সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo মমতাকে অব্যাহতি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হলো পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রিসভা Logo কবিগুরুর জন্মবার্ষিকী উদযাপনে প্রস্তুত শাহজাদপুরের কাছারিবাড়ি Logo নিকার অনুমোদন: ভূল্লী উপজেলা গঠনে জনসাধারণের উচ্ছ্বাস Logo ধর্ষণ মামলায় নির্দোষ ইমাম জেলে, ডিএনএ পরীক্ষায় বেরিয়ে এলো আসল তথ্য Logo অবৈধভাবে গড়ে উঠা স্থাপনা দখলমুক্ত হবে: পানি সম্পদ মন্ত্রী Logo বিদ্যুৎ মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি: বিদ্যুৎমন্ত্রী Logo  বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও ট্রান্সফরমার চোর চক্রের ৯ সদস্য গ্রেফতার Logo মাদক সেবনের দায়ে কারাদণ্ড, কলেজ ছাত্রদল সভাপতি বহিষ্কার Logo মাসুদ উদ্দিনকে জুলাই হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল Logo ইসরায়েলকে হুমকি দিলে কঠিন পরিণতি: নেতানিয়াহুর হুঁশিয়ারি

যেসব সাংবাদিক মবের ভয়ে আছেন, তারা ফ্যাসিবাদের দোসর : প্রেস সচিব

  • রিপোর্টার:
  • আপডেট টাইম : ০৮:১৩:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর ২০২৫
  • 48

ন্যাশনাল ডেস্ক। জনতার কণ্ঠ.কম

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, ‘যেসব সাংবাদিক মবের ভয়ে আছেন, তারা ফ্যাসিবাদের দোসর ছিলেন। এ সরকার তো কাউকে ডিজিএফআই বা এনএসআই দিয়ে হয়রানি করে নাই।’

বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘গণমাধ্যমের স্বাধীনতা : ইশতেহারে রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি’ শীর্ষক সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রেস সচিব দাবি করেন, সত্যিকার অর্থে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সাংবাদিকরা তুলনামূলক নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে পেরেছে। কিন্তু আওয়ামী লীগের আমলে সাংবাদিকদের ওপর ভয়াবহ পরিস্থিতি নেমে আসে, তাদের ওপর নানা ধরনের নিপীড়ন ও নির্যাতন চালানো হয়। সেই জায়গা থেকে আমরা বেরিয়ে আসতে পেরেছি।

তিনি বলেন, ‘অনেকে বলেন মবের ভয়ে আছেন। আমি তো কোথাও সেই ভয় দেখি না। যিনি মবের ভয় করছেন, তিনি হয়তো তখন দোসর ছিলেন। এখন আপনি যদি দোসর হন, আমি তো আপনার পাপ ক্লিন আপ করব না। যারা আজকে বলছেন মবের ভয় আছেন বেশিরভাগই দেখবেন এরা দোসর ছিলেন। ভয়টা নিজে নিজে থেকেই আসছে। আমরা বলেছি কোনো গণমাধ্যমে কোনো ধরনের আক্রমণ আমরা সহ্য করব না। সে কথা আমরা রেখেছি।’

শফিকুল আলম বলেন, ‘গত ১৫ মাসে সাংবাদিকদের নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে আমরা কাজ করেছি। কিন্তু রাজনৈতিক সরকার এলে সেটি টিকে থাকবে কি না, সেই প্রশ্ন এখনো রয়ে গেছে।’

দেশে মিস ইনফরমেশন ছড়ালে সেটা মোকাবিলা করা খুবই কঠিন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সেন্টমার্টিন দখল করে নিচ্ছে, এটা নিয়ে ১ হাজার ভুয়া নিউজ ছড়িয়েছে। মাইলস্টোন নিয়ে গুজব ছড়িয়েছে। সরকারের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। আমাদের সক্ষমতা খুবই সীমিত, এই মাধ্যমে মিথ্যা খবর ধরার বা প্রতিহত করার প্রয়োজনীয় টুল ও ব্যবস্থা নেই। ফলে সুরা-কেরাত পড়ে অনেকে টিভিতে গিয়ে মিথ্যা কথা ছড়িয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে দৃঢ় রাখতে হলে এসব ফেক নিউজকে কঠোরভাবে মোকাবিলা করতে হবে।’

তার মতে, বাংলাদেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নেয়া যেমন বড় চ্যালেঞ্জ, তেমনি মানুষের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দেয়াও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

সংলাপে অংশ নিয়ে বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর বলেন, ‘এখন মিডিয়া হাউস নিয়ে এক ধরনের আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। মিডিয়া হাউসগুলো শুধু সংবাদ পরিবেশন করে না, তারা ভেটো ক্ষমতার মতো আচরণ করতে চায়, যেন তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কিছুই ঘটতে না পারে। বড় ব্যবসায়ীরা নতুন নতুন মিডিয়া খুলে ফেলছেন। সাংবাদিকদের সংগঠন থাকতে পারে, তবে সেটি দলীয় প্রভাবমুক্ত হতে হবে।’

