৫ আগষ্ট, ২০২৪। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুতে হয়ে দেশত্যাগ করলেন দেশের সবচেয়ে প্রভাবশালী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। স্বৈরাচার সরকারকে উৎখাতের সেই দিনটি যমুনাপারের শহর সিরাজগঞ্জ ছিল উত্তপ্ত। ছিল না দেশে সরকার, আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ছিল নিস্ক্রিয়। এ অবস্থায় যখন একটি সুযোগ সন্ধানী চক্র লুটতরাজে ব্যস্ত হয়ে পরে। তখনই সামনে এসে দাঁড়ান সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু।
লুটতরাজের হাত থেকে ব্যবসায়ীসহ শহরবাসীর জানমাল রক্ষা করতে তিনি নিজে রিকশায় চেপে শহরজুড়ে মাইকিং করতে থাকেন। মহল্লায় মহল্লায় মসজিদে মসজিদে গিয়ে মাইকে সবাইকে শান্ত থাকার অনুরোধ করেন। আইন শৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে নিজ দলের নেতাকর্মীদের দিয়ে কমিটি করে দেন তিনি। অন্যান্য রাজনৈতিক দল, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে একের পর এক বৈঠক, পুলিশ প্রশাসনকে দায়িত্ব পালনে উদ্বুদ্ধ করেন তিনি।
তাঁর প্রচেষ্টায় ধীরে ধীরে শহরের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে থাকে। সাইদুর রহমান বাচ্চু সেদিন থেকেই সিরাজগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচিত ব্যক্তিত্বে পরিণত হন। আর সাধারণ ব্যবসায়ীদের কাছেও বাচ্চু জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন।
ব্যবসায়ী বান্ধব হিসেবে সিরাজগঞ্জের ব্যবসায়ীরা তাঁকে চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রি প্রেসিডেন্টের আসনে বসাতে চান। তবে নিয়মের বাইরে গিয়ে তিনি তাৎক্ষণিক প্রেসিডেন্টেরে চেয়ারে বসেননি। সম্পূর্ণ গঠনতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ব্যবসায়ীদের পূর্ণ সমর্থনে তিনি প্রেসিডেন্ট পদে দায়িত্বগ্রহণ করেন।
চেম্বার অব কমার্সের দায়িত্ব নিয়েই তিনি সিরাজগঞ্জের উন্নয়নের স্বার্থে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দকে সাথে নিয়ে বিভিন্ন সেক্টরে কাজ করেন তিনি। ইকোনোমিক জোন, শিল্পপার্ক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবসা-বানিজ্যের প্রসারে কাজ দফায় দফায় বৈঠক করেন। সিরাজগঞ্জকে শিল্পবান্ধব অঞ্চল উল্লেখ করে বিনিয়োগের জন্য রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার ব্যবসায়ী-শিল্পপতিদের যোগাযোগ করেন। ইতিমধ্যে তার এসব কর্মকান্ডের সুফল আসতে শুরু করেছে। শিল্পপার্কে প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ইকোনোমিক জোনেও বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন অনেক ব্যবসায়ী।
এভাবেই একজন সফল রাজনীতিবিদ সাইদুর রহমান বাচ্চু ব্যবসায়ী মহলেও জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।
বাচ্চু বলেন, পরিবারের দারিদ্রতার কারণে ছাত্র অবস্থাতেই ব্যবসা শুরু করি। ছাত্র রাজনীতির পাশাপাশি আমদানি-রফতানির লাইসেন্স করে ব্যবসা করে সংসারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেই। ১৮৮৪ সালে ইনকাম ট্যাক্সের ফাইল খুলে সরকারকে ট্যাক্স দেওয়া শুরু করি। ২০১২ সালে সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের নির্বাচন করে সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছি। সেবার ব্যবসায়ীরা আমাকে প্রেসিডেন্টের চেয়েও বেশি ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছিলেন। নির্বাচিত হয়ে নিজ উদ্যোগে চেম্বার ভবনের কনফারেন্স রুমকে আধুনিকায়ন করেছি।
তিনি বলেন, ২০২৪ এর ৫ আগস্টের স্বৈরাচারী সরকারের পতনের পর যখন দেশে কোন সরকার ছিল না, প্রশাসন ছিল না। কোন ব্যবসায়ী দোকানপাট খোলার সাহস পাচ্ছিল না। পুরো শহর যখন অচল হয়ে পড়েছিল, তখন আমি মাইক হাতে নিয়ে বেরিয়ে পড়ি, দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করি। মসজিদে মসজিদে মাইকিং করে সকলকে শান্ত থাকার জন্য বলি। প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে তাদের দায়িত্ব পালনে সহযোগীতা দিতে চাই। এভাবে কয়েকদিনের মধ্যে সিরাজগঞ্জের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে।
সাইদুর রহমান বাচ্চু আরও বলেন, ব্যবসায়ীদের অনুরোধে সম্পূর্ণ গঠনতন্ত্র অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে চেম্বারের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নিয়েছি। আর প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ করে চেম্বারে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার জন্য নির্বাচনের আয়োজন করেছি। আজ ব্যবসায়ীদের মাঝে ভোটের উৎসব চলছে। যেটা বিগত ১২ বছর ছিল না। ব্যবসায়ীরা তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করতে চায়। কিন্তু বিগত সরকার তাদের গণতন্ত্র হরণ করেছিল। আমি ব্যবসায়ীদের সেই গণতন্ত্র ফিরিয়ে দিয়েছি।
বাচুচ্ বলেন, সিরাজগঞ্জ এখন ব্যবসাবান্ধব। এখানে ব্যবসার জন্য এখন উপযুক্ত স্থান। এখানে গ্যাস, বিদ্যুৎ, রেলপথ, সড়কপথ, নৌপথ আছে। এক সময় যমুনার ভাঙনের ভয় ছিল এখন সেটা নেই। আমরা বেসরকারি খাতে বিনিয়োগে ব্যবসায়ীদের উৎসাহিত করা হচ্ছে।
সাইদুর রহমান বাচ্চু ব্যবসায়ীদের কাছে ভোট প্রার্থনা করে বলেন, সিরাজগঞ্জে অনেক ব্যবসায়ীদের সংগঠন আছে যাদের কোন ঘর নেই। চেম্বারের ১০ তল ভবন তৈরি করে সকল ব্যবসায়ীকে এক ছাদের নীচে বসার ব্যবস্থা করবো ইনশাল্লাহ। এছাড়াও ব্যবসায়ীদের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য কাজ করার আশ্বাস দেন তিনি।

নিজস্ব প্রতিবেদক। জনতার কণ্ঠ.কম 



















