সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo মমতাকে অব্যাহতি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হলো পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রিসভা Logo কবিগুরুর জন্মবার্ষিকী উদযাপনে প্রস্তুত শাহজাদপুরের কাছারিবাড়ি Logo নিকার অনুমোদন: ভূল্লী উপজেলা গঠনে জনসাধারণের উচ্ছ্বাস Logo ধর্ষণ মামলায় নির্দোষ ইমাম জেলে, ডিএনএ পরীক্ষায় বেরিয়ে এলো আসল তথ্য Logo অবৈধভাবে গড়ে উঠা স্থাপনা দখলমুক্ত হবে: পানি সম্পদ মন্ত্রী Logo বিদ্যুৎ মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি: বিদ্যুৎমন্ত্রী Logo  বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও ট্রান্সফরমার চোর চক্রের ৯ সদস্য গ্রেফতার Logo মাদক সেবনের দায়ে কারাদণ্ড, কলেজ ছাত্রদল সভাপতি বহিষ্কার Logo মাসুদ উদ্দিনকে জুলাই হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল Logo ইসরায়েলকে হুমকি দিলে কঠিন পরিণতি: নেতানিয়াহুর হুঁশিয়ারি

স্কুল-কলেজের ২ শিক্ষার্থী বাসে আগুন দিল কার ইন্ধনে, তদন্তে পুলিশ

আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত বাস

রাজধানীর মিরপুরের শাহ আলী থানাধীন বেড়িবাঁধ মেইনরোডে বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে কিরণমালা পরিবহন নামে একটি বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। সেই বাসে আগুন লাগানোর সময় বিষয়টি স্থানীয় জনতা দেখতে পেলে তাদের ধাওয়া করলে তুরাগ নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়ে মারা যায় নামকরা একটি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল সাইয়াফ। এ ঘটনার সময় সঙ্গে থাকা তার বন্ধু সানিকে ধরে ফেলে জনতা।

পুলিশের কাছে আটক নিহতের বন্ধু, একটি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্র, তার নাম রুদ্র মোহাম্মদ নাহিয়ান আমির সানি।

পুলিশ জানিয়েছে, তাদের কাছ থেকে কেরোসিনের বোতল ও লাইটার উদ্ধার করা হয়েছে। এসব দিয়েই তারা দাঁড়িয়ে থাকা সেই বাসে আগুন দেয়। এছাড়া কারো ইন্ধনে বাসে আগুন দেওয়া হয়েছিল কি না, অথবা তাদের আগুন দেওয়ার জন্য নেপথ্যে কেউ সহযোগিতা করেছে কি না, বিষয়গুলো ব্যাপকভাবে তদন্ত করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) রাত দেড়টার দিকে শাহ আলী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মতিউর রহমান বাসে আগুন দেওয়া সেই যুবকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, নিহত আব্দুল্লাহ আল সাইয়াফ (১৮) একটি নামকরা কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। এ ঘটনায় আটক নিহতের বন্ধু সানি, একটি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের ১০ শ্রেণির ছাত্র।

প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, কিরণমালা পরিবহনের আগুন দেওয়ার সময় স্থানীয় জনতা তাদের দেখতে পেয়ে ধাওয়া দেয়। এতে কিশোর সাইয়াফ জীবন বাঁচাতে তুরাগ নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়ে। পরে সেখানে উপস্থিত লোকজন তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করে। পরে পুলিশ একদম অচেতন, কোনো সাড়া শব্দ নেই সাইয়াফকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নিয়ে গেলে মারা যায়।

বাসে আগুন লাগানোর সরঞ্জাম তাদের কাছ থেকে পাওয়া গেছে। কেরোসিনের বোতল ও লাইটার উদ্ধার করা হয়। পুলিশ কর্মকর্তা মতিউর রহমান আরও বলেন, নিহত ও আটক দুইজনই শিক্ষার্থী—একজন কলেজের এবং একজন ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের। তারা তাদের পরিবারের সঙ্গে বর্তমানে মিরপুর ১০ এলাকায় থাকলেও একজনের বাসা বেনারসী পল্লী এলাকায়।

