অভাবের সংসারে সচ্ছলতা ফেরানোর স্বপ্ন নিয়ে চার বছর আগে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার আমজাদহাট ইউনিয়নের উত্তর তারাকুচা গ্রামের বুলবুল আহমেদের ছেলে আবুল হাসান ফরহাদ। স্বপ্ন ছিল প্রবাসের আয় দিয়ে মা-বাবার মুখে হাসি ফোটাবেন। ঘোচাবেন পরিবারের দীর্ঘদিনের দুঃখ-দুর্দশা।
কিন্তু সেই স্বপ্ন এখন পরিবারটির কাছে দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। ছয় মাস ধরে সৌদি আরবের দাম্মাম এলাকার একটি কারাগারে বন্দি আছেন তিনি। ফলে পরিবারে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা।
কী কারণে তাকে কারাবন্দি করা হয়েছে, সে বিষয়ে পরিবারের কেউই কিছু জানেন না। একমাত্র ছেলের কারাবন্দির খবর পাওয়ার পর থেকেই থামছে না মায়ের কান্না। বুকফাটা আর্তনাদ আর উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে পরিবারের সদস্যদের।
ফরহাদের বাড়িতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দুই ভাই-বোনের মধ্যে ফরহাদ সবার বড়। স্থানীয় আমজাদহাট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করার পর তিনি কিছুদিন আমজাদহাট বাজারের একটি কাপড়ের দোকানে চাকরি করেছিলেন। চার বছর আগে সৌদি আরবপ্রবাসী খালু নূর নবীর সহযোগিতায় দেশটিতে যান ফরহাদ। সেখানে দাম্মাম সুপার মার্কেটের একটি সুপার শপে কাজ নেন তিনি। এরপর থেকে ভালোই চলছিল তার প্রবাস জীবন। তবে হঠাৎ করেই বদলে যায় সবকিছু।
ফরহাদের নানা মফিজুর রহমান কালবেলাকে বলেন, প্রায় পাঁচ মাস আগে দাম্মাম সুপার মার্কেটের পাশের একটি মহল্লা থেকে কে বা কারা ফরহাদকে ধরে নিয়ে যায়। তবে কারা এবং কী কারণে তাকে তুলে নিয়ে গেছে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য তাদের জানা নেই।
তিনি আরও বলেন, প্রায় এক মাস আগে ফরহাদ বাড়িতে ফোন করে জানায়, সে সৌদি আরবের একটি কারাগারে বন্দি রয়েছে। তবে কী অপরাধে তাকে আটক করা হয়েছে, সে বিষয়ে সে কিছুই বলতে পারেনি।
এদিকে ফরহাদের বাবা বুলবুল আহমেদ গত ২০ বছর ধরে পাকিস্তানের করাচিতে অবস্থান করছেন। ছেলের কারাবন্দির খবরে তিনিও দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। কান্নাবিজড়িত কণ্ঠে তিনি কালবেলাকে বলেন, ‘আমার ছেলের এলাকায় যথেষ্ট সুনাম ছিল। সবাই তাকে ভালো ছেলে হিসেবে জানত। কারও সঙ্গে কখনো কোনো বিরোধ বা সমস্যা ছিল না। কেন তাকে আটকে রাখা হয়েছে, আমরা তার কিছুই জানি না।’
সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে ছেলের মুক্তির জন্য আবেদন করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, এখন পর্যন্ত ওই আবেদনের কোনো অগ্রগতি পাওয়া যায়নি।
ছেলের শোকে পাথর হওয়া মা ফেরদৌস আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে কালবেলাকে বলেন, আমার জানামতে আমার ছেলে কোনো অপরাধ করতে পারে না। এক মাস আগে জানতে পেরেছি সে কারাগারে বন্দি রয়েছে। অবিলম্বে ছেলের মুক্তির জন্য প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের উচ্চ মহলের জোরালো সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় আলোচনা-সমালোচনার মধ্যেই পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানিয়েছেন, সৌদি আরবের বিভিন্ন শহরের কারাগারে প্রায় সাড়ে সাত হাজার বাংলাদেশি বন্দি আছেন।
এর মধ্যে ফেনীর ফরহাদ সৌদি আরবের কারাগারে বন্দি থাকার খবর এলো।

ন্যাশনাল ডেস্ক। জনতার কণ্ঠ.কম 




















