্টা করছি।’
তিনি জানান, কোরবানির জন্য একটি ভেড়া কিনতে তিনি ও তার ভাই মিলে প্রায় ১৩ হাজার শেকেল ব্যয় করেছেন।

ধর্ষণ অভিযোগে যুবদল নেতার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা
- ন্যাশনাল ডেস্ক। জনতার কণ্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ০৬:৫০:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬
বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে নবম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের মামলায় যুবদল নেতা ও তার ছোট ভাইকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (২৬ মে) ভোরে টাঙ্গাইলের নাগরপুর থানা পুলিশ ওই যুবদল নেতার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে দুই ভাইকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তার মান্না সিকদার চৌহালী উপজেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বাঘুটিয়া ইউনিয়নের চর সলিমাবাদ গ্রামের জাহাঙ্গীর সিকদারের ছেলে। ধর্ষণের ঘটনায় সহযোগিতার অভিযোগে তার ছোট ভাই শান্তকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে নাগরপুরের সলিমাবাদ ইউনিয়নে নিজ বাড়িতে একাধিকবার ধর্ষণ করেন যুবদল নেতা মান্না সিকদার। এ কাজে তাকে সহযোগিতা করেন তার ছোট ভাই শান্ত ও প্রতিবেশী মোছা. বুড়ি।
পরবর্তীতে ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী বিয়ের জন্য চাপ সৃষ্টি করলে মান্না তাকে চেনেন না এবং বিয়ে করবেন না বলে জানিয়ে দেন। বিষয়টি পরিবারের সবাই জেনে গেলে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর খালাতো ভাই আব্দুর রাজ্জাক বাদী হয়ে নাগরপুর থানায় মামলা দায়ের করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে টাঙ্গাইলের নাগরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুরাদ হোসেন বলেন, ‘ধর্ষণ ও ধর্ষণে সহযোগিতার অভিযোগে প্রধান অভিযুক্তসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’