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম সদস্য সচিব ও মিডিয়া সেলের সম্পাদক মুশফিক উস সালেহীন বলেন, ‘গণমাধ্যমের পুরো ইকোসিস্টেম এখন সাংবাদিকদের জন্য ক্ষতিকর হয়ে উঠেছে। পোশাকশ্রমিকের মতো বেতনে সাংবাদিক নিয়োগ হয়। ৫ আগস্টের পর বহু গণমাধ্যমের মালিকানা ও শীর্ষপদে পরিবর্তন এসেছে। দলীয় মদতপুষ্ট লোকেরা সেখানে গেছেন। তারা আগে এক দলের ন্যারেটিভ প্রচার করতেন, এখন অন্য দলেরটা করছেন।’

এসময় তিনি গণমাধ্যমে ক্রস ওনারশিপ বন্ধের আহ্বান জানান। মুশফিক উস সালেহীন বলেন, ‘আমাদের ইশতেহারে এটা স্পষ্টভাবে থাকবে, এক মালিকের অধীনে একাধিক গণমাধ্যম থাকা উচিত নয়। এক মালিক, এক গণমাধ্যম নীতি থাকা দরকার।’

গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খাঁন বলেন, ‘গণমাধ্যমে দৃশ্যমান কোনো সংস্কার চোখে পড়েনি। শেখ হাসিনা আমলের সিস্টেমই এখনো চলছে। এর মধ্যেই দুটো টেলিভিশনের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়ন করা গেলে ভালো হতো, কিন্তু তা হয়নি।’

সাবেক উপদেষ্টাদের ব্যর্থতার সমালোচনা করে রাশেদ খাঁন বলেন, ‘যারা অন্তর্বর্তী সরকারের অংশ ছিলেন, যেমন নাহিদ ইসলাম বা এনসিপির নেতা তারা যদি তাদের মন্ত্রণালয়ে সংস্কার করে দেখাতে পারতেন, তাহলে তারা রোল মডেল হতে পারতেন। কিন্তু তারা পারেননি। যখন গণঅভ্যুত্থানের ছাত্রশক্তি ব্যর্থ হচ্ছে, তখন আগামী প্রজন্ম কীভাবে সফল হবে?’

ফটোকার্ড নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আমি দশ মিনিটের বক্তব্য দিই, কিন্তু কেউ সেটার থেকে দুই লাইন কেটে ফটোকার্ড বানিয়ে ফেসবুকে দেয়। মানুষ পুরো খবর না পড়ে ওই কার্ডই শেয়ার করে। এতে বিকৃত বার্তা ছড়ায়, অনেক সময় নেতাদের চরিত্রহনন হয়। ফটোকার্ডের নীতিমালা তৈরি করা জরুরি। ফটোকার্ড বাদ দিতে বলছি না, কিন্তু এর অপব্যবহার বন্ধ করতে হবে।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মমতাকে অব্যাহতি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হলো পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রিসভা

যেসব সাংবাদিক মবের ভয়ে আছেন, তারা ফ্যাসিবাদের দোসর : প্রেস সচিব

আপডেট টাইম : ০৮:১৩:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর ২০২৫

ন্যাশনাল ডেস্ক। জনতার কণ্ঠ.কম

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, ‘যেসব সাংবাদিক মবের ভয়ে আছেন, তারা ফ্যাসিবাদের দোসর ছিলেন। এ সরকার তো কাউকে ডিজিএফআই বা এনএসআই দিয়ে হয়রানি করে নাই।’

বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘গণমাধ্যমের স্বাধীনতা : ইশতেহারে রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি’ শীর্ষক সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রেস সচিব দাবি করেন, সত্যিকার অর্থে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সাংবাদিকরা তুলনামূলক নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে পেরেছে। কিন্তু আওয়ামী লীগের আমলে সাংবাদিকদের ওপর ভয়াবহ পরিস্থিতি নেমে আসে, তাদের ওপর নানা ধরনের নিপীড়ন ও নির্যাতন চালানো হয়। সেই জায়গা থেকে আমরা বেরিয়ে আসতে পেরেছি।

তিনি বলেন, ‘অনেকে বলেন মবের ভয়ে আছেন। আমি তো কোথাও সেই ভয় দেখি না। যিনি মবের ভয় করছেন, তিনি হয়তো তখন দোসর ছিলেন। এখন আপনি যদি দোসর হন, আমি তো আপনার পাপ ক্লিন আপ করব না। যারা আজকে বলছেন মবের ভয় আছেন বেশিরভাগই দেখবেন এরা দোসর ছিলেন। ভয়টা নিজে নিজে থেকেই আসছে। আমরা বলেছি কোনো গণমাধ্যমে কোনো ধরনের আক্রমণ আমরা সহ্য করব না। সে কথা আমরা রেখেছি।’

