সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo মমতাকে অব্যাহতি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হলো পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রিসভা Logo কবিগুরুর জন্মবার্ষিকী উদযাপনে প্রস্তুত শাহজাদপুরের কাছারিবাড়ি Logo নিকার অনুমোদন: ভূল্লী উপজেলা গঠনে জনসাধারণের উচ্ছ্বাস Logo ধর্ষণ মামলায় নির্দোষ ইমাম জেলে, ডিএনএ পরীক্ষায় বেরিয়ে এলো আসল তথ্য Logo অবৈধভাবে গড়ে উঠা স্থাপনা দখলমুক্ত হবে: পানি সম্পদ মন্ত্রী Logo বিদ্যুৎ মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি: বিদ্যুৎমন্ত্রী Logo  বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও ট্রান্সফরমার চোর চক্রের ৯ সদস্য গ্রেফতার Logo মাদক সেবনের দায়ে কারাদণ্ড, কলেজ ছাত্রদল সভাপতি বহিষ্কার Logo মাসুদ উদ্দিনকে জুলাই হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল Logo ইসরায়েলকে হুমকি দিলে কঠিন পরিণতি: নেতানিয়াহুর হুঁশিয়ারি

লিবিয়ায় ৪২ দিন যাবত নিখোঁজ, আঙুল কাটার ভিডিও দেখিয়ে মুক্তিপণ আদায়

রায়হান চৌধুরী। ছবি : সংগৃহীত

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার এক যুবককে ইতালি পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে লিবিয়ায় নিয়ে গিয়ে জিম্মি করে নির্যাতন ও মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে একটি মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে।

 

 

 

ভুক্তভোগী রায়হান চৌধুরী (৩০) গত ৪২ দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে তার পরিবার।

 

 

 

পরিবার ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নবীগঞ্জ উপজেলার আউশকান্দি ইউনিয়নের বেতাপুর গ্রামের বাসিন্দা আবু তাহের চৌধুরীর ছেলে রায়হানকে পূর্ব পরিচয়ের ভিত্তিতে ইতালিতে ফ্রি ভিসার প্রলোভন দেখায় শামীমসহ একটি দালাল চক্র। তাদের কথায় বিশ্বাস করে রায়হান ইতালি যাওয়ার প্রস্তুতি নেন এবং পরিবারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দালালদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

পরে দালালরা ভিসা সম্পন্ন হয়েছে দাবি করে বিভিন্ন সময়ে প্রায় ১২ লাখ টাকা নেয়। এরপর আরও অর্থ নিয়ে রায়হানকে প্রথমে ওমরাহ ভিসায় সৌদি আরব, সেখান থেকে মিসর হয়ে লিবিয়ায় নেওয়া হয়। কিন্তু ইতালি পাঠানোর পরিবর্তে সেখানে তাকে আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করা হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, রায়হানের পরিবারের কাছে ফোন করে আরও ১৫ লাখ টাকা দাবি করা হয়। নিরুপায় হয়ে পরিবার জমি ও স্বর্ণ বিক্রি করে সেই টাকা পরিশোধ করে। এ সময় ভিডিও কলে রায়হানের ওপর নির্যাতনের দৃশ্য দেখানো হয় এবং তার একটি আঙুল কেটে ফেলার ঘটনাও জানানো হয়।

 

 

পরিবারের দাবি, ইতোমধ্যে মোট ২৭ লাখ ৯০ হাজার টাকা দেওয়ার পরও রায়হানকে মুক্তি দেওয়া হয়নি। বরং আরও ২৫ লাখ টাকা দাবি করে পুনরায় নির্যাতন চালানো হচ্ছে। টাকা না দিলে তার হাতের কবজি কেটে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়েছে।

 

 

 

এ ঘটনায় চলতি বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি আবু তাহের চৌধুরী নবীগঞ্জ থানায় মানবপাচার আইনে একটি মামলা করেন। তবে মামলার পর থেকেই রায়হানের কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ পরিবারের।

 

 

 