বিদ্যুৎখাতে বড় স্বপ্ন—২০৫০ সালে শতভাগ নিরবচ্ছিন্ন সেবা
- ন্যাশনাল ডেস্ক। জনতার কণ্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ০৬:৩৭:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬
বিশ্বজুড়ে ২০৫০ সালের মধ্যে সম্পূর্ণ নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রযুক্তিগতভাবে সম্ভব বলে জানিয়েছে নতুন এক গবেষণা। তবে এ লক্ষ্য অর্জনে বিশাল পরিসরে নবায়নযোগ্য জ্বালানি অবকাঠামো নির্মাণ করতে হবে, যার মধ্যে শুধু সৌরবিদ্যুতের জন্যই প্রয়োজন হতে পারে ৯০ লাখ হেক্টরের বেশি জমি।
টেক এক্সপ্লোরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনের সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়সহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের গবেষকরা একটি বিস্তারিত বৈশ্বিক বিদ্যুৎব্যবস্থা মডেল তৈরি করে পরীক্ষা করেছেন, ২০৫০ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানির মাধ্যমে বিশ্বের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণ করা সম্ভব কি না।
নেচার এনার্জি সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণায় পুরো বিশ্বের বিদ্যুৎ চাহিদা এক বছরের প্রতিটি ঘণ্টা ধরে বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
গবেষণায় সৌর ও বায়ুশক্তির প্রাপ্যতা, সম্ভাব্য ভূমি ব্যবহার এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলোর সঙ্গে ভোক্তা এলাকার দূরত্ব বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
গবেষকদের মতে, যদি বিশ্বব্যাপী ১৫ থেকে ২০ টেরাওয়াট পরিবর্তনশীল নবায়নযোগ্য জ্বালানি (ভ্যারিয়েবল রিনিউএবল এনার্জি বা ভিআরই) স্থাপন করা যায়, তাহলে নিট-শূন্য কার্বন নির্গমনভিত্তিক বিদ্যুৎব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব।
তারা আরও জানান, অধিকাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্পদ বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী কেন্দ্রগুলোর প্রায় ২০০ কিলোমিটারের মধ্যেই অবস্থিত, যা বিদ্যুৎ সরবরাহকে সহজ করতে পারে।
তবে গবেষণায় সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় জমিকে অন্যতম বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, শুধু সৌর প্যানেল প্রযুক্তির জন্যই ৯০ লাখ হেক্টরের বেশি জমি প্রয়োজন হতে পারে।
গবেষণায় বলা হয়েছে, আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলসহ নিম্ন আয়ের দেশগুলো নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রাচুর্যের কারণে তুলনামূলক কম খরচে বিদ্যুতের সুবিধা পেতে পারে।
পরিচ্ছন্ন বিদ্যুৎব্যবস্থা মানুষের জীবনমান উন্নত করার পাশাপাশি স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও অন্যান্য মৌলিক সেবায় প্রবেশাধিকারও বাড়াতে পারে।
একই সঙ্গে গ্যাস, তেল ও কয়লার মতো জীবাশ্ম জ্বালানির অস্থির বাজারের ওপর নির্ভরতা কমে আসবে এবং দীর্ঘমেয়াদে বিদ্যুতের খরচ আরও স্থিতিশীল হতে পারে।
এছাড়া বায়ুদূষণ কমে জনস্বাস্থ্যেরও উন্নতি হবে বলে মনে করছেন গবেষকরা।
গবেষণায় বিদ্যুৎ ব্যবহারের সময় ও পদ্ধতি পরিবর্তনের বিষয়টিকেও গুরুত্বপূর্ণ সমাধান হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে বিদ্যুতের চাহিদা কম থাকা সময়ে গৃহস্থালি যন্ত্রপাতি ব্যবহার এবং স্মার্ট এনার্জি ব্যবস্থার প্রয়োগ।
গবেষকদের মতে, এ ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করলে বিদ্যুৎব্যবস্থার মোট ব্যয় প্রায় ৬ দশমিক ৫ শতাংশ বা বছরে প্রায় ১৮২ বিলিয়ন ডলার কমানো সম্ভব।
গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, সবার জন্য গ্রহণযোগ্য জীবনমান নিশ্চিত করে এমন নিট-শূন্য বৈশ্বিক বিদ্যুৎব্যবস্থা প্রযুক্তিগতভাবে সম্ভব।
তারা আরও বলেন, এই লক্ষ্য অর্জনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং কার্বনমুক্ত বৈশ্বিক বিদ্যুৎব্যবস্থা গড়ে তুলতে দেশগুলোর মধ্যে সমন্বয় ও সহযোগিতাই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।

সৌদির সঙ্গে মিল রেখে নোয়াখালীর তিন গ্রামে ঈদ উদযাপন
- মো.ইসমাইল হোসেন, নোয়াখালী ব্যুরো প্রধান। জনতার কণ্ঠ.কম।
- আপডেট টাইম : ০৬:১৪:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬

যুদ্ধের ছাপ নিয়েই ইরানে কোরবানির ঈদ
- আন্তর্জাতিক ডেস্ক। জনতার কণ্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ০৫:৫৭:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬
যুদ্ধের ক্ষত এবং আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেই ইরানে উদযাপিত হয়েছে পবিত্র ঈদুল আজহা। বুধবার (২৭ মে) দেশজুড়ে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে ঈদের নামাজ আদায় করেন লাখো ইরানি মুসল্লি।
ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজধানী তেহরানসহ দেশের বিভিন্ন শহরে বিশেষ জামাতের আয়োজন করা হয়।
ইসলামি ক্যালেন্ডারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা উপলক্ষে বুধবার সকালেই ইরানের বিভিন্ন প্রান্তে মুসল্লিরা ঈদের নামাজে অংশ নেন।
ঈদুল আজহা ইসলাম ধর্মের সবচেয়ে পবিত্র উৎসবগুলোর একটি। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোর মতো ইরানেও দিনটি সরকারি ছুটি হিসেবে পালিত হয়।
রাজধানীর তেহরান বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে প্রধান ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়। নামাজে ইমামতি করেন আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আহমাদ খাতামি।
ঈদের জামাতে রাজনৈতিক, সামরিক এবং বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তারাও অংশ নেন।
এসময় ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি শান্তি এবং মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া করা হয় ইরানের বিভিন্ন মসজিদে।
এবারের ঈদ এমন এক সময়ে উদযাপন করলো ইরান, যখন দেশটি সাম্প্রতিক সংঘাতের অভিঘাত থেকে পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে।
গত কয়েক মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের একের পর এক হামলায় ইরানের জনজীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছে। সংঘাতের কারণে নিরাপত্তা পরিস্থিতি, অর্থনীতি এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও চাপ তৈরি হয়েছে।
তবুও সব অনিশ্চয়তা ও যুদ্ধের ক্ষত বুকে নিয়েই ধর্মীয় উৎসবের চেতনায় ঐক্য এবং ধৈর্যের বার্তা নিয়ে ঈদুল আজহা উদযাপন করেছে ইরানের জনগণ।