শফিকুল আলম বলেন, ‘গত ১৫ মাসে সাংবাদিকদের নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে আমরা কাজ করেছি। কিন্তু রাজনৈতিক সরকার এলে সেটি টিকে থাকবে কি না, সেই প্রশ্ন এখনো রয়ে গেছে।’

দেশে মিস ইনফরমেশন ছড়ালে সেটা মোকাবিলা করা খুবই কঠিন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সেন্টমার্টিন দখল করে নিচ্ছে, এটা নিয়ে ১ হাজার ভুয়া নিউজ ছড়িয়েছে। মাইলস্টোন নিয়ে গুজব ছড়িয়েছে। সরকারের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। আমাদের সক্ষমতা খুবই সীমিত, এই মাধ্যমে মিথ্যা খবর ধরার বা প্রতিহত করার প্রয়োজনীয় টুল ও ব্যবস্থা নেই। ফলে সুরা-কেরাত পড়ে অনেকে টিভিতে গিয়ে মিথ্যা কথা ছড়িয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে দৃঢ় রাখতে হলে এসব ফেক নিউজকে কঠোরভাবে মোকাবিলা করতে হবে।’

তার মতে, বাংলাদেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নেয়া যেমন বড় চ্যালেঞ্জ, তেমনি মানুষের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দেয়াও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

সংলাপে অংশ নিয়ে বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর বলেন, ‘এখন মিডিয়া হাউস নিয়ে এক ধরনের আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। মিডিয়া হাউসগুলো শুধু সংবাদ পরিবেশন করে না, তারা ভেটো ক্ষমতার মতো আচরণ করতে চায়, যেন তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কিছুই ঘটতে না পারে। বড় ব্যবসায়ীরা নতুন নতুন মিডিয়া খুলে ফেলছেন। সাংবাদিকদের সংগঠন থাকতে পারে, তবে সেটি দলীয় প্রভাবমুক্ত হতে হবে।’

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম সদস্য সচিব ও মিডিয়া সেলের সম্পাদক মুশফিক উস সালেহীন বলেন, ‘গণমাধ্যমের পুরো ইকোসিস্টেম এখন সাংবাদিকদের জন্য ক্ষতিকর হয়ে উঠেছে। পোশাকশ্রমিকের মতো বেতনে সাংবাদিক নিয়োগ হয়। ৫ আগস্টের পর বহু গণমাধ্যমের মালিকানা ও শীর্ষপদে পরিবর্তন এসেছে। দলীয় মদতপুষ্ট লোকেরা সেখানে গেছেন। তারা আগে এক দলের ন্যারেটিভ প্রচার করতেন, এখন অন্য দলেরটা করছেন।’

এসময় তিনি গণমাধ্যমে ক্রস ওনারশিপ বন্ধের আহ্বান জানান। মুশফিক উস সালেহীন বলেন, ‘আমাদের ইশতেহারে এটা স্পষ্টভাবে থাকবে, এক মালিকের অধীনে একাধিক গণমাধ্যম থাকা উচিত নয়। এক মালিক, এক গণমাধ্যম নীতি থাকা দরকার।’

গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খাঁন বলেন, ‘গণমাধ্যমে দৃশ্যমান কোনো সংস্কার চোখে পড়েনি। শেখ হাসিনা আমলের সিস্টেমই এখনো চলছে। এর মধ্যেই দুটো টেলিভিশনের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়ন করা গেলে ভালো হতো, কিন্তু তা হয়নি।’

সাবেক উপদেষ্টাদের ব্যর্থতার সমালোচনা করে রাশেদ খাঁন বলেন, ‘যারা অন্তর্বর্তী সরকারের অংশ ছিলেন, যেমন নাহিদ ইসলাম বা এনসিপির নেতা তারা যদি তাদের মন্ত্রণালয়ে সংস্কার করে দেখাতে পারতেন, তাহলে তারা রোল মডেল হতে পারতেন। কিন্তু তারা পারেননি। যখন গণঅভ্যুত্থানের ছাত্রশক্তি ব্যর্থ হচ্ছে, তখন আগামী প্রজন্ম কীভাবে সফল হবে?’

ফটোকার্ড নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আমি দশ মিনিটের বক্তব্য দিই, কিন্তু কেউ সেটার থেকে দুই লাইন কেটে ফটোকার্ড বানিয়ে ফেসবুকে দেয়। মানুষ পুরো খবর না পড়ে ওই কার্ডই শেয়ার করে। এতে বিকৃত বার্তা ছড়ায়, অনেক সময় নেতাদের চরিত্রহনন হয়। ফটোকার্ডের নীতিমালা তৈরি করা জরুরি। ফটোকার্ড বাদ দিতে বলছি না, কিন্তু এর অপব্যবহার বন্ধ করতে হবে।