রায়হানের বাবা বলেন, ‘মামলা করে আমি আরও বিপদে পড়েছি। ভিডিও কলে দেখিয়েছে আমার ছেলেকে নির্যাতন করা হচ্ছে, একটি আঙুল কেটে দিয়েছে। এখন ৪২ দিন ধরে সে নিখোঁজ। আমাকে মামলা তুলে নিতে চাপ দেওয়া হচ্ছে।’

 

 

 

নবীগঞ্জ থানার ওসি মো. মোনায়েম মিয়া জানান, মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বিষয়টি এখন সিআইডি তদন্ত করছে।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মমতাকে অব্যাহতি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হলো পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রিসভা

লিবিয়ায় ৪২ দিন যাবত নিখোঁজ, আঙুল কাটার ভিডিও দেখিয়ে মুক্তিপণ আদায়

আপডেট টাইম : ১১:৩২:৪৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার এক যুবককে ইতালি পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে লিবিয়ায় নিয়ে গিয়ে জিম্মি করে নির্যাতন ও মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে একটি মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে।

 

 

 

ভুক্তভোগী রায়হান চৌধুরী (৩০) গত ৪২ দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে তার পরিবার।

 

 

 

পরিবার ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নবীগঞ্জ উপজেলার আউশকান্দি ইউনিয়নের বেতাপুর গ্রামের বাসিন্দা আবু তাহের চৌধুরীর ছেলে রায়হানকে পূর্ব পরিচয়ের ভিত্তিতে ইতালিতে ফ্রি ভিসার প্রলোভন দেখায় শামীমসহ একটি দালাল চক্র। তাদের কথায় বিশ্বাস করে রায়হান ইতালি যাওয়ার প্রস্তুতি নেন এবং পরিবারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দালালদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

পরে দালালরা ভিসা সম্পন্ন হয়েছে দাবি করে বিভিন্ন সময়ে প্রায় ১২ লাখ টাকা নেয়। এরপর আরও অর্থ নিয়ে রায়হানকে প্রথমে ওমরাহ ভিসায় সৌদি আরব, সেখান থেকে মিসর হয়ে লিবিয়ায় নেওয়া হয়। কিন্তু ইতালি পাঠানোর পরিবর্তে সেখানে তাকে আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করা হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, রায়হানের পরিবারের কাছে ফোন করে আরও ১৫ লাখ টাকা দাবি করা হয়। নিরুপায় হয়ে পরিবার জমি ও স্বর্ণ বিক্রি করে সেই টাকা পরিশোধ করে। এ সময় ভিডিও কলে রায়হানের ওপর নির্যাতনের দৃশ্য দেখানো হয় এবং তার একটি আঙুল কেটে ফেলার ঘটনাও জানানো হয়।

 

 

পরিবারের দাবি, ইতোমধ্যে মোট ২৭ লাখ ৯০ হাজার টাকা দেওয়ার পরও রায়হানকে মুক্তি দেওয়া হয়নি। বরং আরও ২৫ লাখ টাকা দাবি করে পুনরায় নির্যাতন চালানো হচ্ছে। টাকা না দিলে তার হাতের কবজি কেটে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়েছে।

 

 

 

এ ঘটনায় চলতি বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি আবু তাহের চৌধুরী নবীগঞ্জ থানায় মানবপাচার আইনে একটি মামলা করেন। তবে মামলার পর থেকেই রায়হানের কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ পরিবারের।

 

 

 

রায়হানের বাবা বলেন, ‘মামলা করে আমি আরও বিপদে পড়েছি। ভিডিও কলে দেখিয়েছে আমার ছেলেকে নির্যাতন করা হচ্ছে, একটি আঙুল কেটে দিয়েছে। এখন ৪২ দিন ধরে সে নিখোঁজ। আমাকে মামলা তুলে নিতে চাপ দেওয়া হচ্ছে।’

 

 

 

নবীগঞ্জ থানার ওসি মো. মোনায়েম মিয়া জানান, মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বিষয়টি এখন সিআইডি তদন্ত করছে।