সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo মমতাকে অব্যাহতি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হলো পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রিসভা Logo কবিগুরুর জন্মবার্ষিকী উদযাপনে প্রস্তুত শাহজাদপুরের কাছারিবাড়ি Logo নিকার অনুমোদন: ভূল্লী উপজেলা গঠনে জনসাধারণের উচ্ছ্বাস Logo ধর্ষণ মামলায় নির্দোষ ইমাম জেলে, ডিএনএ পরীক্ষায় বেরিয়ে এলো আসল তথ্য Logo অবৈধভাবে গড়ে উঠা স্থাপনা দখলমুক্ত হবে: পানি সম্পদ মন্ত্রী Logo বিদ্যুৎ মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি: বিদ্যুৎমন্ত্রী Logo  বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও ট্রান্সফরমার চোর চক্রের ৯ সদস্য গ্রেফতার Logo মাদক সেবনের দায়ে কারাদণ্ড, কলেজ ছাত্রদল সভাপতি বহিষ্কার Logo মাসুদ উদ্দিনকে জুলাই হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল Logo ইসরায়েলকে হুমকি দিলে কঠিন পরিণতি: নেতানিয়াহুর হুঁশিয়ারি

স্বাধীনতার ৫৪ বছরে কতোটুকু শিক্ষিত হলো জাতি’?

  • রিপোর্টার:
  • আপডেট টাইম : ০৮:০৩:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৫
  • 177

-মো. মাসুদ রানা ওয়াসিম

  • “যারা মেরেছে তারা কোনো না কোনো শিক্ষকের ছাত্র
  • যারা অর্ডার দিয়েছে তারাও শিক্ষকদের কাছেই লেখাপড়া শিখেছে”

এটা নতুন নয় যে আজই প্রথম প্রেসক্লাবের সামনে শিক্ষকরা সাউন্ড গ্রেনেড কিংবা জলকামানের মুখোমুখি হলো। ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে এমন ঘটনা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক থেকে শুরু করে স্কুল-কলেজসহ সর্বস্তরের শিক্ষকদের সাথে ঘটেছে।

বারবার শিক্ষকরা লাঠিপেটা, রাবার বুলেট আর সবশেষে জলকামানে শরীর ভিজিয়ে স্বৈরাচারী সরকারের মন্ত্রী/আমলাদের এক ঝুড়ি আশ্বাসে শীতল হয়ে ঘরে ফিরেছেন আর দারিদ্রতাকে সঙ্গী করে নিরবে নিভৃতে কেঁদেছেন।

অথচ গত ১৭ বছরে সরকার সকল চাকুরেদের জন্য উজার করে সুবিধাদি বৃদ্ধি করেছেন। অন্য পেশার একজন চাকুরে বিভিন্ন ভাতাদি হিসেবে মাসিক যে টাকা পান একজন শিক্ষক মাসিক বেতন হিসেবেও সে টাকা পায় না।

NTRCA-এর মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত মাধ্যমিকের একজন সহকারী শিক্ষক এন্টি লেভেলে যাবতীয় ভাতাসহ ১২,৭০০/= টাকা মাসিক বেতন পায়। যেখানে একজন দিনমজুরের দৈনিক হাজিরা ৭০০/৮০০ টাকা। আর একজন শিক্ষকের দৈনিক বেতন ৪০০টাকার কিছু বেশি।।

ভেবে দেখেছেন  কতটা অমানবিক বৈষম্য হচ্ছে শিক্ষকদের সাথে।

সমাজের বিবেকবান মানুষ হিসেবে একবার চিন্তুা করুন তো, যাদের হাতে জাতি গঠনের গুরু দায়িত্ব স্বাধীনতার পর থেকে এই ৫৪ বছরে তাদের নুন্যতম জীবন-যাপনের জন্য কতোটুকু আর্থিক সুবিধা সৃষ্টি করা হয়েছে।

বিগত সময়গুলোতে শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ২০১২ সালের পর সিলেবাস কাঁটা-ছেড়া করতে করতে শেষ পযর্ন্ত ক্লাসরুমে আলু ভর্তা-বেগুন ভর্তা শেখানো হয়েছে। বয়োসন্ধিকালে শারীরিক পরিবর্তনের ধারণা দেবার নামে কিশোর-কিশোরীদের মনে যৌনতা উষ্কে দেয়া হয়েছে। শরিফ/শরিফার গল্পের নামে সমকামিতা উৎসাহীত করা হয়েছে। সামাজিক ও ধর্মীয় শৃঙ্খলা নষ্ট করে রাষ্ট্রকে অন্ধকারে নিয়ে যাবার চেষ্টা চলেছে।

