সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo মমতাকে অব্যাহতি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হলো পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রিসভা Logo কবিগুরুর জন্মবার্ষিকী উদযাপনে প্রস্তুত শাহজাদপুরের কাছারিবাড়ি Logo নিকার অনুমোদন: ভূল্লী উপজেলা গঠনে জনসাধারণের উচ্ছ্বাস Logo ধর্ষণ মামলায় নির্দোষ ইমাম জেলে, ডিএনএ পরীক্ষায় বেরিয়ে এলো আসল তথ্য Logo অবৈধভাবে গড়ে উঠা স্থাপনা দখলমুক্ত হবে: পানি সম্পদ মন্ত্রী Logo বিদ্যুৎ মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি: বিদ্যুৎমন্ত্রী Logo  বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও ট্রান্সফরমার চোর চক্রের ৯ সদস্য গ্রেফতার Logo মাদক সেবনের দায়ে কারাদণ্ড, কলেজ ছাত্রদল সভাপতি বহিষ্কার Logo মাসুদ উদ্দিনকে জুলাই হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল Logo ইসরায়েলকে হুমকি দিলে কঠিন পরিণতি: নেতানিয়াহুর হুঁশিয়ারি

সাদামাটা জীবনযাপন করা দুইবারের সেই এমপি নুরুল ইসলাম আর নেই

মো. নুরুল ইসলাম তালুকদার ওরফে চাঁন মিয়া

দুইবারের এমপি হয়েও সাদামাটা জীবনযাপন করা সিরাজগঞ্জ-৬ আসনের সেই মো. নুরুল ইসলাম তালুকদার ওরফে চাঁন মিয়া আর নেই।

 

সোমবার (১৭ নভেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন । মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯০ বছর। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও চার মেয়ে রেখে গেছেন।

 

কৈজুরী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন খোকন মাস্টার তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নুরুল ইসলাম চাঁন বার্ধক্যজনিত নানা রোগে আক্রান্ত ছিলেন। তিনি এলাকায় অত্যান্ত জনপ্রিয়। তাঁর মৃত্যুতে কৈজুরী ইউনিয়নবাসীর মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আজ বাদ যোহর স্থানীয় ঈদগাহ মাঠে নামাজে জানাযা শেষে দাফন কার্য সম্পন্ন হবে।

 

১৯৩৫ সালে কৈজুরী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন আলহাজ্ব মো. নূরুল ইসলাম তালুকদার চাঁন মিয়া কৈজুরী হাট গ্রামে। তাঁর ছদ্মনাম ছিল জ্বালামুখ। তিনি গ্রামের স্কুলে প্রাইমারি, সিরাজগঞ্জ বিএল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে মাধ্যমিক এবং সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। এরপর ১০ বছর সরকারি চাকরি করেন। চাকরি জীবনে তিনি সততার জন্য পুরস্কৃত হন। এলাকার জনগণের সেবা করার ব্রত নিয়ে তিনি চাকরী ছেড়ে দিয়ে পল্লী উন্নয়ন সমিতির হাল ধরেন। তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দিতায় বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন সমবায় ফেডারেশনের সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৭৩ সালে কৈজুরী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করে বিজয়ী হন। এরপর বিনা প্রতিদ্বন্দিতায় পল্লী বিদ্যুতের পরিচালক হন। ১৯৮৪ সালে দ্বিতীয়বারের মতো ইউপি চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হন। ১৯৮৬ জাতীয় পার্টির মনোনয়নে বিলুপ্ত হওয়া সিরাজগঞ্জ-৬ (চৌহালী ও শাহজাদপুরের একাংশ) আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। একই আসনে ১৯৮৬ সালেও তিনি নির্বাচিত হন। তাঁর জীবনে অর্জিত সবটুকু অর্থ এলাকার উন্নয়নের কাজে ব্যয় করেছেন। তিনি সিরাজগঞ্জ জেলা জাতীয় পার্টির সিনিয়র সহ-সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন।

One thought on “সাদামাটা জীবনযাপন করা দুইবারের সেই এমপি নুরুল ইসলাম আর নেই

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মমতাকে অব্যাহতি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হলো পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রিসভা

সাদামাটা জীবনযাপন করা দুইবারের সেই এমপি নুরুল ইসলাম আর নেই

আপডেট টাইম : ১১:৪৪:০৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫

দুইবারের এমপি হয়েও সাদামাটা জীবনযাপন করা সিরাজগঞ্জ-৬ আসনের সেই মো. নুরুল ইসলাম তালুকদার ওরফে চাঁন মিয়া আর নেই।

 

সোমবার (১৭ নভেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন । মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯০ বছর। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও চার মেয়ে রেখে গেছেন।

 

কৈজুরী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন খোকন মাস্টার তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নুরুল ইসলাম চাঁন বার্ধক্যজনিত নানা রোগে আক্রান্ত ছিলেন। তিনি এলাকায় অত্যান্ত জনপ্রিয়। তাঁর মৃত্যুতে কৈজুরী ইউনিয়নবাসীর মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আজ বাদ যোহর স্থানীয় ঈদগাহ মাঠে নামাজে জানাযা শেষে দাফন কার্য সম্পন্ন হবে।

 

১৯৩৫ সালে কৈজুরী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন আলহাজ্ব মো. নূরুল ইসলাম তালুকদার চাঁন মিয়া কৈজুরী হাট গ্রামে। তাঁর ছদ্মনাম ছিল জ্বালামুখ। তিনি গ্রামের স্কুলে প্রাইমারি, সিরাজগঞ্জ বিএল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে মাধ্যমিক এবং সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। এরপর ১০ বছর সরকারি চাকরি করেন। চাকরি জীবনে তিনি সততার জন্য পুরস্কৃত হন। এলাকার জনগণের সেবা করার ব্রত নিয়ে তিনি চাকরী ছেড়ে দিয়ে পল্লী উন্নয়ন সমিতির হাল ধরেন। তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দিতায় বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন সমবায় ফেডারেশনের সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৭৩ সালে কৈজুরী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করে বিজয়ী হন। এরপর বিনা প্রতিদ্বন্দিতায় পল্লী বিদ্যুতের পরিচালক হন। ১৯৮৪ সালে দ্বিতীয়বারের মতো ইউপি চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হন। ১৯৮৬ জাতীয় পার্টির মনোনয়নে বিলুপ্ত হওয়া সিরাজগঞ্জ-৬ (চৌহালী ও শাহজাদপুরের একাংশ) আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। একই আসনে ১৯৮৬ সালেও তিনি নির্বাচিত হন। তাঁর জীবনে অর্জিত সবটুকু অর্থ এলাকার উন্নয়নের কাজে ব্যয় করেছেন। তিনি সিরাজগঞ্জ জেলা জাতীয় পার্টির সিনিয়র সহ-সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন।