নওগাঁর রাণীনগরে পার্টনার প্রকল্পের আওতায় বোরো মৌসুমে পানি সাশ্রয়ের জন্য নেওয়া পর্যায়ক্রমে জমি ভেজানো ও শুকানো (এডব্লিউডি) প্রযুক্তিনির্ভর প্রদর্শনীতে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কৃষকদের প্রযুক্তি ব্যবহারে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও প্রশিক্ষণ না দেওয়ায় প্রদর্শনীর সুফল পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ। এ নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর কৃষি বিভাগের উচ্চপর্যায়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে তদন্ত নিয়ে সংশ্লিষ্টদের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, রাণীনগরে ৮ একর জমিতে চারটি প্রদর্শনীর জন্য প্রতিটিতে ৫০ হাজার টাকা করে মোট ২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে বীজ, ইউরিয়া, ডিএপি, এমওপি, জিংক সালফেট, জিপসাম, বোরণ, জৈব সার, বালাইনাশক ও আগাছানাশক, এডব্লিউডি পাইপ, শ্রমিক খরচ, ড্রাম, সাইনবোর্ড, পরিবহন, প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন খাতে বরাদ্দ ছিল।
গত ২৫ আগস্ট প্রত্যন্ত এলাকার চারজন সুবিধাভোগী কৃষককে উপজেলা কৃষি অফিসে ডেকে তাদের বক্তব্য লিপিবদ্ধ করা হয়। কৃষকদের অভিযোগ, বরাদ্দ অনুযায়ী পুরো উপকরণ দেওয়া হয়নি। নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের নিয়মকানুন ও হাতে-কলমে প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়নি।
চকবলরাম গ্রামের কৃষক ওসমান আলী, কালীগ্রাম কসবাপাড়ার বাবু সরদার ও জলকৈ গ্রামের কামরুল ইসলামসহ কৃষকরা অভিযোগ করেন, চার বস্তার পরিবর্তে তিন বস্তা ইউরিয়া, তিন বস্তার পরিবর্তে দুই বস্তা ডিএপি, ১২০ কেজির পরিবর্তে ১০০ কেজি এমওপি, ৬০ কেজির পরিবর্তে ৪০ কেজি জিপসাম, ১৫০ কেজির পরিবর্তে ৮০ কেজি জৈব সার এবং ৬ কেজির পরিবর্তে প্রায় ৫ কেজি জিংক দেওয়া হয়েছে। বালাইনাশক ও আগাছানাশকের জন্য বরাদ্দ ৩ হাজার টাকার বিপরীতে প্রায় ৩০০ টাকার ওষুধ দেওয়া হয়েছে বলেও তারা দাবি করেন। শ্রমিক খরচ দেওয়া হয়নি এবং সাইনবোর্ডের বাঁশ নিজেদের টাকায় কিনতে হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের।
তদন্তকারী কর্মকর্তা ও নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক মো. মেহেদুল হাসান বলেন, তিনি এডব্লিউডি বিষয়ে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তবে কৃষকরা কী বলেছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এটা তদন্তের বিষয়, আপনাকে বলব না।” এ বিষয়ে আহ্বায়ক অন্য একজন এবং উপপরিচালকের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন তিনি।
অন্যদিকে নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মনজুর রহমান বলেন, “একটি স্রোত যখন মুভ করে, তখন হুট করে থামানো যায় না। আস্তে আস্তে নিয়ন্ত্রণের মধ্যে নিয়ে আসতে হবে।” তিনি আরও বলেন, সব বিষয় তারা অ্যাড্রেস করেছেন এবং ধীরে ধীরে বিষয়গুলো পরিষ্কার হবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোস্তাকিমা খাতুনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম তদন্ত শুরুর বিষয়টি নিশ্চিত করে হোয়াটসঅ্যাপে কল দিতে বলেন।
অভিযোগ রয়েছে, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাদের গাফিলতি ও দায়িত্বহীনতার কারণে পানি সাশ্রয়ের গুরুত্বপূর্ণ এ প্রকল্পটি প্রত্যাশিত সুফল পায়নি। অথচ প্রকল্প বাস্তবায়নে ডবল কেবিন পিকআপ, জ্বালানি সুবিধা এবং উপজেলা কৃষি অফিসে ষষ্ঠ গ্রেডের উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা থাকার পরও কেন প্রদর্শনী ব্যর্থ হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তদন্ত সঠিকভাবে সম্পন্ন করে অনিয়মের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি। জনতার কণ্ঠ.কম 




















