সিরাজগঞ্জ , বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

শাহজালাল বিমানবন্দরের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ে বড় বিনিয়োগের আগ্রহ মেনজিসের

গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ে কোটি ডলার বিনিয়োগে আগ্রহী মেনজিস

ঢাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তৃতীয় টার্মিনাল চালুর পর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পাশাপাশি দ্বিতীয় প্যাসেঞ্জার গ্রাউন্ড হ্যান্ডলার নিয়োগের নীতিগত সিদ্ধান্ত রয়েছে সরকারের। এরই মধ্যে অন্তত চারটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান এই দায়িত্ব নিতে আগ্রহ দেখিয়েছে। এর মধ্যে যুক্তরাজ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং প্রতিষ্ঠান মেনজিস এভিয়েশন এই দায়িত্ব পেতে প্রস্তাবও দিয়েছে।

 

 

 

 

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, প্রতিষ্ঠানটি শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দ্বিতীয় গ্রাউন্ড হ্যান্ডলার হিসেবে নির্বাচিত হলে প্রথম বছরেই ১ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলারের বেশি বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে। এই বিনিয়োগ গ্রাউন্ড সাপোর্ট ইকুইপমেন্ট, আধুনিক এভিয়েশন প্রযুক্তি, জনবল উন্নয়ন এবং পরিচালন সক্ষমতা বাড়াতে ব্যয়ের কথা বলা হয়েছে।

 

 

 

প্রতিষ্ঠানটির প্রস্তাবনায় দেখা গেছে, দায়িত্ব পেলে বাংলাদেশে প্রথম বছরেই সরাসরি এক হাজারের বেশি কর্মসংস্থানের পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। এসব কর্মীর ৯৯ ভাগই বাংলাদেশি হওয়ার কথা জানিয়েছেন তারা। এ ছাড়া পরোক্ষভাবে প্রায় আরও সাড়ে চার হাজার কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির প্রত্যাশা করা হচ্ছে। বিমানবন্দর এলাকায় একটি প্রশিক্ষণ একাডেমি প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাও রয়েছে মেনজিস এভিয়েশনের। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে দায়িত্ব পেলে বিশ্ববিদ্যালয় ও এভিয়েশন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে প্রশিক্ষণ, ইন্টার্নশিপ এবং পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ তৈরিতেও কাজ করতে চায়।

 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মেনজিস এভিয়েশন বিশ্বের অন্তত ৬৫টি দেশের প্রায় ৩৫০টি বিমানবন্দরে তাদের কার্যক্রম চালাচ্ছে। বছরে প্রায় ১৬ লাখ উড়োজাহাজের টার্নঅ্যারাউন্ড এবং ২৪ লাখ টন কার্গো পরিচালনা করে আসছে প্রতিষ্ঠানটি।

 

বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) সূত্র জানায়, আগামী ১৬ ডিসেম্বর বহুল কাঙ্ক্ষিত তৃতীয় টার্মিনাল চালুর পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে সরকার। বরাবরের মতো দেশীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এই টার্মিনালেও গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের দায়িত্ব পালন করবে। তবে সেবার আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে দ্বিতীয় একটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানকেও প্যাসেঞ্জার গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত রয়েছে।

 

 

 

বেবিচকের একজন কর্মকর্তা কালবেলাকে জানিয়েছেন, দ্বিতীয় প্যাসেঞ্জার গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ে দায়িত্ব পেতে যুক্তরাজ্যভিত্তিক মেনজিস এভিয়েশন ছাড়াও সুইজারল্যান্ডের সুইসপোর্ট, তুরস্কের চেলেবি এভিয়েশন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের ডানাটা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

 

 

 

 

দেশের এভিয়েশন খাতের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শাহজালালের তৃতীয় টার্মিনাল অত্যাধুনিক। কিন্তু আধুনিক অবকাঠামোই আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব হওয়ার নিশ্চয়তা দেয় না। এর সাফল্য নির্ভর করবে পরিচালন দক্ষতা, নিরাপত্তা ও যাত্রীসেবার মানের ওপর। ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া ও লাগেজ পেতে কতটা সময় লাগে—তা দিয়ে যাত্রীরা বিমানবন্দরের সেবার মান যাচাই করেন। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনসগুলোর কাছে গুরুত্বপূর্ণ নিরাপদ উড়োজাহাজ পরিচালনা, দ্রুত টার্নঅ্যারাউন্ড এবং নির্ভরযোগ্য গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং। তাই সেবার মান নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক ও অভিজ্ঞ গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং প্রতিষ্ঠানের বিকল্প নেই।

