সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo মমতাকে অব্যাহতি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হলো পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রিসভা Logo কবিগুরুর জন্মবার্ষিকী উদযাপনে প্রস্তুত শাহজাদপুরের কাছারিবাড়ি Logo নিকার অনুমোদন: ভূল্লী উপজেলা গঠনে জনসাধারণের উচ্ছ্বাস Logo ধর্ষণ মামলায় নির্দোষ ইমাম জেলে, ডিএনএ পরীক্ষায় বেরিয়ে এলো আসল তথ্য Logo অবৈধভাবে গড়ে উঠা স্থাপনা দখলমুক্ত হবে: পানি সম্পদ মন্ত্রী Logo বিদ্যুৎ মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি: বিদ্যুৎমন্ত্রী Logo  বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও ট্রান্সফরমার চোর চক্রের ৯ সদস্য গ্রেফতার Logo মাদক সেবনের দায়ে কারাদণ্ড, কলেজ ছাত্রদল সভাপতি বহিষ্কার Logo মাসুদ উদ্দিনকে জুলাই হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল Logo ইসরায়েলকে হুমকি দিলে কঠিন পরিণতি: নেতানিয়াহুর হুঁশিয়ারি

সংখ্যালঘু অধ্যুষিত আসন জিতে চমক বিজেপির

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে প্রায় ৫০ শতাংশ আসনে সংখ্যালঘু ভোট এত দিন পর্যন্ত ছিল ‘নির্ণায়ক’। কিন্তু এবারের ভোটের ফলাফলে সেই সমীকরণে আমূল বদল ঘটে গেছে। ফলস্বরূপ, ৪০ শতাংশের বেশি সংখ্যালঘু অধ্যুষিত আসনও জিতেছে বিজেপি।

 

 

 

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজ্যে সংখ্যালঘু ভোটারের সংখ্যা ২৫ শতাংশের বেশি, এমন ১৪৬টি (ফলতায় ভোট এখনো হয়নি) আসনের মধ্যে তৃণমূল এ বার পেয়েছে ৭৩টি আসন। ২০২১ সালের ভোটে সেই সংখ্যাটা ছিল ১২৯। ওই ১৪৬টি আসনের মধ্যে ৬৬টি আসনে জয়ী হয়েছে বিজেপি, যেখানে গত ভোটে তারা জিতেছিল মাত্র ১৬টিতে। আবার ওই ১৪৬টি আসনের মধ্যে সংখ্যালঘু ভোটারের হার ৪০ শতাংশের বেশি, এমন ১৭টি আসনে জয়ী হয়েছে বিজেপি। যেখানে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এমন মাত্র দুটি আসনে জয়ী হয়েছিল তারা।

 

 

 

২০১১ সালের জনগণনা অনুযায়ী রাজ্যে মোট ২৭ শতাংশ মুসলিম। ২৯৪টি বিধানসভার মধ্যে ১৪৬টি বিধানসভা রয়েছে, যেখানে সংখ্যালঘু অংশের ভোট ২৫ শতাংশ বা তার বেশি। এর মধ্যে আবার ৭৪টি বিধানসভায় সংখ্যালঘু ভোট ৪০ শতাংশেরও বেশি। অর্থাৎ, ওই আসনগুলিতে প্রার্থীদের জয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন সংখ্যালঘুরা। ৪০ শতাংশেরও বেশি সংখ্যালঘু ভোটার রয়েছে, এমন আসনের সংখ্যা রাজ্যে সবচেয়ে বেশি মুর্শিদাবাদে। সেখানকার ২২টি বিধানসভা আসনেই সংখ্যালঘু ভোটার ৪০ শতাংশের বেশি। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ১১টি বিধানসভা আসনে মুসলিম ভোটার ৪০ শতাংশের বেশি। উত্তর ২৪ পরগনায় ৯টি এবং উত্তর দিনাজপুরে ৭টি আসনেও সংখ্যালঘু ভোট ৪০ শতাংশের বেশি। মালদহের ৮টি আসনে মুসলিম ভোটার ৪০ শতাংশের বেশি। নদিয়ায় তেমন আসনের সংখ্যা ৬টি। কলকাতায় বন্দর এবং চৌরঙ্গী বিধানসভা কেন্দ্রেও মুসলিম ভোটার ৪০ শতাংশের বেশি।

ফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, জঙ্গিপুর, মুর্শিদাবাদ, নবগ্রাম, বড়ঞাঁর মতো যে সব কেন্দ্রে মুসলিম ভোটারের সংখ্যা ৪০ শতাংশের বেশি, সেখানেও এ বার জিতেছে বিজেপি। মানিকচক, করণদিঘি, হেমতাবাদের মতো মুসলিম অধ্যুষিত আসনেও একই ছবি। সংখ্যালঘু অধ্যুষিত বেশ কিছু আসনে দেখা গিয়েছে, দু’টি বিষয় সমান্তরাল ভাবে ঘটেছে। এক, তৃণমূলের বাক্সে থাকা সংখ্যালঘু ভোটে থাবা বসিয়েছে সিপিএম, কংগ্রেস, আইএসএফ এবং হুমায়ুন কবীরের দল এজেইউপি। দুই, উল্টোদিকে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে হিন্দু ভোট। পরিসংখ্যান নিয়ে যাঁরা কাজ করেন, তাদের কেউ কেউ মনে করছেন, হিন্দু ভোটের যে মেরুকরণ এ বার বিধানসভা ভোটে পশ্চিমবঙ্গে ঘটেছে, তা অতীতে কখনও হয়নি। এমনকি, উত্তর এবং পশ্চিম ভারতে বিজেপি-শাসিত যে সব রাজ্য রয়েছে, সেখানকার তুলনায়ও পশ্চিমবঙ্গে এ বারের নির্বাচনে হিন্দু ভোট ঐক্যবদ্ধ হয়েছে অনেক বেশি। অর্থাৎ, এক দিকে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত বিভিন্ন জেলায় মুসলিম ভোট বিভাজিত হয়েছে। সমান্তরালভাবে সঙ্ঘবদ্ধ হয়েছে হিন্দু তথা সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মমতাকে অব্যাহতি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হলো পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রিসভা

