সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় নির্বাচনী বিরোধকে কেন্দ্র করে আব্দুল লতিফ নামে এক যুবদল নেতার চালের আড়ত ভাংচুর ও লুটপাটের মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া দুই জামায়াত নেতাকে জামিন দিয়েছেন আদালত।
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে উল্লাপাড়া আমলী আদালতের বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট-১ সুমন ভুইয়া তাদেরকে জামিন দেন। এরা হলেন, উল্লাপাড়া উপজেলার উধুনিয়া ইউনিয়ন জামায়াতের আমির আব্দুল আলিম সরদার ও সেক্রেটারি আব্দুল কাদের খন্দকার।
সিরাজগঞ্জ কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক মো. রওশন ইয়াজদানি এ তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, ওই দুই জামায়াত নেতাকে আজ দিুপুরে আদালতে সোপর্দ করে উল্লাপাড়া থানা পুলিশ। অপরদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী তার জামিন আবেদন করেন। শুনানী শেষে বিজ্ঞ আদালত তাদের জামিন মঞ্জুর করেন।
এর আগে শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় নিজ নিজ বাড়ি থেকে ওই দুই জামায়াত নেতাকে গ্রেপ্তার করে উল্লাপাড়া থানা পুলিশ।
প্রসঙ্গত, শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) ভোরে উধুনিয়া ইউনিয়নের গজাইল বাজারে ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আব্দুল লতিফের দোকান ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আব্দুল লতিফ বাদী হয়ে ওই দুই জামায়াত নেতাসহ জ্ঞাত-অজ্ঞাত জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলায় তিনি উল্লেখ করেন, সিরাজগঞ্জ-৪ আসনে জামায়াত ইসলামীর প্রার্থী রফিকুল ইসলাম খান জললাভ করার পর পূর্ব শত্রুতার জের ধরে গজাইল বাজারে অবস্থিত আব্দুল লতিফরে চালের আড়ত ভাংচুর ও নগদ টাকা লুটপাট করে জামায়াত নেতাকর্মীরা।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর আব্দুল আলীম বলেন, রাতে নির্বাচনের ফলাফলে সকল জায়গায় জামায়াতের প্রার্থী রফিকুল ইসলাম খান সাহেবের জয়ের কথা শোনা যায়। তিনি আমাদের বলেন প্রত্যেক কেন্দ্রের রেজাল্ট শীট নিয়ে উপজেলায় চলে আসেন। আমরা সবাই উপজেলায় চলে যাই। এরপর হঠাৎ করে বিএনপির প্রার্থী আকবর সাহেবের বিজয়ের খবর আসে। এটা শোনার সাথে সাথে বিএনপির লোকজন প্রতি গ্রাম থেকে মিছিল বের করে। তারা আমার অফিসে গিয়ে খান সাহেবের যত ব্যানার-ফেস্টুন ছিল সেগুলো পোড়া দেয়। জামায়াত সমর্থকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ঢিল, নাচানাচি আর গালিগালাজ পারতে শুরু করে। পুরো গজাইল গ্রামে ত্রাস সৃষ্টি করে।
রাত ২টার দিকে পোস্টাল ব্যালটের ভোট গুণে জামায়াত প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। ভোররাতে আমরা বাড়িতে চলে আসি। সকালবেলা দেখি ওদের আড়ত ভাঙা। অথচ মামলা দিয়েছে আমাদের নামে। প্রকৃতপক্ষে নিজেদের অপকর্ম ঢাকতেই এই ঘটনা তারাই ঘটিয়েছে।

রিপোর্টার: 



