 

 

 

 

তারা বলছেন, গত ৫০ বছর ধরে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স দেশের বিমানবন্দরগুলোতে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবা দিয়ে আসছে। এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানের নতুন প্রতিষ্ঠান যুক্ত হলে প্রতিযোগিতার পাশাপাশি প্রযুক্তি, আধুনিক সরঞ্জাম ও দক্ষ জনবল আনার সুযোগ তৈরি হবে।

 

 

 

 

একটি বিমানবন্দরে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং প্রতিষ্ঠান সাধারণত লাগেজ ওঠানো-নামানো, উড়োজাহাজের সেবা, এপ্রোন পরিচালনা এবং পরবর্তী ফ্লাইটের প্রস্তুতির বিষয়টি দেখভাল করে থাকে। এসব কাজে বিলম্ব বা ত্রুটি সরাসরি প্রভাব ফেলে যাত্রীসেবা ও ফ্লাইটের সময়সূচিতে। এজন্য এই সেবা খাতে দায়িত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান নির্বাচনে বিনিয়োগ বা বাণিজ্যি প্রস্তাবের পাশাপাশি নিরাপত্তা, প্রযুক্তি ও পরিচালন সক্ষমতাও বিবেচনায় নেওয়া হয়ে থাকে।

 

 

 

 

 

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সাবেক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) মফিদুর রহমান বলেন, তৃতীয় টার্মিনালের আধুনিক স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা পরিচালনায় অভিজ্ঞ জনবল প্রয়োজন। আধুনিক সরঞ্জাম ব্যবহারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের সেবা নিশ্চিত করার সক্ষমতাও থাকতে হবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে।

 

 

 

 

দ্বিতীয় গ্রাউন্ড হ্যান্ডলার হিসেবে দায়িত্ব পেতে আগ্রহী মেনজিস এভিয়েশনের অপারেশনস বিভাগের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট জন হেন্ডারসন বলেন, বিশ্বের শীর্ষ এভিয়েশন সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হওয়া কাকতালীয় কোনো বিষয় নয়। বাজারে নেতৃত্ব দিতে পারে এমন প্রশিক্ষণ, ব্যবস্থাপনা এবং পরিচালনব্যবস্থায় বিনিয়োগের মাধ্যমেই তাদের প্রতিষ্ঠান এ অবস্থানে পৌঁছেছে। নিরাপদ ও মানসম্মত পরিচালনায় তারা নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এ কারণেই বিমানবন্দর ও এয়ারলাইন্সগুলো ধারাবাহিকভাবে মেনজিসকে বেছে নিচ্ছে।

 

 

 

 

এভিয়েশন খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তৃতীয় টার্মিনালের পরিচালনায় লাগেজ ব্যবস্থাপনা অন্যতম বড় পরীক্ষা হয়ে উঠবে। যাত্রীরা বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার আগে লাগেজ কত দ্রুত হাতে পাচ্ছেন, তার ওপর সেবার মান অনেকাংশে নির্ভর করবে। একইভাবে উড়োজাহাজের টার্নঅ্যারাউন্ডের ক্ষেত্রেও সময় গুরুত্বপূর্ণ। লাগেজ নামানো, উড়োজাহাজে সেবা দেওয়া, পরবর্তী ফ্লাইটের জন্য লাগেজ তোলা কিংবা এপ্রোন এলাকায় সমন্বয়ের কোনো পর্যায়ে বিলম্ব হলে তার প্রভাব পড়ে ফ্লাইটের সময়সূচিতে। এর বাইরে দ্বিতীয় গ্রাউন্ড হ্যান্ডলার নিয়োগের ক্ষেত্রে চুক্তির মেয়াদ শেষে বাংলাদেশ কী ধরনের সক্ষমতা অর্জন করবে, সেই বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।

 

 

 

 