শিক্ষার কাঠামোগত পরিবর্তনের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাট করা হয়। এমনকি শিক্ষকদের জমানো অবসর-কল্যাণের ৭ হাজারর কোটি টাকাও উধাও।

বিদেশি প্রেসক্রিপসনে শিক্ষকদের আর্থিকভাবে দুর্বল করে রাখা হয়েছে। যেন শিক্ষকরা মেরুদন্ড সোজা করে দাঁড়াতে না পাড়ে। শিক্ষকদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হলে তারা ক্লাসরুমে আরো মনোযোগী হবে। বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা এক সময় বিশ্ব মাতাবে। যদিও শত প্রতিকূলতা সত্বেও দু-চার জন বাংলাদেশী অক্সফোড/কেমব্রিজ এর মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক হবার গৌরব অর্জন করেছেন, গুগল, মেটা ও পাঠাও এর মতো জনপ্রিয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সিইও সহ গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করছেন।

আফ্রিকার একটি বিশ্ব বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে লেখা আছে “কোনো জাতিকে ধ্বংস করে দিতে হলে তার শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দাও”। বাংলাদেশী জাতির মেধা সত্ত্বাকে ধ্বংসের নীল ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নে বিগত সরকারের নানা অপচেষ্টা শিক্ষক সমাজ দেখেছে। ভিতরে ভিতরে উসখুস করেছে কখনও যদি প্রশ্ন করেছে কিংবা প্রতিবাদ করেছে তবে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে নেমে এসছে নিষ্ঠুর দুর্ভোগ। চাকুরি হারিয়েছেন অনেকেই।

যদিও কিছু শিক্ষক বিভিন্ন দলবাজিতে যুক্ত হওয়ায় গোটা শিক্ষক সমাজ আজ মেরুদণ্ডহীন। দীর্ঘদিন ধরে এরা নিজের পেটে ক্ষুধা চেপে রেখেছে, চুপ থাকেছে সোনালী ভবিষ্যতের আশায়।

অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরে শিক্ষায় চলমান চরম বিশৃঙ্খলা ও দৈন্যতার বিষয়টি উপলদ্ধি করে ২০১২ সালের সিলেবাস পূনরায় চালু করে। শিক্ষকরাও এতে দীর্ঘ নিঃশ্বাস ছেড়ে হৃদয়ে জমানো রক্ত ধুয়ে-মুছে জাতি গঠনে আরো জোড়ালো ভূমিকা রাখতে নিজেদের মানসিক ভাবে প্রস্তুত করেন।কিছু সুযোগ-সুবিধা আর সরকারি নির্দেশনা পেলে সর্বচ্চোটাই দেবার জন্যও প্রস্তত তারা।

বতর্মান সরকারের প্রতি শিক্ষকদের আস্থা আকাশচুম্বী। দীর্ঘ সময় ধরে আর্থিক সুবিধা বঞ্চিত শিক্ষক সমাজ হৃদয় গভীরে যে স্বপ্ন বুনেছে তা হয়তঃ অন্তর্বর্তী সরকারের হাত ধরেই ঘুচে যাবে।

বাজারের উর্দ্ধোমুখীতায় সামান্য বেতনে কুলিয়ে উঠতে না পেড়ে বেঁচে থাকার জন্য নুন্যতম ভাতা বৃদ্ধির প্রাণের দাবি নিয়ে জড়ো হওয়া শিক্ষকদের সাথে যা ঘটে গেলো তা অতীত সরকারের কার্বন কপিই বৈকি।

বৈষম্যহীন সমাজ বিনির্মানে ৫ আগস্টের পর যাদের হাতে রাষ্ট্রের দায়িত্ব, তাদের কাছে এমন এ্যাকশন আশা করেনি শিক্ষক সমাজ।

প্রেসক্লাবের সামনে শিক্ষকদের উপর নির্বিচারে “যারা জলকামান আর সাউন্ড গ্রেনেড মেরেছে তারা তো কোনো না কোনো শিক্ষকের ছাত্র, যারা অর্ডার দিয়েছেন তারাও মাধমিকের শিক্ষকদের কাছেই লেখা-পড়া শিখে বড় বড় চেয়ারে বসেছেন।

দেশের ৯৫%  বেসরকারী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষক জাতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসলেও আজ ন্যায্য দাবি নিয়ে শিক্ষকরা যখন রাস্তায় তখন তাদের উপর চরম নির্মমতা রাষ্ট্রীয় অন্যায়।

ক্ষমতার উচ্চ চেয়ারে বসে শিক্ষকদের গায়ে আঘাত করার মতো নিলজ্জ নিষ্ঠুরতা দেখানো কি তাদের পেশার সৌন্দর্য ?