ঈদের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে গোস্ত কাটার ‘খাইট্টা’ বিক্রির ধুম
- রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি । জনতার কণ্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ০৫:৪৯:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬

যমুনা সেতু পশ্চিমে ঢাকামুখী লেনে তীব্র যানজট
- নিজস্ব প্রতিবেদক। জনতার কণ্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ০৫:৩৫:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬

ঝড়ে লণ্ডভণ্ড বাড়ি, রায়গঞ্জে সহমর্মিতার হাত বাড়ালেন নেতারা
- রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি। জনতার কণ্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ০৫:২২:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬

নরসিংদীতে শিশুর মাথা আটকে গেল পাতিলে, ওয়ার্কশপে নিয়ে অপসারণ
- সাইফুল ইসলাম রুদ্র, নরসিংদী জেলা প্রতিনিধি। জনতার কণ্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ০৫:১১:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬
নরসিংদীতে খেলার ছলে পাতিলের ভেতরে মাথা ঢুকে গেছে অন্তিম নামে দুই বছরের এক শিশুর। অনেক চেষ্টার পরও মাথা থেকে পাতিল খুলতে না পেরে পরবর্তীতে ওয়ার্কশপে নিয়ে শিশুর মাথা থেকে পাতিল অপসারণ করা হয়।
রোববার (২৪ মে) দুপুরে নরসিংদী শহরের ব্রাহ্মন্দী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, দুই বছরের শিশু অন্তিম খেলার ছলে মাথায় পাতিল ঢোকায়। এক পর্যায়ে তার মাথায় পাতিলটি শক্তভাবে আটকে যায়। পরবর্তীতে, পরিবারের সদস্যরা অনেক চেষ্টার পরও তা খুলতে না পেরে হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালের ডাক্তারেরা পাতিলটি খুলতে ব্যর্থ হলে শিশুটিকে পাশের একটি ওয়ার্কশপে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে শিশুটির মাথা থেকে পাতিল অপসারণ করা হয়।
এ বিষয়ে নরসিংদী সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. ফরিদা গুলসানারা কবীর বলেন, শিশুটি অল্পের জন্য বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে। আরও কিছু সময় এভাবে থাকলে শ্বাসকষ্টের কারণে প্রাণহানির শঙ্কা ছিল। বর্তমানে শিশুটি সুস্থ রয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে বাড়িতে পাঠানো হয়েছে।

নাচোলে দুস্থদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহারের নগদ অর্থ বিতরণ
- মোঃ হেলাল উদ্দীন, নাচোল (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধি। জনতার কণ্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ০৫:০০:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬

জয়পুরহাটে জমির দ্বন্দ্বে যুবক খুন, প্রধান অভিযুক্তের বাবা গ্রেপ্তার
- জয়পুরহাট প্রতিনিধি। জনতার কণ্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ০৪:৫৫:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬
জমিজমা সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জেরে জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলায় মাছুম হোসেন (২৩) নামে এক যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষরা। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার তিলকপুর রেলক্রসিং এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত মাছুম হোসেন পার্শ্ববর্তী নওগাঁ সদর উপজেলার তিলকপুর ইউনিয়নের শ্রীধরপুর গ্রামের মিলন হোসেনের একমাত্র ছেলে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিপক্ষ গোলাম মোস্তফা ও তার ছেলে শিবলুর সঙ্গে মাছুমের পরিবারের বিরোধ চলে আসছিল। এ নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই মাছুম ও তার পরিবারের লোকজনকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
মঙ্গলবার রাতে মাছুম স্থানীয় কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে তিলকপুর রেলস্টেশন এলাকায় গল্প করছিলেন। পরে বন্ধু জয়কে বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে মোটরসাইকেলে ফেরার পথে আক্কেলপুর-তিলকপুর সড়কের রেলক্রসিং এলাকায় পৌঁছালে শিবলুর নেতৃত্বে ১০-১২ জনের একটি দল তাদের পথরোধ করে। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে প্রতিপক্ষের লোকজন মাছুমের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছুরিকাঘাত করে। এতে গুরুতর আহত অবস্থায় মাছুম মোটরসাইকেল থেকে সড়কে লুটিয়ে পড়েন। পরে সঙ্গে থাকা বন্ধুরা তাকে উদ্ধার করে নওগাঁ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ২০১৯ সালে মাছুমের প্রতিবেশী দাদা ফজলুর রহমানকে হত্যা করা হয়। এ ছাড়া গত বছরের ৫ আগস্টের পর ফজলুর রহমানের ছেলে রতনকেও হত্যা করে প্রতিপক্ষরা। পূর্বের এই দুটি হত্যা মামলা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে মাছুমের মা রুমি আক্তার বলেন, “জমিজমাকে কেন্দ্র করে তারা আমার একমাত্র ছেলেটাকে ছুরি মেরে হত্যা করেছে। আমি কোনো জমি চাই না, আমার বুকের ধনকে ফিরিয়ে দিক। যারা আমার ছেলেকে এভাবে হত্যা করেছে, আমি তাদের ফাঁসি চাই।”
আক্কেলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন রেজা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, জমিজমা নিয়ে তাদের মধ্যে পূর্ব শত্রুতা ছিল। সেই বিরোধের জের ধরেই এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। রাতেই অভিযান চালিয়ে ভোরে প্রধান অভিযুক্ত শিবলুর বাবা গোলাম মোস্তফাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। এ ঘটনায় মাছুমের মা বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থল জয়পুরহাট জেলার আক্কেলপুর থানার আওতাধীন হলেও নিহত ও অভিযুক্তদের বাড়ি নওগাঁ সদর থানা এলাকায়। নিহতের মরদেহ বর্তমানে নওগাঁ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল মর্গে রয়েছে।

অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন, জরিমানা ৩ প্রতিষ্ঠানকে
- ন্যাশনাল ডেস্ক। জনতার কণ্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ০৪:৪৬:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬
পঞ্চগড়ে মহাসড়কের ওপর গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় সড়ক দখল করে ব্যবসা পরিচালনা করার দায়ে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
বুধবার (২৭ মে) দুপুরে পঞ্চগড়ের নগরকুমারী হাটে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাহমিদুর রহমানের নেতৃত্বে এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ সদস্যরা সহযোগিতা করেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, মহাসড়কের জায়গা দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ ও যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটানোর অপরাধে ‘মুনস্টার হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট’কে ৩০ হাজার টাকা, ‘আলমগীর স্টোর’কে ৩ হাজার টাকা এবং ‘তইবুল চা স্টোর’কে ২ হাজার টাকা জরিমানা করে তা তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়।
এছাড়া মহাসড়কের ওপর রাখা বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালামাল আজকের মধ্যেই সরিয়ে নেওয়ার কঠোর নির্দেশ দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একইসঙ্গে রাস্তার ওপর যত্রতত্র বাস, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ইজিবাইক পার্কিং না করার জন্য চালক ও সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়।
অভিযান পরিচালনাকারী জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাহমিদুর রহমান জানান, রাস্তায় অবৈধভাবে স্থাপনা তৈরি করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করায় তিনটি প্রতিষ্ঠানকে আর্থিক জরিমানা করা হয়েছে। একইসঙ্গে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদসহ রাস্তায় যত্রতত্র পার্কিং না করতে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়েছে। জনস্বার্থে ও মহাসড়ক নিরাপদ রাখতে এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।