এদিকে, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিসি মিডিয়া মুহাম্মদ তালেবুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, মিরপুর শাহ আলী থানাধীন উত্তর নবাবেরবাগ সোহেল ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপের পশ্চিম পাশের রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা ফাঁকা বাসে দুইয়ের অধিক যুবক প্লাস্টিকের বোতল থেকে কেরোসিন ছিটিয়ে আগুন ধরিয়ে সেটার আবার ভিডিও করছিল। পরে উপস্থিত লোকজন বাসে আগুন দেওয়া যুবকদের ধাওয়া করে সানিকে ধরে ফেলে, আর সাইয়াফ প্রাণ বাঁচাতে পাশে তুরাগ নদে ঝাঁপিয়ে পড়ে। কিন্তু সে সাঁতার না জানায় ডুবে মারা যায়। তাদের সঙ্গে থাকা অপর আরও একজন দৌড়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। এছাড়া এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন আছে।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মমতাকে অব্যাহতি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হলো পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রিসভা

স্কুল-কলেজের ২ শিক্ষার্থী বাসে আগুন দিল কার ইন্ধনে, তদন্তে পুলিশ

আপডেট টাইম : ১১:৫২:২৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর ২০২৫

রাজধানীর মিরপুরের শাহ আলী থানাধীন বেড়িবাঁধ মেইনরোডে বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে কিরণমালা পরিবহন নামে একটি বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। সেই বাসে আগুন লাগানোর সময় বিষয়টি স্থানীয় জনতা দেখতে পেলে তাদের ধাওয়া করলে তুরাগ নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়ে মারা যায় নামকরা একটি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল সাইয়াফ। এ ঘটনার সময় সঙ্গে থাকা তার বন্ধু সানিকে ধরে ফেলে জনতা।

পুলিশের কাছে আটক নিহতের বন্ধু, একটি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্র, তার নাম রুদ্র মোহাম্মদ নাহিয়ান আমির সানি।

পুলিশ জানিয়েছে, তাদের কাছ থেকে কেরোসিনের বোতল ও লাইটার উদ্ধার করা হয়েছে। এসব দিয়েই তারা দাঁড়িয়ে থাকা সেই বাসে আগুন দেয়। এছাড়া কারো ইন্ধনে বাসে আগুন দেওয়া হয়েছিল কি না, অথবা তাদের আগুন দেওয়ার জন্য নেপথ্যে কেউ সহযোগিতা করেছে কি না, বিষয়গুলো ব্যাপকভাবে তদন্ত করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) রাত দেড়টার দিকে শাহ আলী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মতিউর রহমান বাসে আগুন দেওয়া সেই যুবকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, নিহত আব্দুল্লাহ আল সাইয়াফ (১৮) একটি নামকরা কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। এ ঘটনায় আটক নিহতের বন্ধু সানি, একটি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের ১০ শ্রেণির ছাত্র।

প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, কিরণমালা পরিবহনের আগুন দেওয়ার সময় স্থানীয় জনতা তাদের দেখতে পেয়ে ধাওয়া দেয়। এতে কিশোর সাইয়াফ জীবন বাঁচাতে তুরাগ নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়ে। পরে সেখানে উপস্থিত লোকজন তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করে। পরে পুলিশ একদম অচেতন, কোনো সাড়া শব্দ নেই সাইয়াফকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নিয়ে গেলে মারা যায়।

বাসে আগুন লাগানোর সরঞ্জাম তাদের কাছ থেকে পাওয়া গেছে। কেরোসিনের বোতল ও লাইটার উদ্ধার করা হয়। পুলিশ কর্মকর্তা মতিউর রহমান আরও বলেন, নিহত ও আটক দুইজনই শিক্ষার্থী—একজন কলেজের এবং একজন ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের। তারা তাদের পরিবারের সঙ্গে বর্তমানে মিরপুর ১০ এলাকায় থাকলেও একজনের বাসা বেনারসী পল্লী এলাকায়।

এদিকে, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিসি মিডিয়া মুহাম্মদ তালেবুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, মিরপুর শাহ আলী থানাধীন উত্তর নবাবেরবাগ সোহেল ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপের পশ্চিম পাশের রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা ফাঁকা বাসে দুইয়ের অধিক যুবক প্লাস্টিকের বোতল থেকে কেরোসিন ছিটিয়ে আগুন ধরিয়ে সেটার আবার ভিডিও করছিল। পরে উপস্থিত লোকজন বাসে আগুন দেওয়া যুবকদের ধাওয়া করে সানিকে ধরে ফেলে, আর সাইয়াফ প্রাণ বাঁচাতে পাশে তুরাগ নদে ঝাঁপিয়ে পড়ে। কিন্তু সে সাঁতার না জানায় ডুবে মারা যায়। তাদের সঙ্গে থাকা অপর আরও একজন দৌড়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। এছাড়া এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন আছে।