সংখ্যালঘু অধ্যুষিত আসন জিতে চমক বিজেপির

আপডেট টাইম : ০৫:৪৬:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে প্রায় ৫০ শতাংশ আসনে সংখ্যালঘু ভোট এত দিন পর্যন্ত ছিল ‘নির্ণায়ক’। কিন্তু এবারের ভোটের ফলাফলে সেই সমীকরণে আমূল বদল ঘটে গেছে। ফলস্বরূপ, ৪০ শতাংশের বেশি সংখ্যালঘু অধ্যুষিত আসনও জিতেছে বিজেপি।

 

 

 

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজ্যে সংখ্যালঘু ভোটারের সংখ্যা ২৫ শতাংশের বেশি, এমন ১৪৬টি (ফলতায় ভোট এখনো হয়নি) আসনের মধ্যে তৃণমূল এ বার পেয়েছে ৭৩টি আসন। ২০২১ সালের ভোটে সেই সংখ্যাটা ছিল ১২৯। ওই ১৪৬টি আসনের মধ্যে ৬৬টি আসনে জয়ী হয়েছে বিজেপি, যেখানে গত ভোটে তারা জিতেছিল মাত্র ১৬টিতে। আবার ওই ১৪৬টি আসনের মধ্যে সংখ্যালঘু ভোটারের হার ৪০ শতাংশের বেশি, এমন ১৭টি আসনে জয়ী হয়েছে বিজেপি। যেখানে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এমন মাত্র দুটি আসনে জয়ী হয়েছিল তারা।

 

 

 

২০১১ সালের জনগণনা অনুযায়ী রাজ্যে মোট ২৭ শতাংশ মুসলিম। ২৯৪টি বিধানসভার মধ্যে ১৪৬টি বিধানসভা রয়েছে, যেখানে সংখ্যালঘু অংশের ভোট ২৫ শতাংশ বা তার বেশি। এর মধ্যে আবার ৭৪টি বিধানসভায় সংখ্যালঘু ভোট ৪০ শতাংশেরও বেশি। অর্থাৎ, ওই আসনগুলিতে প্রার্থীদের জয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন সংখ্যালঘুরা। ৪০ শতাংশেরও বেশি সংখ্যালঘু ভোটার রয়েছে, এমন আসনের সংখ্যা রাজ্যে সবচেয়ে বেশি মুর্শিদাবাদে। সেখানকার ২২টি বিধানসভা আসনেই সংখ্যালঘু ভোটার ৪০ শতাংশের বেশি। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ১১টি বিধানসভা আসনে মুসলিম ভোটার ৪০ শতাংশের বেশি। উত্তর ২৪ পরগনায় ৯টি এবং উত্তর দিনাজপুরে ৭টি আসনেও সংখ্যালঘু ভোট ৪০ শতাংশের বেশি। মালদহের ৮টি আসনে মুসলিম ভোটার ৪০ শতাংশের বেশি। নদিয়ায় তেমন আসনের সংখ্যা ৬টি। কলকাতায় বন্দর এবং চৌরঙ্গী বিধানসভা কেন্দ্রেও মুসলিম ভোটার ৪০ শতাংশের বেশি।

ফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, জঙ্গিপুর, মুর্শিদাবাদ, নবগ্রাম, বড়ঞাঁর মতো যে সব কেন্দ্রে মুসলিম ভোটারের সংখ্যা ৪০ শতাংশের বেশি, সেখানেও এ বার জিতেছে বিজেপি। মানিকচক, করণদিঘি, হেমতাবাদের মতো মুসলিম অধ্যুষিত আসনেও একই ছবি। সংখ্যালঘু অধ্যুষিত বেশ কিছু আসনে দেখা গিয়েছে, দু’টি বিষয় সমান্তরাল ভাবে ঘটেছে। এক, তৃণমূলের বাক্সে থাকা সংখ্যালঘু ভোটে থাবা বসিয়েছে সিপিএম, কংগ্রেস, আইএসএফ এবং হুমায়ুন কবীরের দল এজেইউপি। দুই, উল্টোদিকে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে হিন্দু ভোট। পরিসংখ্যান নিয়ে যাঁরা কাজ করেন, তাদের কেউ কেউ মনে করছেন, হিন্দু ভোটের যে মেরুকরণ এ বার বিধানসভা ভোটে পশ্চিমবঙ্গে ঘটেছে, তা অতীতে কখনও হয়নি। এমনকি, উত্তর এবং পশ্চিম ভারতে বিজেপি-শাসিত যে সব রাজ্য রয়েছে, সেখানকার তুলনায়ও পশ্চিমবঙ্গে এ বারের নির্বাচনে হিন্দু ভোট ঐক্যবদ্ধ হয়েছে অনেক বেশি। অর্থাৎ, এক দিকে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত বিভিন্ন জেলায় মুসলিম ভোট বিভাজিত হয়েছে। সমান্তরালভাবে সঙ্ঘবদ্ধ হয়েছে হিন্দু তথা সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট।