সিরাজগঞ্জ , বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬
ব্যাংককে শুরু আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভা

সাড়ে ৪ বিলিয়ন ডলারের নতুন ঋণ নিয়ে আইএমএফের সঙ্গে আলোচনা

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংকের বুকে এক টুকরো নয়নাভিরাম কুইন সিরিকিত ন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টার (কিউএসএনসিসি)। লাল-নীল ফুলের মাঝখানে বিশাল লেক। লেকের বুকে দুটি ফোয়ারা। লেকের কোল ঘেঁষে হাঁটলেই ফোয়ারার পানি দেখে মন ভরে যায়। এই লেকের ঠিক পাড়েই কিউএসএনসিসি। এটা একেবারে নতুন করে সাজিয়ে তোলা হয়েছে। সব আয়োজন মূলত আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক সভাকে ঘিরে।

 

 

 

 

 

আজ সোমবার থেকে শুরু হয়ে এই সভা চলবে আগামী ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত। বাংলাদেশের জন্য নতুন আশার আলো ফুটতে পারে এই বার্ষিক সভার মধ্য দিয়ে। নতুন ঋণ প্রস্তাব ও বিশ্বব্যাংকের নানা সুপারিশ এবার বার্ষিক সভার আলোচনার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু। এই বার্ষিক সভায় অংশ নিতে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী রয়েছেন থাইল্যান্ডের ব্যাংককে। সঙ্গে রয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান আহসান হাবিবসহ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।

 

 

 

 

 

বিশ্বব্যাংক-আইএমএফ বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় উন্নয়ন সহযোগী। বিশ্বব্যাংকের ঋণে প্রায় ৩৭টি প্রকল্প চলমান রয়েছে বাংলাদেশে। বিদ্যুৎ, সামাজিক নিরাপত্তা খাত, ক্লিন এয়ার, নারীর ক্ষমতায়ন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, অবকাঠামো উন্নয়ন, সেবাসহ নানা খাতে ঋণ দিয়ে থাকে বিশ্বব্যাংক-আইএমএফ। আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের ২০২৬ সালের বার্ষিক সভায় বাংলাদেশের প্রস্তাবিত সাড়ে ৪ বিলিয়ন ডলারের নতুন ঋণ এবং নিজস্ব অর্থনৈতিক সংস্কারের রূপরেখা নিয়েও আলোচনা হবে। এরই মধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয় সেই প্রস্তুতি নিচ্ছে। পুরোনো ঋণ বাতিলের পর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে নতুন ঋণ কর্মসূচিতে যাচ্ছে সরকার। নতুন

কর্মসূচির মেয়াদ হবে তিন বছর। বার্ষিক সভায় নতুন ঋণ কর্মসূচির চুক্তি হতে পারে। এখন শর্ত নিয়ে দর-কষাকষি চলছে। শর্তের মধ্যে ব্যাংক ও রাজস্ব খাতের সংস্কারের পাশাপাশি বিভিন্ন খাতের সরকারি ভর্তুকি কমানোর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে বার্ষিক সভায়।

 

 

সম্প্রতি বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা, জ্বালানি সংকট, কম রাজস্ব আদায় এবং বিনিয়োগে স্থবিরতার কারণে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যাংকিং খাত, অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণ ও জ্বালানি খাতে দ্রুত এবং সাহসী সংস্কারের তাগিদ দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। এ বিষয়গুলো নিয়েও বাংলাদেশ ও বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনা হবে।

বিশ্বব্যাংক বলছে, রাজস্ব আহরণের দুর্বলতাও বাংলাদেশের অন্যতম বড় সমস্যা। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে রাজস্ব আদায় জিডিপির মাত্র ৮ দশমিক ৩ শতাংশ, যা বিশ্বের অন্যতম সর্বনিম্ন। এর ফলে সরকারের হাতে উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক ব্যয়ের জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক সক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়ছে। এই সমস্যা নিরসনে করণীয় বিষয় বস্তু নিয়ে বার্ষিক সভায় আলোচনার কথা রয়েছে। বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গাসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা এখন ব্যাংককে। বার্ষিক সভাকে কেন্দ্র করে কিউএসএনসিসির সামনের সড়ক নতুন করে রাঙিয়ে তোলা হয়েছে। সড়কের ওপরে রঙের লালগালিচার ছাপ দেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলেছে পুরো সেন্টার। ডগ স্কোয়াড দিয়ে আশপাশের এলাকার নিরাপত্তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কোথায় কী কর্মসূচি হবে, সে তথ্যও প্রকাশ করা হচ্ছে। প্রোগ্রাম ভেন্যু থেকে নিয়মিত বাস ছেড়ে যাচ্ছে বিভিন্ন রুটে। কোনো ভাড়া ছাড়াই নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন অংশগ্রহণকারীরা।

 

 

 

 

সেইন ভেন্যুর মিটিং রুম, রেস্তোরাঁ, রিটেইল শপ, প্রেয়ারের জায়গা, ফুড কোর্ট, প্রেস সেন্টার সুসজ্জিত করা হয়েছে। মেইন বিল্ডিংয়ের পাশেই টোব্যাকো ফ্যাক্টরিতে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করা হচ্ছে। টোব্যাকো ফ্যাক্টরি হলেও তামাকের কার্যক্রম আর নেই। সারা বিশ্ব থেকে সাংবাদিক, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, অর্থমন্ত্রীসহ বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিরা কার্ড সংগ্রহ করছেন। মূলত এই কার্ড নিয়েই প্রবেশ করতে হবে মেইন ভবনে। তবে কার্ড নিতে পাসপোর্টসহ নিবন্ধনের ফটোকপি সঙ্গে নিতে হবে।

 

 

 

 

 

১৯১টি দেশের ১৫ হাজারের বেশি প্রতিনিধির অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে আইএমএফ-বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক এ সভায়। বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধি দল ও বেসরকারি সংস্থার অনেক প্রতিনিধিরাও এতে অংশ নিয়েছেন।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ব্যাংককে শুরু আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভা

সাড়ে ৪ বিলিয়ন ডলারের নতুন ঋণ নিয়ে আইএমএফের সঙ্গে আলোচনা

আপডেট টাইম : ১১:৪০:৪১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংকের বুকে এক টুকরো নয়নাভিরাম কুইন সিরিকিত ন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টার (কিউএসএনসিসি)। লাল-নীল ফুলের মাঝখানে বিশাল লেক। লেকের বুকে দুটি ফোয়ারা। লেকের কোল ঘেঁষে হাঁটলেই ফোয়ারার পানি দেখে মন ভরে যায়। এই লেকের ঠিক পাড়েই কিউএসএনসিসি। এটা একেবারে নতুন করে সাজিয়ে তোলা হয়েছে। সব আয়োজন মূলত আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক সভাকে ঘিরে।

 

 

 

 

 

আজ সোমবার থেকে শুরু হয়ে এই সভা চলবে আগামী ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত। বাংলাদেশের জন্য নতুন আশার আলো ফুটতে পারে এই বার্ষিক সভার মধ্য দিয়ে। নতুন ঋণ প্রস্তাব ও বিশ্বব্যাংকের নানা সুপারিশ এবার বার্ষিক সভার আলোচনার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু। এই বার্ষিক সভায় অংশ নিতে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী রয়েছেন থাইল্যান্ডের ব্যাংককে। সঙ্গে রয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান আহসান হাবিবসহ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।

 

 

 

 

 