তবে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের দায়িত্ব পেতে আগ্রহী মেনজিসের কর্মকর্তারা বলছেন, রিয়েল-টাইম ব্যাগেজ স্ক্যানিং এবং স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার মাধ্যমে বেবিচকের নির্ধারিত মান পূরণের সক্ষমতা রয়েছে তাদের। ওয়াইডবডি উড়োজাহাজের ক্ষেত্রে প্রথম লাগেজ ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যে এবং শেষ লাগেজ ৪০ মিনিটের মধ্যে সরবরাহের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে তারা।

 

 

 

 

প্রতিষ্ঠানটির অপারেশন বিভাগের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট জন হেন্ডারসন বলেন, মেসজিসের নিজস্ব রিয়েল-টাইম তথ্য সংগ্রহ ও কাজ বণ্টনের ব্যবস্থা রয়েছে। এর মাধ্যমে সঠিক সময়ে সঠিক স্থানে প্রয়োজনীয় জনবল ও সরঞ্জাম নিশ্চিত করা যায়। এতে এয়ারলাইন্স ও বিমানবন্দরের জন্য নিরাপদ ও দক্ষ পরিচালনা সম্ভব হয়। পাশাপাশি গ্রাহক ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের তাৎক্ষণিক পরিচালনগত তথ্য সরবরাহ করা যায়।

 

 

 

 

তিনি বলেন, ঢাকায় একটি প্রশিক্ষণ একাডেমি প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। সেখানে প্রশিক্ষণ শেষে কর্মীরা মেনজিসের আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী কাজ করার যোগ্যতা অর্জন করবেন। এতে প্রতিষ্ঠানটির আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের যে কোনো বিমানবন্দরে বাংলাদেশি কর্মীদের কাজ করার সুযোগ তৈরি হবে।

 

 

 

 

তিনি জানান, তাদের পরীক্ষিত কার্যক্রম শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে। কর্মী নিয়োগের পর তিন মাসের মধ্যে তাদের আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী প্রশিক্ষণ দেওয়া সম্ভব বলে তারা মনে করেন।

 

 

 

 

 

জনতার কন্ঠ/এস এ

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নারী ক্রিকেটারকে যৌন হয়রানির প্রমাণ পেয়েছে বিসিবি

শাহজালাল বিমানবন্দরের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ে বড় বিনিয়োগের আগ্রহ মেনজিসের

আপডেট টাইম : ০১:১৬:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬

ঢাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তৃতীয় টার্মিনাল চালুর পর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পাশাপাশি দ্বিতীয় প্যাসেঞ্জার গ্রাউন্ড হ্যান্ডলার নিয়োগের নীতিগত সিদ্ধান্ত রয়েছে সরকারের। এরই মধ্যে অন্তত চারটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান এই দায়িত্ব নিতে আগ্রহ দেখিয়েছে। এর মধ্যে যুক্তরাজ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং প্রতিষ্ঠান মেনজিস এভিয়েশন এই দায়িত্ব পেতে প্রস্তাবও দিয়েছে।

 

 

 

 

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, প্রতিষ্ঠানটি শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দ্বিতীয় গ্রাউন্ড হ্যান্ডলার হিসেবে নির্বাচিত হলে প্রথম বছরেই ১ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলারের বেশি বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে। এই বিনিয়োগ গ্রাউন্ড সাপোর্ট ইকুইপমেন্ট, আধুনিক এভিয়েশন প্রযুক্তি, জনবল উন্নয়ন এবং পরিচালন সক্ষমতা বাড়াতে ব্যয়ের কথা বলা হয়েছে।

 

 

 

প্রতিষ্ঠানটির প্রস্তাবনায় দেখা গেছে, দায়িত্ব পেলে বাংলাদেশে প্রথম বছরেই সরাসরি এক হাজারের বেশি কর্মসংস্থানের পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। এসব কর্মীর ৯৯ ভাগই বাংলাদেশি হওয়ার কথা জানিয়েছেন তারা। এ ছাড়া পরোক্ষভাবে প্রায় আরও সাড়ে চার হাজার কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির প্রত্যাশা করা হচ্ছে। বিমানবন্দর এলাকায় একটি প্রশিক্ষণ একাডেমি প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাও রয়েছে মেনজিস এভিয়েশনের। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে দায়িত্ব পেলে বিশ্ববিদ্যালয় ও এভিয়েশন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে প্রশিক্ষণ, ইন্টার্নশিপ এবং পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ তৈরিতেও কাজ করতে চায়।