আদ-দ্বীনে শিশু মৃত্যু: তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন
- ন্যাশনাল ডেস্ক। জনতার কণ্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ০৩:১০:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬
রাজধানীর মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে শিশুদের মৃত্যুর ঘটনায় এবার মুখ খুলেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদ রায়হান বলেছেন, আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের নবজাতক ওয়ার্ডে ছয় শিশুর ভোর ৬টা থেকে সকাল ৯টার মধ্যে মৃত্যু হয়েছে।
বুধবার (২৭ মে) হাসপাতাল পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান।
মৃত্যুর কারণ ও অব্যবস্থাপনার তদন্তে উচ্চপর্যায়ের তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। আর ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন দেবে কমিটি আর অনুযায়ী কঠোর কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।
অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদ রায়হান বলেন, ছয় শিশু মারা যাওয়ার খবর পাওয়ার পর স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাসসহ আমরা হাসপাতালে এসেছি। ঘটনার বিস্তারিত জানার চেষ্টা করছি। দ্রুতই বিস্তারিত তথ্য আপনাদের জানাতে পারব। এতটুকু জেনেছি, আজ সকাল ৬টা থেকে ৯টার মধ্যে বাচ্চাগুলো মারা গেছে।
এর আগে ঘটনার বিষয়ে জানাতে আদ্–দ্বীন হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক নাহিদা ইয়াসমিন সাংবাদিকদের বলেন, হাসপাতালের যে ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটেছে, সেই ওয়ার্ডে ১১ জন মা ছিলেন। আর নবজাতক ছিল ছয়।
হাসপাতালে থাকা ভুক্তভোগীদের অভিযোগ এসি বন্ধ ছিল এবং নবজাতক ওয়ার্ডে উৎকট দুর্গন্ধ পান তারা। পরে নার্সকে জানালে তারা অনেককে এনআইসিইউতে পাঠান।
এসির গ্যাস লিকেজ থেকে তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করছেন অভিভাবকরা। তবে তদন্তের পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানানো হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বিষয়টি নিয়ে ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ বলেন, ছয় নবজাতক শিশুসহ ১১ জন মা পোস্ট অপারেটিভ রুমে অবস্থান করছিলেন। ঠান্ডা অনুভূত হওয়ায় এসি বন্ধ রাখতে অনুরোধ করেন এক নবজাতকের মা।
পরবর্তীকালে নার্স এসি এক ঘণ্টার মতো বন্ধ রাখেন। এরপর গরম অনুভূত হওয়ায় এসি চালু করতে বললে দুই শিশু অসুস্থ হয়ে পড়ে। এর কিছুক্ষণ পর বাকি চার শিশুও অসুস্থ হয়ে পড়ে। এ সময় চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছয় শিশুর মৃত্যু হয়। এখানে সিআইডির ক্রাইম টিম কাজ করছে। আলামত সংগ্রহ করছে।
বিস্তারিত পরে জানানো হবে বলেও জানান তিনি।
এর আগে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) শেখ জাহিদুল ইসলাম ছয় শিশুর মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেন।
ঘটনাস্থলে থানা পুলিশসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত রয়েছেন বলেও জানান ডিসি।
তিনি বলেন, আমরা খবর পেয়েছি, আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছয় শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। তবে শিশুদের মৃত্যুর আসলে কী কারণ, তা আমরা এখনো জানি না। পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে, আমি নিজেও ঘটনাস্থলে যাচ্ছি। তদন্তের পর আসল তথ্য বলা যাবে।


আন্তর্জাতিক ডেস্ক। জনতার কণ্ঠ.কম 

















































































One thought on “যুদ্ধের ছায়ায় গাজার ঈদ উদযাপন”