বিশ্বব্যাংক-আইএমএফ বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় উন্নয়ন সহযোগী। বিশ্বব্যাংকের ঋণে প্রায় ৩৭টি প্রকল্প চলমান রয়েছে বাংলাদেশে। বিদ্যুৎ, সামাজিক নিরাপত্তা খাত, ক্লিন এয়ার, নারীর ক্ষমতায়ন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, অবকাঠামো উন্নয়ন, সেবাসহ নানা খাতে ঋণ দিয়ে থাকে বিশ্বব্যাংক-আইএমএফ। আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের ২০২৬ সালের বার্ষিক সভায় বাংলাদেশের প্রস্তাবিত সাড়ে ৪ বিলিয়ন ডলারের নতুন ঋণ এবং নিজস্ব অর্থনৈতিক সংস্কারের রূপরেখা নিয়েও আলোচনা হবে। এরই মধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয় সেই প্রস্তুতি নিচ্ছে। পুরোনো ঋণ বাতিলের পর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে নতুন ঋণ কর্মসূচিতে যাচ্ছে সরকার। নতুন

কর্মসূচির মেয়াদ হবে তিন বছর। বার্ষিক সভায় নতুন ঋণ কর্মসূচির চুক্তি হতে পারে। এখন শর্ত নিয়ে দর-কষাকষি চলছে। শর্তের মধ্যে ব্যাংক ও রাজস্ব খাতের সংস্কারের পাশাপাশি বিভিন্ন খাতের সরকারি ভর্তুকি কমানোর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে বার্ষিক সভায়।

 

 

সম্প্রতি বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা, জ্বালানি সংকট, কম রাজস্ব আদায় এবং বিনিয়োগে স্থবিরতার কারণে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যাংকিং খাত, অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণ ও জ্বালানি খাতে দ্রুত এবং সাহসী সংস্কারের তাগিদ দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। এ বিষয়গুলো নিয়েও বাংলাদেশ ও বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনা হবে।

বিশ্বব্যাংক বলছে, রাজস্ব আহরণের দুর্বলতাও বাংলাদেশের অন্যতম বড় সমস্যা। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে রাজস্ব আদায় জিডিপির মাত্র ৮ দশমিক ৩ শতাংশ, যা বিশ্বের অন্যতম সর্বনিম্ন। এর ফলে সরকারের হাতে উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক ব্যয়ের জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক সক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়ছে। এই সমস্যা নিরসনে করণীয় বিষয় বস্তু নিয়ে বার্ষিক সভায় আলোচনার কথা রয়েছে। বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গাসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা এখন ব্যাংককে। বার্ষিক সভাকে কেন্দ্র করে কিউএসএনসিসির সামনের সড়ক নতুন করে রাঙিয়ে তোলা হয়েছে। সড়কের ওপরে রঙের লালগালিচার ছাপ দেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলেছে পুরো সেন্টার। ডগ স্কোয়াড দিয়ে আশপাশের এলাকার নিরাপত্তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কোথায় কী কর্মসূচি হবে, সে তথ্যও প্রকাশ করা হচ্ছে। প্রোগ্রাম ভেন্যু থেকে নিয়মিত বাস ছেড়ে যাচ্ছে বিভিন্ন রুটে। কোনো ভাড়া ছাড়াই নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন অংশগ্রহণকারীরা।

 

 

 

 

সেইন ভেন্যুর মিটিং রুম, রেস্তোরাঁ, রিটেইল শপ, প্রেয়ারের জায়গা, ফুড কোর্ট, প্রেস সেন্টার সুসজ্জিত করা হয়েছে। মেইন বিল্ডিংয়ের পাশেই টোব্যাকো ফ্যাক্টরিতে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করা হচ্ছে। টোব্যাকো ফ্যাক্টরি হলেও তামাকের কার্যক্রম আর নেই। সারা বিশ্ব থেকে সাংবাদিক, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, অর্থমন্ত্রীসহ বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিরা কার্ড সংগ্রহ করছেন। মূলত এই কার্ড নিয়েই প্রবেশ করতে হবে মেইন ভবনে। তবে কার্ড নিতে পাসপোর্টসহ নিবন্ধনের ফটোকপি সঙ্গে নিতে হবে।

 

 

 

 

 

১৯১টি দেশের ১৫ হাজারের বেশি প্রতিনিধির অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে আইএমএফ-বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক এ সভায়। বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধি দল ও বেসরকারি সংস্থার অনেক প্রতিনিধিরাও এতে অংশ নিয়েছেন।