সিরাজগঞ্জ , বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

শরীয়তপুরে মমালা তুলে না নেওয়ায় বাদীকে প্রাণনাশের হুমকি

শরীয়তপুরে মামলা তুলে না নেওয়ায় বাদীকে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

শরীয়তপুরের নড়িয়ায় দায়ের করা মামলা তুলে না নেওয়ায় মো. লিটন খান (৪৮) নামে এক ব্যবসায়ীকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে শরীয়তপুরের পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি।

 

 

 

 

লিটন খান নড়িয়ার ভোজেশ্বর বাজারের ‘লিটন ডেকোরেটর অ্যান্ড লাইটিং’-এর স্বত্বাধিকারী। লিখিত অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, গত ১৭ জুলাই সন্ধ্যা ৭টা ৩৬ মিনিটের দিকে একটি মোবাইল নম্বর থেকে রাকিব মাদবর নামে এক ব্যক্তি তাকে ফোন করেন। ওই সময় পারিবারিক অনুষ্ঠানের জন্য ডেকোরেটর ও লাইটিং ভাড়া নেওয়ার কথা বলে এ বিষয়ে আলোচনার জন্য তাকে জপসা ইউনিয়নের রমেশ মাঝির খেয়াঘাটে যেতে বলা হয়।

 

 

 

 

অভিযোগে লিটন খান বলেন, সেখানে গিয়ে তিনি হৃদয় মল্লিক (২৩), রাকিব মাদবর (২১), রানা মাদবর (২২), মানিক মৃধা (২৪)সহ আরও ৫-৬ জনকে দেখতে পান। একপর্যায়ে তারা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার ওপর হামলা চালিয়ে তাকে গুরুতর আহত করেন। তার দাবি, ঘটনার আগে তিনি ওই ব্যক্তিদের মাদকসংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করেছিলেন। এর জের ধরে পরিকল্পিতভাবে ডেকোরেটর ভাড়া নেওয়ার কথা বলে তাকে সেখানে ডেকে নিয়ে হামলা করা হয়।

 

 

 

 

এ ঘটনায় গত ২২ জুলাই নড়িয়া থানায় ২৫ নম্বর মামলা করেন লিটন খান। লিখিত আবেদনে মামলায় দণ্ডবিধির ১৪৩, ৩২৪, ৩২৫, ৩২৬, ৩০৭, ৩৭৯, ৫০৬, ১৪৪ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

 

 

 

 

লিটন খান আরও অভিযোগ করেন, মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব ভোজেশ্বর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) জোবায়েরকে দেওয়া হয়েছে। তার দাবি, তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে আসামিদের যোগসাজশ থাকায় তারা প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করলেও তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। পাশাপাশি মামলা প্রত্যাহার না করলে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

 

 

 

 

লিখিত আবেদনে লিটন খান তার জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মামলাটির তদন্তভার গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) বা অন্য কোনো সংস্থার কাছে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তার ভাষ্য, নিরপেক্ষ তদন্ত হলে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের পাশাপাশি তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে আসামিদের কথিত যোগসাজশের বিষয়টিও স্পষ্ট হবে।

 

 

 

 

অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার চেষ্টা করেও তাদের পাওয়া যায়নি।

 

 

 

 

এ বিষয়ে শরীয়তপুরের ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার (অতিরিক্ত পুলিশ সুপার) মো. জাকারিয়া রহমান বলেন, ‘একজন আসামি ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’

One thought on “শরীয়তপুরে মমালা তুলে না নেওয়ায় বাদীকে প্রাণনাশের হুমকি

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রেস ব্রিফিংয়ে মুখোমুখি ফাইটাররা, প্রশ্নোত্তরের পাশাপাশি দেখালেন বক্সিং পোজ

শরীয়তপুরে মমালা তুলে না নেওয়ায় বাদীকে প্রাণনাশের হুমকি

আপডেট টাইম : ০২:৪৩:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শরীয়তপুরের নড়িয়ায় দায়ের করা মামলা তুলে না নেওয়ায় মো. লিটন খান (৪৮) নামে এক ব্যবসায়ীকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে শরীয়তপুরের পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি।

 

 

 

 

লিটন খান নড়িয়ার ভোজেশ্বর বাজারের ‘লিটন ডেকোরেটর অ্যান্ড লাইটিং’-এর স্বত্বাধিকারী। লিখিত অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, গত ১৭ জুলাই সন্ধ্যা ৭টা ৩৬ মিনিটের দিকে একটি মোবাইল নম্বর থেকে রাকিব মাদবর নামে এক ব্যক্তি তাকে ফোন করেন। ওই সময় পারিবারিক অনুষ্ঠানের জন্য ডেকোরেটর ও লাইটিং ভাড়া নেওয়ার কথা বলে এ বিষয়ে আলোচনার জন্য তাকে জপসা ইউনিয়নের রমেশ মাঝির খেয়াঘাটে যেতে বলা হয়।

 

 

 

 

অভিযোগে লিটন খান বলেন, সেখানে গিয়ে তিনি হৃদয় মল্লিক (২৩), রাকিব মাদবর (২১), রানা মাদবর (২২), মানিক মৃধা (২৪)সহ আরও ৫-৬ জনকে দেখতে পান। একপর্যায়ে তারা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার ওপর হামলা চালিয়ে তাকে গুরুতর আহত করেন। তার দাবি, ঘটনার আগে তিনি ওই ব্যক্তিদের মাদকসংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করেছিলেন। এর জের ধরে পরিকল্পিতভাবে ডেকোরেটর ভাড়া নেওয়ার কথা বলে তাকে সেখানে ডেকে নিয়ে হামলা করা হয়।

 

 

 

 

এ ঘটনায় গত ২২ জুলাই নড়িয়া থানায় ২৫ নম্বর মামলা করেন লিটন খান। লিখিত আবেদনে মামলায় দণ্ডবিধির ১৪৩, ৩২৪, ৩২৫, ৩২৬, ৩০৭, ৩৭৯, ৫০৬, ১৪৪ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

 

 

 

 

লিটন খান আরও অভিযোগ করেন, মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব ভোজেশ্বর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) জোবায়েরকে দেওয়া হয়েছে। তার দাবি, তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে আসামিদের যোগসাজশ থাকায় তারা প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করলেও তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। পাশাপাশি মামলা প্রত্যাহার না করলে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

 

 

 

 

লিখিত আবেদনে লিটন খান তার জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মামলাটির তদন্তভার গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) বা অন্য কোনো সংস্থার কাছে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তার ভাষ্য, নিরপেক্ষ তদন্ত হলে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের পাশাপাশি তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে আসামিদের কথিত যোগসাজশের বিষয়টিও স্পষ্ট হবে।

 

 

 

 

অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার চেষ্টা করেও তাদের পাওয়া যায়নি।

 

 

 

 

এ বিষয়ে শরীয়তপুরের ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার (অতিরিক্ত পুলিশ সুপার) মো. জাকারিয়া রহমান বলেন, ‘একজন আসামি ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’