ঘুরেফিরে প্রশ্ন “স্বাধীনতার ৫৪ বছরে কতোটুকু শিক্ষিত হলো জাতি”???

লেখক: অধ্যক্ষ, আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ স্কুল এন্ড কলেজ, সিরাজগঞ্জ।

One thought on “স্বাধীনতার ৫৪ বছরে কতোটুকু শিক্ষিত হলো জাতি’?

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মমতাকে অব্যাহতি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হলো পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রিসভা

স্বাধীনতার ৫৪ বছরে কতোটুকু শিক্ষিত হলো জাতি’?

আপডেট টাইম : ০৮:০৩:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৫

-মো. মাসুদ রানা ওয়াসিম

  • “যারা মেরেছে তারা কোনো না কোনো শিক্ষকের ছাত্র
  • যারা অর্ডার দিয়েছে তারাও শিক্ষকদের কাছেই লেখাপড়া শিখেছে”

এটা নতুন নয় যে আজই প্রথম প্রেসক্লাবের সামনে শিক্ষকরা সাউন্ড গ্রেনেড কিংবা জলকামানের মুখোমুখি হলো। ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে এমন ঘটনা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক থেকে শুরু করে স্কুল-কলেজসহ সর্বস্তরের শিক্ষকদের সাথে ঘটেছে।

বারবার শিক্ষকরা লাঠিপেটা, রাবার বুলেট আর সবশেষে জলকামানে শরীর ভিজিয়ে স্বৈরাচারী সরকারের মন্ত্রী/আমলাদের এক ঝুড়ি আশ্বাসে শীতল হয়ে ঘরে ফিরেছেন আর দারিদ্রতাকে সঙ্গী করে নিরবে নিভৃতে কেঁদেছেন।

অথচ গত ১৭ বছরে সরকার সকল চাকুরেদের জন্য উজার করে সুবিধাদি বৃদ্ধি করেছেন। অন্য পেশার একজন চাকুরে বিভিন্ন ভাতাদি হিসেবে মাসিক যে টাকা পান একজন শিক্ষক মাসিক বেতন হিসেবেও সে টাকা পায় না।

NTRCA-এর মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত মাধ্যমিকের একজন সহকারী শিক্ষক এন্টি লেভেলে যাবতীয় ভাতাসহ ১২,৭০০/= টাকা মাসিক বেতন পায়। যেখানে একজন দিনমজুরের দৈনিক হাজিরা ৭০০/৮০০ টাকা। আর একজন শিক্ষকের দৈনিক বেতন ৪০০টাকার কিছু বেশি।।

ভেবে দেখেছেন  কতটা অমানবিক বৈষম্য হচ্ছে শিক্ষকদের সাথে।

সমাজের বিবেকবান মানুষ হিসেবে একবার চিন্তুা করুন তো, যাদের হাতে জাতি গঠনের গুরু দায়িত্ব স্বাধীনতার পর থেকে এই ৫৪ বছরে তাদের নুন্যতম জীবন-যাপনের জন্য কতোটুকু আর্থিক সুবিধা সৃষ্টি করা হয়েছে।

বিগত সময়গুলোতে শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ২০১২ সালের পর সিলেবাস কাঁটা-ছেড়া করতে করতে শেষ পযর্ন্ত ক্লাসরুমে আলু ভর্তা-বেগুন ভর্তা শেখানো হয়েছে। বয়োসন্ধিকালে শারীরিক পরিবর্তনের ধারণা দেবার নামে কিশোর-কিশোরীদের মনে যৌনতা উষ্কে দেয়া হয়েছে। শরিফ/শরিফার গল্পের নামে সমকামিতা উৎসাহীত করা হয়েছে। সামাজিক ও ধর্মীয় শৃঙ্খলা নষ্ট করে রাষ্ট্রকে অন্ধকারে নিয়ে যাবার চেষ্টা চলেছে।

শিক্ষার কাঠামোগত পরিবর্তনের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাট করা হয়। এমনকি শিক্ষকদের জমানো অবসর-কল্যাণের ৭ হাজারর কোটি টাকাও উধাও।