 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মেনজিস এভিয়েশন বিশ্বের অন্তত ৬৫টি দেশের প্রায় ৩৫০টি বিমানবন্দরে তাদের কার্যক্রম চালাচ্ছে। বছরে প্রায় ১৬ লাখ উড়োজাহাজের টার্নঅ্যারাউন্ড এবং ২৪ লাখ টন কার্গো পরিচালনা করে আসছে প্রতিষ্ঠানটি।

 

বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) সূত্র জানায়, আগামী ১৬ ডিসেম্বর বহুল কাঙ্ক্ষিত তৃতীয় টার্মিনাল চালুর পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে সরকার। বরাবরের মতো দেশীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এই টার্মিনালেও গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের দায়িত্ব পালন করবে। তবে সেবার আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে দ্বিতীয় একটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানকেও প্যাসেঞ্জার গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত রয়েছে।

 

 

 

বেবিচকের একজন কর্মকর্তা কালবেলাকে জানিয়েছেন, দ্বিতীয় প্যাসেঞ্জার গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ে দায়িত্ব পেতে যুক্তরাজ্যভিত্তিক মেনজিস এভিয়েশন ছাড়াও সুইজারল্যান্ডের সুইসপোর্ট, তুরস্কের চেলেবি এভিয়েশন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের ডানাটা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

 

 

 

 

দেশের এভিয়েশন খাতের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শাহজালালের তৃতীয় টার্মিনাল অত্যাধুনিক। কিন্তু আধুনিক অবকাঠামোই আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব হওয়ার নিশ্চয়তা দেয় না। এর সাফল্য নির্ভর করবে পরিচালন দক্ষতা, নিরাপত্তা ও যাত্রীসেবার মানের ওপর। ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া ও লাগেজ পেতে কতটা সময় লাগে—তা দিয়ে যাত্রীরা বিমানবন্দরের সেবার মান যাচাই করেন। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনসগুলোর কাছে গুরুত্বপূর্ণ নিরাপদ উড়োজাহাজ পরিচালনা, দ্রুত টার্নঅ্যারাউন্ড এবং নির্ভরযোগ্য গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং। তাই সেবার মান নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক ও অভিজ্ঞ গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং প্রতিষ্ঠানের বিকল্প নেই।

 

 

 

 

তারা বলছেন, গত ৫০ বছর ধরে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স দেশের বিমানবন্দরগুলোতে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবা দিয়ে আসছে। এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানের নতুন প্রতিষ্ঠান যুক্ত হলে প্রতিযোগিতার পাশাপাশি প্রযুক্তি, আধুনিক সরঞ্জাম ও দক্ষ জনবল আনার সুযোগ তৈরি হবে।

 

 

 

 

একটি বিমানবন্দরে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং প্রতিষ্ঠান সাধারণত লাগেজ ওঠানো-নামানো, উড়োজাহাজের সেবা, এপ্রোন পরিচালনা এবং পরবর্তী ফ্লাইটের প্রস্তুতির বিষয়টি দেখভাল করে থাকে। এসব কাজে বিলম্ব বা ত্রুটি সরাসরি প্রভাব ফেলে যাত্রীসেবা ও ফ্লাইটের সময়সূচিতে। এজন্য এই সেবা খাতে দায়িত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান নির্বাচনে বিনিয়োগ বা বাণিজ্যি প্রস্তাবের পাশাপাশি নিরাপত্তা, প্রযুক্তি ও পরিচালন সক্ষমতাও বিবেচনায় নেওয়া হয়ে থাকে।

 

 

 

 

 

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সাবেক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) মফিদুর রহমান বলেন, তৃতীয় টার্মিনালের আধুনিক স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা পরিচালনায় অভিজ্ঞ জনবল প্রয়োজন। আধুনিক সরঞ্জাম ব্যবহারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের সেবা নিশ্চিত করার সক্ষমতাও থাকতে হবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে।

 

 

 

 

দ্বিতীয় গ্রাউন্ড হ্যান্ডলার হিসেবে দায়িত্ব পেতে আগ্রহী মেনজিস এভিয়েশনের অপারেশনস বিভাগের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট জন হেন্ডারসন বলেন, বিশ্বের শীর্ষ এভিয়েশন সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হওয়া কাকতালীয় কোনো বিষয় নয়। বাজারে নেতৃত্ব দিতে পারে এমন প্রশিক্ষণ, ব্যবস্থাপনা এবং পরিচালনব্যবস্থায় বিনিয়োগের মাধ্যমেই তাদের প্রতিষ্ঠান এ অবস্থানে পৌঁছেছে। নিরাপদ ও মানসম্মত পরিচালনায় তারা নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এ কারণেই বিমানবন্দর ও এয়ারলাইন্সগুলো ধারাবাহিকভাবে মেনজিসকে বেছে নিচ্ছে।

 

 

 

 

এভিয়েশন খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তৃতীয় টার্মিনালের পরিচালনায় লাগেজ ব্যবস্থাপনা অন্যতম বড় পরীক্ষা হয়ে উঠবে। যাত্রীরা বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার আগে লাগেজ কত দ্রুত হাতে পাচ্ছেন, তার ওপর সেবার মান অনেকাংশে নির্ভর করবে। একইভাবে উড়োজাহাজের টার্নঅ্যারাউন্ডের ক্ষেত্রেও সময় গুরুত্বপূর্ণ। লাগেজ নামানো, উড়োজাহাজে সেবা দেওয়া, পরবর্তী ফ্লাইটের জন্য লাগেজ তোলা কিংবা এপ্রোন এলাকায় সমন্বয়ের কোনো পর্যায়ে বিলম্ব হলে তার প্রভাব পড়ে ফ্লাইটের সময়সূচিতে। এর বাইরে দ্বিতীয় গ্রাউন্ড হ্যান্ডলার নিয়োগের ক্ষেত্রে চুক্তির মেয়াদ শেষে বাংলাদেশ কী ধরনের সক্ষমতা অর্জন করবে, সেই বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।

 

 

 

 

তবে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের দায়িত্ব পেতে আগ্রহী মেনজিসের কর্মকর্তারা বলছেন, রিয়েল-টাইম ব্যাগেজ স্ক্যানিং এবং স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার মাধ্যমে বেবিচকের নির্ধারিত মান পূরণের সক্ষমতা রয়েছে তাদের। ওয়াইডবডি উড়োজাহাজের ক্ষেত্রে প্রথম লাগেজ ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যে এবং শেষ লাগেজ ৪০ মিনিটের মধ্যে সরবরাহের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে তারা।

 

 

 

 

প্রতিষ্ঠানটির অপারেশন বিভাগের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট জন হেন্ডারসন বলেন, মেসজিসের নিজস্ব রিয়েল-টাইম তথ্য সংগ্রহ ও কাজ বণ্টনের ব্যবস্থা রয়েছে। এর মাধ্যমে সঠিক সময়ে সঠিক স্থানে প্রয়োজনীয় জনবল ও সরঞ্জাম নিশ্চিত করা যায়। এতে এয়ারলাইন্স ও বিমানবন্দরের জন্য নিরাপদ ও দক্ষ পরিচালনা সম্ভব হয়। পাশাপাশি গ্রাহক ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের তাৎক্ষণিক পরিচালনগত তথ্য সরবরাহ করা যায়।

 

 

 

 

তিনি বলেন, ঢাকায় একটি প্রশিক্ষণ একাডেমি প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। সেখানে প্রশিক্ষণ শেষে কর্মীরা মেনজিসের আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী কাজ করার যোগ্যতা অর্জন করবেন। এতে প্রতিষ্ঠানটির আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের যে কোনো বিমানবন্দরে বাংলাদেশি কর্মীদের কাজ করার সুযোগ তৈরি হবে।

 

 

 

 

তিনি জানান, তাদের পরীক্ষিত কার্যক্রম শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে। কর্মী নিয়োগের পর তিন মাসের মধ্যে তাদের আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী প্রশিক্ষণ দেওয়া সম্ভব বলে তারা মনে করেন।

 

 

 

 

 

জনতার কন্ঠ/এস এ