বিদেশি প্রেসক্রিপসনে শিক্ষকদের আর্থিকভাবে দুর্বল করে রাখা হয়েছে। যেন শিক্ষকরা মেরুদন্ড সোজা করে দাঁড়াতে না পাড়ে। শিক্ষকদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হলে তারা ক্লাসরুমে আরো মনোযোগী হবে। বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা এক সময় বিশ্ব মাতাবে। যদিও শত প্রতিকূলতা সত্বেও দু-চার জন বাংলাদেশী অক্সফোড/কেমব্রিজ এর মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক হবার গৌরব অর্জন করেছেন, গুগল, মেটা ও পাঠাও এর মতো জনপ্রিয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সিইও সহ গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করছেন।

আফ্রিকার একটি বিশ্ব বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে লেখা আছে “কোনো জাতিকে ধ্বংস করে দিতে হলে তার শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দাও”। বাংলাদেশী জাতির মেধা সত্ত্বাকে ধ্বংসের নীল ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নে বিগত সরকারের নানা অপচেষ্টা শিক্ষক সমাজ দেখেছে। ভিতরে ভিতরে উসখুস করেছে কখনও যদি প্রশ্ন করেছে কিংবা প্রতিবাদ করেছে তবে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে নেমে এসছে নিষ্ঠুর দুর্ভোগ। চাকুরি হারিয়েছেন অনেকেই।

যদিও কিছু শিক্ষক বিভিন্ন দলবাজিতে যুক্ত হওয়ায় গোটা শিক্ষক সমাজ আজ মেরুদণ্ডহীন। দীর্ঘদিন ধরে এরা নিজের পেটে ক্ষুধা চেপে রেখেছে, চুপ থাকেছে সোনালী ভবিষ্যতের আশায়।

অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরে শিক্ষায় চলমান চরম বিশৃঙ্খলা ও দৈন্যতার বিষয়টি উপলদ্ধি করে ২০১২ সালের সিলেবাস পূনরায় চালু করে। শিক্ষকরাও এতে দীর্ঘ নিঃশ্বাস ছেড়ে হৃদয়ে জমানো রক্ত ধুয়ে-মুছে জাতি গঠনে আরো জোড়ালো ভূমিকা রাখতে নিজেদের মানসিক ভাবে প্রস্তুত করেন।কিছু সুযোগ-সুবিধা আর সরকারি নির্দেশনা পেলে সর্বচ্চোটাই দেবার জন্যও প্রস্তত তারা।

বতর্মান সরকারের প্রতি শিক্ষকদের আস্থা আকাশচুম্বী। দীর্ঘ সময় ধরে আর্থিক সুবিধা বঞ্চিত শিক্ষক সমাজ হৃদয় গভীরে যে স্বপ্ন বুনেছে তা হয়তঃ অন্তর্বর্তী সরকারের হাত ধরেই ঘুচে যাবে।

বাজারের উর্দ্ধোমুখীতায় সামান্য বেতনে কুলিয়ে উঠতে না পেড়ে বেঁচে থাকার জন্য নুন্যতম ভাতা বৃদ্ধির প্রাণের দাবি নিয়ে জড়ো হওয়া শিক্ষকদের সাথে যা ঘটে গেলো তা অতীত সরকারের কার্বন কপিই বৈকি।

বৈষম্যহীন সমাজ বিনির্মানে ৫ আগস্টের পর যাদের হাতে রাষ্ট্রের দায়িত্ব, তাদের কাছে এমন এ্যাকশন আশা করেনি শিক্ষক সমাজ।

প্রেসক্লাবের সামনে শিক্ষকদের উপর নির্বিচারে “যারা জলকামান আর সাউন্ড গ্রেনেড মেরেছে তারা তো কোনো না কোনো শিক্ষকের ছাত্র, যারা অর্ডার দিয়েছেন তারাও মাধমিকের শিক্ষকদের কাছেই লেখা-পড়া শিখে বড় বড় চেয়ারে বসেছেন।

দেশের ৯৫%  বেসরকারী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষক জাতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসলেও আজ ন্যায্য দাবি নিয়ে শিক্ষকরা যখন রাস্তায় তখন তাদের উপর চরম নির্মমতা রাষ্ট্রীয় অন্যায়।

ক্ষমতার উচ্চ চেয়ারে বসে শিক্ষকদের গায়ে আঘাত করার মতো নিলজ্জ নিষ্ঠুরতা দেখানো কি তাদের পেশার সৌন্দর্য ?

ঘুরেফিরে প্রশ্ন “স্বাধীনতার ৫৪ বছরে কতোটুকু শিক্ষিত হলো জাতি”???

লেখক: অধ্যক্ষ, আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ স্কুল এন্ড কলেজ, সিরাজগঞ্জ।